somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুগল্প: নিশীকন্যার খোঁজে

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১।
প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে আছি ঘন্টা দেড়েক ধরে। গভীর রাত, একটা টহল ভ্যান শামুকের মত ধীরে-ধীরে চলে গেল। এই শীতের মধ্য প্রহরে নীল রং-এর গাড়িটাকে কেমন যেন জড়াগ্রস্ত, অসুস্থ মনে হল। আমার মনেও এক অসুস্থ ভাবনা... আমি কাউকে খুঁজছি, জানি এ সময়ে, টহলরত পুলিশের আনাগোনার মাঝেও তার দেখা মিলবে।।

২।
অর্ধেক মাতাল এক মধ্যবয়ষ্ক দু'পেয়ে আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল। যেতে যেতে ফিরে এল রিভার্স গীয়ারে হেটে।

- ভাই, বড্ড বিপদে আছি, উপরে ওঠার সিঁড়িটা হারিয়ে গেছে, পাচ্ছিনা। সব সিঁড়ি ইদানিং নিচে ডেবে যাচ্ছে...

আমি সরে আসি। মাতালের প্রলাপ শোনার সময় নেই। উপরে কোন সিড়িই নেই, সব সিড়ি নিচের দিকে গেছে, আমিও যাবো। আমি এসেছি এক বেশ্যার খোঁজে। হোকনা বহু ব্যাবহারে পুরাতন, ময়লা, শতছিন্ন।

আমার সাড়া না পেয়ে মাতালটা মিলিয়ে গেল হেটে হেটে কুয়াঁশার মাঝে।

৩।
একটা নেড়ী কুকুর জালাচ্ছে অনেক্ষন ধরে, একদম পায়ের প্যান্ট ঘেষে দাঁড়িয়ে ওমের খোঁজে।

- কুত্তার বাচ্চা, শরীর গরম করতে আমার কাছে ক্যান? যা তোর স্বজাতীর কাছে।

বেদম লাথি ঝারলাম একটা। কুই-কুই করে কি যেন অভিযোগ না অভিশাপ জানিয়ে সরে গেল কুকুরটা। আশ্রয় নিল বস্তা গায়ে শুয়ে থাকা চার-পাঁচটা মানুষের ঘুমন্ত জংগলে।

৪।
হঠাৎ পেটটা জানান দিল বেশ খিদে পেয়েছে। আবার এদিকে তলপেটও ভারী লাগছে। রাতের অন্ধকারে ভদ্রতা-ভব্যতা দূরে থাক, খানিক সরে গিয়ে একটা লাইট পোস্টের গায়ে... আহ শান্তি!

না, আমার আরো বেশি শান্তির প্রয়োজন, প্রয়োজন একটা মাংসালো দেহ, দেহের ভাঁজ, ভাঁজে-ভাঁজে উষ্নতা, অলিগলি, ঠোট, নরম-মাখন বুক, পা, মাথা, মসৃণ উরু... আমার একটা দেহ প্রয়োজন।

খুব ঠান্ডা পরেছে আজ। শীতে কাঁপছি আর এদিকে খিদেও পেয়েছে। পকেট হাতড়ে একটা সিগেরেট পেলাম, দেশলাইও। ঝিম করে উঠলো মাথাটা; খালি পেটে সিগেরেট বুঝি সয়না!

৫।
এভাবে আর কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকা যায়? আজে-বাজে মানুষের অভাব নেই চারদিকে, ছিনতাইকারীর কবলে পরার ভয় আছে। কিন্তু ভয়ের চেয়ে দেহের চাহিদার জোর বেশি। আমার শরীর একটা শরীর চায়, একটা মাংসালো দেহ যার গভীরে উগড়ে দেয়া যাবে উত্তপ্ত তরল, আমার হাতের পেষনে শরীরটা নিমিষে কাদা হয়ে যাবে আর শিৎকারে-চিৎকারে পাগল করে দেবে আমাকে, আমার কামনাকে।

৬।
আবার ফিরে আসছে পুলিশ ভ্যানটা। একটু আড়ালে গিয়ে দাড়াঁলাম, একটু আবছা অন্ধকারে। ভ্যান চলে গেল ধীরে, খুব ধীরে। সামান্য সামনে গিয়ে ব্রেক করলো। দু'টো রিকশা আসছে তোপখানা রোড ধরে। পুলিশ ভ্যান থেকে হাক ছেড়ে রিকশা দু'টো দাঁড় করালো।

আমি দূর থেকে দেখছি, শুনতে পাচ্ছিনা কিছু। মেয়ে দু'টোকে তুলে নিল পুলিশ ভ্যান।

আমি হাহাকার করে উঠলাম মনেমনে; ঐতো... ঐতো, যাদের অপেক্ষায় শীতের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি ভয়-ডর ভুলে। ঐতো আমার সামান্য দুরে পুলিশ ভ্যানে জলজ্যান্ত মাংসালো দু'টো দেহ।

একটা শরীর আমার বড্ড প্রয়োজন। পকেটে টাকা নেই খুব বেশি, তারপরও দরদামে হয়ত কুলিয়ে উঠবে। ... কোথাও অন্ধকারে; কাছেপিঠেই পাঁচ কি বেশি হলে দশ মিনিট, ব্যাস। তারপর নিয়ে যাও, হাসতে পোরো।

না ভ্যানটা চলে গেল। রিকশা দু'টো তখনো দাঁড়িয়ে...

৭।
ফিরে যাবো বলে ভাবছি, দেখি সেই ভ্যানটাই আবার আসছে। এবার আর সরে গেলামনা, কি এক অভিমানে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ভ্যান থামলো রিকশা দু'টোর পাশে। দু;টো মেয়ে নামলো, এগিয়ে গেল পুলিশ ভ্যানের ড্রাইভারের দিকে।

- নিত্যদিন টেকা ছাড়া মউজ মারতে ঘেন্না লাগেনা??

একটা মেয়ে থু: করে থুথু ফেলল, অংহাকারের কি এক প্রকাশ মনে হলো তার দাঁড়িয়ে থাকা, ঘেন্না জানানো আর থু: বলে ঘৃণার প্রকাশ। নিজের ভেতর কুকরে গেলাম।

- গেলি মাগী! নাইলে হাজতে পুরুম। কি হইছে, স্বতী নারী... যা ভাগ।

আর কিছু না বলে মেয়ে দু'টো তাদের রিকশায় উঠলো, টুন-টুন বেল বাজিয়ে চলে গেল রিকশা আমার হাত তিনেক দূর দিয়ে। ভ্যানটাও এগিয়ে গেল, মোড় নিয়ে চলে গেল হাইকোর্টের পাশের রাস্তায়। আমি কিছু ভাবছিনা, শুধু মনে-মনে অন্ক মেলাচ্ছি ড্রাইভার সহ সামনে দু'জন আর পেছনে সম্ভবত আরো তিন জন ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৫৩
৩৫টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×