somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাংলার বীরশ্রেষ্ঠঃ হামিদুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি... বৃহস্পতিবার! ২৮ অক্টোবর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভোর রাতে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ধলই সীমান্তে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য ত্যাগ তিতিক্ষার স্বীকৃতি হিসাবে তিনি আজ বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত।

কমলগঞ্জের ধলই সীমান্তে এ বীরের স্মরণে স্মৃতিসৌধ থাকলেও তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে। ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে সকালে পুষ্পমাল্য অর্পন করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তাঁর ঐতিহাসিক পটভূমিকা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা দিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সিপাহী হামিদুর রহমান। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মাতৃভূমির অকৃত্রিম টানে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। নিজের জীবনকে বাজি রেখে স্বাধীনতার লাল সূর্যø আনয়নে যুদ্ধের ময়দানে তিনি শহীদ হয়ে চির নিদ্রায় শায়িত। যুদ্ধ পরবর্তীকালে যে ৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয় সিপাহী হামিদুর রহমান তাদের একজন। কিন্তু তার শেষ রক্ত ঝরা কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত চৌকির কথা যথাযথভাবে পাঠ্যপুস্তকে স্থান না পাওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে। অপরদিকে ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বরের তার মরদেহ ভারতের ত্রিপুরা থেকে এনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সময় তার জীবন বৃত্তান্তে স্থান হয়নি কমলগঞ্জের কথা।



যে ভাবে শহীদ হন সিপাহী হামিদুর রহমান
ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের শেষদিকে কমলগঞ্জের ধলাই সীমান্ত এলাকায় প্রানপন লড়াই করে দেশের জন্য শহীদ হন সিপাহী হামিদুর রহমান। চারদিকে চা বাগান, মাঝখানে ধলই সীমান্ত চৌকি। ধলই সীমান্ত চৌকি থেকে দণিপূর্ব দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর শহরে ছিল মুক্তিবাহিনীর সাবসেক্টর ক্যাম্প। সব প্রস্তুতি নিয়ে ২৮ অক্টোবর ভোর রাতে লেফটেন্যান্ট কাইয়ুমের নেতৃত্বে একটি দল পাক সেনাদের উপর চতুর্দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমন চালায়। ব্যাপক গোলাবর্ষনে পাক সেনাদের ক্যাম্পে আগুন ধরে যায়। প্রচন্ড গুলিবর্ষন ও পাকবাহিনীর পঁুতে রাখা মাইন বিষ্ফোরণে বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হন। সিপাহী হামিদুর রহমান সাহসিকতার সাথে সীমান্ত চৌকি দখলের উদ্দেশ্যে মৃতুকে তুচ্ছ ভেবে মেশিনগান নিয়ে বিপ্তি গোলাগুলির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে শত্রু পরে ৫০ গজের মধ্যে ঢুকে পড়েন। গর্জে উঠে তার হাতের মেশিনগান। শত্রুদলের অধিনায়কসহ বেশ কয়েকজন সৈন্য এতে প্রাণ হারায়। এমন সময় শত্রুসৈন্যের একটি বুলেট হামিদুর রহমানের কপালে বিদ্ধ হয়। কিছুনের মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তের তৎকালীন ইপিআর (বর্তমান বিডিআর ফাঁড়ি) এর সামনে মৃতূর কূলে ঢলে পড়েন তিনি।

কমলগঞ্জে স্মৃতিফলক
স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ দিন পর ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনীর উদ্যোগে সর্বপ্রথম কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই সীমান্ত চৌকির পাশে নির্মাণ করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিফলক। ২০০৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১০ শতাংশ জায়গার উপর সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত বিভাগ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্ম্মাণ করে। সাথে সাথে কমলগঞ্জ পৌরসভার ভানুগাছ- মাধবপুর সড়কটিকে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়।


পাঠ্য পুস্তকে ভুল সংশোধনের দাবী
অথচ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অনুমোদিত চতুর্থ শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ এর ৭১নং পৃষ্ঠায় রচিত “বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান” পাঠের প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে “সিলেটের সীমান্ত এলাকা”। শ্রীমঙ্গল থেকে ১০ মাইল দক্ষিনে ধলই সীমান্ত ঘাটি”। যাহা তথ্যগতভাবে ভূল। বাস্তবে এই ধলই সীমান্ত কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত।
সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ধলই সীমান্ত কমলগঞ্জ উপজেলাধীন। কিন্তু এই ভুল সংশোধন করার ব্যাপারে সরকারীভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের সাথে সামিল হয়ে কমলগঞ্জের অনেক মুক্তিযোদ্ধা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের অনেকেই জীবিত আছেন। তারা বলেন, এখন নতুন পাঠ্য পুস্তক মুদ্রনের কাজ চলছে যদি এখনই এই ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে ২০১১ সালের পাঠ্যপুস্তকে সঠিক তথ্য জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। উপজেলা প্রাথমিক শিা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এর সচিব বরাবর চতুর্থ শ্রেণীর বইয়ে হামিদুর রহমান পাঠে শ্রীমঙ্গলের স্থলে কমলগঞ্জ উল্লেখ করার জন্য লিখিতভাবে চিঠি দেয়ার পরও এখনো কোনো কার্যকর পদপে নেওয়া হয়নি। জাতির শ্রেষ্ট সন্তান হামিদুর রহমানের শহীদ হওয়ার সঠিক স্থান নিয়ে তথ্য বিকৃতির অবসান সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, তথ্যভ্রান্তি দূরীকরনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী বছরের শিক্ষা পাঠ্যসূচীতে এর ভ্রান্তি দুর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

৩৯ তম শাহাদাত বার্ষিকী
দিনটিকে যথাযথ পালনের জন্য কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে, বিডিআর, কমলগঞ্জ প্রেসকাবসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শহীদের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিলসহ নানা ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় প্যারেড ক্ষয়ারে শেষ শ্রদ্ধা জানানো পরে শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের মরদেহ ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুরস্থ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পূণরায় দাফন করা হয়।


জগৎজ্যোতি! যিনি ছিলেন বাংলার প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ/............ভাস্কর চৌধুরী
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/29262607 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/29262607 2010-10-27 21:44:05
আমার ভাবনা এবং ভালবাসা............../ভাস্কর চৌধুরী মাঝে মাঝে যখন শত ব্যস্ততার মাঝে ভাবনা নামক শব্দের সাথে কিছু আলাপ হয় তখন একটি বিষয়'ই আমি সবসময় ভাবি। বিষয়টি যদিও আপেকিক্ষ! তারপরও কেন জানি, কোন কারণে বার বার আমাকে ভাবায়। আমার ভাবনার শুরু এবং শেষটুকু যেন ঐ ভালবাসাকে নিয়ে। ভালবাসা কি কখনও আমার মাঝে ছিল কিংবা আমি কি ভালবাসার মাঝে কখনও ছিলাম। হয়তো ! আবার হয়তো না।

তারপরও একটা বিষয় সত্য যে ভালবাসাকে কেন জানি খুব আপন মনে হয়। মনে হয় পৃথিবীর সবটুকু ঐ ভালবাসার জন্য। যে ভালবাসার জন্য আমি, আমরা খুব কাছাকাছি। মাঝে মাঝে ভালবাসার রঙ, তুলি দিয়ে ভালবাসার উদ্যানে ভালবাসার ফুল ফুটাই। যদিও শত ব্যস্ততার বেড়াজালে ভালবাসাকে মাঝে মাঝে ভূলে গিয়ে মনে হয় ভালবাসা বোধহয় আমার চারপাশে নেই!!! বড্ড একা। নিঃসঙ্গ। নির্বাক আবার কখনো স্ববাক হয়ে যাই এই ভালবাসার জন্যই।

মাঝে মাঝে কেন জানি এত আপন মনে হয় আমার চারপাশের মানুষগুলিকে। মনে হয় কতকাল কতবছর ধরে আমি চিনি এই মানুষগুলোকে। যেন হাজার বছরের পরিচিত এই মানুষগুলোর মূখ। আবার যখন কারও মূখ কখনো দেখা হয়নি, শুধু কথা ও কন্ঠের সংমিশ্রণে কারও সাথে পরিচিত হই তখনও মনে হয় কত আপন, কতকাল ধরে যে তাকে চিনি। সেই গানটি........“আমি চিনি গো চিনি তোমারে.....................ওগো বিদিশীনি।”

চেনা অচেনা মুখগুলোর প্রতি আমার ভালবাসার চিরকুটমালা যে কত বড় তা হয়তো বলে বুঝানো যাবে না। হয়তো আমার কন্ঠে এমন কোন কথামালা নেই যে তা দিয়ে তাদের সম্বোধন করি। মাঝে মাঝে যখন ব্যস্ততা, ব্যস্ততা আর ব্যস্ততার মাঝে হাবুডুবু খাই তখন লাইফটা বড় পাংশে মনে হয়। মনে হয় জীবনের শুরু আর শেষ হয়তো এই অদমের বোঝা হবে না আর কখনই। তখন হয়তো বুঝতেও পারি না।
ঠিক তার বিপরীত।

যখন লাইফের এ যাত্রায় কেউ, কোন মানব-মানবী, পরিচিত কিংবা অপরিচিত মূখ চোখের সম্মুখে ভেসে উঠে, যখন তাকে নিয়ে ভাবতে থাকি, যখন আমার সবটুকু তাকে নিয়ে, তখন মনে হয় প্রভু তুমি আমাকে আরও সাড়ে সাত'শ বছর পূর্নঃজন্ম দিও। যাতে আমি বারবার ফিরে আসতে পারি সেই মানুষগুলোর কাছে। শুনতে পারি তাদের সেই কথামালা। জানতে পারি তাদের সুখ-দুঃখ। আর যেন বারবার জন্মাতে পারি আমার এই বাংলায়। বাংলাদেশে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/29076577 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/29076577 2010-01-11 21:36:56
আমাকে আমি চিনিনা........./ ভাস্কর চৌধুরী কিছু শব্দ আর বাক্যের গুঞ্জন নিয়ে
ফেরা হলো এ দ্বারে !

কিছু কথামালার ফুঁলঝুড়ি
যেন মত ও মন্তব্যের ঘরে বারবার ঘুরোঘুরি
স্পর্শের সেতুঁবন্ধন দিয়ে বারবার ঘুরে যাই
এঘর-ওঘর!!!

কিছু আবেগ জমানো কথা আর অমৃত্যের স্বাদ
কালি ও কলমের সাথে যুদ্ধ
যেন শেষ রাত্রী ও সূর্য ডোবার সাথে সাথে!

আর ব্যস্ততার কথোপকথন তো আছেই!
অযুহাত! শত কষ্টের বেড়াজালে
আশাহত কিছু অমৃত্ বাণী শুনি
সময়ে অসময়ে !!!

কিছু প্রাণের স্পন্দন শুনি, মুঠোফোন আর
তারবাহী কোন যন্ত্রে
কখনোবা কোন বন্ধু কিংবা প্রিয় মানুষ
স্বদেশ কিংবা বিদেশে!!

হাজার ব্যস্ততার উপখ্যান, আর যান্ত্রীক জীবনের যান্ত্রীকতা
যেন তালমাতাল কোন নৃত্য দিয়ে যাই দিবারাত্রী
কিংবা বেসুরে গলায় মমতার আচ্ছাদনে
বেসুরে কোন রিংটোন!!

শত শব্দের বেড়াজালে আটকে থাকা জীবনের
প্রতিটি বিন্দু যেন বারবার টান দেয়
সময়ের তারে!
হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতি ভাললাগা আর মন্দলাগা
হিসেবে নিকেষ কষে যাওয়া খানিকটা সময়
খুঁজে বেড়াই হয়তো নিজের অজান্তে...!!

শুধু তাই নয়!
আমার এ কাব্যের পেছনে কিংবা এ কথামালার পৃষ্টে
কারও অনুভূতি যেন সন্দিহান
আমার অস্তিত্ব! আমার সত্ত্বা !
হয়তোবা আমাকে আমিই চিনিনা

কখনো হিমু কিংবা মিসির আলীর মতো ভাবি
কিংবা স্বস্তা ধরের কোন পংক্তিমালার কাব্য লেখক!
না !
সেরকমটা বোধহয় ভাবাই হয় না।

কখনো কাগজের পাতায়
কিংবা ক্যামেরার পেছনের সেই মানুষটি
নাম শিরোনাম সংবাদ খুঁজে বেড়ানো আর
দৃশ্যের অন্তরালে ছাইমাখা কিছু শব্দ!!!

আবার ব্যস্ততা, নিথর কিছুটা সময়
নিস্তব্দ কিছুটা দিন,
তারপরও যেন ছুটে চলা নিরন্তর কোন ঝানে
আমার না বলা কথামালার যান্ত্রীকতায়!

প্রিয় ব্লগার রুবেল শাহ আমাকে কতটা মিস করেছিল তা অনেকেই জানেনা। সেই দূরপ্রবাসে থেকেও মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ। শুধু রুবেল ভাই নয় অনেকেই ....!!!

কেন যে আমার এই স্বস্তা ধরের লেখাগুলো কারও ভাল লাগে। হয়তো এই ভাললাগার ভীড়ে মাঝে মাঝে আমার আত্মার কথাগুলো ফুঁটে উঠে সময় অসময়ে!!! তাইতো....!!!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/29003711 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/29003711 2009-09-02 22:09:36
আমার না বলা কথাগুলো........../ভাস্কর চৌধুরী ব্লগ লেখার দীর্ঘ কতটা সময় পার হয়ে গেল টেরই পেলাম না। লেখার অজান্তে অনেক লেখা হয়ে গেল! কবিতা লিখি না তারপরও ক'টি শব্দের যোগ-বিয়োগ দেই নিজের অজান্তে। আমার সুখ-দুঃখের ইঞ্জিনের মতই গদ্য-পদ্যের ইঞ্জিন নিয়ে মাঝে মাঝে হাজির হই এ দ্বারে। মাঝে মাঝে ভাবি কোন এক বিশাদ সিন্ধু লিখছি। তারপর! ছাইমাখা কিছু রং-তুলি দিয়ে শব্দের সাথে যুদ্ধ! নিঃশব্দে কেউ আসে এ দ্বারে। আর, বলে যায়-রং তুলির ভালো-মন্দের কথোপকথন!

নিঃশব্দে, সময়ে-অসময়ে যেন ছুটে চলা এ ঘর থেকে ওঘর! ভালোলাগার সবটুকু দিয়ে যেন কোন এক মায়ার সংমিশ্রণে কুশল বিনিময় করে যাই অজানার অজান্তেই। লেখার ভেতর বাহির প্রতিটি শব্দের বালুকণায় যেন আমার হারিয়ে যাওয়া। আর নিমন্ত্রণ থাকে আমার এ দ্বারে! হয়তো কারও প্রতিক্ষায় প্রহর গুনি! যেন কতগুলো শব্দ এসে আমাকেও সেই বার্তা শোনায়, আমি শুনি আর গুনি সেই দিনটি.......!!!! এভাবেই আমার ব্লগবাস অধ্যায়গুলো পার হত। রাতের নিস্তব্দতায় আমি শুনতাম কারও কবিতা পড়া, কারও বাকযুদ্ধ আর কারও গল্পের শুরু আর শেষ অধ্যায়ের রচনাবলী।

সময়ের তারতম্যে ঘড়ির কাটা যেন অনেকটা দূরে। যেন ব্যবধান সময় আর আমি, আর আমার অপরাধবোদ! কিন্তু কেন এই.....!! সময়ের সাথে তীব্র আলাপন হয়, খোঁজে পাই না উত্তর! পাওয়া না পাওয়ার হিসেব-নিকেষ কষতে গেলে বড় জটলা লাগে। আমার না বলা কথাগুলো বড্ড বেপরোয়া আজ।
কিছু জনাতে চায়, কিছু জানতে চায়। আমার হাটখোলা এ পথে চেনা-অচেনা সমস্ত দুয়ারে যেন স্পর্শের ছোঁয়া কতকাল ধরে তা আমি জানিনা। কিন্তু কোন এক দোয়ার, কারো বসত ভিটায় আমার না যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা কেন ! আমি তার ঘরে-বাহিরে ঘুরে আসি, কিন্তু কোন রং তুলি যেন আর কথা বলে না। তার কথা, ছবি যেন শুধু দৃশ্যমান, আমি বলতে পারি না মনখুলে কোন কথা। জানাতে পারি না আমার না বলা কথাগুলো।

যেন কারণ দর্শানো নোটিশের মত নিষেধাজ্ঞা, কিন্তু কোন কারণ দর্শন নেই ! কি আমার অপরাধ ? কেন, কোন কারণে আমি তার শব্দের সাথে কথা বলতে পারি না। কোন ভূলে আমার এ দায়গ্রস্তততা। আমি জানতে চাই তার কাছে। কেন আমি নিঃশব্দে শিশির ফোঁটাবো তার দ্বারে। কেন আমার কথাগুলো তার শব্দের সাথে যোগ হবে না। আমার ভাললাগা-মন্দলাগার আকুতি জানাতে পারবো না! কেন ! কেন ?

প্রিয় ব্লগার আমার না বলা কথাগুলো হয়তো কেউ বুঝতে পেরেছেন । হয়তো কারো হৃদয়ে আমার এই শব্দের কথাগুলো পীড়া দেবে। প্রিয়- অপ্রিয় অনেকের ব্লগে আমার যাওয়া আসা যেন সময়ে অসময়ে। কিন্তু কোন একজন তার ব্লগে আমাকে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারী করলো। সেই দ্বারে ব্লক করা হলো আমাকে। কেন, কোন কারণে সেই প্রশ্নের উত্তর প্রথমে না পেলেও সেই দ্বার থেকে গত দু’দিন আগে হঠাৎ করে আসলো সেই উত্তর। বলা হলো তার দ্বারে আমার কথাগুলো প্রকাশ হলে অনেকেই নাকি রাগ করতো। আরও বলা হলো আমার মন্তব্য প্রকাশ হলে সেই দ্বারে আমাকে অপমান করা হবে। কিন্তু কেন ? সেই জন্যেই সেই মহান ব্লগার আমাকে তার ব্লগে ব্লক করেছেন। অনেকটা সময়কাল এই অপরাধবোদ চাপিয়ে রেখে আজ আমার না বলা কথাগুলো না বলে আর পারলাম না।

সবার উদ্দেশ্যে শুধু এটুকুই বলবো সুপ্রিয় ব্লগার আমি কি আপনাদের ব্লগে বিরক্তের পাত্র ? আমার মন্তব্য কি আপনাদের.......? যদি কারও ব্লগে বিরক্তি পাত্র হই তাহলে কসম সেই দ্বারে আর আমি যাবনা। না বলা কথাগুলোর জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28963847 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28963847 2009-06-13 00:44:27
আমার মা আমার পৃথিবী...................../ভাস্কর চৌধুরী নিস্তব্দ রাতের আধাঁরে ঘরের আশপাশে ঝিঝি পোঁকার শব্দ, আর কখনো পোষ্য প্রাণীর হাউমাউ ডেকে উঠা। নিস্তব্দ রাতে পাহাড়াদের নিন্দ্রাহীন রাজ্যে পথচলার শব্দ!

রাতের আকাশে একটি তারাও যেন নেই! কোথাও যেন নিমন্ত্রণে ব্যস্ত আকাশের তারাগুলো। তখন চাঁদের সাথে কথপোকথন হয় কোন এক মানবী"র ! যেখানে নিস্তব্দ রাতে কোন এক শহরে, কোন এক গাঁয়ে চলে ব্যস্ততার আলাপন!! সকলের চোখ-মুখে কোন এক ব্যস্ততার ছাপরেখা! অস্পষ্ট দৃশ্যের আড়ালে মুখায়ব যেন ক্লান্তির ঘনভরসা ডাক দিয়ে যায়! সেই সময়, সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ, যেন কোন এক অস্পষ্ট অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছে সেই বসতীর সেই মানুষগুলো!
তখনো আকাশের তারাদের দেখা নেই, দেখা অদেখার সন্ধিক্ষণে চাঁদের আলতো দেখা, আর শেষ রাত্রীর শেষ কথপোকথন······!!!!
পাঠক! আবেগের তারনায় অনেকগুেলা আবেগকে একসাথে জড়ো করেছি! আসলে বিষয়টি ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে········!!! আমার এ কথাগুলো পড়ে কে, কি বুঝতে পেরেছেন জানিনা····!!

হঠাৎ!
কান্নার কোরাস যেন ভেসে আসছে সেই গায়ের সেই বসতি থেকে। যে মানবী'র কথা বলেছি তিনি এই মাত্র একটি পুত্র সন্তানের জননী হলেন! শেষ রাত্রীর শেষ কথপোকথন ঠিক এমনিই ছিল। কিন্তু আমার এই জমাট বাঁধানো শব্দ, বাক্য সেই রাত্রীর জন্য, অদৃশ্য সেই তারাগুলোর জন্য, দেখা অদেখার সেই চাঁদের জন্য, মধ্য রাতের সেই শব্দের জন্য, আর সেই মানবীর জন্য! যিনি আমাকে এই পৃথিবীতে জন্ম দিয়েছেন········সেই মা'কে········যিনি আমার পৃথিবী······যিনি সবকিছু!!!
শ্রদ্ধা পৃথিবীর সকল মা'কে !!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28949071 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28949071 2009-05-10 23:27:14
জগৎজ্যোতি! যিনি ছিলেন বাংলার প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ/............ভাস্কর চৌধুরী ফিরে দেখা ইতিহাস

একজন জগৎজ্যোতি! বাংলাদেশের প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ! যাকে ’৭১ এর ১৬ নভেম্বর শহীদ হবার পর অনন্য বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ মরণোত্তর খেতাব প্রদানের ঘোষনা দেয়া হয়। কেন ঘোষনা দিয়েও জগৎজ্যোতিকে প্রদান করা হলো না মরনোত্তর সর্বোচ্চ খেতাব- এই প্রশ্নের উত্তর আজো অজ্ঞাত। জগৎজ্যোতির সহযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধাদের গবেষকরাও আজও খুঁজে বেড়ান এই প্রশ্নের উত্তর।

আর আজ তাকে নিয়েই এ আয়োজন।

সূর্যের লাল আভাটা পশ্চিমাকাশে! সময় তার শেষ সন্ধায় দাঁড়িয়ে। যুদ্ধের মিশনে এক যোদ্ধার মরণপণ চালিয়ে যাওয়া ক্রান্তিকাল। সহযোদ্ধাদের পালানোর সুযোগ করে দিয়ে মরনপন লড়াই চালিয়ে যাওয়া যোদ্ধা। হঠাৎ! পাশে থাকা সহযোদ্ধাও গুলিবিদ্ধ। নিজের মাথার গামছা খুলে বেঁধে রক্তপড়া বন্ধ করেন সহযোদ্ধার। পালানোর প্রস্তাব। কিন্তু না! গর্জে ওঠে তার বীরকন্ঠ। তেজোদীপ্ত সুরে বলে- ‘পালাবো না, সবকটাকে শেষ করে তবে যাবো।’ তারপর ! একাই ১২ জন পাকসেনাকে খতম। অস্ত্রভান্ডারও শূন্য। তবু পিছু ফেরা নয়! আচমকা একটা বুলেট সূর্যের লাল আভাটার ন্যায় বিদ্ধ হয় যোদ্ধার শরীরে। শেষবারের মতো চিৎকার করে ওঠা- ‘আমি যাইগ্যা’। শেষ চিৎকার! সূর্যের প্রদীপ নিভে যাওয়ার সাথে সাথে এক যোদ্ধার আলোও নিভে যায়! বলছি যোদ্ধা নামের সেই ব্যক্তিটির কথা। যুদ্ধের ময়দানে যার হাত দিয়ে তৈরি হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ‘দাস পাটির্’। যাকে ’৭১ এর ১৬ নভেম্বর শহীদ হবার পর অনন্য বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ মরণোত্তর খেতাব প্রদানের ঘোষনা দেয়া হয়। সেই যোদ্ধা, সেই খেতাব যার গলায় পরার কথা তিনি আমাদের অহংকার ‘জগৎজ্যোতি’। আমাদের নিজস্ব মানচিত্র আর নিজস্ব পতাকার মালিকানা দিয়ে চিরদিনের জন্য বিদায় নেয় সেই ‘জগৎজ্যোতি’ দাস। অথচ তার প্রাপ্য সেই সর্বোচ্চ খেতাব আজও তাকে দিতে পারেনি দেশ!

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই মুক্তিযুদ্ধের উত্তরপূর্ব রণাঙ্গণের মুক্তি সেনাদের কাছে কিংবদন্তিতে পরিণত হয় জগৎজ্যোতির বীরত্বগাথা সংগ্রামের কাহিনী। আজও তার কথা ভুলতে পারেনি যুদ্ধকালীন সময়ে তার সহযোদ্ধারা। তাদের চোখে এখনো ভাসে জগৎজ্যোতির সাথে তাদের শেষ দেখা।

একটি সম্মুখযুদ্ধে পাকবাহিনীর দোসরদের কূটচালের ফাঁদে পড়ে আর নিজ সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে আত্ম উৎসর্গ করেন জগৎজ্যোতি দাস। তবে তার আগেই শহীদ জগৎজ্যোতি অমর বীরত্বগাথার মাধ্যমে নিশ্চিত করে যান আমাদের নিজস্ব মানচিত্র আর নিজস্ব পতাকার মালিকানা। বিগত আ’লীগ শাসনামালে শহীদ জগৎজ্যোতির পরিবারকে একখন্ড জমি দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জগৎজ্যোতিরই নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেই অঙ্গিকারটিও কেবল ফাঁকা বুলির মধ্যেই থেকে গেছে। বাস্তবায়িত হয়নি আজও। ফলে মুক্তিযুদ্ধের অনন্য অবদানের জন্য মরনোত্তর সর্বোচ্চ খেতাব অর্জনকারী প্রথম ব্যক্তিটির উত্তরসূরীরা এখন যাযাবরের মতো জীবন কাটাচ্ছেন। এককালে তাদের নিজেদের যে বাড়িটা ছিলো, ’৭১-এ জগৎজ্যোতিকে হত্যা করে সেই বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো হায়েনারা। তারপর অভাবের তাড়নায় ভিটেমাটিও বিক্রি করে ফেলে জগৎজ্যোতির পরিবার। এখন জগৎজ্যোতির উত্তরসূরীরা হবিগঞ্জে ভাড়া করা বাড়িতে থাকেন। দিনমুজুরের কাজ করে টেনে চলেন জীবিকার জোয়াল।

একজন ‘জগৎজ্যোতি’

গ্রামের নাম জলসুখা। হবিগঞ্জের আজিমিরগঞ্জ উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম। সেই গায়ের জীতেন্দ্র চন্দ্র দাস ও হরিমতি দাসের কনিষ্ঠ পুত্র জগৎজ্যোতি দাস। জগৎজ্যোতির জন্ম ১৯৪৯ সালের ২৬ এপ্রিল। বাবা ও বড় ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
দারিদ্রতার সাথে লড়াই করেই ১৯৬৮ সালে ২য় বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জগৎজ্যোতি।

দাস পার্টি
১৯৭১ সালে জগৎজ্যোতি ছিলেন সুনামগঞ্জ ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সারির কর্মী। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়ার লক্ষে সদলবলে ভারতের শিলংয়ে ট্রেনিং নিতে যান তিনি। নেতৃত্বগুন সম্পন্ন, নেতৃত্বের প্রতি সংবেদনশীলতা, কঠোর পরিশ্রমি এবং ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার দক্ষতা থাকার কারনে সে দলের নেতা মনোনিত হন জগৎজ্যোতি। জ্যোতির নেতৃত্বাধীন এই দলটিই পরবর্তীতে ‘দাস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী ও রাজাকারদের কাছে দাস পার্টি ছিলো মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। আর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সাফল্যের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধে টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের অধীনে বিস্তৃর্ণ ভাটি অঞ্চল শত্রুমুক্ত রাখার দায়িত্ব পড়ে জগৎজ্যোতির উপর। দিরাই, শাল্লা, ছাতক, আজমিরিগঞ্জ, বানিয়াচং, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার নৌপথ পাক দখলমুক্ত রাখার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় জ্যোতির দাসপার্টি। ভাটির জনপদে শত্রুদের ভীত কাঁপিয়ে দেন জগৎজ্যোতি। দাস পার্টির মূহুর্মূহ আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পাকিস্তান সরকার রেডিওতে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়, এই রুট দিয়ে চলাচলকারী ব্যক্তিদের জানমালের দায়িত্ব সরকার নেবে না।
মাত্র ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বানিয়াচংয়ে প্রায় ২৫০ পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের ঠেকিয়ে দেন জ্যোতি। এ লড়াইয়ে প্রাণ হারায় শত্রু পরে ৩৫ সদস্য। পাকিস্তানিদের গানবোট ধ্বংস করে দেন জগৎজ্যোতিরা। ১৭ আগস্ট পাহাড়পুড়ে জগৎজ্যোতির বুদ্ধিমুত্তা ও বীরত্বে রক্ষা পায় অসংখ্য নিরীহ বাঙালির প্রাণ ও নারীর সম্ভ্রব। এখানেও পিছু হটে পাকিস্তানীরা। এরপর একের পর এক যুদ্ধজয়ী অভিযান চলতে থাকে জগৎজ্যোতির নেতৃত্বাধীন দাস পার্টির।

যুদ্ধের ময়দানে জগৎজ্যোতি

জগৎজ্যোতি একদম একা হাতে একটা এলএমজি নিয়ে দখল করে নেন জামালগঞ্জ থানা ভবন। সেখানে আস্তানা গেড়েছিলো রাজাকাররা। এরপর জামালগঞ্জ মুক্ত করার অভিযানে রাখেন গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা। এ সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন জগৎজ্যোতির সহযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। মাত্র ১০/১২ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে শ্রীপুর শত্রুমুক্ত করেন জগৎজ্যোতি। খালিয়াজুড়ি থানায় ধ্বংস করে দেন শত্রুপরে বার্জ। আগস্ট মাসে দিরাই-শাল্লায় অভিযান চালিয়ে কোনরূপ গুলি ব্যয় না করেই কৌশলে আটক করেন ১০ জন রাজাকারের একটি দলকে। যারা এলাকায় বেপোরোয়াভাবে খুন, ধর্ষণ ও লুটপাট চালাচ্ছিলো। রানীগঞ্জ ও কাদিরীগঞ্জে অভিযান চালিয়েও জ্যোতি আটক করেন রাজাকারদের। জগৎজ্যোতি তখন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এক কিংবদন্তির নাম। সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস।

চক্রব্যুহে অভিমন্যু

১৬ নভেম্বর ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই দাস পার্টির ৪২ সদস্য নিয়ে নৌকাযোগে বাহুবল অভিযানে রওয়ানা দেন জগৎজ্যোতি। ল্ক্ষ্যস্থলে যাওয়ার পূর্বেই বদলপুর নামক স্থানে হানাদারদের পাতা ফাঁদে পা আটকে ফেলেন জগৎজ্যোতি। বদলপুরে পৌঁছামাত্রই জগৎজ্যোতি দেখতে পান ৩/৪ জন রাজাকার ব্যবসায়ীদের নৌকা আটক করে চাঁদা আদায় করছে। ক্ষুব্ধ জ্যোতি রাজাকারদের ধরে আনার নির্দেশ দেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের দেখেই পিছু হঠতে থাকে রাজাকাররা। এতে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জ্যোতি। ১০/১২ জন মুক্তিযোদ্ধা আর সামান্য গোলাবারুদ নিয়ে তাড়া করেন রাজাকারদের। অথচ কুচক্রীরা পাকসেনাদের বিশাল বহর আর প্রচুর সংখ্যক গোলাবারুদ নিয়ে একটু দূরেই ঘাপটি মেরে ছিলো। শুরু হয় এক জ্যোতির সীমিত গোলাবারুদের সাথে পাকবাহিনীর বিশাল অস্ত্রভান্ডারের এক অসমযুদ্ধ। এক পর্যায়ে গোলাবারুদ কমে আসায় বেকায়দায় পড়ে যায় দাস পার্টি। সঙ্গীদের জীবন বাঁচাতে স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন জ্যোতি। সহযোদ্ধাদের পালানোর সুযোগ করে দিয়ে মরনপন লড়াই চালিয়ে যান জগৎজ্যোতি ও তার সহযোদ্ধা ইলিয়াস। হঠাৎ করে ইলিয়াসও গুলিবিদ্ধ হন। নিজের মাথার গামছা খুলে জ্যাতি ভালো করে বেঁধে রক্তপড়া বন্ধ করেন ইলিয়াসের। ইলিয়াস পালানোর প্রস্তাব দেন। গর্জে ওঠে জগৎজ্যোতির বীরকন্ঠ।
তেজোদীপ্ত সুরে বলেন- ‘পালাবো না, সবকটাকে শেষ করে তবে যাবো।’ একাই ১২ জন পাকসেনাকে খতম করে দেন জ্যোতি। বিকেল পৌনে পাঁচটা। জ্যোতির অস্ত্রভান্ডার শূন্য। তবু পিছু ফিরছেন না। এমন সময় আচমকা একটা বুলেট বিদ্ধ হয় জ্যোতির শরীরে। জগৎজ্যোতি শেষবারের মতো চিৎকার করে ওঠেন- ‘আমি যাইগ্যা’।

মৃত জগৎজ্যোতিতেও ভীত রাজাকারেরা

জগৎজ্যোতির নিথর দেহকেও রেহাই দেয়নি পাক হায়েনাদের দোসররা। আজিমিরিগঞ্জ বাজারে যেদিন জ্যোতির লাশ আনা হয় সেদিন ছিলো ঈদের বাজার। বীর সেনার লাশ দেখতে শত শত লোক জড়ো হন বাজারে। মুক্তিযোদ্ধার পরিণতি দেখানোর জন্য জ্যোতির নিথর দেহ রাজাকাররা বেঁধে ফেলে ইলেকট্রিক খুঁটির সাথে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচাতে থাকে জ্যোতির শরীর। তবিত করার পর বিবস্ত্র করা হয় এই প্রয়াত সেনাপতিকে। সদলবলে জ্যোতির গায়ে থু থু ফেলে রাজাকারের দল। এই বিভৎসতার স্মৃতি ধরে রাখতে এক দালালকে দিয়ে সেই ছবিও তুলানো হয়।
এইখানেই থামে না রাজাকাররা। জগৎজ্যোতির মা-বাবাকে নিয়ে জ্যোতির বিভৎস লাশ দেখিয়ে তারা বিকৃত আনন্দ উপভোগ করে। লাশ নিয়ে যখন পুরো পরিবারে কান্নার রোল উঠেছে তখন রাজাকারেরা আগুন ধরিয়ে দেয় জগৎজ্যোতিদের বসত ভিটায়। এরপর জগৎজ্যোতিকে ভাসিয়ে দেয়া হয় ভেড়ামোহনা নদীর জলে। এভাবেই ঘটে দেশ মাতৃকার শ্রেষ্ঠতম সন্তানটির ভাসানযাত্রা।

সর্বোচ্চ খেতাবের ঘোষণা

যুদ্ধ ক্ষেত্রে জ্যোতির শহীদ হবার সংবাদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অল ইন্ডিয়া রেডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়। সেই সাথে তার বীরত্বগাঁথা তুলে ধরা হয় বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে। অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ মরণোত্তর পদক প্রদানের ঘোষণা করেন। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে জগৎজ্যোতিকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক প্রদানের ঘোষণা সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত হয়। এই ঘোষণায় অনেক মুক্তিযোদ্ধাই উদ্‌ভুদ্ধ হয়েছিলেন, সাধুবাদ জানিয়েছিলেন সরকারকে।
জগৎজ্যোতিকে মরনোত্তর সর্বোচ্চ পদক প্রদানের ঘোষণা দিয়েও সে প্রতিশ্রুতি থেকে অজ্ঞাত কারণে সরে আসে সরকার। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয় তাকে। এই পুরস্কারও বাস্তবে প্রদান করা হয় আরো দু’যুগ পর। কেন ঘোষনা দিয়েও জগৎজ্যোতিকে প্রদান করা হলো না মরনোত্তর সর্বোচ্চ খেতাব- এই প্রশ্নের উত্তর আজো অজ্ঞাত। জগৎজ্যোতির সহযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধাদের গবেষকরাও আজও খুঁজে বেড়ান এই প্রশ্নের উত্তর। তাদের নানা লেখায় প্রকাশ পেয়েছে এ নিয়ে ক্ষুভ।
মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী ‘একাত্তরের দির]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28934017 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28934017 2009-04-05 17:25:32
মনে আছে জনিকে............./ভাস্কর চৌধুরী জনি। মনে আছে এ নামটি। ভূলেতো যাবার কথা না। পাঠক !আমার দায়বোধ আর বিবেক বলছে এ নামটি কেউ ভূলে যেতে পারে না। না! এ নামটি ভূলে যাওয়ার নয়! এ নামটির ভেতরে বাহিরে আছে জ্বলে উঠার গল্প। যেখানে কিছু শব্দের যোগ-বিয়োগে লেখা হয় প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠে জনিরা। কখনো আল্লাহর দোহাই আর মানবী’র মানবতাবোধ আর কবিতার দ্রোহে জ্বলতে থাকে জনিরা। হঠাৎ ! একটি শিশুর ক্রন্দন থেমে যায়।

বাতাসের গতির চেয়েও তীব্র গতিতে কারো স্পর্শ এসে কানে পৌছে জনিদের দোয়ারে। পেছনের দরজা বন্ধ হয়ে যায় ! খোলে নতুন দ্বার! স্বপ্নের পরশে বাস্তবতার ভিটেয় নতুন এক পদ্ম জন্ম নেয়। জনিরা বেঁচে যায়। ওদের বাঁচার তাগিদ শুনতে পায় পত্রিকার পাতার ভাজে বেঁচে থাকা সেই মানুষগুলো। আর ক্যামেরার পেছনের-সামনের মানুষগুলোর কোন দৃশ্যই এড়াতে পারো না। ফুটে উঠে ! সেই দৃশ্যের আলোছায়া কেউ ভূলতে পারে না। বিবেক থমকে যায়। বিবেকের আর্তনাদে সেই অজোপাড়াগায়ে ফেরা যান্ত্রীক যানের সেই মানুষগুলো। বোধদয় ! জনিকে বাঁচতে হবে।

রাতের আধাঁরে ফিরেছি ওই ছোট্ট জনির বাড়ি থেকে। দেখা-অদেখার সন্ধিক্ষণে জনির বেঁচে থাকার তাগিদ হয়তো অনুভব করেছিলাম সে সময়। অনুভবের অনুভূতিগুলো বেশ নাড়া দিয়েছিল সে সময়। মাঝ রাতেও বাড়ি ফিরে মনে হয়েছে কোন এক নতুন স্বপ্ন বানিয়ে বাড়ি ফেরা হলো। কথাটি বললাম! আসলে তখন কেন জানি বারবার মনে হয়েছিল এ দ্বারে এই ব্লগ ভূবনে আমাদের লেখায়, কারো হৃদয়ে , কোন হৃদয়বান অবশ্যই জনিদের পাশে দাঁড়াবেন। ধীরে ধীরে বাস্তবের ভিটেয় সত্যিকারের এক স্বপ্ন উদোয় হয়। দেখলাম সত্যিকারের এক সূর্য উদোয় হয়েছে।

সেই মিষ্টভাসী ফয়সাল ভাই ব্লগার ফয়সাল নোই সেই জনি ও তার পরিবারের স্বপ্নের নতুন ভীড় রচনা করলেন। স্বপ্ন আর বাস্তবতা যে এক সুতোয় বাঁধা রয় তা বুঝতে পেরেছি ····! মনে হয়েছে এবার আমার শব্দের যোগ-বিয়োগ ঠিকভাবে হয়তো কষতে পারলাম। বাস্তবতার রঙ রাঙিয়ে গতকাল ফের গিয়েছিলাম আমাদের জনির সেই পাড়া গাঁয়ে।

জনিকে দেখতে সেই সূদুর লন্ডন থেকে জনির আজীবন ভরণ পোষনের ভার নেওয়া সেই ইমেগ্রেশন এইডের নির্বাহী প্রধান ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন তার পরিবারবর্গ, সাংবাদিক এস কে দাস, বিকুল চক্রবর্ত্তী ও কয়েকজন সাংবাদিকসহ যাওয়া হয় জনির বাড়িতে।

জনিকে দেখার প্রবল ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন সূদুর লন্ডনে বসেও ব্যরিস্টার মইনুল হোসেন। তার ইচ্ছার পরিপূর্ণতায় সেই মূখটি জনিকে দেখতেও চলে আসে ব্যরিস্টারের স্ত্রী, মা ও সন্তানরা। সেখানে গিয়ে এক ধরনের আবেক দেখতে পেলাম। কিন্তু সেই আবেগের রঙ বর্ণনা করা এই বান্দার পক্ষে সম্ভব না! শুধু দুচোখকে সাক্ষী করে জ্বলের কিছুটা অশ্রুবরণ !
ভাবছি! জনিদের বাড়ি থেকে ফেরা হলো ···! একটি স্বপ্ন ! কখনো অকালেই ঝড়ে যায়........কখনো আবার ......!






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28885479 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28885479 2008-12-20 23:42:55
বাদুর বাড়ি বিরল প্রজাতির পাখি বাদুর। বাসস্থান ও খাদ্য সঙ্কটসহ নানা সমস্যায় ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে বাদুর প্রজাতি। বর্তমানে চাহিদামত খাদ্য পাওয়াই দুস্কর হয়ে পড়েছে বাদুর প্রজাতির জন্য। তাইতো খাদ্য সংকটের কারণে বাদুররা ছুটে যায় দুর থেকে বহুদুর পর্যন্ত। যাদের এক সময় বাদুরদের আদিবাস ও জন্মস্থান ছিল নির্জন পাহাড়ে। সেই বাদুররা এখন মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বসবাস করছে গ্রামে।
সরেজমিনে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে বাদুরের খোঁজ নিতে গিয়ে এলাকাবাসীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এ অঞ্চলে বাদুরের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে হাজী আব্দুল করিম’র বাড়িটি অতি প্রাচীন। কখন কিভাবে এখানে প্রথম বাদুর আসে এবং কেন এখানে আশ্রয় নিয়েছে তার সঠিক ইতিহাস কারো জানা নেই।
কামারগাঁও গ্রামের প্রবীন ব্যক্তিরা জানান, একসময় সব ধরণের পাখি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির গাছে বাসা বেঁধে নির্বিঘেœ বসবাস করতো। কালের আবর্তে যেন হারিয়ে গেছে সবকিছু। গ্রামে এখন আর পাখির তেমন অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এক সময় প্রতিদিন ভোরে গ্রামের গাছে গাছে পাখির কিচির মিছির শব্দ আর কলরবে ঘুম ভাঙ্গতো গ্রামবাসীর। আবার সন্ধ্যায় পাখির কল কাকলিতে আনন্দ উপভোগ করতেন তারা। পাখি কলতান কামারগাঁও গ্রাম থেকে হারিয়ে গেলেও বাদুরগুলো ওই বাড়িতে বসবাস করছে যুগের পর যুগ।
বাদুর বাড়ির মালিক হাজী আব্দুল করিম জানান, বাদুর অবলা প্রানী। এদের জীবনযাত্রা বড়ই উদ্ভট। নিজের খাদ্যের অভাব মেটানো ছাড়া কোন ক্ষতি করে না। সন্ধ্যার আধাঁর নেমে আসার সাথে সাথে ওরা দল বেঁধে ছুটে যায় বিভিন্ন দিকে। রাতে খাবার অন্বেষনে গেলেও ভোর বেলা সোজা চলে আসে বাদুরের আবাসস্থল তার বাড়িতে। এমনি ভাবে চলছে যুগের পর যুগ বাদুরদের জীবন। কবে কামারগাঁও গ্রামের এ বাড়িতে প্রথম বাদুরগুলো বসতি গড়ে তুলে সে ব্যাপারে তিনি জানান, বাদুরগুলো প্রথমে তার বাড়িতে আবাস গড়েনি। তারই পাশের সর্দার বাড়িতে বাদুরেরা প্রথম আবাস গড়ে তুলে। কিন্তু সর্দার বাড়ির মালিক সামছু মিয়া বাদুরের আবাসস্থল বাদুরের আবাসস্থল সেই গাছটি কেটে ফেলেন। অবশেষে বাদুরেরা তার বাড়ির পশ্চিম দিকের ২/৩টি উচু গাছ বেছে নিয়ে সেখানে আশ্রয় নেয়। তিনি বলেন, বাদুর মানুষের মতো কথা বলতে পারেনা তবে তারা ঠিকই সামাজিকতা ভাল বুঝে। তাইতো সমাজবদ্ধভাবে বাদুররা দীর্ঘদিন যাবত তার বাড়ির গাছেই বসবাস করছে।
হাজী আব্দুল করিম বলেন, এ জগতে কোন কিছুই স্থায়ী নয়। সবাইকে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে এক সময় বিদেয় নিতে হয়। কিন্তু পৃথিবীর সব কিছুই থেকে যায়। কেউ কিছুই নিয়ে যেতে পারে না। যতদিন গাছগুলো বেঁেচ থাকবে ততদিন তিনি এ গাছগুলো কাটবেন না। তার ছেলে মেয়েরাও চায় না বাদুরগুলোকে বাস্থহারা করতে। তিনি বলেন, বাদুরগুলো নিরাপদে নিশ্চিন্তে তার বাড়িতে বসবাস করছে কারো কোন ক্ষতিতো করছে না।
প্রথম এ গ্রামের যে বাড়িতে বাদুরেরা আবাস গড়ে তুলে সে বাড়ির মালিক সামছু মিয়ার পুত্র শফিকুর রহমান বলেন, তিনি মুরব্বীদের কাছে শুনেছেন বৃটিশ আমলে বাদুররা তাদের বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করে। প্রথম দিকে তারা সংখ্যায় বেশী ছিল না। ক্রমান্বয়ে বংশ বিস্তারের মাধ্যমে কয়েক হাজার বাদুরে পরিণত হয়। এ সময় বাদুরদের চিৎকারে বাড়ির লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠে। তবুও বাদুরকে তারা কোন ভাবেই এ বাড়ি থেকে তাড়াতে চায়নি। কিন্তু আজ থেকে ৭/৮ বছর পূর্বে সামছু মিয়া হঠাৎ একদিন বাদুরের বসবাসস্থল ৩টি বড় গাছ কেটে ফেলেন। তখন বাদুরগুলো একেবারে বাস্তহারা হয়ে পড়ে। এসময় আবাস হারানো বাদুরের কষ্ট দেখে গ্রামের মানুষজন অনুসুচনা করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে বাদুরগুলো নিজেরাই পছন্দ করে হাজী সাহেবের বাড়ির গাছে আবাস তৈরী করে।
কামারগাঁও গ্রামের ষাটোর্ধ অনু মিয়া জানান, বাদুর অবলা বন্য প্রাণী হলেও বাদুর কারো ক্ষতি করে না। তিনি বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি অসংখ্য বাদুর সর্দারের বাড়ির গাছে থাকে। শ্রীমঙ্গলের আর কোথাও বাদুরের বাড়ি নেই বলে তিনি জানান। সর্দারের বাড়ির গাছগুলো কেটে ফেলায় এখন বাদুর এর পাশেই হাজী আব্দুল করিমের বাড়ির গাছে বাস করছে। তার মতে আল্লাহর সৃষ্টি সকল জীবই সমাজবদ্ধ থাকে। তারই প্রমাণ বাদুরের জীবনযাত্রা। মজার ব্যাপার হলো, বাদুরের জন্য কোন বাসা তৈরী করতে হয় না। শুধু শাখাওয়ালা উচু গাছ হলে তারা সাচ্ছন্দে ঝুলে থাকে। ঝুলন্ত অবস্থায়ই তারা ঘুমিয়ে নেয়।’
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক ও সচিব একরামুল কবীর জানান, এই গ্রামে বাদুর আগমনের পুরান ইতিহাস জানা নেই। তবে বৃটিশ আমল থেকেই বাদুরগুলো বাস করছে মানুষের সান্নিধ্যে। তিনি বলেন, আসলে বাদুর নিজের চাহিদামত বাসস্থান নির্বাচন করে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার মধ্যে আরও অনেক গ্রাম আছে, বাড়ি আছে। কিন্তু সেখানে ওরা যায় না। তার মতে বর্তমান প্রজন্মের বাদুরের কাছে জন্মস্থান কামারগাঁও। আর জন্মস্থান ছেড়ে কে অন্যস্থানে যেতে চাইবে। তাইতো বাদুরগুলো নিরাপদ জন্মস্থান হিসেবে যুগের পর যুগ এখানে আছে। ভবিষ্যতে যদি বাদুরগুলো তার বাড়ির গাছে বাসবাস করতে আসে তাহলে তিনি আনন্দই পাবেন এবং বাদুরের নিরাপত্তার জন্য যা করা দরকার, তা করতে কার্পন্য করবেন না।’

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28882323 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28882323 2008-12-14 17:54:29
স্বপ্নের মৃত্যু হয় যেভাবে........../ভাস্কর চৌধুরী কিছুটা নির্মম!
হৃদয়বিদারক! যেন কষ্টের সাথে
কান্নাগুলো জড়িয়ে রাখা।

যে স্বপ্ন কিছু সময়ের হিসেব-নিকেশ
বদলে যায়! বদলে দেয়
যাপিত জীবন!

যে স্বপ্নে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে থাকা
বেঁচে থাকা হাসপাতালের বেডে
খানিকটা কষ্টকে সাক্ষী রেখে
বোবা ভাষার মতো
১১ বছরের কিশোরীর কথোপকথন।

যে স্বপ্নে ইস্পাতের ন্যায় কারুকার্য একে দেয়
সেই কিশোরীর গায়ে!
গরম ছ্যাকায় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো
ছিড়ে যায়!
যেন বোবা কান্নার ক্রন্দন শুনতে পাওয়া।

খবর প্রকাশ হয় ঠিক স্বপ্নের মতো
কিছু ছবি! কিছু কথা
যেন শব্দের যোগ-বিয়োগ!
শ্যুট-বুট ওয়ালা পুলিশের দৌড়যাপ
কাল রেশ এখানেই
আর এভাবেই স্বপ্নের মৃত্যু হয়!
ঠিক এভাবে........!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28877828 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28877828 2008-12-03 20:02:41
রুবীর অব্যক্ত কথা........বাঁচাতে হবে জনিকে........./ভাস্কর চৌধুরী
গত ৩ নভেম্বর রাতে জনিরা জলে উঠুক প্রতিশোধের আগুনে Click This Link শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম ব্লগে। আমার পোস্ট দেওয়ার পর থেকে অসংখ্য ফোন পেয়েছি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্লগারদের কাছ থেকে। তাদের আবেগ, সহানুভূতি, সহমর্মীতা, মর্মস্পর্শীতা সব দিয়ে আমার লেখার দ্বার ঘুরে গেছেন। তাদের ভাষ্যের প্রকাশে আমিও আমার কিছু অব্যক্ত কথা বলেছি। লেখাটি পড়ে ব্লগার শেখ রহিম একটি মৃত্যুর জন্য আরেকটি মৃত্যুর অপেক্ষা Click This Link শিরোনামে একটি কবিতা , ব্লগার মানবী আপু ডিসপোজেবল মানবীদের কথা- আরেকটি ছবি, আরেকবার ভুলে যাবার পালা!!! Click This Link শিরোনামে একটি মর্মস্পর্শী ও বেদনাদায়ক পোস্ট দেন। পরে ব্লগার লালদরজা আল্লাহর দোহাই এই বাচ্চাটাকে আমাদের বাঁচাতে হবে Click This Link

ব্লগার কৌশিক মৃত মায়ের পাশে ৮ মাসের জনি? একমাত্র খাবার চায়ে চুবানো মুড়ি? Click This Link শিরোনামে এবং ব্লগার আরিফ জেবতিক ভাই মৃত্যুঞ্জয়ী শিশুটিকে কোলে তুলে নিতেই হবে আমাদের Click This Link একটি পোস্ট দেন। এছাড়াও ব্লগার ঝুমী সার্বিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।


নিহত রুবীর রেখে যাওয়া তিন সন্তানের মধ্যে জনি ও ঝর্ণা

আমার লেখায় অনেকের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছিলাম আপডেট জানাবো। তৎক্ষনিকভাবে কিছু আপডেট দিয়েছিলাম। বিশেষ করে মানবী আপুকে, ফয়সল নোই ভাই, লাল দরজা, কৌশিকসহ অনেক ব্লগারকে বারবার জানিয়েছিলাম শেষ আপডেট। আর ব্লগার শেখ রহিমকে সব সময়ই কাছে পেয়েছি।


এই সেই লাঘাটা নদী। যেখানে পড়ে রয়েছিল রুবির লাশ

এক নজরে রুবী হত্যাকান্ড........!

রুবী হত্যাকান্ডের আজ ২৯ দিন পার হলো।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মরিচা গ্রামের গৃহবধু রুবি বেগম হত্যাকান্ডের এক মাস অতিবাহিত হলেও আসামী দেবর কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রী মামলার ২নং আসামী খায়রুন বেগমকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নিহত রুবি বেগমের দেবর কুদ্দুস মিয়াকে পুলিশ দু’দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে সে সহ আরো তিনজন এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করেছে। সে পুলিশকে আরও গুরুত্বপুর্ন তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্য মতে আসামী ধরতে কু্‌দ্দুসের শশুরবাড়ি মৌলভীরচক গ্রাম ও আরো কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে মা হারা শিশু জনি পেটের পীড়া সহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার পাশ্ববর্তী রাজনগর উপজেলার মরিচা গ্রামের গৃহবধু রুবি বেগমের হত্যা ঘটনাটি ঘটে গত ৯ অক্টোবর রাতে। রুবি বেগমের বাবার বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের গোপীনগর গ্রামে। ১৫/১৬ বছর পূর্বে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা গ্রামের প্রবাসী মাসুক মিয়ার সাথে রুবির বিয়ে হয়। গৃহবধু রুবি বেগমের কাছে জমি বিক্রী করবে বলে দেবর কুদ্দুস মিয়া ও তার স্ত্রী খায়রুন বেগম ১লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা নেন । কিন্তু পরবর্তীতে জমি রেজিষ্ট্রি করে না দেওয়াতে রুবি বেগমের সাথে তার দেবর ও দেবরের স্ত্রীর প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হত। ঘটনার আগের দিন দেবর কুদ্দুস মিয়া রুবি বেগমকে তার উঠানে ফেলে মারধোর করে বলে জানা যায়। পরের দিন গোপীনগর ও মরিচা গ্রামের মধ্যবর্তী লাঘাটা নদীর পাশ থেকে গৃহবধু রুবির লাশ ও পাশে জীবিত শিশু কন্যা জনিকে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে রুবির বৃদ্ধা মা সিতারা বেগম বাদী হয়ে দেবর কুদ্দুস ও তার স্ত্রী খায়রুন বেগম কে আসামী করে রাজনগর থানায় মামলা করেন। ঐ দিনই মামলার ১নং আসামী কুদ্দুস মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে। কিন্তু ঘটনার ২৮ দিন অতিবাহিত হলেও কুদ্দুসের স্ত্রী আসামী খায়রুন বেগমকে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি।


এদিকে রুবি হত্যা কান্ডের বিচার ও প্রকৃত আসামীদেরকে গ্রেপ্তারের দাবীতে আজ ৫ নভেম্বর দুপুর ১টায় ‘কমলগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ’ মানববন্দন কর্মসূচি পালন করে। এতে এলাকার শতাধিক মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন।


নানি ছাড়া কিছুই বোঝেনা জনি.....এভাবেই মাটিতে শুয়ে থাকে জনি
কেমন আছে জনি······
জনির অবস্থা এখন আগের মতই। ডাক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী ঠান্ডা , জ্বর ইত্যাদিতে ভূগছে। অসুখের কারণে জনির খাওয়ার মাত্রাটা কমে গেছে। শিশু জনির অসুস্থতা সম্পর্কে আলাপ কালে তার চিকিৎসক কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ আব্দুল মুকিত জানান, ঘটনার দিন ভোর রাত থেকে লাঘাটা নদীর পাশে খোলা আকাশের নিচে মায়ের লাশের পাশে থাকায় ঠান্ডা লেগে কাশি ও সর্দি জ্বর হয়েছে । তাছাড়া এক বছর বয়সের শিশু মায়ের বুকের দুধ না খাওয়াতে বর্তমানে পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তিনি সার্বক্ষনিক সতর্ক দৃষ্টি রেখে তার চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেছিলেন সম্ভবত নিউমোনিয়ার লক্ষন। ওর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। ব্লগারদের সুবিধার্থে আমি ডাক্তারের নাম্বার দিয়ে দিলাম-০১৭২০-৫১১২৭৮।


দুই নাতনীর পাশে সিতারা বেগম

কেমন আছেন রুবীর মা সীতারা বেগম
রুবীর মা সিতারা বেগম। কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের গোপীনগর গ্রামে অন্যের আশ্রয়ে জনি ও বড় নাতনি ঝর্ণাকে নিয়ে বড় কষ্টে আছেন বলে জানালেন সিতারা বেগম। তিনি একথায় বাকরুদ্ধ। ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। চোখ টলমল করছিলো ·····! যেন কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। আমাদের পেয়ে মেয়ের বিচারের আকুতি এমন ছিল যে, রুবী হত্যার বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদবে না তো? আমাদের নির্বাক ভাষা শ্রোতা হয়ে শোনা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আছে দু’কলম লেখার।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা ভাষ্য
বিজয় দেবনাথ। রাজনগর থানার এস আই। রুবী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তার ভাষ্যে জানা যায়, ঘটনার সাথে জড়িত একজন আসামী ধরেই খালাস । কিন্তু মূল আসামী এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যে লোকটিকে ধরা হয়েছে তিনি রুবীর দেবর। নাম কুদ্দুস মিয়া। তারই স্ত্রী খাইরুন বেগমকে এখনও ধরা হয়নি। সে নাকি পলাতক। পুলিশ আরো জানায়, মামলাটি মামলার গতিতে চলছে। আমরা আসামী ধরার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি।
এই হচ্ছে তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য। তার ভাষ্যের বাণী শুনতে চাইলে তার নাম্বারে কল করতে পারেন। ব্লগারদের সুবিধার্থে তার নাম্বারটি দিয়ে দিলাম-০১৭৩৬-৮৭০৬৬৫।

রুবীর পরবাসী স্বামী
রুবীর পরবাসী স্বামী মাসুদ মিয়া। রুবী ও মাসুদ মিয়ার বিয়ে হয় প্রায় সাড়ে ১৩ বছর হয়েছে । তিনি দুবাইয়ে আছেন ৭-৮ বছর যাবৎ। রুবী হত্যাকান্ডের পর তিনি দেশে ফিরেননি। মাসুদ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি বিষয়টি জেনেছেন । সময় করে তিনি দেশে আসবেন। অপরদিকে রুবীর মা ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি রুবীর স্বামী হয়তো জানেনা।

যতটুকু সম্ভব এই দ্বারে তথ্য দিতে পেরেছি। সম্ভবহীন কিছু তথ্য থেকে থাকলে আগামীতে দেবো।

সবশেষে বলবো যত কিছু বলি আর যত কিছুই করি না কেন ·······বাস্তবে কিছু করতে·····অন্তত জনির জন্য কিছু করতে হবে। না হয় ভূমিকাটি বাস্তবে রূপ নেবে। হয়ে যাবে একটি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আরেকটি মৃত্যু। আমি চাই না·······আরেকটি মৃত্যু। জনি বাঁচবে। ওকে বাঁচতে হবে। জনিকে বাঁচাতে হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28865260 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28865260 2008-11-05 23:51:59
জনিরা জলে উঠুক প্রতিশোধের আগুনে........../ভাস্কর চৌধুরী একটা অস্পষ্ট স্বপ্ন নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে আছে। যে স্বপ্ন এগিয়ে যায়....! কখনো আবার স্বপ্নের মৃত্যু হয়। কখনো জ্বলে উঠে। জ্বলে উঠে প্রতিশোধের আগুনে। আবার হয়তো স্বপ্নেরা এক হয়......! যেখানে জমাট বাঁধা কষ্টগুলো তার অদৃশ্য আলোছায়ায় ভেসে উঠে।

জনি । এক বছরের একটি শিশু। যে শিশুর স্বপ্নের মধ্যমণি তার মা। শিশুটি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে খোঁজে তার মাকে। মাঝে মাঝে অস্পষ্ট সুরে মা বলে ডুকরে ডুকরে কাঁদে। কান্নার প্রতিধ্বনি ভেসে উঠছে আকাশে-বাতাসে। ক্ষিদের জ্বালায় বারবার চেষ্টা করছে মায়ের দুধপান করতে। ঠেলে বুকের উপরিভাগে উঠেও পড়ে যাচ্ছে শিশুটি। কিন্তু পারছে না। মা-যে আর এই পৃথিবীতে নেই এটুকু বোঝার বয়স হয়তো তার হয়নি। এভাবেই কিছু সময়········কিছু অদৃশ্য স্বপ্ন ছুঁয়ে যায়·······ছুঁয়ে যায় বাস্তবতার নিরিখে।

একটি গল্পের সামান্যতম উপাখ্যান জন্ম দিলাম মাত্র। এর কালরেশ এখনও বলা হয়নি।

এইতো কয়েকদিনে আগে ফলাও করে পত্রিকায় প্রকাশ হলো আমার এলাকার এই ঘটনাটি। সিলেটের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী রাজনগর উপজেলার মরিচা গ্রামের গৃহবধু রুবি বেগমকে গত ৯ অক্টোবর রাতে নির্মম ভাবে শ্বাষরোদ্ধ করে হত্যা করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকরা। তিন সন্তানের জননী গৃহবধু রুবি বেগমকে হত্যা করে নদীর পাশে রেখে যায় তার ১ বয়সের জীবিত কন্যা শিশু কন্যা জনিকে । পরদিন গ্রামবাসী ক্ষেতে আসলে শিশুটির কান্না শুনে এগিয়ে এসে দেখতে পায় মৃত গৃহবধু রুবি ও তার জীবিত শিশুটি মৃত মায়ের বুকের দুধ খাচ্ছে ও কান্নাকাটি করছে।

হিসেবটা এমন.......শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার! অতঃপর একটি মৃত্যু! কিন্ত...........এখানেই শেষ নয়। একটি মৃত্যুর জন্য আরেকটি মৃত্যুর অপেক্ষা ।


নির্বাক জনি

আশিউর্দ্ধো বৃদ্ধা। শিশু জনির নানি। জীবনের শেষ অধ্যায়ে পাড়ি দিবেন এই বৃদ্ধা । অথচ মা হারা শিশুকে নিয়ে কোথায় যাবেন এই বৃদ্ধা। মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত শিশু জনি সর্দি ,কাঁশি,জ্বর ও পেটের পীড়া সহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের চিকিৎসাধীন রয়েছে। অসহায় বৃদ্ধার দু'চোখ দিয়ে বইছে অশ্রূর ধারা, দেখলে মনে হয় বৃদ্ধা বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। একদিকে মেয়ে রুবির নির্মম মৃত্যু ঘটনার শোক, অন্যদিকে এক বছর বয়সের নাতি জনি গুরুতর অসুস্থ।


জনির নানি সিতারা বেগম

সম্প্রতি সারাদেশে ঘটা করে পালন করা হল কন্যা দিবস। কিন্তু জনির মতো কন্যা শিশুদের ভাগ্য বদল হয়না। দিন দিন বাড়ছে জনিদের সংখ্যা।

বন্ধ হয়নি নারী নির্যাতন। বরং দিন দিন এর মাত্রা ও ধরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া পত্রিকার পাতায়ও সবার কথা আসেনা। অনেক নির্যাতনের ঘটনাই থেকে যায় খবরের অন্তরালে। খবরওয়ালা মানুষ হয়েও আর কত খবর দিব জনিদের। মাঝে মাঝে নিস্তব্দ পাঠক হয়ে নিস্তব্দতার ভঙ্গিমায় শুধুই পড়ে যাই। পত্রিকার এ পাতা থেকে সে পাতা। পড়া আর শেষ হয়না। আর কতকাল পড়বো ওদের খবর ? ওদের ভাগ্যের কি হবে ? ওদের ভাগ্যের কি পরিবর্তন হবে···?



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28864210 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28864210 2008-11-03 22:30:06
শব্দের যোগ-বিয়োগ............/ভাস্কর চৌধুরী
পড়ন্ত বিকেল।
সূর্য অস্ত যায়নি।
অফিসের বেলকনি দিয়ে মিটিমিটি
আলো ভেসে আসছে!
মনে হয় গোধূলীর রঙে
রাঙানো.........!

সম্মুখপানে ল্যাপটপ আর
মাউস বাটনের ক্লিক ..........!
হঠাৎ !
মুঠোফোনের শব্দ! শাব্দিক যোগ-বিয়োগে
অচেনা পথের ম্যাসেজ!
দরজার কপাট খুলে দেখি
একটি শুভেচ্ছা বার্তা।

কুশালাদির মিশ্রণে
শেষ রেশে ভাল থাকার
শুভকামনা!

ইতি......সা·ই· ব্লগ!

ভাবনার গতিধারায় পড়ে গেলাম
ভাবছি ...........
অচেনা পথিক!
কিন্তু যে পথ থেকে লেখা
সে দ্বারে আমার যাত্রা দিনে শতবার।

ব্যস্ততায় সেই ভাবনাটুকু মনের গহীনে রেখে দিলাম !
অচেনা সেজনকে খুঁজতে মুঠোফোনেই.......!

হ্যাঁলো.............
জ্বি ভাস্কর দা কেমন আছেন ?
অচেনা হলেও কন্ঠের মাধুরীকতায়
মনে হলো খুব চেনা!
অতপর .........!
কথপোকথনে সময়ের তীব্রতায়
আমার ব্যস্ততাগুলো মলীন হয়ে গেলো
ঘড়ির কাঁটা এপাশ থেকে ওপাশ

পরিচয় ! পরিচিত কেউ !
ক'টি শব্দের কথামালায়
কিছু সময় .........।

সেই অচেনা কন্ঠ
তার স্বর থেকে বেরিয়ে আসা শব্দ
এখনো ...........!
আমার কানে বেজে উঠে!

বন্ধুত্বের শেষ চূড়ায় !
বন্ধু সে'জনা তার সাথে
এভাবেই পরিচয় হয়...........ক'দিন আগে!
তার জন্য! তাকে উৎসর্গ করে লেখা
ক'টি শব্দের যোগ-বিয়োগ!




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28856523 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28856523 2008-10-18 20:01:17
সেই দিদিমণি.............../ভাস্কর চৌধুরী আজ একটি গল্প শোনাতে এসেছি
যে গল্পের শেষ নেই
রেষ নেই
আছে চলে যাওয়ার কথামালা!

আজ একটি গল্প শোনাবো
যেখানে স্মৃতির ডানায় উড়িয়ে নিবে
আমায়!
যে গল্পে আমার দিদিমণি আমায় ডাকে!

আজ গল্প শোনাবো দিনিমণি'র
বয়সটা অস্পষ্ট!
কিছু স্মৃতির মলাটে বেঁধে আছে
সেই সময়গুলো!
মনে আছে হাফপেন্ট ও সাইকেল গেঞ্জি পড়া
সেই ছেলেটি!

যে গল্পে
দিনভর দুষ্টমী
আর রাতের শুরুতে শাসনের সীমানা
মায়ের বকুনীতো আছেই!
কখনো কখনো বাবার বেত্রাঘাত !
হঠাৎ কাছে পেতাম সেই দিদিমণিকে
দিদিমণির কথাতে সব চুকে যাওয়া
এক নিমিষেই!

একদিন মনে আছে
বাড়ি থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম
ক'জন বন্ধু ছিল!
অনেক রাত করে বাড়ি ফেরা
বাইরে থেকেই শব্দ শুনছি
আমার পাওনা শাস্তির !
দেখি দিদিমণি বাইরে বসে ঝিমুচ্ছেন
আমি বাইরে বলে তিনিও বাইরে বসে আছেন!
এই না হলে দিদিমিণি !

দিদিমণি আজ নেই!
মাত্র ৭২ ঘণ্টার হিসেব নিকেশ
কষেই চলে গেলে !
আমায় একটু বলেও গেলে না
এতো অভিমান তোমার !

তুমি জানোনা দিদিমণি
আমার জীবনে কারো চলে যাওয়া দেখে কখনো
দু'ফোটা জল বের হয়নি!
তুমি-ই সে
যার জন্যা আমার অশ্রু ঝড়েছে····!

দিনিমণি তোমায় আজ বড্ড মনে পড়ছে
তোমার স্মৃতিগুলো আমায় ধুকড়ে কাঁদাচ্ছে
তুমি কেন চলে গেলে
তোমার চলে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারিনা
তুমি ফিরে এসো
ফিরে এসো দিদিমণি..........................!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28851511 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28851511 2008-10-06 14:09:44
কতদিন পড়া হয়নি............./ভাস্কর চৌধুরী সেই চিরকুট
যে চিরকুটে লেখা আছে
জমাট বাধা শূণ্যতাগুলো !

কতদিন হয়ে গেলো সেই চিরকুটের
ভাঁজটি খোলা হয়নি
হয়তো ময়লা ধূলোয় জমে আছে
জমে আছে ঠিক কষ্টমাখা রঙের মতো !

যেখানে আবেগের শূণ্যতাগুলো
ধূকড়ে কাঁদে
আলো আধাঁরের মেলায়
টেবিলের ওপরে পড়ে থাকা
চিরকুটের সেই ভাজে !

ব্যস্ততায় কতদিন যাওয়া হয়নি
সেই আঙিনায়, সেই দ্বারে
যে দ্বারে আমার চিরকুটবাসী থাকে!

কতদিন দেখা নাই তার সাথে
দিন,মাস, বছর পেরুয়
স্মৃতিগুলো যেন মলাটে মলাটে ভাসে!

আজ বড্ড মনে পড়ে সেই চিরকুট
যে চিরকুট খোলা হয়নি আজও
পড়ে আছে ঠিক টেবিলের ভাজে....!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28844062 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28844062 2008-09-16 20:04:02
শেষ রাত্রির শেষ বেলায়............../ভাস্কর চৌধুরী যেখানে লুটায়ে পড়ে
কষ্টের তীব্রতা!
তীব্রতা কতটা উত্তাপ
কতটা নিশাচর
দেখে না কেউ
কোনদিন।

ভাবনার গতিধারা বয়ে বেড়ায়
কালের পরিক্রমায়
স্মৃতিদের ঘুরোঘুরি
ডানা ঝাঁপটানো
এ ঘর থেকে ও ঘর
এভাবেই দিন যায়
ক্ষণ যায়!

কেউ দেখে অদৃশ্য ছায়ার মতো
দৃশ্যমান, আধারচ্ছন্ন!
মনে হয় তিমীর রাতীর বেলায়
ঘুমায়ে গিয়াছে পৃথিবীর
সমস্ত কোলাহল
বেদনার বিষাদবিন্দু!

স্বপ্নদের লুকোচুরি
শেষ রাত্রির শেষ বেলায়
রাতের নিস্তব্দতাকে ম্লান করে
পৃথিবী এখন ক্লান্ত
বড্ড ক্লান্ত
সাড়ে সাত'শ বছর ধরে
এভাবে ক্ষণ যায়
প্রতিটি ক্ষণ····!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28824310 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28824310 2008-07-26 12:59:28
একটি আত্নাহুতি ও আমাদের সাংবাদিকতা দিনক্ষন ঠিক! যুবকটি আত্নাহুতি দেওয়া সময় বেঁধে দিল ২ জনের উপর। একজন! অপরজন! স্মার্ট, কর্মঠ একটি যুবক! ২ জনার পরিচয় সহপাঠি!
আত্নাহুতি দেওয়ার স্বাদ মানুষের মধ্যে তখনিই জন্মে যখন তার জীবনের চলার পথের শেষ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু বাস্তবে কি-তাই! হয়তো প্রশ্নের এই ব্যাপরোয়া উত্তর অনেকেরই অজানা।

লেখাটি'র সারমর্ম হয়তো অনেকে বুঝতে পারেনি! সেই জন্যে·····!

বেশ কিছুদিন আগে দুপুর বেলা আমার কাছে একটি ফোন আসে । আমার এক বন্ধু মীতু ফোনটি করে। সেও একজন ব্লগার। আমাকে বলে এখুনি ব্লগে বস! একটা পোস্ট দেওয়া আছে রিপোস্ট আমার অব্যাহতি শিরোনামে লেখাটি পড়। বোধদয় হল!

লেখাটি পড়ে বাস্তব জীবনের কতটুকু স্বাদ যে নিতে পেরেছি তা হয়তো কাউকে বোঝাতে পারবো না। পারবো না উনার মতো আরেকটি দুঃখের ইতিহাসের জন্ম দিতে! লেখাটি পড়লাম আর ভাবলাম এভাবেই হয়তো দুঃখের জন্ম হয়। হয়তো এভাবেই
পত্রিকার প্রতিটি পাতায়
প্রতিটি পৃষ্টায়
প্রতিটি বাক্যে
প্রতিটি শব্দে
প্রতিটি, প্রতিটি······ দুঃখ জন্মে।

কথা বলছি সেলিম জাহিদ নামের একজন ব্লগারের। যিনি একজন সাং বা দি ক। বিচ্ছিন্ন ক'টি শব্দের সাময়িক সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হওয়া একটি মানুষ।
যা হোক সেই দুঃখের হয়তো কিছুটা হলেও ইতিবৃত্ত জন্মেছে। জন্মেছে আরেকটি উপাখ্যান। রচনার রচয়ীতা হয়ে জয় করুক এই বিশ্ব এই কামনা করি।

দুঃসংবাদের বৃত্তান্ত না দিয়ে সুসংবাদের কিছু কথা বলতে চাই সেলিম জাহিদ ভাইয়ের । অবশেষে আমাদের নির্ভিক কলম সৈনিক বিশেষ মহলের চাপে দৈনিক যুগান্তর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সিনিয়র রিপোর্টার সেলিম জাহিদ একই পদে যোগ দিয়েছেন দৈনিক সমকালে। গত ১ জুলাই থেকে সেখানে কাজ করছেন। সমকালে এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো যোগদান। এর আগে পত্রিকাটির জন্মলগ্ন থেকে তিনি এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তথ্য আমাদের সময়

প্রায় আড়াই মাস পর কাজে ফেরা সেলিম জাহিদ বলেন, ১০ এপ্রিল একটি বিশেষ মহলের চাপে যুগান্তর কতৃপক্ষ আমাকে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পরামর্শ দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় কাজ করতে বলে। কিন্তু ১৭ এপ্রিল তাদের একটি অব্যাহতিপত্র আমার হাতে এসে পৌঁছায়। এরপর থেকেই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যদিয়ে দিন কাটাই। সমকাল সম্পাদক আবেদ খানসহ কতৃপক্ষের সম্মতিক্রমে মঙ্গলবার সমকালে যোগ দেই।

উলেখ্য, কুমিল্লার জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের দুর্নীতির রিপোর্ট লিখে যুগান্তর থেকে চাকরি হারিয়েছিলেন সেলিম জাহিদ। পত্রিকাটির শেষপৃষ্ঠায় প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছিল গত ৯ এপ্রিল। সেই রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রকাশিত বেশকটি অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিতও হয়েছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28816478 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28816478 2008-07-03 17:59:32
তোমায় ভাবতে ভাবতে..../ভাস্কর চৌধুরী মহাকাল
দেখা হয়না
তোমার সাথে!

মনে নেই
সেই দিনটি
সেই ক্ষণ, মাস, বছর!

জানা নেই
লাল,নীল, বেগুনী
কোন রংয়ের
শাড়ী পরেছিলে!
সেই বিদায় বেলায়।

মাঝে মাঝে
স্বপ্নে দেখি তোমায়!
তোমার অস্পষ্ট মুখখানি
শুধুই ভাসে!
ভাসে আলো ছায়ার খেলায়।

আজ বহুদিন পর!
মনে হয়.....!
আজ বড্ড বেশি
মনে পড়ে!
মনে পড়ে তোমার
গালে টোল পরা
সেই মৃদু হাসি!
ভাবনার গভীরে ভেসে যাই
তোমায় ভাবতে ভাবতে!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28813329 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28813329 2008-06-24 21:59:08
বিপর্যয়ের এগারো বছর........./ভাস্কর চৌধুরী ট্র্যাজেডি অব মাগুরছড়া

কাল পরিক্রমার বর্ষপঞ্জিতে আবার ঘুরে এলো ১৪ জুন। আর সেই সাথে যুগ হলো মাগুরছড়া বিপর্যয়ের আরো একটি বছর। ১৪ই জুন মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিষ্ফোরণের এগারো বছর পূর্তি হলো। ১৯৯৭ সালের এইদিনে মধ্যরাতে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে মাগুরছড়া ১নং অনুসন্ধান কুপে খনন চলাকালে এক ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ঘটেছিলো। প্রায় ৫০০ ফুট উপরে উঠেছিল সেই আগুনের লেলিহান শিখা।

বিষ্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল মাগুরছড়া গ্যাস ব্লকসহ রেলপথ, সড়কপথ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, আদিবাসি খাসিয়াদের পানপুঞ্জি ও বৈদু্ত্যিক লাইন। তখন অনেক চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল এই গ্যাস কুপটি। যার কারণে মাটির নিচে থাকা উত্তোলনযোগ্য প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে নষ্ট হয়েছিল (তদন্ত রিপোর্টে প্রকাশ) আর তখন থেকে ৬ মাসেরও অধিককাল ধরে উদঘীরিত গ্যাসের উৎসমুখ সীল করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৯ জানুয়ারি। সেই থেকে আজ অবদি এই দিনটি মাগুরছড়া দিবস হিসেবেই পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরই এই দিনটিতে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও তুলে ধরা হচ্ছে মাগুরছড়ার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৬ সাল সময় পর্যন্ত ২টি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতাসীন হলেও এর ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে কেউ কোন সুরাহা করতে পারেনি। ২০০৭ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাসীন হয়েও মাগুরছড়ার ক্ষয়ক্ষতি আদায়ে এখন পর্যন্ত তাদেরও কোন উদ্যোগ নেই। উপরন্তু মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টালের শেয়ার হাত বদল করে ইউনিকল ও সর্বশেষ শেভরন কোম্পানিকে আবারো মাগুরছড়া গ্যাসকূপের ১৪নং ব্লকে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমতি দেওয়া হয়।
একই সাথে দেশের ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে একটি মিশ্র চিরহরিৎ বর্ষরণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানেও তেল গ্যাস অনুসন্ধানের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে শেভরনকে। মাগুরছড়া গ্যাসকুপ বিষ্ফোরণের পরপরই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত একমাস অনুসন্ধান চালিয়ে ১৯৯৭ সালের ৩০শে জুলাই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব ডঃ তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরীর নিকট প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে।

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের খাম খেয়ালীর কারণেই ঘটে যাওয়া এ বিষ্ফোরণে চা-বাগান, বনাঞ্চল, বিদ্যুৎ লাইন, রেলপথ, গ্যাস পাইপ লাইন, গ্যাসকুপ, মৌলভীবাজার স্ট্রাকচার, গ্যাস রিজার্ভ, পরিবেশ প্রতিবেশ, ভূমিস্থ পানিসম্পদ, রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বনাঞ্চলের ৬৫·৫ হেক্টর এলাকার ২৫ হাজার ৬৫০টি পুর্ণবয়স্ক নানা বিরল প্রজাতির বৃক্ষ আগুনে পুড়ে গেছে বলে হিসাব করা হয়। একটি বনের স্বাভাবিক উচ্চতায় গাছ বাড়তে প্রয়োজন হয় ৫০ থেকে ৬০ বছর।

তদন্ত রিপোর্টের ৮·৪·৬ ও ৮·৬ অনুচ্ছেদ যথাক্রমে ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নিরূপনের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী মাগুরছড়ার মোট ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। তৎকালীন সময়ে বিশাল এ ক্ষতির বিষয়টি সরজমিনে প্রত্যক্ষ করতে পরিবেশ মন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও মাগুরছড়া এলাকা পরিদর্শন করেন। অক্সিডেন্টাল কোম্পানী ১৯৯৯ সালের আগষ্ট মাসে তাদের শেয়ার ইউনিকল নামের অপর মার্কিন কোম্পানীর কাছে হস্তান্তর করে দেয়। কিন্তু এর আগেই ১৯৯৮ সালে অিডেন্টাল তৎকালীন সরকারের সাথে মাগুরছড়ার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উহ্য রেখে একটি সাপ্লিমেন্টারি (সম্পূরকচুক্তি) করে নেয়। ইউনিকল দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্ষতি পুরণের বিষয়ে অসংখ্য বার বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়েল সাথে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এর সঠিক কোন সুরাহা হয়নি।

পরবর্তীতে ইউনিকল তাদের সবকিছু শেভরনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। সম্প্রতি শেভরন আবারো মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের অর্ন্তগত ১৪নং ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধান (সিসমিক সার্ভে) জরিপ কাজ শেষ করেছে। আর মাগুরছড়া বিষ্ফোরণে অিডেন্টালের নিকট থেকে বনবিভাগ তখন কোন ক্ষতিপূরণ আদায় করতে না পারার কারণেই আবারো লাউয়াছড়ায় জরিপ কাজ চালানোর অনুমতি দিতে হয়েছে শেভরনকে।

মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের মাগুরছড়া গ্যাসব্লকের অন্তর্গত এই গ্যাসত্রেটিও দেশের অর্থনীতি উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটাতে পারতো। তাই দেশ প্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় এ বিশাল অঙ্কের ক্ষতি। ১৮৭২ সালের চুক্তিআইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোন চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখা দরকার কোন চুক্তি যদি গণনীতির বিরুদ্ধে হয় ও জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থি হয় সেই ধরনের সকল চুক্তি বাতিলযোগ্য। তাই আশা করি বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জাতীয় স্বার্থ এবং বন স্বার্থ রক্ষা করতে মার্কিন কোম্পানির সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি পুর্ণঃবিবেচনা করে মাগুরছড়ার ক্ষয়ক্ষতি আদায় করতে উদ্যোগী হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28809177 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28809177 2008-06-13 18:31:09
জয় হোক পরিবেশের................../ভাস্কর চৌধুরী বিশ্বেও বিভিন্ন দেশের মতো আমরাও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করলাম বিশ্ব পরিবেশ দিবস দিনটি। আর পরিবেশের সংঘাতো আমরা শিখেছিলাম সেই প্রাইমারী শিক্ষাতেই। আমাদের চার পাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই পরিবেশ।

এই পরিবেশই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। আমাদের এই ভূখন্ডটিও টিকে আছে পরিবেশের উপর ভর করেই। বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। তাইতো পরিবেশ রক্ষার দায় আমাদেরই। কিন্তু আমাদের চালকের আসনে বসা কর্মকর্তারাই যখন পরিবেশ ধ্বংশের ছারপত্র দেন তখন সভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে তা হলে আর পরিবেশ দিবস পালনের প্রয়োজনটাই বা কি? গত জানুয়ারী মাসে বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের ছারপত্র পেয়ে দেশের দশটি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এক বৈশিষ্ট্যময় মিশ্র চির হরিত বর্ষারন্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ভূতাত্ত্বিক জরিপ কাজ শুরু করে ছিল মার্কিন তেল গ্যাস কোম্পানি শেভরন। সম্প্রতি তাদের এই জরিপ কাজ শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরে যখন ঘোষনা দিয়েছিল তারা জানুয়ারী থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে জরিপ কাজ শুরু করবে তখন থেকেই দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এর বিরোধীতা করে আসছিল। জরিপ পরিচালনায় পরিবেশ- প্রতিবেশ সহ উদ্যানের বন্য প্রানীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এই আশঙ্কায় স্থানীয় বন নির্ভর আদিবাসী ও সেখানকার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে একাধীক বার মানব বন্ধন পালনের খবর ও আমরা পত্রিকায় পড়েছি।

এমনিতেই দেশের ৮০ শতাংশ বন, বন দস্যু ও বন রক্ষা নামের কিছু বন বকক্ষ কর্মকর্তাদের যোগ সাজশে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বনাঞ্চলের গাছপালা তো আমাদের পরিবেশের আভিচ্ছেদ্য এশটি অংশ। বনের সবুজ নির্মল পরিবেশের গুরুত্বও অপরিসীম। গাছপালা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য পানি, খাদ্য, ও অক্সিজেনের যোগান দাতা। আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানতো শুধু একটি সংবেদনশীল বনই নয়, এটি বিশ্বের দুর্লব আর বিলুপ্ত প্রায় অনেক উদি্‌ভদ ও প্রানীর আবস স্থল। দেশের বিলুপ্ত প্রায় উল্লুক তাদের শেষ আশ্রয় স্থল হিসাবে বেঁচে নিয়েছিল এই বনাঞ্চলকেই। সম্প্রতি মার্কিন বন্যপ্রানী গবেষক ড·এলিয়ট হাইমফ লাউয়াছড়ার উপর একটি তথ্য চিত্র নির্মান করে গেছেন।

এখানে আমার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার নিকট সবিনয়ে জানতে ইচ্ছে করছে, আমাদের পরিবেশ বাঁচলে আমরা বাঁচবো। বাঁচবে আমাদের এই ভূখন্ডটি। তবেই তো উন্নয়ন। আমরা যদি আগেই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গাত ঘটিয়ে পরিবেশ ধ্বংশ করে দেই তাহলে কিসের উপর ভর করে বাঁচবো আমরা, বাঁচবে এই ভূখন্ডটি। তখন এই উন্নয়ন কি প্রয়োজনে আসবে আমাদের। নাকি ধনী দেশগুলোর বিলাসী জীবনের তেল ও গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য আমরা আমাদের পরিবেশ প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যকে শেষ করে দিচ্ছি।

লাউয়াছড়ারই একটি অংশ মাগুরছড়া ও ছাতকের টেংরা টিলার কথা এখনও ভুলে যাই নি আমরা। ১৯৯৭ সালে মাগুরছড়ায় ব্লু আউটের ফলে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে নষ্ট হওয়া পরিবেশ প্রতিবেশ এখনও ফিরে আসেনি। ১৯৯৭ সালের পরিবেশ সরণবিধিমালা ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ১৯২৭ সালের বন আইনকে উপেক্ষা করে আমরা যদি উন্নয়নের দোয়াই দিয়ে আমাদের পরিবেশকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেই তাহলে পরিবেশ প্রতিবেশ রার নামে কেন এত আইন এত নীতিমালা। আমাদের পরিবেশকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। তাই আজ এই হোক প্রার্থনা উন্নয়ন ও পরিবেশের সংঘাতে জয় হোক পরিবেশের।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28806883 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28806883 2008-06-06 18:45:29
নীল আকাশ আমি বলে দিলাম........../ভাস্কর চৌধুরী নীল আকাশ আমি বলে দিলাম
আমার অব্যক্ত কথা.....!
আমার ভাবনার কথামালা
এক এক করে জমা হয়
সেই আকাশের......!

নীল আকাশ আমি বলে দিলাম
আমার ভালবাসার বিন্দুকণা........
আজও চেয়ে আছে
সম্মুখ পানে!

নীল আকাশ আমি বলে দিলাম
পৃথিবীর ভালবাসা হবে তোমাতে আমাতে
তোমার অঙ্গস্পর্শী জলকণা
আমায় স্পর্শ করে
আমি আবেগ-আপ্লুত হয়ে যাই
ক্ষণে ক্ষণে...!

নীল আকাশ আমি বলে দিলাম
আমার চাওয়ার সীমানা বড় দীর্ঘ
আমার ব্যপৃত বাসনাগুলো
এক এক করে জড়ো হয়
ভাবনার রাজ্যে!


নীল আকাশ আমি বলে দিলাম
তুমি জানোনা....!
তোমার দৃপ্ত শপথ তাকে আমার প্রতি
আরো নিবিড় করে
আমি চেয়ে থাকি..........!

নীল আকাশ আমি বলে দিলাম
তোমার চোখের চাহনি
তার উম্মাতাল গালে টোল পড়া হাসি
আমি শুধুই দেখি
যেন শুধুই চেয়ে থাকা
চেয়ে থাকা!

নীল আকাশ আমি বলে দিলাম
আমার আজন্ম তৃষ্ণায়
শুধু তুমি আর আমি
তোমার রাজ্যের গতিসীমা
এক হয়!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28800541 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28800541 2008-05-20 19:30:05
মায়াবিনী চোখ................../ভাস্কর চৌধুরী টানা পোড়নের দিনগুলো সবে, স্মৃতির পায়রা মেখে।
শুনেছে আকাশ দিগন্ত নীল, ললাটে - মলাটে ভাসে
বোবা মেয়েটি'র মায়াবিনী চোখ, সেই নীল ভালবাসে।



ভালবাসাবাসি ঘনিয়ে এসেছে, পদ্ম পড়েছে জলে
প্রজাপতিদের ফিস ফিস কথা, চাঁপা বকুলের তলে।
সে ভালবাসায়, ইতি টেনে যায়, টানা পোড়নের ছায়া
মেয়েটি শুধুই আলগোছে তার, কুড়িয়ে নিয়েছে মায়া


সেই মায়া লেগে চোখ দু'টি তার, বরষা মেঘের জল
ঝরে ঝরে পড়ে। নদী বয়ে যায়। আর জলে কোলাহল।
সাঁঝ বেলাতে, সেই জলে ধুয়ে চলেও গিয়েছে দুরে
মেয়েটি একাকী উদাস হয়েছে ধূলো ওড় রোদ্দুরে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28797263 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28797263 2008-05-13 12:22:21
ব্লগার শেখ রহিমের পিতা ইন্তেকাল করেছেন সা. ই. এর ব্লগার শেখ রহিমের পিতা আজ ২৮এপ্রিল সকাল ১১ ঘটিকায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ........ রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়েস হয়েছিল প্রায় ৮২ বছর।

আপনারা সবাই উনার জন্যে এবং শেখ রহিম ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্যে দোয়া করবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28792128 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28792128 2008-04-28 14:31:17
হামদের দেখার কেউ নাই........./ভাস্কর চৌধুরী হামরা চার দিন ধইরে না খেয়ে আছি বাবু। দুই লেরকা আর বউ লিয়া চাল বাইজে লবন চা খাইতেছি। হামদের দেখার কেউ নেই। ৩১ টাকা হাজরি লিয়া ১ কেজি চালের পয়সা হয়না। হামদের মরন আইছে বাবু। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে প্রচন্ড ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই কথা বলছিলেন সিলেট বিভাগের ভাড়াউড়া চা বাগানের গোপাল ভূইয়া নামের এক চা শ্রমিক।

গতকাল সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় গোপাল ভূইয়া তার বউ আর ছেলে-পুলেদের নিয়ে কিভাবে যে দিনাতিপাত করছেন তা কেই সচক্ষে অবলোকন না করলে বিশ্বাস করতে পারবে না।
বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সাথে চা শ্রমিকরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছেন। কথা হয় একই চা বাগানের রামপ্রসাদের সাথে। সে জানায়, সকালে লবন লিয়া লাল চা খায়েছি (খেয়েছি) বাবু। একবেলা রাইতে খাইলে দুইবেলা উপোস থাকি। হামদের (আমাদের) অনেক সমস্যা আসে। হামরা (আমরা) মাছ, মাংস খায়েনা কয় বছর যে হইছে কইতে পারিনা। একই বাগানের প্রতীমা রানী তাঁতী বলেন, বাগানে ভাতের জন্য হাহাকার চলছে। ভাত নাই, কাপড় নাই, তরকারী রানবার লবন মরিচ নাই। সকালে চিড়া খাইয়েছি (খেয়েছি) এখন পর্যন্ত পাচঁটা বাইচ্ছা নিয়া আছি। বাগানের কিনার থেকে কচুঁ শাক, কাটা শাঁখ তুইলে (তুলে) আনছি। লবন দিয়া সিদ্ধ কইরা রাইতে খায়েমি (খাব)।

চা শ্রমিকদের প্রচন্ড ক্ষোভ আর দুঃখ কষ্টের দিনাতিপাত কিভাবে কাটছে তাদের কথায় হয়তো কিছুটা ফুটে উঠে। কিন্তু বাস্তবে বড়ই হৃদয় বিদারক। ভাড়াউড়া চা বাগান, পুটিয়াছড়া চা বাগান, কালিঘাট চা বাগান, টিপড়াছড়া চা বাগান, খেজুড়ি ছড়া চা বাগানসহ বিভিন্ন বাগানে দেখা গেছে একই পরিস্থিতি। যেনো চা বাগান শ্রমিকদের অবস্থা দিনে দিনে কাহিল হয়ে পড়েছে। কাহিল হয়ে পড়েছে তাদের দৈনন্দিন জীবনের গতিধারা। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারে ১কেজি মোটা চালের যে দাম তার চেয়ে ৫টাকা কম একজন চা শ্রমিকের মজুরী। এই মজুরীর টাকা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা ভালভাবে এক বেলা পেটভরে খেতে পারেনা। যেনো তাদের আয়ের সাথে ব্যায়টা বড়ই বেমানান।


নিউজ সংগ্রহের জন্য খুব সকালে উঠে শ্রীমঙ্গলের পুটিয়াছড়া চা বাগানে হাজির হই। গিয়ে দেখা যায় তাদের উঠুন একবারেই পরিষ্কার। ঝেড়েজুঁড়ে হাতের কাজকর্ম সেরে নাস্তা করবে। বাবুল কুর্মী নামের এক চা শ্রমিকের বাড়িতে ডুকে পরি। সে জানায়, হামরা চাল বাইজে (বেজে) কাঁচা চা পাতা দিয়ে লাল পানি জ্বাল দিয়ে খাইবেক (খাব) বাবু। জিজ্ঞাস করি রাতে কি খাবে? বউকে বইলবো (বলবো) নদীর কিনার থাইকে (থেকে) কচু শাক, ফুলি শাখ, কচুর মুড়া নিয়া আইনবার জইন্যে (জন্য)। হামরা (আমরা) শুধু লবন দিয়ে সিদ্ধ করে খাইবেক বাবু। এভাবেই দিনের যাত্রা রাতের শেষ অধ্যায়ের সূচনা করে চা বাগান শ্রমিকরা। আগে দু-এক গ্লাস হারিয়া খেলে দ্বিগুন দামে যুগের রীতির অভ্যাসটুকুও হয়তো ভূলে যাবে তারা।

পুটিয়াছড়া ঘুরে আসতে আসতে দুপুর ঘরিয়ে যায়। এসে পৌছি লাখাইছড়া চা বাগানে। সেখানে এসে সাংবাদিক পরিচয় যেনে ক্ষোভের সঙ্গে এক চা শ্রমিক বলেন, কেনে হামদের (আমাদের) লিয়া (নিয়া) লিখেন। পত্রিকায় ছাপলে হামদের (আমাদের) কি লাভ। হামদের (আমাদের) দেশ স্বাধীন কইরা কি লাভ হইলো। হামরা কি এইদেশের জনগন না··? (হয়তো এই প্রশ্নের উত্তরটি আমার জানা নেই)

লাখাইছড়া চা বাগান থেকে কালিঘাট চা বাগান। বাগানের সাবেক পঞ্জায়েত সভাপতি বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের বাসস্থান আছে কিন্তু ৩১ টাকার মজুরী দিয়ে ৩৬ টাকার চাল কিনা সম্ভব হয় না।
এক বাগান থেকে আরেক বাগান ঘুরেই একই বানী বার বার ঘুরে আসে। সাধারণ এই চা শ্রমিক বাগানে খেটে খাওয়া হতদরিদ্র চা শ্রমিকদের সবারই একই কথা তাদের মজুরী আরও বাড়ানো।
চা শ্রমিক ইউনিয়ন, চা শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি ও স্থানীয় চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের মজুরী অত্যন্ত নগণ্য। একজন ভিক্ষুক দিনে যা ভিক্ষা করে চা শ্রকিকের একদিনের মজুরীর চেয়েও বেশি।

( শ্রমিকদের অবর্ণনীয় এই দুঃখগাথাঁ কথাগুলো শুনতে যতটা কষ্ট হয়েছে তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে তাদের নিয়ে লিখতে। হয়তো পাঠকের কাছে কষ্টের আবরণের কিছুটা ষ্পর্শ গায়ে লাগবে। কিন্তু সাময়িক ক্ষনের জন্য হলেও ওদের নিয়ে ভাবতে হবে......।)

হামদের দেখার কেউ নাই···! দেখার কেউ থাকলে কেউ দেখে না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28788171 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28788171 2008-04-15 21:43:04
ওরা সবাই বাই সাইকেল বালিকা......./ ভাস্কর চৌধুরী
সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার চা শিল্পাঞ্চল শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশীদ্রোণ গ্রামের বেগম রাছুলজান-আব্দুল বারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু কিংবা শেষ হলে এমন মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। তবে এই সব কোমলমতি শিক্ষর্থীদের পিছনের কাহিনী সুখকর নয়। শুধু শিক্ষার আলো পেতে প্রতিদিন এত দূরের পথ পাড়ি দিচ্ছে তারা। ওরা কেউই ধনী ঘরের সন্তান নয়। চা শ্রমিক ,ইদন মজুর বাবা কিংবা মা এলাকার সঞ্চয় সমিতি থেকে কিস্তিতে টাকা মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাই সাইকেল কিনে দিয়েছেন। তবুর শিক্ষার আলো পৌচুক তাদের ঘরে এটাই প্রত্যাশা।

প্রতিদিন চা বাগান আর ১০ কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে যখন স্কুলে পৌছে এই সব সাইকেল বালিকারা কখনো কখনো স্কুলের ক্লাস শুরু হয়ে যায়। চোখ জুড়ানো চা বাগান আর ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে আঁকাবাঁকা পিচঢালা সরু পথ নিবিগ্ননে পেরোতে অনেক কষ্ট করতে হয়। আছে বখাটেদের উৎপাত, দূর্ঘনার আংশকা। তবু থেমে নেই পথচলা। পরনে স্কুলড্রেস। কাঁধে বইয়ের ব্যাগ মুখে অমলিন হাসি।

প্রথম যে ছাত্রী ২০০০ সালে বাই সাইকেলে চড়ে স্কুলে এসেছিলন তার নাম লাবনী কুর্মী । সে এখন এইচ এস সি'র ছাত্রী। তার পথ অনুসরন করে এখন স্কুলে আসে অসখ্য চাত্রী।
সুদুর লাখাইড়া চা বাগান, দনি টিকরিয়া, হোসনাবাদ, কালিগাট থেকে মেয়েরা আসে বাইসাইকেলে চড়ে। কালিঘাট পোষ্ট অফিস হয়ে কাচা রাস্তা ধরে তাদের বিরামহীন ছুটে চলা। মাঝে পিপাসা মিটাতে একটু বিরতি। তখন কথা হয় তাদের সাথে। ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী রিনা রাণী কুর্মী, ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী পিপাসা রাজঘাট, তৃষনা কুর্মী, ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী দিপিকা তাতী, রিনা রানী জানায়, পড়াশুনার অনেক খরচ। তবু তাদের পড়াশোনা করে অনেক বড় হতে হবে। তাদের এলাকা থেকে স্কুলে আসতে গাড়ী কিংবা রিক্সা পাওয়া যায়না । পেলেও আসতে যেতে এক'শ টাকা লেগে যায়। তাই বাইসাকেল কিনে দিয়েছেন তাদের বাবা মা।

আসতে যেতে প্রথম প্রথম বখাটে ছেলেদের উৎপাতসহ ছোট খাট অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতো। বিশেষ করে দীর্ঘ পথ কাচা রাস্তা থাকায় বর্ষা মৌসুমে পিচ্চিল পথে দূর্ঘটনা ঘটতো। এখন সবই সহে গেছে। রাস্তায় তাদেরকে মানুষ সাবাস বাই সাইকেল বালিকা বলে ডাকে। রিক্সা কিংবা বড় গাড়ী তাদেরকে সাইড দিয়ে চলার পথকে সুগম করে দেয়। এতে তাদের এই যাত্রাকে প্রেরনাময় মনে হয়। এমন কথা জানালো বাইসাইকেল বালিকা ঝুমুর রানী নাগ, তৃষ্ঞা বৈদ্য, নাজমিন আক্তার, নিপলি তাতী প্রমূখ। তাদরে যাত্রা কখনো দশ কিঃমিঃ আবার কখনো তিন কিঃমিটার। কেউ কেউ কাছাকাছি থাকে বলে তাড়াতাড়ি চলে আসে। আবার বৃষ্টির দিনে আসতে খুব কষ্ট হয়। রাস্তাটা পাকা থাকলে এমন হতো না।
তারা হেসে বলে বাইসাইকেল চালানো না জানলে কিংবা এই বাহনটি না থাকলে হয়তবা লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেত। তারা পড়তে চায়। তবে তাদের আফসোস যদি সরকারী ভাবে কোন যানবাহন থাকতো স্কুলে আসার জন্য তাহলে এত কষ্ট করে আসতে হতো না।

এখন তাদের দেখে অন্য মেয়েরাও উৎসাহ বোধ করে সাইকেলে আসতে। স্কুলের সহপাটিরা টিফিনের ফাকে শিখে নিচ্ছে সাইকেল চালানো।
রাসুলজান উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক বিমান বর্ধন ছুটিতে ছিলেন কথা হয় সহকারী প্রধান শিক সুশান্ত দেবনাথ এর সাতে, তিনি জানান, মেয়েরা বাই সাইকেলে চড়ে স্কুলে আসে এটা একটা রীতির মত হয়ে গেছে। তবে তিনি চান না এসব কোমল মতি ছাত্রীরা অনাকাংখিত দূর্ঘটনার শিকার যাতে না হয়। স্কুলের সহকারী শিক অঞ্জন পাল, শিখা শর্মা, রিনা বিশ্বাস জানান, যদি রাস্তাটা পাকা হতো তাহলে তাদের মেয়েদের এত কষ্ট হতো না। তাছাড়া যদি সরকারী ভাবে কোন যানবাহনের ব্যবস্থা করা হতো তবে তাদের কষ্ট লাগব হতো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28785734 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28785734 2008-04-06 23:00:11
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়া উচিত, কারণ............
একবার ভাবুন একটা অনুষ্টানে আপনি ( যারা নিজেদেরকে দেশ প্রেমিক মনে করেন ) অতিথি হয়ে গেছেন। মঞ্চের সামনে অসংখ্য সুন্দরী, যুবতী কন্যা, বৃদ্ধা, নরনারী, ছোট শিশু বসে আছে। মঞ্চের একপাশে কিছু যুবক দাড়িয়ে আছে। চোখ বুঝে চিন্তা করুন হঠাৎ সেখানে কিছু হিংস্র দানব ঝাপিয়ে পড়ল মঞ্চের এইসব অসংখ্য সুন্দরী, যুবতী কন্যা, বৃদ্ধা, নরনারী, ছোট শিশুর উপর। নিবিচারে চললো গণধর্ষন ও হত্যা। নির্যাতিত এইসব মানুষ আপনার বোন অথবা ভাই, মা বাবা।
ঠিক এ সময় মঞ্চের এক পাশে দাড়ানো ঐ যুবকরা ঝাপিয়ে পড়ল হিংস্র দানবদের প্রতিহত করতে। প্রতিহত হল আবার শুরু হল অনুষ্টান। আমার কাছে মুক্তিযোদ্ধারা সেই প্রতিবাদী যুবকদের মত। তাহলে সেই যুবকদের ( মুক্তিযুদ্ধা) যদি গায়ের চামড়া দিয়ে জুতো বানিয়ে দেয়া যায় তবুও কি তাদের ঋন শোধ হবে?
আমার প্রশ্ন মুক্তিযোদ্ধারা যখন খেতে পারেনা ওষুধের অভাবে ধুকে ধুকে মারা যায়। আর সেইসব তথাকতিথ দেশ প্রেমিকরা লেকসাস গাড়ির ঠান্ডা হাওয়া খেয়ে মঞ্চে গিয়ে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য শেষে ভুলে যান কাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছিলেন। তখন তাদেরকে কি উপাধি দেয়া যায় ? চোখ বুঝে একটু ভাবুন। যদি আপনার বিবেক তারা করে উত্তরটা নিজেই খুঁজে নিবেন। স্বাধীনতা মানে কি ? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28783247 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28783247 2008-03-28 18:52:38
সুখ দুঃখের ইঞ্জিন............../ভাস্কর চৌধুরী
(উৎসর্গ- সেই মেয়েটিকে··· যাকে আজ খুববেশী মনে পড়ছে·············!!!)

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে ফিরছি। পাহাড়ীকা এক্সপ্রেস। যথারীতি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয়েছে। সিএনজিতে করে সময়মতই স্টেশনে পৌছলাম। তারপরও জ্যামের কথা নাইবা বললাম······! বিদায় চট্টগ্রাম। স্লো ইমোশন নিয়ে ট্রেন চলছে। ঝিক টিক, ঝিক টিক·······!

আসলে মন ভালো থাকলে যেকোন জার্নিতে খুব মজা হয়। সেদিন মনটা এক্সিলেন্ট ভালো ছিল বটে। ও··হো···পাশের যাত্রীর সাথে পরিচয় হয়নি। ইসকিউজ মি বলতেই········ মিঃ সাইদুল হক। চট্টগ্রামস্থ একটেল কোম্পানীতে আছেন। আলাপ আলোচনা জমে উঠছে। ফেনী। ট্রেন থেকে ফেনী শহরকে একপলক দেখে নিলাম। আবার চলছে ট্রেন। একটু ঘুম ঘুম। কখন যে ঘুম চলে আসলো টেরই পেলাম না। ইতিমধ্যে লাকসাম স্টেশনও পার হয়ে গেছে। রাতে তেমন একটা ঘুম হয়নি বলে ঘুমটা একটু বেশী চেপে বসেছিল। তাই ঘুমের রাজ্যে বিক্ষিপ্ত স্বপ্নও দেখেছিলাম।

হঠাৎ! হাঠাৎ চমকে উঠলাম! দেখি একটা মেয়ে আমার পা চেপে বসে আছে। কিছুই ভেবে উঠতে পারলাম না। কি এক বিব্রতকর অবস্থা ভাবাই যায় না।
মেয়েটিকে বললাম-কি আশ্চর্য! পা ছা-ড়ো ? আবার বললাম প্লিজ পা-ছাড়ো ? কিন্তু কে শোনে কার কথা! মায়াবী একটি চেহারা নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। লজ্জার বিন্দুমাত্র ভাবটি তার মদ্যে নেই।
কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। মানিব্যাগটি বের করলাম। ভাবলাম হয়তোবা ভিক্ষাবৃত্তির একটা নমুনা। কি আর করা ৫টাকার একটি নোট বাড়িয়ে দিলাম····!
হঠাৎ····! আমার পাশে বসা সেই লোকটি এমন একটি মন্তব্য করলেন······! ভাবতেই পারিনি।
বললেন-পা ধরার আর জায়গা পেলো না! শেষে কিনা·····················!
মন্তব্যটা শুনে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো।

বোধহয় লজ্জার শেষ এবং প্রথমাংশের রচয়িত হয়ে গেলাম। বয়সের মাপকাঠিতে এ সমাজের কাছে মেয়েটি বরই বেমানান। বয়সটা ১৪/১৫ তে পারা দিয়েছে হয়তো····! রাস্তার মেয়েদের একটা নাম আছে "ছেমরি"! সবাই হয়তো মেয়েটিকে ছেমরি নামে ডাকে! পুরনো একটা সেলোয়ার কামিজ গায়ে জড়িয়ে আছে। কিছুটা ছেড়া!
যাক ৫টাকার নোটটি হাতে নিয়েছে। হয়তোবা খুব একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে বেচেঁ গেলাম! এ যাত্রায় হয়তো বাচাঁ গেলো বলে·······একটা দীর্ঘনিশ্বাস নিলাম।
দেখলাম মেয়েটির চোখ দুটো বেয়ে কিছুটা অশ্রশিক্ত হচ্ছে!
হয়তোবা দুঃখের ঘরে বসবাস ;
মেয়েটি উঠে দাড়ালো।
পা ধরার কারণটা জিজ্ঞাস করলাম?
কিন্তু জবাববিহীন!

জানালার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ভাবলাম মেয়েটি হয়তো চলে যাবে। হঠাৎ মেয়েটি ইশারা ইঙ্গিতে কি জানি বোঝাতে চেষ্টা করলো! কিছুই বুঝলাম না।
পাশের লোকটি বলে উঠলো-মেয়েটি বোধহয় বোবা!
এ ধারণাটাই করে বসলাম আমি। মেয়েটি আবার চেষ্টা করলো কিছু বোঝাতে। কিন্তু····!
মায়াবী একটি চেহারার চাহনী নিয়ে মেয়েটি চলে গেলো ট্রেনের আরেকটি কামরায়·····!
মনের রাজ্যে ভাবলাম মেয়েটি নির্বাক। বাকশক্তি হয়তো হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু কি বলতে চেয়েছে! কি ছিল তার অব্যাক্ত কথাগুলো! কিসের মায়া নিয়ে এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল!
শুধুই কি ৫টাকার একটি নোটের জন্য ; নাকি·········!
না······হ····!
হয়তোবা·····!

তার অব্যক্ত কথাগুলো এখনো আমাকে ভাবায়। হয়তোবা মেয়েটির সাথে আমার আবার দেখা হবে। দেখা হতে পারে। বাকশক্তিহীন সেই মেয়েটি কি আবার বলতে পারবে·····?
মেয়েটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে সেই ট্রেনের জার্নি! মনে পড়ছে সেই এম·সাইদুল হক সাহেবের কথা। ট্রেনের ইঞ্জিনের মত মানুষের ইঞ্জিনটা খুব দ্রুত চলে হয়েতা ·····! সুখ দুঃখের এই পৃথিবীতে সবকিছু কেমন যেনো·····কিছুটা গরমেলে····কিছুটা ·····!


সুখ দুঃখের ইঞ্জিন প্রথম পর্ব

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28781131 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28781131 2008-03-21 10:34:42
কষ্টের তীব্রতার মাঝেও ওরা বেচেঁ আছে...../ভাস্কর চৌধুরী যেনো মেঘেরা আসে দলবেঁধে.......
চলে যায়......
রেখে যায় বন্যা
হয় প্লাবিত , বিরানভূমি
কষ্টের তীব্রতাকে বাচিঁয়ে রাখে
সদ্য তোলা ঘরের টিনের চালে গিয়ে
একটু আশ্রয়!
ঘরের চারদিকের বাশঁগুলো নিরুপায়
ওরা কাপছে, আর বলছে
আর পারছি না! এবার নীচে নামো....!

হ্যালিপেড চড়ে আসে নেতারা
একটু আশ্রয় প্রশয় দেবে বলে....!
ঠাঁই হয় সাড়ে সাততলা ভবনের নীচে
ঠাঁই হয় সাড়ে সাত'শ লোকের!
যেনো কষ্টের তীব্রতা মলীন হয়ে যায় নিমেষেই!

মোটা চাল দিয়ে খিচুরী আর স্বস্তা চিরা
আজকের অন্য আর আগামীর জন্য হয়ে যায়!
ওদের বড় বড় বাণীগুলো নিমিষেই ক্ষয়ে যায়...
হয়তো বুঝতে পারিনা বলে.....!

(সুলতানা সিরীন সাজি'র ‌শুভেচ্ছা স্নিগ্ধতায়' লেখাতে মন্তব্য করতে গিয়ে মনে পড়ে গিযেছিল সেই সিডরবাসীর কথা! বরফ দেশের বরফের আনন্দ যেখানে মানুষকে আনন্দ দেয় সেখানে আমাদের দেশে বন্যা আর ক্ষরায় তাদের কষ্টে তীব্রতা যে কতটা কষ্টময় তা হয়তো কেউই জানেনা! জানতে চায়না....! সেখানে নিউজ করতে গিয়ে কিছুটা হয়তো উপলব্দি করতে পেরেছি! আর তাই দু'একটি লাইন লিখলাম............!)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28780313 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28780313 2008-03-18 22:34:08
আমাকে আর দোররা মারবেন না........... ? হুজুর! হুজুর আমাকে ক্ষমা করবেন.....!
আমাকে আর দোররা মারবেন না ?
আপনি জানবেন যে, আমি নষ্টা নই!
কলঙ্কিনী নই! আমি সতি; সতিসাধ্যি!!!

তবুও সমাজ আমার কথা শুনেনি! জানতে চায়নি আমার কষ্টার্ঘাত!
বেত্রাঘাতের শাস্তির বিধান করলো আমার......!
মহাজন, মাতবর ও সমাজের নারী-ভূরিরা,
মসজিদ, মন্দির ও গীর্জা প্রধানের নেতারা!
আমার কপালে একে দিল দোররানামার কলঙ্ক!

আমি বলেছি......
হুজুর! হুজুর আমাকে ক্ষমা করবেন.....!
আমাকে আর দোররা মারবেন না ?
আপনি জানবেন যে, আমি নষ্টা নই!
কলঙ্কিনী নই! আমি সতি; সতিসাধ্যি!!!

আমার স্বপ্ন বিবর্চিত আশা ভরসা ভেঙ্গে দিল ওরা!
এখন পঙ্গুত্ব স্বামী, ছেলেপুলের কি হবে...?
আর কি পারবো!
সমাজপতিদের সমাজে মাথাতুলে দাঁড়াতে !
যে আমি নষ্টানামায় দোররা পেয়েছি পুরুস্কার!

আমি বলেছিলাম......
হুজুর! হুজুর আমাকে ক্ষমা করবেন.....!
আমাকে আর দোররা মারবেন না ?
আপনি জানবেন যে, আমি নষ্টা নই!
কলঙ্কিনী নই! আমি সতি; সতিসাধ্যি!!!

আমার রুপ যৌবন কাল হল! দেহখানি কেড়ে নিল ওরা!
অঙ্গে কালি মেখেও রেহাই মেলেনি আমার....;
ওদের কুপ্রস্তাবে রাজী হয়নি ....!
তাই কি আমার অপরাধ !
সেইদিন বিচারশালায় এই বলেছিলাম,
ওরা শোনেনি! বিচারনামায় আমি নষ্টা....!

সেইদিন আমি বলেছিলাম......
হুজুর! হুজুর আমাকে ক্ষমা করবেন.....!
আমাকে আর দোররা মারবেন না ?
আপনি জানবেন যে, আমি নষ্টা নই!
কলঙ্কিনী নই! আমি সতি; সতিসাধ্যি!!!

জ্বলন্ত আগুনের ফুলকি থেকে লোহার দন্ড আমার কপালে
দেওয়া হল ! কি কষ্ট, যেনো আকাশ-পাতাল দ্বিখন্ডিত হল।
মনে হল এর চেয়ে মৃত্যুই কাম্য! কিন্তু না......
মৃত্যুক্ষুধা যে আমাকে পোড়াবে....!
আমার ছেলেপুলে, পঙ্গুত্ব স্বামীর কি হবে ?

আমি বলেছি......
হুজুর! হুজুর আমাকে ক্ষমা করবেন.....!
আমাকে আর দোররা মারবেন না ?
আপনি জানবেন যে, আমি নষ্টা নই!
কলঙ্কিনী নই! আমি সতি; সতিসাধ্যি!!!

আজ আমি সমাজপতিদের সমাজে কীটমাত্র, নষ্টানারী,
বেশ্যা নামের উপাখ্যান!
এর জন্য কে দায়ী.......?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28778762 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28778762 2008-03-13 11:23:32
১৯৭১ ট্রাজেডিঃ মুক্তিযুদ্ধে চা শ্রমিকদের ঐতিহাসিক দলিল....
মুক্তিযুদ্ধে চা শ্রমিকদের কিছু দলিলনামা

এই যুদ্ধে চা শ্রমিকদের অনেক বধ্যভূমি রচিত হয়; লুণ্ঠিত হয় অনেক মা-বোনের ইজ্জত। চা শ্রমিকরা হারিয়েছিল চা সমাজের অসংখ্য সংগ্রামী ও যোগ্য নেতাকে।

১৯৭১ সালের ১ মে ভাড়াউড়া চা বাগানের প্রবেশমুখে একটি ছড়ার পাড়ে একসঙ্গে ঝরে পড়ে ৫৭ জন চা শ্রমিকের তাজা প্রাণ। সেদিন ছিল শুক্রবার। বেলা প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে পাকহানাদার বাহিনীর ১২টি এলএমজি একসঙ্গে গর্জে উঠেছিল সারিবব্দভাবে দাঁড়িয়ে থাকা চা শ্রমিকদের ওপর। সেদিন পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন বিশ্বময় হাজরা, গংগা বাড়ৈ, ভোমর চাঁদ, অমৃত হাজরা, রামচরণ গৌড়, গবিনা গৌড়, কৃষষ্ণচরণ হাজরা, রবিনা গৌড়, হক হাজরা, বংশী মৃধা, শিব মোড়া, মোংরা তুড়িয়াসহ নাম না জানা ৫৭ জন চা শ্রমিক। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে সাতগাঁও (মাকরী ছড়া) চা বাগানে আপনা অলমিকসহ আরো ৬/৭ জন চা শ্রমিক পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে তৎকালীন পাক হানাদার বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে যখন বুঝতে পেরেছিল পরাজয়ই তাদের সুনিশ্চিত, তখন গোটা বাঙালি জাতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য শুরু হলো বুদিব্দজীবী হত্যা।

সেই নিস্পেষিত কালো থাবা থেকেও রেহাই পায়নি চা শ্রমিকরা। চা শ্রমিক সমাজের অগ্রনায়ক, নিপীড়িত নির্যাতিত চা শ্রমিকদের জাগ্রত করায় যার ছিল অগ্রণী ভূমিকা, আপসকামী নেতৃত্ম্বের বিরুদ্ধে যিনি ছিলেন বিদ্রোহী বীর, সেই পবন কুমার তাঁতিকেও পাক হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। চারদিন বন্দি রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর।
কালীঘাট চা বাগানের শিববাড়ী বস্তির দাশিবাড়ী থেকে ধরে নিয়ে যায় তাকে। চা শ্রমিকদের মধ্যে পবন কুমার তাঁতি ছিলেন প্রথম গ্রøাজুয়েট। ১৯৪১ খ্রিষ্টাবদ্ধে রাজঘাট চা বাগানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬২ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে বাগানে চলে আসেন তিনি। ১৯৭১ সালে ৪ ডিসেম্বর ভোরে পাকবাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে। শ্রীমঙ্গল শহরের ওয়াপদা (তৎকালীন) বর্তমান পল্লী বিদ্যুতের কাছে একটি ছড়ার মধ্যে পবনের লাশ ফেলে রেখে চলে যায় পাকবাহিনী। রাজঘাট চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি বসু তাঁতিকেও পাকবাহিনী ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে দেশের বীর বাঙালির সঙ্গে চা শ্রমিকরাও যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করলেও স্বাধীনতার ৩৬ বছর পরও চা শ্রমিকরা মুক্ত হতে পারেনি অত্যাচার, অবিচার, শাসন ও শোষণের জাঁতাকল থেকে।

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে জয়ী হলেও সিন্দুরখান চা বাগানের সুধীর দাশ, রাজঘাট চা বাগানের পবন খড়িয়া ও কেজুরী ছড়া চা বাগানের চন্দ কাটারের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধা চা শ্রমিকরা জীবন যুদ্ধে আজ পরাজিত। আজ কেউই তাদের খোঁজ রাখছেন না। ছাত্র-জনতার সঙ্গে সেদিন চা শ্রমিকদের রক্তও একই মোহনায় মিলিত হয়ে অর্জিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। জাতি পেয়েছিল লাল সবুজের পতাকা।

শোষণের অবসান ঘটিয়ে একটি সুখী সমৃদিব্দশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে চা শ্রমিকরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু আজও চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার ইতিহাসের অবসান হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে চা শ্রমিকদের আত্মহুতির প্রায় ৩ যুগে পদার্পণ। এই একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগেও চা শ্রমিকরা রয়ে গেছে সেকালেই। আজও অত্যাচার ও শোষণের চাকায় পিষ্ট চা শ্রমিকদের জীবন। আজ মুক্তিযোদ্ধ চা শ্রমিক ও যুদ্ধাহত চা শ্রমিকদের জীবনযাপন দেখলে মনে হয়, হয়তো জন্মই তাদের আজন্ম পাপ।

তবুও মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে এদেশের আপামর জনতার সঙ্গে চা শ্রমিকরা যে বীরত্বের ও প্রত্যয়ের দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছেন তা অবিস্বরনীয় হয়ে থাকবে আমাদের সবার মাঝে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28777226 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28777226 2008-03-07 17:46:43
শব্দহীন ইশারায়... শব্দহীন ইশারায় ডাকছে ওদের
রক্তচোষা পুরুষেরা সারি সারি
খদ্দের বলে ওদের।

সদ্য কচি কচি পাখিগুলো বুঝতে পারেনা ;
অভিজ্ঞতাহীন এ এক চাতক পাখি,
যৌবনতাড়িত কাম উত্তেজনায় উত্তেজিত করে তোলে ওরা;
বিছানার মাঝে রাতি শৃঙ্গার ঘটে।
দু‌‌ফোটা জল দিয়ে বিছানায় ঘরাঘরি;

দুশত টাকা গুজে দেয় কোমরের ভাঁজে,
দুচোখের মাঝে ক্লান্তির ঘনভরষা;
একটু বিশ্রাম চাই...
একটু শান্তি চাই...বলে চিৎকার করে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28776296 http://www.somewhereinblog.net/blog/homeblog/28776296 2008-03-04 11:51:55