বিশেষ কৃতজ্ঞতা: ব্লগার মুজিব মেহেদী
গতরাতে হঠাৎ ব্লগার মুজিব মেহেদীর একটি পোস্টের কথা মনে পড়ে গেল।।
তাই কিছুক্ষণ চেষ্টা করে ১:৭ অনুপাতের এই গল্পগুলো লিখলাম।।গল্পগুলো লেখার আগে প্রাথমিক মূলনীতি সম্পর্কে জানা যাক:
১. গল্পের শিরোনামের বর্ণসংখ্যা ও মূলগল্পের শব্দসংখ্যার মধ্যে সর্বদা ১:৭ অনুপাতটি বজায় থাকবে। ধরা যাক, গল্পের শিরোনাম ' তুমি' যাতে ২ বর্ণ আছে। সেক্ষেত্র গল্পটিতে শব্দসংখ্যা হবে ১৪.
২. গল্পের শিরোনাম অনধিক ৭ বর্ণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে সবসময়। কোনভাবেই ৭ এর অধিক বর্ণযুক্ত শিরোনাম গ্রহণযোগ্য হবেনা। সে হিসেবে, ৪৯ শব্দসংখ্যার গল্পই এ ধরনের লেখায় দীর্ঘতম গল্প।
৩. শিরোনামের শব্দটি গল্পে ব্যবহৃত হতে পারবেনা।। সেক্ষেত্রে শিরোনামটি হবে গল্পের থিম প্রকাশক কোন শব্দ।।
এইবার একে একে গল্পগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক
সে
সেই শেষবার; এরপর কখনই আর দেখিনি তাকে। (শব্দসংখ্যা ৭)
মৃত্যু
সত্যিই অদ্ভুত! ফ্যান ঘুরছে, টিকটিক করছে ঘড়িটাও; কেবল ঘুমন্ত মানুষটিই শেষরাতে অজান্তে লাশ হল। ( শব্দসংখ্যা ১৪)
শরণ
শেষ মাছিটাও বিদায় নিল। চিলেকোঠার বদ্ধ ঘরটিতে আবার একা হয়ে গেলাম।এখন আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নে খুঁজে বেড়াবো প্রত্যাগত সেই মাছিটিকে। ( শব্দসংখ্যা ২১)
অন্য আলো
চোখাচোখি হতেই চোখ ঘুরালাম, কারণ ওর চাহনিটা আমায় হীনমন্যতায় ভোগাচ্ছিল।অবশেষে দ্বিধা কাটিয়ে টাকাটি ওর হাতে দিলাম; সে সময় রাস্তায় হেটে চলা জনৈকা অষ্টাদশীর ঠোট কাপছিল কিনা জানিনা। ( শব্দসংখ্যা ২৮)
পরের দিন...
শেষ দুই লাইন মিলছেনা কিছুতেই।এই পর্যায়ে এসে লেখাটাকে মনে হচ্ছে কুৎসিত কোন নারীর মুখ।এর আগে কখনোই এমনটি হয়নি আমার। আসলে সৃজনশীলতায় জবরদস্তি অচল; আজ বরং এখানেই সমাপ্তি টানি লেখার। কাল আবার শুরু করবো। ( শব্দসংখ্যা ৩৫)
রূপান্তরিত...
শুনশান রাস্তা।দু-একটি কুকুরের ঘেউ ঘেউ, আর দূরপাল্লার বাসগুলো নিরবতা ভঙ্গ করছে রাত্রির। আশেপাশের বাড়িগুলোতেও আলো নিভে গেছে অনেকক্ষণ। ঠোটে সিগারেট চেপে ঝিঝিপোকার ডাক শুনতে শুনতে অধি হাটছে; এই নির্জন রাতের পথ ধরে ভোরের আগেই তাকে পৌছতে জীবনের নতুন গন্তব্যে। ( শব্দসংখ্যা ৪২)
পরাবাস্তব নয়....
ছোট্ট ঝাকুনি দিয়ে ট্রেন থামতেই প্লাটফরমটি রূপ নিল জনারণ্যে। প্রতীক্ষার যে অলস সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম এতক্ষণ, আমি জানি খানিকবাদেই তার অবসান ঘটবে।এই ট্রেনেরই কোন কামরায় বসে আছে পাপড়ি, হয়ত বাতাসে উড়ছে চুল। ধীরপায়ে নেমে আসবে 'ও', অতঃপর প্রতীক্ষার প্রহরগুলো উপহার দিয়ে পবিত্র হবো। তাইতো ইন্দ্রিয় বলছে ' সে আসছে...." ( শব্দসংখ্যা ৪৯)
.......আরও বেশ কয়েকটি প্যাটার্ন মাথায় আছে।।। আপাতত এটাই থাকুক।।। সময়াভাবে আরও বিস্তৃত আলোচনা করা গেলনা আপাতত।।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

