সত্য চির প্রবাহমান, শাশ্বত। সত্য সেটা শুনতে যতই খারাপ লাগুক না কেন - স্বীকার বা প্রকাশ করতেই হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় - সত্য এই যুগে ঠাট্টা-তামাশায় পরিণত হয়েছে ! মানুষ এখন চোখ বন্ধ করে পৃথিবী দেখে... কিংবা চোখ খোলা রাখে - কিন্তু মনে মনে ভাবে - চোখ বন্ধ ! পাপ করছি কেউ টের পাবে না । সত্যের পক্ষে কিছু বলতে গেলেই বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে... এক কথায় - মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এবং মানুষের খোলা চোখ বন্ধ করতে যাদের হাত-পা সব সময় নিশপিশ করে- আসলে তারাই সবসময় ব্যর্থতার চোখে আঙুল দিয়ে সফল হতে পারে !
এবার একটা গল্প শোনাই। যদিও শুনে কোনো লাভ নেই আমাদের !
এক চোর গেছে চুরি করতে - আম বাগানে। চোর একা আসতে সাহস পায়নি, পাঁচ বছরের পিচ্চি ছেলেকে নিয়ে এসেছে। তার সাথে এই চুক্তি - ছেলে পাহারা দিবে, চোর শান্তিমত আম চুরি করবে। তো, চোর গাছে উঠল... আম ছিঁড়ে ছিঁড়ে কৌচে জমাতে লাগলো। একসময় নির্বিঘ্নে নিচে নেমে এসে ছেলেকে বললো - যাক্ বাঁচা গেল ! ভাগ্যিস কেউ দেখেনি - এই বলে সে কপালের ঘাম মুছলো গামছা দিয়ে।
তখন তার পিচ্চি ছেলেটা বললো - বাবা, একজন কিন্তু আমাদের দেখছেন। তিনি মহান আল্লাহপাক।
পিচ্চি ছেলের মুখে এ কথা শোনার পর চোর মশাই চুরি করা ছেড়ে দিলেন।
এই যুগে উপরের কাহিনী অচল। আলট্রা মডার্ণ কোনো চোরকে যদি এই কাহিনী শোনানো হয় তাহলে সে হয়তো মন দিয়ে শুনবে; কিন্তু খানিকক্ষণ পরেই সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে জীবিকার উদ্দেশ্যে ( ! ) বের হবে।
আচ্ছা ধর্ম জিনিসটা আসলে কী ? কেন এত ধর্ম এই পৃথিবীতে ? ধর্মের জন্য কত যুদ্ধ হয়েছে, কত ধর্ম প্রচারক এসেছেন, কত মানুষ সভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছে - তার হিসেব নেই। ধর্ম হচ্ছে সেই সুদৃঢ় বর্ম, যেটা শরীরে থাকলে পাপ নামের কোনো জটিল অস্ত্র শরীর ছিন্ন করে হৃদয় কলুষিত করতে পারবে না।
পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে। ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম- আরো অনেক ধর্ম। ধর্ম পৃথক করেছে সংস্কৃতি। আবার ধর্ম তৈরী করেছে সংস্কৃতি। ধর্ম হলো আত্মিক স্বস্তি, ধর্ম হলো ন্যায়, ধর্ম চির শাশ্বত... অনাবিল।
অন্য সব ধর্মের মতো ইসলাম ধর্ম একটি ধর্ম। অন্য সব ধর্মের সাথে এর মূল পার্থক্য হলো এই - ইসলাম স্বয়ং স্রষ্টা নির্ধারিত ধর্ম। এর চাক্ষুষ ও গাণিতিক প্রমাণ আছে দুইটি - ১. হযরত মুহাম্মদ (স)- যিনি ছিলেন একজন নিরক্ষর আরব, তাঁকে সবাই আল-আমিন বলে জানতো, দুর্দান্ত রাখাল বালক ছিলেন তিনি, অনেক কষ্ট করে তিনি বড় হয়েছেন, জন্ম হবার আগেই পিতাকে হারিয়েছেন এরপর মাতা... দাদা...চাচা সবাইকে হারিয়েও তিনি কখনো নিঃসঙ্গ হননি... কেননা মহান আল্লাহপাক স্বয়ং তাঁর বন্ধু ছিলেন। হযরতের (স) মুখ দিয়ে নিঃসৃত হয়েছে পবিত্র আল-কুরআনের বাণী। ২. কুরআন মাজীদ (যেটা কোনো মানুষ রচিত গ্রন্থ নয় বলে প্রমাণিত )।
ইসলাম ধর্মটা বড় বেশি বাস্তব। এখানে বৈরাগ্য নেই কোনো। যদিও 'তাসাউফ' চর্চার মাধ্যমে অনেক সূফী-সাধকগণ ধর্ম প্রচার করেছেন। আমাদের উপমহাদেশে আওলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম প্রচার হয়েছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, সাম্যের ধর্ম। এখানো উঁচু-নিচু কোনো ভেদাভেদ নেই।
ঈদ একটি বড় উৎসব। অন্য সব দেশের মতো আমাদের বাংলাদেশেও পালিত হয় ঈদ উল ফিতর, ঈদ উল আজহা। ঈদে সবাই আনন্দ করে। সব শ্রেণীর মানুষ এই অনাবিল আনন্দে শরীক হন। কোনো বৈষম্য নেই। যাকাতের ব্যবস্থা আছে। আরও আছে দান-খয়রাত, সাদকা। ইসলামে বলা হয়েছে - তাদের (ধনীদের) সম্পত্তির ওপর দরিদ্রদের হক রয়েছে।
ঈদে অনেক অমুসলিম মানুষরাও আনন্দ করেন ( এর প্রমাণ আমার হিন্দু বন্ধুগণ)। আসলে ঈদ একটা বিরাট সামাজিক উৎসব। এখানে সব মানুষই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারে। কোনো বাধা নেই।
বর্তমানে নানা কারণে ইসলাম ধর্ম 'অপছন্দনীয়' হয়ে উঠেছে অনেক মানুষের কাছে (এই ব্লগে সেটা কত সত্য বুঝতে পারছি)। আমার দীর্ঘদিনের অবিজ্ঞতা থেকে একটা জিনিস বুঝেছি সেটা নিয়ে বলা যাক -
হিন্দু ধর্ম একটা প্রাচীন ধর্ম। তবে হিন্দু ধর্মের বেস (ভিত্তি) বেশ দুর্বল (দুঃখিত আমি কাউকে আহত করার জন্য লিখছি না। এক হিন্দু বন্ধুই আমাকে এ কথা বলেছেন !)। কারণ হলো- হিন্দু ধর্ম পৌরাণিক কাহিনীর ওপর গড়ে উঠেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়- এই ধর্মে নাস্তিক নেই বললেই চলে ! পৃথিবীতে নাস্তিকদের বেশিরভাগ মুসলমান ও খ্রিস্টান ! খ্রিস্টান ধর্মের কথা না-হয় বাদ ই দিলাম, কিন্তু ইসলাম ধর্ম ? চোখের সামনে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কিছু পথভ্রষ্ট মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করে, ইসলাম ধর্মকে অস্বীকার করে, মহানবী (স) সম্পর্কে কটূক্তি করে এবং নিজেকে 'বড়' হিসেবে জাহির করতে চায় অন্যের কাছে। এই অন্যের কাছে প্রকাশ করতে চাওয়া, অন্যকে উসকানিমূলক কথা-বার্তা বলা, মেন্টাল ডিজিজ যাদের আছে তারাই নাস্তিক (Atheist).
ইসলাম ধর্ম কেন অনেক মানুষের কাছে অপছন্দনীয় হয়ে উঠেছে তার কারণগুলো আমি চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। যেমন :
১. জঙ্গিবাদ : বর্তমান বিশ্বে জঙ্গিবাদ (Terrorism) একটা ভয়াবহ আতঙ্ক (Menace). জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান কাজ হলো : আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করা। এ বিশেষ উদ্দেশ্য হলো (তাদের মতে)- ইসলামি আইন কায়েম করা। পৃথিবীর মানুষদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করা (!) তারা বিভিন্ন জনবহুল জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ করে, পরবর্তীতে সেই জিহাদ (!)-এর কথা স্বীকার ও করে ইন্টারনেট ভিডিও কিংবা সিডির মাধ্যমে ! তাদের কর্মকান্ডে প্রযুক্তি জড়িত। তারা 'আরজেস' নামক গ্রেনেড ছোঁড়াতেও বেশ দক্ষ ! সহজকথায় এক বিশেষ আতঙ্কবাদী দল যাদের কাজ-কর্মও সেরকম।
ইসলাম ধর্মে কোথাও কি 'জঙ্গিবাদ' সমর্থনে কিছু বলা আছে?
-নাহ্- ইসলামে কোথাও বলা হয়নি কাউকে নির্বিচারে হত্যা করতে, নিজে নজেকে হত্যা করতে। বরং বলা হয়েছে - আত্মহত্যা চরম পাপ এবং বিনা দোষে কাউকে হত্যা করা মহাপাপ । এখন জঙ্গিবাদীরা যদি আত্মহত্যাকে মহা বীরপুরুষতার কাজ বলে মনে করেন- এখানে ধর্মের দোষটা কোথায় ?
আমাদের বড় দুর্ভাগ্য- কারণ, জঙ্গিদের মুখ-মন্পলে দাঁড়ি আছে, তারা সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে এবং তাদের 'ব্রেইন ওয়াশ' এভাবে- জঙ্গি পদ্ধতিতে ইসলাম সম্পর্কে মানুষকে আহ্বান করাই বড় জিহাদ !
শুধু মুসলমানরাই জঙ্গি এ কথা বললে বিরটা ভুল হবে। চরমপন্থী কিংবা আতঙ্কবাদীরা সারা বিশ্বজুড়ে আছে। অন্য ধর্মের মানুষদেরও জঙ্গি সংগঠন আছে। প্রমাণ : Liberation Tigers of Tamil Eelam বা এলটিটিই বা তামিল টাইগার্স। ১৯৭২ সালে ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ তামিল যুবকদের, যারা সরকারের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান করছিলো, তাদের 'ব্রেইন ওয়াশ' করে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন এই সশস্ত্র ভয়ানক বাহিনী। সমগ্র শ্রীলংকার জন্য এ এক বিশাল থ্রেট। বিস্তারিত জানুন : http://en.wikipedia.org/wiki/LTTE
বলিউডের 'ধোঁকা' ছবিতে জঙ্গিবাদের উৎস এবং তার কারণ সম্পর্কে যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে সিনেমা বোদ্ধাগণ তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেননি। মুসলমানদের ওপর অত্যাচারও কিন্তু কম হয়নি। আল-কায়েদা নামক আফগানিস্তানি জঙ্গি সংগঠনটি গড়ে ওঠে ১৯৮৮ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত যুদ্ধের পরে !
সব সময় এটা মনে রাখা উচিত- ইসলাম ধর্মের রাসুল (স) তায়েফে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে অসহ্য কষ্ট ভোগ করেছেন। কাফিররা তার ওপর পাথর-বর্ষণ করেছে... তাঁর সমস্ত দেহ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে; তিনি ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে নরপশুরা তাকে উঠিয়ে দিয়ে আবার পাথর ছুঁড়ে মেরেছে ! তাঁর দেহ নিঃসৃত রক্ত-ধারা জুতোয় জমা হয়ে শক্ত হয়েছে... আহা ! কী কষ্ট রাসূল (স) করেছেন...
আমাদেরও কি উচিত না তাঁর উম্মত হিসেবে সঠিক কাজ করা ? জঙ্গিদের এটা মনে রাখা উচিত - এভাবে বোমা বর্ষণ করলে শুধু ঘৃণা আর আতঙ্কই সৃষ্টি হবে, শ্রদ্ধা জন্মাবে না কোনদিন।
ইসলাম সবসময় শান্তির পথ দেখিয়েছে... আইয়্যামে জাহেলিয়া যুগ থেকে আরবকে মুক্ত করেছে... সমগ্র বিশ্বের অন্ধকার দূর করেছে স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত এই 'পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা'।
----------------------------চলবে। আরো পয়েন্ট আছে....-------------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



