১।
প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে আছি ঘন্টা দেড়েক ধরে। গভীর রাত, একটা টহল ভ্যান শামুকের মত ধীরে-ধীরে চলে গেল। এই শীতের মধ্য প্রহরে নীল রং-এর গাড়িটাকে কেমন যেন জড়াগ্রস্ত, অসুস্থ মনে হল। আমার মনেও এক অসুস্থ ভাবনা... আমি কাউকে খুঁজছি, জানি এ সময়ে, টহলরত পুলিশের আনাগোনার মাঝেও তার দেখা মিলবে।।
২।
অর্ধেক মাতাল এক মধ্যবয়ষ্ক দু'পেয়ে আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল। যেতে যেতে ফিরে এল রিভার্স গীয়ারে হেটে।
- ভাই, বড্ড বিপদে আছি, উপরে ওঠার সিঁড়িটা হারিয়ে গেছে, পাচ্ছিনা। সব সিঁড়ি ইদানিং নিচে ডেবে যাচ্ছে...
আমি সরে আসি। মাতালের প্রলাপ শোনার সময় নেই। উপরে কোন সিড়িই নেই, সব সিড়ি নিচের দিকে গেছে, আমিও যাবো। আমি এসেছি এক বেশ্যার খোঁজে। হোকনা বহু ব্যাবহারে পুরাতন, ময়লা, শতছিন্ন।
আমার সাড়া না পেয়ে মাতালটা মিলিয়ে গেল হেটে হেটে কুয়াঁশার মাঝে।
৩।
একটা নেড়ী কুকুর জালাচ্ছে অনেক্ষন ধরে, একদম পায়ের প্যান্ট ঘেষে দাঁড়িয়ে ওমের খোঁজে।
- কুত্তার বাচ্চা, শরীর গরম করতে আমার কাছে ক্যান? যা তোর স্বজাতীর কাছে।
বেদম লাথি ঝারলাম একটা। কুই-কুই করে কি যেন অভিযোগ না অভিশাপ জানিয়ে সরে গেল কুকুরটা। আশ্রয় নিল বস্তা গায়ে শুয়ে থাকা চার-পাঁচটা মানুষের ঘুমন্ত জংগলে।
৪।
হঠাৎ পেটটা জানান দিল বেশ খিদে পেয়েছে। আবার এদিকে তলপেটও ভারী লাগছে। রাতের অন্ধকারে ভদ্রতা-ভব্যতা দূরে থাক, খানিক সরে গিয়ে একটা লাইট পোস্টের গায়ে... আহ শান্তি!
না, আমার আরো বেশি শান্তির প্রয়োজন, প্রয়োজন একটা মাংসালো দেহ, দেহের ভাঁজ, ভাঁজে-ভাঁজে উষ্নতা, অলিগলি, ঠোট, নরম-মাখন বুক, পা, মাথা, মসৃণ উরু... আমার একটা দেহ প্রয়োজন।
খুব ঠান্ডা পরেছে আজ। শীতে কাঁপছি আর এদিকে খিদেও পেয়েছে। পকেট হাতড়ে একটা সিগেরেট পেলাম, দেশলাইও। ঝিম করে উঠলো মাথাটা; খালি পেটে সিগেরেট বুঝি সয়না!
৫।
এভাবে আর কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকা যায়? আজে-বাজে মানুষের অভাব নেই চারদিকে, ছিনতাইকারীর কবলে পরার ভয় আছে। কিন্তু ভয়ের চেয়ে দেহের চাহিদার জোর বেশি। আমার শরীর একটা শরীর চায়, একটা মাংসালো দেহ যার গভীরে উগড়ে দেয়া যাবে উত্তপ্ত তরল, আমার হাতের পেষনে শরীরটা নিমিষে কাদা হয়ে যাবে আর শিৎকারে-চিৎকারে পাগল করে দেবে আমাকে, আমার কামনাকে।
৬।
আবার ফিরে আসছে পুলিশ ভ্যানটা। একটু আড়ালে গিয়ে দাড়াঁলাম, একটু আবছা অন্ধকারে। ভ্যান চলে গেল ধীরে, খুব ধীরে। সামান্য সামনে গিয়ে ব্রেক করলো। দু'টো রিকশা আসছে তোপখানা রোড ধরে। পুলিশ ভ্যান থেকে হাক ছেড়ে রিকশা দু'টো দাঁড় করালো।
আমি দূর থেকে দেখছি, শুনতে পাচ্ছিনা কিছু। মেয়ে দু'টোকে তুলে নিল পুলিশ ভ্যান।
আমি হাহাকার করে উঠলাম মনেমনে; ঐতো... ঐতো, যাদের অপেক্ষায় শীতের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি ভয়-ডর ভুলে। ঐতো আমার সামান্য দুরে পুলিশ ভ্যানে জলজ্যান্ত মাংসালো দু'টো দেহ।
একটা শরীর আমার বড্ড প্রয়োজন। পকেটে টাকা নেই খুব বেশি, তারপরও দরদামে হয়ত কুলিয়ে উঠবে। ... কোথাও অন্ধকারে; কাছেপিঠেই পাঁচ কি বেশি হলে দশ মিনিট, ব্যাস। তারপর নিয়ে যাও, হাসতে পোরো।
না ভ্যানটা চলে গেল। রিকশা দু'টো তখনো দাঁড়িয়ে...
৭।
ফিরে যাবো বলে ভাবছি, দেখি সেই ভ্যানটাই আবার আসছে। এবার আর সরে গেলামনা, কি এক অভিমানে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ভ্যান থামলো রিকশা দু'টোর পাশে। দু;টো মেয়ে নামলো, এগিয়ে গেল পুলিশ ভ্যানের ড্রাইভারের দিকে।
- নিত্যদিন টেকা ছাড়া মউজ মারতে ঘেন্না লাগেনা??
একটা মেয়ে থু: করে থুথু ফেলল, অংহাকারের কি এক প্রকাশ মনে হলো তার দাঁড়িয়ে থাকা, ঘেন্না জানানো আর থু: বলে ঘৃণার প্রকাশ। নিজের ভেতর কুকরে গেলাম।
- গেলি মাগী! নাইলে হাজতে পুরুম। কি হইছে, স্বতী নারী... যা ভাগ।
আর কিছু না বলে মেয়ে দু'টো তাদের রিকশায় উঠলো, টুন-টুন বেল বাজিয়ে চলে গেল রিকশা আমার হাত তিনেক দূর দিয়ে। ভ্যানটাও এগিয়ে গেল, মোড় নিয়ে চলে গেল হাইকোর্টের পাশের রাস্তায়। আমি কিছু ভাবছিনা, শুধু মনে-মনে অন্ক মেলাচ্ছি ড্রাইভার সহ সামনে দু'জন আর পেছনে সম্ভবত আরো তিন জন ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


