আজ বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত একটানা টেবিলে বসে থেকে শ্রদ্ধেয় আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের ‘বিস্রস্ত জর্নাল’ বইটি পড়ে শেষ করলাম।পুরো বইটিতে লেখক তার বর্ণিল জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ, উপলব্ধি, আর ভাবনার কথা লিখেছেন।মোট ১৫৯ পৃষ্ঠার এ বইটিতে আলোচনার মত অনেক কিছু থাকলেও আমি মূলত দুইটি বিষয়ে লেখকের ভাবনা তুলে ধরে সে প্রসঙ্গে আমার কিছু জিজ্ঞাসা নিয়ে আলোচনা করবো। বিষয় ২টি হচ্ছে : প্রতিভা ও প্রেম।
প্রতিভার সঠিক সংজ্ঞায়ন নিয়ে অন্যদের মত লেখক নিজেও বিভ্রান্ত, তাই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন ‘প্রতিভার’ স্বরূপ সম্পর্কে।
“অন্যের হৃদয়কে আচ্ছন্ন-সম্মোহিত করে রাখতে পারা- নির্মম মধুর শিকলে জড়িয়ে তাদের নিষ্কৃতিহীন ক্রীতদাসে পরিণত করে রাখতে পারা_ এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ‘রমণীয়’ নামই কি তাহলে প্রতিভা?”
আবার এমনও বলেছেন: “মানুষের প্রতিভাও কি এমনি এক দীর্ঘ উৎকট অস্বাভাবাকিতার নাম?অস্তিত্বের কোন একটা অংশের একপেশে অপ্রতিরোধ্য অসুস্থ বিকাশ?”-
এই প্রশ্নের নেপথ্যে কাজ করেছে যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে তিনি বলতে চেয়েছেন একজন মানুষ দৈর্ঘ্য-প্রস্থে স্বাভাবিক, কিন্তু দেখা গেল তার একটি হাতের দৈর্ঘ্য কয়েকফুট, এরপর তাকে নিয়ে দেশ-বিদেশে ফিচার লেখা হল, রাতারাতি সে পরিচিত পেয়ে গেল।
এই প্রশ্নটাতে আমার আপত্তি আছে, কারণ এই ফিচার বা পরিচিতিটা এসেছে তার শারীরীক একটি অসঙ্গতির কারণে, এর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোন দক্ষতা জড়িত নেই। ফিচার আর পরিচিতিকে প্রতিভার নিয়ামক ধরলে রাজনীতিবিদরাই সবচেয়ে প্রতিভাবান।
প্রতিভার সংজ্ঞায়নে সংশয় থাকলেও তিনি প্রতিভাবানদের বিষয়ে তার ভাবনা লিখেছেন বহু জায়গায়। এখানেও তার কয়েকটি জিজ্ঞাসা আছে- যেমন, “একটি জাতির প্রতিভাবান মানুষেরা কি জন্মান সেই জাতির সুপরিচিত বৈশিষ্ট্যগুলোর বিরুদ্ধাচারণ করে?” কিংবা “মানবজাতির প্রতিভারা কি মানবজাতিরই প্রতিবাদ?”
এ দুটি প্রশ্ন প্রায় সমগোত্রীয়। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি তাকে প্রভাবিত করেছে, সেটি অনেকটা এরকম: রবীন্দ্রনাথের অনবদ্য দেহকান্তি সমগ্র বাঙালির দেহকান্তি মোটেই নয়, মাইকেলের উদ্দামতাও বাঙারিত্ব নয়, একইভাবে বাঙালিত্ব নয় নজরুলের বন্য শক্তিমত্তা। বিষযগুলকে তিনি দেখেছেন বাঙালিত্বের স্বপ্ন হিসেবে, যা আমাদের দুর্বলতা, লোভ,পাপ, নীচতার বেদনাবিস্রস্ত শক্তিমান ক্ষতিপূরণ।
এই বক্তব্য থেকেই প্রতিভাবানদের স্বাতন্ত্রিকতার প্রশ্নটি চলে আসে। তাহলে প্রতিভাবান মানুষরা কি সাধারণদের থেকে আলাদা, বা হলেও সেটি কিভাবে?
এই প্রশ্নের জবাব লিখতে গিয়ে তিনি একটি মিছিলের দৃশ্য কল্পনায় নিয়ে এসেছেন, যেখানকার অধিকাংশ মানুষের উচ্চতা ৫ফুট ৪ থেকে ৮ ইঞ্চির মধ্যে, কিন্তু সেই মিছিলেই একজন আছেন যার উচ্চতা পুরো ৬ফুট হওয়ায় এই মিছিলের মধ্যেও আলাদাভাবে দৃষ্টিকার্ষণে সক্ষম। এই যে বিশেষভাবে চোখে পড়া এখানেই প্রতিভাবানের সঙ্গে সাধারণের পার্থক্য। তিনি লিখেছেন ““সমস্ত জায়গাতেই আমাদের আর দশটা মানুষের মত সাধারণ, কেবল এমনি বিশেষ একটা জায়গায় সামান্য একটু ওপরে- ঠিক ওই চার ইঞ্চির মতো। অথচ অলঙ্ঘনীয় এই তুচ্ছ চারটি ইঞ্চি, কী ক্ষুদ্র আর আপরিমেয়, কী হাস্যকর আর অশ্রুময়-সারাজীবন দাঁড় বেয়েও যাকে কোনদিন অতিক্রম করা যাবেনা”।
বইয়ের আরেক জায়গায় তিনি এই পার্থক্যটা দেখেছেন এভাবে : “একজন প্রতিভাবানের মধ্যে তার গহীন জৈবসত্তার উচ্চতম শিখরে থাকে চৈতন্যের উজ্জ্বল ধারালো তীক্ষ্ একটুকু রশ্মি।হিমশৈলের মতো ন’ভাগের আটভাগকে পানির নিচে ডুবিয়ে রেখে মাত্র এক ভাগকে উপরে উচিয়ে রাখার মতই একজন প্রতিভাবানের ওই তীব্র তীক্ষ শীর্ষবিন্দুটি। তাঁর অস্তিত্বের বাকি সবকিছু জাগতিক ধারার মতন আদিম আর অচেতন”।
অবশ্য প্রতিভাবানদের শিক্ষা বা জ্ঞানের ব্যাপারেও তার বক্তব্য আছে। তিনি বলতে চেয়েছেন, একজন প্রতিভাবান মানুষ অবশ্যই তা সমসাময়িক বা পারিপার্শ্বিক জ্ঞানের অধিকারী হবেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্রকে টেনেছেন, যারা নিজ নিজ সময়ের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ ছিলেন বলে ধরা হয়। সেই বিবেচনায় বর্তমান সময়ের কথিত প্রতিভাবানদের প্রতি তার উষ্মা প্রকাশ পেয়েছে তাদের শিক্ষাহীনতার কারণে। তার মতে : “জন্মগত প্রতিভা এখন সুনীল আকাশে পতাকা উড়িয়ে গাড়ল আত্মবিশ্বাসের হাসি হাসছে।..কী যুগে এসে পড়লাম যখন অশিক্ষিত না হলে ‘প্রতিভাবান’ হওযার সব পথ বন্ধ”।
এক্ষেত্রে উনি প্রতিভা বলতে কী বোঝাতে চাইছেন সেটা যথেষ্ট স্পষ্ট নয় বক্তব্য থেকে। প্রতিভাকে যদি ক্ষমতা বা বৈশিষ্ট্য ধরা হয়, সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে অাবশ্যিক বিবেচনাটা নিরর্থক, প্রতিভা কিছুটা সহজাত, আর স্বত:স্ফূর্ত তো বটেই।
একটি অপ্রিয় ব্যাপারে তিনি সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন; সেটি হচ্ছে প্রতিভাবানদের ব্যক্তিগতজীবনে শৃঙ্খলাবোধের অভাব প্রসঙ্গে। তিনি বলেছেন: “শৃঙ্খলার ব্যাপারে প্রতিভাবানদের তাচ্ছিল প্রায় কুসংস্কারের মত। সাধারণ মানুষেরা শৃঙ্খলাকে অবলীলাতেই পেয়ে যায় স্বভাবের কাছ থেকে। প্রতিভাবানদের মতো আবেগের হিংস্রতা তাদের মধ্যে ধ্বংসকারী পর্যায়ে ক্রিয়াশীল নয় বলে ব্যাপারটা তাদের পক্ষে সহজ হয়ে যায়।অন্যদিকে শক্তির প্রচণ্ডতার হাতে প্রতিনিয়ত ছিন্নভিন্ন প্রতিভাবানেরাই শুধু জানেন তাদের ওই হিংস্র বিশৃঙ্খল অস্তিত্বকে নিটোল অর্থময়তায় ফুটিয়ে তুলতে শৃঙ্খলার প্রয়োজন কী মর্মান্তিক”।
লেখকের আরোও দুটি বক্তব্য ভাবনার খোরাক যোগায়। একটি হচ্ছে: “বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা পৌছে যায়”, এবং অন্যটি “সাধারণ মানুষ ঝগড়া করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে, আলোকিত মানুষ মতবাদের স্তরে”।
১ম বক্তব্যানুযায়ী প্রতিভাবান ও বুদ্ধিমান দুটি ভিন্ন ধারণা। একজন প্রতিভাবানের বুদ্ধিমত্তাটা সেক্ষেত্রে কীরকম হতেপারে, বা একজন বুদ্ধিমানকে কি আমরা প্রতিভাবান বলতে পারিনা?তাহলে দুইয়ের মধ্যে বিভাজন হচ্ছে কোন স্কেলে?
২য় বক্তব্য প্রসঙ্গে বলতে গেলে ‘আলোকিত মানুষ’ শব্দটি আসবেই। লেখক নিজেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছেন ‘আলোকিত মানুষ’ একটি ধারণার নাম, কিন্তু সেই ধারণার ভিত্তি মননশীলতা, নাকি সৃজনশীলতা, নাকি দুইয়ের সংকর?সাধারণ মানুষ বলতে তবে কী বুঝবো?কারণ জন্মগতভাবেই প্রত্যেক মানুষই কোন না কোন বিশেষত্বের অধিকারী। সে দৃষ্টিকোণ থেকে সাধারণত্বের মাপকাঠি কী?এই প্রশ্নটিই জোরালো হয়, যখন লেখার অন্য একটি জায়গায় স্ববিরোধীতা দেখতে পাই লেখকের : ‘হে অবিশ্বাসী মেয়ে, কী করে তুমি জানলে তুমি বর্তমান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটি নও!আজ না হোক, পাঁচ হাজার দশ হাজার বছর পরে মানুষের পৃথিবী তোমাকে ওই নামে ডাকবেনা, কে তোমাকে বলেছে”।
তবে, লেখকের একটি মতবাদে আমি ভীষণ পুলকিত হয়েছি;সেটি হচ্ছে মনীষীদের ছবি প্রসঙ্গে। তিনি বলেছেন: “আমি বুঝিনা দেশ-বিদেশের শ্রেষ্ঠ মানুষদের জীবনের শেষ ছবিকে কেন তাদের সর্বজনীন প্রতিকৃতি হিসেবে তুলে ধরা হয়।শ্বেত শ্মশ্রুশণ্ডিত রবীন্দ্রনাথের যে মহিমাণ্বিত কান্তিকে আমাদের সামনে তার চিরন্তন প্রতিকৃতি হিসেবে আজ প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে ,তা কি শক্তির উচ্চতম শীর্ষের অগ্ন্যুৎময় রবীন্দ্রনাথের ছবি- যখন তিনি গিয়েছেন ‘বসন্ত জাগ্রত দ্বারে? এ তো সেই মানুষটি যে তার নিজের ভাষাতেই ‘রিডাকশন’ সেলে উঠেছে।বিদ্রোহী কবি নজরুল কি শিশুর মত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা একজন দন্তহীন অশীতিপর বৃদ্ধ পাগল?যদি তা নয় তবে মৃত্যুর আগের সেই উদভ্রান্ত লোল মানুষটিকে নজরুল বলে প্রতিষ্ঠার পায়তারা কেন? কেন জীবনের শেষ ছবিটিকে- অধঃপতিত মনুষ্যত্বের বেদনাদায়ক পরিণামটিকেই- তাদের প্রতীক করে তোলা হয়?”
এই প্রশ্নটি ভীষণরকম যৌক্তিক, বোধকরি সকলের মনেই কখনো না কখনো উত্থিত হয়েছে।
প্রতিভাবিষয়ক আলোচনা শেষ করবো লেখকের একটি সরসিক বক্তব্য দিয়ে : “দুটো জায়গায় আমাদের প্রতিভা একেবারে লক্ষ্যভেদী : পরশ্রীকাতরতায়, আর পরস্ত্রীকাতরতায়”।
এবার আসা যাক প্রেম-বিষয়ক মনোভাবে। সেই মনোভাবটির পরিচয় পাওযা যায় দুটি অর্থবহ বাক্যে
১. যে তোমাকে বিত্তের কথা বলে সে তোমার শরীরকে চায়, যে নিঃস্বতার কথা জানায় সে হৃদয়কে।
২. ছেলেরা মেয়েদের শরীরের ভেতর দিয়ে তাদের আত্মায় পৌছায়, আর মেয়েরা ছেলেদের হৃদয়ের ভেতর দিয়ে তাদের শরীরকে ছোয়।
বিত্ত বরাবরই একটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, অর্থাৎ আমার বিত্ত আমার অভিসন্ধি চরিতার্থের লাইসেন্স, প্রেমের মাঝে বিত্তের অনুপ্রবেশ তাই নিঃসন্দেহে প্রেমের পবিত্রতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।২নং বক্তব্যে একটি বিপরীতমূখীতা লক্ষণীয়, এখানে অনুভূতিকে লিঙ্গ নিরপেক্ষভাবে দেখা হয়নি। এক্ষেত্রে অনুভূতির ওপরে দৃষ্টিভঙ্গিকে স্থান দেয়া হয়েছে, অর্থাৎ ছেলেদের কাছে শরীর হচ্ছে মনের সদর দরজা, আর মেয়েদের কাছে উল্টোটা।এই ব্যাপারটি নিয়ে যথেষ্ট তর্কের অবকাশ রয়েছে, বিশেষত বাক্যটিতে যেহেতু সরলীকরণ পাওয়া যায়।
প্রেম আর ভালবাসার মধ্যেও লেখক পার্থক্য করেছেন একটি বাক্যের মাধ্যমে: “যার ভালোবসার মানুষ অনেক, সে-ই বলতে পারে তার কেউ নেই। যার প্রেম থাকে, তার থাকে কেবল একজন”।
এর মাধ্যমে ভালবাসাকে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি প্রেমকে আবদ্ধ করে দেয়া হযেছে, কারণ আমরা সর্বপ্রথমে আত্মিক এবং সর্বশেষে বৈশ্বিক।
প্রেমের ক্ষেত্রে একটি সরল স্বীকারোক্তি দারুণ লেগেছে: “জীবনে প্রেমের বয়স একটাই- আঠারো”। অর্থাৎ
প্রকৃত বয়স যা-ই হোক,প্রেমে পড়ামাত্র মানসিক বয়স ১৮ হয়ে যায়।
নারীদের মোহময়ী হওয়ার পেছনে তিনি ২টি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন:
“দুটো গুণের জন্য মেয়েরা ছেলেদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়, অপ্রতিরোধ্য, আর যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দেখা দেয়। সেগুলো হল: ন্যাকামি আর নিষ্ঠুরতা।খুব অল্প মেয়ের মধ্যেই ন্যাকামির এই নন্দিত সৌন্দর্যটা রয়েছে। এটা একজন পুরুষের তপ্ত কামনাদগ্ধ সতৃষ্ণ ঠোটের দিকে একটি রমণীর নারীসত্তার সবচেয়ে অপরূপভাবে নুয়ে আসা, তার দুর্বোধ্য চতুর ছলনা-প্রতিভার সবচেয়ে বিস্ময়কর কমনীয় উপহার।
নিষ্ঠুরতা হচ্ছে পুরুষ-হৃদয়ে মেয়েদের সেই আততায়ী নির্দয় রক্তাঘাত, যা ভেসে যাওয়া একবুক বিপণ্ন রক্তের সাথে একটা মেয়েকে একজন পুরুষের কামনার চির যন্ত্রণাময়, চির অপ্রাপনীয় ও মধুর করে রাখে।“
নিষ্ঠুরতার ব্যাপারে জানিনা, তবে ন্যাকামি ব্যাপারটি একদমই সহ্য হয়না, অন্যদের মনোভাবটা জানিনা বিধায় এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখতে পারছিনা।
মেয়েদেরকে তিনি প্রেমের ক্ষেত্রে একটি অব্যর্থ টিপস দিয়েছেন: কোন মেয়ে যদি কোন ছেলেকে সত্যি সত্যি পটাতে চায় তবে অযথা সময় নষ্ট না করে ছেলেটাকে সোজাসুজি ভাইজান বলে ডাকতে শুরু করে দেয়া উচিৎ। লাভ হাতেনাতে। কয়েকদিনের মধ্যেই ভাইজানের ‘ভাইটা’ লেজের মত খসেপড়ে যাবে, থাকবে শুধু ‘জানটা’।
এই ভাইজান সম্বোধনটি সম্ভবত কোন তরুণের পৌরুষের অহমে আঘাত করে,সেদিক থেকে এই টিপসটা কাজে লাগতেও পারে।
ভালবাসা বিষয়ে একটি চিরন্তন উপলব্ধিও তিনি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে শেয়ার করেছেন - ভালোবাসার কাছ থেকে তিনটি মূল্যবান জিনিস প্রায় অবধারিতভাবেই উপহার পেয়ে এসেছি সবসময়: অকথ্য সুখ, অসহ্য যন্ত্রণা, আর একটা বিশাল সুপরিপক্ক ব্যর্থতা।
এ ব্যাপারে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ নেই। এরপর দাম্পত্য প্রসঙ্গ।‘যে কোন দাম্পত্য সম্পর্কেই দুজনের মধ্যে যে অধিকতর অমানুষ- শেষ পর্যন্ত সে-ই জয়ী।,- এই কথাটিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। অমানুষ শব্দটি সম্ভবত সহনশীল বা প্রতিক্রিয়াশূণ্যতা অর্থে বলার চেষ্টা করা হয়েছে।
এস্থলে একটু রসিকতাও লক্ষ্য করা যায়:
“প্রিয় স্বামীরা তাড়াতাড়ি বুড়ো হয়
সব পতিপ্রাণা স্ত্রী-ই চান, তার প্রিয় স্বামীটি নিদেনপক্ষে আরো একহাজার বছর বাচুক, কিন্তু বৃদ্ধ আকারে। স্বামীদের যৌবনগুলোকেই কেবল এদের ভয়”।
রসিকতার ছলে সুনদরীদের প্রতি করুণা করতেও লেখক পিছপা হননি, তার প্রমাণ পাই যখন দেখি “প্রাক্তন সুন্দরীদের সুবিধা এখানে যে তাদের চেহারার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রেমিকদের দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীণ হয়ে আসে।“ কিংবা ”কেবল স্বকালের যুবকদের কাছে নয়, পরের প্রজন্মের যুবকদের কাছেও একইরকম সুন্দরী থাকতে চায়,এটাই সুন্দরীশ্রেষ্ঠাদের ট্রাজেডি”।
শুধু লেখক নন,পড়ার সময় আমিও কেমন করুণা করুণা আবহ অনুভব করছিলাম নিজের মধ্যে।
শেষ করবো এই বইটির ধরন নিয়ে জনৈক পাঠকের একটি কৌতূহল দিয়ে। সেই পাঠক লেখখকে একটি দীর্ঘ চিঠি দেয়, যাতে সে লিখেছিল এমন অসাধারণ ইপন্যাসটি(!) এদেশের পাঠকসমাচ পড়েনা কেন। লেখক চিঠিটি তার এক শুভানুধায়ীকে পড়তে দিলে তার বক্তব্যটা ছিল : “কেন, উপন্যাস কেন হতে যাবে ওটা?চোখ খোলা রাখলেই তো বোঝা যায় লেখাগুলো গল্প।প্রত্যেকটার ওপরে নিচে নম্বর তারিখ সবই তো দেয়া আছে!”
আমিও বুঝিনা ‘বিস্রস্ত জর্নালকে’ কোন্ ক্যাটাগরিভুক্ত করবো। অবশ্য মুগ্ধতাকে আমি বন্ধনীযুক্ত করার বদলে বন্ধনীমুক্ত করাতেই সুখ পেয়ে থাকি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



