Click This Link
যে গল্পটিকে @মনীষী সিনড্রোম নাটকে রূপ দেয়া হয়েছে
Click This Link
@মনীষী সিনড্রোমের ইতিবৃত্ত নিয়ে দুটি পোস্ট ইতিমধ্যে লিখে ফেলেছি বিধায় শুরুতে পরিকল্পনা ছিল এই লেখাটিতে শুধুমাত্র নাটকের এডিটিং সংক্রান্ত আপডেট সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু লেখার ক্ষেত্রে এটিই বোধহয় সবচেয়ে বড় সমস্যা যে, লিখতে গেলে শুধু বহিরাবরণ দেখলেই চলেনা; অন্ত:স্থিত সবকিছুকেই বিবেচনায় রাখতে হয়। তাই অত্যন্ত সচেতনভাবেই এডিটিং পরবর্তী বেশকিছু ভাবনার প্রতিফলন এই লেখায় ঘটতে পারে।
এখনো পর্যন্ত নাটকটা বেশ কয়েকবার দেখে ফেলেছি; আমি অনেকটাই প্রতিক্রিয়াশূন্য মানুষ হওয়ায় সেভাবে উচ্ছ্বসিত বা হতাশ কোনটাই হতে পারছিনা, বরং এটাকে একটা এভারেজ কাজই মনে হয়েছে এখনো পর্যন্ত। তবে, এই মনে হওয়াটার সঙ্গে কয়েকটি পাদটীকা যুক্ত করলে এই কাজটিতেই সন্তুষ্ট হওয়া উচিৎ বহুলাংশে।
আগে পাদটীকাগুলোই উল্লেখ করা যাক:
# নাটকের কলাকুশলী সবারই এটা ক্যামেরার সামনে প্রথম কাজ; বুয়েটের বিভিন্ন প্রোগ্রামে প্রত্যেকেই কম-বেশি কাজ করলেও ক্যামেরার আভিজ্ঞতাটা কারোরই সেভাবে ছিলনা। অভিনয়ে এই প্রভাবটি বেশ স্পষ্ট মনে হয়েছে আমার কাছে, তবুও প্রত্যেকে তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে বলে এক্টিংটা যতটা আশঙ্কা করছিলাম ততটা খারাপ হয়নি। বিশেষ করে, ইমু এবং সিলভির অভিনয় আপ টু দ্য মার্কের বেশ কাছাকাছি ছিল। হয়তবা পরের কাজটাতেই সেটা অনেক ইমপ্রুভ করবে। নাটকের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সঙ্গীতা আপুর অভিনয়টা হয়ত আরেকটু ভাল হতে পারত, কিন্তু তার চেহারাতেই একটা সহজাত নার্ভাস ভাব আছে; যেজন্য তার রিয়েল এক্সপ্রেশনগুলোকেও একটু জড়তাগ্রস্ত মনে হয়। আশা করি, পরের কাজটাতে এটাও তিনি উতরে যাবেন। তবে, মূলচরিত্রে অভিনয় করা আমিমুল ইহসানের অভিনয়টা আপ টু দ্য মার্কের বেশ পিছনেই ছিল। তার অভিনয়টা অন্তত নাটকের আরেকটি সমান্তরাল চরিত্র নাঈমের কাছাকাছি হলেও, প্রথম কাজটা আরও অনেক ভাল হওয়ার সুযোগ থাকত। পার্শ্বচরিত্রের সবাই অনেক ভাল অভিনয় করেছে, আলাদা করে বললে শরীফ চরিত্রে অমিত, এবং প্রকাশক চরিত্রে রুশোর অভিনয় কখনো কখনো মূল চরিত্রের থেকেও প্রাণবন্ত লেগেছে।
# নাটকটার শুটিং করতে হয়েছে মাত্র ৩ দিনে, এর মধ্যে প্রথম ২দিনে এতসব ঋণাত্মক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি যে, ভয় হচ্ছিল কাজটা বোধহয় শেষই করতে পারবোনা। প্রথম দিন বুয়েট ক্যাম্পাসে শুটিং করার অনুমতি না পাওয়ায় পুরো লোকেশন বদলে ফেলতে হযেছে, সেইসাথে স্ক্রিপ্টও বদলে গেছে। কাজও শুরু হযেছে অনেক দেরিতে। আর ২য় দিনের অভিজ্ঞতা আমি যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে চাই; ঐদিন শুটিং স্পটে পৌছে জানতে পারি সেখানে শুটিং করা হবেনা, ফলে পুরো ইউনিট নিয়ে লালমটিয়া থেকে শান্তিবাগে পৌছুতে হয়েছে প্রচণ্ড জ্যামের মধ্যে। সেই সাথে, শুরুতে মা-বাবার চরিত্রে অভিনয়ে রাজী হওয়া মানুষগুলোও জানায় যে, তারা এক্টিং করছেনা, যেজন্য নাটকে তাৎক্ষণিকভাবেই বড়ভাই চরিত্রটি অন্তর্ভূক্ত করতে হয়েছে; এই চরিত্রের জন্যও হঠাৎ করেই একজনকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে, যার প্রভাবটা তার অভিনয়ে স্পষ্ট। তবুও সেই হঠাৎ পাওয়া অভিনেতার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ- অন্তত কাজটা কন্টিনিউ করতে পেরেছি। এছাড়া মূলচরিত্র মোনায়েমের হবু স্ত্রীর চরিত্রে যার অভিনয়ের কথা ছিল, লোকেশন পাল্টে যাওয়ায় সেও হাতছাড়া হযে যায়। এমনিতেই আমার অভিনেত্রী সংকট ছিল, সে মানা করে দেয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আর কাউকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে স্ক্রিপ্ট আবার বদলে ফেলে মোনায়েমকে (আমিমুল ইহসান) অবিবাহিতই রেখে দেয়া হয়েছে, এতে করে নাটকের মূল বক্তব্য কিছুটা হলেও স্লিপ করেছে। মোনাযেমের প্রেয়সী নীলিমার (সিলভি) স্বামী চরিত্রে যার অভিনয় করার কথা তিনিও শেষ মুহূর্তে ব্যক্তিগত কারণে শুটিংস্পটে আসতে না পারায় আরেকজনকে দিয়ে কাজ চালাতে হয়েছে। ফলে স্বামি চরিত্রটিকে এরোগেন্টের বদলে কিছুটা নার্ভাস লেগেছে। আর এতবার স্ক্রিপ্ট বদলানো এবং তাৎক্ষণিক অভিনেতা নিয়ে আসায় নটকের দৈর্ঘ্যও ৬-৭ মিনিট কমে গেছে; শুরুতে নাটকটা ছিল ৪৫ মিনিটের, এতসব বদলের বলি হযে এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৩৮ মিনিটে। এছাড়া, প্রথম ২দিন আরও বহুবিধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে; কিন্তু কমিউনিটি ব্লগে সবকথা খোলাখুলি বলা সমীচীন নয়; সুতরাং সবকিছুর যোজন-বিয়োজনে শেষ পর্যন্ত যে নাটকটা দাঁড়াতে পেরেছে, আপাতত এটাই স্বস্তিদায়ক।
# অর্থনৈতিক ব্যাপারটাও দারুণ ভুগিয়েছে। কাজ শুরুর আগে অনেকেই বিশাল বিশাল প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রয়োজনের সময় তাদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি স্বরূপে। ফলে পুরো খরচ একা যোগাড় করতে গিয়ে আমি নিজেও ভযাবহ টালমাটাল অবস্থায় ছিলাম, অনেকটা কেউ আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমুদ্র ভ্রমণে নিয়ে গিয়ে মাঝ সমুদ্রে জাহাজটা ফুটো করে দিয়ে ফেলে রেখে গেছে এমন অবস্থা। তবুও সেই ফুটো জাহাজ নিয়েই প্রাণপণে তীরে পৌছুতে পেরেছি বলেই আজ @মনীষী সিনড্রোম আলোর মুখ দেখেছে। আমি এমনিতেই নিম্নশ্রেণীর প্রাণীর মত জীবন যাপন করি। কাজটা করে অর্থনৈতিকভাবে এতটাই ভয়াবহ মন্দার মধ্যে ছিলাম যে জীবনযাপন তখন আরও নিম্নশ্রেণীর হয়ে উঠেছিল। নাটকে একটা দৃশ্য ছিল, মোনায়েমের একসময়ের কাব্যশিষ্য সোহেল (নাঈম) টাকার অভাবে ভরদুপুরে পাউরুটি খাচ্ছে; কাজের পরে যে ৭ দিন ঢাকায় ছিলাম , সে কয়দিন আমিও এভাবেই বেঁচে ছিলাম, কারণ পকেটে তখন সাহারা মরুভূমির সৃষ্টি হযেছিল।।
# ৩৮ মিনিটের নাটকে কোন দৃশ্যই আমার সেভাবে পছন্দ হযনি, প্রত্যেকটা দৃশ্যই এর থেকে অনেক ভাল হতে পারত; হয়নি সেটা আমার অনভিজ্ঞতা। ৬-৭ সেকেন্ডের একটা কনভারসেশন আছে নীলিমা- মোনায়েমের ; সেটা গানের একটু আগে। শুধুমাত্র এই দৃশ্যটা করতে গিয়েই মনে হয়েছে একটা কিছু করতে পেরেছি, বা কিছু একটা হচ্ছে।।। কারণ, সন্তুষ্টি অনুভূতিটা বরাবরই আমার অধরা।।।
তবুও এতসব সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে এখন নাটকটা দাঁড়িয়ে গেছে। আমার হল এবং তিতুমীর হলের অনেককেই নাটকটা দেখালাম, সবারই কম-বেশি ভাল লেগেছে, কারও কারও খুবই ভাল লেগেছে; এখনো পর্যন্ত কারও কাছেই খারাপ লাগেনি। এই কম্লিমেন্টগুলোতে আমি মোটেই ভাবিত নই, তবে ২ জন মানুষের কম্লিমেন্ট এখনো পর্যন্ত এই নাটক থেকে আমার শ্রেষ্ঠ অর্জন- একজন নাটকের এডিটর অপু ভাই, অপরজন নাটকেই অভিনয় করা সঙ্গীতা আপু। অপু ভাই কম্লিমেন্ট দিয়েছেন তার পুরো এডিটিং প্যানেলের সবার পক্ষ থেকে। প্রথম কাজ হিসেবে তাদের এটিকে অনেক কোয়ালিটি সম্পন্ন মনে হযেছে। এরপর আমার জন্য একটা ব্যক্তিগত কম্লিমেন্টও দিয়েছেন- ‘হিমেল ভাই, আপনার মাঝে প্রচুর সম্ভাবনা আছে; আর ২-১টা কাজ করলে আপনি দাঁড়িয়ে যাবেন; আপনার মাথাটায় অনেক জিনিসপত্র আছে’। অন্যদিকে সঙ্গীতা আপুর কাছেকাজটাকে কোন মানেরই মনে হয়নি, এটা নাকি তার জীবনের জঘন্যতম কাজ। নাটকের প্রথম দৃশ্যটা বাদে সম্পূর্ণ নাটকটিকেই তার মিনিংলেস মনে হয়েছে- খাপছাড়া কাহিনী, আনাড়ি অভিনয়, বাজে লাইটিং, দুর্বল ডিরেকশন সবমিলিয়ে তিনি কাজটাতে নম্বর দিয়েছেন মাইনাস ৫০০! আমি প্রশংসা বা সমালোচনা কোনটাতেই খুব একটা বিচলিত হইনা, কিন্তু উল্লেখযোগ্য কিছু কথা কখনই ভুলিনা, সেজন্যই আলাদাভাবে অপু ভাই আর সঙ্গীতা আপুর কম্প্লিমেন্টটা এখনো মনে আছে, এবং সম্ভবত কখনই ভুলবোনা। কারণ, অনুপ্রেরণা দেয়ার ধরনটা ব্যক্তিভেদে সবসময়ই ভিন্ন হয়। তাদের দুজনের প্রতিই আজীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা রইল।।।
যাইহোক, শুরুতে নাটকের সম্প্রচার নিয়ে তেমন মাথাব্যথা ছিলনা, এখনো সেভাবে নেই। কিন্তু কাজটা এত ঘটনাবহুলভাবে শেষ হওয়ায় এখন মনে হচ্ছে এটা কোন টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত হওয়া উচিৎ। অন্যরা যা-ই বলুক এবং আমি নিজেও যতই সমালোচনা করিনা কেন, কাজটা যে আদ্যন্তই একটা লস প্রোজেক্ট হয়নি এইটুকু কনফিডেন্স আমার মধ্যে সবসময়ই আছে। বরং, হাল আমলের অনেক উদ্ভট টিভি নাটকের চেয়ে এটার মান পয়েন্ট জিরো ফাইভ হলেও ভাল হয়েছে। তাই সম্প্রচারের ব্যাপারে কেউ কোন সাহায্য করতে পারলে ভাল লাগত। আর যদি সম্প্রচারিত নাও হয়, তাতেও হতাশ হওয়ার মত কিছু ঘটবে বলে মনে হয়না। কারণ আমার এই ক্ষুদ্রজীবনে যে গুটিকয়েকবার সফল হয়েছি, ব্যর্থ বা প্রতারিত হয়েছে তার থেকে কয়েকগুন বেশি। তাই ব্যর্থতা আমার জন্য মোটেই কোন নতুন ব্যাপার নয়। তবে অন্যান্যবারের প্রতারণা বা ব্যর্থতাগুলো সম্পূর্ণই আমার নিজস্ব ছিল, এবারের কাজটাতে আমার সঙ্গে আরও অনেকগুলো মানুষ জড়িত বিধায় এটায় ব্যর্থ হলে সেই মুখগুলোর কথা ভেবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও একটা সাময়িক মন খারাপের অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে; ব্যস এটুকুই। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।।।
নাটকের কিছু এক্সক্লুসিভ ছবি শেয়ার করছি:
নাটকে আমরা যে প্রাসঙ্গিক গানটি ব্যবহার করেছি, আনরিলিজড ট্র্যাক হিসেবে খুব শীঘ্রই রেডিও এ.বি.সি. তে সেটা প্রচারিত হবে: http://www.mediafire.com/?qtq4tyn5mok
গানটাতে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছে আমার বন্ধু আদনান
লেখার কাজটা এবারও আমাকেই করতে হযেছে।।।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


