আমার প্রিয় পোস্ট

প্রিয় শফিক রেহমান - আপনার প্রতি ঋণ স্বীকার

১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:৫৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রিয় শফিক রেহমান

জানি আপনি ভালো নেই। তাই কেমন আছেন জিজ্ঞেস করলাম না। প্রিয় সন্তানের কাছ থেকে কোনো বাবা দূরে শান্তিতে থাকতে পারে না। যায়যায়দিনের সঙ্গে আপনি আর নেই অর্থাৎ নিজের হাতে গড়া সেই যায়যায়দিন এখন আপনাকে ছাড়াই চলবে। এই ছেড়ে থাকার কষ্ট কতোটুকু হতে পারে আপনার সঙ্গে বেশ কিছুদিন থাকায় আমি সেটা বুঝতে পারি।

ব্লগে বিভিন্নজন আপনাকে বিভিন্ন নেগেটিভ ভাষায় সমালোচনা করছে।
আপনাকে নিকৃষ্ট সম্পাদক ভাবছে,
দালাল ভাবছে,
ছুঁড়ে ফেলছে আপনাকে,
আর আমি ভাবছি আরো কতো আগেই আরো কতোজনকে দালালির অভিযোগে আমাদের ছুঁড়ে ফেলার কথা ছিল।

আমি আপনার মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছি। মনে পড়ে যাচ্ছে আপনার সঙ্গে কাটানো আমার স্বর্ণময় দিনগুলো। সেই কবে আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ...

১৯৯৪ সাল। যায়যায়দিনের চিঠি সংখ্যায় আমার একটা গল্প ছাপা হলো। তার কয়েকদিন পর সজীব ওনাসিসের ২০০ টাকার মানিঅর্ডার পেলাম। টুকটাক গল্প কোথাও কোথাও ছাপা হলেও লেখালেখি করে টাকা প্রথম পেয়েছিলাম আপনারই কাছ থেকে। আমার জুতোটা ছিঁড়ে গিয়েছিল। তাই লেখালেখির প্রথম উপার্জন দিয়ে একজোড়া জুতো কিনতে চাইলাম। গুলিস্তানের চোরাই জুতোর মার্কেট থেকে ১৮০ টাকায় একজোড়া জুতো কিনি। বাকি ২০ টাকা দিয়ে বন্ধুবান্ধব সহ চা সিগারেট খাই। আজ এতো জায়গায় এতো আবজাব লিখি, কেউ একটা টাকাও দেয় না। আমিও ভাবতে থাকি, থাকুক - আপনার কাছ থেকে পাওয়া ওই ২০০ টাকা আমার প্রথম আর শেষ সম্মানি থাকুক।

যায়যায়দিনে আপনি একবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যাদের লেখা ছাপা হয়েছে তারা যেন সম্পাদকের অফিসে যোগাযোগ করে। আমি সেই খবরটা দেরিতে পেয়েছিলাম, ততোদিনে যোগযোগের দিন শেষ হয়ে গেছিল। খুব আফসোস হয়েছিল। তাই পরবর্তীতে ডেমক্রেসিওয়াচের (আপনার স্ত্রী তালেয়া রেহমানের প্রতিষ্ঠান) বিজ্ঞাপন দেখে প্রথম দিনেই ইংরেজি/কমপিউটার শিখতে ভর্তি হয়ে যাই। দিনটা ছিল ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৫। যতো না ইংরেজি/ কমপিউটার শিখতে চেয়েছিলাম তারচেয়ে আশা ছিল আপনার সাহচার্য পাবার। তখন খুব ইচ্ছে ছিল সাংবাদিক হবার। পাশাপাশি থিয়েটার করি, মুভি বানানোর খুব শখ। সিদ্ধান্ত নিলাম যায়যায়দিনের সাংবাদিক কাম মুভিমেকার হব।

অবশেষে স্বপ্নপূরণ হয়, আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়। ১৪ জন ছাত্রছাত্রী ডেমক্রেসিওয়াচে ইংরেজি কপচাই। আপনি সপ্তাহে একদিন এসে লাইফস্টাইল ক্লাস নেন। সেই যে স্যার ডাকা শুরু হলো, আশেপাশের সবার ভাই ডাক শুনেও আপনাকে স্যার-ই সম্বোধন করে গেলাম। ক্লাসে আপনার চমৎকার বাচনভঙ্গী আমাকে মুগ্ধ করত। আপনার কথাবার্তা আমাকে স্পিরিট এনে দিত। আপনি উদ্ধুব্ধ করেন উপার্জনের জন্য। আপনি বলেছিলেন, উন্নতবিশ্বের সব ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার পাশাপাশি উপার্জনও করে। বাংলাদেশে সেটা শুধু টিউশনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যাদের বাবা মা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তারা সেই টিউশনিটাও করে না। অথচ নিজের উপার্জনের মজাই আলাদা। আপনি সবসময় বলতেন, বাপের হোটেলে খাচ্ছ খাও কিন্তু গার্লফ্রেন্ডকে তোমার উপার্জনের পয়সা দিয়ে গিফট দিও, বন্ধুদের মাসে একবার অন্তত খাওয়াবে, নিজের পয়সার প্রথম গাড়িটি কিনতে আপনি আমাকে/আমাদের উৎসাহ যুগিয়েছিলেন।

লেখাটা মানপত্রের মতো হয়ে যাচ্ছে কিনা আমি জানি না কিন্তু আপনার এ মন খারাপের দিনে আমি শুধুই স্মরণ করতে চাইছি আপনার কাছ থেকে আমি যা যা শিখেছি, আমাকে যে পরিমাণ অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আমার কর্তব্য এ সবকিছু স্মরণ করা। কোনোদিন আপনাকে বলা হয়ে উঠেনি যে বন্ধুরা আমাকে ’চিপা শফিক দ্য জুনিয়র’ ডাকতেও শুরু করেছিল। এমন না যে আপনার সবকিছুই আমি পছন্দ করতাম। কিন্তু আপনার অনেক কিছু দ্বারাই আমি ভীষণ প্রভাবিত ছিলাম।

আপনি একজন অসম্ভব সিনেমাপ্রেমী মানুষ। তাবৎ অস্কারপ্রাপ্ত মুভিগুলো আপনার বাসার দুটি রুমের দেয়ালজুড়ে থাকা শেলফে সাজানো থাকত। আপনার পুত্র সুমিত রেহমান নতুন রিলিজ পাওয়া ছবিগুলোর ভিএইচএস কপি বাজারে বের হওয়া মাত্রই ইংল্যান্ড থেকে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিত। আপনার বাসায় আপনি ছোট থিয়েটার বানিয়েছিলেন। সাল ১৯৯৬। মধুমিতা তখনও সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেমে ছবি প্রদর্শন করে কিনা জানি না তবে আমার প্রথম সারাউন্ড সাউন্ড অভিজ্ঞতা আপনার ওই ছোট থিয়েটার হলে ইন্ডিপেন্ডেস ডে ছবিটি দিয়েই হয়েছিল। সেবা প্রকাশনী আমাকে সুযোগ করে দিয়েছিল বিশ্বের সেরা অনুবাদ পড়ার, আর আপনি আমাকে দেখিয়েছেন বিশ্বের সেরা সেরা মুভিগুলো। আজকে এই পাশ্চাত্যে বসে আমি হাজারো মুভি দেখি আর আপনার প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসি ম্যুভি দেখার টেস্ট আমার মাঝে গড়ে দেয়ার জন্য। মনে আছে আমরা সবসময় আালাপ করতাম একটি ফিল্ম সোসাইটি করার জন্য। অবশেষে আপনি তা করেছেনও - একাডেমি ফিল্ম সোসাইটি। আমার দুর্ভাগ্য সেসময় আমি থাকতে পারিনি।

ডেমক্রেসিওয়াচে চাকরি করি। আমার সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছার কথাটা আপনি জানতে পেরেছিলেন। তখন আমি খুব অগোছালো থাকতাম। জীবনে কখনো শার্ট ইন করে পড়তাম না, স্যান্ডেল কিংবা স্লিপার পড়ে চলতাম। মাঝে মাঝে হয়তো ফিতাটাও ছেঁড়া থাকত। আমাকে ডেকে বলেছিলেন, সাংবাদিক হতে চাও? তোমার যা লেবাস তাতে তো বঙ্গভবনে, সচিবালয়ে ঢুকতেই দেবে না। তুমি আমার জন্য ইন্টারভিউ আনবে কি করে? পরের মাসে আমার সেলারি বেড়ে যায়। আমি নতুন জামা-জুতো কিনি। আমি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছি শুনে আরেকদিন ডেকে বললেন, বাংলাদেশে ডিগ্রির খুব দাম। যতোই বিদ্বান হও, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হতে পারবে না ডিগ্রি না থাকলে। তুমি তোমার ডিগ্রি কমপ্লিট কর। আমি সায়েন্সের ছাত্র, কমার্সের ডেবিট ক্রেডিট বুঝি না। কিন্তু সহজে পাস করা যায় শুনে বি.কম ভর্তি হলাম। আপনি আমাকে সপ্তাহে দুইঘন্টা পড়াবেন বললেন। একদিন ঠিকই খুব করে ডেবিটক্রেডিট বুঝিয়ে দিলাম। আমার ভালো লাগল না। আপনাকে গৃহশিক্ষকের ভূমিকায় দেখতে ইচ্ছে করছিল না। তাই আপনার মতো FCA (Fellow of Chartered Accountants) ছেড়ে আমি পাড়ার বড়ভাইয়ের কাছে পড়তে শুরু করি।

আমার খুব দু:খ হয় আপনার বিশেষ সংখ্যাগুলোকে কেউ যখন চটি বই বলে। এদের অনেককেই বলতে শুনেছি, অশ্লীলতার সংজ্ঞা নির্ধারণের কিছু নাই। তারপরও আমি এ ব্যাপারে আপনাকে প্রশ্ন করাতে আপনি বলেছিলেন, বিশেষ সংখ্যার লেখাগুলো সব পাঠকেরই লেখা। ৭১ এর সাড়ে সাত কোটি জনগণ কিভাবে সাড়ে ১৫ কোটি হয়ে গেছে পাঠকদের গল্পে এসবের কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। এখন এটাকে কেউ অশ্লীলতা ভাবলে তাদের ব্যাপার। যাযাদি অশ্লীল না। প্রেমলীলা মোটেই অশ্লীল কিছু না। আপনি বিদেশী বিভিন্ন পত্রপত্রিকা দেখিয়ে বলেছিলেন নতুন কিছু নিতে আমাদের একটু কষ্টই হয়।

আমি জানি প্রতিটি বিশেষ সংখ্যার জন্য প্রচন্ড কষ্ট আপনি করেন। ব্লগে দেখলাম কেউ কেউ বলল আপনার বেতনভুক্ত লোকেরা নিজেরাই লিখে নাকি ছাপিয়ে দেয়। অথচ আমি দেখেছি কি পরিমাণ চিঠি/গল্প আপনার ঠিকানায় আসতে। কেউ কেউ বিশেষ সংখ্যা গুলোর প্রতিটি গল্পই চরম অশ্লীল/ চটিসম হয়েছে বলে রায় দিয়ে ফেলেছেন। অথচ আপনি জানলেও আবার জানিয়ে রাখছি ভালোবাসা সংখ্যার ’মন্দভাগ্যের লোকটি’-র মতো অসাধারণ অনেক গল্পই তারা পড়েনি, বা চোখ এড়িয়ে গেছে - তাদের প্রতি করুণা। যাযাদিতে ছাপা হওয়া পাঠক/লেখকদের নিয়ে সম্মেলন করেছিলেন। ওই সম্মেলনের জন্য তখন প্রচুর খেটেছিলাম। তখন আমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সিলেট থেকে আসা তরুণ লেখক আরিফ জেবতিকের সঙ্গে। ফকিরাপুলের বকশী কিংবা বিলাস হোটেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এরকম আরো অনেক পাঠক/লেখকদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। আপনিই তো লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থেকে একজন বহুমাত্রিক কলাম লেখক আবিষ্কার করেছিলেন।

আপনার বড় সমালোচনা বানানরীতি নিয়ে। আমি নিজেও কিছুটা বিরক্ত ছিলাম এই রীতির উপর। আপনাকে জিজ্ঞেস করতেই যুক্তি দিয়েছিলেন, কীবোর্ডের কম কী চেপে শব্দের বানান লেখাটাই আপনার রীতি। তাই ‘প্রিয়’ (পাঁচটা কী) এর বদলে ‘পৃয়’ (চারটা কী) লিখতেন আপনি। এটা আমার ভালো লাগেনি। তবে চন্দ্রবিন্দু ফেলে দিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমি একমত হয়েছিলাম। আমি এখন খুব হাসি ব্লগের বানানরীতি দেখে। সবার অজান্তেই কিন্তু ব্লগের বানানগুলো যায়যায়দিনের বানানের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

আপনি চরমভাবে একজন মানুষকে উৎসাহী করে তোলেন। আপনি বিশ্বাস করতেন সবার মাঝেই কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের আপনি খুবই পছন্দ করেন। লেখালেখি শেখার প্রতিষ্ঠান এই ইউরোপে দেখলেও বাংলাদেশে নেই। আপনি আমাকে লিখতে শিখিয়েছেন। কোথায় প্যারা কিংবা সংলাপ বসাতে হবে আপনি বুঝিয়েছিলেন। একটি লেখা কতো সহজ করে লেখা যায় সেসম্পর্কে আপনি টিপস দিতেন। আপনি বলতেন, আমি সপ্তাহে ২০০০ বাংলা শব্দ লিখি। তুমি কয়টা লেখো? আপনি বনফুল পড়তে বলতেন সবসময়। টাকা থাকলে যেন পুরো বনফুলসমগ্র কিনে ফেলি সেকথাটাও বলতেন। আরো একটি কথা বলতেন, অনুকরণ নয় সবসময় অনুসরণ কর। বিদেশী সাহিত্য পড়ার জন্য তাড়া দিতেন। কালচারের চেয়ে কাস্টম জানতে বলতেন। বাঙালিরা রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী করে এটা হচ্ছে সংস্কৃতি আর কেউ মারা গেলে তার পাশের বাসা থেকে মৃতবাড়ির সদস্যদের জন্য খাবার যায় এটা হচ্ছে আচার। আপনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আচার জানতে বলতেন।

১৯৩৪ সালের ১১ নভেম্বর আপনার জন্ম। অথচ আপনাকে দেখে যে কেউ এভারগ্রীণ বলতে বাধ্য হতো। সবসময় চকমকে পোশাক পড়তেন। সিঁড়ি দিয়ে লাফিয়ে উঠানামা করা কিংবা পিকনিকে ডেকরেটরের চেয়ার সাাজানো কিংবা পিকনিক শেষে ছড়িয়ে থাকা ময়লা কাপজ কুড়ানোর সময় আপনার সঙ্গে পেরে উঠতাম না। কিন্তু আপনার এইসমস্ত আচরণ ক্যামোফ্লেজ বলে বিশ্বাস করি না। একসময় আপনি ছিলেন জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক। আপনার লালগোলাপ অনুষ্ঠানটি কেউ কেউ অখাদ্য বললেও আমি জানি ওটা ভালো একটি প্রোগ্রাম ছিল। ঢাকা শহরের বাইরে মফস্বলের তরুণদের জন্য ওটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছিল। আমি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি দিয়ে বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করেছি। ঢাকার দর্শকরা এখন আর ইত্যাদির জন্য সময় বের করে প্রস্তুত হয়ে থাকে না, অথচ অন্যান্য মফস্বল শহরে ইত্যাদির জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গে। সম্ভবত লালগোলাপ সেরকমই একটি অনুষ্ঠান। রাজধানীর শহুরে আমাদের জন্য লালগোলাপ কোনো ইনফরমেশন দেয় কিনা জানি না, ভেবে দেখি গ্রামের/মফস্বলের তরুণরা ওই অনুষ্ঠান থেকে কি শিখছে। ওই প্রোগ্রামে আপনার পোশাক নিয়েও ব্লগে হাসির খোরাক হয়েছেন। টিভির পোশাক কিরকম হবে এ ব্যাপারে আপনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ দর্শকের শাদাকালো টিভি। তাই আপনি এমন পোশাক পছন্দ করেন যেটা শাদাকালো টিভিতে সুন্দর দেখায়। বহুপূর্বে যখন টিভিতে উপস্থাপনা করতেন তখনকার জন্য এ ব্যাখ্যা হয়তো ঠিক ছিল। কিন্তু এখন শস্তায় কালার টিভি পাওয়া যায়। তাই আপনি কি পোশাক পরে লালগোলাপ উপস্থাপনা করতেন আর দেখতে কেমন লাগত আমি বুঝতে পারছি না। বহুদিন ওই প্রোগ্রাম দেখি নাই।

আমার বসভাগ্য চিরকালই ভালো। এবং আমার সেলারি ভাগ্যও ভীষণ ভালো। কোনো মাসের বেতন হবে কিনা তার জন্য কখনোই দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। আপনি সবসময় চেষ্টা করতেন মাসের ১ তারিখে বেতন দিতে। সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের প্রতিটি কর্মীর টেবিলে আপনি খামসহচেক এবং চকলেট নিজে গিয়ে দিয়ে আসতেন। মাঝে মাঝে তাদের চা বানিয়ে খাওয়াতেন। অথচ যখন শুনি আপনি বেতন দেয়ার ভয়ে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন তখন হিসেব মেলাতে পারি না। ভেতরের কথা আমার কখনোই জানা হবে না। কিন্তু আমি হিসেব করে দেখেছি ১০৪ জন সাংবাদিকের (ধরে নিলাম ১০০০০ x ১০৪) ১৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার জন্য দেশ ছাড়ছেন মানতে পারি না। এই আমিই তো জানি এরশাদ আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া যায়যায়দিনের আবু লায়েস মামুন, হরিপদ রায়, সজীব ওনাসিস সহ আরো অনেককেই আপনি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে নিয়মিত বেতন দিয়ে আসছিলেন। আপনার দৈনিক করার ইচ্ছের কথা শুরু থেকেই জানতাম। প্রথম দৈনিকটি কেউ গ্রহণ করেনি। অনেকের অনেক ব্যাখ্যা আছে কিন্তু আমার কাছে গেটাপ মেকাপের কারণেই মার খেয়েছেন বলেই ধারণা। এছাড়াও বিলি-বিক্রি সংক্রান্ত ঝামেলাÍ কারণে আপনি সুবিধা করতে না পেরে বন্ধ কÍে দিয়েছিলেন। আমি দেখেছি সেই সময়ের আপনার সমস্ত কর্মীর জন্য আপনি বিভিন্ন জায়গায় চাকরি পাইয়ে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। আজ তাই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে পারি, সমকালের মাহবুব আজীজ কিংবা এনটিভির ফাহিম আজ আপনার কারণেই সাংবাদিক। গ্রামীণ ফোন সহ আরো অনেক কর্পোরেট অফিসে অনেকেই আপনার জন্য বেশ সম্মানজনক চাকরি করছে। বাংলাদেশের তরুণ সাংবাদিকদের অনেকেই আপনার সঙ্গে কাজ করেছে। তাদের অনেকেই এখন আপনাকে পছন্দ করছে না। কিন্তু এরা অনেক নতুন ধারণা আপনার কাছ থেকে পেয়েছে।

আপনি ছিলেন আপোষহীন। যায়যায়দিনের প্রচ্ছদের (দড়িছেঁড়া পাল্লার ছবি) জন্য আদালতের সুয়োমুটো রুল (ঠিক মনে করতে পারছি না) আপনার উপর জারি হয়েছিল। আমি জীবনের প্রথম কোর্টে যাই। সঙ্গে ছিলেন কামাল হোসেন, ব্যরিস্টার ইশতিয়াক, সারা হোসেনসহ আরো অনেকেই। আপনাকে দেখেছিলাম স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এপর্যন্ত আদালতের প্রতীক দাড়িপাল্লা নিয়ে কে কবে কি ছাপিয়েছে তার রেফারেন্স দিতে। অথচ টুপির কাছে নতজানু প্রায়পদচুম্বনরত আমাদের অন্যান্য সম্পাদকেরা একটি শিবির পত্রিকার রেফারেন্সও দিতে পারে নাই। কিন্তু এখন যখন আপনাকে দালাল বলা হয় আমার নিরুত্তর থাকতে হয়। মনে পড়ে লাইফস্টাইল ক্লাসে আপনি তুলোধুনো করে ফেলতেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের। আপনার বাসায় নিয়মিত আসাযাওয়ার ফলে অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতাকে দেখতে পেয়েছি। আপনি সরাসরি তাদের সমালোচনা করতেন। সেই আপনি যখন বিএনপি-জামাতের একপেশে কথা ছাপান যায়যায়দিনে তখন আপনার বাসার দেয়ালের শেলফে সাজিয়ে রাখা কালো চামড়ার যায়যায়দিনের পুরোনো সংখ্যাগুলো ঢুকরে উঠে। ত্রিশ সেট অলংকারের প্রচ্ছদ থেকে সমস্ত অলংকার ঝরে পড়ে।

কিন্তু তাই বলে ব্লগাররা যেমন বলছে আপনার চেয়ে লুচ্চা আর দ্বিতীয়টি দেখে নাই তখন খুঁজতে মন চায় বাংলাদেশের আর কতো কতো লুচ্চা প্রতিনিয়ত কি কি লিখে যাচ্ছে। কতো কতো সুশীল দেশের পোঙ্গা মেরে দিচ্ছে তা নিয়ে প্রায়শই আমরা ব্লগে মাতম করি। এখন আপনার দিনের পর দিন, মইন-মিলা নিয়ে প্যারোডি লেখা হয় - আমার দুঃখ হয়। বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের প্রবর্তক হয়ে আজ আপনি ভালোবাসাহীন। যারা আপনার বিশেষ সংখ্যায় ছাপানোর জন্য শাদা কাগজের একপৃষ্ঠায় ৭০০/১০০০ শব্দের গল্প লিখে পাঠিয়েছিল তারাই আজ চটি চটি বলে রায় দিয়ে ছিঁড়ে ফেলছে আপনার সন্তানসম প্রতিটি সংখ্যাকে। অবলীলায় বলে দিচ্ছে প্রতিটি গল্পই একএকটি চটি। একজন বাম যখন পচে তখন তার চেয়ে র্দুগন্ধ আর বেশি কেউ ছড়াতে পারে না। কিন্তু আফসোস আজকে সবাই ভুল ভাবছে আপনি বুঝি তার চেয়েও বেশি দুর্গন্ত ছড়াচ্ছেন। তাই সবাই এখন ৩টাকার শফিক রেহমানকে মনে রাখতে চায়, ৭টাকার শফিক রেহমানকে ভুলে যায়।

একজন লেখকের সব লেখা ভালো হয় না,
একজন পরিচালকের সব ম্যুভি হিট হয় না,
একজন গায়কের সব গান শ্র“তিমধুর হয় না।
আপনার সব চিন্তাভাবনাও সঠিক হয়নি।
কিন্তু তাই বলে আপনার প্রতি এমন আচরণ আমাকে ব্যথিত করে।

আমার এ লেখাটি আপনার প্রতি আমার ঋণ স্বীকার। আজকে আমি যা তার ৫০% আপনার অণুপ্রেরণায় তৈরি। আপনি আমাকে ভিন্নভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন, আমাকে উদ্যমী করেছেন। আপনি সবসময়ই চেষ্টা করেছেন স্মার্ট প্রজন্ম তৈরি করতে। অনেকেই এটা নিয়ে হেসেছে, অনেকেই ব্যঙ্গ করেছে। আপনি বলতেন যেভাবেই হোক পাশ্চাত্যে ৫টা বছর কাটিয়ে এসো। সেখানে নতুন কিছু শিখো, তারপর দেশে এসে সেটাকে উপস্থাপন কর। আমি আজ পাশ্চাত্যে, আপনারই প্রিয় শহরে।

আপনি এখন কি করছেন জানতে ইচ্ছে করে। তবে এটা বিশ্বাস করছি আপনি থেমে যাবার পাত্র নন। শিগগীরই কিছু একটা শুরু করবেন আমি আশা করছি। বয়স আপনাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। আমার মনে পড়ে যাচ্ছে আপনার কালো রকি জীপগাড়িতে করে শহীদমিনার যাওয়া, কিংবা হবিগঞ্জে পোস্টার প্রদর্শনী করার কথা। আপনার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল এ বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে। বিয়ে করা নতুন বউকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম আপনার কাছে। তখনও আপনি আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। চলে আসার সময় পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, তুমি একজন লেখক এটা মনে রাখবে। আরো ভালো লেখার চেষ্টা কর।

আমি লিখতে পারি কিনা জানি না, কিন্তু আমি খুব ইন্সপায়ার্ড হয়েছি।

আমি জানি এ লেখার কারণে আমাকে অনেক কটুকথা সইতে হবে। আমি জামাতে ইসলামকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি, এরপর বাদবাকি সবদলগুলোকে সমান ঘৃণা করি। হয়তো ব্লগাররা এখন আমার উপর রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে দেবে, ঝাঁপিয়ে পড়বে আমার উপর। আমি সবকিছুর জন্য প্রস্তুত। আপনার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। তাই গুরুর জন্য কিছু কষ্ট সইতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

ভালো থাকবেন আপনি।

 

 

  • ৪১ টি মন্তব্য
  • ৬৯৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩৭ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:০০
comment by: সাদা মন বলেছেন: +++++
Click This Link
২. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:০৫
comment by: মেন্টাল বলেছেন: ভালো লাগলো।
৩. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:০৮
comment by: বেবি রহমান বলেছেন: লেখাটা আবেগী হলেও অকপটে বলার ধরন ভালো লাগছে।
আর বেশি ভালো লাগছে, লুচ্চাদের মিডিয়া দাবড়ানোর বিষয়টি।

সবাই এরকম না অবশ্যই। কিন্তু যারা এরকম তাদের কিছু বলা হয় না।
লজ্জার।
৪. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:২২
comment by: অমিত বলেছেন: অকপট কথন ভাল লাগল।কাউকে মাথার উপর তুলে নাচতে অথবা মাটিতে ফেলে পিষে মারতে আমরা খুব পটু। দেবতুল্য কিছু আমাদের সবসময়ই চাই,ভাল মন্দ মিশানো সাধারণ কোন মানুষকে আমরা গ্রহণ করতে পারি না।
১০ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩১

লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

৫. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:২২
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: কিছু বলার নেই । স্মৃতিকাতর হলাম , অনেক ,অনেকখানি ।

পুরানা পল্টনের অফিস থেকে শুরু করে বকশী হোটেলের রুম....শফিক রেহমানকে তার জীবনের প্রথমবার সিলেটে নিয়ে যাওয়া...ডেমক্রেসিওয়াচের অনুষ্ঠানের জন্য তালেয়া রেহমান , মিলন ,অর্ক , এদের সাথে সারারাত কাটিয়ে দেয়া ...অনেক কিছুই মনে পড়ে ।

তিনটাকার যায়যায়দিনের প্রথম সংখ্যা থেকে শুরু করে অনেকগুলো সংখ্যা এখনও আমাদের সিলেটের বাসায় কোথাও ঘাপটি মেরে আছে হয়তো । হয়তো সেই প্রিন্টেড পোস্টকার্ডগুলোও আছে ।



শফিক রেহমানের বর্তমান অবস্থার পেছনের কারনগুলো নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম গত কয়দিন ধরেই , কিন্তু আমার নিজেরই মনে হচ্ছে এই আলোচনার সময় এখন নয় । আরো কিছু দিন যাক ,
যাক আরো কিছু সময় ।

তিনটাকার শফিক রেহমানের প্রতি ভালোবাসা আর আটটাকার শফিক রেহমানের প্রতি ক্ষোভ , এসব আলোচনার জন্য আমার সামনে অবারিত সময় । এই আলোচনা তাই এখন তোলাই থাক ।
১০ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩২

লেখক বলেছেন:
ডেমক্রসিওয়াচের কোন প্রোগ্রাম? মিলন, অর্ক-র সঙ্গে আমি ছিলাম না তাতো হতে পারে না। কোন সাল? সিলেটের কোথায় প্রোগ্রাম হয়েছিল?

৬. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:২৮
comment by: একাকী বালক বলেছেন: ভাল লেখছেন।
৭. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫১
comment by: ইফতেখার ইনান বলেছেন: অকপট, সুন্দর লেখা... ভাল লাগল...
৮. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫৩
comment by: আজহার ফরহাদ বলেছেন: আপনি হয়তো খুব কাছ থেকে পেয়েছিলেন তাকে তাই তার প্রতি দুঃখটা বেশি।

সে আমলের পারস্পরিক সম্পর্কের শফিক রেহমানের কথা বলে এখন কোন লাভ নেই। ইতিহাসে শফিক রেহমান শফিক রেহমান হিসেবেই থাকবেন। তার ভাল-মন্দ সবকিছুর সাথেই তিনি অংশীদার।

আপনার মত দুঃখ পাওয়া মানুষদের তার সাথে সম্পর্কের যে সময়, সে সময় পেরিয়ে এসেছে বহু আগে; শফিক রেহমান আর সে মানুষটি নন। বিগত কয়েক বছরে তিনি যে পরিমাণ রাজনৈতিক সুবিধা ও শক্তির গ্রহীতা ছিলেন তা স্পষ্ট। বিগত গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী বলে তার একটা ভিন্ন পরিচয় ইতোমধ্যেই গড়ে উঠেছিল।

এটা ঠিক যে তিনি ক্ষমতাবানদের সবসময়ই চক্ষুশূল ছিলেন কিন্তু নিকট অতীতে তার পরিচয় পাই না তেমন। এক প্রবল পরিমাণে স্ববিরোধী অবস্থান থেকে তার সাথে হাওয়া ভবনের যুগপৎ সম্পর্ক অবাক করতো আমাদের।

আপনার লেখার মর্মটিকে আমি আঘাত করছি না। কিন্তু মর্মের মানুষটির কুকর্মের চরিত্রটিকে আবার মানতেও পারছি না। আপনার মত আমিও তাকে নিয়ে আশাবাদি ছিলাম।

তার এযাবত কৃত সমস্ত কর্মের সর্বোচ্চ পরিণতি হতে পারতো দৈনিক যায়যায়দিন। তার স্বপ্ন, ও কর্মরিকল্পণার আকাশকুসুম প্রচেষ্টাকে ধীরে ধীরে বাস্তব হতে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন, সহযোগীও হয়েছিলেন। কিন্তু এর এত করুণ পরিণতি ব্যাক্তি শফিক রেহমানের পরিণতির চেয়েও ভয়াবহ। কেবল ব্যাক্তিটিকে নিয়ে দুঃখী হবার চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির ধুলিস্যাৎ হওয়া আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা আমাদের মতো দেশে সহজ নয়। আর যায়যায়দিনের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিতে পেরে শফিক রেহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছেন বলে নিঃসন্দেহ হওয়া যেত। কিন্তু আমাদের পড়তে হলো চরমতম মিডিয়াতান্ত্রিক রাজনীতির কবলে। লাখ লাখ পাঠক ও সচেতন মানুষ অসহায় হয়ে অসাধারণ ও আধুনিক এই মিডিয়াপ্লেক্সটির করুণতম দশা দেখলো।

আর প্রয়োজনীয় যে কথাটি বলবার তা হলো, সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের সাথে দৈনিক যায়যায়দিনকে মিলিয়ে, এবং এর পরিণতিতে শফিক রেহমানকে গুলিয়ে বিচার করবেন না। তিনি দৈনিক পত্রিকার জন্যে কী পরিমাণ ব্যার্থ তা তার সাথে দৈনিকে কাজ করা শতশত সাংবাদিকের সাথে আলাপ করে দেখতে পারেন। সাপ্তাহিক আর দৈনিক এক না। তার সাপ্তাহিকের প্রেম আর দৈনিকের ঘামকে একপাল্লায়ও মাপা যায় না। দৈনিক যায়যায়দিনের স্বর্ণোজ্জ্বল সেই ৪ মাসের ইতিহাসে তিনি কয়দিন অফিসে থাকতেন, কয়দিন নিউজ দেখতেন, কয়দিন এডিট করতেন তা সহকর্মীরা হাতের আঙুলে গুণে দেখাতে পারবেন বলে মনে হয়।

আর হাওয়া ভবনের হাওয়া এসে ধীরে ধীরে যখন বৈরী করে তুলেছিল যাযাদির পরিবেশ, তখন প্রায়ই তিনি আগামিদিনের পত্রিকায় কী আছে তার খবরও রাখতেন না।

যাক সেসব ঘরোয়া খবর। আমার কথা ছিলো প্রতিষ্ঠান শফিক রেহমানকে নিয়ে, ব্যাক্তিটি নয়। শফিক রেহমান অন্য সম্পাদকদের মতন নয় বলেই তাকে নিয়ে এত কথা, এত ভাবনা আর এত বেশি আশা। একটি সময়কে নেতৃত্ব দেয়া, পরিবর্তন করা, বিশ্বাসী করে তোলা সে মানুষটি যখন সময়ের হাতেই কুপোকাৎ হন, ধরাশায়ী হন তখন তাকে নিয়েইতো কথা হবে বেশী, শহীদুল হক খানকে নিয়ে নয়।

যায়যায়দিন থেকে শফিক রেহমানের চলে যাওয়াটা ছিল সময়ের ব্যপার মাত্র। তিনি একটা সুত্র খুঁজছিলেন কেবল্। সেই সুত্র ধরে তার চলে যাওয়া নিয়ে আমাদের এত মর্মাহত না হলেও চলে।

মর্মে আহত হলাম তার বিশ্বাস ও স্বপ্নকে সাবালক হতে দেখতে পেলাম না বলে।

ধন্যবাদ হট্টগোল। মাফ করবেন, বেশি কথা বলে ফেললাম বলে।

১০ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: আজহার ফরহাদ @ কোনো অসুবিধা নাই বড় মন্তব্য করার জন্য। আপনার মন্তব্যের জবাবে আমার এক বন্ধুর কথাগুলো তুলে দিলাম।

==== সম্পাদক হিসেবে হাওয়া ভবনের দালালি আর আলপিন ইস্যুতে মাফ চাওয়া এই দুইটারে যদি আমার পাল্লায় বসাই তাইলে আমি পাপের পাল্লা মতির ভাগেই বেশী দেখবো।

কেউ কেউ নিজের whore চেহারাটা খুব ভালোভাবে ঢেকে রাখতে পারে সুন্দর প্রেজেন্টেশন দক্ষ মার্কেটিঙের মধ্য দিয়ে। আর কেউ পারে না। শ.র. খারাপ লোক ঠিকাছে। তবে সে একাই খারাপ বা সবচেয়ে খারাপ এইটা ঠিক না । আমি নিশ্চিত জানি শ.র. আওয়ামী ঘরানায় পাশ কাটাইলে তার দুর্নাম একটু কম হৈতো। ইন্টেলেকচুয়ালদের মধ্যে আওয়ামী ক্যাডার বেশী ও তারা দক্ষ শুধুমাত্র এই কারনে।=====

শফিক রেহমান অন্য সম্পাদকদের মতন নয় বলেই তাকে নিয়ে এত কথা, এত ভাবনা আর এত বেশি আশা। ------------ আপনার এ কথটাই একমত।

লোকটাকে যে পরিমাণ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হচ্ছে লোকটা সেরকম না। আমাদের দেশে এই ভোল পাল্টানো লোকের সংখ্যা কতো ? তাদের সবাইকে কি আমরা বলছি?

৯. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫৬
comment by: আজহার ফরহাদ বলেছেন: আরিফ জেবতিক বলেছেন: তিনটাকার শফিক রেহমানের প্রতি ভালোবাসা আর আটটাকার শফিক রেহমানের প্রতি ক্ষোভ , এসব আলোচনার জন্য আমার সামনে অবারিত সময় । এই আলোচনা তাই এখন তোলাই থাক ।


ভালো বললেন তো আপনি, আরিফ!
১০. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ২:১৮
comment by: বৃত্ত বলেছেন: হুমমম....
১১. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ২:২৮
comment by: নূহান বলেছেন: ভাল লিখছেন ।
১২. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ৩:১৭
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: এতো সময় নিয়ে আমি ব্লগের কোন লেখাই পড়ি নি। আপনার এই লেখাটা পড়লাম। দারুন লিখেছেন। স্মৃতিতাড়িত লেখা।
১৩. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ৩:৩৩
comment by: ফেরারী ফেরদৌস বলেছেন: পুরোটা পড়লাম। পড়ে বুঝলাম - There's another side of the story!
১৪. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ৩:৩৪
comment by: রাতমজুর বলেছেন:
দু'পুরুষ ধরে পত্রিকা চালায় - এমন একটা পরিবারের ছেলে আমি, জানি মিডিয়ার দাপট আর ক্ষমতার সবটুকুই। সাথে এও জানি, কিভাবে চুরি করা হয় কৃতিত্ব আর কিভাবে ক্ষমতাশালীরা চারপাশ থেকে চেপে রেখে অসহায় করে তোলে সত্যবাদী মিডিয়াটাকে।

শফিক সাহেবকে বলছি, ব্যক্তিগত মতবাদ বা দর্শনকে আমি বড় করে দেখি না, বড় করে দেখি তাঁকে যিনি ব্যক্তিগত মতবাদ বা দর্শনের উপরে স্থান দেন দেশ ও এর সাথে সম্পৃক্ত ব্যপারগুলিকে। আপনাকে সালাম, আপনি সেরকম একজন।

আমার কথা এটুকুই, "ইতিহাসবেত্তা নয়, ইতিহাসের বলিষ্ঠ উপাদান হতে চাই।"
১৫. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ৩:৫৫
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন: অকপট ভালো লাগা লেখা । ভীষণ ভালো লাগলো । আমাদের হট্টগোল বোধহয় এতোবড় লেখা আরেকটিও লেখেননি ব্লগে ।

প্রিয় শফিক রেহমানের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ সহানুভূতি । তার কলম থেমে যাবে না , এটাই একমাত্র আশা ।

লাল গোলাপ শুভেচ্ছা আপনাকে ।
১৬. ১০ ই মে, ২০০৮ ভোর ৪:১০
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: হট্টগোল, আপনাকে লেখাটার জন্য ধন্যবাদ। পিলাস দিলাম।


আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে আপনি শ.রে. এর এত কাছে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন অথচ শুধু সামান্য ভিন্নমতের জন্য হ্যারি সেলডন হয়ে যায় ছেরি ছেলডন!
১৭. ১০ ই মে, ২০০৮ ভোর ৪:২৩
comment by: হট্টগোল বলেছেন:

হ্যারি @ ব্লগের প্রবলেম হইল এখানে লেখার সঙ্গে সঙ্গে মুখের এক্সপ্রেশনটা বোঝানো যায় না। তাই যতো বেশি ইন্টারএ্যাকশন হয় ততো এক্সপ্রেশন বোঝার কাছাকাছি যাওয়া যায়। আপনার সঙ্গে পূর্বে কখনো ইন্টারএ্যাকশন অতোটা হয়নি তাই আমার ফাজলামো, ফান, রসিকতা যাই বলেন না ক্যান বুঝেন নাই।

তারপরও স্যরি।
১৮. ১০ ই মে, ২০০৮ ভোর ৪:৩০
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: ওকে, ধন্যবাদ।
১৯. ১০ ই মে, ২০০৮ ভোর ৪:৩৬
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: ব্লগে তাকে সমালোচনা করা অনেকের মন্তব্য আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখিনি। সেগুলো বহুমাত্রায় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে করা মন্তব্য মনে হয়েছে।
২০. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ৮:৫৩
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: এটাই হয়তো "কাছে থেকে দেখা" আর "দূরে থেকে দেখা"র পার্থক্য ... আমরা আমজনতা যখন পাবলিক ফিগারদের সমালোচনা করি তখন তাদেরকে "খুব-কাছে-থেকে-দেখা" অনেকেরই হয়ত মনে হবে যে "এদের কি মাথা খারাপ!" ... কিন্তু সেটাই হয়ত বাস্তবতা ...

কিন্তু আপনার এই অকপট লেখাটার পরও যেটা খারাপ লাগছে সেটা হলো আপনি নিজের মূল পরিচয়ে লিখতে পারলেননা কেন? ... বোঝা যাচ্ছে শফিক রেহমান আপনার গুরু ... শুধু আপনার না, আমার ধারনা বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় আধুনিকতার জোয়ার পাওয়া অনেক তরুণেরই গুরু তিনি ... গুরুর জন্য আপনি নিজের মূল পরিচয়ে লিখলে বাহবাটা আরো বেশী দেওয়া যেত

একটা জিনিস বুঝি, ট্যাগড হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই থাকে ... কিন্তু আমার ধারনা কোন অসদুদ্দেশ্য/প্রচারণার লক্ষ্য (জামাতীরা এখানে যেটা করে থাকে) না থাকলে লোকে ঠিকই বোঝে লেখকের মনের কথা ... তখন বাহবাই দেয়, যেমনটা পাচ্ছেন আপনিও ...

পোস্টে +
১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:০৪

লেখক বলেছেন:
জ্বিনের বাদশা @ তোমারে তুমি কইরা কইতাছি। তাতে আমার পরিচয় ধরতে পারবা আশা করি।

আমার মূল নামে আরেকজন এখানে নিক নিছে। যদিও এজীবনে তারে দেখি নাই।

আর আমার পরিচিত নিক অনেকদিন ধরেই ব্যান। তাই এটাতেই লিখতে বাধ্য হয়েছি। সুযোগ থাকলে নিজনামেই লিখতাম।

২১. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:০৭
comment by: আসিফুজ্জমান তমাল বলেছেন: লেখাটা অনেক ভাল লাগল। এখন শফিক রেহমান মৌচাকে ঢিল নামে একটি পত্রিকা বের করছেন।পত্রিকাটির সাফল্য কামনা করি।
২২. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:০৭
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: রন্টিরএকটা কমেন্ট উধাও হইল কেমতে?
১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:২৬

লেখক বলেছেন:

নারে ভাই। আমি কিছু মুছি নাই। কেই গাইল দিলেও আমি মুছি না। কসম কইতাছি ভাই আজ পর্যন্ত ব্লগে মোছামুছি করি নাই। ;)

২৩. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:২৮
comment by: মুনিয়া বলেছেন: আবেগসিক্ত রোমন্থন। ভাল লাগল।
২৪. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:৪৯
comment by: এজাজ. বলেছেন: দারুন ভাল লাগল লেখাটা পরে।

আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
২৫. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:০৩
comment by: এস্কিমো বলেছেন: হুমম, ভালই।
২৬. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:২৩
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: তোমার পরিচয় ধরতে পারছি বইলাই তো বললাম তোমার নিজনামে লেখা উচিত ছিল ;) ... যাই হোক উপায় যখন নাই, কিছু করার নাই ...

২৭. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:২৪
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: +
প্রিয়তে রাখলাম।
একজন মানুষের কাছে আপনার এই ঋনস্বীকার দেখে মুগ্ধ হলাম।
২৮. ১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫
comment by: গোপাল ভাঁড় বলেছেন: ধন্যবাদ অসাধারণ একটি লেখার জন্য।
২৯. ১০ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
comment by: আতিক ১৭ বলেছেন: অপনার এই লেখাটার সাথে আমি এক = একমত। চরম সত্যটা প্রকাশ করার জন্য আপনাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।
৩০. ১০ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৫৩
comment by: আজাদ আল মামুন বলেছেন: অসাধারণ লেখা।
৩১. ১০ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০২
comment by: মদন বলেছেন: +
৩২. ১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ৭:১৮
comment by: রাশেদ বলেছেন: ভাল্লাগছে খুব লেখাটা।

তাঁর সম্পর্কে আমার অনুভুতি মিশ্র। তাঁর বিএনপির প্রতি অতিরিক্ত ঘেষা নীতি বাদে আর তেমন খারাপ কিছুই চোখে আমার পরে না। সাপ্তাহিক যায়যায়দিন আমার খুব প্রিয় ছিল। অনেকেই তার বিশেষ সংখ্যাকে বলে চটি! কিন্তু তারপরও পইড়া যায় ঠিকই! মুক্তচিন্তার নমুনা!
৩৩. ১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:৫৬
comment by: বাবুয়া বলেছেন: অপনার এই লেখাটার সাথে আমি এক একমত। চরম সত্যটা প্রকাশ করার জন্য আপনাকে শুভেচ্ছা। এখন শফিক রেহমান মৌচাকে ঢিল নামে একটি পত্রিকা বের করছেন।পত্রিকাটির সাফল্য কামনা করি। শফিক রেহমান দীর্ঘ িজবী েহান।
৩৪. ১২ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:৩৫
comment by: আতিক ১৭ বলেছেন: ভাই শফিক রেহমান স্যারের কিছু ছবি ব্লকে অ্যাড করলে খুবই খুশি হতাম, আমি নিশ্চিত যে আপনার কাছে উনার অনেক ছবি আছে।

আপনার এই অসাধারণ লেখার জন্য আবারও ধন্যবাদ।
৩৫. ১৫ ই মে, ২০০৮ ভোর ৪:৩৯
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: লেখাটি চমৎকার।
মন ছুঁয়ে যাওয়া লেখা।
আপনার অনয়ভূতি পড়ে ভালো লাগল।
ভালো থাকুন।
৩৬. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৫
comment by: মরমী কবি বলেছেন: শেফিক রহমানকে আমি বহয়দিন থেকে চিনি। পেশাগত ভাবে তিনি একজন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট। মূলত লন্ডনে থাকেন। সম্ভবত একজন বৃটিশ নাগরিক। মিডিয়াতে নাম করেছেন উপস্থাপক হিসাবে। এক জীবনে তিনি অনেক করেছেন, অনেক পেয়েছেন।
He has played his game of life in full. He should be happy now.Let him enjoy his life with music,love and dance here in Dhaka or London. Let him be in full peace.Let him smile like a flower. God bless him

 



 


খাইয়ালামু ....
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২৩২১৯