বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের বিরুদাধে অমুসলিমদের প্রধান অভিযোগ মুসলমানরা সন্ত্রাসী। ইসলাম সন্ত্রাস সৃষ্টি করে। আরও অনেক কিছু। অনেক ধর্মপ্রান মুসলমানরাও ওখন ভাবেন মুসলিম হলেই অমুসলিমদের হথ্যা করা বা যারা ইসলাম না মানে তাদের ক্ষতি করতে হবে। আমার ইসলাম নিয়ে অল্প কিছু পড়া লেখা আছে। সেখান থেকেই শেয়ার করব কিছু ঘটনা।
ইসলাম কখনোই কোন মানুষকে তার ধর্ম বা অবিশ্বাসের জন্য কোন প্রকার হত্যা তো দুরের কথা কোন প্রকার বিরক্ত করাটাই সমর্থন করে না। ইসলাম চায় মানুষ ইসলামের সত্যের সৌন্দর্যে এর ছায়া তলে সমবেত হোক।
রাসুল সা: ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন দাওয়াতি কাজ করছিলেন তখন তিনি নিজের গোত্র থেকে তেমন কোন সাড়া পাননি। তার গোত্রের বাহিরে তার চিন্তা আসল প্রথম তায়েফকে নিয়ে। তায়েফের ময়দান ছিল ফলমুলে পরিপুর্ন। তার ধারনা ছিল যে জাতি আল্লাহর এত রহমত পাচ্ছে তারা অবশ্যই আল্লাহর কাছে কুতগ্গ হবে। অনেক আশা নিয়ে তিনি বের হলেন তায়েফের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেখানেও তাকে গোত্রপতিরা হতাশ করল। তারা তাকে শুধু প্রত্যাখ্যান ই করলনা বরং আরও তাদের বাচ্চাদের বলল ্টা একটা পাগল এক তাড়িয়ে দাও। এই বলে রাসুল সা: এর গায়ে তারা পাথর ছুড়ে মারতে শুরু করল। এতে রাসুল সা: রক্তাক্ত হয়ে উঠলেন। তার গা থেকে ঝরঝর করে রক্তে তায়েফের ময়দার ভিজতে লাগল।
আল্লাহ সাধারনত কোন জাতির উপর হেদায়াতের বানী সহ কোন নবী না আসা পর্যন্ত তাদের কোন প্রকার আযাব বা শাস্তি দেননা। তাদের নিকট হেদায়াত পৌছানেরা পর আল্লাহ তার করনীয় ঠিক করেন। আল্লাহর নবী রাসুলরা শুধু মাত্র আল্লাহর বানীই প্রচার করেন। তাদের এই জন্য কোন বিনিময় নেয়াটা হারাম। সুতরাং যারা শুধু আল্লাহর বানী প্রচারের কারনে মানুষের কাছে অত্যাচারিত হয় তাদের পুরষ্কার আল্লাহই দেন। যেই জাতী কোন নবী রাসুল কে চেনার পরও তাকে কষ্ট দেয় সেই জাতীকে আল্লাহ ধ্বংশ করে দেন। মহানবী সা: এর রক্তে তায়েফের ময়দান ভিজে গিয়েছিল। ব্যাথায় তিনি কাপছিলেন। তার কষ্টে আল্লাহর আরশ কেপে উঠল। তিনি জিবরাইলকে পাঠালেন তায়েফ বাসীকে ধ্বংশ করতে। জিবরাইল রাসুল সা: কে আল্লাহর আদেশ শুনালেন, সাথে সাথে থেমে গেল আল্লাহর রাসুলের কষ্ট । তিনি দৃড় কন্ঠে বললেন: জিবরাইল এই লোকগুলো তো বুঝে না কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা। এরা আমাকে চিনলে এত কষ্ট দিত না। এখন যদি তুমি এদের ধ্বংশ করে দেয় তবে আমি দাওয়াতী কাজ কাদের সাথে করব। জিবরাইল বললেন হে আল্লাহর রাসুল তায়েফবাসী আপনাকে প্রচন্ড কষ্ট দিয়েছে। তাদের ধ্বংশ করাটা আল্লাহর নির্দেশ। জবাবে সর্ব কালের শ্রেষ্ঠ এই মানুষটি বললেন যদি আমার কারনে এরা ধ্বংশই হবে তাহলে আমি কেন পৃথিবীতে আসলাম। তারপর তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে দুয়া করলেন:" হে আল্লাহ এই লোকগুলো তো ।বুঝ । এরা বুঝলে কি তোমার রাসুলকে কষ্ট দিত? তুমি এদেরকে ভাল কাজ করার তৌফিক দেও। তাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দাও। তার এই মহানুভবতায় সেদিন মরুভুমি সক্ত হয়ে উঠেছিল । পাথরের চোখ ফেটে পানি পড়েছিল রাসুল সা: আর ইসলামের বদান্যতায়।
আমরা তো তারই উম্মাত। আমরা কি পারিনা তার দেখানো সেই মহানুভবতা ফিরিয়ে আনতে। ভালবাসায় সিক্ত করতে সব ধর্মের সব মতের মানুষদের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


