somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের থাবার নখ এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে : ট্রানজিটওয়ালারা কী করবেন : একটি কপি পেস্ট পোস্ট

২২ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার দেশ সম্পাদকীয় শেষ পর্যন্ত থলের বিড়াল বেশ ভালোভাবেই বের করে দেখিয়ে দিয়েছে ভারত। ভারতীয় কৃপার ওপর উবুড় হয়ে পড়ে থাকা আমাদের মেরুদণ্ড ও আত্মসম্মানহীন সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘দ্যাখ বাপু দালালি কিংবা তোষামুদি যাই কর, কথাবার্তা পরিষ্কার—তোমাদের দেশের ভেতর দিয়ে সরাসরি আমাদের ট্রেন, বাস ও ট্রাক চলাচলের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা না পাওয়া পর্যন্ত তোমাদের প্রার্থিত ৬১টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেব না।’ ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এ বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। এই রূপরেখা আগে প্রাপ্ত তাদের অনৈতিক সুবিধার অতিরিক্ত। তারা বলছে, ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলো চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করছে বা করবে, এটাই যথেষ্ট নয়; দিতে হবে ট্রেন ও বাস ট্রানজিট। কেবল তারপরই বাংলাদেশ যে ৬১ পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়, তা তারা দেবে।
ভারত বাংলাদেশে ২ হাজার ৮৬টি পণ্য বাজারজাত করে, বিপরীতে বাংলাদেশ করে মাত্র ১৬৮টি পণ্য। ভারত শিল্প সংরক্ষণের অজুহাত তুলে বাংলাদেশের ৭শ’ প্রকার পণ্য সেদেশে প্রবেশনিষিদ্ধ করে। পরে এ তালিকা কমিয়ে ৪শ’তে দাঁড় করায়। কিন্তু অনুধাবনের বিষয়, যেসব পণ্য থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে ভারত বুক ফুলিয়ে এলান করে দিয়েছিল, তার ৯৮ শতাংশই উত্পাদন করে না বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, যে ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করার আশায় ভারতের দ্বারে কাতর প্রণয়ীর মতো অপেক্ষায় আছে সরকার, তার মধ্যে ৪৮টি হলো বস্ত্রখাতের। অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার, বস্ত্রখাতের এসব পণ্যের ওপর কয়েক স্তরে শুল্ক আদায় করে ভারত। বাংলাদেশের নিটওয়্যার খাতের কটন টি-শার্ট রফতানিতে প্রতি পিসের বিপরীতে ভারত শুল্কহার নির্ধারণ করেছে ৪৫ রুপি। ট্রাউজারের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রতি পিসের জন্য নির্ধারণ করেছে ১৩৫ রুপি। এই অতি এবং অযৌক্তিক শুল্ক নির্ধারণের উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো, ভারতীয় আমদানিকারকদের নিরুত্সাহিত করা। অন্য কথায় সেদেশের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে শক্ত প্রতিরোধ দাঁড় করানো।
বলাবাহুল্য, ভারতের নীতিনির্ধারকরা তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেছে। ওয়াকিবহাল মহলও তাই ধারণা করে। তাদের মতে, ভারতে বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে কাগজে-কলমে কোনো বাধা নেই। কিন্তু সমস্যা থেকে যাচ্ছে, অশুল্ক ও আধাশুল্ক বাধা নিয়ে। তাদের মতে, একদিকে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার আশ্বাস আর অন্যদিকে পণ্য প্রবেশে বাধা, এই দ্বৈতনীতির মুখে ভারতের বাজারে একে একে বাংলাদেশী পণ্য রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি দিন দিন শুধু বেড়েই যাচ্ছে। এই ভয়ানক বৈষম্য দূর করার জন্য তোয়াজ-তদবির কম করেনি বাংলাদেশের সরকার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যা পাওয়া গেছে তার নাম হলো গালভরা আশ্বাস। যে ধরনের আশ্বাস গত ৪০ বছর ধরে বহুবার দিয়ে এসেছে ভারত, যা একেবারেই ফাঁকা এবং ছেঁদো। অথচ ওই দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ওই সামান্য ৬১টি পণ্যের শুল্কসুবিধার অন্য কোনো বিকল্প নেই।
ভারত এখন বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার দেনদরবারকে বেমক্কা এক ধাক্কা দিয়ে চিত্ করে ফেলে বদলে ফেলেছে নিজের অবস্থান। এখন বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গ শিকায় তুলে শুরু করেছে নতুন গান। ২ হাজার ৮৬টি পণ্যের বিপরীতে ৬১টি পণ্যের শুল্কসুবিধা দিতে তারা এখন দাবি করে বসেছে, বাস ও ট্রেন ট্রানজিট। ট্রানজিট একটি ভিন্ন বিষয়। এ নিয়ে গত শনিবারও আমাদের এই সম্পাদকীয় কলামে ‘থলের বিড়াল বেরুতে শুরু করেছে’ লিখেছি। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যার বাফার স্টেট প্রসঙ্গেই কোনো জ্ঞান নেই, তিনি হাজির করেছেন এক উদ্ভট কো-অপারেশন থিউরি। যে থিউরিকে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বলে, ফালতু হিসেবে এককথায় নাকচ করা যায়। জনগণ ও সংসদকে পাশ কাটিয়ে ভারতীয় স্বার্থের অনুকূলে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকারকে বিসর্জন দেয়ার এমন নির্লজ্জ নজির বিশ্বে বিরল। এখন ট্রানজিট পেতে মরিয়া ভারত হাজির করেছে এই নতুন বাহানা। খাইয়ের পর খাই। অজুহাতের পর অজুহাত। দাবির পর দাবি।
সত্যিকার অর্থেই এখন একথা বলার সময় এসেছে, ভারত হলো কিংবদন্তির সেই রাক্ষস, যার ক্ষুধা ও চাহিদার কোনো শেষ নেই; নিজের স্বার্থের ব্যাপারে অন্ধ এবং অন্যের বিষয়ে উদাসীন। ভারতকে বসতে দিলে শুতে চায়, শুতে দিলে দাবি করে বাড়ির মালিকানা। আসলে ভারতের চাই সবকিছু। শুধু বাণিজ্য কিংবা ট্রানজিট নয়, ভারতকে দিতে হবে সবকিছু, যার অর্থ বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দিতে হবে মহাভারতের মহাসমুদ্রে। তবেই হয়তো তার খাই মিটবে। আমাদের বর্তমান কর্তাদের যদি হুশ ফেরে তাহলে তারাও বিষয়টি অনুধাবন করে জাতীয় কর্তব্য পালনে তত্পর হয়ে উঠবে বলে আশা করি।
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×