গতকাল ভোর ৫।৩০ মিনিটে আমি অফিসের ট্যুর শেষে রংপুর হতে ঢাকায় ফিরি। বাস থেকে নামলাম কলেজ গেটে। আমার বাসা সলিমুল্লাহ রোডে। কলেজ গেটের পত্রিকা ষ্টল হতে সেদিনের প্রথম আলো কিনে একটা রিক্সায় রওনা হলাম। সতক'ই ছিলাম। মোবাইল টা জ্যাকেটের গোপন পকেটে রেখেছিলাম। যাইহোক ভালই ভালই ক্যাম্পের বাজার পার হয়ে বামে মোর নিল রিক্সা। 'ওয়ান লাইন' (মহাখালি যাওয়ার বাস) এর কাউন্টার পার হলাম। এমন সময় একটি দামি কার (নং - ১১-৩৫৫৪, এটুকু দেখেছি) আমার রিক্সা ওভারটেক করে দশ হাত মতন দুরে যেয়ে থামল আর পিছনের দুই দরজা আস্তে খুলছে। আমি সাথে সাথে রিক্সাওয়ালা চাচাকে বললাম রিক্সাটা ঘুরায় নেন। ওনি আমার কথামত সাথে সাথে রিক্সা ঘুরায় নিল। দেখলাম কারটার দরজা লাগিয়ে তারা সোজা গিয়ে ডানে (তাজমহল রোডে) গেল। আমি রিক্সাওয়ালা চাচাকে বললাম এবার রিক্সা ঘুরান, মনে হয় তারা চলে গেছে। ভাবছিলাম তাজমহল রোডে ব্রাক ব্যাংকের যে বুথটা আছে সেখানে সিকিউরিটি আছে, তার সাহায্য নিতে পারব যদি তারা আবার আসে। আর আমি এ ব্যাংকের একজন ক্লাইন্টও।
ঠিক বুথের সামনে যখন আমার রিক্সা এল, দেখলাম প্রাইমারি স্কুলের গলিটা হতে সেই কারটা বের হয়ে আমার রিক্সার পাশে এসে থামল আর তিনজন নেমে এল। একজনের হাতে ছিল একটি চাকু আর তার পিছনের একজনের হাতে ছিল এক/দুই ফুটমতন একটি লাঠি। তারা আমায় ধমক দিয়ে নামতে বলল। আমিও উলটা তাদের ধমক দিয়ে বললাম এ্যাই তোরা সর। তারা আমার সাথে ধস্তাধস্তি করতে লাগল। আমি রিক্সায় দাড়িয়ে - এ্যা-ই, - এ্যা-ই - - বলে ধমক দিয়ে চিল্লাইতে লাগলাম। চাকুধারি একটা চোট দিল আমি হাত দিয়ে সেটা ঠেকালাম।(মোটা জ্যাকেট গায়ে ছিল বলে রক্ষা) আর আমার বা-পা টা দিয়ে একজনের (যার হাতে লাঠি ছিল) মুখে একটা লাথি দেয়ার চেষ্টা করলাম। সে তখন তার হাতের লাঠি দিয়ে দুইটা মাইর দিল আমার বা পায়ের হাটু বরাবর। আমার ব্যাগ টানা - টানি চলল কিছুক্ষন(৩০/৪০ সেকে)। আমি তখনও - এ্যা-ই, - এ্যা-ই - - বলে ধমক দিয়ে চিল্লাচ্ছিলাম। এমন সময় ৩য়জন বলল চল চলে যাই। এই বলে আমাকে ছেড়ে দিয়ে হঠাৎ তারা তিনজনে তাদের গাড়িতে উঠে পড়ল। আমি তারাতারি রিক্সা থেকে নেমে তাদের গাড়ির নাম্বার দেখলাম। তারা ডানে মোর নিয়ে (রেসিডেন্সিয়াল কলেজের পিছন গেট যে দিকে) চলে গেল। ঠিক তখনই টের পেলাম আমার বা-পায়ের দশা করুন। পা সোজা করতে ভীষন কষ্ট হচ্ছে। তারপর দেখলাম ব্রাংক ব্যংকের সিকিউরিটি গাড' বুথের ভিতর হতে মাত্র বের হল। তাকে দেখে মাজাজ ঠিক রাখতে পারলাম না। তাকে বললাম - "ব্যাটা তুমি ঘুমাও?? ২৪ ঘন্টা তোমরা সাভি'স দেও? আজই তোমার চাকরি নট্ করার ব্যবস্হা করছি। বুথের সামনে কোন ক্লাইন্টের ছিনতাই হলে তার জবাব তোমাকে দিতে হবে।"
ব্যাংকের সিকিউরিটি গাড'কে ধমকাচ্ছিলাম আর চাচা মিয়া আমাকে বলল র্যাবের গাড়ি আইতাছে। ছিনতাইকারি চলে যাওয়ার ১ মিনিট পরের কাহিনি এটা। দেখি র্যাবের গাড়িটা সোজা গিয়ে ডানে মোর নিল। একটু খুশিই হলাম। কিন্তু পায়ের ব্যাথাটায় ভীষন খারাপ লাগছিল। চাচা মিয়াকে বললাম তারাতারি চালাতে। ৪/৫ শত গজ দুরেই আমার বাসা। শেষ পয'ন্ত বাসায় এলাম। এসেই শুয়ে থাকলাম ৩০ মিনিট।
(আমি এত সাহস পেয়েছিলাম - কারন পুবে' একবার ঠিক এভাবেই আমার ছিনতাই হয়েছিল, তাই কাল প্রথমবারই গাড়িটা থামার সময় বুঝতে পেরেছিলাম। )
আমি ছিনতাইয়ের এ ঘটনাটা আপনাদের বলছি কারন আপনারা কেউ রাতে বা ভোর রাতে বাইরে থাকলে যেন একটু সাবধান ধাকেন।
আর কোন ব্যাংকের ২৪ ঘন্টার বুথের সামনে কোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে বুথের সিকিউরিটি গাড'দের কোন দায়িত্ব কি থাকা উচিত নয়? এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত চাইছি! ব্যাংকার ব্লগারগন দয়া করে ব্যাপারটা একটু ভাববেন কি?
এ,এ,অ,আই
- ১৫ ফেব্রু. ০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

