প্রথম পর্ব এখানে ক্লিক করুন
{প্রথম পর্বের পর থেকে........প্রথম পর্বের শেষাংশটুকু মনে রেখে পড়া চালিয়ে যেত হবে}
"অগ্যস্ত যাত্রা"
আর আসিবনা ফিরে-এই নরকের নীড়ে; চলিয়া যাইব যেদিকে দুচোখ যায়,
গেরুয়া বসনে মেঠো পথে পথে হাটিব নাঙ্গা পায়।।
জানিনা কিরূপে মিটিবে আমার মনের সকল ক্লেশ
কিরূপে ভুলিব নন্দঘোষের বিদ্রূপমাখা শ্লেষ!
দীর্ঘদিনের মোকাদ্দমায় আমার সঙ্গে হেরে-
ভাবিলাম বুঝি নন্দ আমায়- আসিবে মারিতে তেড়ে
কিন্তু দয়ালু নন্দ কহিল "আমি এক গর্দভ"
"এসো এসো বুকে এসো প্রাণের বান্ধব।"
"তোমার দুঃখে ঘুম আসেনা, গরম মাথার চাদি"
"ঢের হয়েছে একলা থাকা- এবার কর শাদি।"
আমি বলি- "ভায়া কহিছো দারুণ; মন মানেনা বারণ"
"সমভিব্যহারে চলি চলি কর তিলোত্তমা শরণ।"
"বউ যেন হয় রূপের দেবী"- কহিল শকুনী মাসী
রূপসী হেলেন খুঁজিতে গিয়া জুটিল তাহার দাসী।।
পত্নী আমার গুণে সরস্বতী, প্রিয়ম্বদা কথায়
ডিম ভাজিতে হাত পুড়ে তার, ঘুম ভাঙ্গে ভোর নটায়!
চেঙ্গিস খা নানা হয় তার, দাদা তৈমুর লঙ,
তাহার প্রতাপে অভাগা আমি- যাত্রদলের সঙ।
সপ্তাহব্যাপী অফিস করিয়া শুক্রবারে ছুটি
কাপড় ধোয়া সাঙ্গ হইলে বানাইতে বসি রুটি!
কবুল বলিতেই ভাঙ্গিয়া গিয়াছে সাধেরও শিরদাঁড়া
মগজবিহীন মস্তক আমার পরাধীন বীর জারা!
"স্ত্রী" শব্দটি ভুল মনে হয়; আদতে "ইস্ত্রি" লাগে
শার্ট-প্যাণ্টরূপী স্বামীকে ডলিয়া ভাজ করিয়া রাখে।
কেন যে বৃথাই মামলা জিতিলাম, কেবল ঈশ্বর জানে
চতুর নন্দ জনমের তরে মারিল আমায় প্রাণে।
নরকানলে পুড়িয়া পুড়িয়া হইল অকালবোধন
বিবাহিত নর রোরূদ্যমান; অরণ্যে করে রোদন।
তাই করিলাম চিরপ্রস্থান; বিদায় ধরনী বিদায়
তিনে বিবাদ, দুইয়ে বন্ধু; একলা??........আবার জিগায়!!!
ধরনীবাসী তোমাদের তরে রাখিলাম নিবেদন
বিবাহের কথা বন্ধু কহেনা, কহে শুধু দুশমন।।।।
#সবশেষে সেই ঐতিহাসিক প্রেমপত্র যা পেয়ে উপলব্ধি করলাম প্রিয়ার কালোচোখ কখনো ঘোলাটে হয়না, বরং প্রতিমুহূর্তে সেখানে সংযোজন ঘটে নবরহস্যের। পক্ষান্তরে স্ত্রী'র রোমাণ্টিক কাব্যিকতা দ্বিপ্রহর শেষেই "আটপৌরে ন্যাকামিতে" রূপ নেয়।সুতরাং পাঠকের মনোজগত আলোড়িত করবার মানসে সেই প্রমপত্রটি প্রকাশ করে নিজের দায়বদ্ধতা এড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করি কিভাবে???(সঙ্গত কারণেই পত্রে উদ্ধৃত নাম পরিচয় উহ্য রাখতে হচ্ছে)
প্রিয়বরেষু..........
আমি জানি ভালো থাকাই তোমার নিয়তি, তাই কেমন আছো জিজ্ঞেস করাটা নিরর্থক।তবে বলতে পারো তোমার প্রভাবে আমারও ইদানীং কেন জানিনা সবসময় ভাল থাকতে ইচ্ছে হয়; বলতে পার এ আমাদের আত্মিক মেলবন্ধন।তোমার নিরাসক্ত অভিব্যক্তিতে যে নৈসর্গিক আহ্বান লুকায়িত তাকে অগ্রাহ্য করা আমার দুঃসাধ্য,হয়ত সে কারণেই তোমাকে এড়াতে গিয়ে আরোও নিবিড়ভাবে তোমাতে জড়িয়ে পড়ি। আর তাই তোমাকে রক্তাক্ত করার বুনোসাধ সততই মনের মাঝে উন্মীলিত হয়, সেই রক্তের মাঝেই আমার সকল রিক্ততা !" জীবনে তুমিই প্রথম"-এমন নির্জলা মিথ্যা বলাটা ভীষণ অরুচিকর; ভাল লাগা কোন মহাকর্ষ ধ্রুবক নয়, বরং X চলকের মতই এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল। তবে তোমাকে ভালো লাগা যতটুকু উপলব্ধির তারচেয়ে অনেক বেশি অপার্থিব অনস্তিত্তের আপেক্ষিকতা। বন্ধুরা বলে তুমি একরোখা-দাম্ভিক,কিন্তু আমি মনে করি অসম্পূর্ণতাই চিরন্তন মানবীয় বিশুদ্ধতার ধারক; ত্রুটি না থাকলে সে তো angelহয়ে যাবে; আমার প্রয়োজন 'মাটির মানুষ', angel দিয়ে আমি কী করব??তোমার প্রতি আমার অনুভূতির শতরঞ্জি মেঘগুলো কোন "I love U" ধর্মী সহজলভ্য দমকা হাওয়ায় ভেসে যেতে সৃষ্টি হয়নি; তোমার আলোর জলসাঘর যদি হঠাৎ সাকীশূন্য হয়ে পড়ে, নিঃসঙ্গতারা ক্ষণিক অবকাশ চায়, কিংবা আকাশটাও যদি হঠাৎ পঙ্গপালের দখলে চলে যায়, জেনো আমার আকাশে তখনো তোমাকে ভেবেই রঙধনু উঠবে, সে আকাশের শতরঞ্জি মেঘগুলো অনুভূতির বৃষ্টি হয়ে শুধু তোমাকেই সিক্ত করবে! আমার যত অস্পষ্টতা- তোমার মনের বিশুদ্ধতায় বুঝে নিও তুমি নির্বাকতায়
এখানে আঁধার; তোমার অধর অধরা তবু, বোধেরা বাধার দেয়াল
তুমি-আমি মিছেমিছি খেলি কাছাকাছি হওয়া খেলা
ক্রোশ এগুলে, মাইলে পিছিয়ে কাটে আমাদের বেলা
এভাবে চলা-হয়না বলা ; আছে যা অনুভবে- দূরে থাকাটা
আমার-তোমার সপ্তমনের খেয়াল///
.(.......................)
আমার সর্বশেষ: আমি মনে করি পৃথিবীর সঙ্গে লেনদেনের সম্পর্ক আমৃত্যু চলতে থাকবে, তাই টলস্টয়ের বিরুদ্ধাচারণ করা আর হয়ে উঠেনি। পক্ষান্তরে কুরি দম্পতিদের "কদবেল"("কদ" উপসর্গট নিন্দা প্রকাশার্থে) এখন এত প্রিয় যে তারা বড়জোড় মডেল তারকা "নোবেল'"কে sms দিতে পারে; "সংসার" নামক মারাত্মক তেজস্ক্রিয় মৌলের side effect এ তাদের মানসিক ভারসাম্যই এখন গভীর কোমায় আচ্ছন্ন।তাই আমার হিমালয়ের বরফ না গলে বরং জমাট বেধে এর উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বৃদ্ধি পেয়েছে!! তবে আধুনিক "কুরি দম্পতিদের" নিরাশ হবার কোন কারণ নেই, কেননা পিয়েরে কুরিরা একটু liberal, compromising, domestic ( সরলভাষায় "স্ত্রৈণ") হলেই সঙ-সার(!) স্বর্গনীড়ে পরিণত হতে পারে। চলুন সবাই (আমি বাদে) পিয়েরে কুরিদের শুভবুদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি।।।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


