somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী অধিকারের ধুম্রজাল, মর্যাদাবোধের বায়বীয় কনসেপ্ট।

১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি যেই মাত্র 'নারী অধিকার' কথাটি উচ্চারণ করলেন, অমনি আপনি স্বীকার করে নিলেন নারী পৃথক একটি সত্ত্বা, পুরুষ থেকে। আর আপনি যদি অপ্রকৃতিস্থ না হন, তবে আপনি এমনিতেই স্বীকার করবেন পুরুষ আর নারী এক জিনিস নয়। যেহেতু পৃথক, তাই তাদের বৈশিষ্টও পৃথক। এই কথার সূত্র ধরে যদি বলি, বৈশিষ্ট যেহেতু পৃথক, কাজও পৃথক, কাজের ক্ষেত্রও পৃথক, ভুল হবে?

লক্ষ্য করুন, একটি বহুমুখী উৎপাদনশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনেক বিভাগ থাকে। সেখানে যোগ্যতা অনুযায়ী শ্রমবিভাগ করে দেয়া থাকে। কেউ কারখানায়, কেউ এ্যাকাউন্সে, কেউ প্রকৌশলে আবার কেউ সেলসে। প্রতি বিভাগের মানুষগুলো যদি ঠিকমত কাজ করেন, তবেই পুরো প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক হয়। এখন সে প্রতিষ্ঠানের কেউ থাকবে অফিসের ভেতরে, কেউ থাকবে বাহিরে- এটাই তো স্বাভাবিক।

কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার থাকেন ফ্যাক্টরির ভিতরে। কাস্টমাররা তাকে চেনেনা। এ্যাকাউন্ট্যান্টরা থাকেন কোম্পানির ভিতরে। অন্যদিকে কোম্পানির সেলস-ম্যানরা কিন্তু রাস্তায় রাস্তায় ঘোরেন, শো-রুমে বসেন, দোকানদারী করেন। লক্ষ্য করুন, কাস্টমাররা কোম্পানীর লোক বলতে এই সেলস ম্যানদেরকেই চেনে। আপনিই বলুন, এ কারণে কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারের-হিসাবরক্ষকের মর্যাদা, দায়িত্ব, গুরুত্ব কি কোন অংশে কম? নাকি কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা হঠাৎ দাবী তুলবে, অনশন করবে- আমাদেরকে সেলসে পাঠাতে হবে, আমদের অফিসে আবদ্ধ রাখা যাবেনা? -- কখোনেই না। পাগল না হলে কোন ইঞ্জিনিয়ার এমন কথা বলবেনা।

পরিবার নামক অত্যন্ত জটিল এবং বহুমুখি সংস্থাটিতেও মায়েদের যদি ইঞ্জিনিয়ারের পদটা দেয়া হয়, তবে কিছু লোকের অমন তারস্বরে চিৎকারের পেছনে কি যুক্তি থাকতে পারে? অফিসের ডেকরেশনকৃত এসি রুম তাদের ভাল লাগেনা! তাদের রাস্তার ধুলোবালিমাখা সেলস ম্যান না বানালে মর্যাদার হানী হয়ে গেল?

কোম্পানির একটি বিভাগ আছে আর এন্ড ডি ( রিসার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট)। তাদের কাজ হলো সারাদিন গবেষণা করা। তাদের দৈনিক কাজের কোন জবাবদিহিতা নাই। অনেকদিন পর তারা একটা জিনিস আবিষ্কার করেন। তারা যেন ঠাণ্ডা মাথায় গবেষণা করতে পারেন, এজন্য তাদের পৃথক ল্যাব, বিশেষ গাড়ি, বিশেষ বেতন, আবাসন ইত্যাদি দেয়া হয়। তাই বলে কি তাদের দূর্বল ভাবা হলো? কেন তাদের নিয়মিত অফিসে আসা থেকে নিস্তার দেয়া হল, কেন তাদের কোন টার্গেট দেয়া নাই, কেন তাদেরকে বাসে ঝুলে ঝুলে ভীড়ের মধ্যে চ্যাপ্টা হয়ে অফিসে আসার দায়িত্ব দেয়া হলো না, এই বলে তারা আন্দোলন করবে? কখোনোই না।

নারীদেরকেও যদি তাদের কাজের ধরণ দেখে অর্থনৈতিক দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেয়া হয়, তবে কেন কিছু লোক তারস্বরে চিৎকার করে ওঠে? বলতে শুরু করে তাদের কে দূর্বল ভাবা হচ্ছে? সমাজ সংসার কি এতই সরল কোন কারখানা? এখানে কি আর এন্ড ডি সেকশনের প্রয়োজন নাই? এখানে কি ইন্জিনিয়ারের প্রয়োজন নাই, হিসাব রক্ষকের প্রয়োজন নেই?

অবশ্যই আছে। আর আমার আপনার চেয়ে কোম্পানির মূল মালিক, কোম্পানির সিইও যিনি তার মাথায় কোম্পানির ভাল-মন্দ নিয়ে আমাদের মত টুটা ফাটা কর্মীদের চেয়ে অনেক পরিকল্পিত চিন্তা আছে। এ বিশ্বজগতের সিইও হচ্ছেন মহান রব্বুর আলামীন। কোম্পানি কিভাবে যথাযথভাবে চালাতে হবে, মালিক ও পরিচালক হিসেবে তিনি আমাদের চেয়ে তা অনেক ভালভাবে জ্ঞাত। তিনি যদি আমাদের মত এতখানি বুঝে ফেলতেন, তবে আর নারী-পুরুষ আলাদা কিছূ সৃষ্টি করতেননা। সব ক্লিব লিংগ পাঠাতেন।

কই, তিনি দৈহিক অবকাঠামো ও মনস্তত্বের যে ভিন্নতা নারী পুরুষের মধ্যে দিয়েছেন, তা-কে বৈষম্য বলে কেউ তো চিৎকার করেনা! সাহস থাকেতো সেখানে সমতা আনার চেষ্ট করুকনা। দৈহিক কাঠামোয় তিনি নারীকে গর্ভধারণের উপযোগী করে পাঠিয়েছেন। সন্তানকে দুগ্ধপানের উপযোগী শারীরিক অবকাঠামো দিয়েছেন। পুরুষকে সে সুযোগ বা দায়িত্ব দেননি। কারো ক্ষমতা আছে গর্ভধারণের এবং দুগ্ধ পানের কাজ নারীপুরুষ ভাগাভাগি করে নেয়ার কথা বলেন? সেই মহান প্রভুই তো নারী পুরুষের কাজকে আলাদা করে, তাদের দেহ ও মনস্তত্বের উপযোগী করে নির্ধারণ করেছেন। আমার আপনার চেয়ে তিনিই তো ভাল জানেন তার সৃষ্টি কিভাবে চললে এ পুরো জটিল সিস্টেমটি যথা নিয়মে চলবে। যে নিয়মটিতে তিনি আমাদেরকে হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখেননি (শারীরিক) সেখানে আমরা নিসংকোচে তাকে মেনে চলছি, আর যেখানেই তিনি আমাদের ইচ্ছা শক্তি খাটানোর সুযোগ দিয়েছেন সেখানেই কেন আমরা দ্ব্যার্থহীনভাবে তাকে উপেক্ষা করার দুসাহস দেখাচ্ছি?

বলছিলাম নারী অধিকার নিয়ে, মর্যাদা নিয়ে। সারকথা হচ্ছে- এ জগত সংসারে নারী-পুরুষ যেমন পৃথক বৈশিষ্ট নিয়ে সৃষ্টি, তাদের কাজের ক্ষেত্রও পৃথক। ধরণও পৃথক। অর্থনৈতিক দায়িত্ব পুরুষকে দেয়া হয়েছে। নারীকে গৃহ ব্যাবস্থাপনা ও সন্তানকে যোগ্য করে তুলবার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়ীত্বের নিরিখেই তো মর্যাদা। পরিবারের মূল নেতৃত্ব যেহেতু পুরুষের ওপর ন্যাস্ত, আইনগত মর্যাদাও তারই। আর একটি সংগঠনের প্রধান একজনই থাকেন।

তাহলে নারীরা কি অর্থনৈতিক কাজ করতে পারবেনা? অবশ্যই পারবে, তার সুযোগ, যোগ্যতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু তার মূল দায়িত্ব পর্দার অন্তরালে।

তাহলে পুরুষরা কি ঘরে কোন দায়িত্ব পালন করবে না? অবশ্যই করবে। তার সুযোগ ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী। তবে অন্যতম মূল দায়িত্ব পরিবারের নেতৃত্ব প্রদান, অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান।

প্রকৌশল, হিসাব রক্ষন, ব্যাবস্থাপনা, সেলস - সব বিভাগের যথাযথ কাজই প্রতিষ্ঠানের সফলতার মূল মন্ত্র।

হযরত আদম ও হাওয়া আ. কে পৃথিবীতে পাঠানোর পূর্বে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন- "যখনই আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট কোন হিদায়াত পৌছবে, তখন যারা আমার পথনির্দেশনা মেনে চলবে, তাদের জন্য ভয় চিন্তার কোন কারণ থাকবেনা।" - বাকারা ৩৮।

সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রেও একই কথা।

আল্লাহ আমাদেরকে তার বিধান মেনে চলার তাওফিক দিন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৩৪
২৭টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×