গত ২৮ সেপ্টম্বর ভোরবেলা আমার কাছে খুব বিষন্ন লাগছিল স্টেশন চত্ত্বর- শাশ্বতর সহপাঠীরা কেউ নাই, শিক্ষকরা কেউ নাই, শুভাকাঙ্ক্ষীরা কেউ নাই। শুধু আমি, শাশ্বতর বোন শান্তা, আর ওর এক কাজিন স্টেশনে।শাশ্বত ও তার মাকে উঠিয়ে দেব। আর আজিমনগর স্টেশন থেকে উঠবেন শাশ্বতর বাবা অরুন সত্য।
অনেক কষ্ট সয়ে, ঝগড়া-বিবাদ করে আমরা সকেলে মিলে শাশ্বতর চিকিৎসার জন্য একটা বড় অংকের টাকা তুলতে সক্ষম হয়েছি। তারপর আইনি হ্যাপা সামলিয়ে দীর্ঘ ৬ মাসের জন্য ভিসা, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রাভেলার্স চেক নিতে বেশ সময় পার হয়ে গেল। সব ঝামেলা চুকিয়ে গত ২৮ সেপ্টম্বর ভোরবেলা রাজশাহী স্টেশনে শাশ্বত ও তার মাকে উঠিয়ে দিলাম। একেতা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তার উপর সামেনই ঈদ। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। তাই ভেলোর পাঠাতে পারার আন্ন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য কেউ সে-সময় স্টেশনে উপস্থিত ছিল না। আমার মন বিষন্ন হয়ে থাকে।
অবশ্য চারিদিকে মানুষের ছুটোছুটি ছিল। আসন্ন ঈদ-আনন্দের ঝলমলে আলো মেখে ছুটছিল তারা আপনজনদের কাছে। কিন্তু তাদের আনন্দ আমাদেরকে স্পর্শ করে না। কারণ আমরা আপনজনকেই পাঠাতে এসেছি দূরদেশে চিকিৎসার্থে। সাথে শঙ্কাও কাজ করে...ওরা ঠিকমতো পৌছাবে তো! ঠিকমেতা চিকিৎসা হবেতো!
সেদিন রাতেই ওরা কোলকাতা পৌঁছে কুশল জানালো। তারপর ৩০ তারিখে যাত্রা করেছে ভেলোরের পথে। গতকাল সারাদিনের আনন্দ-হুল্লোর শেষে আমরা যখন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন শাশ্বত তার বাবা-মা সহ ভেলোরে পৌঁছে। আজ ঘণ্টা খানেক আগে শাশ্বত এবং তার বাবার সাথে কথা হলো...ডাক্তার দেবাশীষ দণ্ড ও তার দুই সহকর্মীর সাথে ওদের সাক্ষাত হয়েছে। আগামী কাল থেকেই চিকিৎসা শুরু হয়ে যাবে। বেশকিছু পরীক্ষা করাতে হবে, বলে তারা জানিয়েছেন। আমাদের পাঠানো চেক ভাঙ্গাতে ১২/১৫ দিন সময় লাগবে। কিন্তু সেজন্য তাঁরা বসে থাকবেন না।
এবার শাশ্বতর একটা হিপ-রিপ্লেসমেন্ট করা হবে। আর সেইসাথে ৪ ডোজে একটা বায়োলজিক্যাল ইনজেকশন দেয়া হবে। যে ইনজেকশন ওর শরীরে স্বতঃক্রিয়ভাবে এইচএলএ নামক এন্টিবিডর উৎপাদন থামিয়ে দেবে। এই এন্টিবডিই ওর শরীরকে নরক বানিয়ে রাখে সবসময়।
আমাদের হাতে ছিল পনেরো লক্ষ টাকা। ওদেরকে এবারের জন্য আমরা দিয়েছি সাড়ে তের লক্ষ টাকা। পরবর্তী ট্রিটমেন্টর জন্য আরো টাকার প্রয়োজন হবে, সেকথা আপনারা সকলেই জানেন। তবে সে-টাকা লাগবে আরো ৬ মাস পরে।
শাশ্বত বা তার বাবা-মা স্বপ্নেও কখনো ভাবেনি যে তার চিকিৎসার টাকা যোগাড় হতে পারবে। কিন্তু আমরা সরাই মিলে তাদেরকে আশার আলো দেখাতে পেরেছি...তার বৃহদাংশ চিকিৎসা এবারেই ভেলোরর ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজে সম্পন্ন হবে। সবাইকে আহ্বান জানাই আসুন আবারো আমরা এককাতার হই...শাশ্বতর বাকি চিকৎসার দায়ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিই।
সহযোগিতা পাঠাবার ঠিকানা: (১) শাশ্বত চিকিৎসা-সহায়তাএকাউন্ট নম্বরঃ ৩৪২৬০৪৯৮, অগ্রণী ব্যাংক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং (২) ‘Saswota Chikitsa-Sohayota’ AC no: 135-101-33705, Swift code: DBBL BD DH 100. Dutch-Bangla Bank Limited.
আপনাদের ভালোবাসায় শিক্ত শাশ্বত এখন ভেলোরে
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।