রাজাকারের দৈর্ঘ্য প্রস্থ বেধ- সব বৃদ্ধি পেয়েছে। একাত্তরে গুটিকয়েক রাজাকার ছিল। এরপর সময় যত গত হয়েছে, রাজাকারের পরিমান তত বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পর্শ জগত ছাড়িয়ে এবার ভার্চুয়াল জগতেও রাজাকার বৃদ্ধি হতে চলছে। সর্বশেষ, রাজাকারের তালিকায় এবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন মাহবুব মোর্শেদ, বিবর্তনবাদী, কোলাহল। এমন কি ভারতীয় ময়ুরবাহনও রাজাকার। এ তথ্য আমার না। ব্লগে যারা নিয়মিত রাজাকার সার্টিফিকেট বিতরণ করেন, সেই সব অথরিটির মাধ্যমে রাজাকারদের নতুন তালিকা পেলাম। আমার ঠিক আগের পোস্টটি ঘাটলে দেখবেন আলোচিত ব্লাগার প্রলয় হাসান ওরফে কতবত. . . রাজাকার চিণ্হিত করেছেন। নেমেসিসেরও একই ভাষ্য।
ঘটনা বুঝলাম। আমি যেহেতু একটি ইসলামী রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের সাথে আছি তাই আমাকে রাজাকার সার্টিফিকেট নিতেই হবে। আমি না চাইলেও আমি নিতে বাধ্য। আমার গলায় লটকে দেয়া হবে। এবার আমার লিংকে যেসব ব্লগার আছেন তাদের নামও রাজাকার তালিকায় উঠলো। যেহেতু আমি তাদেরকে আমার লিংকে স্থান দিয়েছি, তাই তারা রাজাকার না হয়ে যায় কোথায়। খুবই ভাল কথা। কদিন পর, আমি যে হাসপাতালে চিকিৎসা নেই, যে দোকান থেকে বাজার সদায় করি, যে গার্মেন্টেসের পোশাক পরি, যে ব্রান্ডের কোল্ড ড্রিংকস খাই, সবাই রাজাকারের তালিকায় সম্ভবত উঠবে। আন্দাজে বলছিনা। ইতোমধ্যে ইবনে সিনা হাসপাতাল রাজাকারের তালিকায় উঠে গেছে- সেদিন এক ব্লাগারকে এ বিষয়ে লেকচার দিতে দেখলাম। যুক্তি বলে এর পর আমি যে মাটিতে বসবাস করি, সেটি রাজাকার হওয়ার কথা, যে অক্সিজেন গ্রহণ করি, যে সূর্যের আলো নিয়ে বেচে আছি- সবারই তো রাজাকার হবার কথা। শেষ মেশ পুরো বাংলাদেশটাই রাজাকার হবার কথা।
তাহলে যিনি সার্টিফিকেট বিতরণ করলেন, তিনি কি করবেন? সম্মান থাকতে এ রাজাকারী ভূমি থেকে বিদায় নেয়াটাই তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা কি? একসময় নিজে রাজাকার হবার পূর্বে তার উচিত আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



