একান্তই ব্যক্তিগত। সিরিয়াস ব্লগারগণ না পড়লেও চলবে।
-টিউশনি করবা?
টিউশনি?
একটু ঘুম ঘুম ভাব আসছিল। রুমের ছিটকিনি দিয়ে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ দরাজায় নক। খুলতেই দেখি রাকিব। প্রথম প্রশ্নই ছিল টিউশনি করবো কিনা। হতচকিত হয়ে গেলাম কিছুটা।
কিসের টিউশনি?
- আরে এত জিজ্ঞেস করার কি আছে, করবা কিনা তাই বল। মিটিমিটি হাসছে রাকিব।
হ্যা করবো।
- আরবী পড়াতে হবে।
আরবী? ? ? ! ! ! আমি কি আলেম না মাদ্রাসার ছাত্র?
-সে তো আমার বিষয়। তুমি করালে সেটা ম্যানেজ করবো আমি।
রাকিব মাঝে মাঝেই আমার রুমে আসতো, সিঙ্গেল রুম। ইনকোর্সের আগে একসাথে ঘরোয়া পরিবেশে পড়তাম। ছোটবেলা ওর তেমন আরবী পড়া শেখার সুযোগ হয়নি। আমাকে মাঝে মাঝে পড়তে দেখে সে এসে আমার কাছ থেকে শুধরে নিত। ক্লাসমেট। কুরআন পড়বে জেনে আমিও সময় দিতে চিন্তা করতাম না। সেই সূত্রেই সে সম্ভবত আমার জন্য টিউশনি নিয়ে হাজির। হলে ওঠার পর থেকেই দেখছি ক্লাসমেটরা বিভিন্ন ধরণের টিউশনি করছে। কে তিন হাজার কে পাঁচ হাজার এইসব গল্প শুনতাম প্রায়শ। শুনতাম হলে না উঠলে আর টিউশনি না করলে ছাত্রজীবনের পূর্ণতা আসেনা। মাঝে মাঝেই মনে হত, টিউশনি একটা করালে মন্দ হয়না। একটি ছেলেকে নিজের মত করে শেখাব, আমার হাত ধরে ছেলেটি জ্ঞানের রাজত্বে অগ্রসর হবে, আমাকে স্যার বলবে (!), অন্যরকম এক অনুভুতি। সুতরাং অফার যখন একটা আসলোই টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েই দেখি। হোক না আরবী- টিউশনির উদ্দেশ্য তো পূরণ হবে। ওরা না হয় ইংলিশ মিডিয়াম পড়ায়- আমি একটু ব্যাতিক্রম, অসুবিধা কোথায়।
হ্যা, পড়াব।
-ও হলো আমার ফুফাতো ভাই। পাশে দাড়ানো একজনকে দেখিয়ে দিল। হ্যান্ডশেক করলাম। এতক্ষণ ওভাবে খেয়াল করিনি।
-পড়াতে হবে আমার ফুফাতো বোনকে।
আমি হতচকিত হলাম। ও খেয়াল করলো। দুষ্টমির হাসি হাসলো। বললো
- আরে ফুফাতো বোন বিবাহিত, এক মেয়ে আছে কেজিতে পড়ে। থাকে শ্বশুর বাড়ি। কলাবাগানে বাসা। দুই তিন মাসের মধ্যেই আমেরিকায় চলে যাবেন। যাবার আগে কোরআন পড়াটা শুদ্ধ করে শিখে নিতে চাচ্ছেন। আমাকে বললেন, আমি সাথে সাথেই তোমার কথা বললাম। এটি কোন প্রচলিত টিউশনি না, বিশেষ একটি উপকার ধরে নিতে পার। মসজিদের হুজুরদের কাছে আপাতত পড়তে চাচ্ছেন না।
আমি একটু নিরব হয়ে গেলাম। মেয়ে টিউশনি করাবনা এটি আমার অনেক আগের সিদ্ধান্ত। সাংগঠনিকভাবেই বলা আছে কোন শপথের কর্মীর পক্ষে এডাল্ট মেয়ে টিউশনি করানোর সুযোগ নেই। কর্মী থাকাকালীন করালেও শপথ নিতে হলে মেয়ে টিউশনি ছাড়তে হবে। আর ইসলামের শ্বাশ্বত বিধান তো এটাই। সুতরাং . . .। মুহুর্তেই বিপরীত যুক্তিগুলো মাথায় আসতে লাগলো। সে তো মেয়ে নয়, মহিলা। এক সন্তানের মাতা। সুতরাং আমার অনেক বড়। একাতো পড়াবো না, পিচ্চিটা নিশ্চয়ই সাথে থাকবে। তাছাড়া শ্বশুর বাড়িতে থাকে- লোকজনের আনাগোনা থাকবে নিশ্চয়ই। অসুবিধা কোথায়। একটা উপকার করা হলো। - আসল কথা হচ্ছে, টিউশনির থ্রিলটা ছাড়তে মন চাচ্ছিলনা।
বললাম ঠিক আছে, করাব।
- তাহলে আজকে বিকেলেই চল।
ও-কে।
----------------------------------------
বিকেলে চললাম কলাবাগানের। দিকে। নিলক্ষেত পর্যন্ত হেঁটেই গেলাম। বাসে কলাবাগান নেমে আবার হাটা। একসময় পৌছলাম বাসায়। ভাড়া থাকেন, তবে ফার্নিচার দেখলেই বোঝা যায় বেশ ভালো সচ্ছল। ফুফাতো বোন এলেন। সাথে পিচ্চিটা। কথা হলো। তিনি আবার খুলে বললেন কেন তাড়াহুড়ো করে শিখতে চাচ্ছেন। আমেরিকায় সুযোগ পাবেননা ধরে নিয়েই যাওয়ার আগে শিখে নিতে চাচ্ছেন। ঠিক হলো আগামীকাল থেকেই পড়ানো শুরু করবো।
নাস্তা পানি সেরে ফিরতে ফিরতে ভাবছি- জীবনের প্রথম টিউশনি। তাও আবার মহিলা। যাই হোক আব্বা-মাকে জানানো যাবেনা শুরুতেই। টিউশনি করছি শুনলে বলবেন সময়টা পড়ালেখার পেছনে ব্যয় করতে পারনা। আল্লাহ যতটুকু স্বচ্ছলতা দিয়েছেন সেটা কাজে লাগাতে অসুবিধা কোথায়?
বিবিধ ভাবনায় ডুবে হলে ফিরলাম।
চলবে . . .।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



