রাত একটায় মোবাইল রিং বেজে উঠলো। ভাইয়া শিগগিরই নেটটা একটু খোলেন রেজাল্ট দিয়েছে। আড়মোড় ভেঙ্গে কম্পিউটার ওপেন করি। নাহ কোন রেজাল্ট দেয়নি। সকালে ক্যাম্পাসে পা দিতেই আরেকজনের ফোন। ভাই রেজাল্ট কি দিয়েছে? আশ্বস্ত করি, না দেয়নি, আমি এখন রেজাল্ট যে বোর্ডে টানায় ওর পাশেই দাঁড়ানো। দুপুরের মধ্যে কয়েকবার ফোন আসে। এই লেখা লিখতে গিয়ে কয়েকবার ফোন রিসিভ করতে হলো।
কারো কারো রাতে ঘুম ঠিকমত হয়নি। ফুফু খবর দিলেন, ফুফাতো বোন চিন্তায় অস্থির। ডাবল এ প্লাস কিন্তু জগন্নাথে হয়নি, শেষ ভরসা ঢাবি। প্রতি বৎসর এমনই হয়। বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার দিনটি আর রেজাল্টের দিন। মনে পড়ে, ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দেখি কোন কোন মেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে মায়ের কোলে। আমি হল থেকে বের হয়ে দেখি আমার সারা গায়ে জ্বর উঠে গেছে। রেজাল্টের দিন আরেক দফা উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা। তখন স্রষ্টাকে বড় বেশি আপন মনে হয়!
এ জগতের প্রতিটি ক্ষেত্রেই একই পরিস্থিতি ঘুরে ফিরে আসে। সন্তান ভুমিষ্ঠ হলে মা সব কষ্ট উৎকণ্ঠা ভুলে যান। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সারা বছরের এ অসহ্য কষ্ট ভুলে যায় শিক্ষার্থী। সম্ভবত, ভর্তি পরীক্ষার মত এতটা পড়া কেউ কোন সার্টিফিকেট পরীক্ষায়ও পড়েনা। ঠিক একইভাবে কিয়ামতের কঠিন দিনে যে ব্যক্তি ডান হাতে আমলনামা পেল, দুনিয়ার সকল গ্লানি, কষ্ট, বিপদ, এবং দুঃখ মুহুর্তে ভুলে যাবে। দুনিয়ার এসব পরীক্ষার সাথে এর পার্থক্য হলো- পরকালে যে সাফল্য লাভ করলো, তার সে সফলতা চিরন্তন- যার কোন শেষ নেই। সুতরাং বুদ্ধিমান তারাই, যারা চিরন্তন সাফল্যের জন্য মেধা মনন ও যোগ্যতার সবটুকু ব্যবহার করে।
পৃথিবীর সফলতাগুলো যেন আখেরাতের সফলতার সাথে সাংঘর্ষিক না হয়ে পরিপুরক হয়। আজকের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের এ মুহুর্ত সে কথা স্মরণ করিয়ে দেবার মত একটি নিদর্শন হতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



