somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বুধবারের মাইক্রোব্লগ




কৌতুক
বব গেছে হার্ডওয়ারের দোকানে। তার খুব ভালো একটা করাত লাগবে। শহরের পাশের বনের একটা অংশের গাছ কেটে সেখানে নিজের বাড়ি বানাবে। দোকানীকে বললো,
-ভাই, ভালো দেখে একটা করাত দেন ত যেন দিনে বিশটা গাছ কাটতে পারি।
দোকানী তাকে বাজারের সেরা ইলেকট্রিক করাত দিয়ে দিল।

সপ্তাহ খানেক পর বব এসেছে দোকানে। তার চেহারা রাগী রাগী।
-অই হারামজাদা! কি করাত দিলি, দিনে পাঁচটার বেশি গাছ কাটা যায় না।
দোকানী অবাক।
-স্যার! আপনাকে বাজারের সেরা জিনিস দিয়েছি। এরচে ভালো করাত আর হয় না।
-এই ভালো করাত তোর ইয়ে দিয়ে ভরে দিব।
-স্যার! আপনি করাত আমাদের কাছে নিয়ে আসেন, আমরা একটু দেখি কি কারণে এইটা কাজ করে না। এমন ত হবার কথাই না।

বব করাত নিয়ে আসল। দোকানী প্লাগ লাগিয়ে করাত চালু করা মাত্রই বব লাফ দিয়ে সরে আসলো।
-এই শব্দ কিসের?



আমার প্রায়ই মনে হয়, বাঙ্গালীর অবস্থা ববের মতই। আমরা ইলেকট্রিক করাত চালু না করেই কাজ করে যাই। আমাদের মানব সম্পদ কতই না উন্নত। অন্যদেশের লোকদের মত আমরা কাজ করতে গিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগি না, নিম্ন বেতনে অধিক সময় কাজ করি। কাজের আগেই নিজের লাভ ভাবি না, চাকরি যখন চলে যায় তখন আমরা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করি না। আমাদের যখন বস ঝাড়ি দেয়, তুমি কাজে দক্ষ না। তখন আমরা বলি না যে, ট্রেনিং দিয়ে কাজে দক্ষ করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। আমি অদক্ষ কারণ আমার প্রতিষ্ঠান দক্ষ না।
আমরা মুখ বুঝে কাজ করেই যাই। তবু আমাদের দেশের কোন উন্নতি হয় না।


একদিন আমাদের ভিতর কেউ করাতে বিদ্যুতের কানেকশন দিবে। আমরা চিৎকার করে উঠব। আমি সেইদিনের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29396992 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29396992 2011-06-15 12:47:56
টুইলাইট (twilight) সাগা - পাবলিক ক্যামনে খায় এইগুলা? অমি রহমান পিয়াল কোন এক ব্লগে কোন এক ব্লগারের এক কমেন্টের জবাবে বলেছিলেন, আপনার কমেন্টটা চমৎকার ছিল। কিন্তু শেষ লাইনে এসে কমেন্টের সোগা মেরে দিলেন।

আমার ব্লগ শুরু হলো । শিরোনাম আবার পড়েন।

টুইলাইট (twilight) সাগা- পাবলিক ক্যামনে খায় এইগুলা?


বেদের মেয়ে জোসনা দেখে নাই বা তার গান শুনে নাই এমন বাঙ্গালী জগতে দুর্লভ। সেই মুভির মূল বিষয় রাজপুত্র আর বেদের মেয়ের প্রেম । ব্যবধানের তীব্রতা আনার জন্যই রাজপুত্র আর বেদের মেয়ে। যত বড় সামাজিক ব্যবধান –দর্শকের তত সহজে বুঝানো যায় নায়ক নায়িকার প্রেমের গভীরতা। ঠিক একই কায়দা অনুসরন করা হয়েছে টুইলাইটে। ভ্যাম্পু আর অসাধারন ফুলের গন্ধওয়ালা এক মেয়ের প্রেমের কাহিনী এইখান। (মেয়ের শরীরের গন্ধটা অতি গুরুত্বপূর্ন বিষয় পুরা বইতেই...)

সব পুরুষের স্বপ্ন থাকে এক দুর্দশা গ্রস্থ মেয়েকে উদ্ধার করার। রবীন্দ্রনাথের ক্যামিলিয়া কবিতাও নায়কের আক্ষেপ কোন একটা দুর্ঘটনা কেন ঘটে না? সে তাহলে নিজের জীবন বাজি রেখে নায়িকাকে উদ্ধার করত আর প্রেমের শুরু হত তাদের। বাংলা সিনেমাতেও একই জিনিস। দুর্বল নায়িকাকে শক্তিশালী নায়কের জীবন পন লড়াই করে উদ্ধার। নায়িকার শরীরের ওজন দেখে অবশ্য বিশ্বাস করা কঠিন রোগা পটকা কিন্তু বিশাল গুম্ফধারী লাল জামা নীল জিন্স পড়া ভিলেন তার চেয়ে কয়েক মন বেশি ওজনের নায়িকার আদতে কোন ক্ষতি করতে পারত কিনা? যাক সেই প্রসঙ্গে না যাই। টয়লেটেই থাকি থুক্কু টুইলাইটে থাকি। স্টেফানি মেয়ার বাংলা সিনেমা থেকেই বইটার মূল আইডিয়া গুলো নিয়েছেন বলে মনে হয়। উপন্যাসের শুরুতেই নায়ক কর্তৃক অসাধারন এক উদ্ধার অভিযান করা হয়।

খুবই অপ্রাসঙ্গিক অথবা খুবই প্রাসঙ্গিক একটি কৌতুক বলার লোভ সামলাতে পারলাম না। একটু অরুচিকর কৌতুক।

রোগী এসেছে ডাক্তারের কাছে।
-ডাক্তার! আমার ভয়ানক সমস্যা। যা খাই পায়খানাতে তাই বের হয়।
-বুঝলাম না। খেলে ত পায়খানা হবেই, পেটে ত আর জমা থাকবে না।
-আরে সেটা না। ধরেন কলা খেলাম এখন, তাহলে পায়খানা হবে কলা। যদি ডিম খাই তাহলে ডিম। ডাক্তার যেমন করে হোক আমার পায়খানা নর্মাল করে দেন।
ডাক্তার একটু হেসে, যা খান তাই বের হয় ত? তা পায়খানা খাওয়াই শুরু করে দিন না।

টুইলাইটে ফিরে আসি।

বইটা ভালো। সুন্দর করে লেখা। বর্ননাগুলো ভালো, বিস্তারিত। রোমান্টিক কিছু দৃশ্য আছে। নায়কের অসাধারন রূপের বর্ননা বার বার এসেছে। পারলে লেখিকা প্রতিটা চুলের বর্ননা দেন। এডওয়ার্ড (আমাদের “লায়ক” ) এর মুখের গড়ন , জামা, হাসি ...কতকিছুর যে বর্ননা আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু আমার মত অশ্লিষ পাঠকের জন্য বেলা (আমাদের লায়িকা) এর কোন রূপের বর্ননা দেয়া হয় নাই। যেমন আমরা জানি এডওয়ার্ডের উপরের চুল ছোট কিন্তু নিশ্চিত করা বলা যায় না বেলার কোন চুল ছোট- সামনে –পিছে নাকি......
এডওয়ার্ডের শরীরের প্রতিটা পেশীর বর্ননা আছে কিন্তু বেলার বর্ননা নাই। আর কত বড় বলদ এডওয়ার্ড[ রক্তের প্রতি তার মূল টান ]– অথচ প্রচুর রক্তঅলা মোটাসোটা কোন একটা নারীর প্রতি তার আকর্ষন জন্মায় নাই। ব্যাটায় পাগল হলো বেলার জন্যে। এছাড়া দাদার বাপের বয়সী (লায়েক বাবাজী ১০০+ বয়সী) পোলার সাথে ১৭ এর মেয়ের প্রেম কেমুন কেমুন জানি লাগে।

শেষের দৃশ্যে প্রমে বেলার ল্যাংড়া পা নিয়ে উপস্থিতি শুধু cliché নয়, cliché এর বাপ। কয়েকলাখ মুভির নাম করা যেতে পারে যেখানে প্রমে গিয়েই মুভি শেষ হয়।

সব শেষের ক্লাইম্যাক্সের কথা আলাদা করা বলা দরকার। বেদের মেয়ে জোসনাতেই এই দৃশ্য আছে। নায়ক সাপের কামড় খেয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে আছে। সাপুড়ে আর তার মেয়ে এসেছে নায়ককে উদ্ধার করতে। ৪০ বছর ধরে সাপুড়ের কাজ করে বৃদ্ধ বাপ । কোনদিন তার যা হয় নাই তাই হয়েছে এখন। সে ভ্যাবদা মেরে বসে আছে, কিভাবে বাচাবে লায়ককে? তখন তার কুড়ি বছরের মেয়ে তুলে নেয় বিশেষ নাগের জন্য প্রস্তুত দুই বিরক্তিকর ডান্ডা বের হয়ে আসা বিশেষ বাশী যা গত একশত বছরে কেউ বাজায় নি। বাপ পারে না বাজাতে কিন্তু প্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নায়িকা (বিশালবক্ষা তবে বয়স বড় কম...হিসাব মিলে না) বাজিয়ে ফেলে।

বেলা ভ্যাম্পু মামার কামড় খেয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। ৩৫০ বছরের বুড়া ভ্যাম্পু বাপ পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বিষ নামানোর জন্য এডু ভাইকেই ডাকা হলো। এডু ভাইয়ের ভয় একবার রক্তের স্বাদ পেলে সে থামতে পারবে না। কিন্তু প্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এডু ভাই সে কাজ সমাপ্ত করে ফেলে। এই চাপ্টারট পড়ার সময় বেদের মেয়ের কথা বার বার মনে পড়েছে। সে দুই ডান্ডাঅলা বিশেষ বাশীটার পো পো আওয়াজ বড় মিস করেছি।

টয়লেট থুক্কু এগেইন টুইলাইট মেয়েরা পছন্দ না করার কোন কারন নাই। যদি আপনি মেয়ে হয়ে থাকেন আর আপনার বয়ফ্রেন্ড এই নভেল "লাইক" করে তাহলে সতর্ক হোন, আপনি বোধহয় লেসবিয়ান রিলেশনে আছেন। আর যদি আপনি ছেলে হন আর আপনার ছেলে দোস্ত এই বই পছন্দ করে সতর্ক হোন। অই বন্ধুর সাথে রাতের বেলা একলা কোথাও যাবেন না এবং তার সাথে যেকোন ধরনের ডাবলিং পরিহার করুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29117426 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29117426 2010-03-16 13:06:11
দুইটা ভদ্র কৌতুক বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। অনেকক্ষন বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা ঘাটে প্রচুর পানি জমে আছে। এর ভিতর এক মাতাল চিৎকার করে কেদে কেদে বলছে, কে আছো ভাই? একটু ধাক্কা দাও।

লিসা তার জামাই ববকে ডেকে তুলল। আমার মনে হয় তোমার যাওয়া উচিত।
-কিন্তু বাইরে অনেক বৃষ্টি। রাস্তায় অনেক কাদা।
-তোমার গত বছরের কাহিনী মনে নাই?
-আছে মনে আছে। কিন্তু এই ব্যাটার গলা শুনে ত মনে হচ্ছে পুরা মাতাল।
-তোমার গলা শুনে সেদিন কি অন্যরা মাতাল ভাবে নি?

গত বছর লিসার বাচ্চা হবে। রাতের বেলা হাসপাতালে নিয়ে যাবে। সেদিনও এমন বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেসে যাচ্ছিল। তাদের গাড়িটা আটকা পড়ে গিয়েছিল কাদায়। অনেকক্ষন ঠেলে ঢুলেও বব গাড়িটা গর্ত থেকে বের করতে পারছিল না। এদিকে বউয়ের বাচ্চা প্রসবের সময় হয়ে যাচ্ছে। বার বার বব ধাক্কা মারছিল। কিন্তু গাড়িটা বের করে আনতে পারছিল না। একসময় হতাশায় সে চিৎকার করে কাদা শুরু করেছিল । ধাক্কা দাও। কেউ একজন এসে ধাক্কা দাও। আশেপাশের বাসা থেকে দুইজন সহৃদয় মানুষ বের হয়ে এসেছিল। নিজের ভিজে, কাদায় মাখামাখি হয়ে গাড়িটা বের করে দিয়েছিল ধাক্কা মেরে। আর সেদিন রাতেই তাদের ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছিল।

আজকে, বছরখানেক পর, আরেক বৃষ্টির দিনে এক মাতাল চিৎকার করে বলছে, ধাক্কা দাও। আমাকে ধাক্কা দাও।

বব বের হয়ে আসল। রাস্তার পাশের লাইটগুলাও নিভে আছে কেন জানি। বেশ অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শুধু চিৎকার শোনা যাচ্ছে, ধাক্কা দাও।
বব বলল, ভাই আপনি কই?
-এদিকে আসেন।
বব সামনে এগিয়ে যায়।
-বাগানের ভিতর আসেন।
বব বাগানে ঢুকে পড়ে। ভাই, আপনাকে দেখছি না ত।
-ভাই, টবগুলার পাশে আসেন।
বব টবের পাশে এসে দাঁড়ায়।
-ভাই ,আপনার মত মানুষ হয় না। আসেন, একটু ধাক্কা দেন ত। অনেকক্ষন দোলনায় বসে আছি। এত ডাকছি। কেউ ধাক্কা দিতে আসে না।


০২

বিচারক আসামীকে ২০ বছরের সাজা দিয়েছেন।
আসামী- হুজুর, আমি একটা জিনিস জানতে চাচ্ছিলাম।
বিচারক- বল। কি প্রশ্ন?
-যদি আমি আপনাকে শুয়োরের বাচ্চা বলে গালি দেই , তা হলে কি হবে?
-আদালত অবমাননার অভিযোগে, তোমার সাজা আমি আরো ২ বছর বাড়িয়ে দিব।
-যদি আমি মনে মনে চিন্তা করি, মনে মনে গালি দেই?
-তাহলে সমস্যা নাই।
-তাইলে আমি মনে মনে ভাবছি, আপনি একটা মোটা মাদী শুয়োরের ভোটকা একটা বাচ্চা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29092794 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29092794 2010-02-07 12:59:11
বড় দুঃখ পেলাম <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_18.gif" width="23" height="22" alt=":|" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_51.gif" width="23" height="22" alt="/:)" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_16.gif" width="23" height="22" alt=":((" style="border:0;" /> ( একটি পরিশিষ্টযুক্ত দুঃখবিলাসী আজাইরা পোষ্ট)
কিন্তু আসল কথা হলো, মিনিট দুয়েক আমার পাশে বসেই ললনা অন্য সীটে চলে গেল। দুঃখ - দুঃখ - দুঃখ -পেলাম...আমিইইইইই...দুঃখ -দুঃখ -দুঃখ -পেলাম...

না হয় আমি গত চারদিন গোসল করি নাই। শীতের সময় চারদিন অনেকেই গোসল না করে থাকে। না হয়, এর আগের রাতে গেম পার্টিতে জয়েন করে মাত্র ৩ ঘন্টা ঘুমিয়েছি, চোখ লাল ছিল। তা আজকাল কার না চোখ লাল থাকে। না হয় চুল এলোমেলো ছিল। তা ছেলদের চুল কি পরিপাটি করে আচড়ানো থাকে? না হয়, টি শার্ট যেটা পড়েছিলাম সেটা গত এক সপ্তাহ যাবত ধোয়া হয় নি। তা বাসায় বুয়া না আসলে অনেকেরই ত কাপড় ধোয়া হয় না। তাই বলে কি বুকে এমন আশা জাগিয়ে পরে এতবড় দাগা মেরে অন্য সীটে চলে যেতে হয়? এই যে আমি ললনা পাশে এসে বসতেই, মনে মনে কত কথা ভেবে ফেললাম। কোন কথাটা প্রথম বলব। কিভাবে আলাপ শুরু করব একেবারে কবিতার মত করে। কি বলব আর কি বলব না। কেমন করে কোন কৌশলে –এমনভাবে নিজের ঢোল পিটাব যাতে ললনার মনে হয় অতি সুমধুর বাজনা বাজছে- এই ভাবনা গুলোর কোন মর্যাদাই সে রাখল না। হৃদয়হীনা নিষ্ঠুর নারী অন্য সীট ফাকা পেয়ে সেখানে চলে গেল। সেই সীটটাও এমন আহামারি কিছু না। সবার শেষের পাচজনের লম্বা সীটগুলার জানালার পাশের সীট। তা আমার জালানার পাশের সীটটা কি আমি ছেড়ে দিতে পারতাম না?

ললনার হৃদয়হীনতায় ব্যাথিত হয়ে আমি বিমর্ষ মুখে ঢাকার ময়লা আকাশ দেখতে লাগলাম।

পরিশিষ্ট

এমন একটা ঘটনার পরিশিষ্ট না থাকলে আসলে জমে না। এই ঘটনারও একটা পরিশিষ্ট আছে।
কিছু মানুষ আছে খোদা-ভগবান মানে না। তাদের ধারনা, দুনিয়াতে আর ভালো মানুষী নাই। দুনিয়াতে খারাপ কাজের শাস্তি নাই। একজন সৃষ্টিকর্তা যদি আসলেই থাকত, তাহলে মানুষের বুকে দাগা মেরে কেউ শান্তি পেত না। তাদের জ্ঞাতার্থে বিনয়ের সাথেই এই পরিশিষ্ট যুক্ত করা হলো।
সায়েদাবাদ হতেই তিন-চারজন বাসে উঠল। গ্রাম থেকে আসা মানুষ। সাথে ইয়া বড় ছালার বস্তা। আমার টি-শার্ট যদি এক সপ্তাহ না ধোয়া হয়ে থাকে, তবে তাদের জামা কাপড় গার্মেন্টস থেকে বের হয় আর সাবানের মুখ দেখে নাই। গা থেকে ভুরভুর করে একেবারেই স্বদেশী নিজ দেহে প্রস্তুত গন্ধ বের হচ্ছে। ( ভালো করে লক্ষ্য করুন শুধু গন্ধ বের হচ্ছে লিখলাম।“ সু” বা “দু” যুক্ত করে গন্ধটার বিশেষন দিলাম না। আমার কাছে ঘামে ভেজা মানুষের গন্ধ খারাপ লাগে না। ) তাদের একজন একটু ইতস্তত করে ললনার পাশে বসে পড়ল এবং বাকি পথ অতি উচ্চস্বরে মোবাইলে ঢাকায় নিরাপদে পৌছেছে এই খবর জানাতে লাগল। তার কথোপকথন থেকে তার সম্পর্কে আমাদের অনেক জ্ঞান লাভ হলো। অতি উচ্চস্বরে আলাপের কারনে আরো বুঝতে পারলাম ফোনের অই প্রান্তে যে আছে তার বুদ্ধিমত্তা বা লিংগ যাই হোক না কেন-কানে সে কমই শুনে। ললনা দেখলাম বিমর্ষ মুখে জালানা দিয়ে ঢাকার ময়লা আকাশ দেখা শুরু করছে।

যে দুঃখটা কিছুক্ষন আগে নিতান্ত আমার ছিল সেটা রূপ পাল্টে ললনার কাছে চলে গেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29084626 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29084626 2010-01-24 10:43:14
বুয়েটের পোলারা দেশের বাইরে কেনো যায়? আর যায়ও যদি, পোলাগুলা ফিরা আসে না কেনো?

এই আমিই ত বাংলাদেশের সরকারি আর বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই চাকুরি করে ফেললাম। যতটুকু দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে দুই সেক্টরেই চাকুরির পরিবেশ খুব খারাপ। পাশ করার পর আমার বারবার মনে হয়েছে, চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে টিউশনী করে জীবন চালাই।

বুয়েট থেকে পাস করে আসলাম। যখন আমার বন্ধুরা একে এক বাইরে চলে যাচ্ছিল, আমি বলেছিলাম, তোমার যেখানে সাধ চলে যাও আমি এই বাংলার পাড়ে রয়ে যাব।

বুয়েটের একজন অতি প্রিয় শিক্ষকের কাছে গিয়েছিলাম ক্লিয়ারেন্সে সই নেবার জন্য। তখন সদ্য পাস করেছি। উনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রেজাল্ট কি? রেজাল্ট শোনার পর, স্যার আমাকে বার বার বলেছিলেন, দেশ ছেড়ে চলে যাও...ভাগো এখান থেকে। আমি স্যার এর কথা শুনি নাই। দেশে রয়ে গিয়েছিলাম।

যখন আমার একটা সরকারি চাকুরি হয়েছিল, আমি নিজের ঘরের কম্পিউটার অফিসে নিয়ে গিয়ে বসিয়েছিলাম। আমার যুক্তি ছিল, অফিসের কাজকর্মে সুবিধা হবে। সরকারি অফিসে দক্ষ লোকের বড় অভাব, তাই অফিসের বহু রিপোর্ট আমি স্বেচ্ছায় করে দিয়েছি, চিঠি লিখেছি, টাইপ করেছি। সেই আমিই দশমাস পরে ট্রান্সফার হয়ে অন্য অফিসে এসে প্রথম যে কথাটা বলেছিলাম তা হল, আমি বাংলা টাইপ পারি না।

পাস করার মাত্র দুই বছরের মাথায় আমি এখন জুনিয়রদের বুদ্ধি দেই , খবরদার দেশে থাকবে না। পাস করো আর প্রথম সুযোগেই বাইরে চলে যাও।


যে স্বপ্ন নিয়ে দেশে থেকেছিলাম তা আজ বড় বিবর্ন। চোখের সামনে বহু অন্যায় দেখলাম, বড় কষ্ট লাগে আমার দেশের ইঞ্জিনীয়ারদের দেখে। একটা খুব ছোট উদাহরন দেই। আইলার পরের সপ্তাহের ঘটনা। চারিদিকে আইলার ক্ষতি নিয়ে আলোচনা, ক্ষয়ক্ষতির বিবরন জানিয়ে রিপোর্ট পাঠাচ্ছি। একদিন দেখি আমার অফিসে দুইজন অফিসার খুশিতে ডগমগ। আইলার শেষে অনেক টাকার বরাদ্দ আসছে। এই আইলাই আমার কয়েকজন কলিগকে লাখপতি করে দিয়েছে। আর্ত মানুষের কষ্টকে পুজি করেও এরা টাকা কামাতে দ্বিধা করে না। আমার চোখের সামনেই ত সব ঘটল। আমি বাধা দিতে পারি নাই। অসহায় হয়ে বসে বসে এদের কাজকর্ম দেখলাম। নিজের ক্ষুদ্রতায় রাগ হয়েছে, বার বার মনে হয়েছে, আমার পাপের ভান্ড কি ভর্তি হচ্ছে না?


গত সপ্তাহে IELTS দিয়ে আসলাম। বাইরে চলে যাবার কাগজপত্র তৈরী শুরু করব। সত্য কথা বলি, আমার দেশে থাকতে বড় ইচ্ছে করে। দেশে থাকতে ইচ্ছে করে যখন দিন শেষে ছোটবোন দুইটাকে দেখি । শুক্রবার দুপুরে বাসার সবাইকে নিয়ে যখন এক সাথে খেতে বসি, তখন মনে হয়, এক জীবনে মানুষ আর কতটুকু পায়? আমি ত দেশেই ভালোভাবেই বেচে থাকতে পারি। বৃষ্টির দিনে অফিস কামাই করে ঘরে কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবি, এই বেশ ভালো আছি। কিন্তু এই সবই ক্ষনিকের জন্য। জীবনের অনিশ্চয়তা, দেশের কিছু মানূষের নীতি এবং কান্ডজ্ঞানহীন আচরনে বড় ভয় পাই।


পাস করার পর চাকুরি নিয়ে আমার যে হতাশা তার বিবরন লিখতে হলে পনের বিশ পর্বের একটা সিরিজ লিখতে হবে। সব কথা না বলি।

বাংলাদেশ একটা গরিব দেশ। গরিব হবার পরও অনেক টাকা খরচ করে আমাকে ইঞ্জিনীয়ার বানিয়েছে। দেশের প্রতি আমার একটা কর্তব্য আছে। এই সবই আমি জানি। তবুও কত দুঃখে যে আমার দেশ ছাড়তে ইচ্ছে করে সেটা আমার মত বুয়েট থেকে যারা পাস করে এসেছে তারাই বুঝবে। আমি জানি যদি আমি বাইরে যাই, আমি চোরের মত মাথা নিচু করে দেশ ছাড়ব। আমার বুকে কি আর দেশ ছাড়ার কষ্ট থাকবে না? কিন্তু কত হতাশা আর বেদনাকে আমি সঙ্গী করে নিয়ে যাব, তা শুধু আমিই জানি।

কত শুনলাম, বুয়েটের ছাত্র-ছাত্রীরা বড় বদমাশ। পড়াশুনা শেষ করেই দেশ থেকে উড়াল মারে। আমাদের ত আর কম গালি দেয়া হয় না। কিন্তু কেন যে উড়াল মারে, কেন নিজের চেনা জগতটা ছেড়ে অজানা দেশে পাড়ি জমায়-সেটা ত কেউ জানতে চায় না।



============================
বিপ্লব৯৮৪২ বলেছেন: ধন্যবাদ ।
চালিয়ে যান । আরো পড়তে চাই ।
খবরদার বিদেশে বাঙ্গালী মালিকানা এবং বাঙ্গালি কলিগ আছে এমন জায়গায় কাজ নিবেন না ।ডিগ্রি শ্রেনিতে আগে বংকিমচন্দ্রের “তৈল” নামে এক প্রবন্ধ ছিল ।সরকারি অফিস আদালতে কিভাবে তার ব্যবহার হয় তা পড়ে শিক্ষাথীরা চাকুরীতে কাজে লাগাতে পারত।এখন শিক্ষাথীরা বইতে পড়ছে দুর্নিতিবিরোধি প্রবন্ধ , চাকুরি ক্ষেত্রে এসে দেখছে দুর্নিতিবান্ধব পরিবেশ ।দুই বৈপরিত্যে ক্ষেই হারিয়ে ফেলছে সবাই ।আমি শিক্ষাকমিটিকে অনুরোধ করব , সেই “তৈল” এবং দুর্নিতিবিরোধি প্রবন্ধ এর পরিবর্তে “ঘুষ খাও টিকে থাক” জাতীয় নতুন প্রবন্ধ চালু করতে ।যেন একজন মানুষ সরকারী চাকুরীতে ঢুকে নিজেকে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে ।


================

জুমানজি১১ বলেছেন: আমি ২০০৭ এ পাশ করার সময় চিন্তা করেছিলাম...আর যাই হোক দেশে ছেড়ে যাবো না। ১২/১৫ হাজার বেতনের চাকুরীর জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলাম। ২ জায়গায় ইন্টেরভিউ ও দিলাম। সব ই ঠিক ছিল, যেই আমার রেসাল্ট দেখল, বল্লো তুমি ত এখানে থাকবে না। আমি শত যুক্তি দিয়ে বোঝালাম, লাভ হলো না।
শেষে ২ বছর বাইরে থেকে এম এস করে আসলাম। এবার ও নিওত ছিল দেশে কিছু করার। কিন্তু এখন অবস্থা আরো শোচনীয়, একবার বিদেশী সিল পরাতে এখন কেউ দাকেও না <img src=" style="border:0;" /> . বেশ কয়েক মাস ট্রাই দেয়ার পর এখন আবার চলে যাচ্ছি পি এইচ ডি করতে।

মাঝে মাঝে মনে হয় বুয়েটে পড়ে কি কোনো পাপ করলাম...কিংবা রেসাল্ট টা এক্টু উপরের দিকে না হলেই বোধ হয় ভালো হত। আবার মনে হয়, মেডিকেলে চান্স পেয়েছিলাম, অখানে পড়লে দেশে এট লিস্ট কিছু করার ওয়ে থাকত। বুয়েটে পড়াকালীন যে ভালোলাগাটা কাজ করত, সেটা এখন আর নেই, এখন শুধুই আক্ষেপ আর দূরে ঠেলে দেবার যন্ত্রনা। (এটা অবশ্য তাদের জন্য যারা দেশে থাকতে চায়)


==============
নুভান বলেছেন: যখন আমি লেভেল-৪ এর ছাত্র, তখন থেকেই পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজন সবাই বলতে লাগলো, এই পাশ করেই তো উড়াল দিচ্ছো। গর্বে মাটিতে আমার পা পরেনা, নিজ দেশেই নিজেকে প্রবাসী মনে হতে লাগলো। কিন্তু বাবা-মার ইচ্ছে ছিলো দেশে কিছু একটা করি। আবার ভয়ও ছিলো। কারন আমার এক আত্মীয় খুলনা বি আই টি(বর্তমান খুয়েট) থেকে পাশ করে পানিসম্পদ প্রকৌশলে চাকুরী নিলেন। আয়ারল্যান্ড থেকে মাস্টার্সও করে এলেন। সৎ মানুষ ছিলেন তিনি। তীস্তা ব্যারেজের কাজের সময় টেন্ডারবাজরা তাকে পিস্তল ধরে সামনে ২ লক্ষ টাকার বান্ডিল ফেলে দিয়ে বলে, হয় টাকা নিয়ে টেন্ডার দিবি নাইলে গুলি খেয়ে মরবি! অতঃপর চাকুরী ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশে পিএইচডি করে এখন শিক্ষকতা করছেন।
আমি বেসরকারী চাকুরীর দিকে ঝুকলাম, সারাজীবন ঢাকায় থেকে গেলাম চিটাগাং-এ। শিফটিং ডিউটি, বেতন - নাই বা বললাম। তবুও স্বান্তনা ছিলো যে একটা দেশীয় প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছি। কিন্তু যখন দেখি আমার বন্ধু যে কিনা পড়াশুনায় অনেক পেছনে ছিলো আজ চটকদার একটা প্রতিষ্ঠানে কাস্টমার কেয়ারের জব করে আমার দ্বিগুন কামাচ্ছে, তখন ঈর্ষাণ্বিত হইনি ঠিকই-শুধু মনে প্রশ্ন জাগলো, গাধার মত কেন এতগুলো বছর খাটলাম। সেটাও মানা গেল, মেজাজ চরমে পৌছালো আমাদের সবার (সেবার আমরা ৬ জন বুয়েট থেকে পাশ করে সে প্রতিষ্ঠানে জয়েন করেছিলাম) যখন দেখি অন্ডার মেট্রিক ভারতীয় অপারেটর আমাদের সাথে মাতবরী ফলাবার চেষ্টা করে। অভিযোগ করেও লাভ নেই জিএম, ডিজিএম নিশ্চুপ। যেহেতু তারা বিদেশী তাহলে তারা অবশ্যই বেশী জানে আমাদের থেকে ! ৬ মাস পর আমাদের বেতন বৃদ্ধির কথা ছিলো, বেতন বৃদ্ধি করল। কত জানেন? ১ হাজার টাকা মাত্র ! রাগে দুঃখে ৬ জন একসাথে রিজাইন দিয়ে চলে এলাম। এদের মধ্যে আমরা ৫ জন-ই এখন দেশের বাইরে ও ১ জন ইস্টার্ন রিফাইনারীতে জয়েন করেছে।

এখন বলুন, বিদেশে যেতে চাওয়া বা সেটেল্ড হবার ইচ্ছেটা কি অন্যায়? চেষ্টাতো কম করিনি দেশে থাকার জন্য, কিন্তু দেশ যে আমাদের চায় না।


============================
মুহম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন: এবার তাইলে আমার অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমি বুয়েটের না। শাহজালাল থেকে পাশ করা। ৪/২ এর পরীক্ষা শেষ হবার আগেই চাকরী পেয়ে গেলাম। র‌্যাংসটেল এ। দেশী কোম্পানী। জিপি,বাংলালিংক দেশের সব টাকা নিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, দেশের জন্য কিছু একটা করতে হবে। আমাদের দেশের র‌্যাংকসটেল হবে ভারতের রিলায়েন্সের মতো দেশী কোম্পানী। একদিন জিপি, বাংলালিংক কেও আমরা কিনে নেবো। সবে মাত্র পাশ করে চাকরীতে ঢুকেছি। সুতরাং একটা কিছু করে সবাইকে চমকে দেবার জন্য মুখিয়ে আছি। আর দেশ দেশ করে প্রায় সবার মাথা খারাপ করে ফেলছি। সাথের বন্ধু বান্ধব দেশ ছাড়ছে। আমি ছাড়বো না। নিজেদের একটা বিলিং সলিউশন বানাবো। র‌্যাংকসটেলে ছিলেন জাকারিয়া স্বপন স্যার। তিনি সাহস করে নিজেদের একটা বিলিং সলিউশন দিয়ে র‌্যাংসটেল শুরু করেছিলেন। সেই সিস্টেমকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। দিন রাত কাজ করতাম। দারুন একটা বি,আই মডিউল করলাম। যেটা এখনকার ভালো ভালো সলিউশনের ও নাই। অথচ লাভ কি হলো? কিছুই না। দেখলাম কাজ না করে যারা কেবল উপরের মহলে তদবীর করে চলে, তারাই উঠি গেলো উপরে। দেশের প্রতি কাজের ইচ্ছে ততদিনে ধুলোয় মিশে গেছে।

এখন একটা ইন্টারনেশনাল বিলিং সলিউশনে কাজ করি। কিন্তু তারপরও বারবারই মনে হয়, আমরা বানিয়েছিলাম এমনই একটা সলিউশন যেটা কয়েকশ কোটি টাকা দিয়ে কিনে আনতে হয় বাইরে থেকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29077756 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29077756 2010-01-13 16:23:05
তিনটি কৌতুক ("এই পুস্ট রুচিশীলদের জইন্য না") বাংলাদেশি, চাইনিজ আর আমেরিকান তিনজন গেছে steam bath নিতে।

তিনজনে বসে আছে খালি তোয়ালে পেচিয়ে রেখে। এমন সময় ক্রিং ক্রিং শব্দ। আমেরিকানটা এক্সকিউজ মি বলে উঠে চলে গেল। সে তার

হাতের তালু মুখের কাছে এনে কিছুক্ষন কথা বলল। এরপর ফিরে আসল।
-সরি। আমার অফিস থেকে ফোন আসছে। আমার হাতের তালুর চামড়ার নিচে খুব ছোট একটা মোবাইল ফুন ঢুকিয়ে দেয়া আছে। আমি

যেখানেই যাই আমাকে যেন পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা আর কি।

একটু পর আবার ক্রিং ক্রিং।
এইবার চাইনিজটা কথা শুরু করল। তার হাতের চামড়ায় ছোট একটা স্ক্রীন আছে। সেইটাতে ভিডিও কল করছে।

তিনজন চুপচাপ বসে আছে।

ক্রিং ক্রিং

বাংলাদেশীটা উঠে গেল । টয়লেটে ঢুকে গেল টিস্যুর প্যাকেট নিয়ে।

একটু পর বের হয়ে আসছে। পাছার পিছন থেকে টিস্যু পেপার বের হয়ে আসছে। সে বিব্রত ভঙ্গিতে বলল, সরি! অফিস থেকে একটা ফ্যাক্স

আসতাছে।


০২

-দোস্ত তোর নতুন পিএস মেয়েটা ত হেভি মাল।
- তোর ভালো লাগছে।
- কইলাম না, কঠিন চিজ। যা ফিগার... মাই গড। অফিসে এমন কড়া জিনিস পাইলি কই?
- এই ত নতুন আসছে।
-আমার পি এস টা একটা বুড়া ভাম। তুই ত শালা ভালা ফস্টি নস্টি করার সুযোগ পাইলি।
- ফস্টি নস্টির সুযোগ নাই। এইটা একটা রোবট।
- তাই নাকি?
- হ! দাড়া তোকে এনে দেখাই। ইন্টারকমে বলল, লিলি আমার রূমে আসো একটু।

লিলি আসল।

-দোস্ত, এর পেট এ ছোট একটা ফ্রিজ আছে। পিঠে একটা শ্রেডার মেশিন আছে। এর বডিতে প্রিন্টার, তিন টেরা হার্ড ডিস্ক আর যাবতীয় অফিস সামগ্রী আছে।
-ভালো ত। দোস্ত, আমারে দুই দিনের জন্য ধার দে। ইউজ (!) কইরা দেখি।
-আচ্ছা নে। লিলি, তুমি আগামী দুইদিন আমার দোস্তের সাথে কাজ করবা।

দোস্ত আর রোবট লিলি বের হয়ে গেল। পাচমিনিট পরই শোনা গেল দোস্তের গগনবিদীর্নকারী চিৎকার, " আমার ইয়ে কাটা পড়ছে"

মাথা নাড়তে নাড়তে বলল, শীট!! লিলির পেন্সিল শার্পনারটা কোন জায়গায় সেইটাই ত দোস্তকে বলা হয় নাই।


০৩

দিনের শেষে ডাক্তার বব আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে সে নিজেকে বলল, বব! আপসেট হওয়ার কিছু নাই। বি কুল। তুমি পৃথিবীর প্রথম ডাক্তার না যে রোগীর সাথে সেক্স করছে। আর তোমার পরেও আরো ডাক্তার আসবে যারা রোগীর সাথে সেক্স করবে। বি কুল।
ববের মুখে অপরাধবোধ, চোখে পানি। আয়নার দিকে তাকিয়ে সে আবার নিজেকেই বলল, কিন্তু আমি যে পশু চিকিৎসক!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29056731 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29056731 2009-12-10 21:12:36
কাগু কারবার ৩ ২) কাগুর ভয়ে নদীর পানি উজানে বয়।
৩) লোকজ বিশ্বাস এই যে, কাগুর চোখের অশ্রুতে ক্যান্সার ভালো হয়। কিন্তু আফসোসের বিষয়, কেউ কখনো কাগুকে কাদতে দেখে নাই।
৪) কাগু অসীম পর্যন্ত গুনেছেন- দুইবার।
৫) সব পুরুষের একটা বিচি অন্যটা থেকে বড় হয়। কিন্তু কাগুর দুইটা বিচিই একটা অন্যটার থেকে বড়।
৬) কাগু একবার সাইক্লোপসের দুচোখের মাঝখানে ঘুষি মারছেন।
৭) ধারনা করা হয় যে, কাগু ফিফথ ডাইমেনশনে বাস করেন।
৮) কাগুর সৌন্দর্যের রহস্য হলো- গরম লাভায় স্নান করা।
৯) কাগু কখনোই ঘুমান না। চোখ বন্ধ করে ধ্যান করেন।
১০) কাগু ডিম লাইট ব্যবহার করেন। কাগু অন্ধকারকে ভয় পান না, অন্ধকার যেন কাগুকে ভয় না পায় তার জন্যই এই লাইট।

কাগু কারবার ২

কাগু কারবার ১

ফেসবুকে কাগু ফ্যান ক্লাব

কাগুর ব্লগস্পট ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29033721 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29033721 2009-10-28 23:00:16
আরো দশটি কাগু কারবার ২) আমাগো কাগু এক বলেই ছয় ছক্কা মারতে পারেন।
৩) অনেকেই সুপারম্যান লেখা টি-শার্ট পইড়া ঘুরে, মাগার সুপার ম্যান কাগু লেখা টি-শার্ট পইড়া ঘুরে।
৪) কাগু টুথপেষ্ট থেকে বের হওয়া পেষ্ট আবার ভরতে পারেন।
৫) সবার ক্রমোজম ২৩ জোড়া করে। কিন্তু আমাগো কাগুর ক্রমোজম ৪৭ জোড়া, এর ভিতর পাচটা খুব বিষাক্ত।
৬) কাগু যখন খুব ছোট ছিলেন মাইকেল জ্যাকসন একবার কাগুর দিকে বদ নজর দিয়েছিল। কাগু মাইকেলের দিকে এমন কড়া চোখে তাকাইছেন যে, মাইকেল ভয়ে ব্ল্যাক থেকে সাদা হয়ে গিয়েছে।
৭) ধারনা করা হয় যে, বিশ্বের ৯৯% শক্তিই কাগু শক্তি রূপে আছে।
৮) কাগু লেবু চিপে কমলার রস বের করতে পারেন।
৯) কাগু ব্রেইলি তে কথা বলতে পারেন।
১০) কাগু মাছকে পানিতে চুবিয়ে মারতে পারেন।

কাগু শক্তির জয় হোক!!!

কাগুর আগের পর্ব
ফেসবুকে কাগু ফ্যান ক্লাবের ঠিকানা-- এইখানে গুতা মারুন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29032817 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29032817 2009-10-27 16:26:25
কাগু, কাগু শক্তি ... কাগু ময় দুনিয়া
সবুজ, তার কাগু আর তার কাগুর অস্বাভাবিক ক্ষমতা দীর্ঘদিন আমার মনে ছিল। কিন্তু ছোটবেলার অনেক সোনালী মুহুর্তের মত এটাও ধীরে ধীরে ভুলে গিয়েছিলাম। আজকে, প্রায় বার বছর পর, ইন্টারনেটে কৌতুক পড়তে গিয়ে সবুজের কাগুকে খুজে পেলাম। সবুজের কাগুর মতই অস্বাভাবিক ক্ষমতার অধিকারী এক চরিত্র নিয়ে এই ছোট ছোট মজার লাইন লেখা। মূল কৌতুকগুলা চাক নরিস আর ভিন ডিজেল কে নিয়ে করা। কিন্তু অতি আশ্চর্যজনক ভাবে সবুজের কাগুর সাথে এই কৌতুকগুলার গভীর মিল। সবুজ, আমার হাই স্কুলের অনেক বন্ধুর মত সেও হারিয়ে গেছে। আমি জানি না জীবন তার দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে আছে কিনা। সে হারিয়ে গেলেও তার কাগু আমার ভিতর রয়ে গিয়েছে।

ব্লগেও একজন কাগু আছেন। তিনিও কম আশ্চর্যজনক নন। এই এক লাইনের কৌতুকগুলা তাকে নিয়েও হতে পারে। তিনিও খুব সহজেই এর সাথে মানিয়ে যান।
যাই হোক, কাগুর কথা বলা শুরু করি।

১) আমাগো কাগু দুই টুকরা বরফ ঘষেও আগুন জ্বালাতে পারেন।
২) কাগু বই পড়েন না। বইকে টর্চার করে সব কথা জেনে নেন।
৩) যদি তোমার কাছে ১০০ টাকা থাকে, আর আমাগো কাগুর কাছেও ১০০ টাকা থাকে, তইলে আমাগো কাগুর কাছে বেশি টাকা আছে।
৪) কাগুর কি বোর্ডে কন্ট্রোল বাটন নাই, কেননা কাগুর সব সময় সব কিছুই কন্ট্রোলে থাকে।
৫) কাগু এক পাখি ছুড়ে দুইটা ঢিল শিকার করতে পারেন।
৬) ব্যাট ম্যান আর সুপারম্যানের ভিতর মারামারি হইলে কে জিতবে? ...... কাগু জিতবে।
৭) কাগু শীতের দিনের জন্যে সুর্যে একটা বাড়ি বানিয়ে রাখছেন।
৮) কাগু যেই বাড়িতে জন্ম নিছেন, সেইটা উনি নিজের হাতেই বানাইছেন।
৯) কাগু একবার একটা ঘোড়ার থুতনি তে লাত্থি দিয়েছিলেন। পরে সেই ঘোড়া থেকে যে বাচ্চা হয় সেইগুলারে আমরা জিরাফ বইলা ডাকি।
১০) আপনি নিজের ইচ্ছায় এই ব্লগ পড়েন নাই। কাগু আপনারে মন্ত্রবলে এই ব্লগ পড়তে বাধ্য করেছেন।

( এইগুলা পড়ে আর লিখে আমি একধরনের ছেলে মানুষী মজা পাইছি। আপনারা পাবেন কিনা জানি না। যাই হোক, ফেসবুকে কাগুর ফ্যান ক্লাব খুলছি। ইচ্ছে হইলে জয়েন খাইতে পারেন। )
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29032406 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29032406 2009-10-26 22:51:32
আমার ছোটভাই......
গরীবের ঘোড়া রোগের মতই আমার একদা একটি PDA কেনার শখ চাপল। পেপারে খুব সস্তা চাইনিজ পিডিএ এর বিজ্ঞাপন দেখে হাজার সাতেক টাকা নিয়ে গেলাম কিনতে একটা। দোকানে সামান্য সময় নাড়াচাড়া করেই বুঝলাম এইটা আসল “মাল” না। এতে হবে না।
কিছুদিন ঘুরলাম সেকেন্ড হ্যান্ড কিছু পাওয়া যায় কিনা তার আশায়। আতিক বিসিএস কম্পিউটার সিটিতে গিয়ে পিডিএ এর খোজ নিয়ে আসল। HTC ব্র্যান্ড এর। দাম বাইশ হাজারের মত। দাম শুনেই বুঝলাম- এই জিনিস কেনা আমাদের সাধ্যের বাইরে।
পরের কিছুদিন নেটে সেকেন্ডহ্যান্ড কিছু সেট খুজছি। হাজার দশেকে ভিতর সেকেন্ডহ্যান্ড পাওয়া যেতে পারে এমন সব সেটের প্রোফাইল সেভ করে রাখছি। আতিক একদিন পিসিতে দেখলো সেইসব ফাইল। পরদিন বিকালে আমি চুল কাটিয়ে বাসায় এসে দেখি আমার জন্য অপেক্ষা করছে HTC এর একটা টাচ স্ক্রীন পিডিএ।
-টাকা পাইলি কই?
-টাকা ছিল না, কিস্তিতে কিনে আনলাম তোর জন্য। ছয় মাসের ভিতর শোধ হয়ে যাবে।

সেই HTC এর সেট, গরীবের একমাত্র ঘোড়া – খুব গর্বের সাথেই আমি ব্যবহার করতে লাগলাম। কিন্তু ছয় মাস পার হবার আগেই, কিস্তির টাকা শোধ হবার আগেই- সেটটার স্ক্রীনটা ফাটিয়ে ফেললাম। জানা গেল সেটটা ঠিক করতে বার হাজার টাকা লাগবে। আমি বুঝলাম আমার ঘোড়ার চারপা-ই ভেঙ্গে গেছে।

দুই তিন মাস পরের কথা। আমার হাতে কিছু টাকা জমেছিল -ঈদের বোনাস আর বেতন থেকে জমানো টাকা। আতিককে একদিন হাজার বিশেক টাকা দিয়ে বললাম, আমাকে HTC কিনে দিয়েছিলি। তোকে দিলাম এই টাকা। এইবার তুই কিন।
দুইভাই মিলে কয়েকটা সেট দেখে আসছি।পছন্দ হলো না। আমি ঢাকার বাইরে চাকরি করি। প্রতি সপ্তাহে অবশ্য আসা যাওয়া করি। তাই বলে গেলাম, তুই কিছু একটা কিনে নিস। পরের সপ্তাহে এসে দেখব কি কিনলি।
পরের সপ্তাহে এসে দেখি আতিক নিজের জন্য না কিনে , আমার জন্য আরেকটা মোবাইল কিনে নিয়ে আসছে। তার চোখে পড়েছে, আমার HTC নষ্ট হবার পর- অন্য মোবাইল ব্যবহার করতে সমস্যা হচ্ছে।

অথচ সে তার নিজের মোবাইলের সুইচ খুলে যাওয়ায় সুপার গ্লু দিয়ে জোড়া দিয়ে ব্যবহার করে।


পিঠাপিঠি ভাই বোন থাকায় ছোটবেলা থেকেই আমাকে আলাদা খাটে থাকতে হয়। যতদূর মনে পড়ে ক্লাস ওয়ানে পড়ার আগে থেকেই আমি একলা খাটে থাকি। আমার মা আমার সাহসের কিছু গল্প করেন। আমি নাকি কিছুতেই একলা থাকতে ভয় পেতাম না। পরবর্তীতে আমার ভাই এসে আমার সাথে যোগ দেয়। আমরা দুইজন আলাদা খাটে থাকতাম। বাবা মায়ের সাথে আমার ছোটবোনটা থাকত।

আতিক মাঝে মাঝে রাতে ভয় পেয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়ত। সে নাকি কিছু দুঃস্বপ্ন দেখত। সেইসব স্বপ্নের খুব পরিস্কার ব্যাখ্যা দিতে পারত না। খালি একটা ফিতা আর সেটা প্যাচিয়ে প্যাচিয়ে সে আটকা পড়ে যাচ্ছে- এমন কিছু দেখত। আমিও ছোটরা সচরাচর দেখে এমন কিছু দুঃস্বপ্ন দেখতাম। ঘুম থেকে উঠে আমারো খুব ভয় লাগত। কাদতে ইচ্ছে করত। কিন্তু একটু অদ্ভুদ ব্যাপার ছিল কাউকে স্পর্শ করে থাকলেই আমার ভয় কেটে যেত। ছোটভাইটা কাছে থাকায়, আমি রাতের দুঃস্বপ্নের শেষে তার হাতটা শুধু স্পর্শ করে রাখতাম। এতেই আমার ভয় কেটে যেত। খাটের নিচের অশরীরীরির ভয় কেটে যেত শুধু রক্ত মাংসের জীবন্ত মানুষের স্পর্শেই। এইকারনে আমি খুব সাহস দেখাতে পারতাম। মায়ের ধারনা ছিল তার বড় ছেলেটা ছোটটার মত এত ভীতু নয়।

আমি এখনো রাতের বেলা দুঃস্বপ্ন দেখি। বুয়েটের হলে থাকার সময়ও দেখতাম। তখনো দুই ভাই এক রূমে থাকি। প্রচন্ড ভয় পেয়ে জেগে উঠতাম। আমার বেড থেকে উঠে তার পাশে গিয়ে বসে থাকতাম কয়েকমিনিট। আমার সমস্ত ভয় চলে যেত।
ইদানীং ভয় পেয়ে জেগে উঠলেও আতিককে আশে পাশে কোথাও পাই না। কঠিন দুনিয়ায় টিকে থাকার চেষ্টায় দুইজন দুইদিকে ছুটে যাচ্ছি। এখনো ভয় পেয়ে রাতে ঘুম ভাঙ্গে। এখনো আমি মনে মনে ভাবি, আমার ছোট ভাইটা আমার পাশেই আছে। তার হাতটা ধরতে বড় ইচ্ছে হয়।

=======================
আজ আতিকের জন্মদিন। রাতে ভয় পেয়ে তাকে স্পর্শ করে থাকার কথাটা এতদিন বলিনি, আজকে বললাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29026814 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29026814 2009-10-16 17:01:30
কৌতুক ( যথারীতি ১৮+) আমেরিকা প্রবাসী এক ইটালীয় ফ্যামিলির মেয়ে যাচ্ছে জীবনের প্রথম ডেটে। তার দাদী তাকে ডেকে বলল, শুনো। ছেলেটা তোমার হাত ধরতে চাইবে- তুমি কিন্তু সহজে হাত ধরতে দিবে না। তোমার এই কাজে আমাদের পরিবারের অসম্মান হবে।
-আইচ্ছা দাদী।
-ছেলেটা হয়ত তোমাকে চুমু খেতে চাইবে- খবরদার রাজি হবে না। আমাদের পরিবারের এতে অসম্মান হবে।
-ঠিক আছে।
-ছেলেটা হয়ত তোমার __ হাত দিতে চাইবে- খবরদার সুযোগ দিবে না।
-হুমম। দিব না সুযোগ।
-ছেলেটা হয়ত তোমার উপর শুইতে চাইতে পারে- খবরদার রাজি হবে না। আমাদের পরিবারের চরম অসম্মান হবে এতে...

মেয়ে ডেট শেষ করে বাসায় আসছে।
-ও দাদী তুমি ত সত্য বলছিলা। সে আমার হাত ধরছে।
-অপমান!!! তারপর?
-চুমুও দিছে।
-হায় খোদা!!! ___ এ হাত দিয়েছে?
-হুমম।
-এরপর?
-সে যখন আমার উপর শুইতে চাইছে- আমি রাজি হই নাই।
-সাবাস!
-হ!! আমি আমার পরিবারের অনেক অসম্মান সহ্য করছি। শেষে নিলাম শোধ। আমি তার উপর চড়ে বসে তার ফ্যামিলির চরম অপমান করে এসেছি।


০২.
মরার পর স্বর্গে গিয়েছে লিসা।স্বর্গের দারোয়ান, পল, লিসাকে স্বাগতম জানাতে এসেছে।
পলঃ নিয়ম অনুযায়ী স্বর্গে ঢুকার আগে তোমাকে একটা শব্দের বানা জিজ্ঞেস করা হবে। না পারলে কিন্তু স্বর্গে ঢুকতে পারবে না।জাস্ট নিয়ম রক্ষার্থে প্রশ্ন করব। তুমি আর তোমার জামাই খুব ধার্মিক। যেহেতু দুনিয়াতে খুব ভালো জীবন যাপন করেছো- তোমাকে সহজ প্রশ্ন করি- cat বানান কর।
- C-A-T
- ঠিক হইছে। আসো স্বর্গে প্রবেশ করো।
কয়েক বছর পর, পল জরুরী কাজে যাবে- তাই লিসাকে দায়িত্ব দিয়ে গেল স্বর্গের দারোয়ান হবার জন্য। লিসা দায়িত্ব নিয়েই দেখে তার স্বামী বব আসছে।
-হাই বব!
-হাই!
- আমি মারা যাবার পর খুব কষ্টে ছিলে নাহ?
-প্রথম বছর খুব কষ্ট হয়েছিল। এরপর রুবিকে বিয়ে করলাম। এরপর আর কষ্ট ছিল না।
-তাই?
- রুবি আর আমি মিলে এশিয়া ঘুরলাম। আরো অনেক মজা করেছি... আহা শেষ জীবনটা খুব আনন্দে কেটেছে...
-আচ্ছা। সেই কাহিনী শুনা যাবে। এখন একটা শব্দের বানান জিজ্ঞেস করব তার উত্তর দাও। ভুল উত্তর দিলে কিন্তু ঢুকতে পারবে না।
-তোমাকে কি জিজ্ঞেস করছিলো?
-CAT
বব হাসিমুখে বলল, ঠিক আছে। আমাকে প্রশ্ন করো...
-বানান করো- চেকোস্লোভাকিয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29013248 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29013248 2009-09-20 00:16:32
প্রেম যে তবুও প্রেমঃ স্বপ্ন নিয়ে বেচে রবে, বাঁচিতে সে জানে শনি আখড়া থেকে মাতুয়াইল যাবার পথে একবার দেখি মুরগির দোকানের সামনে একটা বড় পলিথিন বিছানো। সেখানে মুরগির শরীরের চামড়া আর কিছু হাবিজাবি অংশ বিছানো আছে।ফার্মের মুরগি প্রসেস করার পর চামড়া আর কিছু অংশ বেচে যায়। ক্রেতারা কেউ সেই অংশ চেয়ে নেয় না। ডেসিং করা মুরগি পলিথিনে ভরে নিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে কিছুই ফেলা হয় না। এই আপাত অপ্রয়োজনীয় অংশও বিক্রি হয়। দোকানের সামনে গরুর গোশত কুরবানীর ঈদের সময় যেভাবে ভাগ করে রাখা, সেইভাবে ভাগ করে রাখা আছে। দেখে মনে হচ্ছে, এক এক ভাগ করে বিক্রি হচ্ছে সেই সব। কোন ক্রেতা দেখি নাই আশেপাশে। তবে বিক্রি যে হয় এইসব বস্তু –সেটা ত নিশ্চিত।

বিভিন্ন টক শো এবং পত্র পত্রিকায় আমি কিছু মানব-দরদী মানুষকে দেখেছি, এই প্রশ্ন করতে, আমাদের দরিদ্র মানুষদের আমিষের চাহিদা কিভাবে পূরন হয়? বেশিরভাগ ফকির নাকি কুরবানীর ঈদ ছাড়া গোশতের দেখা পায় না। কিন্তু যে শিশুগুলো বড় হচ্ছে সমাজের অন্তজ অংশে- তাদেরও ত আমিষের চাহিদা আছে। আমিষ না পেলে তারা বড় হবে কিভাবে?

সেইদিন আমি আমিষের একটা উৎস এর কথা জেনে আসলাম। এরাও তাহলে মুরগি(!) খেয়ে বড় হয়...

০২
চাঁদপুরের অফিস পাড়ায় রাস্তার পাশে একটা কারিগর আছে। পেয়াজু-আলুর চপ-ছোলা বিক্রি করে রাস্তার পাশে। আমি একদিন কি মনে করে যেন খেলাম একটা চপ। চপ মুখে দিয়ে মনে হলো, এই খাদ্যের উৎস পৃথিবী নয়। বেহেস্তের ফেরেশতারা এই খাবার বানাচ্ছে। সামান্য দুই টাকা করে দাম। কিন্তু ভিতরে মাংসের একটু আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আলুর যা দাম এরপর মাংশ দিয়ে ভেজে বিক্রি করে সে লাভ করছে কিভাবে আমার মাথায় ঢুকল না। তবে একটা জিনিস বুঝে গেছি সাথে সাথে। আমাকে এই বস্তু বার বার খেতে হবে। সেইদিন আমি গোটা দশেক চপ খেলাম।
এরপর থেকে যখন আমি ছুটিতে চাদপুর যেতাম, সেই দোকানটা খুজে বের করে চপ খেতাম। প্রতিদিন খেতে খেতে এমন অবস্থা হত যে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুরু হত। এরপরেও থামাতাম না।

একদিন কথা প্রসঙ্গে চাদপুরের কিছু বন্ধুকে বলছিলাম সেই দোকানের কথা। নাসিম নামের আমার সেই বন্ধু চপ খাবার কথা শুনে বলল, করছোস কি!! হারামজাদারা ত ফার্মের মুরগির চামড়া দিয়ে এই চপ বানায়।

তার মামা বা কাকা ফার্মের মুরগির ব্যবসা করে। এই ধরনের চপ-ছোলা বিক্রেতারা নাকি রাতের বেলা এসে মরা মুরগি আর ড্রেসিং করা মুরগির চামড়া আর হাবিজাবি অংশগুলা কিনে নিয়ে যায়। পরদিন সেগুলো দিয়ে চপ বানায়...

এই কথা জানার পর কয়েকটা ছুটি গেল। আমি চপ খেতে যাই না। একদিন ক্ষুধার্ত বিকেলে সেই দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছি। ভাজার আওয়াজ আর গন্ধ পাচ্ছি। গন্ধে মাতোয়ার হয়েই ঠিক করলাম, একটা খেয়ে দেখি। শুধু একটা খাব।
একটা খেলাম। এরপর মনে হল, যাহা বাহান্ন তাহাই তিপ্পান্ন। একটা খেলাম- দুইটাও খাই। দুইটা খাওয়ার পর, আরো কয়েকটা খেলাম। এরপর আরো খেলাম...


পুরান ভালোবাসা ফিরে আসল... ভালোবাসার জোয়ারে সব ঘৃনা ভেসে গেলো...


০৩
আনিসুল হকের উপন্যাস পড়ছি। নাম- এতদিন কোথায় ছিলেন। জীবনানন্দকে নিয়ে লেখা উপন্যাস। বেচারা নতুন কোন তথ্য জোগাড় করতে পারে নাই। কয়েকটা বই পড়ে- সেগুলোর থেকে একটা সারাংশ টাইপ তৈরী করে জিনিস দাড় করিয়েছে। সে জানে ভিতরে মাল কম, তাই আকর্ষনীয় করার জন্য জীবনানন্দের যৌন জীবনের কথা লিখে দিয়েছে। কিভাবে বেচারা বউয়ের কাছ থেকে রাতে লাত্থি খেয়ে সোফায় বসে বসে হস্ত মৈথুন করেছে- তার বর্ননা আছে।

জীবনানন্দ চাকুরী জীবনে ব্যর্থ- প্রেমিক হিসাবে ব্যর্থ। আমরা সবাই সেটা জানি। কিন্তু স্বল্প-পরিচিত কোন এক কবি ভক্ত রমনীর কথা ভেবে ভেবে রাতের বেলা হস্ত মৈথুন করছে- এটা কোনদিন ভাবি নাই। এতবড় looser ছিল ব্যাটা। আনিসুল হকের উপন্যাসটা পড়ে মনে হল, ধূসর পান্ডুলিপির কোন কবিতা আর পড়তে ভালো লাগবে না। ব্যাটাকে হাজার বছর ধরে পথ হাটা কবি বলে মনে হচ্ছিল না। বরং মনে হচ্ছিল লুঙ্গিতে ভেজা দাগ লুকিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত এক মধ্য বয়সের লুল পুরুষ।

কয়েকদিন পর জীবনানন্দ সমগ্র পড়ার সুযোগ এলো। রূপসী বাংলার একটা কবিতা পড়তে শুরু করেছি- হঠাৎ আবিষ্কার করলাম- সেই পুরানো আবেগ- সেই ভালোবাসা ফিরে আসছে। আশ্চর্য যে এতকিছু জানার পরও ভালোবাসার কোন কমতিবোধ করলাম না। গভীর আবেগে রুপসী বাংলার কবিতা পড়লাম। চোখ ভিজে আসল...


[ এরপর হতে আমি আসিনুলের আর কিছু পড়ব না বলে ঠিক করেছি। এমনিতেও আমি আনিসুল হকের কোন বই কিনে পড়ি না। নেট থেকে নামিয়ে পড়ি। নতুন প্রতিজ্ঞা হলো, নেট থেকে নামিয়েও আর আনিসুল হকের কিছু পড়ব না। বদের হাড্ডি আনিসুল হক আমার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে আজে বাজে কথা বলেছে... ]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29012652 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/29012652 2009-09-18 20:35:43
একদিন জলসিড়ি নদীটির ( রূপসী বাংলা- জীবনানন্দ দাশ) বিশীর্ন বটের নীচে শুয়ে রব- পশমের মত লাল ফল
ঝরিবে বিজন ঘাসে-বাঁকা চাঁদ জেগে রবে- নদীটির জল
বাঙ্গালি মেয়ের মত বিশালাক্ষী মন্দিরের ধূসর কপাটে
আঘাত করিয়া যাবে ভয়ে ভয়ে-তারপর যেই ভাঙ্গা ঘাটে
রূপসীরা আজ আর আসে নাকো,পাট শুধু পচে অবিরল,
সেইখানে কলমির দামে বেধে প্রেতনীর মত কেবল
কাঁদিবে সে সারা রাত-দেখিব কখন কারা এসে আমকাঠে

সাজায়ে রেখেছে চিতাঃ বাংলার শ্রাবনের বিস্মিত আকাশ
চেয়ে রবে; ভিজে পেচা শান্ত স্নিগ্ধ চোখ মেলে কদমের বনে
শোনাবে লক্ষ্মীর গল্প-ভাসানের গান নদী শোনাবে নির্জনে;
চারিদিকে বাংলার ধানী শাড়ি-শাদা শাখা-বাংলার ঘাস
আকন্দ বাসকলতা ঘেরা এক নীল মঠ-আপনার মনে
ভাঙ্গিতেছে ধীরে ধীরে-চারিদিকে জীবনের এই সব আশ্চর্য উচ্ছ্বাস-
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28997499 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28997499 2009-08-21 16:56:19
অতি সহজ ভাষায় বিবর্তনের ব্যাখ্যা (ডারউইনকে গালি দেবার আগে জানুন তার থিওরী) প্রতিটি প্রানি বংশ বৃদ্ধি করে গুনিতক হারে। ম্যালথাস যাকে বলেছেন জ্যামিতিক হারে। জীব বিজ্ঞানে এটিকে জনন-অপব্যয়িতা বলা হয়।

ব্যাখ্যা-
আপনার একুরিয়ামে যে গোল্ড ফিস আছে সেটা একবারে এক হাজারের বেশি ডিম পাড়ে। বলা বাহুল্য সবচেয়ে অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশেও একটা গোল্ড ফিসের এক হাজার বাচ্চা বেচে থাকতে পারবে না।
একটা মাছি একবারে ডিম পাড়ে ১২০-১৫০ টি ডিম।
একটা ঝিনুক পাড়ে একশ মিলিয়ন ডিম।
ফিশন পদ্ধতিতে একটি ব্যাক্টেরিয়া ভেঙ্গে দুইটা পরিনত হয় মাত্র বিশ মিনিটে। ছয় ঘন্টায় একটা ব্যাক্টেরিয়া থেকে ২,৬২,১৪৩ টা হয়ে যাবে। চব্বিশ ঘন্টার ভিতর এই সংখ্যা হবে 4.72 E+21 ।

fact ০১ এর সাথে একমত না হবার কোন যৌক্তিক কারন নাই। যদি একমত হন এরপর দ্বিতীয় fact এ চলে আসি।

fact-০২
বার্ষিক সামান্য হ্রাস বৃদ্ধি এবং মাঝে মাঝে বড় রকমের হেরফের ছাড়া একটি নির্দিষ্ট স্থানে জীবের মোট সংখ্যা কম বেশি একই থাকে কারন একটি সুস্থিত পরিবেশে সম্পদ( খাদ্য, প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, পরিবেশ ইত্যাদি) সীমিত থাকে।

ব্যাখ্যা-
একটি সীমানা দ্বারা রক্ষিত বনের ভিতর গাছের সংখ্যা সারা বছর একই থাকবে। একটি কৃত্রিম বনে আপনি চাইলেই ইচ্ছে মত ঘন করে গাছ লাগাতে পারবেন না। যদি চেষ্টা করেও থাকেন, সীমিত সংখ্যক গাছই টিকে থাকবে। বাকিরা বড়ই হতে পারবে না।

একইভাবে প্রানীর ক্ষেত্রেও বলা যায়, সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব বাড়তে পারে না। ধরা যাক, একটা এলাকায় দুইটা বাঘ থাকে, আপনি আরো দুইটা এনে ছেড়ে দিলেন।বাঘ বেড়ে যাওয়ায়, হরিনের উপর চাপ পড়বে। বেশি সংখ্যক হরিন মারা গেলে, হরিনের সংখ্যা যাবে কমে। ফলাফল। বাঘের যখন বাচ্চা হবে কিছু সংখ্যক বাঘের বাচ্চার অনাহারে মারা পড়তে হবে। দুই বা তিন জেনারেশন বাঘের ভিতরই সংখ্যাটা আগের জায়গায় ফিরে আসবে।

এই দুইটা তথ্যে যদি আপনার আপত্তি না থাকে, তবে আমি প্রথম অনুসিদ্ধান্তে চলে আসি।

অনুসিদ্ধান্ত-১
একটি নির্দিষ্ট এলাকায় যতগুলো প্রানী বেচে থাকতে পারে তার থেকে অনেক বেশি জীব জন্মায় এবং যেহেতু বসাতুতন্ত্রের অমোঘ নিয়মে জীবের সংখ্যার বড়সড় হেরফের হয় না, সেহেতু বেচে থাকার জন্য বা টিকে থাকার জন্য প্রতিটি জীবের মধ্যে তীব্র সংগ্রাম চলে। ফলে প্রতিটি প্রজন্মের(জেনারেশনের)ভিতর মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ টিকে থাকে।

ব্যাখ্যা-
একটা গোল্ড ফিসের কয়টা বাচ্চা বেচে থাকে বলে আপনার ধারনা?
টিকে থাকার এই সংগ্রামকেই ডারউইন বলেছেন জীবন সংগ্রাম। প্রতিটা জীব তার নিজের প্রজাতির সাথে বা অন্য প্রজাতির সাথে টিকে থাকার জন্য নিত্যই সংগ্রাম করে চলেছে।

fact ০৩
যৌন জননে জন্ম নেয়া যেকোন দুইটি জীব কখনোই এক নয়। জ়িব জগতে তাই একই জীবের ভিতর হাজার হাজার ভ্যারাইটি দেখা যায়।
ব্যাখ্যা-
বেচারা ডারউইন বা ওয়ালেস জিন কি জিনিস সেটা জানত না। তাই কষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছে। এখন আমরা সবাই জানি মিয়োসিস বিভাজনের সময়েই জিনে মিউটেশন ঘটে যায়। সুতরাং কখনোই একই জীবের দুইটা সন্তান বা বংশধর পরিপূর্নভাবে এক হবে না। ব্যাক্টেরিয়া থেকে মানুষ –সব জীবের ক্ষেত্রেই এটা সত্য।
fact-০৪
fact তিনে উল্লেখিত ভ্যারাইটি গুলো অনেকটাই বংশানুসৃত হয়।
ব্যাখ্যা-
এটার ব্যাখ্যা করার আসলে প্রয়োজন নাই। বাপ-মা থেকে যে জিন পাওয়া যায় , বংশধর সেই রকমই হবে।
অনুসিদ্ধান্ত-০২
যেহেতু একই জীবের প্রজাতির অনেকগুলা ভ্যারাইটি তৈরী হয়(fact-০৩-০৪) এবং যেহেতু জীবের সমস্ত বংশধর টিকে থাকতে পারে না( অনুসিদ্ধান্ত-০১ অনুযায়ী) সেহেতু বলা যায় যে, ভিন্ন ভিন্ন ভ্যারাইটিগুলোর ভিতর যেটি যোগ্য শুধুমাত্র সেটিই টিকে থাকবে।

ব্যাখ্যা-
এটিই বিখ্যাত প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব- “ survival of the fittest”

ধরা যাক, আপনি চিকন আর লম্বা লাউয়ের একটা জাত তৈরী করতে চান। আপনি বাজার থেকে কয়েকজাতের লাউয়ের চারা কিনে নিয়ে আসলেন। আপনার বিশাল বাগানে লাগালেন শখানেক গাছ। ফল হবার পর দেখলেন আপনি যেটা চাচ্ছেন- লম্বা আর চিকন লাউ- সেইটা ধরেছে মাত্র দুইটা বা তিনটা গাছে। আপনি সেই গাছ দুই- তিনটা থেকে- যেই লাউটাকে মনে হল পারফেক্ট- শুধু সেই লাউটার বিচি জমিয়ে রাখলেন। পরের বছর একশ চারাই লাগালেন সেই লাউয়ের জমানো বিচি থেকে। এবারের লাউ ধরল। সব কয়টাই চিকন আর লম্বা। আপনি সেগুলো থেকে যেটা পারফেক্ট বা আপনার ইচ্ছার সাথে সবচে বেশি মিলল শুধু সেই লাউটা রাখলেন।
এভাবেই প্রতি বছর লাউয়ের ভিতর সবচে চিকন আর লম্বা লাউটারই শুধু চাষ করতে লাগলেন। বছর দশেকের ভিতর দেখা যাবে আপনার বাগানের লাউ সম্পূর্ন নতুন জাত। এত চিকন আর লম্বা আর কারোই লাউ নয়।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় কৃত্রিম নির্বাচন। আপনি প্রতিটা জেনারেশনে সবচে চিকন আর লম্বা লাউ বেছে নিয়েছেন। আস্তে আস্তে আপনি মোটা বেটে লাউ থেকে কাংখিত চিকন আর লম্বা লাউয়ে চলে গিয়েছেন।

ধরা যাক ঢাকার মশার কথা। এক সময় এখানে যে মশা ছিল তা কয়েলের কারনেই মারা যেত। সহজ হিসাব করি। ধরা যাক, ঢাকায় মাত্র একশ মশা বেচে থাকার মত মানুষ আছে। জেনারেশন০১ এর মশারা অবশ্যই একশর বেশি ডিম পাড়ছে। কিন্তু মূককীট থাকতেই বা আরেকটু বড় হয়ে অনেক মশা মরে গেছে। শেষ পর্যন্ত একশ মশাই জেনারেশন ০২ এ আসতে পেরেছে। জেনারেশন ০১ যে মশা ছিল সেগুলো কয়েলের সামান্য ধুয়াতেই মারা যেত। কিন্তু জেনারশন ০২ এ শুরুতে হয়ত ১২৫ টা মশা ছিল। এর ভিতর ৫ টা প্রাকৃতিক মিউটেশনের কারনেই হয়ত একটু বেশি সহ্য ক্ষমতা নিয়ে জন্ম নিয়েছে। ১২৫ টা থেকে যখন ১০০ টা টিকে থাকছে তখন দেখা গেল অই পাচটাই টিকে গেছে। বাকি ১২০ টার ৯৫ টা বেচে গেছে। এই পাচটা ডিম পাড়ল। ৯৫ টাও পাড়ল। এইবার ০৫ টা থেকে জেনারেশন ০৩ এ ১৫ টা টিকে গেল আর সাধারন আসল ৮৫ টা। এইভাবে আস্তে আস্তে হয়ত আশি-নব্বই জেনারেশন পর দেখা যাবে, মশাগুলার সবকয়টার সহ্য ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। এরা অন্য জেলার মশা থেকে আলাদা হয়ে গেছে। লম্বা সময় ধরে পরোক্ষভাবে সহ্যক্ষমতা বেশি এই রকম মশা নির্বাচন করে করে আমরা মশার নতুন একটা ভ্যারাইটি তৈরী করে ফেলতে পারছি। সময় পেলে নতুন একটা প্রজাতি বের হয়ে আসতেও পারে।

পঞ্চাশ বছরে যদি মশার এই হাল হয়, হাজার বছরে কি হতে পারে তার ধারনা করুন। যেভাবে সাধারন মশা থেকে উন্নত(!) মশায় রূপান্তর ঘটল, হাজার বছর ধরে প্রকৃতি একটু একটু করে সরল জীব থেকে জটিল জীবের উদ্ভব ঘটিয়েছে।
মোটামুটিভাবে এইটাই ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব। ( আমি যতটুকু বুঝছি আর কি। আমি ইঞ্জিনীয়ার মানুষ। জীব বিজ্ঞানে দুর্বল। এখানে কোন অসঙ্গতি থাকলে তার জন্য আমি দায়ী- ডারউইন না। )

সূত্র-
Origin of species http://www.gutenberg.org/etext/2009
প্রজাতির উৎপত্তি- ম. আখতারুজ্জামান ( অতি কুৎসিত অনুবাদ)

এ. আর. ওয়ালেস এর তিনটা অনুসিদ্ধান্তের আদলে লেখা। তিন নম্বরটা জরূরী মনে না হওয়ায় এবং জোস কমে যাওয়ায় লিখলাম না।( আমি বড় অলস মানুষ। )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28997094 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28997094 2009-08-20 18:58:04
টিপাইমুখ সংক্রান্ত পোষ্টটি কর্তৃপক্ষ সরিয়ে ফেলেছে...... আমার আর কিছু বলার নাই। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28991571 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28991571 2009-08-10 12:43:24 আমার পঞ্চাশতম(ভুয়া) পোষ্ট ( লগে ভুয়া দুইটা কৌতুকও আছে <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> )
আমার ব্লগের সঠিক সংখ্যা ঠিক কত সেটা বলতে পারি না। তবে কোন একটা নির্দিষ্ট নিকে এই প্রথম পঞ্চাশ এ দাড়ালাম। ব্লগের বয়স এক বছরের বেশি। মাগার বর্ষপূর্তি পূষ্টও পুষ্টাতে পারি নাই- কেননা তখন ব্লগ বিরতি চলছিল। তাই চামে পঞ্চাশ নাম্বার পোষ্টে এক ঢিলে দুই বা তিন পাখি মারার চেষ্টা করতাছি।


পঞ্চাশতম পোষ্টের নিয়ম আছে। অনেক ব্লগারকে ধন্যবাদ দিতে হবে। আনন্দ বেদনার কয়েকটা ছোট ঘটনার উল্লেখ করতে হবে এবং সবার শেষে সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে সামু কেন সেরা ব্লগ সেটা ব্যাখ্যা করতে হবে।


পার্ট- ১ ( ধন্যবাদ জ্ঞাপন)
ব্লগে ব্যান খাওয়া আর আনব্যান খাওয়া- নিয়মিত পাঠক আর অনিয়মিত অতিথি সবাইকে আমার ব্লগ পড়া এবং আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


পার্ট -২ ( পছন্দের ব্লগারদের গুনকীর্তন যেনারা আমার পোষ্টে নিয়মিত পেলাস মারে...<img src=" style="border:0;" /> )

অনেকের ব্লগ নিয়মিত পড়ি কিন্তু কমেন্ট করি না। ইনারা “সম্প্রতি কারা ব্লগ দেখেছেন” সেখানে আমার নাম লক্ষ্য করেন কিনা জানি না। এদের ভিতর আছেন-জান জাবিদ,জেরী,নাস্তিকের ধর্মকথা,কাগু, ইউনুস খান ,মিলটন ,চাঙ্কু, 'লেনিন' , আউলা, ভেংচুক, ড্রাকুলা, কৃষক , হাসান মাহবুব ,গোয়েবলস ,জ্বিনের বাদশা , চানাচুর, নাজিম উদদীন ,ইমন জুবায়ের, শূন্য আরণ্যক ,বিষাক্ত মানুষ ,আমড়া কাঠের ঢেকি,বুলবুল আহমেদ পান্না,তাজুল ইসলাম মুন্না,তামিম ইরফান,প্রলয় হাসান(টিয়া সংক্রান্ত জটিলতায় এখন আর ব্লগে দেখি না) ,মুক্তবয়ান।

অনেকেই আছে আমার রিয়াল আর ভার্চুয়াল দুই জগতের বন্ধু মানুষ। যেমন- অগ্নিকন্যা, ‌ফারহান দাউদ ,দূরের পাখি ,সীমান্ত আহমেদ, খেজুর কাটা। দুরের পাখি আর খেজুর কাটা কলেজের ফ্রেন্ড। ফারহান দাউদের সাথে ক্লাসে এক রকম পরিচয় ছিল। ব্লগে এসে তার আরেকটা চেহারা দেখলাম। আমি কিন্তু প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে অসাধারন সব ব্লগ লেখা এই ব্লগার আমার ক্লাস মেট। পাচ বছর একসাথে পড়ছি- কুনোদিন লেখা-লেখি নিয়া তার সাথে কথা হয় নাই। আফচুস!!!

আবার অনেকেই ছিলেন যাদের ব্লগেই প্রথম পাইছি।
জটিল
পতিতা নিয়ে লেখা ব্লগ পড়ে আমি উনার ভক্ত হইয়া পড়ছি। এরপর পাদ, ব্লাউজ নিয়া জটিল সব ব্লগ লিখছেন উনি।

শুভ
এই পোলাডারে ভালা পাই। এই পোলাডা আর পোলাডার ভইনের সাথে সারাদিনই চ্যাটাই।


কাকন
খুব পছন্দের ব্লগার। উনার জনপ্রিয়তা ঈর্ষনীয়। তার সব ব্লগ পড়ি, কিন্তু খুব কমই কমেন্ট করি।

লীনা দিলরুবা
দূরের পাখির মাধ্যমে পরিচয় এবং আমি দূরে দূরে থাকি। রহস্যময় কোন এক কারনে ইনার ব্লগে প্রায়ই হাসিমুখের ইমো দিতে গিয়া চোখ টিপের ইমো দিয়া বসি এবং লজ্জা পাই।

কৌশিক
উনার সম্পর্কে বলার কিছু নাই।


সন্দীপন বসু মুন্না
চমৎকার কৌতুক লিখত। এখন আর লিখে না।


ইন্ডিয়ানা জোন্স
আমার একটা দিনের রঙ এই ব্লগার চেঞ্জ করে দিয়েছিল। <img src=" style="border:0;" />


কোপা সামছু
এই গুরুর কথা আলাদা কইরা কইতে হইব। যখন ব্লগ এ রেজি করছি মাত্র- গুরু তখন লিখত। আহা কি সব ব্লগই না গুরুর কাছ থেইক্যা পাইছি। তখন থেইখ্যা একটা রোখ ছিল- লিখতে হইলে গুরুর মত কইরাই লিখমু- গুরুরে ছাড়াইয়া যাইতে হইবো হিটের সংখ্যায়।


অক্ষর
আমার ব্লগে প্রচুর কমেন্ট করেন। কিন্তু কেন জানি উনার ব্লগে গিয়ে আমি কমেন্ট করি না।



সুদীপ্ত /অরন্যচারী
ফাইটার ধরনের ছেলে। জামাতের মূর্তিমান আতঙ্ক। ছাগুদের সাথে চিল্লা চিল্লি কইরা ব্যান খাইত আর জেনারেল হইত প্রায়ই। এখন খুব একটা লিখে না। আরেকটা কথা এই পোলাডা আমারে কৌতুক উৎসর্গ করেছিল। জীবনে সেই প্রথম কিছু পাইলাম।


ভাঙ্গা পেন্সিল
এর ব্লগের চেয়ে বিভিন্ন ব্লগে তার করা কমেন্ট অনেক বেশি আকর্ষনীয়। সম্ভবত ব্লগের সেরা মন্তব্যকারী। ব্লগও ভালো লিখে <img src=" style="border:0;" />


আহমাদ মোস্তফা কামাল
বুড়ি একদিন আমার ব্লগ পড়ে ফুন দিয়া কয়, খাইছে তুমি ত সেলেব্রেটি ব্লগার হয়ে গেছ। আহমাদ মোস্তফা কামাল তোমার ব্লগে কমেন্ট করেছেন। অর্থাৎ কিনা তিনি আমার ব্লগে কমেন্ট করে আমাকে জাতে তুলেছেন। বুড়ির কথাটা আমার ভালো লাগে নাই। তাই উনার ব্লগে গেলাম। কয়েকটা ব্লগ পড়লাম। এরপর বুঝলাম, উনি কমেন্ট করাই আসলেই আমি জাতে উঠেছি।

কার কার নাম বাদ পইড়া গেছে সেইটা কইতে পারতাছি না। তয় মাইনাসের সংখ্যা দেইখা বুঝব কয়জনরে মিস করছি। ব্রেন পইচা গু হইয়া গেছে রে ভাই। কার না যে বাদ পড়ছে......


পার্ট-৩ ( এইখানে কিছু আনন্দ-বেদনার কথা হইব)

ব্লগে একবার গালি খাইছি। সারাটা রাইত মন খারাপ ছিল। সকালে মন খারাপ লইয়াই একটা প্যান প্যানে ব্লগ লিখলাম। সেইখানে ব্লগাররা এসে চমৎকার সব কথা বললেন। প্রতিটা কমেন্ট পেয়ে আমার চোখের পানি চলে আসছিল। (যারা আমাকে বাস্তবে চিনেন তারা জানেন আমি ছিচকাদুনে টাইপ মানুষ। ভালা খারাপ কিছু হইলেই চইক্ষে পানি আইসা পড়ে। ) যে ভালোবাসা আমার জন্য সবাই দেখাইছে--- সেইটা পাওয়া একটা ভাগ্যের ব্যাপার। ( সবার কপালে এত ভালোবাসা জুটে না। <img src=" style="border:0;" /> )


ব্লগ জীবনের শুরুর দিকের কথা। সেলেব্রেটি ব্লগার কৌশিকের প্রিয়পোষ্টে দেখি আমার দুইটা পোষ্ট। সেইবার প্রথম নজরে পড়ল, আমার পোষ্টে অন্য ব্লগারদের বিশেষ কইরা এতবড় ব্লগারেরও নজরে পড়ছে। সেইদিন কি যে লাফানটা লাফাইছিলাম।



কবে কেন খারাপ লাগছিল সেই কথা না কই। সব গল্পই হোক আনন্দের গল্প।


সামু আমাকে আনন্দের অনেক মুহুর্ত উপহার দিয়েছে। কিছু অসাধারন মানুষের সাথে যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে, ব্লগের সবাইকে আমার তরফ থেকে ভালোবাসা। যে ভালোবাসা আমি পাচ্ছি, তার কিছুটা হলেও ফেরত দেবার চেষ্টা আমি করব। আজকের দিনে এইটাই আমার শপথ।

=========================================================

এত কষ্ট কইরা ব্লগটা পড়ছেন। বিনময়ে দুইটা কৌতুক শুইন্যা যান। <img src=" style="border:0;" />


০১।
বব বাসায় ফিরে এসে দেখে তার বউ ন্যাংটা হয়ে শুয়ে আছে।
-কি হইছে বউ তোমার?
বউ কি কইব কি কইব বুঝতে না পাইরা বেমক্কা কইয়া বসে, আমার হার্ট এটাক হইতাছে...
বব দৌড়া দৌড়ি শুরু করতাছে। ফুনের কাছে গিয়া হাসপাতালে ফুন করল। মাথায় পানি দিব নাকি শরবত বানাইয়া খাওয়াইবো কিছুই বুইঝ্যা উঠতে পারতাছে না। এমুন সময় তার ছেলে রবি এসে কয়, আব্বা, জন চাচা ন্যাংটা হইয়া আলমারির ভিতর লুকাইয়া ছিল। আমি ত আলমারি খুইল্লা ভাবছি নাঙ্গু ভূত। হেভি ভয় পাইছি।


বব সাথে সাথে গিয়ে আলমারি খুলল। ইয়াপ। জন নাঙ্গু হয়ে সেখানে দাড়াইয়া আছে।

বব রাগ কইরা কইতে লাগল, তুই ছোট ভাই নামের কলঙ্ক। এর লাইঘ্যা তোরে আমার লগে রাখতাছি? কোন ভালা কামে ত আসলি না, তুই কামডা কি করতাছোস??? দাড়া আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন। তোর ভাবি এইখানে হার্ট এটাকে মইরা যাইতাছে আর তোর বুদ্ধি-শুদ্ধি নাই? তুই নাংগু ভূত হইয়া পুলাপাইনরে ভূতের ভয় দেখাইতাছোস?


০২.
বব গেছে শেভ করতে। নাপিত থুতনির কাছে এসে বলল, স্যার সমস্যা হচ্ছে এই জায়গাটায়। আপনি যদি কষ্ট কইরা এই লোহার বলটা কামরাইয়া ধরতেন, ভালা হইত।
বব পিংপং বলের সমান লোহার বলটা কামড়াইয়া ধরল। থুতুনির জায়গাটা সুন্দর শেভ করা গেল।
শেভ শেষে বব হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা, যদি বলটা আমার পেটে চলে যেত?
নাপিত কয়, সমস্যা নাই স্যার। অন্য সবার মত পরদিন এসে ফেরত দিয়া দিতেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28991349 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28991349 2009-08-09 22:47:43
ফানপোষ্ট- কিছু ব্লগারের স্টাইল অনুসরন করে... মডু/নুটিশবোর্ড

নির্মল বিনোদনের উৎস এই ব্লগগুলা। প্রথম ডেট বর্ননায় ব্লগের নানা টার্ম ব্যবহৃত হবে...
শিরোনাম- আমার প্রেম- সকল ব্লগারের দৃষ্টি আকর্ষন নমুনা ব্লগ- ছেলেটাকে দেখলেই মনে হলো এই ছেলে শখানেক প্লাস পাওয়া ছেলে। এইছেলে নিরাপদ না হয়েই যায় না। আমার হৃদয়ে তার আসন স্টিকি হয়ে গেলো...ইচ্ছে হলো শোকেসে রেখে দেই তাকে... কয়েকটা মেয়েও তার দিকে তাকিয়ে আছে...মেয়েগুলাকে ওয়াচে রাখলাম...

(পোষ্ট স্টকি থাকবে, মাইনাসে ভরে যাবে। কিছু চিহ্নিত ব্যাক্তিকে দেখা যাবে প্লাস দিচ্ছে আর বাহবা দিচ্ছে। )


কাগু
ব্লগের ভাষাসৈনিক(!) কাগু ব্লগ শুরু করবেন একেবারে নিজস্ব স্টাইলে।

শিরোনাম- বাথিযা- বাথিযিড়া আনন্ধ করো, অভসেসে কাগু কাঘীমা কুযে ফেলো নমুনা ব্লগ- অপিছে ভছে ছিঙ্গাড়া খাচসি,ঠুঈ ঠাখার চুট্ট ছিঙ্গাড়া। এমুন ছময় মাছাল্লাহ, এখ টড়ুনী এলু, তাহাড় সিঙ্গাড়া পাছঠাখার খম না হয়ে জায় না। ................................




দূরের পাখি
পাচ-ছয়টা ভাষায় দক্ষ দূরের পাখি লিখবে খাটি ফেনী-কুমিল্লা অঞ্চলের ভাষায়।
শিরোনাম- পুলিশীয় পোষ্ট- আমার প্রথম অভিসার আর হুজুরগুলার _এ চুলকানি নমুনা ব্লগ- হেতেরে দেখতাছি কয়দিন ধইরা। দেখলেই আঞ্জা দিয়া ধরতে ইচ্ছা করে। এমুন সোন্দর হয় মানুষ...
( পোষ্ট এইভাবে শুরু হলেও হঠাৎ করে এর ভিতর ইসলাম ঢুকে যাবে। শেষে হযরতকে গালি দিয়া ব্লগ শেষ হবে।)


কৌশিক
ব্লগের সেলেব্রেটিদের একজন। ধারালো ভাষায় তিনি প্রথম ডেটের কথা লিখবেন। ব্লগে অনেক উচ্চমার্গীয় কথা বার্তা থাকবে। শেষের জন্য তিনি সবচে বড় চমকটা রেখে দিবেন।

শিরোনাম- পলিগেমাস পুরুষের মনোগ্যামির শখ- একটি ডেট এবং তৎ পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ (সিরিজ ব্লগ) নমুনা ব্লগ- আমি টিপাইমুখ বন্ধ করো টি-শার্ট পড়ে লেকের পাড়ে বসে আছি। কলিগের আসার কথা পাচটায়। এখন বাজে পাচটা বেজে ত্রিশ সেকেন্ড। আমি খুবই বিরক্ত। ......

( ব্লগের শেষে পাঠক ধাক্কা খাবেন যখন জানবেন কলিগ আসলে বিবাহিত। পরের পর্বে জানবেন কলিগ আসলে ছেলে। এরপরের পর্বে জানবেন যে কলিগের সাথে ডেট সেইটা আসলে বিবাহিত কলিগ না, অন্য কলিগ। ......)


চিকনমিয়া


হিট ব্লগার চিকনমিয়া ডেট নিয়া প্রথমে লিখতেই রাজি হবেন না। জোর করে নামানোর পর ছোট একটা ব্লগ লিখবেন। সেইটার হিট প্রথমদিনেই হাজার পেরিয়ে যাবে।

শিরোনাম- প্রেমে মাইনাচ নাই...লাভই লাভ নমুনা ব্লগ- ডেটের উদ্দেশ্যে আমি লেকের পাড়ে বসে আছি। সামনে একটা রূমাল বিছাইছি। সেইখানে বাদাম খাইয়া ছোলকা রাখমু। কিন্তু রূমাল বিছাইয়া বসতেই একজন আইস্যা দুইটা টাকা রূমালে রাখল। কয়- কিছু কিন্না খাইস...শরীরে ত কিছুই নাই। যাই হোক ঘন্টাখানেকের ভিতর শ দুয়েক টাকা আয় করলাম। ডেটের দেখা নাই। যাউকগা, পয়সা কামাইচি... এইটাই ভালু। রাইতে চুইটি ফুনে কয়, আমি লেকের পাড়ে গেছিলাম ত। কিন্তুক একটা গোলাপি শার্ট পড়া ফকির ছাড়া আর কাউরে দেখলাম না। তুমি আসো নাই ক্যান?......



সুদীপ্তঅরন্যচারী


এই ছেলেটা দিনলিপি আকারে লিখবে। বান্ধবীর সাথে বসে বসে সিনেমা দেখছে। সেই থেকেই প্রেম শুরু।


শিরোনাম- আমার প্রেমলিপি নমুনা ব্লগ- আমি দৌড়িয়ে সিনেপ্লেক্সে আসলাম। হাতে ফুল । দৌড়িয়ে আসতে আসতে ধাক্কা লেগে অনেকফুলের পাপড়ি আর নাই। যাহোক ডান্ডাগুলা দিলেও সে মাইন্ড করবে না। আমি প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ি। এদের প্রেমে ফুলের দরকার লাগে না। ( প্রাইভেটে পড়ি... মাইনাস দিয়া যাইয়েন ভাইয়েরা) .........

(ব্লগ ভালোই হবে। কিন্তু কমেন্টে ছাগু-জামাত নিয়া বিরাট ক্যাচাল হবে। এইটা যে একটা প্রেমের পোষ্ট কারো মাথায় থাকবো না। সিটিএন ছোড়াছুড়িতে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত বেচারা নিজেই ব্যান খেয়ে বসবে। )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28990226 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28990226 2009-08-07 17:13:28
মেয়েদের ব্লগে হিট বেশি পড়ে- কথা এইখানেই শেষ নয়- আরো কথা বাকি আছে
আমি আমার ব্লগজীবনে মাত্র চারটা মাইনাস দিয়েছি। এরমধ্যে প্রথমটা পেয়েছে একটা মেয়ে। তখন আমি ব্লগে একেবারেই নতুন। একটা মেয়ের ব্লগ ছিল- নাম মনে নেই- বাংলা সিনেমা নিয়ে হাল্কা ধরনের রম্য। মোটেও ফানপোষ্ট বলা যাবে না। কিন্তু সেখানে প্রচুর ব্লগার হাবিজাবি নানা কমেন্ট করছিল। আমার নিজের তখন একটা ব্লগ ফার্স্ট পেজে ছিল। তেমন একটা হিট ছিল না। আমার ব্লগটা (আমার মতে) তারটার চেয়ে ভালো ছিল। কিন্তু কেউ উকি দিচ্ছিল না আমার ব্লগে। আমার খুব রাগ হলো। খালি মেয়ে বলেই সে এত হিট পাবে? আমি জীবনের প্রথম মাইনাস তাকে দিয়ে আসি।

পরবর্তীতে আমি বুঝতে পারি সেটা ছিল ভুল।
সামু বা অন্য কোন সাইটে যে ভালো মেয়ে ব্লগারের সংখ্যা কম তার কারন কিন্তু এইটা। লুলদের বাড়াবাড়িতে মেয়ে ব্লগাররা হারিয়ে যায়।
ব্যাখ্যা করি একটু।
ধরা যাক আসমানি নামের একটা মেয়ে ফেসবুকের লিঙ্ক থেকে সামুর সন্ধান পেয়েছে। সে ভুল বানানে জীবনের প্রথম ব্লগ লিখেছে। কিছু যুবকের শুভেচ্ছা আর স্বাগতম শুনা শুরু করেছে। জোসের কারনে সে দ্বিতীয় ব্লগও লিখে ফেলেছে। ছোটবেলায় তার পুতুল হারিয়েছিল-সেটা নিয়ে। নতুন ব্লগারদের ব্লগ সাধারনত ছোট হয় আর মানে হয় নিম্ন-শ্রেনীর( কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে)। এই নিম্নমানের ব্লগ লিখেও সে বেশ কয়েকটা প্লাস পাচ্ছে এবং সুন্দর সুন্দর কমেন্টে ভরে যাচ্ছে তার ব্লগ। সে যা বুঝতে পারছে না, তা হল একজন সম্ভাবনায় ব্লগারের মৃত্যু ঘটাচ্ছে লুলেরা।
এই মেয়েটা যখন কোন খারাপ ব্লগ লিখছে- কেউ তাকে সাবধান করে দিচ্ছে না- এটা খারাপ। বিরক্তিকর ব্লগ হচ্ছে- এই কথাটাও তাকে কেউ বলছে না। তার ভিতর ধারনা হয়ে যাচ্ছে – আমি ভালো লিখি পাঠকেরা সেই জন্যেই আসছে। এরপর একদিন সে তার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে লিখে বসবে। লুলেরা জেনে যাবে সে খালি নয়। লুলেরা তখন নতুন কোন ফুলবানুর দিকে ঝুকে পড়তে শুরু করবে। আসমানি হঠাৎ আবিষ্কার করবে তার প্লাসের সংখ্যা কম হচ্ছে ইদানীং। হায়দার বা কায়সার নামের তার নিয়মিত পাঠক আর প্লাস প্রদানকারী মাঝে মাঝেই তার নতুন ব্লগ মিস করা শুরু করছে। একসময় সে তাদের কাছ থেকে আর কিছু পাচ্ছে না। এইসময়ে সে আবিষ্কার করবে- সে ভালো ব্লগ লিখে না। কিন্তু কিভাবে ব্লগ আকর্ষনীয় করতে হয়- সেইটা বুঝার জন্য যে শ্রম এবং সময় দিতে হয়- সেটা দেবার অভ্যাস তার নেই। সে ত জানে ব্লগ লিখলেই সবাই ঝাপিয়ে পরে পড়ার জন্য। পাঠকদের কিভাবে টেনে আনতে হয় ক্ষুদ্র তিনমাসের ব্লগ জীবনে সেটা সে জানার চেষ্টাই করে নাই বা করতেই হয় নাই। কিছুদিন হয়ত সে লেগে থাকবে- এরপর হাল ছেড়ে দিবে। ফলাফল ব্লগের প্রতি আগ্রহ শেষ। সে হয়ত একজন ভালো ব্লগার হত। কিন্তু সেই সুযোগ সে পায় নাই।

একটা সময় আমার ধারনা ছিল- মেয়েদের সিনেমার নায়িকা হওয়া সোজা। হয় দেখতে খুব সুন্দর হও নতুবা কাপড় খুলে দাড়াও ক্যামেরার সামনে। কিন্তু কফি উইথ করন নামে একটা অনুষ্ঠানে মল্লিকা শেরওয়াতের সাক্ষাৎকার দেখে আমার ধারনা পালটে গেল। যদিও বোম্বের সিনেমা আমি বলতে গেলে দেখিই না, তবুও মল্লিকাকে আমি খুব ভালো করে চিনি। আমার রূমমেট যখন হিন্দী মুভি দেখত তখন আমি তাকে বলে রাখতাম হট সীন আসলে ডাকিস। সে আমাকে ডাকত আর আমি শুধু সীনটা দেখে চলে আসতাম। মার্ডার মুভির সময় বারবার নিজের টেবিল আর পিসির সামনে দৌড়াতে হলো।
সেই মল্লিকাকে দেখি উপস্থাপককে প্রানপনে বুঝাতে চাচ্ছে- সে ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চায়। কিন্তু সে সুযোগ পাচ্ছে না।
সেইদিন হঠাৎ করে আমি বুঝতে পারলাম- মেয়েদের জন্য ফিল্মের জগত আসলে ছেলেদের চেয়ে কঠিন। তোমার চেহারা সুন্দর-খুব ভালো কথা। কিন্তু খুব শীঘ্রই তোমার মত সুন্দর কিন্তু তোমার চেয়ে অল্প বয়স্কা আরেকটা মেয়ে খুজে পাওয়া যাবে। তুমি কাপড় খুলে দাড়াচ্ছো- আরো অনেক মেয়ে পাওয়া যাবে যে আগ্রহ নিয়েই এই কাজ করবে। আমার দ্বিগুন বয়েসী শাহরুখ আমার চেয়ে বয়স কম একটা মেয়ের সাথে খালি গায়ে নাচার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু এই মেয়েটার বয়স হলে সে এই সুযোগ পাচ্ছে না। কাপড় খুলে দাঁড়ানো যেহেতু সোজা- প্রচুর মেয়ে পাওয়া যাবে নায়িকা হিসাবে। মল্লিকার অনেক প্রতিদ্বন্দী। কিন্তু ভালো অভিনয় করা বেশ কঠিন- তাই শাহরুখের প্রতিদন্দ্বীর সংখ্যা কম। ঠিক এই কারনেই একজন টাক মাথার ব্রুস উইলিস দুনিয়া কাপাতে পারে- একজন বিশ্রী চেহারার নায়িকা খুজে পাওয়া যায় না।

ব্লগ পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক এবং বহুলাংশে ফিল্মের জগত এর মত। এখানে যেসব সিনেমা হয় সেগুলো পর্দার চেয়ে কোন অংশেই কম মজার নয়।

আমি যখন প্রথম ব্লগ লিখি- সেগুলো ছিল নিম্নমানের। ( এখন জাতে উঠেছি তা নয়। তবে আগের চেয়ে ভালো লিখি।) শুধু আমি নই- বেশিরভাগ ব্লগারের প্রথম দিককার ব্লগ নিম্নমানের। এরা আস্তে আস্তে বুঝতে পারে কিভাবে ব্লগ লিখতে হয়- কিভাবে বড় একটা ব্লগের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠককে ধরে রাখতে হয়। কিভাবে বহু ব্লগ পড়ে আর কমেন্ট করে নিজের রেপুটেশন-পরিচিতি বাড়াতে হয়। এরা আস্তে আস্তে শিখে-শক্তিশালী হয়। একসময় এসে আর পাঠক পাবার জন্য চেষ্টা করতে হয় না। পাঠকেরা নিজেরাই আসে।

কিন্তু হতভাগা নতুন মেয়েরা এই সুযোগ পায় না। এদের পাঠকেরা কেউই সত্যিকারের পাঠক নয়। এরচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা হলো- এরা যেসব কমেন্ট পায় তা থাকে মিথ্যায় ভরপুর। এই মিথ্যার জাল ভেদ করে- সত্যিকারের বস্তুর সন্ধান পাওয়া কঠিন।
এই প্রতিকূলতার ভিতর দিয়ে যেসব মেয়ে ব্লগার টিকে থাকে- এরা সাধারনত পুরুষদের চেয়ে শক্তিশালী ব্লগার। শুধু মেয়ে বলেই প্লাস পাচ্ছে বা কমেন্ট পাচ্ছে- এদের ব্লগ সম্পর্কে এই কথা বলা খুবই অন্যায়। এটা নিজেদের ছোট মানসিকতার পরিচয়।


অফটপিক-
আমার নিজের কাছে মনে হয়- লুলামি খুব একটা দোষের নয়। একটা ছেলে একটা মেয়েকে পাবার জন্য চেষ্টা করতেই পারে। এটা খুব একটা খারাপ বিষয় না। যদি ফেসবুকে লুলানো যায় তবে সামুতে করতে দোষ কি? ( বিবাহিত লুলদের কথা অবশ্য আলাদা।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28988751 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28988751 2009-08-04 19:31:49
আমি দুঃখিত
রাইটার্স ব্লক নামে যে অসুখের কথা বলা হয়- আমার সেটা হবার সম্ভাবনা নাই। যে কৌতুক লিখে বেশিরভাগ সময় তার রাইটার্স ব্লক হওয়া গরীবের নীল তিমি পোষা রোগ হবার মতই হাস্যকর।

কি হইছে আসলে আমার?

আমার নিজের কাছে যা মনে হয়, যখন একটা কৌতুক লিখি তখন পাঠকদের একটা অস্পষ্ট ছায়া আমার সামনে থাকে। এরা যেন আমার ব্লগ পড়ে মজা পায়- মাথায় এই চিন্তা থাকে। আপনি আমার একটা কৌতুক পড়েন আর মুচকি একটু হাসেন। কিন্তু একটা কৌতুক বাছাই করতে আমি কি পরিমান সময় নেই, কতটা যত্ন নিয়ে বাছাই করি সেটা জানেন না। এই কষ্টটুকু আমি আনন্দের সাথেই করেছি। যখন কেউ বলেছে পুরান কৌতুক- মাইনাস। আমি হাসি মুখেই মেনে নিয়েছি।

অনেক দিন ব্লগ পাড়ায় না থাকায়, আমার সব সময়ের পাঠকরা আর নাই। অনেকে নতুন নিক নিয়ে ফেলেছে। এদের কাউকে আমি চিনি না। এখন যখন ব্লগ লিখি , তখন আমার মাথায় পাঠকদের কোন ছবি থাকে না। হয়ত এইটা একটা কারন যে, আমার আর ব্লগ লিখতে ভালো লাগছে না।
ব্লগের আবেদন কমে গেছে আমার কাছে।

আমি দুঃখিত।


এই ব্লগ প্রথম পাতায় দেয়া হয়নি। এরপরও যখন আপনি এই ব্লগ পড়ছেন, তখন আমি অনুমান করে নিতে পারি আমার নতুন কোন ব্লগের আশায় আপনি এখানে ঢু মেরেছেন।
আমি দুঃখিত আপনাকে নিরাশ করার জন্য।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28985227 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28985227 2009-07-28 18:43:40
ডিজুস বন্দনা বিসিএস এর প্রথম পরীক্ষা শেষে রাস্তায় নেমেছি। নিজেকে একই সাথে ক্লান্ত এবং আবেগশূন্য মনে হচ্ছে ।যদিও আমি এর আগে কখনো ধর্ষিত হই নি তবুও কেনো জানি মনে হচ্ছে ধর্ষন শেষে মনের অবস্থা এই রকমই হয়। আমি ক্লান্ত পায়ে বাসের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি।
ঢাকা কলেজের এখানে ইন্টারের ছেলেদের সিট পড়েছে। তারাও পরীক্ষা শেষে বের হয়ে এসেছে। বেশ মোটাসোটা একটা ডিজুস ছেলে হঠাৎ চিৎকার দিল- আরে তুই এইখানে?
একটা সমবয়েসী মেয়ের উদ্দেশ্যে এই চিৎকার। কাছাকাছি হতেই মেয়েটার উদ্দেশ্যে ছেলেটা হাই ফাইভের জন্য হাত উপরে তুলল।
-আরো একটা পরীক্ষা শেষ। হুরররররেরেরের......
মেয়েটা আর ছেলেটা হাই ফাইভ শেষ করেই যার যার পথে এগিয়ে গেল। আর আমি ক্লান্ত মনে এইটাই ভেবে ভেব পাচ্ছিলাম না, আমারো ত একটা পরীক্ষা শেষ হলো। আমার ওদের মত এত ফুর্তি এলো না কেন?

ডিজুস তারুন্যকে মনে হয় সেইদিনই প্রথম হিংসা করা শুরু করি।

২.
ঢাকার বাস সার্ভিসের এখন একটা সিস্টেম হলো- নির্দিষ্ট একটা স্টেশনে মালিক পক্ষের লোক থাকে। বাসগুলা একটা ক্লিপ বোর্ড সাথে রাখে। হেল্পার সেই বোর্ড নিয়ে দৌড়ে গিয়ে সই করিয়ে আনে। মালিক পক্ষের লোক সে বোর্ডে লাগানো শিডিউলে সই করে দেয় আর সীটে কতজন লোক থাকে সেটার নাম্বার লিখে দেয়। চৌদ্দ নাম্বার ( অধুনা ১ই) বাসের করে বাসায় আসছি। আজিজের কাছাকাছির কাউন্টারে চশমা পড়া এক অল্প বয়স্ক ডিজুস ছেলে সীটে কতজন আছি গুনা শুরু করল। তার চশমা দেখে সন্দেহ হলো ছাত্র। হাতে বালা ( ব্রেসলেট)এবং কানে দুল । তবে পড়ে আছে বেশ ময়লা টি-শার্ট। এইছেলে যখন সই করার জন্য পকেট থেকে জেল কলম বের করল তখনি আমি শিওর হলাম ছাত্র। আর যাই হোক, বাসের নিয়মিত স্টাফরা চার-পাচ টাকা দামের চেয়ে বেশি কলম ব্যবহার করবে না। ইন্টার পরীক্ষা শেষে সে এই কাজ করতে পারে, (মেট্রিক পরীক্ষার শেষও হতে পারে , আজকাল বুড়া ধামসি হয়ে পুলাপাইন এসএসসি দেয়)। যে ডিজুস জেনারেশন পার্ট টাইম কাজ হিসাবে এটা বেছে নিতে পারে- তাদের কিছু বলার আগে সাবধানে বলা উচিত।

০৩.
ডিজুস পাবলিক চেনার অনেক উপায় আছে। এরা ভুল ইংরেজিতে কথা বলে এবং হিন্দীতে পরস্পরকে এসএমএস পাঠায়। এদের পোষাকে পাশ্চাত্যের ছাপ কিন্তু অনুকরন করে বলিউডকে। হায়! ডিজুস বাংলা উচ্চারন নিয়ে কত হাসাহাসিই না হয়ে গেছে ব্লগের পাতায় পাতায়।

ডিজুস তরুনদের আমি কিছু কারনে আর হাসাহাসির যোগ্য বলে মনে করতে পারছি না। আমি যখন কোন তরুনকে গালি দেই বা হাস্যকর মনে করি- সেই মুহুর্তেই হয়ত আমি বুড়াদের দলে পড়ে যাই।

ডিজুসদের কি কি দোষ?


ভুল বাংলা বলে? র এর উচ্চারন ঠিক মত করতে পারে না? বাংলার সাথে ইংরেজি মিশিয়ে জগাখিচুড়ি ভাষায় কথা বলে?


- যে বাংলায় আমরা কথা বলি এখন, এই বাংলা দুইশ বছর আগেও এমন ছিল না। দুইশ বছর পড়েও বাংলা এমন থাকবে না। আমাদের ভিতর কয়জন আছে যে , পাঠ্য বইয়ে নাই ,শুধু নিজের আগ্রহে বঙ্কিমের একটা উপন্যাস পড়ে শেষ করেছে? অথচ বঙ্কিম বাংলা আধুনিক গদ্যের প্রান পুরুষদের একজন। এমনিই ত হয়। আজকের ডিজুস যদি হুমায়ুন এর বেশি বাংলা সাহিত্যের কোন খোজখবর রাখতে না চায়- অন্তত আমি ত মনে করি আমাদের অভিযোগ জানানোর কিছু নাই। বাংলা কারো পাহারায় আজকের এই জায়গায় আসে নাই, কেউ পাহারা দিয়ে এই ভাষার পবিত্রতা রক্ষারও প্রয়োজন নাই। বাংলা যদি টিকে থাকে নিজের কারনেই টিকবে, আর যদি না টিকে থাকে তবে বোবা না থেকে নতুনকে বরন করে নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
- ডিজুসের হিন্দি প্রীতি নিয়েও বলি। আমার মা বোন হিন্দী সিরিয়াল না খেয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না। কিন্তু তাতে ত আমার মা বোন ডিজুস হয়ে যায় নাই। হিন্দী পছন্দ করা দোষের হলে- ইংরেজি পছন্দ করাও দোষের হওয়া উচিত। অন্যদের কথা জানি না, ফ্রেন্ডস , বিগ ব্যাং থিওরীর মত হাসির সিরিয়ালের বেশির ভাগ ডায়ালোগ আমার মুখস্থ এবং অফিসে কানে হেডফোন দিয়ে আমি শুধু এদের অডিও শুনি আর হাসি। আমি ত নিজেকে একবিন্দু কম বাঙ্গালি ভাবি না। সুতরাং কেউ যদি হিন্দী নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, আমি কিভাবে তাকে বলতে পারি, তুমি বাঙ্গালি সংস্কৃতির অংশ না?

আধুনিকতা ব্যাপারটা বেশ রহস্যময়। কোন পোশাক আধুনিক আর কোনটা শুধু অশ্লীল সেটা আগে থেকে আচ করা সম্ভব না।
উদাহরন দেই। শাড়ি বাঙ্গালির চিরন্তন পোশাক। অথচ এমন কোন নারী এখন পাওয়া যাবে না, যে চিরন্তন বাংলার পাছা পাড় শাড়ি ব্লাউজ ছাড়া পড়ে ঘুরে বেড়াতে রাজি হবে। পাছা থেকে পাড় পায়ের কাছে নেমে এসেছে খুব বেশিদিন হয় নাই। পাছার উপর জোর দেয়া (highlighted) একটা পোশাক যদি এখন আচলের উপর জোর দেয়া পোশাকে পালটে যায় তবে সালোয়ার কামিজ থেকে মেয়েদের পোশাক টি-শার্ট আর জিন্সে চলে আসলে কি খুব অসুবিধা হবে?
ডিজুস ছেলেদের কানের রিং বহু আগে থেকেই বাঙ্গালি পুরুষ পরে আসছে। এক্ষেত্রে আসলে তাদের পুরাতনপন্থীই বলা ভালো।
অনুকরনের একটা প্রশ্ন এখানে এসে যায়। এরা ত নিজেদের স্টাইল (ফ্যাশন নয়) নিজেরা খুজে বের করছে না। অনুকরন করছে।
উনিশ শতকের শুরুতে কোন শিক্ষিত বাঙ্গালি পাশ্চাত্যের অনুকরন করে নি? রবীন্দ্রনাথের মত সৃজনশীল মানুষ অনুসরন করেছেন পাশ্চাত্যের- আর ডিজুস করলে দোষ? আমি তাদের গালি না দিয়ে বরং এই আশাই করব যে ডিজুস জেনারেশন একদিন তাদের টোন খুজে বের করে ফেলবে।

ডিজুসদের বেলেল্লাপনা নিয়ে অনেক বাক্য খরচ করা যায়। আমার কাছে কিন্তু মনে হয়, এই ধরনের কাজ বাঙ্গালিরা অতীতেও করেছে এখনো করে। সেক্স আগে গোপন ছিল একটু প্রকাশ্যে এসেছে। কখনো খারাপ লাগে আবার কখনো কখনো কিন্তু ভালোই লাগে। ধানমন্ডির রাস্তায় ল্যাম্পের আলোয় জড়াজড়ি করে পরস্পরকে চুমু খাওয়া দুই ডিজুসকে দেখে আমার কাছে কিন্তু ভালোই লেগেছে। তবে কিছু বাজে ব্যাপার ঘটছে। আগে হয়ত গোপন ক্যামেরায় ভিডিও হত না, এখন হয়। এরবেশি কিছু না।
আসল কথা হলো ডিজুসরা একেবারেই তরুন। ডিজুস নিয়ম ভাংগবে। এই নিয়ম ভাংগতে গিয়ে এরা ভালো কিছু ভেঙ্গে ফেলবে , খারাপ কিছুও ভাংগবে। তরুন বলেই এরা ভুল করবে আবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিবে। আর শুধুমাত্র তরুন বলেই আমি ঠিক করেছি, আমি তাদের উপর আমার আস্থা রাখব , আমি তাদের উপর আমার বিশ্বাস স্থাপন করব। আমি তাদের পক্ষে কথা বলব।


ডিজুসদের নিয়ে এই ব্লগটা অনেক আগেই লিখব ভেবেছিলাম। কিন্তু আলস্য, ১৮+ এর প্রতি আসক্তি, রম্য রচনায় অতিরিক্ত আগ্রহ- নানাবিধ কারনে সময়মত লিখতে পারি নি। আবার যখন লিখলাম তখন আবার তাড়াহুড়ো করে লিখে ফেললাম। আরেকটু সময় নিয়ে যুক্তিগুলো আরো ঘুছিয়ে নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তবুও মনের ভিতর একটা সান্ত্বনা আছে- ডিজুসের মতই আউলা-ঝাউলা লিখলাম- অন্তত থিম ত ঠিক আছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28978767 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28978767 2009-07-15 20:00:13
অনেক দিন পর...
আজকে দুপুরে ব্লগার শুভ আমারে লিঙ্ক দিল কাকন এর একটা পোস্টের। সেইখানে নাকি আমার নাম আছে। সেই নাম চেক করতে গিয়ে সামুতে ঢুকে পড়া। আর কাকনের মন্তব্যে আমি ত একবারে আসমানে উড়া শুরু করছি। আমার মা ছাড়া আমার সম্পর্কে এত উচ্চ ধারনা আর কেউ রাখে কিনা জানি না।

ব্লগ আমাকে অসাধারন কিছু মুহুর্ত উপহার দিয়েছে। কিছু চমৎকার মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। এদের নাম আলাদা করে উচ্চারন করলাম না। ( লিস্টে নিজের নাম দেখলে উনাদের ভাব বেড়ে যেতে পারে। )
যাইহোক, প্রতিবার ফিরে এসেই বলার চেষ্টা করি এইবার নিয়মিত হব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সেটা করা হয়ে উঠে না। নিজের ব্লগ ডিলিট করে দেবার একটা বদ অভ্যাসের কারনেই এতদিনেও পঞ্চাশতম ব্লগ টাইপ কিছু লেখার সুযোগ পেলাম না। থাক, আফসুস করে লাভ নাই।

একটা কৌতুক লিখেই ব্লগে ফেরার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু কারো কারো মতে, এতে নাকি আমার প্রতিভার অপচয় হয়। সুতরাং লিখলাম না।


কান পাতুন... কিছু শুনতে পাচ্ছেন? ঢাকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে কি? আমি ঢাক পিটিয়েই আবার ব্লগ লেখা শুরু করলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28977327 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28977327 2009-07-12 19:43:24
আমার পতনের গল্প ডাক্তার দেখালাম। ডাক্তার ব্লাডের টিপিক্যাল টেস্ট দিল। সেখানে ESR এর মান অনেক বেশি আসছে। আমরা জানি না ESR এর মান বেশি আসলে কি হয়। ডাক্তার শুক্রবার রোগী দেখে না। তাই গুগলে সার্চ মেরে দেখলাম ESR বস্তুটা কি। যা পড়লাম তাতে আক্কেল গুড়ুম। ESR এর মান বেশি আসলে যেসব রোগ হবার সম্ভাবনা তার ভিতর আছে ক্যান্সার, রিমুটিক ফিভার... ইত্যাদি ইত্যাদি। নিজেই রিপোর্টে ব্লাড সেলের সংখ্যা দেখে বুঝলাম আর যাই হোক ক্যান্সার না। ইন্টারনাল ব্লিডিংও হচ্ছে না। ্কিছুটা হাফ ছেড়ে বাচলাম আর কি। পরের দিন আমি আর আমার বাবা অফিস থেকে ছুটি নিলাম। বুঝতে পারছি ঘটনা সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে।
ডাক্তারের পরামর্শে পিজিতে নিয়ে anti CCP টেস্ট করে নিয়ে আসলাম। গুগলে ESR এর সার্চ দেয়ার পর নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর যাই হোক কিছুতেই গুগলে সার্চ দিবনা। হেভি ভয় খাইছিলাম সেইবার। কিন্তু নয়া রিপোর্ট হাতে পেয়ে তর সইলো না। PDA তেই গুগল সার্চ দিলাম। ইয়াপ! পজেটিভ আসছে। শুধু পজিটিভ না, অস্বাভাবিক বেশি আসছে। মোটামুটি শিওর হয়ে গেলাম হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
তবু একবার ডাক্তারকে দেখিয়ে নিলাম। ডাক্তার ইসলামী হাসপাতালে বসেন, সেখানে ভর্তি হতে বলে দিলেন। আমরা রিসেপশনে গিয়ে জানলাম আপাতত কিছু খালি নাই, সকালে খালি হবে। সকাল মানে হোটেলের মত বারোটায় চেক আউট।
পরদিন সকালে মায়ের চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গল। আমার ছোটবোনের শরীর অস্বাভাবিক রকমের শীতল হয়ে পড়েছে। সে কথা বলতে পারছে না। কেউ ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না। শুধু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকছে। অতি ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। আমার পড়িমরি করে একটা সিনএনজি ডেকে ইসলামী ব্যাঙ্ক হাসপাতালেই নিয়ে আসলাম। যে ডাক্তার তাকে দেখছে, সে ত এখানে ভর্তির কথা বলেছে।
হাসপাতালে এনে হুইল চেয়ারে বসিয়ে রেখে ভর্তির ব্যাপারে খোজ নিতে গেলাম। কেবিন নাই। ওয়ার্ড চাইলাম- সেইটাও নাই। ইমার্জেন্সীর ডাক্তার চাইলাম। আছে। নিয়ে গেলাম তার কাছে। মধ্যত্রিশের এই ডাক্তার আমাকে অবাক করে দিল। তার নাম কি আমি জানি না। তাই ব্লগে তাকে শুয়োরের বাচ্চা-১ বলেই উল্লেখ করছি।( বাকি নম্বরের গুলাও আসছে) শুয়োরের বাচ্চা-১ আমার ছোটবোনটার শরীরের অস্বাভাবিক কম তাপমাত্রা দেখল। এরপর বলল, ভর্তি সেকশনে যোগাযোগ করেন। আমরা যতবারই বলি ভর্তি হবার মত সীট খালি নাই। বারোটার দিকে খালি হতে পারে –কাউন্টার থেকে এমনই জানিয়েছে। সে ততবারই বলে যোগাযোগ করেন। এরপর শুয়োরের বাচ্চা জাস্ট হাত গুটিয়ে বসে রইল। আমরা যদি ভর্তি না হই তাহলে এখনকার চিকিৎসার কোন বিল সে নাও পেতে পারে, এই ভয়ে সে হাত দিবে না। আগে আমাদের ভর্তি হতে হবে। টাকা জমা দিতে হবে- এরপর চিকিৎসা। আমরা কাউন্টারে গেলাম। তারা জানাল খালি হতে পারে। তার চেক করে বলবে। এই ফাকে তারা জেনে নিল আমার ছোটবোন কি অপারশনের রূগী না মেডিসিনের।
পরে জানাল সীট নাই। বারোটার পর ওয়ার্ডে ভর্তি হলেও হতে পারে। আমি আর আমার বাবা তখন মাথায় আর কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। টাকা ত সমস্যা না। চিকিৎসা ত শুরু করুক। বোনের যে অবস্থা তাকে আবার গাড়িতে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কিনা সেটাও বুঝতে পারছি না। ডাক্তাররা কেউ ত কিছুই বলছে না। ফিরেও দেখছে না। যদি কারো পায়ে ধরলে কিছু হত, আমি মনে হয় তখন পায়েও ধরতাম। কিন্তু কেউ ত পাত্তাই দিচ্ছে না। একজন মানুষ ভয়াবহ অসুস্থ, সে কারো বোন-কারো কন্যা, কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না।
একজন রূগীর দর্শনার্থী আসল কথা ফাস করল। অপারেশনের রূগী না হলে এরা ভর্তি করবে না। খালি মেডিসিন দিলে কত টাকা আর বিল হবে? তিনিই বুদ্ধি দিলেন আশেপাশের কোন একটা হাসপাতালে আপাতত নিয়ে যেতে।
আমি বের হয়ে আসলাম। কাছেই আল বারাকাহ হাসপাতাল। সেখানে গিয়ে খোজ নিলাম সীট খালি আছে? ডাক্তার আছে? তারা জানালো আছে। ছোটবোনকে নিয়ে আসলাম।
আল বারাকাহ এর রিসেপশনিষ্ট এরপর আমাকে জানাল ইমারজেন্সীতে নিয়ে যান। আমি যতই বলি কোন একজন ডাক্তারকে ডাকেন। তার চিকিৎসা শুরু হোক। তারা ততই বলে অপেক্ষা করেন। এরা দুইজনেই তখন মোবাইলে কথা বলছে মিষ্টি করে কার সাথে জানি না। সকাল নয়টা তখনো বাজে না। মোবাইল কোম্পানীগুলার বিশেষ অফার তখনো চলমান। এরা ফোনের ফাকে ফাকে বলল ডাক্তার আসবে। দেখবে। ঠিক করবে রোগী ভর্তি করা যাবে কিনা। এরপর চিকিৎসা শুরু হবে।
এই পর্যায়ে আমার গলার স্বরে রাগ চলে আসছিলো। একটু গলা চড়াইছি । দুইজনেই মোবাইলে কথা বন্ধ করল। এরপর শুরু করল আমাকে জ্ঞান দান। এইভাবে কেনো কথা বলি আমি? সবকিছুর একটা সিস্টেম আছে। সিস্টেমের বাইরে যাওয়া যাবে না। এইটা হাসপাতাল। ধমক ধামকে কাজ হবে না।
আমার বাবা আর মা ছোটবোনকে নিয়ে অসহায় মুখে বসে আছে ইমার্জেন্সীতে। আমি বুঝলাম এইভাবে কাজ হবে না। I HAVE TO SUCK LIKE I NEVER HAD SUCKED BEFORE. আমি তাই করলাম। শুয়োরের বাচ্চা-২ আর শুয়োরের বাচ্চা-৩ কে ভজাইলাম। এরপর হারামজাদা ফোন করল। ডাক্তার আসল।


(পরে লিখব বাকিটুকু)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28960669 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28960669 2009-06-05 20:39:36
দিনলিপি (তারিখ-০২/০৪/০৯ ) আমাদের চারপাশে এই ধরনের মানুষ আছে। যেহেতু বাংলাদেশের বেশিরিভাগ মানুষ দরিদ্র আর ডাক্তারী সুযোগ সুবিধা অপ্রতুল সেহেতু ধরে নেয়া যায় ,এই মানুষগুলা জানে না তারা আসলে কি। আহারে!

আমার অবশ্য এই ধরনের কোন একটা মানুষের সাথে কথা বলার খুব শখ হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি আমাকে ধারনা দেয় শব্দের রঙ কেমন হতে পারে। এই ধরনের একটা প্রোগ্রাম লেখা খুব একটা কঠিনও না। আর সমস্ত মিউজিক প্লেয়ার ভিসুলাইজেশনের অপশন দেয়। সেটা ত শব্দকে রঙ্গে পালটিয়ে দেয়াই, তাই না? আমরা শুধু জানি না, আসলেই এই শব্দের রঙ্গগুলা তাদের কাছে এই রকম কিনা।
শব্দকে আলোর সিগন্যালে প্রকাশ করা সহজ হলেও আলোকে শব্দ হিসাবে প্রকাশ করা কঠিন। আমার মনে হয় একটা শব্দ এনালাইসিস করার জন্য সহজ বিষয়। কিন্তু আলো নিয়েই হাজারো গেঞ্জাম। এইটা আরো সহজে আইডিয়া করা যায়, শব্দ ধারন করার একটা ভালো মাইক্রোফোন আর একটা ক্যামেরার দামের তুলনা করলেই।
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাসাহিত্যের বিকাশ নামে একটা টপিক পড়ছিলাম। লক্ষ্য করে দেখি এই টপিকে যেইসব উপন্যাসের কথা আছে, তার অতি সামান্য আমি পড়েছি। বেশিরভাগই অচেনা। অথচ স্বাধীনতা পূর্বের বিভিন্ন উপন্যাস যেমন ক্রীতদাসের হাসি বা সূর্যদীঘল বাড়ি এইগুলা পড়া আছে। একাত্তরের দিনগুলি আমি আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। কিন্তু ৭০ থেকে ৮৫/৯০ এই সময়ের তেমন কিছুই আমি পড়ি নাই। হুমায়ুন যে কয়টা উপন্যাস লিখেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সে কয়টা ঠিকই পড়া আছে, কিন্তু সেটা ত শুধু হুমায়ুন বলেই। বাকিদের উপন্যাস আমার পড়ার সুযোগ হলো না কেনো? পাঠক হিসাবে আমি সর্বগ্রাসী। আমার হাতের কাছে বইগুলা আসলে আমি নিশ্চিত পড়তাম।( রশীদ হায়দারের পুতুপুতু প্রেমের ছোট গল্পগ্রন্থ পড়া আছে, কিন্তু তার মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস পড়া হয় নাই।)
কেন এমন একটা ঘটনা ঘটল? ভালো লেখকেরা কি এই সময়টায় কিছু লিখল না , নাকি এর পিছনের অন্য কারন আছে? কে জানে...

অফিসের কথাও লিখে রাখি একটু। আজকে ঢাকা যাওয়ার প্ল্যান ছিল। কিন্তু আমার বস সম্পূর্ন অকারনে আমাকে বসিয়ে রাখল সারাদিন। বিকালের শেষ বাস হর্ন দিতে দিতে আমার অফিসের সামনে দিয়ে চলে গেলো...
ক্ষমতা হাতে পেলে সেটার অপব্যবহার মানুষকে কি যে কষ্ট দেয়! আমি নিজেও একদিন হাই অফিশিয়াল হব। নিজের কাছেই তাই আজকে নিজে প্রতিজ্ঞা করে রাখলাম, অকারনে কাউকে অপেক্ষায় ফেলে রাখব না। এরচেয়ে বড় অপরাধ আর হতে পারে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28932780 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28932780 2009-04-02 19:46:37
আবার পাচটা কৌতুক (১৮+) ডাক্তার বলল, কি হইছে?
বউ জামাইকে দেখিয়ে রাগী রাগী মুখে কয়, সে ত ৩০০% অক্ষম হয়ে পড়ছে।
-৩০০%? বুঝলাম না...
-১০০% অক্ষম কিভাবে সেটা ত আইডিয়া করতেই পারছেন তাই না? এরপর শুনেন। সে তার জিহবা পুড়ে ফেলছে আর আঙ্গুল ভেঙ্গে বসে আছে।



বারে ছেলে মেয়ের সাথে কথা হচ্ছে।
ছেলে- তোমার নাম কি?
মেয়ে- কারমেন।
-বেশ ভালো নাম ত।
-হুমম। আমি নিজেই এই নাম নিয়েছি।
-কেন?
-আমি কার ভালোবাসি আর মেন(man) ভালোবাসি। দুইটা মিলে কারমেন।
-হুমমম।
-তোমার নাম কি?
-আমার নাম বিয়ারফাক।




এক রেড ইন্ডিয়ান বৃদ্ধ আর অল্প বয়সের তরূনী এসেছে হাসপাতালে। মেয়েটার বাচ্চা হবে। ডাক্তার বাচ্চা ডেলিভারি দেয়ার পর, বুড়াকে জিজ্ঞেস করল, এই বয়সে পোলার বাপ... ক্যামনে পারেন আপনি?
হে হে হে... পুরান ইঞ্জিনেও কাম চলে।
পরের বছর আবার বাচ্চা হলো। এইবারো ছেলে। ডাক্তার জিজ্ঞেস করল, আপনার কি স্পেশাল কোন মেডিসিন জানা আছে? ক্যামনে করতাছেন এই কাজ?
হে হে হে... পুরান ইঞ্জিন এখনো নষ্ট হয় নাই।

পরের বছর আবার বাচ্চা হবে। এইবারও ছেলে। ডাক্তার বের হয়ে এসেছে। তাকে দেখেই বৃদ্ধ বলল, হে হে হে...পুরান ইঞ্জিন কাজ করতাছে...
ডাক্তার বলল, হুমম... তয় মনে হয় তেল পাল্টাতে হবে। এইবারের ছেলে ত নিগ্রো।



জিরাফ মাত্র গাজার কল্কেতে একটান দিয়েছে, এমন সময় খরগোশ হাজির। ছিঃ জিরাফ। এইটা কি করছো?
জিরাফ কিছু বলে না।
খরগোশ বলে, এরচে চলো বনের ভিতর একটু দৌড়াদৌড়ি করি, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
জিরাফ গাজার কল্কে রেখে দিয়ে খরগোশের সাথে দৌড়াতে শুরু করল। তারা দুইজন দৌড়াতে দৌড়াতে একজায়গায় এসে ভালুকের সাথে দেখা। ভালুক শিরায় সুই ফুটাচ্ছে।
ছিঃ ভালুক।
ভালুক চুপ করে থাকে।
- তোমার শরীরের জন্য ড্রাগ খারাপ। এরচে বরং চলো বনের ভিতর একটু দৌড়াই। রক্ত চলাচল বাড়ুক।
তিনজন দৌড়াচ্ছে...
বাঘের সাথে দেখা। বাঘ মাত্র আফিম নেয়ার জোগাড় যন্ত্র রেডি করছে।
-ছিঃ বাঘ ।
বাঘ কিছু বলে না।
-এইসব ছাইপাশ না নিয়ে, বরং একটু দৌড়াই চলো...
বাঘ এই কথা শুনেই খরগোশকে ধরে মারতে লাগল। ভালুক আর জিরাফ এসে তাকে থামাল। শেষবারের মত খরগোশকে একটা লাথি মেরে সে বলল, তুই আজকে জাস্ট বাইচ্যা গেলি।
ভালুক বলল, ছিঃ বাঘ। খরগোশ ত ভালো কথা বলছে।
হ!! হারামজাদা যখনই ইয়াবা খায়, আমারে ফুসলাইয়া নিয়া আদ্ধেক বন দৌড়ায়।



বব আর লিসার বিয়ের ত্রিশতম বার্ষিকী। দুইজনেরই বয়স হয়েছে। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে নানা ঝামেলা এসেছে, সেই ঝামেলা পাড়িও দিয়েছে। আজ তারা চারটি ছেলে সন্তানের বাবা-মা। সুখের জীবন।
অনুষ্টান শেষে, রাতের বেলা লিসা ববকে বলল, আজকে রাতে তুমি আমাকে একটা সত্য কথা বলবে?
বলব।
তুমি বিবাহিত জীবনে আমি ছাড়া আর কয়টা মেয়ের সাথে শুয়েছো?
বব উত্তর দিতে একটু দেরি করছে। লিসা তাই বলল, দেখো, আমরা এমন বয়সে চলে এসেছি যে একজনকে ছাড়া আরেকজন চলতে পারব না। সুতরাং সত্যি কথা বললেও সমস্যা হবে না।
বব মাথা ঝাকিয়ে বলল, শুয়েছি তিনজনের সাথে...
দুইজনেও চুপ-চাপ। গলা খাকাড়ি দিয়ে বব বলল, আমারো একটা প্রশ্ন ছিল।
কি?
দেখো, আমি আমার সবকয়টা ছেলেকেই সমান চোখে দেখেছি। কোনদিন অবিচার করিনি। আজকে তোমাকে বলি , আমার ভিতর সন্দেহ ছিল জনিকে নিয়ে। সে তার বড় তিনভাইয়ের মত না। তার শারীরিক গঠনও আলাদা। সে চিকন এবং বাকি ভাইদের তুলনায় অনেক বেশি মেধাবি। যে কেউ মাথা খাটালেই বুঝবে, জনির বাপ আর বাকিদের বাপ এক পুরুষ না। আমার খুব সন্দেহ তাকে নিয়ে। তুমি সত্যি করে বলো ত, জনির বাপ আসলে কে?
লিসা কিছুক্ষন মাথা নিচু করে থাকে, এরপর লাজুক মুখে বলে, তুমি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28932393 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28932393 2009-04-01 22:18:35
কে মোদের টানিছে পিছে? ...একটি সহজ হিসাব...একটি সরল জিজ্ঞাসা ... মূল তথ্য- বাংলাদেশ আর্মি বছরে পাচ হাজার কোটি টাকা খরচ করে।

চলেন, আগে জানি বঙ্গবন্ধু বা যমুনা সেতু সম্পর্কে। টাইপ করতে সুবিধা হবে বলে আমি যমুনা সেতু এই নামটাই ব্লগের বাকি অংশে ব্যবহার করব।

যমুনা সেতু আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সিভিল স্ট্রাকচার। একজন সিভিল ইঞ্জিনীয়ার হিসাবে এই ব্রীজের প্রতি আমি সব সময় এক ধরনের ভালোবাসা বোধ করে এসেছি। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই আকারের (অর্থের দিক দিয়ে) কিছু তৈরী করতে বেশ সাহস আর দীর্ঘ পরিকল্পনার প্রয়োজন।
যমুনা সেতু বানাতে এর খরচ জোগাড় করতে সরকারের কালো ঘাম ছুটে গেছে। এডিবি সহ অন্যকিছু খাত থেকে টাকা এসেছে। সরকার নিজেও কিছু বহন করেছে। দেশের বহু নেতা এই সেতুর স্বপ্নই শুধু দেখে গেছেন, কাজটা শুরু করতে পারেন নাই। মাওলানা ভাসানী বোধহয় প্রথম এই সেতু তৈরীর দাবি জানান। সেটা পাকিস্তান আমলে। এরপর অনেক সরকার অনেক ধরনের স্টাডি করেছেন, কিন্তু সাহস আর পরিকল্পনা করতে পারেন নাই। উত্তরের লোকজন গ্যাস বিল আর পানির বিল ইত্যাদির সাথে আলাদা করে কর দিয়েছে যেন একটা সেতু হতে পারে। ঈদের ছুটিতে যেন তার আপনজন সহজে বাড়ি আসতে পারে।
যমুনা সেতু শেষ পর্যন্ত আমরা বানাতে পেরেছি। এরজন্য দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করতে হলো।

বাংলাদেশের জন্য এই সেতুর কতটুকু গুরুত্ব তা মনে হয় বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই সেতু হবার পর আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। পরিবহনের খরচ কমেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কোন দেশের সাথে যদি আমাদের যুদ্ধ হয়, তবে তাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে এই সেতু উড়িয়ে দেয়া। সেতুটার কৌশলগত আর অর্থনৈতিক গুরুত্ব এতেই অনুমান করা যায়। আপনি জানেন কি- যমুনা সেতুতে সার্ভিলেন্স ক্যামেরা লাগানো আছে। যেকোন গাড়ি সেতুতে উঠলেই তার রেকর্ড রাখা হয়। আপনি যমুনা সেতুতে উঠে গাড়ি থামাতে পারবেন না। সেতুর নিরাপত্তা রক্ষার্থে এই ব্যবস্থা। অফিসিয়াল গাড়ি এই মাথা থেকে সেই মাথা গিয়ে প্রতি দুই ঘন্টায় একবার চেক করে। একটা গরীব দেশ যতটুকু ভালোভাবে সম্ভব ততটুকু চেষ্টা নিচ্ছে যমুনা সেতু রক্ষার পিছনে। ধারনা করা হয় আমাদের জিডিপির ১% শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসে। আমার ত মনে হয় যমুনা সেতুর জন্যও ১% হয়। (আমি কোন পরিসংখ্যান খুজে পেলাম না। )
আমি জানি না আপনি কতটুকু বুঝতে পারছেন এই সেতুর গুরুত্ব। ধরে নিচ্ছি , পরিস্কার জানেন।
পদ্মা সেতু নামে আরেকটা সেতু বানানোর প্লান চলছে। এই সেতুরও অনেক গুরুত্ব। কিন্তু সরকারের হাতে টাকা নাই। পুরোটা নিজের টাকায় বানানো সম্ভব না। কয়দিন আগে পেপারে দেখেছি এডিবির কাছে আরো কিছু টাকা চাওয়া হচ্ছে। একটা যমুনা সেতু বানাতে আমাদের ত্রিশ বছরের বেশি লেগেছে- পদ্মা সেতু বানাতে কতদিন লাগবে কে জানে।
এইবার আসল কথায় আসি। বাংলাদেশ আর্মি বছরে পাচ হাজার কোটি টাকা খরচ করে। এই টাকার পরিমান আসলে কত সেই আইডিয়া আপনার আছে? নিচের হিসাবগুলো পড়ুন।
বাংলাদেশের আর্মি যদি বছরে মাত্র ২০% টাকা কম খরচ করত, তবে প্রতি চার বছরে আমরা একটা করে যমুনা সেতু বানাতে পারতাম। প্রতিটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতা থাকার সময় একটা করে গুরুত্বপূর্ন সেতু বানিয়ে দিয়ে যেতে পারত। জিয়া সেতু, হাসিনা সেতু, খালেদা সেতু- সব সেতুই আমরা পেতাম।
আসেন এইবার একটা সুখ কল্পনা করি, দেশে আর্মি নাই। সীমান্ত রক্ষা আর পুলিশের কাজ এই দুইটা করা হচ্ছে একটা সম্মিলিত বাহিনী দিয়ে। আমরা বাকিটাকা যদি দেশের উন্নয়নে খরচ করতে পারতাম তবে প্রতি বছর একটা করে পদ্মা সেতু বানাতে পারতাম। দেশের এক কোটি লোক দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। যদি সেতু না বানিয়ে টাকাটা সরাসরি তাদের ভর্তুকি হিসাবে দিয়ে দিতাম, তবে চল্লিশ লক্ষ লোক শুধুমাত্র সরকারের ভর্তুকির কারনে সরাসরি দারিদ্র্যসীমা থেকে বের হয়ে আসতে পারত। আর যদি এই টাকা মানব সম্পদ উন্নয়নে লাগাতাম, তবে কত লক্ষ লোক আর দরিদ্র থাকত না সেটা গবেষনার বিষয়।
এখন নিজেকেই প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ যে উন্নতির জোয়ারে আসলে ভাসছে না, তার পিছে কি কি কারন আছে ? কে এবং কি আমাদের পিছনের দিকে টানছে?
========================
আপডেট

কমেন্ট পড়ে মনে হল অনেকে ব্লগের মূল কথাটা ধরতে পারেন নাই। আমি শুধু আমাদের উন্নতির অন্তরায় এর অনেকগুলা কারনের একটা বড় কারন আর্মি, সেইটাই বলতে চেয়েছি। এককভাবে আর্মি আমাদের পিছে ধরে রাখে নাই।

=========================
আপডেট ২
েপচাইললা বলেছেন: কোন বিতর্কে না গিয়েই বলা যায় আমরা যে আর্মি পুষছি তার দরকার আছে কি-না। প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজারের মত ফোর্স, যাদের কাজ শুধু সারাদিন ভাল ভাল খাওয়া-দাওয়া করা, সকাল-সন্ধা ব্যায়াম করে শরীরের শক্তি বাড়ানো এবং সেই শক্তি .......থাক। আবার মিয়ানমারের মত ছাগল এসে ঘাড়ের কাছে তড়পাবে, আমাদের সীমানা-সম্পদে হাত দেবে আমরা শুধু আঙুল চুষব আর প্যারেড করব, শক্তিবৃদ্ধি করব।

ও আচ্ছা, তারা আবার বিদেশে গিয়ে বিশ্বের শান্তি-শৃঙ্খলা দেখাশোনা করে, অনেক টাকা কামায় যদিও সে টাকা তাদের ব্যাক্তিগত আয় মাত্র। আমাদের খায় তাতে কি, রাজনীতিবিদদের মত নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন তো ঘটাচ্ছে!! যদিও পন্ডিতেরা মনে করেন এতে আমাদের দেশে ব্যপক পরিমানে টাকা আসছে- রেমিটেন্স যাকে বলে। রাষ্ট্রের খেয়ে-দেয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বাইরে গিয়ে কামানো টাকায় রাষ্ট্রীয় কিংবা সার্বজনীন আয় কোথায় হয় তা আমি আর শরৎচন্দ্রীয় স্টাইলে জিজ্ঞাসা করব না । কারণ প্রশ্ন রাখলেই সেই পন্ডিতেরা উত্তর দেবেন যে কেন দেশে টাকা আসা মানেই তো কোন না কোন ভাবে অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়া। আমিও সেই একই স্টাইলে উত্তর দেবার দরকার মনে করব না যে আর্মির কামানো টাকা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাড়ী-গাড়ি করে, বউদের বিউটি পার্লারে পাঠানোর কাজেই ব্যয় করা হয়। বাকী টাকা ব্যংকে রেখে সারাজীবন আয়েশ করার কাজেই ব্যয় হয়। উৎপাদনশীল কোন খাতে ব্যয় করা হয় না যাতে এর মাধ্যমে অন্যদেরও অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে। এখানে আবারো প্রশ্ন উঠতে পারে যে সাধারণ জনগণ যখন বাইরে গিয়ে একই কাজ করে তখন তো আমরা প্রশ্ন তুলি না। উত্তর দেবার দরকার নেই যে তারা সম্পূর্ণ নিজেদের খরচে যায় এবং এখানে রাষ্ট্র বরং তাদের শোষণই করে। কিভাবে, তা পাঠক নিশ্চয়ই বিচার করতে পারবেন।

আর্মি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তায় কতখানি গুরুত্ব রাখছে, সে প্রসঙ্গে আসা যাক। আমাদের যুদ্ধ করার আছে কার বিরুদ্ধে? ভারত? বার্মা? অন্য কেউ? কেন করবে? আমাদের সম্পদ বলতে কি আছে? প্রাকৃতিক সম্পদ? এর থেকেও বেশি সম্পদ অর্থাৎ নগদ টাকা আছে সিঙ্গাপুরের, সুইজারল্যান্ডের। তাদের তো কেউ হামলা করছে না। তাহলে? ভারতের কাছেই সবচেয়ে হুমকিটা রয়েছে, মকিন্তু ভারত যদি আক্রমণ করেও আমরা কত ঘন্টা টিকব? হিসেবটি পাঠকের জন্য তোলা থাক।

আর আচরণগত দিক? থাক না সেকথা তাই না? আমরা সে কথা বলার অধিকার রাখি না। আমরা তো ব্লাডি সিভিলিয়ান।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28931394 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28931394 2009-03-30 20:11:13
কৌতুক (৩৬+) কেন বই পড়া বা পড়াশুনা করা সেক্স করা থেকে ভালো?
তাড়াতাড়ি পড়া হয়ে গেলে লজ্জার কিছু নাই।
আপনি একা একা পড়তে পারেন <img src=" style="border:0;" />
আপনি চাইলে আরেকজনকে সাথে নিয়ে পড়তে পারেন। আবার গ্রুপেও পড়তে পারেন। কেউ আপনার রুচি নিয়ে প্রশ্ন করবে না।
খোলা ময়দানে শুয়ে বসে যেভাবে ইচ্ছে পড়তে পারেন।
পড়ার সময় হঠাত করে বাবা মা রূমে ঢুকে পড়লে কোন অসুবিধা নাই।
আপনি ছেলে বা মেয়ের সাথে একত্রে পড়তে পারেন।
পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়লে লজ্জার কিছু নাই।
কয়েক ঘন্টা ধরে একটানা পড়তে পারবেন।
আপনার বই সাইজে ছোট হলেও কুনো সমস্যা নাই।


রেস্টুরেন্ট। চিকেন এর অর্ডার মাত্র এসে টেবিলে পৌছল।
বব খাওয়া শুরু করবে এই সময় অয়েটার এসে বলল, স্যার । থামেন। এই ডিস আপনাকে দেয়া যাচ্ছে না।
কেনো?
জন সাহেব আমাদের নিয়মিত খদ্দের। তিনি এই ডিস খান। আজকে এইটাই শেষ ডিস। সুতরাং দয়া করে এটা নিয়ে যেতে দিন। হাউসের তরফ থেকে আপনাকে আমরা অন্য একটা ডিস ফ্রি দিচ্ছি।
জন হারামজাদা কে? সে চাইলেই আমি ডিস ফেরত দিব ক্যানো? আমি দিব না। এই চিকেন আমি খাব। জন যা পারুক করুক।
অয়েটার চলে গেলো। একটু পর এক পুলিশ অফিসার আসল। এসেই বলল, কুত্তার বাচ্চা ! আমার চিকেন দে!
বব বুঝল এর নামই জন।
সে বলল, আমার ডিস আমি খাব! কিছুতেই তোকে দিব না।
আইচ্ছা! তোকে সাবধান করে দিচ্ছি। তুই মুরগিটার যা করবি, আমিও তোর তা করমু। তুই যদি মুরগির একটা রান ছিড়স, তোর রানও আমি ছিড়মু। খবরদার! মুরগির গায়ে হাত দিবি না।
আমি মুরগির সাথে যা করমু, তুই আমার সাথে তা করবি? আইচ্ছা! দেখ শালা...এই বলেই বব মুরগির দুই পা ফাক করে, ইয়ের ভিতর দুইটা আঙ্গুল ভরে দিলো। এরপর আবার আঙ্গুল দুইটা বের করে নিজের মুখে চুষে নিল। এরপর উঠে প্যান্ট খুলল। জনের দিকে তাকিয়ে বলল, ওকে শুরু কর দেখি।



বব সিগারেটখোর। সারাদিন ফুকে চলছে।
ওর বঊ বিরক্ত হয়ে তাকে ধরে নিয়ে গেলো ডাক্তারের কাছে বিড়ি ছাড়ানোর জন্য। ডাক্তার বুদ্ধি দেয়। বব সেইকথা মত চলে। কয়দিন বিড়ি ফুকা বন্ধ থাকে। এইসময় বব রাতে ঘুমাতে পারে না। কয়েকটা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে আবার সিগারেট ফুকা শুরু হয়। রাতের ঘুমও ফিরে আসে। এদিকে বার বার ডাক্তারের কাছে আসতে হচ্ছে।
শেষবার ডাক্তার বলল, এইবার আপনাকে আল্টিমেট বুদ্ধি দিচ্ছি। এইটা ফেইল করলে আমিও ফেইল। আপনাকে অন্য ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
বুদ্ধিটা কি?
আপনি যখন এক প্যাক সিগারেট কিনবেন তখন দুইটা সিগারেট প্যাকেট থেকে বের করে, নিজের পাছার ফুটোতে ভরে দিবেন সামান্য সময়ের জন্য। এরপর দুইটাকে বের করে এনে প্যাকেটের অন্য সিগারেটের সাথে মিশিয়ে ফেলবেন। যেহেতু আপনি জানেন না কোন দুইটা ময়লা সিগারেট, আপনি সিগারেট খেতে পারবেন না।

দুই সপ্তাহ পর ববের বউ আসছে। বব আসে নাই।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, কি কাজ হইছে?
বব ত সিগারেট খাওয়া বন্ধ করছে। কিন্তু এখন ত আবার পাছায় দুইটা সিগারেট না ভরা পর্যন্ত সে রাতে ঘুমাতে পারে না।



পাগলদের হাসপাতালের নার্স ডিউটিতে বের হইছে। ববের কাছে এসে দেখে বব খুব ব্যস্ত ভঙ্গিতে হাত পা চালাচ্ছে। আর মুখে পো পো শব্দ করছে। তার দোস্ত জন একটু পরপর অদৃশ্য কিছু তার হাতে তুলে দিচ্ছে। দুইজনে মিলে হেভি ব্যস্ত।
বব , তুমি কি করছো?
আমি গাড়িটা ঠিক করছি। শিকাগো যাব। জন সাহায্য করছে।
পরের দিন বব অদৃশ্য কাউকে হেভি গালি দিচ্ছে।
সাইড দে হারামজাদার দল।
নার্স জিজ্ঞেস করল, কি করছো বব?
আমি শিকাগো যাচ্ছি। তবে রাস্তায় খুব জ্যাম। কেউ সাইড দেয় না।
নার্স ববের সাথে কথা বলে এসে জনের রূমে এল। জন হস্তমৈথুন করছে।
জন কি করছো?
বব শিকাগ যাচ্ছে , এই ফাকে আমি ওর বউয়ের সাথে রোমান্স করছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28930985 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28930985 2009-03-29 20:22:12
রূম নম্বর ১১৭ পর্ব দুই সবার পছন্দের খেলোয়াড় ছিল। আমার পছন্দের খেলোয়াড় লিভারপুলের জেরার্ড, তাকে আদর করে আমরা গেরাড ডাকতাম। আমার ডাক নাম লিমন, এর সাথে জেরার্ড আর ল্যাওড়া মিশিয়ে আমার ডাক নাম হয়ে গিয়েছিল ল্যাওরার্ড। সুমনের নাম ছিল সুমনদিনহো... (নামেই বুঝা যায় সে কার ফ্যান)। আতিক ছিলো ল্যাম্পার্ডের ফ্যান। আর মারূফ কাকার। রূমে লম্বা বিতর্ক চলত জেরার্ড না ল্যাম্পার্ড কে সেরা সেটা নিয়ে। ফিফা গেম ত খেলতামই। গেমের কথা অন্য পর্বে লিখব।

যারা প্রচুর হিন্দী গান শুনে তারা এক পর্যায়ে হিন্দী গান গুনগুন করে গাওয়া শুরু করে। যে মেয়ে প্রচুর হিন্দী সিনেমা দেখে তার পোষাকেও চেঞ্জ চলে আসে। তেমনি ভাবেই আমরা এক পড়ন্ত বিকালে একটা ফুটবল কিনে মাঠে চলে আসলাম। কয়েকটা ১৫/১৬ বছরের ছেলের বিপক্ষে খেলা শুরু করলাম। গোলের পর গোল খাচ্ছি। একটা পর্যায়ে আবিস্কার করলাম, আমাদের প্রতিপক্ষের মূল লক্ষ্য দশ গোল দেয়া। আমরা সেদিন অবশ্য বহুকষ্টে দশ গোল ঠেকিয়েছিলাম।
এরপর নিয়মিত মাঠে যাই। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে দশ গোল না খাওয়ার চেষ্টা চালাই। মাঝে মাঝে দুই এক গোল দেই। আমি খেলি লেফট উইঙ্গে, মারূফ স্ট্রাইকার , সুমন মিডফিল্ডে আর আতিক ডিফেন্সে। পজিশন মানে আসলে খেলা শুরুর সময় যেখানে দাড়াই আর কি। খেলা একবার শুরু হলে সবাই বলের পিছেই দৌড়াইতাম। কালে ভদ্রে একটা-দুইটা লাথি মারার সুযোগ আসত। খেলা শেষে রূমে ফিরে একজন আরেকজনকে তুমুল তুলাধুনা করি। খেলতে পারোস না তুই মাঠে যাস ক্যান? তুই নিজে কি _লটা খেলোস যে আমাকে বলতে আসোস! পাচটা গোল ত খালি তোর ভুলে খাইছি... ইত্যাদি ইত্যাদি।
এক সময় খেলার মূল ব্যাপারটা আমরা ধরে ফেলি। বুট কিনি। জার্সি আর শর্টসও কেনা হয়। বুট পড়ে ফুটবলে প্রথম লাথি মারা আমার জীবনের স্মরনীয় মুহুর্তগুলোর একটা। ( ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে সমস্যা থাকায় আমি কিক নিতে পারতাম না। বুট পড়ে যেদিন কিক নিলাম, আমার মনে হয়েছিল- আমার অসম্পুর্ন পা ঠিক সেই মুহুর্তে পূর্নতা পেল)। হাড্ডা হাড্ডি লড়াই করতে শুরু করি। সবার ভিতর কমরেডশীপ গজিয়ে যায়। মাঝে মাঝেই জিতে ১১৭ তে ফিরে আসি।
আজকে পিছন ফিরে আমি বলতে পারি, এই যে মাঠে ফুটবল খেলতে যেতাম, সেটাই আমার বুয়েট লাইফের সেরা সঞ্চয়। খেলা শেষে রূমে ফিরে অনেকবার রূমমেট গুলারে গালি দিয়েছি, গালি খাইছিও। কিন্তু একটা কথা কুনোদিন তাদের বলি নাই- আজকে ব্লগের মাধ্যমে সেটা বলছি। আমি আসলে উইঙ্গে খেলতে পারতাম না। উইঙ্গার বলতে যা বুঝায় তার কিছুই আমি না। কিন্তু উইঙ্গার হওয়ার প্রতি আমার খুব দুর্বলতা কাজ করত। রূমমেটগুলা সেটা জানত। ওরা আমাকে অনেক কিছুই বলেছে, কিন্তু কোনদিন বলে নাই তুই আর উইঙ্গে খেলিস না। যা পারোস না সেইটা নিয়ে চেষ্টা করিস না। আমার দুর্বল জায়গাটায় আঘাত করে নাই। এই জন্য আমি তাদের কোনদিন ধন্যবাদ দেইনি, কৃতজ্ঞতাও জানাই নাই। আজকে জানাচ্ছি, thank u guys.


u ROCK!!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28924761 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28924761 2009-03-15 20:21:35
রূম নম্বর- ১১৭ (পর্ব-১) যারা বুয়েটের ছাত্র তারা জানে এই সব বিদায়ে কি হয়। অশ্লীলতা আর নিজের গোপন কথা ফাস করার আসল জায়গা হল ফ্লোর বিদায়ের অনুষ্ঠান। প্রথম হস্তমৈথুনের অনুভুতি থেকে শুরু করে প্রেম-নারী-চাকুরী-CGPA সব কিছু নিয়েই বিদায়ী ভাইদের প্রশ্ন করা যায় এবং তারা উত্তরও দেন।
সেইবার প্রথম আমরা, ১১৭ এর পোলাপাইন আয়োজনের দায়িত্ব পেলাম। এইসব অনুষ্ঠানে সব সময় একটা আইটেম থাকেই থাকে। ধরেন বক্সের উপর লেখা থাকে সবচে মোটাকে দিন , কেউ একজন কাউকে দেয়। মোটা ছেলেটা আবার কভার ছিড়লে পাওয়া যায় সবচে চিকনকে দিন এই রকম মেসেজ। আমাদের ইচ্ছে এই গেমটাই থাকবে। তবে সেটাকে অশ্লীল করতে হবে। মোটাকে দিন জাতীয় মেসেজের বদলে আমরা লিখলাম যাকে দেখে সমকামী মনে হয় বা যার সাথে রাত কাটাতে ইচ্ছে করে- এইসব হাবিজাবি। এরপরও মনে হল যথেষ্ট হচ্ছে না। আরো কিছু লাগবে। বড় কথা হলো সবার শেষে যে পাবে তার জন্য কি থাকবে?
সিদ্ধান্ত নেয়া হল যেই বাক্স পাবে তাকে একটা কন্ডম উপহার দেয়া হবে। আর সবার শেষে যে থাকবে তার জন্য থাকবে একটা কলা আর চারটা কন্ডম। তিনটা কন্ডম সে নিয়ে যেতে পারবে, আর একটাকে কলার গায়ে পড়িয়ে দিতে হবে। সবাই হাতে কলমে কন্ডমের ব্যবহার শিখবে। ফান করার সাথে সাথে শিক্ষাও হবে। হাজার হোক একটা প্রথম শ্রেনীর ইউনির ছাত্র আমরা। ফান করার সময়ও কিছু শিখতে এবং শিখাতে আগ্রহী।
সমস্যা হলো কন্ডম কিনতে কে যাবে? একজন আরেকজনকে ঠেলা শুরু করলাম। শেষ পর্যন্ত আমি আর আমার রূমমেট সুমন গেলাম কন্ডম কিনতে। নীলক্ষেতে একটা ফার্মেসির দোকানে গিয়ে সুমন বলল, কন্ডম আছে?
দোকানি বলল আছে।
তাকে অবাক করে দিয়ে আমরা বললাম, ত্রিশ প্যাকেট দেন।
এরপর আমরা অবাক হয়ে গেলাম কন্ডমের দাম শুনে। প্রতিটার দাম সাড়ে তিন টাকা করে ছিল। ( সেটা ২০০৫ এর কথা।) দোকান থেকে অনেক কিছু অবশ্য জানলাম- ডটেট আর নন ডটেড, ফ্লেভারড এইসব আরকি। দামের ভেরিয়েশন কেমন সেটাও জানলাম। প্যাকেটের ভিতর ম্যানুয়াল ছিল। রূমে এসে সবাই সেই ম্যানুয়াল মনযোগ দিয়ে পড়েছি। অনেক কিছু জানতে পেরেছিলাম সেই বার।
অনুষ্ঠান যে হিট হয়েছিল সেটা না বললেও চলে। সবার শেষে বাক্সটা পেয়েছিল আমাদের জুনিয়র একটা ছেলে। আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে অবলীলায় দক্ষতার সাথে সে কলার গায়ে কন্ডম পড়িয়ে দিয়েছিল।

সেইরাতেই আমরা একটা কন্ডম বেলুনের মত ফুলিয়েছিলাম। (দয়া করে জিজ্ঞেস করবেন না কিভাবে ফুলানো হয়েছিল।) সেটা নিয়ে রাত তিনটার দিকে সিনিয়র ভাইদের দরজায় ঝুলিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। পরদিন ভোরে হাউকাউ। সিনিয়ররা আমাদের দিকে আঙ্গুল তুললেন। কিন্তু আমাদের যুক্তি গত রাতের অনুষ্ঠানে সবাইকে কন্ডম দেয়া হয়েছে গিফট- যে কেউ করতে পারে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28923644 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28923644 2009-03-13 09:44:05
গেম রিভিউ এবং টিপস- Warcraft-III- DOTA; পর্ব-১ ( হিরো বেসিক)
Know thy hero
হিরোদের ব্যাপারে কিছু বলার আগে প্রথমে তাদের কি কি attribute আর পয়েন্ট আছে সেটা বলে নেই।
নিচে একটা হিরোর পয়েন্ট দেখাচ্ছি।


Hit point
হিরোর ছবিটার নিচেই দেখাচ্ছে 575/575. এটা বেসিক হিট পয়েন্ট। 575/575. মানে হলো তার 575 পয়েন্টের পুরাটাই আছে।
Mana
ম্যাজিক আর স্পেল কাস্ট করার জন্য mana লাগে। ছবিতে 240/240 লেখাটাই mana এর পয়েন্ট।
Damage-
প্রতিটা স্ট্রাইকে হিরো প্রতি পক্ষের কত হিট পয়েন্ট নষ্ট করবে সেটাই হলো damage. প্রতিটা হিরোর শুরুতেই একটা damage পয়েন্ট দেয়া থাকে। প্রতি লেভেল বাড়ার সাথে সাথে একেক হিরোর একেক হারে damage পয়েন্ট বাড়তে থাকে। Damage বেশি হলেই কিন্তু ভালো hero না। এটাক স্পিডও একটা ব্যাপার।
Armor
প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আঘাত পেলে কতটুকু আঘাত সে ঠেকাতে পারবে সেটাই হলো Armor. সাধারনত লেভেল বাড়ার সাথে সাথে armor বাড়ে না।

Strength
প্রতিটা strength পয়েন্টের জন্য হিরো এর হিট পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে ১৯। তার মানে হিরোর Strengthপয়েন্ট ১০ বাড়লে হিট পয়েন্ট ১৯০ বাড়বে।
Agility
এই পয়েন্টের সাথে হিরোর এটাক স্পিড জড়িত। প্রতি পয়েন্ট বাড়ার জন্য ১% স্পিড বাড়ে।
Intelligent
প্রতিটা পয়েন্টের জন্য mana বাড়ে ১৫।

এই Strength, Agility আর Intelligent তিনটা attribute হল হিরোদের আসল ব্যাপার। প্রতিটা হিরোর এই তিনটা পয়েন্ট আছে। কারো কোন একটা কম ত অন্য একটা বেশি। এ attribute এর পয়েন্ট কম বেশি করে, Warcraft এ হিরোদের আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়।

What is my hero?
Strength, Agility আর Intelligent এই তিনটার যে কোন একটা থাকে প্রাইমারী attribute. প্রাইমারী attribute হিরোর জন্য নির্দিষ্ট থাকে। নিচে তিন ধরনের হিরোর তিনটা ছবি দিচ্ছি।




যার primary attribute হলো strength; তাকে বলা হয় strength strength হিরো। এমনিভাবেই agility আর intelligent হিরোকে চেনা হয়। উপরের ছবির হিরোর প্রাইমারী attribute মার্ক করে দিলাম। হাতের ছবিটা হলো প্রাইমারী attribute strength . পায়েরটা হলো agility আর মাথারটা হলো intelligent হিরো এর চিহ্ন। যার primary attribute হলো strength; তাকে বলা হয় strength হিরো। এমনিভাবেই agility আর intelligent হিরোকে চেনা হয়।
সাদা চোখে, strength হিরোরা হয় হাই হিটপয়েন্টের হিরো, agility হিরোরা হয় হাই এটাক স্পিডের হিরো আর intelligent হিরোরা হয় হাই ম্যানা পাওয়ারের হিরো। প্রতিটা strength পয়েন্টের জন্য হিরোদের হিট পয়েন্ট থাকে ১৯ থেকে পচিশের মত। dota তে প্রতি স্ত্রেন্থ এর জন্য ১৯ বরাদ্দ করা আছে। হিরো strength, agility বা intelligent যাই হোক না কেন, তার strength পয়েন্ট অনুযায়ী হিট পয়েন্ট পাচ্ছে। তেমনি ভাবে প্রতিটা agility পয়েন্ট বাড়ার জন্য ০১% এটাক স্পিড বাড়ে।
প্রতিটা লেভেল বাড়ার সাথে সাথে হিরোদের attribute স্কিল বাড়তে থাকে। তবে একেকজনের বাড়ে একেক হারে। আবার প্রাইমারী attribute এর জন্য damage এর পরিমান বাড়ে। ধরা যাক নিচের একটা হিরোর কথা-

লেভেল-১ এ তার damage 21-27. সে একজন ইন্টেলিজেন্ট হিরো। প্রতিটা লেভেল বাড়লে তার তিনটা attribute বাড়বে। কিন্তু যদি তার প্রাইমারী attribute কোন একটা আইটেম কিনে intelligent ১০ বাড়িয়ে দেয়া যায় তবেই শুধু তার damage ১০ বেড়ে যাবে। strength ১০ বাড়ার আইটেম কিনলে তার হিট পয়েন্ট ১৯০ বাড়বে কিন্তু damage বাড়বে না। যার প্রাইমারী attribute যা, তার সেটা বাড়ালেই শুধু damage বাড়বে।


বাংলায় WARCRAFT DOTA গেমের কোন রিভিউ না পেয়ে নিজেই শুরু করলাম লেখা। গেমটা খেলার কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে, এমন গেমারদের কথা মাথায় রেখেই লিখেছি। যারা গেমটা খেলেন নাই তারা কিছু বুঝতে পারবেন না।
( খুব বিরক্তি লাগছিল ব্লগ লিখতে। তাই শুরু করলাম সিরিজ। ইচ্ছে আছে দশ-বারোটা পর্ব লিখব। আমি আবার সিরিজের দুই তিনটা পর্ব লিখে বাকিটুকু লেখার উৎসাহ পাই না। দেখি এটার জোস কয়দিন থাকে। সিরিজটা লেখার আরেকটা উদ্দেশ্য আছে। কয়েক সপ্তাহের ভিতর আমরা আবার গেম পার্টি দিব। সেই পার্টির মূল গেম হবে warcraft-III এর DOTA.)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28923435 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28923435 2009-03-12 21:04:51
রহিম মিয়ার কান্না এবং আট বছরের ময়না ময়নার বাপ রহিম মিয়া বাজারের সবার সামনে গালে থাপ্পড় খেলো। গরিব মানুষের ইজ্জতের দাম নাই। এই রকম থাপ্পড় সে কত খেয়েছে। কিন্তু এইবার ময়না তার সাথে ছিল। সে তার নিরীহ চোখ দুইটা তুলে বাপকে দেখল। কোনদিন যা হয় নাই আজকে তাই হলো। রহিমের চোখে পানি চলে আসল।
তাকে থাপ্পড় মেরেছে বাজার কমিটির চেয়ারম্যান। রহিম মিয়া মাথা নিচু করে চোখের পানি লুকাতে চেষ্টা করল।
-তোরে যদি আবার বাজারের কোনায় ভিক্ষে করতে দেখি, ত খবর আছে।
রহিম মাথা নিচু করেই ঘাড় নাড়ল। সে আর ভিক্ষে করবে না।
-মাথা নাড়সা ক্যান? মুখে বলোন যায় না?
কমিটির চেয়ারম্যান আরেকটা থাপ্পড় মারল। থাপ্পরের পরপরই ময়না তার বাপের হাত ধরে ফেলল। তার হাতে একটা শিশুর হাতের চাপ পড়ার পরই চোখের পানি যেন আরো বেড়ে যেতে লাগল।
-আর ভিক্ষ্যা করমু না।
চেয়ারম্যান আবার থাপ্পড় মারলেন একটা। এরপর বললেন, মনে থাকে যেন। চোরের গুষ্ঠি সব কয়টা।

রহিম মিয়া থাপ্পড় খাওয়া শেষে ময়নাকে নিয়া বাজারের একটা চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ল।

০২
রহিম মিয়ার কপাল খারাপ। ময়নার সামনে সে আবার থাপ্পড় খেলো। সে ভিক্ষে করা থামায় নাই। কমিটির চেয়ারম্যান বাজারে তাকে ধরে ফেলেছেন।
-তোর শিক্ষা হয় না?
রহিম মিয়া আবার কয়েকটা থাপ্পর খেলো। ময়না থাপ্পরের এই সময়টাতে তার বাপের হাত ধরে রাখল। এতে রহিম মিয়ার চোখে পানি চলে আসল। গভীর মমতা নিয়ে ময়না তার বাপের হাত ধরে আছে।
থাপ্পড় দেয়া শেষে, ময়না তার শান্ত চোখ দুইটি তুলে চেয়ারম্যানকে বলল, বাপেরে আর মাইরেন না।

০৩
গরীবের ইজ্জতের দাম নাই। রহিম মিয়ারও ইজ্জত নাই। কতবার কত মানুষের মার খেলো। কখনো চোখে পানি আসে নাই। ছোটবেলায় সবজি চুরি করত । ধরাও পড়ত মাঝে মাঝে । মালিক দিত মার। সেই মার খেয়েও কোনদিন রহিম কাদে নি। দোস্তরা বলত, রহিমের দিল পাত্থরের লাহান। চোক্ষে পানি আহে না।
সেই পাত্থর দিল রহিম মিয়া ইদানীং দুই-তিনটা থাপ্পড় খেয়েই কেদে দিচ্ছে। রহিম মিয়া বুঝতে পারে, ময়না তার পাশে থাকলে কোথা থেকে জানি তার লজ্জা চলে আসে। ব্যথার জন্যে সে কাদে না। লজ্জা পেয়ে কাদে।

০৪
রহিম মিয়া ঠিক করে আর ভিক্ষে না। সে রিকশা চালাবে । ময়নার মুখের দিকে তাকিয়ে সে ভাবে, ইজ্জতের সাথে বাচতে হবে। এইভাবে চলা যায় না ।

০৫
রহিম মিয়া কতদূর যেতে পারে রিকশা চালিয়ে তা এখনই বলা যায় না। সে একদিন রিকশা গ্যারাজের মালিক হতে পারে। এরপর হয়ত সি.এন.জি কিনে সেই ব্যবসা শুরু করবে। এরপর একদিন বাস সার্ভিস চালানো শুরু করবে। রহিমের উত্থান হতে পারে।
আবার এমন হতে পারে, ময়না মারা যাবে আগামী বছর। বাসের নিচে পড়ে। ছোট মেয়েরা ত রাস্তার পাশে খেলে। বাসের নিচে কি সে পড়তে পারে না? রহিম মিয়া আবার ভিক্ষের জীবনে ফিরে যাবে। কমিটির চেয়ারম্যান মাঝে মাঝে তাকে থাপ্পড় দিবে। তবু সে ভিক্ষে থামাবে না।

০৬
আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। ময়নার কি হয় সেটা জানার জন্য। রহিম মিয়া ভিক্ষে করা থামায় নাকি সেটা জানার জন্য।




[যার চোখ আছে সে দেখুক। যার কান আছে সে শুনুক। যার বুদ্ধি আছে সে বুঝুক। ]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28916107 http://www.somewhereinblog.net/blog/hulk/28916107 2009-02-25 12:08:11