somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সম্প্রতি সণ্নাসী হওয়া জনৈক বুয়েট ছাত্রের মাকে লেখা শেষ পত্র....( সন২০০৭)

২৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এলাহী ভরসা
পরম শ্রদ্ধেয়া আম্মাজান,
কুশলাদি জানিতে চাহিয়া নিজেকে আর মায়ার বাধনে জড়াইবোনা। আমার বর্তমান মানসিক পরিস্থিতি আপনাকে অবগত করিবার নিমিত্তই এ পত্র লেখা। বাল্যকাল হইতে আমি কেবল পুস্তকেকই চিনিয়াছি, বুঝিয়াছি; কথা বলিবার মানুষ পাই নাই_ তাই কথা বলিতেও শিখি নাই। ইহা যে কতমস্ত ভুল ছিল তাহা মরমে উপলব্ধি করিলাম বুয়েটে আসিয়া। প্রারম্ভিক দিনে ক্লাস করিতে গিয়াই কিরূপ বিব্রত হইয়াছি তাহা আর কী বলিব: আমি আপনমনে হাটিয়া ফিরিতেছিলাম ,অকস্মাৎ এক সিনিয়র আপু আসিয়া আমার হস্ত একখানি গোলাপ ফুল ধরাইয়া দিয়া কহিলেন আমি দেখিতে নাকি বলিউডের হিরোদের মত, আমাকে তাহার মনে ধরিয়াছে। মুরুতে লজ্জায় রাঙা হইলেও মনে ভাবিলাম- ক্ষতি কি! একে তো ঝুকিবিহীন বিনিয়োগ, উপরন্তু লাভের উপর double love. ইতোমধে কতিপয় বড় ভাই েসস্থলে উপস্থিত হইল; ক্যাম্পাসে প্রথমদিন আসিবামাত্র আমার এইরূপ কর্মকাণ্ডের হেতু উহারা আমায় তিরস্কার করিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক পদে দঁাড়াইয়া থাকিবার হুকুম জারি করিলেনঅ আপুকে পূবর্ের কথা স্মরণ করিয়া দিলে জবাব পাইলাম উহা ছিল অনুজ হিসেবে আমার সহিত যৎকিঞ্চৎ তামাশামাত্র। হায়! উনি কিরূপে বুঝিবেন মুখরা রমণীর এইরূপ খেলা আমার মত ব্যাঙাচি বালকের মৃত্যুর ইন্তেজাম। এতদিনে বুঝিয়াছি ইহাই ragging!
যাহা হউক এক সহপাঠিনীর মন অচিরেই আমার প্রতি সদয় হইল, মুঠোফোনের বদেীলতে রাত্রিতেও কুশলাদি বিনিময় চলিতে থাকিল। আমি ভাবিলাম পিতৃ-মাতৃহীন এই দূর-বিদেশে এমন একজনকে অন্তত পাইলাম যাহার কাছে স্নেহ পাইতে পারি; আমি যে বড়ই স্নেহের কাঙাল! কিন্তু স্নেহের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করিতেই সে এমন
দৃষ্টিতে তাকাইলো যেন এক্ষুণি অগ্নুৎপাত ঘটিবে। আমি কোনক্রমে সম্ভ্রম লইয়া পালাইয়া বঁাচিলাম।
ক্লাস করিতে গিয়া জীবনের নির্মম সত্যখানি আবিষ্কৃত হইল: প্রকেীশলি হইবার কোন কেীশল রপ্ত করিতে অক্ষম। মনে ভাবিলাম-হা ঈশ্বর, এ কী খেলা খেলিতেছ তুমি! শিক্ষক মহোদয়গণ পড়ান আর আমি কল্পনার অলিতে-গলিতে ঘুরিয়া ফিরি, ব্যবহারিক ক্লাসের যন্ত্রপাতি ভাঙার জরিমানা গুনিতে গুনিতে ইদানিং প্রায়শই পকেট ফাকা থাকে। Norton theorem, polarization, partial derivative ইহারা কী এবং কী তাহাদের প্রয়োগক্ষেত্র ইহা ভাবিয়াই term সম্পণ্ন করিয়াছি। ইতোমধে্য ফলাফল প্রকাশিত হইল: মুমূর্ষভাবে উত্তীর্ণ হইয়াছি এবং আশঙ্কা করিতেছি এরূপ চলিতে থাকিলে অচিরেই কোন এক term এ ডিগবাজি খাইব!
আজিব আর এক সংকট ঘনীভূত হইয়াছে: আমার অবয়ব নাকি 'খালু' হইবার মত; যে কারণে সহপাঠিরা আমায় খালু সম্বোধন আরম্ভ করিয়াছে,, এমনকি সেই স্নেহশীল সহপাঠিনীও! আহ! হৃদয়কাননে যা-ও একখানি পুষ্প প্রস্ফূটিত হইতেছিল তা-ও অঙ্কুরেই ঝরিয়া পড়িল। কি হইবে আর বুয়েটে থাকিয়া? পড়াশোনার উন্নয়ন নাই, হৃদয়ের বিকাশ রুদ্ধ- আমার ভবিষ্যত এতই নিকেষ তিমিরাচ্ছন্ন যে আমি নিজেও উহাকে খুজিয়া ফিরিতেছি! এমতবস্থায় আপনাদের অন্ন ধ্বংস না করিয়া বিকল্প পন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়তর। তাই চলিলাম। যদি আবার কখনো সুস্থ চৈতনে্যর উন্মেষ ঘটে সেদিনই কেবল ফিরিব; তবে আপনার সোনাবাবা হইয়া নয়, পীরবাবা কিংবা সূফীবাবা হিসেবে। আমায় আশীর্বাদ করিবেন....
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬
১৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×