আমার প্রিয় পোস্ট
- নিজেকে একজন পেশাদার বিনোদনকারীর চেয়ে ভৃত্য মনে করি: কার্লোস রেগাদাস (৭ম ও শেষ কিস্তি) - কাঊসার রুশো
- স্ক্রীপ্ট রাইটিং পর্ব-দুই : ফরম্যাট, হেডিং, ডিরেকশন, ক্যামেরা শট - রন্টি চৌধুরী
- যেকোন মুভির জন্য 字幕 --> Subtitle কিভাবে ব্যবহার করবেন? - বিডি আইডল
- টাকা লাগবে টাকা?? টাকা শুধু টাকা নয় শিল্পও বটে। - জীবনানন্দদাশের ছায়া
- উইকিপিডিয়াতে লেখা সাজাবার সহজ উপায়-(পর্ব-১) - সাদাচোখ
- ফ্রি ল্যান্সিং সম্পর্কিত কতগুলো গুরুত্বপূর্ন বিষয় । - রাফিম্যান
- আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- ১০০০০০ ই-বইয়ের ভুবনে স্বাগতম
- ইন্ঞ্জিনিয়ার
- এ কোন কবিতা নয়, এ এক মেয়ের জীবন.......... - সুলতানা শিরীন সাজি
- বিভ্রম - দ্রোহি
- অপ্রকাশিত চিঠি(শেষ)...... - সুলতানা শিরীন সাজি
- গল্প: জ্যামিতি বই - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
- সেলিব্রিটি সিনড্রোম - ফারহান দাউদ
- জুলাইয়ের তেইশঃ আরেকটিবার আয়রে সখা! - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- আমার পড়া একুশটি ভালো বাঙলা-উপন্যাসের তালিকা-১ - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- ডাউনলোড করুন ইচ্ছেমত...Rapidshare.com, MegaUpload.com সহ প্রায় সব সাইট থেকে - বাবর মোহাম্মদ
- ক্লাসিক : সামার ওয়াইন (খুব প্রিয় কাউকে) - অমি রহমান পিয়াল
- গণিতের সপ্ত কৌতুক (২) - ম্যাভেরিক
- আসুন সুর মেরে দেওয়া বাংলা গানের সন্ধান করি ৩ - বাষ্প
- একটি উঠোন একটি বাগান আর একজন ক্ষুদ্র মানবের শৈশব - সীমান্ত আহমেদ
- দুরের পাখি (গল্প) - দুরের পাখি
- আসুনতো বাংলায় প্যালিনড্রোম বানাই! - মনজু মজুমদার
- ( কল্পগল্প )--- ফিউশন ট্রেকিং - শান্তির দেবদূত
- প্রেজেন্টেশন (২) - শাহরিয়ার নির্জন
- জুটি- গল্প (সম্পূর্ণ) - পারভেজ
- নজরুল সঙ্গীতের কিছু ভালোলাগার কলি ও জীবনের কিছু চাওয়া পাওয়া - অপ্সরা
- নোয়াখাইল্যা (ফেনী-চৌদ্দগ্রাম) ভাষার ব্যাকরণ -১ - দুরের পাখি
- ভয় -ছোট গল্প - পারভেজ
- পাখিদের উড্ডয়ন: রহস্য ও প্রজ্ঞার V - ম্যাভেরিক
- অদ্ভুতুড়ে: ব্ল্যাক ম্যাজিক - সব্যসাচী প্রসূন
- হিমুর জন্য গ্লাসভর্ত্তি হিমহিম ঠান্ডা হিমেল চা - অপ্সরা
- বাংলা একাডেমী প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম সম্পূর্ণ (রিপোস্ট) - খলিল মাহমুদ
- ছোট গল্পঃ মৃত্যু ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুনাই - আমি ও আমরা
- 0: একটি স্বর্গীয় পরিভ্রমণের গল্প (১) - ম্যাভেরিক
- ঈশ্বরের ক্যানভাস - পারভেজ
- জাম্বো সাইজ ব্লগঃ বঙ্গের গল্প - সৌম্য
- গল্প: না বলা কথা - অমিত আহমেদ
- আমার হাড় কালা করলাম রে ....ওরে আমার দেহ কালার লাইগা রে - শূন্য আরণ্যক
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- অ্যাপোক্যালিপস ফিলিস্তিন - ফারহান দাউদ
- মিনিপ্যাক গল্প - এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল
- দিগন্তে কার কালো আঁখি, আঁখিজলে যায় ভাসি। - অপ্সরা
- জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রুপ! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ৭১' পতনের কাল - নাজনীন খলিল
- প্রমিত বাংলা বানান রীতি (৩): অনুস্বার (ং) এবং উঁয়ো (ঙ)! - ম্যাভেরিক
- প্রমিত বাংলা বানান রীতি (১): ণত্ব বিধান! - ম্যাভেরিক
- ক্যামেলিয়া সাইনেসিস। - ইমন জুবায়ের
- ৭১' ছেলে বাড়ী ফেরেনি - নাজনীন খলিল
- ৭১'আমার এলাকার প্রথম শহীদ - নাজনীন খলিল
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- ৭১"শহীদ নিতাই ভট্টাচার্য - নাজনীন খলিল
- ৭১' হাজার গোলাপ-প্রত্যাশায় - নাজনীন খলিল
- বকশীস - শেরিফ আল সায়ার
- গণিত পাগলদের জন্য (২): Sacred Ratio এবং শর্বরী বাটের ইতিহাস! - ম্যাভেরিক
- জুয়াড়ী......................(ছোট গল্প) - পারভেজ
- দরজাটা বন্ধ করে দাও.................. - সুলতানা শিরীন সাজি
- দুই জীবনের মোহনায়............... - সুলতানা শিরীন সাজি
- কে ছিলেন চাণক্য? - ইমন জুবায়ের
- রোমান সভ্যতার গোড়ার কথা। - ইমন জুবায়ের
- দি স্ক্রিপ্ট রাইটার - এস. এম. মাসুদ রহমান
- ফটো ব্লগ-মহাকবি মাইকেল মধুসুদন এর বাড়িতে একদিন - মুনীর উদ্দীন শামীম
- আসুন শিখি ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ......... - নির্বাসন
- বেড়ানোর গল্প( কুইবেক এর ছোট্ট পাহাড়ী শহর মন্টত্রম্বল্য)এক - সুলতানা শিরীন সাজি
- ~~~~ @ ছবিব্লগ : সেন্টমার্টিনের পথে @ ~~~~ - আকাশনীল
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে একদিন (২) - অতল খাতের গহীন বিষ্ময় - রাগিব
- আশাবাদী শিরোনাম: একটি সন্ধ্যার আত্মপ্রকাশ!! - ক-খ-গ
- ফোবিয়া // ভীতি // আতঙ্ক সমূহ (সম্পূর্ণ) - মইন
- মারফিসূত্র বা Murfy's Laws - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- অন্য অলিম্পিক - নুশেরা
- ইন্টারনেটের প্রকৃত ইতিহাস - ১ম পর্ব (ব্রাউসার যুদ্ধ) - নাফিস ইফতেখার
- খসড়া খাতার হাইলাইট্স-৫ - উত্তরাধিকার
- উড়ে যায় পাখি,ফেলে যায় পালক তার, একটা সাদা এবং একটা কালো - সুলতানা শিরীন সাজি
- সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল - শওকত হোসেন মাসুম
- খোলা চিঠি - অপ্সরা
- লালন প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার - ইমন জুবায়ের
- জেগে ওঠো মানিব্যাগ - মেহরাব শাহরিয়ার
- রূপকথাকেও ছাড়িয়ে......... - নাফিস ইফতেখার
- ভাটিতে পড়ে থাকে এক পা ওয়ালা বকের মত দুঃখগুলো - সুলতানা শিরীন সাজি
- মাছি (গল্প) - তানিম হুমায়ুন
- একটি ভালোবাসা কিম্বা ভালো না বাসার গল্প (২য় পর্ব) - পারভেজ
- ক্রমশ নির্মীয়মান দৃশ্য কিংবা চরিত্রের গল্প - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
আত্মবিশ্বাসহীনতায় প্রকট হচ্ছে আত্মার দেউলিয়াত্ব, তবুও বিশ্বাস আগের মতই নিশ্চল..

পাঠক সমীপেষু (গল্প)
০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৫৭
কোন এক শকুন্তলা-সন্ধ্যায় “নীটসে-ফুকো”সদৃশ আজিজ সুপারের দোতলায় সিগারেট-চা’য়ের প্যারেড হচ্ছিল।তাতে অংশগ্রহণকারী সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচকসহ ৭-৮ টি সাংস্কৃতিক কণ্ঠস্বর অকস্মাৎ ব্যাঙের মত ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ জুড়ে দিয়েছিল; ফলশ্রুতিতে “জনপ্রিয় সাহিত্য কখনই প্রকৃত সাহিত্য নয়” , কিংবা ‘জনপ্রিয় লেখকরা দিগম্বর লেখক”- জাতীয় ভী..ষণ(!) গুরুত্বপূর্ণ এক বিতর্ক শুরু হয়েছিল নিজেদের মধ্যে। বিতর্কে মূলধারার লেখকদের প্রতিনিধি “ক”, “খ”, “গ”, পক্ষান্তরে জনপ্রিয় লেখকদের হয়ে ডিফেণ্ড করছিল “প”, “ফ”, “ব”। ইদানীং বিতর্কের “সংসদীয় ধারাটি” বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিধায় তাদের বিতর্কে এই ধারাটিই অনুসৃতই হচ্ছিল, যদিও জনপ্রিয়তার প্রতি বীতস্পৃহ তথাকথিত মূল ধারার লেখকেরা একেও অগ্রাহ্য করে সনাতনী পদ্ধতিতেই বিতর্ক করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল।কিন্তু “জনপ্রিয় লেখকেরা’ বাগড়া দেয়ায় ‘টস’ হয় উভয় দলের মধ্যে: যারা জিতবে, তাদের পছন্দের পদ্ধতিতেই বিতর্ক হবে! উল্লেখ্য, এই বিতর্কে সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব ‘স’, যিনি একটি শীর্ষস্থানীয় সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা করেন। বিতর্কটা শুরু হয়ে গিয়েছিল চা-সিগারেটের অবাধ গণতন্ত্রকে সচল রেখেই:
ক: ধন্যবাদ। আমরা জনপ্রিয় লেখকদের প্রকৃত লেখকের স্বীকৃতি দিতে অনাগ্রহী, কারণ আমরা বিশ্বাস করি জনপ্রিয় সাহিত্য কখনোই প্রকৃত সাহিত্য হতে পারেনা। প্রকৃত সাহিত্য বলতে আমরা বোঝাচ্ছি, সেই উচ্চমার্গীয় লেখনীশিল্প, যেখানে সন্নিবেশিত হবে বহুমাত্রিক জীবন-দর্শন, যৌক্তিক আবেগ, প্রগাঢ় দৃষ্টিভঙ্গি, স্বচ্ছ বাস্তবতা_ অর্থাৎ যার মাধ্যমে একটি বিশুদ্ধ সত্যের সঙ্গে আমাদের পরিচিতি ঘটবে, আমাদের অনুভূতির সেই কোমলতম অংশে তা স্থান করে নেবে যার “নিঃশব্দ অস্তিত্ব” আজীবন অনুভূত হবে। একইসঙ্গে আমাদের দৃষ্টিতে জনপ্রিয় সাহিত্য হচ্ছে সাহিত্যের একটি অপসংস্করণ, যেখানে শিল্পকে উপেক্ষা করে প্রধান লক্ষ্য থাকে চটকদারিতায় পাঠক হরণের দিকে, কিংবা বলা যায় যেগুলোর স্থায়িত্ব-পরিব্যাপ্তি একটি নির্দিষ্ট সময়সাপেক্ষ (হঠাৎ পয়েণ্ট অব ইনফরমেশন চায় “ফ” কিন্তু “ক” তাতে কর্ণপাত না করে বলে চলেন)। দুই সংজ্ঞায়নের সম্মিলনে, প্রকৃত লেখক হচ্ছেন তারাই যারা শিল্পের প্রশ্নে নিরাপোসকামী, বস্তুবাদীতা যাদের লেখায় উপজীব্য হয়েও ভাববাদীতার অপেক্ষক, আর সস্তা জনপ্রিয়তার মোহে যারা লেখাকে নির্দ্বিধায় দিগম্বর করে, তারাই জনপ্রিয় লেখক। (এবার পয়েণ্ট অব ইনফরমেশনে “ব” প্রশ্ন করার সুযোগ পেলেন)
“ আপনি চটকদারিতা বলতে কী বোঝাতে চাইছেন এবং সময়সাপেক্ষতার যে প্রশ্নটি তুলেছেন সে ব্যাপারে আপনি কতটুকু নিশ্চিত?”
- যে কোন ধরনের শিল্পঘাটতিই চটকদারিতা; সহজভাবে বললে মনাঙ্কনের পরিবর্তে মনোরঞ্জনের প্রাধান্য। এটিতো স্থিরসত্য যে, আপনি একটানা হাসতে অপারগ ; তাই আজকের তুমুল জনপ্রিয় সাহিত্য দিনের শেষেই আস্তাকুড়ে আশ্রয় নেবে নিদারুণ শিল্পসংকটের কারণে।আমি বলব, জনপ্রিয় সাহিত্য অনেকটা রঙিন ফানুসের মত : উড্ডয়নকালে চোখে ধাধা লাগিয়ে দেয় ; কিন্তু ভুপতিত হওয়ামাত্র তাকে নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা থাকেনা।
“স”: এবার বক্তব্য প্রদানে অনুরোধ করছি জনাব ‘প’ কে।
প : জনাব “ক”, এটা কোন পরীক্ষার খাতা নয়, তাই দয়া করে মুখস্ত বুলি না আউড়ে বাস্তবসম্মত কথা বলুন। আপনি সাহিত্যের যে চিত্রটি উপস্থাপন করতে চেয়েছেন সেটি একটি পক্ষপাতমূলক ধারণা; এর মাধ্যমে সাহিত্যকে শুধুমাত্র মোটাফ্রেমের চশমাধারীদের ক্রীড়ানকে রূপান্তরের প্রতি আপনার আকাঙ্ক্ষার সাথে সাথে সাহিত্যের সর্বজনীনতাকে প্রচ্ছন্নভাবে অবজ্ঞার বিষয়টিও প্রমাণিত হয়। (পয়েন্ট অব ইনফরমেশনে “গ” এর প্রশ্ন)“ যে কোন সর্বজনীন বিষয়ে মান আরোপের ক্ষেত্রে যে গড়পড়তা নীতি অনুসরণ করা হয় আপনি কি সেটি স্বীকার করেন; সেক্ষেত্রে সর্বজনীনতা কি সাহিত্যের কেীলিন্য খর্ব করছেনা?”
-এইধরনের হাস্যকর প্রশ্ন করে প্রকান্তরে আপনি সাহিত্যকেই অপমান করলেন। দেখুন, সাহিত্য একটি অসংজ্ঞায়িত “সাংস্কৃতিক-মানসিক মাধ্যম”, সংজ্ঞার মাধ্যমে একে সংকীর্ণ করা হয়। এক্ষেত্রে মান আরোপটাও তাই বালখিল্যতা। সাহিত্য কি twin tower ,অথবা Buckingham palace? নইলে কৌলিন্যর প্রশ্নটি আসে কিভাবে?সাহিত্য কখনো গ্রামের মেঠোপথে হাটবে, তো পরক্ষণেই শহরের সবথেকে উচু টাওয়ারে উঠে ভড়ং নাচবে।জনাব “ক” , বহুমাত্রিক জীবন দর্শন, যৌক্তিক আবেগ, স্বচ্ছ -বাস্তবতা সহ বিশেষণের চর্বিতে মেদবহুল যে শব্দগুলো ব্যবহার করলেন তা-ও নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় ; দর্শন কি কোন ধ্রুবধারণা যে আপনি এমন সরলীকরণ করবেন? আপনার-আমার চেহারায় যেমন মিল নেই দৃষ্টিভঙ্গিটাই তেমন ভিন্ন হবে, সেক্ষেত্রে জীবনদর্শন মানে কী? একই কথা আবেগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি যাকে জীবন-মরণ কোন ইস্যু ভাবছেন, হযত আমার কাছে সেটি ধর্তব্যই নয়।বাস্তবতার কথা বলছেন? আমি জানি, আপনি একজন ঘরকুনো মানুষ, মানুষের সংস্রব এড়িয়ে চলেন_ আপনি বাস্তবতার কী বুঝেন? অথচ, আপনি একটা কিছু লিখে সেটিকেই বাস্তব হিসেবে চালিয়ে দেবেন পাঠক মহলে, এটা কি contradictory+ hypocrisy হয়ে গেলনা? সেক্ষেত্রে “দায়বদ্ধতা”কে কিভাবে এড়াবেন?এরপর , আপনি সময়সাপেক্ষতার প্রসঙ্গ তুলেছেন। দেখুন, ১০০% গ্রহণযোগ্যতা স্বয়ং ঈশ্বরেরও নেই বলেই পৃথিবীতে নাস্তিকতাবাদের সৃষ্টি হয়েছে, এর সাপেক্ষে একটি বই খুবই ক্ষুদ্র একটি উপকরণ। দস্তয়ভস্কি-সার্ত্র কেউই কিন্তু বহুল পঠিত লেখক ছিলেন না, কোনদিন হবেনও না, বরং প্রতিযুগেই অল্প কিছু মানুষ তাদের লেখা পড়বেন, শুধুমাত্র সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তারা কালজয়ী লেখক।এখন, আমিও যদি নিজেকে দস্তয়ভস্কি-সার্ত্র ভাবতে শুরু করে সেই ঘরানার লেখা লিখতে শুরু করি, তাহলে সর্বোচ্চ একজন অন্ধ অনুকরণকারী “বানর’ হওযা সম্ভব, কখনোই লেখক নয়। তারচেয়ে বরং এই কুচিন্তার ঢেকিটিই ভেঙ্গে ফেলি দু-কলম লেখার চেষ্টা করি।তাই,আমাদের দর্শনও খুব সাধারণ : জীবদ্দশায় যা কিছু পেলাম সেটিই বিবেচ্য, মৃত্যুর পর আমার নামে কয়টা মনুমেণ্ট হল, আমার লেখা কতহাজার ভাষায় অনুদিত হল এধরনের ফালতু ফ্যান্টাসিতে ভুগে নিজের মধ্যে যা কিছু সৃজনশীলতা আছে তাকে অপচয় করতে চাইনা। ধন্যবাদ।
“স”: এবার বক্তব্য প্রদানে অনুরোধ করছি জনাব ‘খ’ কে।
‘খ’: জনাব “প”, জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে বুদ্ধিমত্তাও যে আশঙ্কাজনকহারে হ্রাস পায়, সম্ভবত আপনিই তার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।আপনি সাহিত্যের সংতজ্ঞায়নের বিপক্ষে, অর্থাৎ আপনি বলতে চাইছেন – “ আমার মুখে ঝাল, মেয়েটির ঠোট লাল, আনন্দে দেই ফাল, সে আসবে কাল, টোল পড়া তার গাল, বাড়ির পাশে খাল, সেথায় মাছের জাল, পথটা একটু ঢাল, সময়ের নেই তাল, নৌকায় তুলি পাল, দারুণ সস্তা ডাল, দাবায় দিচ্ছি চাল, ছাড়াবো তোমার ছাল, মদের নেশায় টাল, হাতে ভিক্ষার থাল, মেয়েটির গায়ে শাল, মাথায় উঠছে মাল, তুমি একটা বাল”...এরকম কিছু একটা লিখলাম, আর তা সাহিত্য হয়ে গেল? এখানে বেশকিছু সুড়সুড়িমূলক লাইন আছে, তাই হয়তো অনেকেরই ভাল লাগতে পারে। কিন্তু আমার কি ভাল লাগছে?এই না ভাললাগা সুলভ উশখুশ থেকেই সাহিত্যকে একটি কাঠামো মেইনটেইন করতে হবে, তার মধ্যে একটি বার্তা থাকতে হবে। ( পয়েণ্ট অব ইনফরমেশনে “ফ” এর প্রশ্ন)
-আপনি বলেছেন, “আমার কি ভাল লাগছে?” তাহলে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী বলে মনে করেন, বা “কাঠামো” শব্দটির মাধ্যমে আপনি কোন্ ধরনের কাঠামোর বলতে চাইছেন?
-আমি মনে করি, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ সৌন্দর্যবোধ সৃষ্টি করা, একটি বিষয়কে যতভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব তদসত্ত্বেও নতুন আর একটি উপায়ে বিশ্লেষণের কৌশল শেখানো, ৩য় চক্ষু বিষয়ক ধারণার সৃষ্টি, কল্পনাকে জাগিয়ে তোলা, কয়টি বলব? শুধু সাহিত্যের উদ্দেশ্য লিখতে গেলেই কয়েকশো পৃষ্ঠার বই হয়ে যাবে, কিন্তু সেটিও ভূমিকা অংশেই নিবদ্ধ থাকবে, “বর্ণনা” অংশ তো বাকী-ই রইল! এরপর, কাঠামো ও বার্তা প্রসঙ্গ। কাঠামো শব্দের মাধ্যমে বোঝাতে চাইছি, আপনার লেখাটি একটি রীতি মেনে চলবে, আর সে সূত্রেই শুরুর ছড়াটির অবতরণ।অন্যদিকে, আপনার লেখাটি পড়ার পর পাঠক যদি কোন শিক্ষণীয় বক্তব্য না-ই পেল , তাহলে লেখাটিই বৃথা পণ্ডশ্রম।দুঃখজনক হলেও আপনাদের লেখায় এই বিষয়টির নিদারুণ অভাব। জনাব “প” এর বক্তব্য প্রসঙ্গে বলতে চাইছি। আপনি শিল্পের ব্যাপারটি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন, কারণ এই বিষয়ে বলতে গেলে আপনাদের লেখালীখি বন্ধ করে সিডি ব্যবসায়ী হতে হবে।তাই, আপনি সরাসরি জনাব “ক” এর বাস্তবতাজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দেখুন, বাস্তবতা বোঝার জন্য সারাদিন পথে পথে হাটা যেমন নিরর্থক, তেমনি কয়েকশো বন্ধু থাকাটাও নিষ্প্রয়োজন। বাস্তবতা বুঝতে হবে ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে, বিভিন্ন লেখকরা যেটা করে থাকেন প্রতিনিয়ত।একইসঙ্গে দস্তয়ভস্কি-সার্ত্রের উদাহরণ টেনে আপনি চরম নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ দিয়েছেন। তারা লেখেন লেখকের জন্য, পাঠকদের জন্য তো অন্য লেখক আছেই। যতক্ষণ না আপনি দস্তয়ভস্কি পাঠ করছেন, তার আগে লেখক হিসেবে একটি শব্দ লেখাও ধৃষ্টতার পর্যায়ে পড়ে। ধন্যবাদ।
“স”: এবার বক্তব্য প্রদানে অনুরোধ করছি জনাব ‘ফ’ কে।
ফ: জনাব “খ”, আপনার “ল” এর ছন্দ উপভোগ করলাম, সত্যি বলতে কী আমার একে সাহিত্য বলতে কণামাত্রও আপত্তি নেই। কারণ, আমাদের দৃষ্টিতে সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দ দান, আপনি যেটি উল্লেখই করেননি। এই আনন্দের শর্তেই আপনার তথাকথিত “কাঠামোর” ধারণাও বাতিল। এতকিছু মেইনটেইন করে জ্যামিতি হয়-মেকানিক্স-ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি-হিস্ট্রি হয়, কোনভাবেই সাহিত্য হয়না। সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তিমানুষ স্বেচ্ছাচারীতায় ঈশ্বেরের কাছাকাছি।তাই, “শেষের কবিতা”, “পথের পাচালি”কে যতই ক্লাসিক-ক্লাসিক করুক সবাই, আমার ভাল না লাগলে সেটি নিকৃষ্টতম সাহিত্য, পক্ষান্তরে ‘স্যাটানিক ভার্স” বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, ভাল লাগলে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ হবে আমার কাছে। সেইসঙ্গে, আপনার “অবশ্যপাঠ্য নীতিকেও” দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।দেখুন, পাঠকমাত্রই দস্তয়ভস্কি-সার্ত্র পড়া উচিৎ , এটা আমি মানি, তবে সেটি যেন আরোপিত না হয়, কারণ সেক্ষেত্রে পাঠের স্বত:স্ফূর্ততা বাধাগ্রস্থ হবে। বুদ্ধিমত্তা লেভেলের ব্যাপারটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। আমি আর আমার বাসার দারোয়ানের পাঠরুচি নিশ্চয়ই একই হবেনা। সেক্ষেত্রে, ওর বই পড়ার আগ্রহটাকেই এপ্রিশিয়েট করা উচিৎ। ধরুন, আপনি ভীষণ জটিল ভাষা-জটিল দর্শনের মারপ্যাচে একটা কিছু লিখে গোল্ডলিফে সুখটান দিলেন , অথচ সেটি আপনি নিজে বাদে অধিকাংশ মানুষের কাছেই দুর্বোধ্য থাকল; বিশ্বাস করুন, সে মুহূর্তে আপনাকে আমার একজন বিকৃত স্বমেহনকারী ভিন্ন অন্যকিছু মনে হবেনা।এবার, একটি অপ্রিয় প্রসঙ্গে বলি। শিক্ষাজীবন শেষ করে কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, বা চাকুরীজীবী হয়; আপনি কি এমন কোন প্রতিষ্ঠান বলতে পারেন যেখান থেকে পড়াশোনা করে লেখকের চাকুরী পাবেন? এই যেমন, জনাব “খ”, মাসের পর মাস বাড়িভাড়া দিতে পারেননা, প্রতিদিন খবরের কাগজ-লিটল ম্যাগাজিনের অফিসে গিয়ে ধরনা দেন লেখা ছাপানোর তাগিদে, আর ভরদুপুরে ৬টাকার সিঙ্গারা খাবার জন্যও হাত পাতেন পরিচিতজনের কাছে; আপনার কি মনে হয়না, একজন রিক্সাওয়ালার চেয়েও আপনি নিম্নস্তরের জীবনযাপন করেন?তাছাড়া, স্বীকৃতি দেয়ার আপনারা কে?আপনাদের সঙ্গে আমাদের লেখার আঙ্গিকগত পার্থক্য কি? এই যে, দস্তয়ভস্কি-সার্ত্র এর কথা বলে বলে মুখে নোনাজলের ফোয়াড়া ফুটিয়েছেন, আপনারা নিজেরা এমন কি আহামরি সাহিত্য লিখছেন!আরও একটি বিষয় খেয়াল করতে হবে : আমরা কার জন্য লিখি? অবশ্যই পাঠকের জন্য। (পয়েণ্ট অব ইনফরমেশনে ‘গ” এর প্রশ্ন)
-আপনারা লেখায় এমন কোন শিক্ষণীয় বিষয় কি থাকে যেটি পাঠকের কোন কাজে আসে, বা দীর্ঘদিন পরও পাঠক মনে রাখবে?
-এই প্রশ্নটা তো আমি আপনার দিকেও ঘুরিয়ে দিতে পারি। শিক্ষণীয় বিষয়ের প্রসঙ্গেই যদি বলেন, সেক্ষেত্রে সরল বক্তব্য আছে। একটি বই থেকে কী শিক্ষা দিতে চান: ইতিহাস, ধর্ম, নৈতিকতা, বিজ্ঞান-দর্শন? দেখুন এগুলোর জন্য বিষয়ভিত্তিক বই আছে।একটি নিরীহ গল্পের বই থেকে সেই শিক্ষা দেয়ার কী প্রয়োজন?এরপর ধর্ম-নৈতিকতা। আমার আপন ভাবীর সঙ্গে আমার গোপন সম্পর্ক আছে, আর ভক্ত ললনাদের প্রমঙ্গে বলাই বাহুল্য,মদ ছাড়া আমার একদিনও চলেনা; আমি নিজেই তো নৈতিকতা বুঝিনা, তো পাঠককে কী বোঝাবো? একই কথা কিন্তু আপনাদের ক্ষেত্রেও সত্য।তাছাড়া, শুধুমাত্র একজন লেখকই কি যাবতীয় চিন্তা-ভাবনার ইজারা নিয়েছেন?অন্যান্য পেশাজীবীদের জন্য কিছু ছাড়ুন।এরপর কালজয়ী প্রসঙ্গ। আপনি একটা শার্ট কয়বছর পড়েন, একটা ঘড়ি কয়বছর ব্যবহার করেন, কিংবা একই সিনেমা কতবার দেখেন?পৃথিবীর সবকিছুই যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর অচল হয়ে যায়, বইকেও সেই সবকিছুর অন্তর্ভুক্ত করুন না। একটি বইতো শেষপর্যন্ত একটি বই-ই, তাই না? যাইহোক, পাঠক প্রসঙ্গে বলছিলাম। পাঠকের পছন্দকে প্রাধান্য দেই, সেই অনুযায়ী লিখি। এখন আপনারা যদি বলেন, নিজের জন্য লিখেন, পাঠককে থোড়াই কেয়ার করেন, তাহলে বলবো আপনারা বরং ডায়েরী লিখুন, সাহিত্যকে রেহাই দিন আপনাদের বুলিসর্বস্ব সমালোচনা থেকে।সবশেষে একটি কথাই বলবো, আমাদের লেখা পাঠক পড়ে, আপনাদেরকে আমলেই আনেনা_ এই অমোঘ সত্যটি মেনে নিলে ঈর্ষায় আপনাদের হৃৎপিণ্ড ধূসর হয়ে যাবে।সেজন্যই এইসব অর্থহীন কুযুক্তির অবতারণা করছেন।
(ক, খ, গ এর মুখ পাংশু বর্ণ ধারণ করল যেন শেষকথার প্রেক্ষিতে)
“স”: এবার বক্তব্য প্রদানে অনুরোধ করছি জনাব ‘গ’ কে।
‘গ’: আমাদের বোঝা উচিৎ ছিল মূর্খ এবং পাগলের সঙ্গে তর্ক চলেনা। জনপ্রিয়তার ধ্বজাধারী আপনাদের মত লেখকেরা হচ্ছেন একেকজন মূর্খকুলশিরোমণি-রামপাগল। তাই, আপনারা শিল্প নিয়ে কথা বলতে ভয় পান, পাঠকের ধুয়ো তুলে নিজেরা আড়ালে লুকোতে চান। আপনাদের মধ্যে কয়জন শুদ্ধবানানে “সাহিত্য” শব্দটি লিখতে পারবেন, সে ব্যাপারেও আমার ঘোরতর সংশয় আছে।(পয়েণ্ট অব ইনফরমেশনে “ফ” এর প্রশ্ন)
-আপনারা কি পাঠকের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেননা, অথবা আপনাদের রুচির সঙ্গে না মিললেই সে অপাঙক্তেয় পাঠক?এটা কি সাহিত্যের স্বৈরাচারীতা নয়?
-আপনার এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার অভিরুচি হচ্ছেনা, কেননা বইকে আপনারা শার্ট-প্যাণ্ট-ঘড়ির মত নিত্য ব্যবহার্য জিনিসের কাতারে নিয়ে এসেছেন, একটুপর যে টয়লেট পেপারের সঙ্গে মেলাবেননা এমন নিশ্চয়তাই কে দিতে পারে?
(পয়েণ্ট অব অর্ডারে “ব” এর ক্রদ্ধ হয়ে উঠা)
-দেখেন, আমি স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড মানুষ : লিখতে ভাল্লাগে, টাকা পাই, লিখি। এইসব শিল্প “োদার” টাইম নাই। আপনের এত চুলকানি থাকলে লেখা বাদ দিয়া মুদি দোকান দেন। এইসব আবাল োদা প্যানপ্যানানি বাদ দেন, নয়তো কথার লাইনে কথা কন।
(ক মেজাজ খারাপ করে উঠে দাঁড়াবে)- আপনি গালি দিলেন কেন?
(ব ততোধিক উত্তেজিত) তাইলে কি চুমা দিমু, এইসব আউল-ফাউল পণ্ডিতরে?এখনও যার গা খিকা গু’র গন্ধ আসতেছে!
(তড়িৎগতিতে “গ” উঠে এসে ‘ব’ এর কলার চেপে ধরবে) খা..র পোলা, তুই গালি দিলি ক্যান?
( সাহিত্য বিতর্ক হঠাৎ করেই অশ্লীল গালাগালি , অত:পর লেখকদের মধ্যে হাতাহাতিতে রূপ নিল। তাদের সামনের টেবিলটা উল্টে গেল, ফ্লোরে পড়ে রইল আধখোয়া সিগারেট, উল্টে যাওয়া চাযের কাপ থেকে ফ্লোরের মধ্যে সবার অলক্ষ্যেই সৃষ্টি হল চায়ের নদী.........)
শকুন্তলা সন্ধ্যায় বাবার হাতধরে আজিজ সুপারে এসেছে জারিফ। আজ ওর জন্মদিন, ৬ থেকে ৭ এ পড়ল এবছর।ওর বাবা বইপ্রেমী মানুষ; ছেলেকেও বইয়ে আগ্রহী করানোর উদ্দেশ্যে জন্মদিনের উপহার হিসেবে বইকেই তার শ্রেষ্ঠতম মনে হয়েছে। “বাবার হাত ধরে ৭বছরের শিশু হেটে আসছে গুটিগুটি পায়ে”- পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি অবলোকন করল আজিজ সুপার মার্কেট এই পিতা-পুত্রের সৌজন্যে। কিন্তু অদুরে হট্টগোল বেধে গেছে, সেখানে লোকে লোকারণ্য। কৌতুহলবশত তারাও ঘটনাস্থলে আসল : ৬-৭জন মানুষ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে নিজেদের মধ্যে, এদের কারো পাঞ্জাবী ছিড়ে গেছে চিরে যাওয়া ফুটির মত করে, কারও চুল অবিন্যস্ত হয়ে গহীন অরণ্যে রূপ নিয়েছে, এমনকি দু-একজনের শরীর থেকে রক্তও ঝরছে; উপস্থিত লোকজন তাদেরকে নিবৃত্তের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু তা খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছেনা। জারিফের বাবা ভীড়ের মধ্যে থাকা একজনকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তর আসল “ আর বইলেননা ভাইজান। এই গাঞ্জাখোরগুলির জন্যে শান্তি নাই,মার্কেটটারে নষ্ট কইরা দিল; দৈনিক সন্ধ্যায় আইসা কী-সব হাবড়ি প্যাচাল পাড়ে, আর মাঝেমধ্যেই এইরকম গ্যাঞ্জাম লাগায়। কিছু কওয়াও যায়না অগো, অরা নাকি লেখালিখি করে। মানে, আপনেরা যাগো লেখক কন আর কি!”
লোকটির মুখে “লেখক’ শব্দটি নির্মম বিদ্রুপের মত শোনালো জারিফের বাবার কানে, তার অস্বস্তি বিবর্ধিত হল জারিফের কৌতুহলী প্রশ্নে- “আচ্ছা বাবা, লেখকেরা এমন মারামারি করে কেন”?
এ প্রশ্নের কোন জবাব তার জানা নেই। তাই ম্লান হেসে ছেলের হাত ধরে বইয়ের দোকানোভিমূখে হাটা ধরল সে। অন্যদিকে জারিফের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি ফিরে ফিরে কেবল ঐ কলহের জায়গাতেই চলে যাচ্ছিল এই হাটার মধ্যেও। দুজনে একটি বইয়ের দোকানে ঢুকল; এত বই কখনো একসাথে দেখেনি জারিফ, ওর মাথা ঘুরছে। জারিফের বাবার প্রাণে আনন্দের পহেলা বৈশাখ হচ্ছে যেন, আজ ছেলেকে ইচ্ছেমত বই কিনে দেবে। কিন্তু জারিফের দিকে তাকিয়ে তার পহেলা বৈশাখ ১০ই মহররমের শোকে রূপান্তরিত হল নিমেষে : ওর চোখ অদুরের লেখকদের সেই গোলযোগস্থল থেকে কিছুতেই ফিরছেনা; একবার বই দেখে, তো পরমুহূর্তেই ভীড়ের দিকে তাকায় একলক্ষ জিজ্ঞাসা আর কয়েক কোটি বিস্ময়সূচক দৃষ্টি নিয়ে _”লেখকেরা মারামারি করে কেন” এই প্রশ্নটি ওর ছোট্ট মাথায় এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে নিশ্চিত। জারিফের বাবা মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে করণীয় স্থির করে ফেলল। ছেলের হাত ধরে দ্রুত বেরিয়ে আসল, এখন তাদের গন্তব্য নিত্য উপহারের টি-শার্ট এর দোকান। দ্র্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাবা-ছেলে, প্রতি পদক্ষেপে বইয়ের দোকানের সাথে দুরত্ব বাড়ছে কয়েকশো মাইল.....!
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: এণ্ডিংটা নিয়ে কিন্তু আমি শংকিত।। লেখকদের এই অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে পাঠক কিন্তু বইয়ের বদলে টি-শার্ট কিনতে পারে।।। আপনি কী বলেন??
পুতুল বলেছেন:
দেশের এমন অবস্থায়ও না হেসে পাড়লাম না। কথোপকথন দুর্দান্ত।খুব ভাল লিখেন আপনি। লেখাটা পড়ে লগ ইন করলাম। ভাল লাগাটা জানিয়ে যা´ই।
"লোকটির মুখে “লেখক’ শব্দটি নির্মম বিদ্রুপের মত শোনালো জারিফের বাবার কানে, তার অস্বস্তি বিবর্ধিত হল জারিফের কৌতুহলী প্রশ্নে- “আচ্ছা বাবা, লেখকেরা এমন মারামারি করে কেন”?"
লেখাটা এখানে শেষ হলে আমার কাছে ভাল লাগতো।
লেখক বলেছেন: হ্যা এখানে হয়ত শেষ হলে ভাল হত।। কিন্তু আমি যে নির্মম কথাটি বলতে চেয়েছি সেটা াপ্রকাশিত থাকত।। লেখকেরা এইধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না করে লেখার দিকে মনোযোগ দিলেই ভাল হয়, নয়ত যে শিশুটি বই পড়তে চায় বিপুল উৎসাহে এ ধরনের পরিস্থিতি দেখলে সে কিন্তু বই কেনার টাকা দিয়ে টি-শার্ট কিনতে চাইবে।।। এটা আমাদের জন্য গ্লানিকর।।।পড়ার জন্য ধন্যবাদ
পুতুল বলেছেন:
লেখকদের ঝগড়াগুলো সত্যিই খুব দুঃখ জনক। এবং এতে পাঠকেরা বিরক্ত হন। বিষেশ করে শিশু-কিশের পাঠকরা। সেটাও বলা দরকার।
লেখক বলেছেন: এজন্যই নিচের অংশটুকু লেখা।।।এটাকে আপাত অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও এটাই সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।। বিশেষ করে এবার বইমেলায় দেখলাম এক লেখক অপর এক লেখকের নাম শোনামাত্র বললেন "ঐ রাম ছাগলের কথা বলবেননা আমার সামনে।" ....আমি জাস্ট বোকা হয়ে গিয়েছিলাম তাদের আলাপচারিতা শুনে।।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
লেখার শেষ নিয়ে আমি শংকিত! পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়---এই মন্ত্র মাথায় রেখে লেখকের লেখাটাই বাবার উচিৎ ছিল ছেলের হাতে তুলে দেয়া।অফটপিকে, আপনি নিজে কোন ধারার লেখক বলে মনে করেন
লেখক বলেছেন: বইকে ভালবাসো, কিন্তু বইয়ের পেছনের মানুষগুলোর প্রতি যদি তোমার ভীতি কাজ করে সেক্ষেত্রে ভালবানা রক্ষা করাটা কিন্তু কঠিন। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছি। শিশুটি যতই বই দেখুক, এই অংশটা খেয়াল কর: "কিন্তু জারিফের দিকে তাকিয়ে তার পহেলা বৈশাখ ১০ই মহররমের শোকে রূপান্তরিত হল নিমেষে : ওর চোখ অদুরের লেখকদের সেই গোলযোগস্থল থেকে কিছুতেই ফিরছেনা; একবার বই দেখে, তো পরমুহূর্তেই ভীড়ের দিকে তাকায় একলক্ষ জিজ্ঞাসা আর কয়েক কোটি বিস্ময়সূচক দৃষ্টি নিয়ে _”লেখকেরা মারামারি করে কেন” এই প্রশ্নটি ওর ছোট্ট মাথায় এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে নিশ্চিত"..........এ অবস্থায় ওর হাতে বই দিলে হিতে বিপরীত হতে পারত।।।
আমি নিজেরে আজাইরা ধারার লেখক।।। উল্টা ধারা মানে কি "এক্সপেরিমেণ্টাল?" তুমিতো জানই এক্সপেরিমেন্টাল নিয়েই আমার যত আগ্রহ।।।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~`
হাহাহাহাহ ... এখনো হাসতেই আছি
*ফ এর কথা গুলো যুক্তি সংগত মনে হয়েছে আমার ..
কিন্তু চুলোচুলির করা সময় আমাদের ভিতরে বাংগালটাই বের হয়ে আসে
দারুন দারুন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~`
লেখাটা ব্যাপারে বলব .. আগে আপনার শিরোনাম গুলো পাবলিকের এন্টনা দিয়ে ধরতে হতো ..
ধরেন একটা পাঠক যার লেখচিত্র সম্পর্কে আইডিয়া নেই ...
সে আপনার লেখা না পড়েই ভাগবে
সত্যজিৎ রায় কিন্তু পথের পাচালী আর হীরক রাজার দেশে দুইটা পরিচলনা করেছেন ; সবার হীরক রাজা দেখে মজা পেতে সমস্যা হয় নাই
এই লেখার ষ্ট্রাকচারটা আবার জটিল করে ফেলেছেন
শব্দের মারপ্যাচ , বিভিন্ন উপমা , উদাহরন এমন ভাবে দেন
যাতে একটা লেভেল পর্যন্ত সবাই উপভোগ করতে পারেন ..
ক্ষমতা থাকলেই দেখানো দূর্বলতার পরিচয়
আমার মনে হয় আপনার হীরক রাজা লেখার মতো 'মাল'
আছে
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
সব মিলিয়ে দূর্দান্ত লেখা হয়েছে
আমিও একটা পোষ্ট দিবো লেখকদের নিয়ে
অনেক গুলি ++
লেখক বলেছেন: ভাই, আমি হইলাম "পঞ্চম প্রজাতির গর্দভ"।। আমি যেটা বুঝি সেইটা মানুষ বুঝবেনা, এটা আসলে আমি ভেবে দেখিনাই।। এরপরে ভাববো।। আপনার লেখক সংক্রান্ত পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।।।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
আজাইরা ধারা নিয়া কিন্তু তর্ক নাই...তর্ক জনপ্রিয় ধারা আর মূল ধারার হইতাছিল। এইবার বলেন নিজে কোন ধারা?
লেখক বলেছেন: আমি আজাইরা ধারা..........তাই কোন তর্কের ধার ধারিনা।।।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
ধীরে পড়বো। আজকে না। তবে এসেছিলাম জানিয়ে গেলাম![অনেকদিন পরে একটা অন্যপোস্ট পেলাম।]
লেখক বলেছেন: এইটা পইড়েন।। আপনারই অপেক্ষা করতেছিলাম এতক্ষণ।।।
মনির হাসান বলেছেন:
ম্যালা প্যাচাল .. পরে রসিয়ে রসিয়ে পড়বো । আপাতত শোকেসে নিলাম । নাফিসের পোস্টে করা আপনার কমেন্ট'টি দারুন লেগেছিল ...
" দাবার খেলোয়ার হও ... দাবার ঘূটি হইয়োনা " ...
লেখক বলেছেন: তাই নাকি? এটাই কিন্তু বাস্তবতা....
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন:
Himu please call me back. My cell no. is 01558 308848. I donot have ur cell no.
কালপুরুষ বলেছেন:
এতবড় লেখা পড়বোনা পড়বোনা করেও পড়ে ফেললাম। বেশ মজা পেলাম। ভাল লাগলো। এই গল্প নিয়ে কোন মতামত দেবার মতো পাঠক আমি নই- কারণ আমি এখনো ঐ লেখকদের নিয়ে ভাবছি। শেষ পর্যন্ত ওদের বিতর্কের ফলাফলে অজিজে বইয়ের ব্যবসা কতটা ফুলে ফেঁপে ওঠে সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত প্রিয়তে রেখে দিলাম।
লেখক বলেছেন: কালপুরুষ দা, শেষ কবে আমার কোন গল্প পড়েছিলেন ভুলে গেছি।। অনেকদিন পর আপনাকে দেখে ভাল লাগল।।। সেদিন বইমেলায় আপনাকে বই বের করার কথা বললে আপনি বলেছিলেন " আমি তো মূলধারার লেখক নই।" আমি উত্তরে বলেছিলাম "আমি এইসব ধারায় বিশ্বাস করিনা।" বলতে পারেন এই গল্পটা আমার সেই বিশ্বাসেরই বিস্ফোরণ।।।
। "এই গল্প নিয়ে কোন মতামত দেবার মতো পাঠক আমি নই-"...এই কথায় তীব্র আপত্তি আছে, কারণ পাঠকের মানদণ্ড নির্ধারণ করল কে? এখন তো মনে হচ্ছে এটা নিয়েও গল্প লিখতে হবে।।।
সুদীপ চৌধুরী বলেছেন:
=============================================
হিমালয়,
আমি আগেই পড়ে গেছিলাম।কিন্তু তাড়াহুড়োয় কমেন্ট করা হয় নাই।ভালো তবে আমি একটু আশাহতও।হয়তো তুমি অনেক আগে থেকে বলে রেখেছিলে,তাই প্রত্যাশার মাত্রা বেশি ছিলো।
মারা-মারিটা কি কোনভাবেই এভয়ড করা যাচ্ছিলো না?যাদেরকে আমরা জনপ্রিয় লেখক হিসেবে জানি তাদের কাউকেই আমি কখনো আজিজে আড্ডা দিতে দেখি নাই।মাঝে মাঝে উল্টা-পাল্টা যা ঘটে তা ঐ আজিজিয় ইন্টালেকচুয়ালদের ঘিরেই।তারা কেউ সেই অর্থে ব্যবসায়ী লেখক নন।
তো একারনে যে মারামারিটা র কথা বলা হইছে এটা একটু বেশি কল্পনাপ্রসূত এবং
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটা বাচ্চা ভীত হয়ে বই পড়া ছেড়ে দিবে--এটা আরো বড় কাকতাল।এটলিস্ট নতুন জেনারেশনের বইবিমুখীতার কারন হিসেবে এটা খুবই উদ্ভট।যদিও আমি জানি মূল প্রতিপাদ্য এটা ছিলো না,তারপরেও বলি এই শিক্ষামূলক এন্ডিংটা খুবই আরোপিত মনে হয়েছে।
===========================================
লেখক বলেছেন: সুদীপ ভাই, এটাকে গল্প হিসেবে ধরেন, আর কিছু ব্যাপার থাকে "প্রতীকী"....এই ব্যাপারটাও প্রতীকী অর্থে দেখানো হয়েছে।।।। মূল মারামারিটা তো হয় টকশো, ফিচার, কলাম লেখার সময়।।। কিন্তু স্পট হিসেবে আজিজ সুপারকে নেয়া হয়েছে ভিন্ন কারণে।। এখানে যারা মূলধারার লেখক বলে দাবী করছেন, তাদের দৌড় দেখানো হয়েছে লিটল ম্যাগাজিন পর্যন্ত, অন্যদিকে যাদেরকে জনপ্রিয় লেখক বলা হচ্ছে তারা কিন্তু আদৌ কোন প্রতিষ্ঠিত লেখক কিনা এ ব্যাপারে গল্পে কোন ইঙ্গিত নেই, শুধুমাত্র "স" এর পরিচয়টাই দেয়া হয়েছে। এই লাইনটা খেয়াল করেন" পক্ষান্তরে জনপ্রিয় লেখকদের হয়ে ডিফেণ্ড করছিল “প”, “ফ”, “ব”। ".......তাই তারাই যে জনপ্রিয় লেখক এটা কিন্তু নিশ্চিত নয়।
আর বই পড়া ছেড়ে দেবে এটাও কোথাও বলা হয়নি, বরং দেখানো হয়েছে পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারে।।। জারিফের বাবা তার ছেলেকে টি-শার্ট কিনে দিচ্ছে, তা মানে তো এই নয় যে বই পড়তে নিষেধ করবে। এই লাইনটা খেয়াল করেন:"ওর বাবা বইপ্রেমী মানুষ; ছেলেকেও বইয়ে আগ্রহী করানোর উদ্দেশ্যে জন্মদিনের উপহার হিসেবে বইকেই তার শ্রেষ্ঠতম মনে হয়েছে। "
এটাও খেয়াল করেন:"ওর চোখ অদুরের লেখকদের সেই গোলযোগস্থল থেকে কিছুতেই ফিরছেনা; একবার বই দেখে, তো পরমুহূর্তেই ভীড়ের দিকে তাকায় একলক্ষ জিজ্ঞাসা আর কয়েক কোটি বিস্ময়সূচক দৃষ্টি নিয়ে _”লেখকেরা মারামারি করে কেন” এই প্রশ্নটি ওর ছোট্ট মাথায় এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে নিশ্চিত।"......সে মুহূর্তে বাবা বই না কিনে টি-শার্ট কিনে দিল, যেহেতু ঐদিন ছেলের জন্মদিন।।।
শিশুটির বয়সটাও খেয়াল রাখতে হবে :৭। এধরনের কোন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে তার মনে একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়াটা অস্বাভাবিক নাকি?
আমি নিজে এবারকার বইমেলায় এরকম এক ঘটনার সাক্ষী : বটতলায় কয়েকজন লেখক আড্ডা দিচ্ছিল।। এক তরুণ লেখকের নাম বলামাত্র সেই বিজ্ঞ(!) লেখক বললেন : ঐ রামছাগলের কথা বলবেন না আমার সামনে!"
কালপুরুষ বলেছেন:
"পাঠক" বলতে ব্লগের পাঠক বুঝিয়েছি। ব্লগে এমনও পাঠক আছে যারা না পড়েই রেটিং দিয়ে আসে- লেখা সম্পর্কে কোন কথা না বলে অন্য প্রসঙ্গ টেনে আনে। সেই পাঠকের ভীড়ে নিজেকে উপযুক্ত পাঠক হিসেবে প্রস্তুত করতে সময়তো লাগবেই।
লেখক বলেছেন: নেতিবাচক মানুষ সর্বত্রই আছে।। আমরা বরং ইতিবাচক ভাবনা ভাবি।।।
লেখক বলেছেন: যথাসাধ্য চেষ্টা করবো, আপাতত এই লেখার ভুল বানানগুলো উল্লেখ করলে উপকৃত হতাম।। ধন্যবাদ।।।
লেখক বলেছেন: হবেনা ইনশাল্লাহ, "জারিফ" আমার ৩বছর বয়সী ভাগ্নে, ওকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করবোই।।।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
জারিফের জন্যে শুভকামনা। -----
লেখাটা তিন-চারবারে ভেঙে পড়তে হয়েছে। সময় পাইনা তা না, টবে মানসিক অস্থিরতা বেড়েছে। আর তোমার লেখা পড়ার সময়ে সেই মনোযোগটা খব দরকার নয়তো লেখার প্রতি সুবিচার হয় না।
লেখাটা চমৎকার। এরকম বিতর্ক প্রায়ই ঘটে মনে হয়, হাতাহাতিটাও মিলে যায়। আমি দেখেছি আমরা খুব অসহিষ্ণু আচরণে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। মানে হলো, একই সাথে এমন আচরণ আমরা করি, এবং আশা করি যে অন্যেরাও করবে। এটা খারাপ। যে কোন বিষয়ে (কয়েকটা বাদে, যেগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল বা রাষ্ট্র/দেশ/ভাষা ইত্যাদি মৌল ইস্যুর সাথে জড়িত) আলোচনায় দ্বি- বা একাধিক পক্ষ হতেই পারে এবং প্রতিটা পক্ষেরই আলাদা কথা বলার স্পেস থাকা জরুরি।
তবে শেষের পরিণতি মানে, হাতাহাতি যে ঘটবে সেটা বোঝা যাচ্ছিল। এমনিতে কথায় যুক্তির হিসেবে আমি কিছুটা 'খ"-ঘেঁষা। ...যাক, সে অন্যকথা।
লেখা ভালা হইছে!
[আমাকে একটা মেইল দিও পারলে, ঠিকানা আমার প্রোফাইলে আছে।]
লেখক বলেছেন: ভাই, আপনিই লেখার আসল টোনটা ধরতে পেরেছেন, এটা একটা প্রতীকী লেখা, এর পরিসর শুধু সাহিত্যের মধ্যে সীমায়িত ছিলনা, এটা যে কোন মতবাদের জন্যও সত্য। প্রতিক্রিয়াশীলতা ও অসহনশীলতার কারণে সাধারণ মানুষরা যে বিরক্ত জারিফের মাধ্যমে সেটাও বলার চেষ্টা করা হয়েছে।।।
আপনাকে মেইল করছি।।।
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন:
এটা অন্তহীন বিতর্ক। ভবিষ্যতেও এটা চলবে। বিপদের কথা হলো অন্যের মতের ব্যাপারে অসহিষ্ণুতা। এটা কমাতে পারলে ভালো হতো। লেখা ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: অনুবাদের ব্যাপারে আর কোন কথা হল?
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
এই লেখা কিভাবে মিস করলাম! -------------------------
কাঠামো ভাল লেগেছে অনেক। তবে ঠিক 'গল্প' বলা চলে না। আমি প্রহসন (বইয়ে পড়া সংজ্ঞানুসারে, যদি-ও কখনো পড়ার সোভাগ্য হয় নাই) হিসেবে দেখব। যুক্তি-তর্কগুলো আরো সংলাপাকারে এলে ভাল হত, মানে আর-ও ছোট ছোট প্যারা নিয়ে সংলাপ।
সাহিত্য কিংবা কবিতা ইত্যাদি আলোচনা সাধারণত এড়িয়ে চলি। শুরুটা ভাল হয়, কিন্তু পরবর্তীতে ব্যক্তিগত-আক্রমণের দিকে যায়। এই ব্লগেই অনেক উদাহরণ বিদ্যমান। আমি মনে করি কী বলব সেটা যেমন মুখ্য, তেমনি কিভাবে উপস্থাপন করব তা-ও মুখ্য।
--------------
লেখক বলেছেন: এটা সংসদীয় বিতর্কের ফরম্যাটে লেখা.......... তাই ছোট আকারে সংলাপ লেখা যেতনা।।।
-চা’য়ের
“জনপ্রিয় নয়” , কিংবা ‘জনপ্রিয়
লেখক”-
“ক”, “খ”, “গ”,
“প”, “ফ”, “ব”।
“সংসদীয় ধারাটি”
“জনপ্রিয় লেখকেরা’
‘টস’
‘স’,
“ফ” কিন্তু “ক” “ আপনি
কু নিশ্চিত?”
-“স”: ‘প’ কে।
“ক”,
“ফ” এর প্রশ্ন)
?” বা “কাঠামো”
“বর্ণনা” “প”
এগুলো ব্লগের কারণে হলেও এডিট করা যায়। বাংলা ভাষায় এমন কোন অক্ষর আছে বলে আমার জানা নেই।
মনে রাখবেন, রাগ করা তারই সাজে, সোহাগ করে যে। আমি আপনার লেখার ভক্ত। খু-উ-ব-ই সুন্দর আপনার লেখার গতি। আশা-আপনাকে বড় হিসেবে দেখা। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনার সাজেশনটি আমি বুঝতে পারিনি, আরেকটু স্পষ্ট করলে ভাল হয়।।। আমি পঞ্চম প্রজাতির গর্দভ, অনেক কিছুই বুঝতে ভুল করি।।।
মন্তব্যের শেষাংশ প্রসঙ্গে। আমি নিজে স্পষ্টবাদীতায় বিশ্বাসী, অন্যদের কাছেও এমনটিই প্রত্যাশা করি। তাই শেষের নোটটি দেয়ার আবশ্যকতা ছিলনা মোটেই, আমি জানি আমার সীমাবদ্ধতা অনেক।।
এরপর লেখা প্রসঙ্গে।। আমার ব্লগে এর আগে আপনাকে দেখেছি বলে মনে পড়েনা, আপনি ব্লগেও বেশ নতুন।।। তাই আমারলেখার ব্যাপারে আপনার মূল্যায়নকে মেনে নিতে পারলাম না বলে দুঃখিত।।। তাছাড়া "ভক্ত" শব্দটি আমি যারপরনাই অপছন্দ করি, এ ধরনের শব্দের পুনরাবৃত্তি না করার অনুরোধ রইল।।। আপনার সহযোগিতামূলক মনোভাবের জন্য ধন্যবাদ।।।
অদৃশ্য বলেছেন:
হিমেল ভাই........................এবং অত্যন্ত চমৎকার একটি লেখা...................আপনার উপর মন খারাপ ছিলো.............ভাবলাম এত মন খারাপ করে কি লাভ............তার চেয়ে মন ভালো রাখার চেষ্টা করি।
সবসময় ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ভাই, মানুষের মন হচ্ছে ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ উপহার, আমার মত পঞ্চম প্রজাতির গর্দভের প্রতি তাকে বিষিয়ে তুলে উপহারটা নষ্ট করবেননা।।।
আপনার ব্লগে যাব, আর যদি না যাওয়া হয় কোন কারণে, সেটা আমারই ভুল।। এর জন্য মন না খারাপ ভাল।।।
মেহবুবা বলেছেন:
শুরুতে খটমট লেগেছিল , পরে পড়ে ভাল লাগল ।
কঁাকন বলেছেন:
জটিল
মুনশিয়ানা বলেছেন:
উপভোগ্য বিতর্ক, করুন পরিনতি...ভবিষ্যত জীবনে জারিফ পছন্দমাফিক বই কিনতে সমর্থ হোক, এই আশা করি।
মেঘাচ্ছন্ন বলেছেন:
সেদিন তো লেখার চেহারা দেখে না পড়েই ভাগছিলাম....আজকে পড়েই ফেললাম সাহস করে....জটিল বিতর্ক বাট দুঃখজনক....। ভালো লাগলো লেখাটা....।
লেখক বলেছেন: ৭৭৭৭৭৭৭৭৭৭৭৭৭৭
মেঘাচ্ছন্ন বলেছেন:
বাপরে ! এবার এইটার সারমর্ম উদ্ধার করি কেমনে !!এহেম এহেম....পাঠিকা এ ব্যাপারে লেখকের সাহায্য প্রার্থনা করছে....খিকজ !!
লেখক বলেছেন: সবকিছু বোঝা নিষ্প্রয়োজন।।।
আমি আপনার গল্পের অংশ বিশেষ কপি করে পেস্ট করে বানানগুলো ঠিক করার কথা বলেছি। সম্ভবত আপনার লেখাটা এমএস ওয়ার্ডে লিখে পেস্ট করা ব্লগে। এক্ষেত্রে এমন হয়। পরে আর এডিট করেননি।
সুন্দরকে সুন্দর না বললে আমার স্বাধীনতা কোথায়?
যতদূর জানি, লেখককে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন পদক দেয়া হয়।
প্রত্যেকেই বিনিময় আশা করে।
লেখক বলেছেন: আমি কোন বিনিময় আশা করিনা, শুধু এটুকুই আশা করি যে, আমার কাজটি যেন কোনভাবেই আমার সমস্যার কারণ না হয়, that's all...
মুক্ত বয়ান বলেছেন:
আপনি তো দেখি কঠিন কঠিন কথা লেখেন!! সর্বনাশ। তয়, গল্পটা পড়ে মজা পাইলাম। আসলেই লেখকরা এমন করলে, টি-শার্টে "চলে যায় বসন্তের দিন"/ "লিলুয়া বাতাস"/ "মাধবী" লাগিয়ে ঘুরতে হবে!!
লেখক বলেছেন: ami tomader batch, 'apni' bolar mane ki???
মুক্ত বয়ান বলেছেন:
ঠিক আছে। তুমি করেই বলব।
আজিজিয় লেখকরা মারামারি করে নাকি! শুনেছি এরা খালি গান্জা খায়।
তোমার দেখার চোখটি ভাল। দেখা, পড়া এবং লেখা এই তিনের সমন্বয় ঘটানো সহজ নয়। সেটির সমৃদ্ধি কামনা করি।
লেখক বলেছেন: মারামারিটা প্রতীকী.........সমৃদ্ধি একদিন হবে হয়ত....
রোডায়া বলেছেন:
আমি এই লেখালেখির ধারা ভালো বুঝি না৷ আমি যেটা বুঝি, একজন লেখক সেটাই লিখবে যেটা তার লিখতে ভালো লাগে, সে রকমই লিখবে যে রকমটা তার পড়তে ভালো লাগে৷ এর বাইরে, ধারা বিচার করে, বা পাঠকের কথা চিন্তা করে যারা লেখে তারা ঠিক লেখক কিনা আমি জানি না৷আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে ইদানীং, মূলধারা লিখছে বলে দাবি করছে তারাই যারা আসলে তেমন লিখতে পারছে না, কিন্তু জটিল কিছু লিখেছে, এত বেশি জটিল যা সাধারণ পাঠক বুঝতে পারছে না, এরকম ভেবে তারা আত্মপ্রসাদ লাভ করছে৷
অন্যদিকে আরেক শ্রেনী তারাও আসলে ভালো কিছু লিখতে পারছে না, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাদের বই মানুষ পড়ছে৷ এই পড়াটাকেই তারা জনপ্রিয়তা ভেবে আত্মপ্রসাদ লাভ করছে৷
একজন প্রকৃত লেখক এত ধারা বিচার করে বলে আমার মনে হয় না৷ সে তার নিজের জন্য লেখে৷ প্রতিটি লেখককে লিখতে হয় নিজের জন্য৷ নিজের জন্য যে লেখে না সে কিভাবে অন্যের জন্য লিখবে?
গল্পে লেখকদের যে চরিত্র তুলে ধরেছেন, যেরকম অশ্লীল গালাগালি, তা তারা আসলেই করে কিনা ভালো জানি না৷ এরকম লেখক আড্ডায় কখনো যোগ দিইনি৷ তবে করলেও খুব বেশি অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না৷ একটা সময় ছিলো, যখন লেখকরা ছিলো জাতির দার্শনিক (অবশ্য আমাদের দেশে না)৷ এখন মনে হচ্ছে লেখকরাই সবচেয়ে বেশি অস্থির (এবং এটাও আমাদের দেশেই)৷ এই লেখকরা এরকম অশ্লীল গালাগালি করতেই পারে৷ সময় খুব খারাপ৷
অফ টপিকঃ সাহারা তুষার এর মন্তব্যের উত্তরে লিখেছেন, "আমি পঞ্চম প্রজাতির গর্দভ।।" - এই ধরণের কথা কিন্তু হুমায়ূনের বইতে অনেক দেখা যায়৷ আপনি হয়তো লেখার সময় বুঝতেও পারেননি তা৷ আমরা প্রায়ই বলি এরকম অনেক কথাই হুমায়ূন তার বইয়ে তুলে এনেছে৷ তাই সেটা আরেকজন ব্যবহার করলেই সেটা হুমায়ূনের অনুকরণ হয়তো হবে না৷ সেরকম আমার লেখায় "পৃথিবীর সবচেয়ে চমৎকার চা" লেখার সময়ও বুঝতে পারিনি সেটা হুমায়ূনের মত লাগতে পারে, হা হা হা৷
লেখক বলেছেন: টপিকের জবাবে কিছু ববলার নাই।। এটা একটা প্রতীকী গল্প।।।
অফটপিক প্রসঙ্গে: আমি ভাই হুমায়ুন আহমেদের বই পড়েছি মাত্র ৩টা, তাই এটা বলতে পারবো না..চায়ের প্রসঙ্গে যে বলতে পেরেছিলাম সেটা ঐ নাটক দেখে.....যেমন আমার এই 'হিমালয়' নামটা যে 'হিমুর' সেটাই জেনেছি কলেজে উঠে........."পঞ্চম প্রজাতির গর্দভ' এটা আত্মস্বীকৃতি সেই শৈশবকাল থেকে....এটা কোন গল্পে ব্যবহার করিনা , কারণ এটা আমার ডেজিগনেশন।। তবে এটা হুমায়ুন সাহেব লিখে থাকলে সেটা নিতান্তই কাকতালমাত্র.........
লেখক বলেছেন: অফটপিক: "মহা পৃথিবী" নিয়ে তো আপনার একটা লেখা দেয়ার কথা ছিল বোধহয়, কই সেটা??
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
বহুত বড় লেখা মন্তব্যসহ পড়তে সময় লাগবো। তয় বইলা রাখি আমি কিন্তু আজিজে যাই না । পরে পড়ুম। লগে নিয়া যাই।
লেখক বলেছেন: আজিজে যাইতে হয়, ভাল ভাল বই আছেনা!!!!
লেখক বলেছেন: আন্টি অনেকদিন পর আপনাকে দেখে খুবই খুশি হলাম।।।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
হিমুখুব মন দিয়ে পড়লাম........
এই কথাটা বলার মানে হলো, তোমার লেখায় একটা লাইন ও মনোযোগ ছাড়া পড়াটা ঠিক না...পরের বক্তব্য বোঝা নাও যেতে পারে......
অসাধারন লিখেছো।
একটা কথা মনে হলো............
আমার এক বন্ধু আছে।
ও একটা দলের হয়ে লেখে......
ও আমার ছোটবেলার বন্ধু.......
অথচ কি আশ্চর্য্য জানো ওর সাথে দেখা হলে আমাদের কবিতা বিষয়ক আলোচনা তেমন একটা হয় না....
ওরা যা ভাবে যা বোঝে তা ওদের জন্য।সেটা শেয়ার করতে চায়না।শুধু বলে আমাদের সাহিত্য চর্চা প্রসংগ।
একটা যু্দ্ধে ওরা শুধু কয়েকজন যোদ্ধা.........
আমরা ওখানে নো বডি......
এই লুকিয়ে থাকা।এই দলীয়করণ কি জানি কারো ভালো লাগলেও আমার লাগে না।
আমি যে কোন লেখা পড়ি .........ছাপার অক্ষর হবার পর সব লেখাই পড়া যায়।
ছোটবেলায় লুকিয়ে এমন অনেক বই পড়তাম যা পড়া উচিত না। মা একবার আমার ভাইজানকে বলেছিলো ও সব বই পড়ে...যা পায় সব।
ভাইজান বলেছিলেন....।পড়ুক ।পড়তে পড়তে ও জানবে কোনটা পড়া উচিত আর কোনটা না।
পাঠকের যেমন কোন দল থাকা উচিত না।
লেখকের ও না.....।
এটা আমার উপলদ্ধি।
খুব একান্ত।
অনেক ভালো থেকো..............।
চা চলুক।
চলুক দারুন সব লেখালেখি.........এক্সপেরিমেন্টাল।
আশীষ রইলো।
শুভেচ্ছা সবসময়কার।
লেখক বলেছেন: আপু, এই মন্তব্যের জবাব লিখতে গেলে অনেক কথা লিখতে হয়, যেগুলো লেখা উচিৎ হবেনা আপনি জানেন। শুধু এটুকুই বলতে পারি, সৃজনশীল কাজে অহমিকা এবং তাচ্ছিল্য এ দুটো বিষয় খুবই ক্ষতিকারক এবং অনুচিৎ..........পাঠক তার পছন্দানুযায়ীই পড়ুক...আমাদের হস্তক্ষেপ করতে চাওযাটাই জুলুমের শামিল।।
শ্রদ্ধা সবসময়কার।।।
লেখক বলেছেন: এটা প্রতীকী গল্প।।
জুল ভার্ন বলেছেন:
অপুর্ব সুন্দর প্রতিকী লেখা। খুব আপসোস হচ্ছে-কেনো আরো আগে পড়িনি বলে!
লেখক বলেছেন: পড়েছেন, এটাই সত্যি- আগে-পরে কোন ব্যাপার না।।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















সরাসরি প্রিয়তে.......