কথা বললাম ভেলোরে চিকিৎসাধীন শাশ্বত'র সাথে
আমি আর এম মুহূর্তও দেরি করি নাই, আমার সেল ফোনে যথেষ্ট টাকা আছে কিনা পরখ করে তখনই ফোন দিলাম। এই একটু আগে শাশ্বতর গলা ইথার বেয়ে ভেসে এলো...আহ! কী শান্তি নেমে এলো মনে, আর সব জড়তা ঝেড়ে ফেলে উঠে বসলাম লিখতে।
সেই ২০০৬ সালের জুনে ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজের ডাক্তার দেবাশীষ ডাণ্ডা (মেডিসিন) শাশ্বতকে দেখেছিলেন এবং ইনজেকশন নেবার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে-সময় বিষাদগ্রস্ত মনে শাশ্বতদেরকে ফিরে আসতে হয়েছিল অর্থাভাবে, কারণ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অন্তত ২০ লক্ষ টাকা, যা সংগ্রহ করা তাদের জন্য ছিল নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব।
গতকাল ২১শে জুন ড. ডাণ্ডা তো শাশ্বতকে দেখেই অবাক। এতোদিন পর্যন্ত যে শ্বাশ্বত টিকে আছে, এখনও দাঁড়াতে পারে তা দেখেই বিস্মিত হয়েছেন। আরও অবাক হয়েছেন যখন জানতে পারলেন শাশ্বত সকল বাধা অতিক্রম করে ২০০৭ সালে এইসএসসি পরীক্ষা দিয়ে এবছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়েছে। আর, একেবারে মুগ্ধ হয়ে পড়লেন যখন জানতে পারলেন যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ দেশবাসীকে সাথে নিয়ে ইতোমধ্যেই 'শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা তহবিল' গঠনের জন্য মাঠে নেমে পড়েছে। সমকাল, ডেইলি স্টার-এর উইকএন্ড ম্যাগাজিনে আমার লেখাদুটো ডাক্তার রেখে দিয়েছেন, উৎসাহের সাথে জানালো শাশ্বত।
শাশ্বতরা বাস করছে ভেলোর ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজের পাশেই 'নবীন' লজের ৬ নং কক্ষে। গতকাল চেক-আপ করা হয়েছে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা করতে দিয়েছেন: ব্লাড টেস্ট, বোন ডেনসিটি স্ক্যান এবং HLA টেস্ট। ২৬ তারিখে সেগুলো দেখবেন। তিনি আশঙ্কা করছেন শাশ্বতর রাইট হিপ-জয়েন্টও নষ্ট হয়ে গেছে, আর ২০০৬ সালেই তো বলেছিলেন যে লেফ্ট হিপ-জয়েন্ট চিরতরে নষ্ট নষ্ট হয়ে গেছে। এবং এখন শরীরের সকল জয়েন্টই সম্ভবত আক্রান্ত হয়েছে।
তবে ডাক্তার আশার কথাও শুনিয়েছেন: ইনজেকশনগুলো নিলে শাশ্বতর ৮০% অসুস্থতা সেরে যাবে, বাকিটুকু সারতে একটু সময় লাগবে। ২৭ তারিখে ড. ভি এন লিকে (অর্থোপেডিক) দেখানো হবে এবং এবটা বোর্ড বসিয়ে নির্ধারণ করা হবে মোট কতো টাকা লাগবে এবং চিকিৎসার পর্যায়ক্রমগুলো কী হবে। এরপর ওরা দেশে ফিরে আসবে আমাদের সংগৃহীত টাকা নিতে। বস্তুত আমাদের ভরসাতেই তো শাশ্বতর বাবা ওকে ভেলোরে চেক-আপ করতে নিয়ে যেতে সাহস করেছেন।
সুতরাং শাশ্বতর চেক-আপের চূড়ান্ত রিপোর্ট আমরা পাচ্ছি এ-মাসের শেষ নাগাদ। তারপর স্বল্পতম সময়ে প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহ করাটাই হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
শাশ্বত, তার বাবা-মা ও আত্মীয় পরিজন, এবং আমাদের বিভাগের সকল শিক্ষাথী-শিক্ষক-কর্মচারী আর শাশ্বতর হেঁটে যাওয়া করিডোর-ক্লাসরুমগুলো এখন তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে, আপনার দিকে- কবে নাগাদ আমরা পুরো টাকাটা তুলে শাশ্বতকে আবার ভেলোরে পাঠাতে পরবো, কবে নাগাদ ক্র্যাচ-ছাড়া শাশ্বত আমাদের দশজনের মতোই হেঁটে-খেলে বেড়াবে।
ভেলোর ওরয়ানা হওয়ার আগে শেষ ওকে দেখেছিলাম, ছেঁচড়ে-ছেঁচড়ে বাথরুমে যাচ্ছে- কারণ কোমরে একবিন্দু শক্তি ছিল না ওকে দাঁড় করিয়ে রাখার। আমরা আপনাদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, সহযোগিতাও পাচ্ছি, কিন্তু শেষ হাসিটা আমরা সকলে মিলে হাসতে পারবো তখনই যখন থেকে শাশ্বত সটান হেঁটে ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে...আর আমাদের সাথে সমাজ-রাষ্ট্র-মিডিয়া নিয়ে তর্ক জমাতে পারবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ‘শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা’ তহবিলে আপনি সরাসরি টাকা জমা দিতে পারেন:
১। একাউন্ট নং: 135-101-337.
Swift Code: DBBL-BD-DH-100
Dutch-Bangla Bank Ltd
২। একাউন্ট নং: ৩৪২৬০৪৯৮। অগ্রণী ব্যাংক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, রাজশাহী।
ভেলোরে শাশ্বত ও তার বাবার আস্তানা: নবীন লজ, ভেলোর, ফোন নং: ০০৯১৪১৬২২২৭৩০৬
(আ-আল মামুন, রাজশাহী, রাত ১১.৩০, ২২.০৬.০৮)
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।