somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন স্নিগ্ধ চোখে অনুসরণ করা যায়।

০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রুমের ভেতর দুইটি চৌকি। মশার প্রকোপ খুব। মেহমান দুজনের স্থান হলো এ রুমে রাতটি কাটানোর জন্য। সারাদিনের ক্লান্ত সফর শেষে ঠাঁই নিলেন তারা এখানে।

দেশটি মিশর। মিশরের অন্যতম ইসলামী আন্দোলন ইখওয়ানুল মুসলিমীনের প্রতিষ্ঠাতা মুর্শিদ ই আম শহীদ হাসানুল বান্না এবং তার সংঙ্গী ওমর তিলমেসানী। ওমর তিলমেসানিও পরবর্তীতে মুর্শিদই আম হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন দাওয়াতী সফরে হাসানুল বান্নাকে ছুটতে হয়েছে দেশের আনাচে কানাচে। মোহনীয় বক্তৃতার জন্য তিনি ছিলেন বিখ্যাত। পিপড়ের মত মানুষ ছুটে আসতো তার বক্তৃতা শুনতে। কফি সপে গিয়েও তিনি বক্তৃতা করতেন। মানুষ ভীড় জমাতো। তথাকথিত ফেরকাবাজী বাদ দিয়ে ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্য তার দাওয়াত ঘুমন্ত অশ্বের পিঠে চাবুকের মত কাজ করেছিল মিশরের ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য। এমনই এক বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন দেশের একটি প্রান্তে। সাথে ওমর তিলমেসানী।

রাত তখন অনেক। সারাদিনের সফর আর বিকেলের মাহফিল শেষে আয়োজকদের ব্যাবস্থা করা কক্ষে বন্দোবস্ত বিছানা দেখে ঘুম যেন ঝর্ণার পানির বেগে ধেয়ে আসছে দুচোখ জুড়ে। মশার উৎপাতে মশারী লাগাতেই হলো। দুই চৌকিতে শুয়ে পড়লেন দুজন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুর্শিদ ই আমের গলার আওয়াজ শুনতে পেলেন ওমর তিলমেসানী, 'ওমর ঘুমিয়ে পড়েছ?' জবাব দিলেন, 'এখনও ঘুমাতে পারিনি'। হয়তো পাচ মিনিট অতিবাহিত হলো। আবার ও সেই একই আওয়াজ কানে ভেসে এল, ওমর ঘুমিয়ে পড়েছ? একই জওয়াব, এখনও ঘুমাতে পারিনি। এভাবে কিছুক্ষণ পর পর প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি চলতে লাগলো। এমনকি শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটি ওমর তিলমেসানীর নিকট অস্বস্তিকর বোধ হতে লাগলো। তিনি মনে মনে ভাবলেন, যতটা ক্লান্তি আমায় অবসন্ন করে ফেলেছে তা কি যথেষ্ট নয় যে এর ওপর তিনি আরো কিছূ যোগ করছেন। তিনি কি আমাকে ঘুমুতে দিবেননা? মনের ভিতরে একটি খেয়াল উদয় হলো এবং নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিলেন, মুর্শিদ ই আম যদি আবার প্রশ্ন করেন তাহলে নিরব থাকবো যেন তিনি মনে করেন, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। যেই কথা সেই কাজ। চুপ থাকায় শহীদ হাসানুল বান্না সত্যিই ভাবলেন ওমর ঘুমিয়ে পড়েছে। অতপর তিনি চুপিসারে সন্তর্পনে চৌকি থেকে উঠে পড়লেন এবং স্যান্ডেল হাতে নিয়ে বাথরুমের দিকে চললেন। অজু করে ফিরে এসে চৌকি থেকে একটু দূরে জায়নামাজ বিছিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন তাহাজ্জুদের নামাজে। তিনি কতক্ষণ নামাজ পড়েছেন তিনিই জানেন। অপর চৌকিতে ওমর তিলমেসানী গভীর ঘুমে অবসন্ন দেহে রাত পার করলেন। সকালে উঠে ওমর স্মরণ করলেন সেই জ্বলজ্বলে স্মৃতি যা তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। কেন তিনি এমন করলেন? নিজে নিজে ভাবলেন ওমর। বুঝলেন, ওমরের জাগ্রত অবস্থায় যদি হাসানুল বান্না নামাজের জন্য উঠতেন তবে ওমরকে অনিচ্ছা সত্বেও উঠতে হত। এমন কষ্ট তিনি ওমরকে দিতে চাননি।

আল্লাহর দ্বীনের কাজে নিয়োজিত সংগঠনের নেতৃত্বের আল্লাহর সাথে এমন গভীর সম্পর্কই ছিল সেই কার্যকরী শক্তি যা বাতিলের সমস্ত বাধা অতিক্রম করে এ কাফেলাকে যুগে যুগে সম্মুখে এগিয়ে নিয়েছে। এ কাফেলার নেতৃত্বে এমন লোকই থাকেন যারা অধস্তনের মানসিক যোগ্যতা বুঝে তাদের সাথে ব্যাবহার করতেন, অধস্তনদের কষ্ট না হয়- সেদিকে ছিল সমান দৃষ্টি। টুকরো ঘটনাটি হাজার ঘটনার ছোট্ট নমুন। এমন নেতাদেরকেই অনুরণ করা যায় স্নিগ্ধ চোখে।

হাসানুল বান্না শহীদ হয়েছেন মাত্র ৪৩ বছরে। আর ওমর তিলমেসানী দীর্ঘদিন কারাবরন করেছেন।


ঘটনাটি ওমর তিলমেসানীর আত্মজীবনী থেকে নেয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×