প্রস্তাব অনুযায়ী, আটটি প্রদেশে প্রাদেশিক সরকার থাকবে, প্রাদেশিক পরিষদ হবে ৬০০ সদস্যের। কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হবে ফেডারেল সরকার।
প্রত্যেকটি প্রদেশে থাকবে হাইকোর্ট; যা কেন্দ্রীয় সরকারের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত সুপ্রিম কোর্টের অধীন হবে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার একজন গভর্নরের মাধ্যমে প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম তদারকি করবে।
শনিবার সকালে সোনারগাঁও হোটেলে 'বাংলাদেশে প্রাদেশিক সরকার পদ্ধতির পরিকল্পনা' শীর্ষক এক সেমিনারে নিজের প্রস্তাব তুলে ধরেন এরশাদ।
প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালুর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, এটা হলে গোটা দেশে উন্নয়নের ভারসাম্য নিশ্চিত হবে। বেকার সমস্যা হ্রাস পাবে এবং দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ঢাকায় জনসংখ্যার চাপ কমবে।
প্রস্তাবিত প্রদেশগুলোর নামও ঠিক করেছেন তিনি। এগুলো হলো- উত্তরবঙ্গ, বরেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর, জালালাবাদ, চট্টলা, ময়নামতি, জাহানাবাদ ও চন্দ্রদ্বীপ।
বর্তমান জেলাভিত্তিক বিন্যাসে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় নিয়ে উত্তরবঙ্গ প্রদেশের প্রস্তাব করেছেন এরশাদ; যার রাজধানী হবে রংপুর।
রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ নিয়ে হবে বরেন্দ্র প্রদেশ; যার রাজধানী রাজশাহী।
জাহাঙ্গীরনগর প্রদেশে এরশাদ রেখেছেন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুরকে। যার রাজধানী ঠিক করেছেন ময়মনসিংহ।
সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ নিয়ে প্রস্তাবিত জালালাবাদ প্রদেশের রাজধানী হবে সিলেট।
চট্টগ্রামকে রাজধানী করে চট্টলা প্রদেশ গঠিত হবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা নিয়ে।
ময়নামতি প্রদেশে থাকবে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা; যার রাজধানী হবে কুমিল্লা।
খুলনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট নিয়ে প্রস্তাবিত জাহানাবাদ প্রদেশের রাজধানী হবে খুলনা।
চন্দ্রদ্বীপ প্রদেশ হবে বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভোলা ও বরগুনা জেলা নিয়ে, এর রাজধানী হবে বরিশাল।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) রূপকার সিরাজুল আলম খান দেশে প্রথম প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেছিলেন। তার অনুসারী আসম আব্দুর রবও একই কথা বলে আসছেন। রব এক সময় সামরিক শাসক এরশাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
এরশাদ বলেন, "একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করলেও এখানে আমার দলীয় দৃষ্টিকোণ নেই। দেশের জনমত এ প্রস্তাবের পক্ষে আছে বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের আর কোনো বিকল্প নেই।"
এরশাদের প্রস্তাবে প্রাদেশিক সরকারের আলাদা মন্ত্রিসভা হবে, যার প্রধান হবেন একজন মুখ্যমন্ত্রী।
ফেডারেল সরকারের প্রধান হবেন রাষ্ট্রপতি। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হবেন সরকার প্রধান। প্রদেশে গভর্নর নিয়োগ দেবে ফেডারেল সরকার।
নতুন পদ্ধতি প্রবর্তনে সংবিধান সংশোধন করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানান জাপা চেয়ারম্যান।
তিনি দাবি করেন, প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হলে কোনোভাবেই আঞ্চলিকতা সৃষ্টি হওয়া ও বিভক্ত হয়ে যাওয়ার কোনো ধরনের আশঙ্কা থাকবে না। বরং এতে সারাদেশে সুষম ও ভারসাম্যপূণ উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ তার শাসনামলে থানাকে উপজেলা, মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, তার সুফলও জনগণ পাচ্ছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় জেলা গর্ভনর নিয়োগের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
প্রাদেশিক সরকারের এ রূপরেখা তুলে ধরার ওই সেমিনারে ছিলেন আসম রব, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিকল্প ধারা'র মহাসচিব আবদুল মান্নান, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান, মাহবুবুল আলম, সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান শেলী ও দিদার বখত, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক আশরাফুল হুদা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



