somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্টিফেন হকিং, নাস্তিকতা ও ইসলাম (২) : হকিং-এর পরিবর্তনশীল খসড়া

০৭ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুরুতেই বলে রাখি - ইদানীং নাস্তিকেরা "ব্লগে ধর্ম প্রচার করতে জামাতিরা এসেছেন ! জামাতিদের জন্য ব্লগে আসা বন্ধ করতে হবে -ইত্যাদি ইত্যাদি খিস্তি-খেউড় সমান তালে আওড়ে চলেছেন ! আমি যেহেতু এইসব অযৌক্তিক প্যাচালে কান পচাই না (যেহেতু আমি জামাতি না, জামাতিরা মিটিং-মিছিল ফেলে ব্লগে নাস্তিকদের সাথে গল্প করতে নিশ্চয়ই আসবেন না !) কাজেই 'স্টিফেন হকিং, নাস্তিকতা ও ইসলাম' বইটির পরবর্তী চ্যাপ্টার তুলে ধরলাম আজকে :

লেখক : মুহাম্মাদ সিদ্দিক
প্রকাশক : মদীনা পাবলিকেশন্স
৩৮/২ বাংলাবাজার, ঢাকা।
প্রকাশকাল : ২০০০ সাল


এখন ড. হকিং প্রসঙ্গে আসা যাক। ড. হকিং তার "এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম" বইয়ে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর এই দুশো পৃষ্ঠার বইটি তার ছাত্র ব্রিয়ান হুইট সংশোধন করতে সাহায্য করেন। তাছাড়া বহু পন্ডিত ব্যক্তি তাকে সাহায্য করেছেন এই বইটির উৎকর্ষ সাধনে। মাইকেল হোয়াইট ও জন গ্রিবিন নিউইয়র্কের "রাইটার্স হাউস"-এর সভাপতি আল-জাকারম্যান এবং আমেরিকার বান্টাম বুকস- প্রকাশনী সংস্থার সম্পাদক গুজার্ডি'র সূত্রে লেখেন :

(অনুবাদ : জুকারম্যান সম্পাদক পিটার গুজারদির সম্পর্কে প্রচেষ্টা সম্পর্কে বলেন : আমি মনে করি হকিং-এর প্রতি পৃষ্ঠার ব্যাপারে সম্পাদক পিটার গুজারদি দু থেকে তিন পৃষ্ঠার সম্পাদকীয় পত্র হকিংকে লেখেন। যে যে বিষয়ের উপর মনে হয়েছে যে, তার আরো বর্ণনা প্রয়োজন, কারণ অন্য পাঠক গণের নিকট তা বোধগম্য হব না গুজারদি তা হকিংকে জানান। পৃষ্ঠা :২২৯/ )

মাইকেল হোয়াইট ও জন গ্রিবিন লেখেন : ( অনুবাদ : ১৯৮৪ সালের যীশুখ্রিস্টের জন্মদিনের ভেতর পান্ডুলিপির প্রথম খসড়া লেখা হয় এবং পুনর্বার লেখা শুরু হয় নববর্ষে অর্থাৎ ১৯৮৫ সালে (পৃষ্ঠা-২৩১) । এদিকে বইটির সম্পাদক পিটার গুজারদি সম্পাদনার কাজ করে যেতে লাগলেন। হকিং-এর ভিতর পিটার গুজারদি ও অন্যান্য পাঠকগণের পরামর্শ অনুযায়ী পান্ডুলিপির কয়েকটি অংশ পরিত্যাগ করলেনও কয়েকটি অংশ নতুন করে লিখরেন। হকিং বেশ কয়েকটি অঙ্ক ও সমীকরণ পরিশিষ্টে দিতে চান যাতে সম্পাদক প্রবল বাধা প্রদান করেন। কারণ, পাঠকগণ এসব পছন্দ করবে না। (সূত্র : হোয়াইট ও গ্রিবিন, পৃষ্ঠা-২৩৭)।

যাই হোক, হকিং বেশ কয়েকটি প্রাথমিক 'ভার্সন' লেখেন এই বইটির মুসাবিদায়। বান্টাম বুকস লাইব্রেরীর পক্ষে সম্পাদক পিটার গুজারদি পাতার পর পাতা সমালোচনা, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠান ড. হকিং এর নিকট এমন বিষয় সম্পর্কে যা হকিং বইটিতে ঠিকভাবে প্রাথমিক খসড়াতে প্রতিফলিত করেননি। ড. হকিং বলেন (অনুবাদ : পরিবর্তন করার জন্য আমি একটি বড় তালিকা পাই সম্পাদক থেকে)। হকিং তার পুস্তকের 'স্বীকৃতি' অংশে এসব উল্লেখ করেছেন। ড. হকিং-এর দুশো পৃষ্ঠার পদার্থবিদ্যার বইটি বের করতে কতজনের সাহায্য-সহযোগিতা, সংশোধনী, পরিবর্তন গ্রহণ করতে হয়েছে তা প্রণিধানযোগ্য। হযরত মুহাম্মাদ (স) এর মুখনিঃসৃত কোরআন মাজীদ যা সাধারণ ছাপাতে প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার ন্যায়, তা তিনি কতবার খসড়া করেন, কতবার কাটাকাটি করেন, কতজনের সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করেন ? একবারও না। লেখাপড়া না জানা একজন ধর্ম প্রচারক একবার যা 'ডিক্টেট' করেছেন তাঁর লেখকদের কাছে (অবশ্য আল্লাহর নির্দেশে) তাই আজ আমাদের সামনে রয়েছে। হকিংদের বইয়ের মতো হযরত (স) কোরআন মাজীদের খসড়া বারে বারে বদলান নাই। তবু কি হযরতের বাণীকে পদার্থবিদদের নীচে দিতে হবে ? হকিং-এর অদ্যকার মন্তব্য আগামীকাল নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে অচল হয়ে যেতে পারে। কোরআন মাজীদ মূলত: ধর্মীয় গ্রন্থ হলেও বিজ্ঞান সম্পর্কে এতে যে-সব তথ্য ও তত্ত্ব এসেছে তার কোনো পরিবর্তন হবে না। নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে কোরআনের বৈজ্ঞানিক বক্তব্যসমূহ কোনভাবে পরিবর্তন করা যাবে না। কারণ, কোরআন হলো বিজ্ঞানের স্রষ্টা, বিশ্বের স্রষ্টা কর্তৃক প্রণীত যদিও তা হযরত (স) এর মুখ দিয়ে প্রকাশিত। কোন কোন আয়াত আপাতত দৃষ্টিতে অবৈজ্ঞানিক মনে হলেও , নবতর বৈজ্ঞানিক। গবেষণায় কোরআনের বৈজ্ঞানিক তথ্য ও তত্ত্ব সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে, হবেই হবে। সত্য একই, সত্য বহু নয়। তাই কোরআনে যা সত্য তাই বিধৃত হয়েছে।

-------------------------(চলবে : পরবর্তী চ্যাপ্টারের জন্য অপেক্ষা করুন)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৩
২২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×