somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নাস্তিকেরা কেন 'ইসলাম লইয়া' বেশি ফাল পারে? একটা পোস্ট দিয়েছে। তাতে তিনি যে প্রশ্নটি করেছেন সেটাতে উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরুর অনেক ব্লগারই খুশিতে বগল বাজিয়ে হিম ঠান্ডায় উষ্ণ কিংবা প্রচন্ড গরমে লেবুর শরবত পান করার সুখ পাচ্ছেন। নাস্তিকদের আহবান করছেন উত্তর দিয়ে যাবার জন্য। একজন নাস্তিক হিসেবে আমি আমার কথাটা বলছি।

তবে প্রথমে একটু প্রারম্ভিকা।

নাস্তিকতা কারো কারো কাছে ফ্যাশন। কিছু কিছু নাস্তিক (ভাব-এ) আছে যারা স্মার্ট হওয়ার লাইগা নাস্তিকগিরি করে, মাঝে মাজে আস্তিকগো নার্ভ টেস্ট করে। হে্ইগুলাও একটা ছাগল। কিছুদিন আগে হযরত মুহাম্মদ নিক নিয়া এরকম এক ছাগল আমারব্লগে আস্তিকগো নার্ভ টেস্ট করছিল।

আবার কিছু কিছু আস্তিক আছে যারা রামছাগল। ওইসব নব্য স্মার্ট সাজতে চাওয়া নাস্তিকগো লগে পাল্লা দিতে গিয়া আস্তিক সাইজা পোস্ট দেয়। আধাশিক্ষিত, মুর্খ, ঢাবির ভুয়া সাবজেক্টে পড়া এসব কথা কইয়া ফাইট দেয় যদিও বাস্তবে কতোটুকু আস্তিক সেটা বোঝা যায় না।

ওইসব স্মার্ট (আদতে আনস্মার্ট) নাস্তিকদের যেমন চেনা যায় তেমনি ফেল্টুসের মতো লাইনে নয়া আস্তিকগোও এসব প্রশ্নের ধারা দেখে বোঝা যায় ওনাদের আরো দৌড়াতে হবে।

যাইহোক ফেল্টুসের প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাক। অবশ্য নাস্তিকের ধর্মকথা এ প্রশ্নের খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছেন।

একজন নাস্তিক প্রথমেই যে ধর্মটি অস্বীকার করেন তা তার ফ্যামিলি প্রদত্ত ধর্মটিই। (হযরত মুহম্মদও তাই করেছিলেন - হি হি হি) নাস্তিকের অবিশ্বাসের কাজটি শুরু হয় জন্মের পর মাথার উপর বসিয়ে দেয়া ধর্মগ্রন্থটির নানান নিয়মকানুনের বিশ্লেষণ থেকে। একাজটি যে কোনো ধর্মের যে কেউই করতে পারেন।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের ধর্ম ইসলাম। আর তাই ব্লগে, সমাজে ইসলামী জনগণ সবচেয়ে বেশি। তাই নাস্তিক্যবাদ নিয়া যখনই আলোচনা হয় তখনই ইসলামকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। কারণ অন্য ধর্মের প্রসঙ্গে ইসলামী আস্তিকরা তো ভাবেনই না। আজকে আরিফুর রহমান কিংবা নাস্তিকের ধর্মকথা যদি ইহুদী কিংবা খ্রীস্টান ধর্ম নিয়া লেখে তখন ইসলামী ভাইয়েরা কইব, হো হো ঠিক কথাই তো কইছে। ওইসব ধর্মগুলা এমুন ফাউলই।

তো এতে নাস্তিকদের মূল ভাবনা অর্থাত পৃথিবীর তাবত ধর্মের প্রতি অবিশ্বাস প্লাস মানুষের সাম্যতা এতে প্রকাশ পায় না। তাই এগোতে হবে আপনার বিশ্বাসের জায়গা থেকে ভাঙ্গতে হবে আপনার না বুঝেই পেয়ে যাওয়া উত্তরাধিকার সূত্রের ধর্ম, বিশ্বাস যুক্তির আলোকে। আগেই বলছি স্বাভাবিকভাবেই ইসলাম অনুসারী বাংলাদেশে বেশি। নাস্তিক হওয়ার পর প্রথম আঘাত এইসব ইসলামী বন্ধু, আত্মিয়দের কাছ থেকেই বেশি আসে। তাই এই ইসলাম নিয়েই কচকচি বেশি হয়।

আস্তিকরা জানতে চান ইসলাম নিয়েই নাস্তিকগো এতো মাথাব্যথা কেন? তারা যদি আশা করেন যে মুসলমান ফ্যামিলি থেকে আগত ওইসব নাস্তিকরা ইসলাম ছাড়াও অন্য ধর্ম নিয়ে লিখবে তখন কি ওইসব আস্তিকরা সুশান্তের মতো হিন্দু ফ্যামিলি থেকে আসা নাস্তিকের ইসলাম ধর্ম নিয়ে লেখা সইতে পারবেন?

নাস্তিক হইতে গেলে তাকত লাগে। পয়দা হইয়া আস্তিক সাইজা থাকা যায়। কিন্তু নাস্তিক হইতে গেলে অনেক চর্চার ভিতর দিয়া যাইতে হয়। এই সাহস সবার হয় না। সবার হতেও নেই মনে হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hottogolblog/28850908 http://www.somewhereinblog.net/blog/hottogolblog/28850908 2008-10-04 17:18:08
এ্যারে হুমায়ুন্যা ... বালাছোত নি?
এসব শুনে আরো মনে হয় আমার বয়স বাইড়া গেছে। কারণ আমি ছুডুবেলায় যখন বই পড়া অভ্যাস করছি তখন হুমায়ুনরে চিনতাম না। বই পড়ছি কুয়াশা, দস্যু বনহুর, আর সবচেয়ে বেশি বই পড়ছি সেবা প্রকাশনীর। আমার বই পড়ার অভ্যাস করছে সেবায়। পরে ‘সৌরভ’ দিয়া হুমায়ূনের সাথে পরিচয়। আস্তে আস্তে হয়ে উঠেছি সর্বভুক। প্রথম প্রথম হুমায়ুন ব্যাডার লেহা পছন্দ করতাম। পরে যখন দেহি হালায় আগডুম বাগডুম লিখতাছে তখন বাদ্দিয়া দিছি। হের লেখা এহন টয়লেট টিস্যুর লাহান।

হুমায়ুনের নাকি একটি নির্দিষ্ট পাঠকশ্রেণী আছে। তারা কারা? স্কুলের শেষের দিকের থেকে শুরু করে কলেজ পড়ুয়া সবাইকে নিয়ে ভার্সিটির প্রথমদিকের ছাত্রছাত্রী পর্যন্ত সবাই নাকি হুমায়ুনের পাঠক। আগেই বিভিন্ন ফোরামে, ব্লগে বলা কথায় জেনে গেছি যে হুমায়ুন এদের পাঠাভ্যাস করিয়েছে আর তাই তারা বই পড়ছে। কিন্তু কি বই? হুমায়ুনই শুধু?

হ্যা কথা সত্য। হুমায়ুন যদি কোনো পাঠক তৈরি করে থাকে তবে সে শুধু হুমায়ুনপাঠক তৈরি করেছে। ওইসব পাঠকদের হুমায়ুনের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে, বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়নি। হুমায়ুনের বই যারা পড়ে তারা অন্য কোনো লেখকের বই পড়তে চায় না, মজা পায় না। জিগাইলে কয়, হুমায়ুন এতো মজা কইরা লেখে যে হেভ্ভি লাগে। অন্য বইগুলা এরম না।

আর তাই সবার মতো আমি মানতে পারি না যে হুমায়ুন বাঙালির পাঠাভ্যাস তৈরি করছে। হুমায়ুন তার নিজের নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেছে। ক্রেডিট দিতে চাইলে আমি রসময় গুপ্তরেও দিতে চাই। হেই ব্যাডায়ও বাঙ্গালির পাঠাভ্যাস তৈরি করছে। যদি ভালো কইরা কই, তাইলে সংবাদপত্রও বাঙালির পাঠাভ্যাস তৈরি করে।

বাকিটুকু পড়তে এখানে টিপি দ্যান। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hottogolblog/28822759 http://www.somewhereinblog.net/blog/hottogolblog/28822759 2008-07-21 22:46:29
সেন্টমার্টিনের একাংশে ন্যুড বিচ তৈরি করা হোক
কিন্তু এসব বিচগুলোতে বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনা কম। পর্যটন কর্পরেশনের মতো একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখাতে বৈদেশিক মুদ্রা বাড়ানোর প্রচেষ্টায়। অথচ বর্হিবিশ্বে এই দ্বীপ/বিচগুলো সম্পর্কে অনেকেই জানে না। এসব জায়গায় সুযোগ সুবিধাও নাই পর্যটকদের লাইগা। সুযোগসুবিধা বলতে আমরা বুঝছি একগাদা হোটেল বানানি যেখানে অতি উচ্চমূল্যে খাবার বেচা হয়। এইবার সেন্টমার্টিন গিয়া বিলা খাইয়া গেছি। এত্তো মানুষ, সারাক্ষণ চারপাশে কিলবিল করতাছে। ঢাকা আসার পথে কক্সবাজারে ঘন্টা দুয়েকের জন্য নাইমা দেখলাম সেই উচু উচু হোটেল।

খারাপ লাগলেও হাচা কতা হইল পৃথিবীর দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত দেখার কোনো খায়েশ বিদেশীগো নাই। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত দিয়া কি বাল ফালানি যায় হেইডা নিয়া হেরা মাতা ঘামায় না। তাই তারা গোয়া চইলা যায়। প্রবাল দ্বীপে যদি পানির তলে স্কুবা ডাইভিং কইরা প্রবাল হাতান না যায় তাইলে প্রবাল দ্বীপেই বা যাইব ক্যান? একজন বিদেশি কক্সবাজারে গিয়া কি করব? রাস্তায় হাঁটতে গেলে পাবলিক মাইয়াগো দুধের দিকে চাইয়া থাহে। বিকিনি পইরা গোসল করন যায় না। কোনো ওয়াটার রাইড নাই। সারা শরীর ঢাইকা গোসল যদি করেও তাইলে সন্ধ্যার পর কি করব? বার্মিজ মার্কেট গিয়া পুতি, গামছা আর উপটান কিনব মুখে মাখার লাইগা? এত্তো এত্তো টাকা লইয়া যদি আসেই বা তাইলে জুয়া খেইলা সেই টাকা এদেশে রাইখা যাওনের মতো ক্যাসিনো কই? রাত্রেবেলায় ক্যাম্পফায়ার করনের খায়েশ জাগলে নির্ঘাত হেগোরে ছুরিকাঘাতে জীবন দিয়া যাইতে হইব এই দেশে। পানির কাছে আইসা পানির মইদ্যে থাকনের কোনো সুযোগ নাই। সিগারেটের পুটকি, পেলাশটিক, ছাগলের লাদি কি নাই বিচের মইদ্যে। শান্তিতে হাটনও তো যায় না। দেশি লোকেরাই মজা পায় না তো বিদেশিরা মুততে আইব বাংলাদেশের সীবিচে?

অথচ মালদ্বীপের দিকে তাকালে আমরা কি দেখি? সমুদ্রবেষ্টিত দেশটির আয়ের প্রধান উৎস সামুদ্রিক মৎস। এরপরেই রয়েছে পর্যটন। সমুদ্রকে কেন্দ্র করে নানান আয়েজন করে রেখেছে দেশটি। বিশ্বসুন্দরি প্রতিযোগিতাও হয়েছিল সেইদেশে। নিচের ছবিগুলা দেখুন। মালদ্বীপ সম্পর্কে আর কিছু বলতে হবে না। মালদ্বীপের উদাহরণ টানলাম কারণ এটা একটি মুসলিম দেশ। দেখুন আর নিজের দেশের বিচগুলার কথা ভাইবা আফসোস করুন।











বাংলাদেশের কিন্তু সৌন্দর্য্যের অভাব নেই। শুধুমাত্র দক্ষিণাঞ্চলকে মাথায় রেখে প্ল্যান করলে দেশ বৈদেশিক মুদ্রায় ভেসে যেত। শুধু সেন্টমার্টিন দিয়েই তো কোটি কোটি ডলার ইনকাম করা সম্ভব। নিচের ছবিটা দেখুন।



মনে হচ্ছে না এটা সেন্টমার্টিন আর অদূরের ওইটা ছেড়াদ্বীপ? হুমম, কিন্তু এটা হচ্ছে মালদ্বীপের ছোট দুইটি দ্বীপ। অথচ দেখেন সেন্টমার্টিনের সঙ্গে কি চমৎকার মিল। আসেন এই ছবিটিকে কেন্দ্র করে আপনি দ্বীপটি সাজান। কোথায় কি কি হবে সেটা বসিয়ে দিন। আমি কি কি চাই সেটা জানিয়ে দিচ্ছি।

প্রবেশ ফি : এই প্রস্তাবে আপনারা নাখোশ হইতে পারেন। কিন্তু আমার সাফ কথা হইল সেন্টমার্টিন ঢুকতে পয়সা লাগব। বাঙালিরে বহুত ফ্রি দেয়া হইছে, তাই জায়গায় জায়গায় হাইগা রাখছে। সব বন্ধ। তবে এই প্রবেশ ফি বাংলাদেশের যেখানে সেখানে দেয়ার সুযোগ থাকবে। পোস্টঅফিসগুলোতে অথবা নির্ধারিত দুয়েকটি সরকারি ব্যাংকে প্রবেশ ফি দিয়ে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার প্ল্যান করতে পারেন। তবে ফরমে উল্লেখিত নির্ধারিত তারিখের পর আপনি সেন্টমার্টিনে গেলে ঢুকতে দেয়া হবে না। সেক্ষেত্রে ঘাটে কিংবা সেন্টমার্টিনে প্রবেশমুখে পুনরায় প্রবেশ ফি দিয়ে অনুমতি আদায় করতে পারেন।

পরিবহন ব্যবস্থা : সেন্টমার্টিন পরথম গেছিলাম ট্রলারে কইরা। দ্বীপের অনেকদূরে ট্রলার থামাইয়া দিছিল। ছোট ডিংগি নৌকা কইরা পাড়ে গেছি। ট্রলারে যাইতে ভয় লাগছিল তয় মজা বহুত পাইছি। এ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য এই ব্যবস্থা আবার চালু করতে হবে। কিপ্টা পর্যটকরা কম পয়সায় এইটায় চইড়া সেন্টমার্টিন যাইব। এছাড়া যারা দিনে দিনে দ্বীপে আসা-যাওয়া করতে চান তাদের জন্য ট্রলারগুলো প্রতিঘন্টায় রওনা দেবে। অন্যান্য পরিবহনগুলার মধ্যে ইয়ট এবং ছোট দুইপাখার উভচর প্লেন থাকবে। পরিবহন ফি একটু এক্সপেন্সিভ হবে। পুরো সেন্টমার্টিনে কোনো পরিবহন থাকবে না। শুধু দ্বীপ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ছোট ট্যুরিস্ট বাস দ্বীপের চারপাশের রাস্তা দিয়ে সময় মেপে চলাফেরা করবে। যারা হোটেল বুক করবেন আগে থেকে তাদের জেটি থেকে ছোট গাড়িতে রিসিভ করা হবে এবং বিদায়ের দিন জেটিতে দিয়ে আসা হবে। ট্যুরিস্টরা যদি হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন সেক্ষেত্র ফোন করে ছোট গাড়ি (যেগুলো ঘাস, বেলাভূমি, রাস্তাসহ সবজায়গায় চলতে পারে) ডেকে আনতে পারেন। সেক্ষেত্রে ছোট ফি দিতে হবে। এছাড়া পুরো দ্বীপজুড়ে পরিকল্পনামাফিক সাইকেল লেন/ হাঁটাপথ থাকবে। ট্যুরিস্টরা সাইকেল ভাড়া করে চলাফেরা করতে পারেন।

হোটেল : উন্নতমানের একটি ৫/৭ স্টার ৮ তলা হোটেল থাকবে। এর ফ্রন্ট থাকবে সমুদ্রের দিকে। সেখানে সুইমিং পুল থাকবে। ছাদের উপরে হোটেলের নিজস্ব হেলিপ্যাড থাকবে। এটা বিশ্বের চেইন হোটেলগুলোর কোনো একটি ব্রাঞ্চ হলে সুবিধা হয়। তাহলে সেন্টমার্টিনের বিপণন ওইসব হোটেলগুলোর ওয়েবসাইটে অটোম্যাটিকালি হয়ে যাবে।

কটেজ/ ডরমেটরি/ এ্যাপার্টমেন্ট/ রিসোর্ট : সারা সেন্টমার্টিন জুড়ে তীর থেকে সাঁকো হয়ে সমুদ্রের মাঝে অসংখ্য কটেজ থাকবে। ডিজাইনটা অনেকটা অক্টোপাসের মতো হবে। এছাড়াও বিচের কোনো একজায়গায় নারিকেল গাছগুলোর নিচে কুড়েঘর টাইপ বেশ অনেকগুলো কটেজ থাকবে। কটেজগুলোর ডিজাইন নানারকম হবে। কিছু কিছু কটেজ থাকবে যেটা শুধু মাত্র ঘন্টা হিসেবে (উর্ধ্বে ৩ ঘন্টা নিম্নে ১ ঘন্টা) ভাড়ায় যাবে। একটা ডরমেটরি থাকবে কিপ্টা পর্যটকদের জন্য। দ্বীপের দুটি স্থানে ৪ তলা বিশিষ্ট এ্যাপার্টমেন্ট থাকবে যেখানে একতলা বিশিষ্ট স্টুডিও এ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। এগুলো তুলনামুলকভাবে কটেজ/ হোটেলের চাইতে শস্তা কিন্তু ডরমেটরির চাইতে ব্যয়বহুল হবে। যারা দীর্ঘমেয়াদীভাবে দ্বীপে অবস্থান করতে চায় তাদের জন্য। রিসার্চার বা সাহিত্যিক টাইপের লোকজনের জন্য স্টুডিও এ্যাপার্টমেন্ট থাকার জায়গা হিসেবে ভালো হবে।

বার-রেস্টুরেন্ট- ক্যাসিনো : একটি বড় এবং মাঝারি সাইজের ২টি সহ মোট ৩টি ক্যসিনো থাকবে। ৩টি ক্যাসিনো থাকার কারণ হইল জুয়ায় হেরে গেলে লাক চেঞ্জ করার জন্য পর্যটকরা অন্য কোনো ক্যাসিনো খুঁজতে পারে (আমি যেমন তিনতাসে বেশি হেরে গেলে জায়গা চেঞ্জ করি)। দ্বীপের নানা জায়গায় ওপেন বার/ ক্লোজড বার থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের খাবারের স্বাদ নেয়ার জন্য নানান টাইপের রেস্টুরেন্ট থাকবে। বাঙালি চটকদার খাবার থাকার জন্য ছোট ছোট বুথ থাকতে পারে সারা দ্বীপ জুড়ে।

সিনেমা হল/ মুক্তমঞ্চ : একটি সিনেপ্লেক্স থাকবে যেখানে ২টি সিনেমা হল থাকবে। মুক্তমঞ্চে নানান ধরনের পার্ফমেন্স হবে। কনসার্টই প্রাধান্য পাবে বেশি।

এমিউজমেন্ট পার্ক/ রাইড : নানান ধরনের গেমস এবং রাইড থাকতে হবে। এছাড়াও ওয়াটার রাইড সহ স্কুবা ডাইভিংয়ের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। আকাশে উড়াল দেয়ার মতো কিসব খেলা বিদেশী টিভিতে দেখি তার সবগুলোই বিদ্যমান হতে হবে। বিচজুড়ে চড়ে বেড়ানোর জন্য ছোট ছোট গাড়ি থাকবে। মাঝারি মানের একটা গলফ মাঠ হবে।

ন্যুড বিচ : এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং থাকতেই হবে সেন্টমার্টিনে। পুরো ন্যুড না হয়ে টপলেস হতে পারে। যতোদুর জানি দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের বিচ নেই। তাই প্রথম সুযোগটা বাংলাদেশকেই নিতে হবে। ন্যুড বিচের পাশে একটি সনা/ ম্যাসেজ পার্লার তৈরি করা যায়। সেখানে বাষ্পীয় গোসল সহ হাবিজাবি সব গোসলই করা যাবে। ন্যুডবিচকে চোখের আড়াল করার জন্য এর চারপাশ দিয়ে ঝাউগাছ দিয়ে দেয়াল তৈরি করতে হবে। শুধু সেন্টমার্টিনে প্রবেশে সময় ইয়ট/ট্রলার থেকে ন্যুডবিচটি হালকা দেখা যেতে পারে। এটা অনেকটা সিনেমার ট্রেলার দেখানো, যারা সিনেমা দেখতে চাইবেন তারা গাঁটের পয়সা খরচ করে ন্যুডবিচে যাবেন।

নাইট আউট/ ক্যাম্পফায়ার : বিচের নির্ধারিত ৩/৪ জায়গায় নাইট আউট করা যাবে। কেউ তাবু খাটিয়ে কিংবা আগুন জ্বালিয়ে ক্যাম্পফায়ার করতে চাইলে তাদের জন্য এ সুবিধা রইল।

হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ইন্সটিটিউট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় এবং অথর্ব হলেও পর্যটন কর্পরেশনের সহায়তায় সেন্টমার্টিনে হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ইন্সটিউট খোলা যেতে পারে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ছাত্রছাত্রী এতে ডিপ্লোমা কিংবা গ্রাজুয়েশন করতে পারে ট্যুরিজমের নানা বিষয়ে। পযর্টনের কর্পরেশনের বর্তমানে পরিচালিত কোর্সগুলো আন্তর্জাতিক মানে এখানে পড়ানো হবে। ভবিষ্যতে বিদেশি ম্যানেজমেন্ট মুখাপেক্ষী হয়ে যেন না হয়ে থাকতে হয় তারজন্য দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। কারণ সেন্টমার্টিনের দেখাদেখি দেশের অন্যান্য বিচগুলোতেও উন্নতির ছোঁয়া লাগবে। যেহেতু আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিন ৬ মাস রিস্কি তাই মূল কোর্সটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবনে পড়ানো হবে। কোর্সের প্র্যাকটিকাল পার্টের জন্য ছাত্রছাত্রিরা এখানে আসবে। বিভিন্ন রিসোর্ট কিংবা হোটেল, তারা ইন্টার্নি করবে। ফিজিতে এরকম কোর্স চালু আছে। আমার বড়ভাই করেছিল।

বাংলাদেশি বাজার : গ্রামের বাজারের মতো করে তাবু খাটিয়ে হ্যাজাক লাইট দিয়ে একটি ছোট বাজার থাকবে যেখানে দেশীয় তাঁত, হ্যান্ডক্রাফট সহ বাংলাদেশি পণ্যের বাজার থাকবে। সরাসরি নির্মাতাদের কাছ থেকে পণ্যগুলো কেনা হবে। নো চান্স ফর গ্রামীন, আড়ং কিংবা বুনন। বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো বাংলাদেশি যাবতীয় জিনিস সেখানে মজুদ থাকবে।

আবহাওয়া অফিস/ বিদ্যুৎকেন্দ্র : স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আধুনিক সুযোগসম্পন্ন একটি আবহাওয়া অফিস এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুত অফিস থাকতে হবে।

সেন্টমার্টিনের যে জায়গাটায় বর্তমানে জেটি আছে সেটা পরিবর্তন হয়ে যাবে। কারণ জেটির ওই জায়গাটাসহ কর্ণারটিতেই একমাত্র গোসল করা সুবিধা রয়েছে কারণ এখানটাতে পাথর কম। ন্যুডবিচের জায়গাটা হবে এখানেই। কিন্তু জেটি পরিবর্তন করে বর্তমানে যেখানে পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে সেখানটাতে হতে হবে। ন্যুডবিচ যেহেতু একটি সংরক্ষিত জায়গা হবে তাই যারা ইয়টে কিংবা ট্রলারে করে সেন্টমার্টিনে যাবে তারা যেন একঝলক ন্যুডবিচ সম্পর্কে ধারণা পায় সেজন্যই জেটিটি সরিয়ে নিতে হবে। কটেজগুলো হবে ছেড়াদ্বীপে। সীমানা পেরিয়ে নামে যে কটেজটি রয়েছে সেখানে হতে পারে মূল হোটেলটি। গলফ কোর্সটি হবে একেবারে দ্বীপের বুকে যেন বার্ডসআই ভিউটা সুন্দর আসে। সেন্টমার্টনের মূল পার্টটি একটা হইচই টাইপ এলাকা হবে। ছেড়াদ্বীপ হবে কটেজ/রিসোর্টের জন্য কারণ জায়গাটা একটু নিরব। বিচের নানা জায়গায় ভলিবল কোর্ট, টেনিস কোর্ট বানাতে হবে। রাতের জন্য পরিকল্পিতভাবে লাইটিং করা হবে।

পুরো পরিকল্পনায় এমনটি মনে হতে পারে যে সেন্টমার্টিন বাংলাদেশিদের জন্য এক্সপেন্সিভ হবে। আপনি ঠিকই ধরেছেন। সেন্টমার্টিনের এই পরিকল্পনাটি পুরোপুরিই বিদেশি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করতে হবে। আপনার যদি অনেক পয়সা থাকে তাহলেই সেন্টমার্টিন যাবেন। মনে রাখতে হবে বছরের ৬মাস সেন্টামার্টিনের আবহাওয়া পর্যটনের মতো থাকে না। বছরের বাকি ৬মাসে সে খরচটা তুলে আনতে হবে। বাংলাদেশিদের জন্য আরো যেসব বিচ রয়েছে সেখানে যাবেন তারা।

ন্যুড বিচ সম্পর্কে আপত্তি আসতে পারে। সেক্ষেত্রে এ বিচে কোনো বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হবে। হাতের কাছেই উদাহরণ আছে। নেপালের ক্যাসিনোতে নেপালিরা ঢুকতে পারেন না। ওইটা শুধুমাত্র বিদেশিদের জন্য। সেন্টমার্টিন ন্যুডবিচটাও তেমনই হবে।

এখন আসা যাক ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে। প্রাথমিকভাবে দক্ষ বিদেশি কোনো ম্যানেজেমন্টের কাছে দ্বীপের ব্যবস্থাপনা ছেড়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ৫/১০ বছর পর আমরা দ্বীপটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারি। এজন্য হোটেল এন্ড ট্যুরিজম খাতে প্রজন্ম তৈরি করতে হবে। সেন্টমার্টিনে কোটা বেসিসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সেন্টমার্টিনে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরো আধুনিকায়ন এবং সেখানে থেকে হেলিকপ্টারে যাওয়া-আসার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

কি বলেন আপনারা ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hottogolblog/28816479 http://www.somewhereinblog.net/blog/hottogolblog/28816479 2008-07-03 18:02:24
প্রিয় শফিক রেহমান - আপনার প্রতি ঋণ স্বীকার
জানি আপনি ভালো নেই। তাই কেমন আছেন জিজ্ঞেস করলাম না। প্রিয় সন্তানের কাছ থেকে কোনো বাবা দূরে শান্তিতে থাকতে পারে না। যায়যায়দিনের সঙ্গে আপনি আর নেই অর্থাৎ নিজের হাতে গড়া সেই যায়যায়দিন এখন আপনাকে ছাড়াই চলবে। এই ছেড়ে থাকার কষ্ট কতোটুকু হতে পারে আপনার সঙ্গে বেশ কিছুদিন থাকায় আমি সেটা বুঝতে পারি।

ব্লগে বিভিন্নজন আপনাকে বিভিন্ন নেগেটিভ ভাষায় সমালোচনা করছে।
আপনাকে নিকৃষ্ট সম্পাদক ভাবছে,
দালাল ভাবছে,
ছুঁড়ে ফেলছে আপনাকে,
আর আমি ভাবছি আরো কতো আগেই আরো কতোজনকে দালালির অভিযোগে আমাদের ছুঁড়ে ফেলার কথা ছিল।

আমি আপনার মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছি। মনে পড়ে যাচ্ছে আপনার সঙ্গে কাটানো আমার স্বর্ণময় দিনগুলো। সেই কবে আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ...

১৯৯৪ সাল। যায়যায়দিনের চিঠি সংখ্যায় আমার একটা গল্প ছাপা হলো। তার কয়েকদিন পর সজীব ওনাসিসের ২০০ টাকার মানিঅর্ডার পেলাম। টুকটাক গল্প কোথাও কোথাও ছাপা হলেও লেখালেখি করে টাকা প্রথম পেয়েছিলাম আপনারই কাছ থেকে। আমার জুতোটা ছিঁড়ে গিয়েছিল। তাই লেখালেখির প্রথম উপার্জন দিয়ে একজোড়া জুতো কিনতে চাইলাম। গুলিস্তানের চোরাই জুতোর মার্কেট থেকে ১৮০ টাকায় একজোড়া জুতো কিনি। বাকি ২০ টাকা দিয়ে বন্ধুবান্ধব সহ চা সিগারেট খাই। আজ এতো জায়গায় এতো আবজাব লিখি, কেউ একটা টাকাও দেয় না। আমিও ভাবতে থাকি, থাকুক - আপনার কাছ থেকে পাওয়া ওই ২০০ টাকা আমার প্রথম আর শেষ সম্মানি থাকুক।

যায়যায়দিনে আপনি একবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যাদের লেখা ছাপা হয়েছে তারা যেন সম্পাদকের অফিসে যোগাযোগ করে। আমি সেই খবরটা দেরিতে পেয়েছিলাম, ততোদিনে যোগযোগের দিন শেষ হয়ে গেছিল। খুব আফসোস হয়েছিল। তাই পরবর্তীতে ডেমক্রেসিওয়াচের (আপনার স্ত্রী তালেয়া রেহমানের প্রতিষ্ঠান) বিজ্ঞাপন দেখে প্রথম দিনেই ইংরেজি/কমপিউটার শিখতে ভর্তি হয়ে যাই। দিনটা ছিল ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৫। যতো না ইংরেজি/ কমপিউটার শিখতে চেয়েছিলাম তারচেয়ে আশা ছিল আপনার সাহচার্য পাবার। তখন খুব ইচ্ছে ছিল সাংবাদিক হবার। পাশাপাশি থিয়েটার করি, মুভি বানানোর খুব শখ। সিদ্ধান্ত নিলাম যায়যায়দিনের সাংবাদিক কাম মুভিমেকার হব।

অবশেষে স্বপ্নপূরণ হয়, আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়। ১৪ জন ছাত্রছাত্রী ডেমক্রেসিওয়াচে ইংরেজি কপচাই। আপনি সপ্তাহে একদিন এসে লাইফস্টাইল ক্লাস নেন। সেই যে স্যার ডাকা শুরু হলো, আশেপাশের সবার ভাই ডাক শুনেও আপনাকে স্যার-ই সম্বোধন করে গেলাম। ক্লাসে আপনার চমৎকার বাচনভঙ্গী আমাকে মুগ্ধ করত। আপনার কথাবার্তা আমাকে স্পিরিট এনে দিত। আপনি উদ্ধুব্ধ করেন উপার্জনের জন্য। আপনি বলেছিলেন, উন্নতবিশ্বের সব ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার পাশাপাশি উপার্জনও করে। বাংলাদেশে সেটা শুধু টিউশনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যাদের বাবা মা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তারা সেই টিউশনিটাও করে না। অথচ নিজের উপার্জনের মজাই আলাদা। আপনি সবসময় বলতেন, বাপের হোটেলে খাচ্ছ খাও কিন্তু গার্লফ্রেন্ডকে তোমার উপার্জনের পয়সা দিয়ে গিফট দিও, বন্ধুদের মাসে একবার অন্তত খাওয়াবে, নিজের পয়সার প্রথম গাড়িটি কিনতে আপনি আমাকে/আমাদের উৎসাহ যুগিয়েছিলেন।

লেখাটা মানপত্রের মতো হয়ে যাচ্ছে কিনা আমি জানি না কিন্তু আপনার এ মন খারাপের দিনে আমি শুধুই স্মরণ করতে চাইছি আপনার কাছ থেকে আমি যা যা শিখেছি, আমাকে যে পরিমাণ অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আমার কর্তব্য এ সবকিছু স্মরণ করা। কোনোদিন আপনাকে বলা হয়ে উঠেনি যে বন্ধুরা আমাকে ’চিপা শফিক দ্য জুনিয়র’ ডাকতেও শুরু করেছিল। এমন না যে আপনার সবকিছুই আমি পছন্দ করতাম। কিন্তু আপনার অনেক কিছু দ্বারাই আমি ভীষণ প্রভাবিত ছিলাম।

আপনি একজন অসম্ভব সিনেমাপ্রেমী মানুষ। তাবৎ অস্কারপ্রাপ্ত মুভিগুলো আপনার বাসার দুটি রুমের দেয়ালজুড়ে থাকা শেলফে সাজানো থাকত। আপনার পুত্র সুমিত রেহমান নতুন রিলিজ পাওয়া ছবিগুলোর ভিএইচএস কপি বাজারে বের হওয়া মাত্রই ইংল্যান্ড থেকে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিত। আপনার বাসায় আপনি ছোট থিয়েটার বানিয়েছিলেন। সাল ১৯৯৬। মধুমিতা তখনও সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেমে ছবি প্রদর্শন করে কিনা জানি না তবে আমার প্রথম সারাউন্ড সাউন্ড অভিজ্ঞতা আপনার ওই ছোট থিয়েটার হলে ইন্ডিপেন্ডেস ডে ছবিটি দিয়েই হয়েছিল। সেবা প্রকাশনী আমাকে সুযোগ করে দিয়েছিল বিশ্বের সেরা অনুবাদ পড়ার, আর আপনি আমাকে দেখিয়েছেন বিশ্বের সেরা সেরা মুভিগুলো। আজকে এই পাশ্চাত্যে বসে আমি হাজারো মুভি দেখি আর আপনার প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসি ম্যুভি দেখার টেস্ট আমার মাঝে গড়ে দেয়ার জন্য। মনে আছে আমরা সবসময় আালাপ করতাম একটি ফিল্ম সোসাইটি করার জন্য। অবশেষে আপনি তা করেছেনও - একাডেমি ফিল্ম সোসাইটি। আমার দুর্ভাগ্য সেসময় আমি থাকতে পারিনি।

ডেমক্রেসিওয়াচে চাকরি করি। আমার সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছার কথাটা আপনি জানতে পেরেছিলেন। তখন আমি খুব অগোছালো থাকতাম। জীবনে কখনো শার্ট ইন করে পড়তাম না, স্যান্ডেল কিংবা স্লিপার পড়ে চলতাম। মাঝে মাঝে হয়তো ফিতাটাও ছেঁড়া থাকত। আমাকে ডেকে বলেছিলেন, সাংবাদিক হতে চাও? তোমার যা লেবাস তাতে তো বঙ্গভবনে, সচিবালয়ে ঢুকতেই দেবে না। তুমি আমার জন্য ইন্টারভিউ আনবে কি করে? পরের মাসে আমার সেলারি বেড়ে যায়। আমি নতুন জামা-জুতো কিনি। আমি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছি শুনে আরেকদিন ডেকে বললেন, বাংলাদেশে ডিগ্রির খুব দাম। যতোই বিদ্বান হও, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হতে পারবে না ডিগ্রি না থাকলে। তুমি তোমার ডিগ্রি কমপ্লিট কর। আমি সায়েন্সের ছাত্র, কমার্সের ডেবিট ক্রেডিট বুঝি না। কিন্তু সহজে পাস করা যায় শুনে বি.কম ভর্তি হলাম। আপনি আমাকে সপ্তাহে দুইঘন্টা পড়াবেন বললেন। একদিন ঠিকই খুব করে ডেবিটক্রেডিট বুঝিয়ে দিলাম। আমার ভালো লাগল না। আপনাকে গৃহশিক্ষকের ভূমিকায় দেখতে ইচ্ছে করছিল না। তাই আপনার মতো FCA (Fellow of Chartered Accountants) ছেড়ে আমি পাড়ার বড়ভাইয়ের কাছে পড়তে শুরু করি।

আমার খুব দু:খ হয় আপনার বিশেষ সংখ্যাগুলোকে কেউ যখন চটি বই বলে। এদের অনেককেই বলতে শুনেছি, অশ্লীলতার সংজ্ঞা নির্ধারণের কিছু নাই। তারপরও আমি এ ব্যাপারে আপনাকে প্রশ্ন করাতে আপনি বলেছিলেন, বিশেষ সংখ্যার লেখাগুলো সব পাঠকেরই লেখা। ৭১ এর সাড়ে সাত কোটি জনগণ কিভাবে সাড়ে ১৫ কোটি হয়ে গেছে পাঠকদের গল্পে এসবের কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। এখন এটাকে কেউ অশ্লীলতা ভাবলে তাদের ব্যাপার। যাযাদি অশ্লীল না। প্রেমলীলা মোটেই অশ্লীল কিছু না। আপনি বিদেশী বিভিন্ন পত্রপত্রিকা দেখিয়ে বলেছিলেন নতুন কিছু নিতে আমাদের একটু কষ্টই হয়।

আমি জানি প্রতিটি বিশেষ সংখ্যার জন্য প্রচন্ড কষ্ট আপনি করেন। ব্লগে দেখলাম কেউ কেউ বলল আপনার বেতনভুক্ত লোকেরা নিজেরাই লিখে নাকি ছাপিয়ে দেয়। অথচ আমি দেখেছি কি পরিমাণ চিঠি/গল্প আপনার ঠিকানায় আসতে। কেউ কেউ বিশেষ সংখ্যা গুলোর প্রতিটি গল্পই চরম অশ্লীল/ চটিসম হয়েছে বলে রায় দিয়ে ফেলেছেন। অথচ আপনি জানলেও আবার জানিয়ে রাখছি ভালোবাসা সংখ্যার ’মন্দভাগ্যের লোকটি’-র মতো অসাধারণ অনেক গল্পই তারা পড়েনি, বা চোখ এড়িয়ে গেছে - তাদের প্রতি করুণা। যাযাদিতে ছাপা হওয়া পাঠক/লেখকদের নিয়ে সম্মেলন করেছিলেন। ওই সম্মেলনের জন্য তখন প্রচুর খেটেছিলাম। তখন আমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সিলেট থেকে আসা তরুণ লেখক আরিফ জেবতিকের সঙ্গে। ফকিরাপুলের বকশী কিংবা বিলাস হোটেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এরকম আরো অনেক পাঠক/লেখকদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। আপনিই তো লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থেকে একজন বহুমাত্রিক কলাম লেখক আবিষ্কার করেছিলেন।

আপনার বড় সমালোচনা বানানরীতি নিয়ে। আমি নিজেও কিছুটা বিরক্ত ছিলাম এই রীতির উপর। আপনাকে জিজ্ঞেস করতেই যুক্তি দিয়েছিলেন, কীবোর্ডের কম কী চেপে শব্দের বানান লেখাটাই আপনার রীতি। তাই ‘প্রিয়’ (পাঁচটা কী) এর বদলে ‘পৃয়’ (চারটা কী) লিখতেন আপনি। এটা আমার ভালো লাগেনি। তবে চন্দ্রবিন্দু ফেলে দিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমি একমত হয়েছিলাম। আমি এখন খুব হাসি ব্লগের বানানরীতি দেখে। সবার অজান্তেই কিন্তু ব্লগের বানানগুলো যায়যায়দিনের বানানের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

আপনি চরমভাবে একজন মানুষকে উৎসাহী করে তোলেন। আপনি বিশ্বাস করতেন সবার মাঝেই কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের আপনি খুবই পছন্দ করেন। লেখালেখি শেখার প্রতিষ্ঠান এই ইউরোপে দেখলেও বাংলাদেশে নেই। আপনি আমাকে লিখতে শিখিয়েছেন। কোথায় প্যারা কিংবা সংলাপ বসাতে হবে আপনি বুঝিয়েছিলেন। একটি লেখা কতো সহজ করে লেখা যায় সেসম্পর্কে আপনি টিপস দিতেন। আপনি বলতেন, আমি সপ্তাহে ২০০০ বাংলা শব্দ লিখি। তুমি কয়টা লেখো? আপনি বনফুল পড়তে বলতেন সবসময়। টাকা থাকলে যেন পুরো বনফুলসমগ্র কিনে ফেলি সেকথাটাও বলতেন। আরো একটি কথা বলতেন, অনুকরণ নয় সবসময় অনুসরণ কর। বিদেশী সাহিত্য পড়ার জন্য তাড়া দিতেন। কালচারের চেয়ে কাস্টম জানতে বলতেন। বাঙালিরা রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী করে এটা হচ্ছে সংস্কৃতি আর কেউ মারা গেলে তার পাশের বাসা থেকে মৃতবাড়ির সদস্যদের জন্য খাবার যায় এটা হচ্ছে আচার। আপনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আচার জানতে বলতেন।

১৯৩৪ সালের ১১ নভেম্বর আপনার জন্ম। অথচ আপনাকে দেখে যে কেউ এভারগ্রীণ বলতে বাধ্য হতো। সবসময় চকমকে পোশাক পড়তেন। সিঁড়ি দিয়ে লাফিয়ে উঠানামা করা কিংবা পিকনিকে ডেকরেটরের চেয়ার সাাজানো কিংবা পিকনিক শেষে ছড়িয়ে থাকা ময়লা কাপজ কুড়ানোর সময় আপনার সঙ্গে পেরে উঠতাম না। কিন্তু আপনার এইসমস্ত আচরণ ক্যামোফ্লেজ বলে বিশ্বাস করি না। একসময় আপনি ছিলেন জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক। আপনার লালগোলাপ অনুষ্ঠানটি কেউ কেউ অখাদ্য বললেও আমি জানি ওটা ভালো একটি প্রোগ্রাম ছিল। ঢাকা শহরের বাইরে মফস্বলের তরুণদের জন্য ওটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছিল। আমি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি দিয়ে বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করেছি। ঢাকার দর্শকরা এখন আর ইত্যাদির জন্য সময় বের করে প্রস্তুত হয়ে থাকে না, অথচ অন্যান্য মফস্বল শহরে ইত্যাদির জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গে। সম্ভবত লালগোলাপ সেরকমই একটি অনুষ্ঠান। রাজধানীর শহুরে আমাদের জন্য লালগোলাপ কোনো ইনফরমেশন দেয় কিনা জানি না, ভেবে দেখি গ্রামের/মফস্বলের তরুণরা ওই অনুষ্ঠান থেকে কি শিখছে। ওই প্রোগ্রামে আপনার পোশাক নিয়েও ব্লগে হাসির খোরাক হয়েছেন। টিভির পোশাক কিরকম হবে এ ব্যাপারে আপনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ দর্শকের শাদাকালো টিভি। তাই আপনি এমন পোশাক পছন্দ করেন যেটা শাদাকালো টিভিতে সুন্দর দেখায়। বহুপূর্বে যখন টিভিতে উপস্থাপনা করতেন তখনকার জন্য এ ব্যাখ্যা হয়তো ঠিক ছিল। কিন্তু এখন শস্তায় কালার টিভি পাওয়া যায়। তাই আপনি কি পোশাক পরে লালগোলাপ উপস্থাপনা করতেন আর দেখতে কেমন লাগত আমি বুঝতে পারছি না। বহুদিন ওই প্রোগ্রাম দেখি নাই।

আমার বসভাগ্য চিরকালই ভালো। এবং আমার সেলারি ভাগ্যও ভীষণ ভালো। কোনো মাসের বেতন হবে কিনা তার জন্য কখনোই দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। আপনি সবসময় চেষ্টা করতেন মাসের ১ তারিখে বেতন দিতে। সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের প্রতিটি কর্মীর টেবিলে আপনি খামসহচেক এবং চকলেট নিজে গিয়ে দিয়ে আসতেন। মাঝে মাঝে তাদের চা বানিয়ে খাওয়াতেন। অথচ যখন শুনি আপনি বেতন দেয়ার ভয়ে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন তখন হিসেব মেলাতে পারি না। ভেতরের কথা আমার কখনোই জানা হবে না। কিন্তু আমি হিসেব করে দেখেছি ১০৪ জন সাংবাদিকের (ধরে নিলাম ১০০০০ x ১০৪) ১৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার জন্য দেশ ছাড়ছেন মানতে পারি না। এই আমিই তো জানি এরশাদ আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া যায়যায়দিনের আবু লায়েস মামুন, হরিপদ রায়, সজীব ওনাসিস সহ আরো অনেককেই আপনি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে নিয়মিত বেতন দিয়ে আসছিলেন। আপনার দৈনিক করার ইচ্ছের কথা শুরু থেকেই জানতাম। প্রথম দৈনিকটি কেউ গ্রহণ করেনি। অনেকের অনেক ব্যাখ্যা আছে কিন্তু আমার কাছে গেটাপ মেকাপের কারণেই মার খেয়েছেন বলেই ধারণা। এছাড়াও বিলি-বিক্রি সংক্রান্ত ঝামেলাÍ কারণে আপনি সুবিধা করতে না পেরে বন্ধ কÍে দিয়েছিলেন। আমি দেখেছি সেই সময়ের আপনার সমস্ত কর্মীর জন্য আপনি বিভিন্ন জায়গায় চাকরি পাইয়ে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। আজ তাই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে পারি, সমকালের মাহবুব আজীজ কিংবা এনটিভির ফাহিম আজ আপনার কারণেই সাংবাদিক। গ্রামীণ ফোন সহ আরো অনেক কর্পোরেট অফিসে অনেকেই আপনার জন্য বেশ সম্মানজনক চাকরি করছে। বাংলাদেশের তরুণ সাংবাদিকদের অনেকেই আপনার সঙ্গে কাজ করেছে। তাদের অনেকেই এখন আপনাকে পছন্দ করছে না। কিন্তু এরা অনেক নতুন ধারণা আপনার কাছ থেকে পেয়েছে।

আপনি ছিলেন আপোষহীন। যায়যায়দিনের প্রচ্ছদের (দড়িছেঁড়া পাল্লার ছবি) জন্য আদালতের সুয়োমুটো রুল (ঠিক মনে করতে পারছি না) আপনার উপর জারি হয়েছিল। আমি জীবনের প্রথম কোর্টে যাই। সঙ্গে ছিলেন কামাল হোসেন, ব্যরিস্টার ইশতিয়াক, সারা হোসেনসহ আরো অনেকেই। আপনাকে দেখেছিলাম স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এপর্যন্ত আদালতের প্রতীক দাড়িপাল্লা নিয়ে কে কবে কি ছাপিয়েছে তার রেফারেন্স দিতে। অথচ টুপির কাছে নতজানু প্রায়পদচুম্বনরত আমাদের অন্যান্য সম্পাদকেরা একটি শিবির পত্রিকার রেফারেন্সও দিতে পারে নাই। কিন্তু এখন যখন আপনাকে দালাল বলা হয় আমার নিরুত্তর থাকতে হয়। মনে পড়ে লাইফস্টাইল ক্লাসে আপনি তুলোধুনো করে ফেলতেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের। আপনার বাসায় নিয়মিত আসাযাওয়ার ফলে অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতাকে দেখতে পেয়েছি। আপনি সরাসরি তাদের সমালোচনা করতেন। সেই আপনি যখন বিএনপি-জামাতের একপেশে কথা ছাপান যায়যায়দিনে তখন আপনার বাসার দেয়ালের শেলফে সাজিয়ে রাখা কালো চামড়ার যায়যায়দিনের পুরোনো সংখ্যাগুলো ঢুকরে উঠে। ত্রিশ সেট অলংকারের প্রচ্ছদ থেকে সমস্ত অলংকার ঝরে পড়ে।

কিন্তু তাই বলে ব্লগাররা যেমন বলছে আপনার চেয়ে লুচ্চা আর দ্বিতীয়টি দেখে নাই তখন খুঁজতে মন চায় বাংলাদেশের আর কতো কতো লুচ্চা প্রতিনিয়ত কি কি লিখে যাচ্ছে। কতো কতো সুশীল দেশের পোঙ্গা মেরে দিচ্ছে তা নিয়ে প্রায়শই আমরা ব্লগে মাতম করি। এখন আপনার দিনের পর দিন, মইন-মিলা নিয়ে প্যারোডি লেখা হয় - আমার দুঃখ হয়। বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের প্রবর্তক হয়ে আজ আপনি ভালোবাসাহীন। যারা আপনার বিশেষ সংখ্যায় ছাপানোর জন্য শাদা কাগজের একপৃষ্ঠায় ৭০০/১০০০ শব্দের গল্প লিখে পাঠিয়েছিল তারাই আজ চটি চটি বলে রায় দিয়ে ছিঁড়ে ফেলছে আপনার সন্তানসম প্রতিটি সংখ্যাকে। অবলীলায় বলে দিচ্ছে প্রতিটি গল্পই একএকটি চটি। একজন বাম যখন পচে তখন তার চেয়ে র্দুগন্ধ আর বেশি কেউ ছড়াতে পারে না। কিন্তু আফসোস আজকে সবাই ভুল ভাবছে আপনি বুঝি তার চেয়েও বেশি দুর্গন্ত ছড়াচ্ছেন। তাই সবাই এখন ৩টাকার শফিক রেহমানকে মনে রাখতে চায়, ৭টাকার শফিক রেহমানকে ভুলে যায়।

একজন লেখকের সব লেখা ভালো হয় না,
একজন পরিচালকের সব ম্যুভি হিট হয় না,
একজন গায়কের সব গান শ্র“তিমধুর হয় না।
আপনার সব চিন্তাভাবনাও সঠিক হয়নি।
কিন্তু তাই বলে আপনার প্রতি এমন আচরণ আমাকে ব্যথিত করে।

আমার এ লেখাটি আপনার প্রতি আমার ঋণ স্বীকার। আজকে আমি যা তার ৫০% আপনার অণুপ্রেরণায় তৈরি। আপনি আমাকে ভিন্নভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন, আমাকে উদ্যমী করেছেন। আপনি সবসময়ই চেষ্টা করেছেন স্মার্ট প্রজন্ম তৈরি করতে। অনেকেই এটা নিয়ে হেসেছে, অনেকেই ব্যঙ্গ করেছে। আপনি বলতেন যেভাবেই হোক পাশ্চাত্যে ৫টা বছর কাটিয়ে এসো। সেখানে নতুন কিছু শিখো, তারপর দেশে এসে সেটাকে উপস্থাপন কর। আমি আজ পাশ্চাত্যে, আপনারই প্রিয় শহরে।

আপনি এখন কি করছেন জানতে ইচ্ছে করে। তবে এটা বিশ্বাস করছি আপনি থেমে যাবার পাত্র নন। শিগগীরই কিছু একটা শুরু করবেন আমি আশা করছি। বয়স আপনাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। আমার মনে পড়ে যাচ্ছে আপনার কালো রকি জীপগাড়িতে করে শহীদমিনার যাওয়া, কিংবা হবিগঞ্জে পোস্টার প্রদর্শনী করার কথা। আপনার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল এ বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে। বিয়ে করা নতুন বউকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম আপনার কাছে। তখনও আপনি আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। চলে আসার সময় পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, তুমি একজন লেখক এটা মনে রাখবে। আরো ভালো লেখার চেষ্টা কর।

আমি লিখতে পারি কিনা জানি না, কিন্তু আমি খুব ইন্সপায়ার্ড হয়েছি।

আমি জানি এ লেখার কারণে আমাকে অনেক কটুকথা সইতে হবে। আমি জামাতে ইসলামকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি, এরপর বাদবাকি সবদলগুলোকে সমান ঘৃণা করি। হয়তো ব্লগাররা এখন আমার উপর রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে দেবে, ঝাঁপিয়ে পড়বে আমার উপর। আমি সবকিছুর জন্য প্রস্তুত। আপনার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। তাই গুরুর জন্য কিছু কষ্ট সইতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

ভালো থাকবেন আপনি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hottogolblog/28796017 http://www.somewhereinblog.net/blog/hottogolblog/28796017 2008-05-10 00:53:15