somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা করে না ছেলের আশা এরই নাম ধর্মপাশা

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হিমাদ্রি শেখর ভদ্র :
“মা করে না ছেলের আশা’ এরই নাম ধর্মপাশা এটি ধর্মপাশাবাসীর জন্য একটি রপ্ত প্রবাদ বাক্য। বাংলা অভিধানের কোথাও প্রবাদের উপস্থিতি না থাকলেও ধর্মপাশা উপজেলায় এর অস্তিত্ব দর্দান্ত প্রতাপের সাথে জানান দেয়। কারণ ধর্মপাশা থেকে কোন মা তার আদরের সন্তান কে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দিয়ে পুনরায় যেন ধর্মপশায় ফিরে না আসে এ কামনা করেন। এটি বোঝাতে বহুল প্রচলিত এ আঞ্চলিক প্রবাদটি ব্যবহার করে থাকেন। অত্যন্ত র্দূগম ধর্মপাশা থেকে কোন স্থানে যেতে চাইলে তা চাঁদ অভিযানের সমান যাত্রা। জেলা সদর সুনামগঞ্জে আসতে চাইলেও মারাত্মক র্দুভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। জেলা সদরের সাথে আসলে নৌকা আর লঞ্চ ছাড়া বিকল্প কোন যানবাহন নেই। শুষ্ক মওসুমে ধর্মপাশা পুর্ব বাজার থেকে রিক্সা নিয়ে সোজা দৌলতপুর বৌলাই নদীরঘাট সেখান থেকে লঞ্চ বা নৌকা যুগে ৭/৮ ঘন্টার ভ্রমণ। অর্ধ শুষ্ক মওসুমে একই স্থ্ান থেকে রিক্সা নিয়ে কিলোমিটার দুরে মদিপুর গ্রামে যেয়ে নৌকা বা লঞ্চ এ ওঠতে হয় জৈষ্ঠ্য আষাঢ় মাস এলে ধর্মপাশা গোদারাঘাট এলাকা থেকে লঞ্চয়ে ওঠতে হয়। এস্থানের নামকরণের ইতিহাস থেকে জানাযায়, সুদুর অতীতে এখানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হতে একদল ধর্মপ্রচারক ধর্মপাশায় অবস্থ্ান করে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতেন আর একারনে ধর্মপাশা নামকরণ করা হয়। অতীতে ধর্মপ্রচারকগণ ধর্মপ্রচারের জন্য এখানে আসলেও বর্তমানে এখানে আর কেউ ধর্মপ্রচারতো দুরের কথা বসবাস করার জন্য আসেন না। ৪৯৬.০৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ধর্মপাশার ভৌগলিক বি¯তৃতি। এর উত্তরে ভারত দেিণ নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা পুর্বে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলা পশ্চিমে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা ও বারহাট্টা উপজেলা। ধর্মপশার তিন দিক থেকেই নেত্রকোণা জেলার অবস্থান। ভৌগলিক ভাবে এটি ঢাকা বিভাগের নেত্রকোণা জেলার সাথে লেগে রয়েছে। কিন্তু এটি সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার একটি প্রশাসনিক ইউনিট। জেলা সদরের থেকেও ঢাকা বিভাগের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটামুটি ভাল। ধর্মপাশা থেকে সড়ক পথে নেত্রকোণা জেলা সদরের দুরত্ব মাত্র ২৫/ ৩০ কিলোমিটার আর রাজধানী শহর ঢাকার দুরত্ব ২৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি হবে মাত্র ৩/৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে যাতায়াত করা যায়। ধর্মপাশার মানুষজন বিশেষ অফিসিয়াল দরকার ছাড়া জেলা সদরে আসেন না। অধিবাসীদের সবকিছু হলো ঢাকা ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা কেন্দ্রীক। তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া,আত্মীয়-স্বজন,বিয়েশাদী, চিকিসাসেবা থেকে সব কিছু ময়মনসিংহ কেন্দ্রিক। দূরত্ব-জনিত কারণে এখানকার মানুষ বৃহত্তর সিলেট-সুনামগঞ্জে তাদের ছেলেমেয়ের বিয়ে দিতেও নারাজ। অর্থনৈতিক ভাবে ধর্মপাশা উপজেলার কৃষিখাত ও জলমহাল খাত ছাড়া তেমন কোন উল্লেখযোগ্য আয় নেই। বর্ষাকালে ধর্মপাশার দরিদ্র লোকজন চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় এবং কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বিশেষ করে তারা কায়িক শ্রমের বিনিময়ে উপার্জন করে থাকে। ১৮২টি মৌজার ৩১৩ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ধর্মপাশা উপজেলা। এখানে প্রায় দুই লাধিক হতভাগা জনমানবের বসবাস । শহর এলাকার পরিমাণ ৩.৯৩ বর্গকিলোমিটার। ধর্মপাশায় রয়েছে ছাপান্নটি প্রাইমারী স্কুল,এগারটি মাদ্রাসা, দশটি ইউনিয়ন পরিষদ,এগারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছয়টি নিু মাধ্যমিক বিদ্যালয়,দুইটি ডিগ্রী কলেজ, একটি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও চারটি দাখিল মাদ্রাসা সহ অনেক গুরুত্বপুর্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। ধর্মপাশা থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪২ সালে এবং উপজেলা ঘোষণা করাহয় ১৯৮৩ সালে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১২৬৬ জন লোকবাস করে। এ উপজেলার গুরুত্বপুর্ন ঐতিহ্য সেলবরস জামে মসজিদ মহেষখলা কালীবাড়ি ও মন্দির। ঐতিহাসিক ঘটনা মধ্যে রয়েছে ১৭৮৭ সালে আসাম প্রদেশের উগ্রপস্থী খাসিয়া জনজাতি ধর্মপাশার বংশীকুন্ডা, রামদীঘা ও সেলবরস গ্রামে আক্রমন চালিয়ে কয়েক হাজার নারী পুরুষ কে হত্যা করে। এছাড়া ১৯২২-২৩ সালে সুখাইড় গ্রামের নানকার বিদ্রোহ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।চিত্তবিনোদনের সুযোগ সুবিধা বলতে কয়েকটি ভিডিও সেন্টার বাজারে ও একটি সিনেমা হল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ধর্মপাশা সদরে নেমে আসে প্রেতপুরীর নীরবতা। জনমানবহীন কোন প্রান্তরে পরিণত হয় ধর্মপাশা বাজার। এখানে থাকা খাওয়ার কোন ভালো হোটেল রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত নেই। বিপদগ্রস্থ কোন অতিথি শেষ আশ্রয় নেয় তিন কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ উপজেলায়। ধর্মপাশা থেকে রিক্সায় মাত্র ৩০ মিনিটের পথ।আজ থেকে ৭/৮ বছর আগে ধর্মপাশার শিার্থীরা মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে গিয়ে পড়াশুনা করতো এঅবস্থার কিছুটা অবসান হয়েছে। কংস নদের উপর নির্মিত হয়েছে সড়ক সেতু কিন্তু এর সুফল পায়নি সিংহভাগ এলাকার মানুষ।

৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×