এলাহী ভরসা
পরম শ্রদ্ধেয়া আম্মাজান,
কুশলাদি জানিতে চাহিয়া নিজেকে আর মায়ার বাধনে জড়াইবোনা। আমার বর্তমান মানসিক পরিস্থিতি আপনাকে অবগত করিবার নিমিত্তই এ পত্র লেখা। বাল্যকাল হইতে আমি কেবল পুস্তকেকই চিনিয়াছি, বুঝিয়াছি; কথা বলিবার মানুষ পাই নাই_ তাই কথা বলিতেও শিখি নাই। ইহা যে কতমস্ত ভুল ছিল তাহা মরমে উপলব্ধি করিলাম বুয়েটে আসিয়া। প্রারম্ভিক দিনে ক্লাস করিতে গিয়াই কিরূপ বিব্রত হইয়াছি তাহা আর কী বলিব: আমি আপনমনে হাটিয়া ফিরিতেছিলাম ,অকস্মাৎ এক সিনিয়র আপু আসিয়া আমার হস্ত একখানি গোলাপ ফুল ধরাইয়া দিয়া কহিলেন আমি দেখিতে নাকি বলিউডের হিরোদের মত, আমাকে তাহার মনে ধরিয়াছে। মুরুতে লজ্জায় রাঙা হইলেও মনে ভাবিলাম- ক্ষতি কি! একে তো ঝুকিবিহীন বিনিয়োগ, উপরন্তু লাভের উপর double love. ইতোমধে কতিপয় বড় ভাই েসস্থলে উপস্থিত হইল; ক্যাম্পাসে প্রথমদিন আসিবামাত্র আমার এইরূপ কর্মকাণ্ডের হেতু উহারা আমায় তিরস্কার করিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক পদে দঁাড়াইয়া থাকিবার হুকুম জারি করিলেনঅ আপুকে পূবর্ের কথা স্মরণ করিয়া দিলে জবাব পাইলাম উহা ছিল অনুজ হিসেবে আমার সহিত যৎকিঞ্চৎ তামাশামাত্র। হায়! উনি কিরূপে বুঝিবেন মুখরা রমণীর এইরূপ খেলা আমার মত ব্যাঙাচি বালকের মৃত্যুর ইন্তেজাম। এতদিনে বুঝিয়াছি ইহাই ragging!
যাহা হউক এক সহপাঠিনীর মন অচিরেই আমার প্রতি সদয় হইল, মুঠোফোনের বদেীলতে রাত্রিতেও কুশলাদি বিনিময় চলিতে থাকিল। আমি ভাবিলাম পিতৃ-মাতৃহীন এই দূর-বিদেশে এমন একজনকে অন্তত পাইলাম যাহার কাছে স্নেহ পাইতে পারি; আমি যে বড়ই স্নেহের কাঙাল! কিন্তু স্নেহের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করিতেই সে এমন
দৃষ্টিতে তাকাইলো যেন এক্ষুণি অগ্নুৎপাত ঘটিবে। আমি কোনক্রমে সম্ভ্রম লইয়া পালাইয়া বঁাচিলাম।
ক্লাস করিতে গিয়া জীবনের নির্মম সত্যখানি আবিষ্কৃত হইল: প্রকেীশলি হইবার কোন কেীশল রপ্ত করিতে অক্ষম। মনে ভাবিলাম-হা ঈশ্বর, এ কী খেলা খেলিতেছ তুমি! শিক্ষক মহোদয়গণ পড়ান আর আমি কল্পনার অলিতে-গলিতে ঘুরিয়া ফিরি, ব্যবহারিক ক্লাসের যন্ত্রপাতি ভাঙার জরিমানা গুনিতে গুনিতে ইদানিং প্রায়শই পকেট ফাকা থাকে। Norton theorem, polarization, partial derivative ইহারা কী এবং কী তাহাদের প্রয়োগক্ষেত্র ইহা ভাবিয়াই term সম্পণ্ন করিয়াছি। ইতোমধে্য ফলাফল প্রকাশিত হইল: মুমূর্ষভাবে উত্তীর্ণ হইয়াছি এবং আশঙ্কা করিতেছি এরূপ চলিতে থাকিলে অচিরেই কোন এক term এ ডিগবাজি খাইব!
আজিব আর এক সংকট ঘনীভূত হইয়াছে: আমার অবয়ব নাকি 'খালু' হইবার মত; যে কারণে সহপাঠিরা আমায় খালু সম্বোধন আরম্ভ করিয়াছে,, এমনকি সেই স্নেহশীল সহপাঠিনীও! আহ! হৃদয়কাননে যা-ও একখানি পুষ্প প্রস্ফূটিত হইতেছিল তা-ও অঙ্কুরেই ঝরিয়া পড়িল। কি হইবে আর বুয়েটে থাকিয়া? পড়াশোনার উন্নয়ন নাই, হৃদয়ের বিকাশ রুদ্ধ- আমার ভবিষ্যত এতই নিকেষ তিমিরাচ্ছন্ন যে আমি নিজেও উহাকে খুজিয়া ফিরিতেছি! এমতবস্থায় আপনাদের অন্ন ধ্বংস না করিয়া বিকল্প পন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়তর। তাই চলিলাম। যদি আবার কখনো সুস্থ চৈতনে্যর উন্মেষ ঘটে সেদিনই কেবল ফিরিব; তবে আপনার সোনাবাবা হইয়া নয়, পীরবাবা কিংবা সূফীবাবা হিসেবে। আমায় আশীর্বাদ করিবেন....
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



