আমার প্রিয় পোস্ট

অথৈ তন্দ্রার ঢেউ

মজনু শাহ-র নিকট ব্লগীয় চিঠি: ভাষা সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি

২১ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রিয় মজনু ভাই,
আপনার দীর্ঘ একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই লেখার অবতারনা। (নিচে মন্তব্যটি তুলে দিলাম) । অনেক কথা চলে আসছে বলে আলাদা পোস্ট দিলাম। প্রথমে আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। কারন প্রথমতঃ আপনার মন্তব্যটি আমাকে এমন কিছু ভাবনা দিয়েছে যা আমি আগে ভাবি নাই; এবং দ্বিতীয়তঃ আপনাকে আমি একরকম অভিভাবক মনে করি আর এই মন্তব্যটা প্রমান করে যে আমার তা মনে করাটা ভুল নয়।

প্রথমেই বলে নেই- এই লেখাটি আপনার মন্তব্যের পাল্টা যুক্তি দেখানোর কোন প্রয়াস নয়, বরং এক ধরনের আত্মস্বীকারোক্তি । আপনার কথা সত্য - নির্দ্বিধায় স্বীকার করছি। আমার কবিতার ভাষা এবং মন্তব্যের ভাষা স্পষ্টতই ভিন্ন এবং তা ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ধরনের শঠতা বলে চিহ্নিত করা যায়, অবশ্যই সত্য। তা আপনার এবং আরো অনেকেরই হয় তো বিরক্তির কারন হয়েছে এবং এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত । এই দুই ক্ষেত্রে ভাষার ভিন্নতা নিয়ে আমি নিজেও সচেতন। এখন এইরকম লেখার কারনটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি। আমি কিন্তু কথা বলি এই ‘খাইতেসি/ করতেসি’ জাতীয় মিশ্র কথ্য ভাষাটিতে । কবিতা লেখা আর কথা বলা এই দুই ক্ষেত্রে আমার ভাবনার ভাষা সত্যিকার অর্থে দুইরকম। যখন আমি কবিতা নিয়ে ভাবি, কবিতার পঙক্তিগুলো যখন আমার মাথায় তৈরি হতে থাকে তখন আমি মান চলিত ভাষাতেই চিন্তা করি। সম্ভবত: এই ভাষাতেই বেশির ভাগ কবিতা পড়েছি আর কবিতার ক্ষেত্রে এই ভাষাতে প্রথম থেকে ভাবতেই আমি অভ্যস্ত বলে। যদি আমি কথ্য ভাষায় কবিতার কথা ভাবতে পারতাম তাহলে সেই ভাষাতেই লিখতাম। এতে ভাষার দূষণ হয় কি না জানি না, আমি আসলে ভাষার বিশুদ্ধতায় বিশ্বাস করি না। আবার যখন মন্তব্যের জবাব দেই, তখন তা একধরনের আলাপচারিতা বলে মনে হয় । এবং অনেক সময় কেউ যদি মানভাষায় মন্তব্য করে তাহলে দেখা যায় জবাবটাও ওই ভাষাতেই লিখছি । কারন তখন ভাবনাটা মান ভাষাতেই করা হয় । যখন আমি যেভাবে ভাবি তখন ঠিক সেভাবেই লিখি। তবে কিছু শব্দ আছে যেগুলো ইচ্ছাকৃত ভাবে ব্যবহার করি । আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন যে এই ব্লগের নিজস্ব কিছু শব্দ আছে যা কথ্য বা মান চলিত ভাষা থেকে ভিন্ন । এখানে কিছু শব্দ ইচ্ছা করেই খানিকটা বিকৃত করে লেখা হয় যেমন: বোলগ, পুষ্ট, কোবতা ইত্যাদি। প্রথম যখন ‘কোবতা’ শব্দটা এখানে পেলাম তখন সত্যি বলতে খানিকটা আহত হয়েছিলাম। পরে দেখলাম, মূলতঃ মজা করার জন্যই এইরকম লেখা হয়। আমিও এই শব্দগুলো নিছক মজার জন্যই ব্যবহার করেছি, আর কিছু ভাবি নি ।

চলিত যে মানভাষায় আমরা লিখছি সে ভাষাটাকে আমি সাহিত্য ছাড়া আর কোথাও তো অস্তিত্বশীল দেখি না। মানুষ কথা বলে ‘করতেসি/যাইতেসি’ এই মিশ্র কথ্য ভাষায় নয়তো কোন আঞ্চলিক ভাষায় । রাইসুদা এবং আরো কয়েকজন এই মিশ্র কথ্য ভাষাটিকে কবিতায় প্রয়োগ করছেন। এইটা আমার ভালোই লাগে। রাইসুদা’র কিছু লেখা পড়ে খুব মজা পেয়েছিলাম । যাই হোক, আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল - এই মিশ্র কথ্য ভাষাটিতে ‘কবিতা’ লেখা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। এর জন্য অনেক প্রতিভাবান হওয়া প্রয়োজন। এবং আমি আসলে মান চলিত ভাষাতেই কবিতা লেখার পক্ষপাতী। কারন আমার মনে হয় এখনো এই ভাষাতেই বৃহত্তর পাঠকের সাথে কম্যুনিকেট করা যায়। অদূর ভবিষ্যতেও অবস্থা এই রকম থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস। এবং এই ব্যাপারেও আমার কোনই সন্দেহ নাই যে যদি আমার কোন লেখা টিকে থাকে তবে আমার মান চলিত ভাষায় লেখা কবিতাগুলোই টিকে থাকবে, কথ্য ভাষায় করা মন্তব্যগুলি টিকে থাকার বিন্দুমাত্র কোন সম্ভাবনা নাই। আর এই মিশ্র কথ্য ভাষায় কবিতা লেখা আমার সামর্থ্যে কুলাবে বলেও মনে করি না।

আগেই বলেছি আমি ভাষার বিশুদ্ধতায় বিশ্বাসী না। আজ যে ভাষাকে আমরা স্ট্যান্ডার্ড বলে ধরে নিচ্ছি তা ৫০ বা ১০০ বছর পর আর স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে গন্য হবে বলে ভাবি না। তাই ভাষার দূষণ সংক্রান্ত ইস্যুতে সম্ভবত: আমাদের মতভিন্নতা থাকবে।

এই লেখাটি কিন্তু মান চলিতভাষায় লিখলাম। অনেস্টলি এইভাষাতেই চিন্তা করেছি লেখার সময়। তবে আপনার মন্তব্যটি আমাকে যথেষ্ট প্রভাবিত করেছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই ভাষাতেই এখন থেকে লিখব- কবিতা, অন্য লেখা বা মন্তব্য- সবই। ভাষা আসলে সামন্জস্যপূর্ণ হওয়াই উচিত। অন্যথায় পাঠকের বিরক্তি উৎপাদন হলে তাকে খুব একটা দোষ দেয়া যায় না। ব্যাপারটা এভাবে ধরিয়ে দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

প্রবাস জীবন কেমন কাটছে? আলিফ কেমন আছে? আর আপনার নতুন লেখা রোমান হরফে হলেও পোস্ট করুন প্লিজ, পড়তে চাই।
ভাল থাকবেন।

অনেক শুভেচ্ছা জানবেন ।


"prothome bole rakhi kobita-ta valo laglo.

aj ami ektu onno bisoye montobbo korte chai, seta holo, jevabe, je vashay tumi lekho, ar je vashay tumi pathokke sara dao sobsomoy, tar moddhe ekta doitota ase. doitota dekhle hasi pay, kenona eta ek dhoroner shothotao bote, ontoto vashar khetre.

likhbar belay tumi man-vasha ar montobber belay ekta odvut jogakhichuri toiri koro... dekhe kemon khotka lage, tokhon vabi, konta tomar vasha ?

kobi nijei jodi tar kobitake kobte bole, tahole pathok setake kobte bolei vabte obvosto hoye uthbe ekdin.
kenona ekta style dariye jay ei korte korte. ami tomar kobitar mugdho pathok, kintu tomar oi lagtase jaitase hattase khaitae ...boro srutikotu lage ...

raisu e bepare honest. se jevabe bole sevabei lekhe.


kintu tomar kobita porar por, montobber ghore jokhon lagtase jaitase khaitase dekhi... tokhon vabi, banglavashata ekhon torun kobir hat dhore
koi jaitase ?

othocho etodin sune elam, kobirai naki vashatake jabotiyo dushoner hat theke bachanor lorai kore...


vul sune elam tobe ?"


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আত্মস্বীকারোক্তি ;

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ১৯৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২১ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৪
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: তর্কটা খেয়াল করি নাই আগে। এখন কিছু অনুধাবন করলাম।
২১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২১

লেখক বলেছেন: মাহবুব ভাই, তর্ক করতে চাই নাই। মজনু ভাইয়ের কথা ঠিক। আমি আমার বক্তব্যটা জানাইলাম মাত্র। বিষয় অনুধাবন করে আপনার ভাবনা কি?

২. ২১ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫২
comment by: সফেদ ফরাজী...... বলেছেন: আমিও তো আগে লক্ষ করি নাই। মজনু ভাইয়ের যুক্তিগুলোর পক্ষে তো সাড়া দেয়া যায়ই।
২১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২২

লেখক বলেছেন: ফরাজী ভাই, মজনু ভাইয়ের যুক্তিগুলোর পক্ষে আমিও সাড়া দিয়েছি। কিন্তু আমার বক্তব্য বিষয়ে আপনার ভাবনা জানতে চাই।

৩. ২১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৩৯
comment by: তারিক টুকু বলেছেন: ইনান,

আপনার কিছু সরল স্বীকারোক্তি আছে চিঠিটাতে তার সাথে কিঞ্চিৎ দৃঢ়তাও। এই স্বীকারোক্তির জন্য আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ।

মজনু ভাইকে জানাব কৃতজ্ঞতা। কেননা, এই প্রসঙ্গটা তোলা দরকার ছিলো। খুব দরকার ছিলো।
২১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ টুকু। প্রসঙ্গটা গুরুত্বপূর্ন সন্দেহ নাই। আমি আপনাদের এই বিষয়ে বক্তব্য জানতেও আগ্রহী। ভালো থাকবেন।

২১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: আপনার বক্তব্য। ভুল করে আপনাদের লিখে ফেলেছি। :)

৪. ২১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৫৬
comment by: মজনু শাহ বলেছেন: valo laglo tomar protikkria pore.

vasha niye nana rokom vabna, kotha chalachali houa dorkar. seta sasthokori hobe asa kori. ami raisur vashar majeja prothom bujhte pari bus-e. ekdin ekta lokal bus-e mirpur theke kothao jachsilam. bus-er helper vetore gadagadi lok tobu bar bar bolsilen, chaipa kharan... chaipa kharan... amar hothat-i mone holo, raisu je sahitto kosen, seta ei chaipa kharan....esoberi itibrityo... ekta srenir beche thakar lorai hisebeo eke dekha jay....

somaje ekta sreni jodi chaipa kharan bole se kintu van korse na, se tar jayga thekei bolse... dinrat tar ekoi vasha. dinrat tar ekoi lorai.

chaipa kharan keu jodi na bole, jodi keu sore daran bole... setao sesporjunto ekta srenikei mean korbe....


konotakei amra valo ba mondo bolte pari na vasha bepare, shudu sotorko thakte pari, ami amake honestly represent korte parsi kina ....

২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মজনু ভাই... :)
আপনার অভিজ্ঞতাটি ভাল লাগল। এখন যে বাসে দাঁড়িয়ে 'চাইপা খাড়ান' আর বিয়ের অনুষ্ঠানে 'সরে দাঁড়ান' বলতে অভ্যস্ত তার ভাষাটাও কিন্তু অনেস্ট। আমার তাই মনে হয়। এই ভাষাভঙ্গী কিন্তু সে নিজে থেক আরোপ করে নাই। ভিন্ন পরিস্থতিতে এইরকম ভিন্ন ভাষারীতির চর্চা শৈশব থেকেই তার শিখে আসা... এক্ষেত্রে বরং বাসে দাঁড়িয়ে 'সরে দাঁড়ান' বলাটা আরোপিত মনে হয় আমার কাছে। যাই হোক, এ বিষয়ে নানা রকম ভাবনা বিনিময় হোক, এটা আপনার মতো আমিও প্রত্যাশা করি।

৫. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১:৩৫
comment by: অশোক দেব বলেছেন: বিতর্কটা খুব জরুরি। ভাষার বিশুদ্ধতা আপেক্ষিক।আজ যা মান্য ভাষা কাল তা না-ও থাকতে পারে। কবির কাজ ভাষার বিশুদ্ধতা বজায় রাখা নয়, ভাষাকে গতিময়ী রাখা। যাবনাকো, আসিও,পরশ করিতে ধরণের ক্রিয়াপদ ছেড়ে যখন যাব না, এসো, ছুঁতে ব্যবহার করেন কবিরা তখনও একটা রে রে শোনা গেছে। আবার মধুসূদনকে নানা কটু মন্তব্য শুনতে হয়েছে। জীবানানন্দ যখন কথ্য ঘুমাইতাসে কে ঘুমাতেছে বা যাইতাসিকে যেতেছে করছেন তখনও তাকে শুনতে হয়েছা তীব্র সমালোচনা। বাংলাদেশের কয়েকজন কবিকে অসাধারণ দক্ষতায় কথ্য ভাষায় সফল কবিতা লিখতে দেখেছি। পরাণের গহীন ভিতর নামক একটি কাব্যগ্রন্থের অসাধারণ সনেটগুলো এখনও মনে উজ্জ্বল।বা মুজীব ইরমের সিলেটি ভাষার কবিতাগুলো। আমার মনে হয় কবি সৎভাবে কাজ করলে ভাষা তাঁর প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ান না।তবে কাজটি করতে হবে ভাষার প্রতি কবিসূলভ দায়িত্ব নিয়ে। ব্লগে মন্তব্যগুলি যেহেতু আড্ডা মারার মত, তাই সেগুলো কথ্য ভাষায় হলে আপত্তির মনে হয় না। কবি হিসাবে আপনার কবিতা আমার ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।ভালো থাকবেন

 

 


সুযোগ চাই- কিছুই হবো না
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১১৪৬৩