somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘৃণ্যতম অন্যায় করেও এতটুকু লজ্জিত নয় আমেরিকান মডেল কন্যা

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমেরিকান পাসপোর্টধারী সুন্দরী তরুণী লিয়া মককরড - বয়স তখনও ১৮ পেরোয় নি, কিন্তু অনিন্দ্য দেহ সৌষ্ঠবের জন্য নজর কাড়ে যে কারোর।

১৯৯২ সালের শুরুর দিককার কথা:
টু্রিষ্ট ভিসা নিয়ে লিয়া মককরড বেড়াতে আসে বাংলাদেশে। এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করে কেটে গেল বেশ ক'টি দিন। এবার দেশে ফেরার পালা। নির্ধারিত দিনে বাক্স পেটরা গুছিয়ে হাজির জিয়া আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে। যত বিপত্তির শুরু এখান থেকেই।

লিয়ার শরীর স্ক্যান করার সময় ফাজিলের হদ্দ স্ক্যানিং মেশিনটা লালবাতি জ্বেলে বিকট শব্দে বেজে উঠল। কাষ্টমস কর্মকর্তারা তৎক্ষণাৎ ছুটে এলেন ঘটনাস্থলে। আলাদা কক্ষে নিয়ে তল্লাশী করে লিয়ার কাধ ব্যাগে কালো কাগজে মোড়ানো একটি প্যাকেট পাওয়া যায়।আর সে-ই প্যাকেট খুলতেই বেরিয়ে এল নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য হেরোইন। ওজন করে দেখা গেল তিন কেজি হেরোইন বহন করছেন লিয়া। বিমানবন্দর পুলিশ লিয়াকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করে এবং পরদিন সকালে তাকে প্রেরণ করা হয় কেন্দ্রীয় কারাগারে।

মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা কারাগারে লিয়ার সাথে দেখা করতে গেলে উদ্ধত মডেল কন্যা লিয়া মককরড নিজের অপরাধের প্রতি বিন্দু মাত্র অনুতপ্ত না হয়ে কারাগার থেকে তাকে বের করে নিয়ে যাবার জন্য উক্ত কর্মকর্তাকে বারবার অনুরোধ করে। দূতাবাস কর্মকর্তা লিয়াকে জানান, কারাগারে লিয়াকে নিয়মিত খাবার ও পানীয় সরবরাহ করা হচ্ছে কি-না এবং লিয়া কোন শারিরীক লাঞ্চনার শিকার হচ্ছে না - এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই তিনি এসেছেন। কারাগার থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে তিনি বা মার্কিন দূতাবাস লিয়াকে কোন প্রকার সহযোগিতা করতে অপারগ বলে অবহিত করেন।

মাত্র দু'সপ্তাহ পরেই ১৮ তে পা দিতে যাচ্ছে লিয়া মককরড। বন্ধুদের সাথে পার্টি করে তা উজ্জাপন করার স্বপ্নে বিভোর লিয়া দূতাবাস কর্মকর্তার এহেন কথায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং আর একদিনও কারাগারে থাকতে আবারও অস্বীকৃতি জানায়।

মাদকদ্রব্য বহন করার অপরাধে বাংলাদেশ হাইকোর্ট ১৯৯৫ সালে লিয়াকে মৃত্যুদন্ডাদেশ জারি করে। কনগ্রেসম্যান বিল রিচার্ডসন তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কাছে লিয়ার সাজা মওকুফের আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি আবেদন মজ্ঞুর করেন এবং লিয়ার ক্ষমা ঘোষণা দেন। ১৯৯৬ সালের জুলাই মাসে লিয়া কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে।

কয়েকটি বিষয় এখানে আমি উল্লেখ করতে চাচ্ছি:

ভিডিও চিত্রে লিয়াকে নিজের অপরাধের জন্য সামান্যতমও অনুতপ্ত বলে দেখা যায় নি। বরং ১৮তম জন্মদিন পালনের স্বপ্নে বিভোর লিয়া দূতাবাস কর্মকর্তার কাছে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে বলে নিদ্বির্ধায় উল্লেখ করে।

যদিও পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ হাজারের ডলারের বিনিময়ে তিন কেজি হেরোইন বহনের চুক্তিতেই লিয়া বাংলাদেশে আসে।

লিয়া মককরডের মা সাংবাদিক মারফত নিজের মেয়ের এহেন কর্মকান্ডের কথা অবহিত হন। এর আগ পর্যন্ত লিয়ার মা নিজেও জানতেন না, তার মেয়ে টেক্সাস শহরের বাইরে তো বটেই, আমেরিকার বাইরে কোথাও আছে।

ভিডিও চিত্রে লিয়া রাতে সেলের বাতি নিভে যাওয়াকে ভৌতিক বলে উল্লেখ করে। অথচ একবারও উল্লেখ করে নি, তার সাথে বাংলাদেশী নারী বন্দীদের সহমর্মী ব্যবহারের কথা - কত সহজে তারা লিয়াকে আপন করে নিয়েছিল।

গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দীরা রাতের আধারে বাতি নয়, প্রতিটি সেকেন্ডে টরচার থেকে বাঁচার প্রার্থনা করে।

তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলেই বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি আমেরিকার কনগ্রেসম্যানের অনুরোধ (???) অগ্রাহ্য করার দুঃসাহস দেখান নি।

একদিন নয়, কেবল আধবেলাও যদি লিয়া মককরডকে গুয়ানতানামো বে কারাগারে রাখা যেত, তাহলেই বোধ করি লিয়ার বোধোহয় হত,
টাকার লোভে ভীষণ এক অন্যায় করেও কেবল তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলেই সে আজ মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছে এবং নির্দ্বিধায় এহেন মিথ্যাচার করে যেতে পারছে।

আসুন আমরা ধিক্কার জানাই, লিয়া মককরডের এহেন মাদক পাচার এবং এর পরবর্তী মিথ্যাচারকে।
এখানে ভিডিও চিত্রটি দেখুন


নিচের লিংকে আপনারা লিয়ার ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেলেও লিয়ার এই ভিডিও চিত্রটি পাবেন।
View this link

নিজ দেশে ফিরে লিয়াকে সেখানকার আ্ইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছিল কিনা জানা যায় নি। বাংলাদেশের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য মার্কিন দূতবাসকে একদিকে যেমন অভিনন্দন দেয়া যায়, তেমনি এ কথাও সত্যি যে, ঠিক বিপরীত ঘটনাটি যদি ঘটত, অর্থাৎ, কোন বাংলাদেশী যদি মাদকদ্রব্য বহনের দায়ে আমেরিকায় আটক হতেন, তাহলে তার কপালে গুয়ানতানামো বে কারাগার ছাড়া যেমন কিছু জুটত না।

পাঠকগণ, ব্লগে আমি একেবারেই নতুন এবং এটাই আমার প্রথম এতবড় লেখা। ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন অনুরোধ রইল।
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×