somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... একুশে থেকে স্বাধীনতা’ সঠিক নয়
৪ঠা ফেব্রুয়ারী বিটিভি এর একটি বিকালের প্রোগ্রামে চোখ পড়ল। প্রোগ্রামটিতে কিছু আকর্ষনীয় কথা শোনা গেল। কিন্তু প্রোগ্রামটির নামটি আমার কাছে ভ্রান্তিমূলক মনে হল। আমি এখানে সেই ভ্রান্তিটি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
‘একুশ থেকে স্বাধীনতা’ এই দেখলাম প্রোগ্রামটির পরিচয়। পরিচয়টি কি সঠিক ছিল? আমার কাছে আদৌ নয়। ‘একুশ’ বলতে আমরা বাংলাদেশীরা যারা কিছু বিদ্যা শিখেছি তারা বুঝি ২১শে ফেব্রুয়ারী-১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারীর ঘটনা স্মরণের বিষয়াদি। ঐতিহাসিক সেই ঘটনার কথা। সেতো ইতিহাস। তাই ইতিহাসবিদরা ভিন্ন আর কে ভাববেন? আমি প্রশিতি বা ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারী ইতিহাসবিদ না হয়েও কেন যেন ঐ বিষয়টি নিয়ে কিছু নাক গলাতে চাইছি। বলতে পারেন, অনধিকার চর্চা। কিন্তু তবুও যেহেতু আমি একজন সচেতন বাংলাদেশের নাগরিক এবং এক যুগেরও বেশী সময় অবসর জীবন যাপন করছি, তাই ভাবছি অবসর এই সময়ের বিকল্প কোন ব্যবহার করা যায় কিনা?
বলা হয় যে ‘ভাষার অধিকার’ আদায়ের জন্য ২১শে ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি বিশাল অর্জন। রক্তের বিনিময়ে সেই অধিকার এদেশের মানুষ প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলা তাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা যা কিনা ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তান ‘কেড়ে’ নিতে চেয়েছিল। আরও বলা হয় যে, ওরা পশ্চিমারা বা পাকিস্তানীরা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে উর্দু ভাষা আমাদের মুখে ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমরা তা হতে দেইনি। উর্দুকে যেমন গিলিনি বরং বর্জন করেছি তেমনি পাকিস্তানকেও ঝেটিয়ে দিয়েছি। এসব কথা কোন ফেলনা বিষয় নয়। খাঁটি শক্ত কথা। কিন্তু অনেক শুভঙ্করের ফাঁকি আছে এসব অনেক শক্ত কথার মধ্যেও।
প্রথমতঃ ধরা যাক, এটা কি কোন বিশ্বাসযোগ্য কথা হতে পারে যে, তখনকার চার কোটি মানুষের একটি সচল সবল মুখের ভাষা অন্যরা ভুলিয়ে দিতে পারে? পারে না, পারার কথাও ছিল না। কিন্তু সেভাবে একটি ভাবাবেগের বন্যা তৈরী করা হয়েছিল। কেননা, ভাবাবেগী মানুষ যেমন আমরা তেমনি ভাবাবেগে যে আমরা কত মারাত্মকভাবে চালিত হয়েছি তা অতীত রেকর্ড খুঁজে দেখলেই বহুল নমুনা পাওয়া যাবে। অনেকে বলতে পারেন ১৯৪০ দশকের বিভাজনের বিষয়টিও তেমনি একটি ভাবাবেগের কার্যকারন ছিল। কথাটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়ার মত নয়। তবে এর মাঝেও একটি ভিন্ন বিষয় ছিল এবং তা ছিল এই যে সে সময় বৃটিশ ভারত উপমহাদেশের সকল অর্থøাৎ দশকোটি মুসলমান একাট্টা ছিল-বাংলাভাষী মুসলমানরাই মাত্র একাট্টা হয়ে ১৯৪৭ এর বিভাজন সম্ভব করেনি। যাহোক সেসব বিস্তারিত এখন থাক। আসল বিষয়ে আসা যাক।
পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ১৯৪৭ সালে একটি মারাত্মক ভঙ্গুর বা নাজুক অবস্থার মধ্যে সৃষ্টি হবার পর পরই ১৭ দিনের মাথায় ঢাকায় একজন পদার্থ বিদ্যার প্রভাষকের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ নামে একটি সংগঠন তৈরী হয়। আবুল কাশেম সাহেব সেটি গঠন করে বাংলা ভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানসহ জ্ঞান চর্চার জন্য নতুন দেশ পাকিস্তানে ল্য নির্ধারণ করেন। সেই সাথে তিনি বাংলা ভাষাকে উর্দুর সাথে সাথে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবীটিও উত্থাপণ করেন। কেননা, ততদিনে অনেকেই ধরে নিয়েছিল যে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা ইংরেজী পরিত্যাগ করে উর্দুকেই করা হবে। এরই ৬ মাস পর যখন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা এবং গভর্নর জেনারেল ১৯৪৮সালের মার্চ মাসের শেষে ঢাকা সফরে আসেন (১মাস পর) তখন তিনি উর্দু ভাষাকে পাকিস্তানের লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা বা সাধারণ ভাবের আদান প্রদানের ভাষা হিসেবে তার তদানীন্তন রমনার সভার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। এ নিয়ে ঢাকায় ছাত্রদের মধ্যে ঊষ্মা সৃষ্টি হয়। তারা একটি প্রতিনিধি দলে মিলে জিন্নাহর সাথে সাাৎ করেন। এরপর বিষয়টি বহুলাংশেই প্রশমিত হয়। এরপর ৬ মাসের মাথায় জিন্নাহ ইন্তেকাল করেন। ১৯৫১ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলীকে হত্যা করা হয়। মতার টালমাটাল শুরু হয় কেন্দ্রে। আর ষড়যন্ত্র তা তো ছিলই। কেননা, পাকিস্তানকে শেষ করার জন্য শত্রুর অভাব ছিলনা-ভিতরে এবং বাইরে। মতার হাতবদলও হয় অতি দ্রুত গতিতে। এমনি এক পর্যায়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ঢাকার নবাব পরিবারের উর্দুভাষী সহজ সরল মানুষ খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকা এসে একটি জনসভায় ১৯৫২ সালের জানুয়ারীতে প্রকাশ্যেই জোর দিয়ে বলেন যে, ‘টৎফঁ ধহফ ঁৎফঁ ংযধষষ নবঃযব ড়হষু ঝঃধঃব খধহমঁধমব ড়ভ চধশরংঃধহ্থ, এমনি একটি বেফাস কথা তার বলার কি প্রয়োজন ছিল বুঝা মুশকিল, তবে ঐ সুযোগটা লুফে নিল কেউ কেউ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও একই সাথে ভাবাবেগসহ বিষয়টি নিয়ে সংগ্রাম শুরু করলেন। ২১শে ফেব্রুয়ারী সাধারণ ধর্মঘট ডাকলেন। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী করল। ছাত্ররা তা ভঙ্গ করতে গেলে গোলাগুলিতে কিছু জীবন গেল।
১৯৫২ সাল পর্যন্ত বাংলাভাষা নিয়ে যেসব ঘটনা তা আমার প্রত্য জানা ঘটনা নয়-কেননা ১৯৫২ সালে আমি রংপুরের একজন প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাস নাইনের ছাত্র মাত্র। অবশ্য ১৯৫৪ সালে ঢাকায় কলেজে পড়াশুনা করতে আসলে পর ১৯৫৫ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীর নগ্নপায়ে প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহন পরবর্তী প্রায় সব ঘটনারই আমি একজন প্রত্য সাী। আর সাী হবার সৌভাগ্যের কারণ এই যে, আমার পলাশী ব্যারাক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর হোস্টেল থেকে মেডিকেল কলেজ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, জগন্নাথ হল বলা যায় পাথর ছোড়া (ঝঃড়হব ঞযৎড়)ি দূরত্বের মতই কাছে ছিল। তবে অতি অল্পদিনের মধ্যেই যখন বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হল, ২১শে ফেব্রুয়ারীকে সরকারী ছুটি ঘোষণা করল সরকার, মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমীনের সরকারী বাসভবনকে বাংলা একাডেমীতে রূপান্তর করা হল এবং সর্বোপরি ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রে বাংলা ও উর্দুকে কেন্দ্রের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্থান দেয়া হল, তারপর রাষ্ট্রভাষা প্রশ্ন আমিতো বুঝেছিলাম চুড়ান্তভাবে মীমাংসিত ও শেষ হয়েছিল। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬০ প্রায় পাঁচ বছর আমি এক নাগাড়ে ঢাকাতে অবস্থান করি পড়াশুনার পর চাকুরীতে। বাংলাভাষার প্রশ্ন তখন স্বাভাবিকভাবে কারও মুখে শোনা যায়নি। যদিও ১৯৫৮ এর শেষ থেকে আয়ুব খান দেশে সামরিক শাসন দেন এবং ১৯৬২তে ভিন্ন একটি শাসনতন্ত্র জারী করেন, তখনও কিন্তু ভাষা কোন নতুন ইস্যু হয়নি। কেননা, এই দ্বিতীয় শাসনতন্ত্রেও একইভাবে দুটি ভাষাকেই কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। তবে আয়ুব শাহীর বিরুদ্ধে ১৯৬২ এর পর থেকেই ভিন্ন আন্দোলন দানা বাঁধে। ১৯৬৫ এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পর সেই আয়ুব বিরোধী আন্দোলন পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলে জোরদার হয়। এই ফাঁকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ব শাসন আন্দোলন ৬ দফার ভিত্তিতে নতুন রূপ ধারন করলেও স্বাভাবিক কারণে বাংলাভাষা কোন প্রসঙ্গই ছিল না। কেননা সেটি অনেক আগেই সেটেল্‌ড বিষয় ছিল।
১৯৭০ এর নির্বাচন এবং তারই অনুসঙ্গ হয়ে যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, সেখানে বাংলাভাষা-উর্দু ভাষার একটি ুদ্র দ্বন্দ্ব এভাবে বিস্তৃত করানো হয় যে, উভয় ভাষীরা পরস্পরের শত্রু। এরই কিছু পৈশাচিক চিত্র ঘটে ১৯৭১ এর মার্চ থেকে মে মাসের প্রায় ১০ তারিখ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কিন্তু প্রায় ১০ সপ্তাহের মধ্যে দেশের সর্বত্র আর্মি তাদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করলে প্রায় সবকিছু বহুলাংশেই স্বাভাবিক হয়ে আসে মাঝে মাঝে সংঘটিত কিছু বোমাবাজি, বিচ্ছিন্ন খুন-খারাবীর পর ডিসেম্বরে যুদ্ধ শেষ হলে পর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় বসে-প্রবাসী অবস্থান থেকে চলে আসার পর-দেশ চালানো শুরু করে। তাই প্রশ্ন করা যায় ১৯৫৬ সালের পরবর্তী ১৯৭১ পর্যন্ত ১৫টি বছর একুশ কিভাবে কতটুকু সম্পর্কিত ছিল? পরো সম্পর্ক যদি কিছু থেকেও থাকে, তা থেকে কি সুনির্দিষ্ট ও সঠিকভাবে ধরে নেয়া যায় যে ‘একুশ থেকে স্বাধীনতা’ একটি ধারাবাহিক বিষয় ছিল? এমনটি হলে কি ধরে নেয়া হয়না যে একুশের আগে বাংলাদেশের মানুষের কোন সংগ্রামের নমুনা নাই? একুশের আগে এদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য কোনকিছুই আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগ ইত্যাদি কোনকিছুই করেনি?
ঐতিহাসিকরাই বলেন যে, বাংলাদেশের জ্ঞাত ইতিহাস অন্ততঃ কয়েক হাজার বছরের পুরাতন, হাল আমলে বৌদ্ধ সভ্যতা, সেনদের রাজত্ব এবং বৃটিশ এদেশ ১৭৫৭ সালে জবর দখল করার আগে এক নাগাড়ে ৫৫৪ বছর মুসলমানরা শাসন করেছিল। অনেকেই সেনদের মত বহিরাগত হলেও এখানেই তারা নিজেদের স্থায়ী আবাসস্থান গড়ে তুলেছিল। তারা ইসলামী সাম্যের শিায় এদেশীয়ই বনে গিয়েছিল। সেই সাড়ে পাঁচশ বছরের মুসলমান শাসন থেকে যখন বৃটিশরা ছলে বলে কৌশলে এদেশে কতৃêত্ব চালায় ১৯০ বছর ব্যাপী তখন তারা কি করেছিল? মুসলমানদের কোন্‌ অতলে নিপে করেছিল? হ্যাঁ, মুসলমানরা নিজেরাও এ জন্য কম দায়ী ছিল না। কিন্তু সেই অতল গহব্বর থেকে উঠে আসার জন্য, মাথা তুলে দাঁড়াবার প্রত্যয় নিয়ে সেই ১৭৬৪ তে মীর কাসেম থেকে শুরু করে ফকির মজনু শাহ, তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহর পথ ধরে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ এর মুসলিম লীগ হয়ে ১৯৪৭ এর পাকিস্তান রাষ্ট্রটির কায়েম কি কোন ধর্তব্যের বিষয় ইতিহাসে কোনভাবেই ছিল না? এই ১৯০ বছরে বাংলাদেশের মানুষ কি স্বাধীনতার জন্য কোন কিছুই করেনি? যতকিছু করেছে একুশ থেকে একাত্তর মাত্র?
বাংলাভাষার প্রশ্নে যদি আসা যায় তাহলেও বায়ান্নর একুশই কি সবকিছু? সেনদের রৌরব নরকের শাস্তির ভাষাকে কি সুলতানী আমল থেকে শুরু করে কয়েক শতাব্দী ব্যাপী মুসলমানরাই উঁচুতে স্থান দেয়নি? নিজেদের ভাষা আরবী, ফার্সী-ছাড়াও তারা এদেশের মানুষের জন্য তাদের মত করে আরবী-ফার্সী সমৃদ্ধ বাংলাভাষাকে উন্নত করার সর্বাত্মক কোশেশ করেছিলেন। ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করে বৃটিশ শাসক এবং তাদের স্তাবক সংস্ড়্গৃত পন্ডিতরা সেই মুসলমানি আমলের বাংলাকে ধ্বংস করার সর্বাত্মক ষড়যন্ত্র যদি না করতেন, তাহলে এখন অন্য এক উন্নত বাংলাভাষা চালু থাকত এদেশে। ফোর্ট উইলিয়াম এর চেহারার বাংলাভাষায়ও এদেশের মানুষ অত ঘোর আপত্তি করত না, যদি না এদেশের সাধারণ মানুষের মুখের শব্দাদি ঝেটিয়ে তাড়িয়ে না দিত। কেননা, শব্দ তাড়ানোর সাথে সাথে মূল্যবোধও তাড়িয়ে দেয়ার তারা কোশেশ করেছিল। যদি তাদের ঐ কাজের বিপরীত আজতক মক্তব মাদ্রাসা চালু না থাকত তাহলে এদেশের মানুষ পূর্ণ তৌহিদবাদী থাকতে পারত কিনা সন্দেহ। কেননা, মুসলমানি আমলের বাংলাভাষার তাওহীদ সংরণ করার কারণে যেসব আবশ্যকীয় শব্দ ব্যবহার করত, তা ফোর্ট উইলিয়াম পন্থীরা বর্জন করা শুরু করেছিলেন। সেই বর্জন যে বাংলাদেশে কার্যকর নয় তার অসংখ্য প্রমাণ যেমন একটি ‘প্রয়াত’ যা এখানকার মানুষ ‘মরহুম’ (মুসলমান) কিংবা স্বর্গীয় (হিন্দু) ব্যবহার করাতেই আত্মিকভাবে স্বস্তি পায়। বাংলাদেশের শিক্ষার সর্বস্তরের কারিকুলাম সেই বাহাত্তর থেকে কোন লক্ষ্যে কলকাতা ও ভারতমুখী করা হচ্ছে তার জন্য দেখুন অধ্যাপক এম আই ইসলাম এর ‘জীবন স্মৃতি’, পৃষ্ঠা ৬২৩-৬২৫ (২০০৬ প্রকাশিত)।
একুশের সাথে স্বাধীনতাকে যুক্ত করায় অন্য যে সমস্যা জড়িত করা হয় তার একটি হল যারা এদেশে বাংলাভাষী নয়-যেমন চাকমারা, সাঁওতালরা, ইত্যাদি ুদ্র ুদ্র উপজাতিরা যারা একুশের সাথে কোনভাবেই জড়িত ছিলনা। তাছাড়া ১৯৭২ এর পরপরই ওদেরকে ‘বাঙ্গালী’ হতে বলায় তারা সেই যে বিদ্রোহ শুরু করেছে, যার শেষ বিগত ৩৬ বছরেও হয়নি। কবে হবে বলা যায় না। কেননা বাংলা ওদের মাতৃভাষা নয় (মাতৃভাষা শব্দটি সভ্য দেশে এখন ব্যবহার হয় না-তারা ব্যবহার করেন “প্রথম ভাষা” বা ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ)।
জাতিসত্তা গঠনের জন্য ভাষা একটি উপাদান। একমাত্র উপাদান নয়। ভিন্ন উপাদানগুলি হচ্ছে ভৌগলিক সীমানা, ঐ সীমানার জনগণ এবং সংগঠিত একটি সরকারের অধীনে নিয়মাবদ্ধ সকল মানুষ। একভাষী জাতি যেমন পৃথিবীতে আছে, তেমনি বহুভাষী জাতিও কম নয়। ভারতের প্রধান ভাষা ১২/১৪টি। তবু তারা একটি জাতি। তাছাড়া ভারতের প্রায় ৯ কোটি বাংলাভাষীরা ভারতীয় জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মাত্র। কেন তারা বাংলাদেশের বাংলাভাষীদের সাথে একাকার হয়নি? না সাতচল্লিশে না একাত্তরের পর।হতে কি পারবে অদূর ভবিষ্যতে দিল্লীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে? নাকি তারা চায় যে আমরাই যেন বরং দিল্লীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাই? এসব বিষয় চিন্তায় আনলে আমরা কি বুঝতে পারি? ১৯৪৭ পূর্ব দুই শতাব্দীর ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা কি প্রাসঙ্গিক বলে তখন মনে হতে পারে না?
যে তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলা ভাষা ইস্যু উত্থাপন করেছিলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এই যে, সেই আবুল কাসেমসহ, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর প্রমুখ সবার সাথেই আমার তাদের পরিণত জীবনে ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। তাদের কেউই আমাকে একথা বলেননি যে, তারা ‘একুশ থেকে স্বাধীনতা’ এর বিষয়ের মত কোনকিছু ঘুনারেও চিন্তা করেছিলেন। আমি যখন কাসেম সাহেবের মারাত্মক অসুস্থ্য অবস্থায় ১৯৮২ এর শেষে তার আজিমপুর রোডের বাসায় সর্বশেষ দেখা করতে যাই-তারপর আমি বেশ কয়েক বছরের জন্য লন্ডন চলে যাচ্ছিলাম-তখন তিনি সেই ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ নিয়ে অনেক কিছু কথাই আমার কাছে অকপটে স্বীকার করেছিলেন-আফসোসও করেছিলেন। তিনি যা কিছু আমাকে সেই অসুস্থ্য অবস্থায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে বলেছিলেন তা আমি কথায় কথায় কারও কাছে কিছু বললেও লিখিতভাবে কোথাও বলিনি। আজও বলতে পারছিনা। তবে সেই ভাষা আন্দোলন এবং কাসেম সাহেবেরই অন্য একজন সহযোগী বা সহযোদ্ধা এবং ঢাকার মীরপুরে প্রতিষ্ঠিত তাদের বাংলা কলেজ এর প্রসঙ্গের একটি কথা ভাবছি উল্লেখ করা যায়। এই বাংলা কলেজের তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্য এবং ভিন্ন একজন প্রতিষ্ঠাতা ভাইস-প্রিন্সিপাল ছিলেন মতিয়ুর রহমান। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগর থানার আহমদপুর গ্রামের সরকার বাড়ীর ইয়াতিম আলী সরকার এর বড় ছেলে। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্র। মারাত্মক উৎসাহী ও কঠোর পরিশ্রমী লম্বা একজন ছাত্রলীগ কর্মী ও পরে নেতা। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনকে পরাজিত করার জন্য খালেক নেওয়াজ এর জন্য টানা এগারোদিন সেই নির্বাচনী এলাকায় ক্যাম্পেইন করে মারাত্মক অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ কিনা কত বড় ছাত্রলীগার এবং বাংলাভাষার জন্য নিবেদিত প্রাণ কর্মী ছিলেন তা সহজে আন্দাজ করা যায়। এই ব্যক্তিটি ১৯৬৪ সালে পিএইচডি করার জন্য লন্ডন চলে যান। সেখানে ইতিহাসে পিএইচডি করেন। তার স্ত্রীও পিএইচডি করেন। ১৯৭০ এ একবার দেশে এসেছিলেন বেড়াতে। এরপর আর আসেননি। ১৯৭১ এর পর ছয় ছয়খানা গবেষণা পুস্তক লিখেছেন। সবই বাংলাদেশ নিয়ে। ১৯৮২ এর ২১শে ফেব্রুয়ারী তিনি মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ঐ লন্ডনেই ইন্তেকাল করেন। এর কয়েক মাস পর আমি লন্ডনে যাই। তাই ১৯৭৪-৭৫ আমার সাথে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হলেও ১৯৮২ এর অক্টোবরে আমি দ্বিতীয়বার লন্ডনে গেলে আর তার সাথে দেখা হয়নি। তবে জেনে ছিলাম যে, তার ইচ্ছাতেই তার কবর হয়েছে ইসলামাবাদ জাতীয় কবরস্থানে (কবর নং-৩১, সেকশন চার)। বাংলাভাষার অন্য আর একজন ভেটারান সিলেট সুনামগঞ্জের মাহমুদ আলী যিনি কিনা ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলা সরকারের রাজস্ব মন্ত্রী ছিলেন তিনি ১৯৭১ এর পর আর কোনদিনই তার নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেননি। ২০০৬ সালের ১৭ই নভেম্বর তিনি ৮৭ বছর বয়সে ইসলামাবাদেই ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তার কবর হয়।
বাংলাদেশের সরকারী প্রতিষ্ঠান বিটিভিতে আমি মনে করি যে, উপরোক্ত আলোচনার আলোকে একুশে ফেব্রুয়ারীর সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গকে জড়িয়ে ফেলা কোন যৌক্তিক বিষয় হতে পারে না। তাই এই বার্দ্ধক্যে বসে আশা করতে চাই যে, তারা বিষয়াদির নাম-টাইটেল চয়ন করার আগে আর একটু বেশী সাবধান হবেন।

তারিখঃ ০৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০০৮ইং
ইব্রাহিমপুর
কাফরুল, ঢাকা-১২০৬।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28768197 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28768197 2008-02-08 07:26:10
একেই বলে টীম্‌ম ওয়ার্ক!!!
মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন!

টীম্‌ম= টীক্কা খান+ মুজিব+ মওদূদী ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28760135 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28760135 2008-01-11 22:04:20
দেশে কি দ্রুত কোনো অঘটন ঘটতে যাচ্ছে?
আপনাদের কি মনে হয়????

উল্লেখ্য, মেজর জেনারেল আমিনুল করিম জরুরি অবস্থা নিয়ে আসার নাটের গুরু এবং প্রেসিডেন্টের সামনে ফাইল ছুড়ে মারার জন্য খ্যাত, আর গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক লন্ডন থেকে নিয়ে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে বসানোর জন্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নিয়ে খোদ নিজের দলের মধ্যেই বিতর্ক রয়েছে।


প্রথম আলোর আজকের লীড নিউজের একাংশঃ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যর্থ হলে দেশ ও জাতি গভীর অন্ধকারে পড়বে। এই সরকারকে সফল হতে হলে এখনই রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে নির্বাচন, সংস্কার-এসব বিষয়ে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা শুরু করতে হবে।
বর্তমান সরকার দুর্নীতি দমন অভিযানসহ যেসব সংস্কারমূলক কাজ হাতে নিয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে ও স্থায়ী করতে হলে নাগরিক সনদ তৈরি হতে হবে। নাগরিক সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম ভূমিকা পালন করতে পারে।
রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন করতে হলে সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে, প্রয়োজনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন করতে হবে।
গতকাল শনিবার প্রথম আলো আয়োজিত ১১ জানুয়ারিঃ নির্বাচন, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা এসব কথা বলেন। প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক চার উপদেষ্টা ড• আকবর আলি খান, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, এম হাফিজউদ্দিন খান ও সুলতানা কামাল, বিএনপির অস্থায়ী মহাসচিব মেজর (অব•) হাফিজউদ্দিন আহাম্মদ, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আমিনুল করিম, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অ্যান্ড কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গোলটেবিল বৈঠক পরিচালনা করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। (অসমাপ্ত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28757193 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28757193 2008-01-06 09:55:24
সরকার কি প্রথম আলো-স্টার-চ্যানেল আইয়ের ঠিকাদার?
সরকারের উপর কেমন অশুভ ত্রি-অক্ষের ভূত চাপলে নিজেই এই ধরনের সু(?)শীল সমাজের কাজের দায়িত্ব নেয়? সরকারী প্যাড ব্যবহার করে স্কলার্স ফোরামের হয়ে এই ধরনের নিমন্ত্রণ পত্র দেওয়ার হেতু কি?

সম্প্রতি আরো জানা যাচ্ছে, জেলা শিক্ষা অফিসারদের দ্বারা স্কুল শিক্ষকদের বাধ্য করা হচ্ছে ব্র্যাকের ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নিতে!

এসব কিসের আলামত??

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28755028 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28755028 2007-12-30 07:14:08
এই ভন্ডামীর শেষ কোথায়?
১৯৭১-র শহীদ গোলাম মোস্তফার ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে জনৈক মোশাররফ হোসেনের সাক্ষাতকার সম্প্রচার করে ইটিভি ডিসেম্বরের ১০ তারিখে। এই ইটিভিই উক্ত মোশাররফ হোসেনকে ভিন্ন নামে হাসানুজ্জামান সাজিয়ে আরেকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বদীউজ্জামানের ভাই বানিয়ে সাক্ষাতকার সম্প্রচার করে একই মাসের ১৪ তারিখে।

পাপীর পাপ প্রকৃতির অমোঘ বিধানে ধরা পড়েই। পাপ করতে গেলে কিছু না কিছু চিহ্ন পাপীরা রেখে যায়, যা তখন বুঝতেও পারে না।
ছবিতে দেখুন, একই মানুষ, একই পোশাক, একই বাড়ীর আঙিনা...............


মানুষের নীচতা কোথায় নামলে এই কাজগুলো করা যায়?
আসুন এই অসভ্য, নোংরা, বাজে রাজনীতির নিন্দা জানাই। এই ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে দেশ ও জাতি বাঁচান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28752795 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28752795 2007-12-20 04:36:57
এটা কি মির‌্যাকল নয়? http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28751221 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28751221 2007-12-13 00:52:32 'এশিয়া ২০২৫' এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি
বিষয়টির গুরুত্ব আলোচনার দাবী রাখে বলে মনে হয়ঃ


''সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশ এবং এর বাইরে কিছু ঘটনা ঘটছে এবং ঘটে চলেছে যা চিন্তাশীল অনেককেই উদ্বিগ্ন করে তুলছে। ব্যাপারগুলো কাকতালীয় ঘটনা বা উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনাপ্রসূত চিন্তা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বোদ্ধা মহলের অনেকেই।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা রালফ পিটার মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী জার্নালের জুলাই, ২০০৬ সংখ্যায় ‘রক্তের সীমানা’ বা 'ব্লাড বর্ডার্‌স' শীর্ষক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। নিবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, সৌদি আরব, তুরস্ক, মধ্যএশিয়া হয়ে পাকিস্তান পর্যন্ত সব মুসলিম দেশকে ছিন্নভিন্ন করে মার্কিনিদের ইচ্ছামাফিক এগুলোর সীমানাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো। মি. রালফ-এর পরিকল্পনায় সৌদি আরবের মধ্য থেকে পবিত্র ধর্মীয় স্থান মক্কা মদিনাকে নিয়ে গঠিত হবে পবিত্র রাষ্ট্র বা Sacred State ইরাক হবে ত্রিখণ্ডিত। বসরাকে নিয়ে হবে দক্ষিণের শিয়া রাষ্ট্র; মধ্যখানে সুন্নি রাষ্ট্র। কুর্দিদের নিয়ে কুর্দিস্তান। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের গোয়াদর বন্দর নিয়ে হবে স্বাধীন বেলুচিস্তান রাষ্ট্র। সীমান্ত প্রদেশ যাবে আফগানিস্তানে। শুধু পাঞ্জাব আর সিন্ধু থাকবে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। এখন লক্ষণীয় হল, মি. রালফ তার মহাপরিকল্পনা পাকিস্তান পর্যন্ত এসে শেষ করেছেন, আর এগোননি। পিটার ২৫ বছর ধরে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেছেন। সেই উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে ইরাককে কার্যত তিন অংশে বিভক্ত করলেও আমেরিকার সিনেট এই সেদিন দেশটিকে তিন টুকরা করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির পর হঠাত গজিয়ে ওঠা বেলুচিস্তান সমস্যা দিন দিন যেভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা দেখে অন্তত ইরাক আর পাকিস্তানে নিকট ভবিষ্যতে রালফ পিটারের মহাপরিকল্পনার ছায়া যদি কেউ দেখে, তাহলে তা কি খুব অবাস্তব বলা যায়?"

পূর্ণলেখাটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28749482 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28749482 2007-12-05 07:02:08
যে ছবি মিডিয়াতে আসেনি (শর্ট কুইজ) আর কোথায় এটি হয়েছিল? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28743813 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28743813 2007-11-08 21:23:37 ২৮শে অক্টোবরঃ পৃথিবীতে এমন কলংকজনক দিন যেন আর না আসে! http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28740454 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28740454 2007-10-28 03:59:19 মুখোশ-২ (শেষ পর্ব)
ইন্টারনেটের আরেকজন মুখোশধারী লেখক ওয়াশিংটন থেকে নিয়মিত লেখেন তিনি হলেন সাইদ কামরান মির্জা। আসল নাম ডঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে রাশিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নিয়ে আমেরিকার ফেডারেল কৃষি বিভাগে চাকরি করেন। পবিত্র কোর’আন পড়াশোনা করে তিনি যা পেয়েছেন তা হলো “..............চাকরানীর সাথে (লেখার অযোগ্য শব্দ) সম্পর্ক দিব্বি করা যাবে, অন্য ধর্মের মানুষ হত্যা করলে ছওয়াব হবে, অমুসলিম মরলে তার জন্য বদদোয়া করতে হবে, ইসলাম ছাড়া অন্যসব ধর্মকে মেরে তাবা করতে হবে, স্ত্রীদেরকে দিব্বি পেটানো যাবে, মেয়ে মানুষকে (চেহারা ঢেকে) বোরখা পড়াতে হবে এবং গৃহে বন্দী রাখতে হবে (আরও কত উদ্ভট অবান্তর কথা৮....... (মায়াযাল্লাহ) পৃঃ২ । পৃষ্ঠা সাত এ লিখেছেন, ‘ইসলাম বর্তমান বিশ্বের সভ্যতার প্রতি একটা বিরাট হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। তাই ইসলামের বিষদাঁত ভেংগে শান্তির ধর্ম বানানো সবার আজ দায়িত্ব।.........এটা হবে তখন শান্তির ইসলাম, যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি শান্তির খ্রীস্টান, শান্তির জুইশ, শান্তির হিন্দু এবং শান্তির বৌদ্ধ বহাল তবিয়তে আছে.............’। সহযোগী হিসেবে সাথে রেখেছেন একই পথের পথিক বন্ধু জামাল হাসানকে। এদের যোগসুত্র বের করতে গিয়ে জামাল হাসানের ই-মেইলের বরাত দিয়ে অনলাইন জার্নাল সদালাপের তৎকালীন সম্পাদক জিয়াউদ্দীন লিখেছেন, ‘After we moved to this region and as I started to work with Dept. of Justice,……..I contacted my friend Dr. Khurshed Chowdhury……..(Date: Fri13,2001,5:30PM)।‘

দিগন্ত, নন্দিনী হোসেন, ঢাকাইয়া, নিত্যানন্দ, পরশপাথর, আবীসিনা, আমিল ইমানী, আয়েশা আহমেদ, দারিউস সিরাজী, ইমরান হোসেন, মোহাঃ সগীর, শেরখান, সাব্বির আহমেদ, সাইয়্যেদ এম. ইসলাম, সাইয়্যেদ ইব্রাহীসহ অন্য যে কোন নামেই ছাপা হোক না কেন, এটা যে রসুনের এক একটি কোয়া আর রসুনটি যে টলারেন্সের ঠিকাদার সেটি যে ফেইথফ্রিডম ডট অর্গ৯ তা আর কাউকে বলে কয়ে বুঝাতে হবে না। সেই সাথে ঢাকার দেখভাল করার জন্য শাহরিয়ার কবীরের উপর যে কি দায়িত্ব দেয়া রয়েছে তা উক্ত ওয়েব সাইট ব্রাউজ করলেই বোধ করি পরিষ্কার হবে। ফেইথফ্রিডমের মিশন সম্মন্ধে তারা নিজেরাই লিখেছে, প্রাক্তণ মুসলিম হিসেবে একনিষ্ঠতার সাথে পুর্ব ধর্ম ইসলামের কদর্যরুপ মানুষের নিকট উন্মোচন করা ইত্যাদি। এর সাথে ইন্ধন যোগাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ থেকে পরিচালিত বাংলাদেশকে উগ্র ধর্মীয় ও অকার্যকর রাষ্ট্র প্রমাণ করার নিরন্তর প্রয়াসে লিপ্ত সাউথ এশিয়ান এনালাইসিস গ্রুপ বা সায়াগ (saag) ডট অর্গ১০।

ছদ্মনাম ছাড়াও ইসলামের বিরুদ্ধে লেখার আরেকটি নতুন সংযোজন হলো ই-মেইল জালিয়াতি বা ভূয়া ই-মেইল সৃষ্টি করে অত্যন্ত সুচতুরতার সাথে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার বা কমপক্ষে বিভ্রান্তি করার অপচেষ্টা। অন্যদিকে ইসলামপন্থীদের বোকা ভেবে একাজটি করলেও খোদার অমোঘ বিধানে দুনিয়াতেও পাপীর পাপ ধরার পড়ার কোন না কোন নিয়মও সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। নিজের কম্পিউটারের অরিজিনাল আইপি এড্রেস ঠেকাতে রাউটার ব্যবহারের মাধ্যমে অসংখ্য ভূয়া আইপি এড্রেসের জন্ম দিয়ে অসৎ ঊদ্দেশ্য চরিতার্থ করার প্রয়াস ব্যর্থ করে দিচ্ছে এটিকেও ‘ডিটেক্ট’ করার নতুন কৌশল আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি ইসলামী একটি দলকে বিভ্রান্ত করতে ওই দলের নিজস্ব নামে একাউন্ট ওপেন করে ইমেইল করতে গিয়ে ধরা পড়ে যান প্রধাণ একটি দলের আমেরিকা শাখার সাবেক এক নেতা। তার পার্সোনাল কম্পিউটারের আইপি এড্রেস ও বাসার ফোন নাম্বার ট্র্যাক করে দেখা যায় মেইলটি মূলত আসছে মেরীল্যান্ডের ওয়াশিংটন থেকে।

অন্য আরেকটি ঘটনার ঊদাহরণ হিসেবে আমরা ‘দৈনিক আমার দেশ’-র এ বছরের জুন মাসের ১, ৬ ও ৮ তারিখের অনলাইন সংস্করণের লীড নিউজের নীচে ‘আপনার মন্তব্য দিন’ এর ঘরে গেলে দেখতে পাব কিভাবে অন্য আরেকটি ইয়াহু গ্রুপ ডাহুক (Dahuk) থেকে অন্যজনদের লেখা চুরি করে প্রতিপক্ষ অন্য একটি দলের প্রধাণ নেতার নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছে১১ । নিয়মিত ইন্টারনেটসেবীরা নিশ্চয়ই অবগত আছেন কোন্‌ চৌধুরী ও ভূঁইয়া নানা রং বেরঙের আঁকা বাকা লেখায় ইসলামী ব্যাক্তিত্বদের চরিত্র হননে সদা তৎপর।

আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইট্‌স এ্যাক্টে কোন ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের বিরুদ্ধে হিংসা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো অত্যন্ত গর্হিত ও দন্ডনীয় অপরাধ। যেহেতু এসব ষড়যন্ত্রের মূল হোতারা বেশীরভাগই কানাডায় বসবাসরত, আমরা সেদেশের ক্রিমিনাল কোডের দিকে নজর দিলে সেকশন ৩১৯ (১) এ দেখতে পাব (আমেরিকার আইনও মোটামুটি এরুপই );

319(1) Public incitement of hatred

Everyone who, by communicating statements in any public place, incites hatred against any identifiable group where such incitement is likely to lead to breach of the peace is guilty of
(a) an indictable offence and is liable to imprisonment for a term not exceeding two years; or
(b) an offence punishable on summary conviction.
শাস্তির এরকম সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্বেও দিনের পর দিন নিজেদের আড়ালে রেখে সরকারী অফিস-আদালত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব, পাবলিক লাইব্রেরী ইত্যাদি ব্যবহার করে শুধু এক দল মানুষের মর্মমূলে খুঁজে খুঁজে স্পর্শকাতর বিষয়সমূহ বের করে আঘাত চালানোর যে উদ্দেশ্য কি তা আমরা উপরোক্ত সাঈদ কামরান মির্জারুপী ডঃ খোরশেদ আলম চৌধুরীর মুখ থেকে শুনলেই পরিষ্কার বুঝতে পারি,’...........অলৌকিকতা বা বিষদাঁতকে ধ্বংস করাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। ইসলামকে চিরতরে দুনিয়া থেকে নিচ্ছিন্ন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, এটা সম্ভবও নয়। ‘মীত’ বিহীন (বিষদাঁত বিহীন) ইসলাম আমাদের কোন ক্ষতি করবে না১২ ।

সাওয়া-উস-সাবিল বা সহজ, সরল ও ভারসাম্যপুর্ণ মধ্যমপথকে কলুষিত করতে যুগে যুগে শয়তানেরা কম কসুর করেনি। বনি আদমকে জাহান্নামের পথে নেয়ার জন্য শয়তান আল্লাহ্‌র নিকট যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল সেটি সে করবেই, তবে সত্যিকারের মুসলিম হিসেবে নব্য ও পুরোনো সব ষড়যন্ত্রের নাড়ি নক্ষত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিফহাল থেকে এক খাদে দু’বার পা না দেয়া অথবা নিজেকে নিরাপদ দুরুত্বে রেখে তা মোকাবেলার প্রস্ততি গ্রহণই হল প্রিয় নবীজির বিশুদ্ধ সুন্নত।
লেখাটা নয়াদিগন্ত ছেপেছে

*লেখক একজন সংবাদ কর্মী, ইমেইলঃ
.. ...........................................................................
সুত্রসমূহঃ
১. http://reborn-by-design.com/if-project03.html
২.http://www.mukto-mona.com/project/muktanwesa/1st_issue/pakhi_hoyew_Taslima.htm
৩.http://www.shodalap.com/mukhosh_alamgir.pdf
৪. Click This Link
৫. Click This Link
৬.http://www.bangladesh-web.com/view.php?hidDate=2004-03-
31&hidType=OPT&hidRecord=0000000000000000004863
৭. Click This Link
৮. http://www.shodalap.com/_MUKHOS_1.htm
৯. http://www.faithfreedom.org/Authors.htm
১০.www.saag.org
১১. Click This Link এবং Click This Link)
১২. http://www.shodalap.com/SKM_IslamicRitual.pdf ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28733822 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28733822 2007-09-26 23:14:31
মুখোশ-১
সমস্যা তখনই দেখা দেয় যখন কেউ পুরুষ হয়েও মহিলার নাম ধারণ করে কিংবা হিন্দু হয়েও মুসলিম সেজে বেনামে নোংরা, বিশ্রী ও অযৌক্তিক ভাষায় সমাজে অনাচার, বিভেদ ও ঘৃণা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ইন্টারনেট গ্রুপে এক বিলিয়নেরও বেশী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিরামহীনভাবে মসী চালিয়ে যান। উগ্র, উন্মাদ বা ফ্যানাটিকদের কবলে পড়ে সারা পৃথিবী আজ অশান্ত। ধর্মীয় বা জাতিগত ফ্যানাটিক যেমন ভয়ংকর আবার এদের দমনে কট্টর বিরোধী হওয়াও কম ভয়াবহ নয়। নিজের বিশ্বাস যাই হোক না কেন (তাতে কারো যায় আসে ও না), কারও বিশ্বাসে আঘাত করাও যে জঘন্যতম অপরাধ তা তারা উদ্দেশ্যমুলক ভাবে না জানার ভান করেন বলে মনে হয়। এদেরকে ‘ব্যধিগ্রস্ত’ আখ্যায়িত করেই হয়তো মহান আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন পবিত্র কুর’আনে বলেছেন, ‘যখন তাদেরকে বলা হয় দুনিয়ার বুকে দাংগা, হাংগামা সৃষ্টি করোনা, তখন তারা বলে আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি। মনে রেখো, তারাই হাংগামা সৃষ্টিকারী, অথচ তারা উপলব্ধি করে না।‘ (বাকারাঃ ১১-১২)
এদের উদ্দেশ্যও হয়তো হবে ইসলামপন্থীরা তাদের নিয়েই ব্যস্ত থাকুক। আমরা তাই বিস্তারিতভাবে সেদিকে আলোচনায় যাব না, শুধু পাঠকদেরকে মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির এই হীন অপতৎপরতা সম্পর্কে সচেতন করতে যেটুকু তুলে না ধরলেই নয়, সেটুকু নিয়েই আলোকপাত করব।

সে যাহোক, দিন বদলেছে। নিজেকে লুকোনোর যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, কম্পিউটার কিংবা ইন্টারনেটের এই যুগে আসল নামটা এক সময় নিজের ব্যক্তিগত সমস্ত গোপন খবরাদি নিয়ে বের হয়ে আসতে পারে। তখন একটি মিথ্যেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শত শঠতা, মিথ্যে ও ভণিতার আশ্রয় নিতে হয়। অবশ্য মাঝে মধ্যে নির্দোষেরাও যে ‘ভিকটিমাইজ্‌ড’ হন না তাও কিন্ত নয়।
ঘরের মধ্যে বসেই ঐতিহাসিকভাবে চরম মুসলিম বিদ্বেষী ও বাংলাদেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা ইসরায়েলের কে বন্ধু তা জানাও আজ অসাধ্য নয়। সার্চ ইঞ্জিন গুগ্‌ল এ টাইপ করুন ‘আর ইউ ফ্রেন্ড অফ্‌ ইসরায়িল’, দেখবেন ঠিকই চলে আসছে ২৭১ নম্বরে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর নাম১ । অথচ বেচারা কতবারই না অস্বীকার করেছেন! কৌতুহলী পাঠকদের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটসমূহ দেয়ারও চেষ্টা করব যাতে করে তারা ব্রাউজ করে পরে আরো অনেক তথ্য জেনে নিতে পারেন।
বিভিন্ন ই-গ্রুপে বছর চারেক আগে ‘রুদ্র মুহম্মদ’ নামে ইসলামকে তুলোধুনো করে নিয়মিত লিখত। পরে তার
কম্পিউটারে কৃত এক্রোবেট পিডিএফ ফাইলের প্রপার্টিজ এবং আইপি এড্রেস তালাশ করে দেখা গেল ‘রুদ্র মুহম্মদ’ নামের মুখোশধারী হলেন স্বঘোষিত নাস্তিক সিংগাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র অভিজিত রায়। মুক্তমনা ও ভিন্নমত নামের চরম ফ্যাসিস্ট দুটি ওয়েবসাইট ও ইয়াহুগ্রুপের কর্ণধার। সাথে রেখেছেন গুটি কতেক মুখোশধারী ‘কুদ্দুস খান’, ‘মেহুল কামদার’, ও ‘বিপ্লব পাল’ কে। তসলিমা নাসরিনের কবিতা “..............পাখি হয়ে ফিরব একদিন” ছেপে ও তার গুণকীর্তনের মধ্য দিয়ে সম্প্রতি মুক্তমনার নিবেদন ‘মুক্তান্বেষা’ র প্রথম বর্ষ , প্রথম সংখ্যা বের হলো ঢাকার ৬/৭ সেগুন বাগিচা ও বি/৬ ডোমিনো এল্ডোরাডো থেকে। যোগাযোগের জন্য নাম দেয়া হয়েছে সাইফুর রহমান তপনের২ ।

এ দুটি ওয়েবসাইট ও ইয়াহু গ্রুপের কাজই হলো অশালীন ও নীতিবিবর্জিত পন্থা অবলম্বন করে ইসলাম ও বাংলাদেশের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে লিখে দ্রুত ইন্টারনেটে পোস্ট করা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পথ হিসেবে নিজেদের আসল নাম আড়াল করাকে তারা পছন্দ করেন।
যেমন, এক ‘আলমগীর’ লিখেছেন ‘নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিন, মুখোশ ছুঁড়ে ফেলি৩ । রসুলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসিত চিত্র অংকনে ব্যস্ত সেতারা হাশেমের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল বস্ততই তিনি একজন পৌঢ় পুরুষ, আসল নাম মহিউদ্দীন। নিউইয়র্কে থাকেন, বামপন্থী ঘেঁষা সংসদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে থাকেন কখনো কখনো ৪ ।

এদের মধ্যে সম্ভবত সবচে’ এগিয়ে রয়েছেন কানাডার টরোন্টোতে বসবাসরত ‘ফতেমোল্লা’। আসল নাম হাসান মাহমুদ। বাংলারইসলাম ডট কম নামে একটি ওয়েবসাইট চালান তিনি। ইচ্ছেমত ইসলামের বিরুদ্ধে মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে লিখে চলেছেন অবিরত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে লেখাপড়া করলেও এখন তিনি কট্টর সেক্যুলারিস্ট ও মুসলিম নামধারীদের নিয়ে ইসলাম বিরোধী সংগঠন মুসলিম কানাডিয়ান কংগ্রেস বা এমসিসি’র শারীয়া অ্যান্ড ইসলামিক ল’ বিভাগের ডিরেক্টর। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পাকিস্থানের তারেক ফাতাহ্‌। উল্লেখ্য, মুসলিম সার্কেল অফ কানাডা বা এমসিসি নামে আরেকটি সংগঠনের অস্তিত্ব রয়েছে যারা কিনা বাংলাদেশীদের সমস্যা ও সত্যিকার ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চলেছে। যাহোক, মুসলিম নাম ব্যবহার করে পশুত্বেরও বিরোধী সমকামী আন্দোলনকেও ইসলামের সহমত মানবাধিকার আখ্যা দিয়ে তারেক ফাতাহ্ ও ফতেমোল্লার দল কিভাবে মুসলমানদের সর্বনাশ করে চলেছে তা কৌতুহলী পাঠকেরা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট মুসলিমকানাডিয়ানকংগ্রেস ডট অর্গ ব্রাউজ করলেই বুঝতে পারবেন। ২০০৫ সালে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য আর্বিট্রেশন এ্যাক্টকে বিভিন্ন ধর্মীয় কোর্টে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন চালাতে গিয়ে শারীয়া আইন নিয়ে ঘৃণ্য ও কুৎসিত অপপ্রচারে মেতে ওঠে এই এমসিসি। ড: তাজ হাশমীকে সাথে করে ফতেমোল্লা তার নিজের ভাষায় '৭১-র মত গর্জে উঠে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নিয়তের পরিহাসে এবার তিনি সহযোদ্ধা হিসেবে বাংগালীর বদলে পেয়েছেন পাকিস্তানী তারেক ফাতাহসহ ইয়াজিদী, পারসিক, বাহাঈ, কালদিয়ান, ইসমাইলী, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মুসলিম নামধারী অন্য ধর্মের কিছু অনুসারী, যাদের সম্মন্ধে আমেরিকা ও কানাডার মুসলিম স্কলাররা নাম বিভ্রাটে পড়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বদা সতর্ক করেন। পাঠকরা হয়তো জেনে থাকবেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে ইসলাম ছাড়া অন্য সব ধর্মের অনুসারীরাও আরবি ভাষাভাষী হওয়ায় মুসলিম ধরণের নাম (যেমন, রইস, মাহমুদ, আব্বাস, নাফিস, আব্দুল্লাহ ইত্যাদি) ও ইসলামী পরিভাষা (যেমন আল্লাহ, সালাম, জাযাকাল্লাহ ইত্যাদি) ব্যবহারসহ সুন্দর করে কুর’আন তেলয়াত ও লম্বা সাদা মাথা ঢাকা কোর্তা পরিধান করেন। অথচ বিশ্বাসে ইসলামের সাথে আকাশ পাতাল ফারাক। যেমন, ইরাকে ঈসা (আঃ) এর জন্মেরো আগে থেকে আজ পর্যন্ত ক্ষুদ্র ইয়াজিদী সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রয়েছে যারা ঘোষণা দিয়ে শয়তানের ঊপাসনা করে, পারসিকরা এখনো আগুন জালিয়ে চারদিকে জড়ো হয়ে আগুনের নিকট ভাল-মন্দ প্রার্থণা করে, কাদিয়ানীদের কথা নাইবা বললাম ইত্যাদি । উক্ত এমসিসি’র ক্ষুদ্র এ দল কানাডা সরকারের উদার ও মুক্তনীতির আনুকূল্যে বিভিন্ন টক শো’তে অংশ নিয়ে ‘পলিটিকেল ইসলাম’ থেকে সরে রসুল (সাঃ) এর জন্মেরো ছয়শো বছর পরে বিস্তৃত ‘সুফী ইসলাম’এর দিকে আসতে মুসলমানদেরকে নসিহত করেন যদিও নিজেরা কোনটিতেই আস্থা রাখেন বলে প্রতীয়মান হয় না। এরা শারীয়া আইনকে ইসলাম বিরোধী আখ্যায়িত করে একে শুদ্ধ পথে নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করার দূঃসাহস দেখান (দৈনিক নিউএজ, ১৮ই এপ্রিল, ২০০৫)।

অনলাইন সাপ্তাহিকী ‘সাপ্তাহিক ২০০০’ এর জন্য অটোয়ায় থাকা ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের সাথে সাক্ষাৎকারে ফতেমোল্লা বলেছেন, ‘পয়গম্বর’ মানে হলো পয়গাম অর্থাৎ বার্তাবাহক, রাজনীতিক নয়। কোরআন শেষ নবীকে শুধু পয়গাম পৌছে দিতে বলেছে এবং বলেছে -‘ তুমি তাদের শাসক নও।‘ সংগীত সম্মন্ধে বলেছেন, সমস্ত সৃষ্টিটাই তো একটা সংগীত, কোরআন নিজেই এক মহাসংগীত। হজরত দাউদ (আঃ) নিজেই সংগীতজ্ঞ ছিলেন৫।

ফতেমোল্লাকে সম্বোধণ করে ডঃ তাজ হাশমী লিখেছেন, আমি বিশ্বাস করি শুধুমাত্র কুর’আনের শিক্ষাদানের মাধ্যমে ইসলামকে পরিশুদ্ধ করার এখনোই উপযুক্ত সময়, ইমাম বুখারী-গাজ্জালী-আবু হানিফা (যাদের সাথে এ যুগের বান্না-কুতুব-মওদূদীও রয়েছেন) যা করতে বলেছেন তার মাধ্যমে নয় (দৈনিক নিউএজ, ১৮ই এপ্রিল, ২০০৫)।

উল্লেখ্য, ডঃ তাজ হাশমী কানাডার ভ্যানকোভারে সিমন ফ্রেজার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস পড়ান, ‘নো টু পলিটিকেল ইসলাম’ এর কনভেনর এবং ‘উইমেন এন্ড ইসলাম ইন বাংলাদেশ’ গ্রন্থের লেখক।
নিউইয়র্ক ও নিউ অরলিয়েন্স থেকে ডঃ জাফর উল্লাহ নামে আরেকজন অধ্যাপক নেটে ইসলামের বিরুদ্ধে ক্লান্তিহীনভাবে যাচ্ছে তাই লিখে মুসলিমদেরকে উস্কে দেয়ার কাজে লিপ্ত রয়েছেন। তরুন ইসলামী চিন্তাবিদ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী মুঃ সাইদুল ইসলামের এক ক্ষুরধার লেখার জবাব এনএফবি (News From Bangladesh)-তে এভাবে দিয়েছেন, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইন্টারনেট ফ্রি থিংকাররা মুহম্মদের বাণী (মুসলিমরা যাকে কুরআন বলে)-কে সম্পুর্ণ প্রত্যাখান করেছেন৬ । এসব জ্ঞান পাপীরা মুসলিম ও বাংলাদেশ বিদ্বেষী পশ্চিম বাংলার এক শ্রেণীর লেখকদের সাথে করে জায়নবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ওয়েব সাইটসমূহে ইসলামকে বিশ্বের সমস্ত অশান্তির মুল কারণ এবং বাংলাদেশের সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পেছনে ইসলামের গন্ধ খুঁজে বের করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২য় পর্ব এখানে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28733173 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28733173 2007-09-24 01:26:29
প্রথম আলোর কার্টুন গর্বের সাথে এরা বলেছিল, বর্তমানের সরকারকে এরাই নিয়ে এসেছে।
এদের ষড়যন্ত্রের শিকার আমার দেশ, এনটিভি, ইসলামিক টিভি এবং সবশেষে সিএসবি চ্যানেল। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থীদের ধ্বংস করে দেশটাকে খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে এই বিদেশী এজেন্টরা।

সবাইকে মাথা ঠান্ডা রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে এদের মোকাবেলা করার জন্য অনুরোধ জানাই।

দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28732292 http://www.somewhereinblog.net/blog/ichhamatiblog/28732292 2007-09-19 19:55:22