প্রশ্নটি আমার মাথায় সব সময়ই ঘুরপাক খেয়েছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিশ্লেষণ হয়েছে, সামনে পেলেই পড়েছি। কাল রাতে হাতে আরেকটা পেপার কাটিংএর ফটোকপি পেলাম। পড়ে মনে হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ। বিশেষত ইসলামকে যারা প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য এটি পাথেয় হতে পারে।
জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ তুরস্কে দুই দুই বার সফর করে তার বিশ্লেষণটি তুলে ধরেছেন এভাবেঃ
. . . তুরস্কের সংবিধানে ইসলামের নামে কোন দল করার সুযোগ নেই। এমনকি কোন ব্যাক্তিও ইসলামী রাজনীতি করতে পারেনা। সেখানে দাড়ি টুপি পর্যন্ত নিষেধ। সরকারীভাবে মেয়েদের হিজাব বা স্কার্ফ পরিধান নিষিদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের স্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ গুলের স্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পীকারের স্ত্রী হিজাব পড়েন বলে কোন সরকারী অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি। কারণ সরকারী অনুষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ। তাহলে সেখানে বড় প্রশ্ন মৌলিক দিক দিয়ে একটি ইসলামী দল, যার নেতৃত্ব ইসলামের প্রতি কমিটেড, তারা এতদূর অগ্রসর হলো কি করে? বিগত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলো, ২২শে জুলাই ২০০৭ এর নির্বাচনে ৩৪২টি আসন লাভ করলো, জানব আব্দুল্লাহ গুল, যাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না করার ব্যাপারে সেক্যুলারপন্থীরা চ্যালেন্জ ছুড়ে দিয়েছিল, তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন- কি কারণে এবং কিভাবে?
দুই দুইবার তুরস্ক সফর করে বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গের সাথে খোলামেলা মতবিনিময় করে এর পেছনে যে কারণসমূহ আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি তা নিম্নরূপঃ
১. তাঁরা তাদের মূল পরিচয় যোগ্যতার সাথে আড়াল করতে পেরেছেন।
২. বাহ্যিকতার কারণে কৌশলগত কারণে গুরুত্ব দেননি, বরং অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যের প্রতি একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন।
৩. সাইনবোর্ড বা নেমপ্লেটের প্রতি অর্থহীন গুরুত্ব দেননি বা হঠকারিতা দেখাননি, যখনই কোন বিশেষ নামের দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে তখনই নতুন নামে দল করেছেন, সামনে এগিয়ে গেছেন কার্যক্রম নিয়ে। নামের বা সাইনবোর্ডের পিছনে পড়ে থেকে মূল কাজকে বাধাগ্রস্থ হতে দেননি।
৪. যখনই কোন নেতার রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তখনই ঐ নেতা নেপথ্যে চলে গিয়েছেন, নতুন নেতা সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে ঐ নেতার সম্মান-মর্যাদা ও প্রভাব কমেনি। অর্থাৎ ব্যক্তি বড় নয়, দল বড়। আবার দল বড় নয়, আদর্শ বড়।
৫. কৌশল পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু লক্ষ্যচ্যুত হননি। বারবার কঠিন পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে বলে নেতা কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে কোন সংশয়ও সৃষ্টি হয়নি। কৌশল পরিবর্তন যে লক্ষ্যচ্যুতি নয় তা সকলেই বুঝেন।
৬. মহিলাদের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আন্দোলনে তাদের ভূমিকাকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। যাতে করে সহজভাবে মহিলাগণ সংশয়মুক্ত হয়ে দলে যোগদান করতে পারেন এবং আত্মতৃপ্তি নিয়ে কাজ করতে পারেন সে জন্য পথ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। কৃত্রিম কাঠিন্য সৃষ্টি না করে তাদের পথকে সহজ করা হয়েছে।
৭. ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমিক ও শিশুদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। তাদের ক্যারিয়ার ও পেশাগত দক্ষতার প্রতি সবিশেষ নজর দেয়া হয়েছে, রাজনীতিকরণ করা হয়নি।
৮. সব কিছুতেই রাজনীতি আনা হয়নি। মানুষের পছন্দ-অপছন্দ ও রুচির প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
৯. নেতৃত্বের মধ্যে আছে বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতা, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা।
১০. অস্থিরাতা ও অর্থহীণ তড়িঘড়ি তারা সবসময় পরিহার করে চলেছেন।
এসব নিপূণ কৌশল ও সর্বপোরি আল্লাহর সাহায্যে তুরস্কে জাস্টিস এন্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি আজ অপ্রতিরোধ্য ও উদীয়মান শক্তি। তারা ইনশাআল্লাহ সামনে এগিয়ে যাবে। তাদের অবশিষ্ট কাজও সম্পন্ন হবে আশা করি এবং ইনশাআল্লাহ তা তুরস্কের বাইরের জগতকেও নাড়া দেবে।
বিশ্লেষণটি আসলেই চিন্তা করার মত।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



