ব্লগ-আলোচনা:: ইসলামী ব্যংক কি সুদ দেয়?
০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৪
সাম্প্রতিক একটি পোস্টে একজন ব্লগার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইসলামী ব্যংকিং নিয়ে ।
আলোচনায় প্রথমেই সেই ব্যপারটিই আসুক। পর্যায় ক্রমে আরো প্রশ্ন নিয়ে কথা বলা হবে, আশা করছি।
১. সাধারণভাবে আমরা জানি, ইসলামী ব্যংকিং হল (সুদ বিহীন) লাভ/লোকশান ভিত্তিক ব্যংকিং ব্যবস্থা। কিন্তু দেখা যায়, (বিশেষ করে আমাদের দেশের ইসলামী ধারার ব্যংক গুলোয়) তারা কেবল লাভই দিয়ে থাকে। কিন্তু আমানতকারীদের লস দিতে কখনো দেখা যায়নি দিতে ? তাহলে কি তারা সুদকেই তাদের পলিসি হিসেবে অবলম্বন করে থাকে?
::আপডেট::
যাযাবর পংক্তিমালা বলেছেন,
ইসলামী ব্যাংক একটা ভাওতাবাজী। বাংলাদেশে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম না মেনে কি ব্যাংকিং করা যাবে?
মধুমিতা বলেছেন :
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতেই হবে। ওখানে সুদে হিসাব হয়।
গন্ডমূর্খ বলেছেন :
এই ব্যাংক যখন তার গ্রাহককে লোন দেয় তখন কিন্তু এ কথা বলে না। তখন কিন্তু নির্দিষ্ট হারে লাভ চায়। গ্রাহকের লস হলেও কিন্তু ইসলামী ব্যাংক সেটা বহন করবে না, তাকে ঐ হারে লাভ মানে সুদ দিতেই হবে। আর এই আদায়কৃত সুদের অংশই আমানতকারীরা গ্রহণ করছেন লভ্যাংশ বলে।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন :
আমার মনে হয় এটা বেশ পড়াশোনার দাবী রাখা শাস্ত্র, এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ে কর্পোরেট বিজনেসের দিকনির্দেশনা কেমন হবে সে বিষয়েও জানা দরকার ... এখন তো আর মহাজনী সিস্টেম নাই ... কর্পোরেট সিস্টেমে আপনি একখাতের লস অন্যখাতের লাভ দিয়ে পোষান ... এখন ঘাইটা দেখতে হবে সেটা ইসলামী ব্যাংকিংয়ে জায়েজ কিনা ... যেমন ধরেন আপনার টাকা তারা খাটাইল তেলের বিজনেসে, আমারটা খাটাইল পরিবহনে ... এখন তেলের বিজনেসে অনেক লাভ হইল, পরিবহনে খানিক লস হইল, তখন কি হবে?... সব ব্যালান্স করে আপনি আমি সমান লভ্যাংশ পাব? নাকি, আপনি অনেক লাভ পাবেন, আমি লস পাব? এইখানে ইসলামী ব্যাংকিং কি বলে সেটা পড়াশোনার দাবী রাখে ... এইটাকে আরো বড় পরিসরে দেখা যায় ... বিজনেস গ্রুপ বা কর্পোরেট আকারে দেখলে তাগোর ব্যাংকিং খাত লস খাইলেও অন্যখাতের লাভ বা ক্ষতিপূরণ দিয়া সেটা তারা পোষাইয়া দিবে ... এখন আপনে কি বলবেন? 'তোমাগোর লস হয়না ক্যান?' এটা বলবেন? সেইটাই তো কর্পোরেট বিজনেস পলিসি ... শেয়ারহোল্ডারগো উপরে লস চাপাইয়া ব্যাংকের একাউন্ট হোল্ডারগোরে লাভ দিব ... শেয়ার হোল্ডাররা লস খাইতে মানসিকভাবে রেডী থাকে, সেইটা তারা জানে ... এক্সপ্লয়েট করতেই পারে ... তখন আপনের দেখতে হইব ব্যাংকের ইন্টারনাল ফিনান্সিং।
বিগ কর্পোরেট সিস্টেমে আগামী এক দুই বছরের ক্যাশফ্লো, প্রফিট এইসব সম্পর্কে আগাম ধারনা নেয়া যায় ... সেই অনুযায়ী সেক্টরভেদে, বছরভেদে ক্যাশের ব্যালান্স ঘটাইয়া কোনএক সেক্টরে কোনএক ফিনান্সিয়াল ইয়ারের লস ঠেকানো যায় ...
অজানা অচেনা বলেছেন :
ওদের অনেক বেশী প্রজেক্টের মধ্যে লস হচ্ছে এমন প্রজেক্ট যেমন আছে, লাভ হচ্ছে এমন প্রজেক্ট ও আছে। নেট এফেক্ট টা প্রফিট হচ্ছে বলেই প্রফিট টা যোগ হচ্ছে।
আরো তথ্যের জন্য Islamic Economics Research Bureau থেকে বের হওয়া A Text Book on Islamic Banking বইটা পড়ুন।
প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ইসলামী ব্যাংক কিভাবে ইসলামিক ব্যাংকিং করছে, বাংলাদেশে, যেখানে বাংলাদেশের ব্যাংকের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে।
এ ব্যপারে একটা তথ্য জানিয়ে রাখি, বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু নিয়মের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক এবং কনভেনশন্যাল ব্যাংকের জন্য ভিন্নতা আছে- যেমন, statutory liquidity reserve।
আর তাছাড়া ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ড দেশের বিখ্যাত সব আলেমদের দ্বারা পরিচালিত। উনাদের কারো সাথে সরাসরি দেখা/যোগাযোগ করলে আরো ভালভাবে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন।
শান্ত বলেছেন :
এখানে প্রফিট লস শেয়ারিং নির্ভর করে কোন মোডে ইনভেস্টমেন্ট নেয়া হয়েছে তার উপর।
যদি আপনি মুশারকা মোডে ইনভেস্টমেন্ট নেন, তাহলেই শুধু এখানে লাভ-লস শেয়ারে প্রশ্ন আসবে;
বাই মুআজ্জল, বাই মুরাবাহা- এইসব মোড গুলো হলো ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত- তাই এসব ক্ষেত্রে লস শেয়ারিং প্রশ্ন আসেনা।
যেমন- আপনি বাজার থেকে ডিম কিনে এনে ভেংগে ফেলে দোকানে গিয়ে যদি আবার ডিম চান, দোকানি আপনাকে পুনরায় ডিম দেবেনা। ব্যাংকের ক্ষেত্রেও পণ্য ক্রেতার হাতে হস্তান্তর করা পর্যন্ত ব্যাংক দায়বদ্ধ।
মুশারাকা মুডে ব্যাংক কমই পুঁজি খাটায়, কারণ ভালো সত পার্টনার পাওয়া বর্তমান সময়ে খুব কঠিন। অন্যান্য মুডেও লস হয়না - এরকম নয়। কারণ অনেক সময় ব্যাংক যে দামে পণ্য বিক্রির চুক্তি করে, ইতি মধ্যে বাজারে দাম বেড়ে গেলে, বেশি দাম কেনে চুক্তিকৃত কম মুল্যে পন্য ক্রেতাকে সরবরাহ করতে হয়। বাজারে যেহেতু ব্যাংক জমাকৃত টাকা জনগনের, তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ব্যাংক কতৃপক্ষের নৈতিক কর্তব্য ।
এজন্য লস কম হয়, মোটের উপর লসের চেয়ে লাভের পরিমান বেশি হওয়ার কারণে বাইরে থেকে মনে হয়, ব্যাংক শুধু লাভই করছে। প্রকৃত ব্যাপার তা নয়।
আর আপনাদের এও জানা থাকা উচিত, বাংলাদেশ ব্যাংকে যে জামানত জমা থাকে, ইসলামী ব্যাংক সে টাকা বাবদ কোন সুদ গ্রহন করেনা।
বিশদ জানার জন্য পড়ুন- "ইসলামী ব্যাংকিক সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা", লেখক - শামছুজ্ঝোহা।
যাযাবর পংক্তিমালা বলেছেন:
ইসলামী ব্যাংক একটা ভাওতাবাজী। বাংলাদেশে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম না মেনে কি ব্যাংকিং করা যাবে? সকল ব্যাংকেই নিয়মের ভেতর থাকতে হবে। কাজেই.......
কৌশিক আহমেদ বলেছেন:
সহজ কথায় সর্বধারণের জন্য যা বলা যায় তা হচ্ছে, ইসলামী ব্যাংক যদি সুদকে গু মনে করে তাহলে সেটাকে দই নাম দিয়ে খায়। পাবলিকও সেই দই খায়। কিন্তু গু যদি না মনে করে তাহলে কিন্তু দইই খায়। কিন্তু সেটা মনে করলে বা করালে অন্য ব্যাংকের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একটা কার্যকরী মার্কেটিং টুল হাতছাড়া হয়ে যায়। আবার এই টুলকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটা সামাজিক কাঠামোও আছে। সুতরাং গুকে দই মনে করে খেতে কোন অসুবিধা নাই, সব জায়েজ।
ইকারুস বলেছেন:
ধন্যবাদ @কৌশিক আহমেদকথাটা একটু বেশী কড়া হয়ে গেল যে, তাহলে পাবলিক আপনাকে পাতাতা দেবে? তবুও ধন্যবাদ।
যাযাবর পংক্তিমালা বলেছেন:
তাইলে আমার কি দোষ হইল?
যাযাবর পংক্তিমালা বলেছেন:
@অচেনা
রিফাত ভাই বলেছেন:
আপনাকে প্যাঁচালী ডট কম ( িি.িঢ়বপযধষর.পড়স ) এ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভালো লাগলে আসবেন আমাদের সাথে আড্ডায় বসতে।
যাযাবর পংক্তিমালা বলেছেন:
তাইলেতো সুদ ই হইলো, নাকি....? যত সব ভাওতাবাজী, ধর্ম নিয়া ব্যাবসা.....
যাযাবর পংক্তিমালা বলেছেন:
@রিফাত ভাই, দয়া করে অন্য ব্লগের দালালী এখানে করবেন না।
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
আমাদের দেশে দুই ধরনের ব্যাংকিং হয় ইসলামী ব্যাংকিং আর সেকিউলার বা সাধারন ব্যাংকিং। সাধারন দৃষ্টিতে এই দুই ধরনের মধ্যে অনেকে অনেক মিল খুজে পেলেও মুলত ইসলামী ব্যাংকিং এ নীতিগত কিছু পার্থক্য আছে। আমি আমার স্বল্প অভিজ্ঞতার আলোকে ইসলামী ব্যাংকিং আর সাধারন ব্যাংকিং এর কিছু বৈশিষ্ট দিচ্ছি ঃ-০১। ইসলামী ব্যাংকিং মুলত ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সাধারন ব্যাংকিং শুধু ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থার মত এতো সীমাবদ্ধ নয়।
০২। ইসলামী ব্যাংকিং এ সুদ নাই আছে প্রফিট রেইট বা মুনাফার হার।
০৩। ইসলামী ব্যাংকিং এ মুনাফা হিসাব করা হয় সিম্পল বেসিসে আর সাধারন ব্যাংকিং এ কম্পাউন্ড বেসিসে হিসাব করা হয় এবং সুদের হার চক্রবৃদ্ধি হরে বাড়ে।
০৪। ইসলামী ব্যাংকিং এ সকল হিসাব নিকাশ সাধারনত ০১ বছর শেষে করা হয় আর সাধারন ব্যাংকিং এ কোয়াটারলি বেসিসে হিসাব কর হয়।
০৫। ইসলামী ব্যাংকিং এ লোন দেয় হয় না বিনিয়োগ করে আর সাধারন ব্যাংকিং লোন দেয়।
০৬। ইসলামী ব্যাংকিং এর প্রধান টেনডেনসি হলো সকল প্রকার লেনদেন কে ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থার মধ্যে ফালানোর চেষ্টা করা।
ইসলামী ব্যাংকিং এর মুনাফা আর অন্য ব্যাংকে সুদ !! এটা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। কেউ এটাকে ঘুরিয়ে খাওয়া বলেও মন্তব্য করে। বিনিয়োগ এর ক্ষেত্রে আমি দেখেছি, ইসলামী ব্যাংকিং আর সাধারন ব্যাংকিং এর অফিসিয়াল ডকুমেন্ট প্রায় একই বাড়তি কাগজ হিসাবে বাই-মুরাবাহা ভিত্তিতে মালামাল বিক্রয়ের অনুমোদ পত্র / মালামাল ক্রয়-বিক্রয় বিবরনী ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় রিলেটেড ডকুমেন্ট থাকে, যার মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে একটা ক্রয়-বিক্রয় দেখানো হয়।
তবে কিছু বিষয় আমার কাছে পরিষ্কার না।
ধন্যবাদ।
ইকারুস বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ @ঝড়ো হাওয়াআপনার আলোচনা ভাল লাগল।
কিন্তু আমার প্রশ্নের তো কোন উত্তর পেলামনা!!
েব।তলভূত বলেছেন:
ইকারুস, আপনি 'ইসলামী ব্যাংকিং' আর 'ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ' এর মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন।আমাদের বেশির ভাগই এ ভুলটা করে থাকি।ইসলামি ব্যবস্থায় লাভ-লোকসান শেয়ার করবার কথা।তারা কি সেটা করে? যখন তাদের লাভ হবে তখন--১.আমানতকারীদের সেটার ভাগ দেয়ার কথা।অর্থাৎ ব্যান্ক থেকে পাওনা রেট তাদের বেড়ে যাবার কথা।
অথবা
২. লোন নেয়া ক্লায়েন্টদের ব্যান্ককে মাস শেষে দেয় টাকার রেট কমে যাওয়ার কথা।
ব্যান্কের লোকসানের ব্যাপারেও ঠিক বিপরীতটাই প্রযোজ্য।এরা বরাবর লোকসানের থিওরি মতেই ব্যবসা চালায়।অথচ বছরশেষে তাদের পোর্টফোলিও কিন্তু লাভ এর কথাই বলে।
এখন বুঝে নিন কেন এরা আসল 'ইসলামী ব্যাংকিং' করে না বলছি।
যাযাবর পংক্তিমালা বলেছেন:
ঐ তো হলো....থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়.....
গন্ডমূর্খ বলেছেন:
ইসলামী ব্যাংক ভন্ড তার দ্বিমূখি নীতির কারণে। ইসলামী ব্যাংক যখন আমানত গ্রহণ করে সাধারন ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছ থেকে তখন বলে শরীয়া মোতাবেক লাভ-ক্ষতি বন্টনের কথা। মানে ব্যাংক যদি লসে থাকে তবে তার অংশ আমানতকারীরা বহন করতে বাধ্য। আর এই ব্যাংক যখন তার গ্রাহককে লোন দেয় তখন কিন্তু এ কথা বলে না। তখন কিন্তু নির্দিষ্ট হারে লাভ চায়। গ্রাহকের লস হলেও কিন্তু ইসলামী ব্যাংক সেটা বহন করবে না, তাকে ঐ হারে লাভ মানে সুদ দিতেই হবে। আর এই আদায়কৃত সুদের অংশই আমানতকারীরা গ্রহণ করছেন লভ্যাংশ বলে।মহান আল্লাহতায়ালা সব জানেন, সব বোঝেন।
সায়ান বলেছেন:
@ইকারুস,আমার মনে হয় আপনি ইসলামী ব্যাংকের ব্যাংকিং নিয়ে লেখা কিছু বই পড়লে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
ঝড়োহাওয়ার মন্তব্যে অনেক কিছু জানা গেল ...ধন্যবাদএরকম বিষয় নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রথমে ডেফিনিশনটা দরকার
সেটা হলো,
ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতির ডেফিনিশন
তারপর সেটার আলোকে ব্যবচ্ছেদ করে দেখা যেতে পারে
১.ইসলামী ব্যাংক সেটা কতটা অনুসরন করে
২. ইসলামী ব্যাংকিং আর সেক্যুলার ব্যাংকিংয়ে পার্থক্য কি
একটা প্র্যাকটিকাল পার্থক্য আমি জানি ...সেটা হলো ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে লোনের টাকা ভিন্নখাতে খরচ করা কঠিন ... ক্রয়-বিক্রয় ভিত্তিক বলে আপনি গাড়ী কিনবেন বলে টাকা নিয়ে বাড়ী করতে পারবেননা ... কারণটা সম্ভবতঃ গাড়ীটা ব্যাংকের নামে কেনা হয়, তারপর টাকা পরিশোধ হয়ে গেলে তারা নামবদল করে
টাকা জমা রাখার ক্ষেত্রে মুদারাবা, ওয়াদিহাহ এসব সিস্টেম ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতিতে আছে ... এসব পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ জেনে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা যায় ...
তবে মনে হয় এটা ঠিকনা যে ইসলামী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরন করেনা ... কারণ এত বড় কর্পোরেটের বিরুদ্ধে তাহলে এতদিনে এই নিয়ে মামলা করার মতো অনেক জাঁদরেল অর্থনীতিবিদ আমাদের এদেশেই আছেন
প্রশ্ন আসতে পারে, ইসলামী ব্যাংকিং আর সাধারন ব্যাংকিংয়ে পার্থক্যটা তাহলে কোথায়?
ব্যাংকের লোকসান হলে আপনার একাউন্টের টাকা কমে যাবে, এটা বেসিক পার্থক্য হলে, অনেক কর্পোরেটের ছায়ায় থাকা, এবং বিশাল লোন নেয়ার সুবিধা থাকায় কোন ব্যাংকই বছর শেষের হিসেবে লোকসান প্রজেক্ট করবেনা ... এটা বিজনেসের প্রথম পাঠ ... তারমানে প্র্যাকটিকালি লোকসান দেখাবেনা আর আপনার জমাও কমে যাবেনা ...
ঝড়ো হাওয়া, একটা বিষয় জানতে চাচ্ছি ... লোন নেয়ার সময় ইসলামী ব্যাংক জামানত নেয় কিনা?
ইকারুস বলেছেন:
@গন্ডমূর্খ , আপনার প্রশ্ন টিও সামনে আসবে....ধন্যবাদ@ সায়ান, কয়েকটা রেফারেন্স দেননা প্লীজ।
@জ্বিনের বাদশা বলেছেন
"তারমানে প্র্যাকটিকালি লোকসান দেখাবেনা আর আপনার জমাও কমে যাবেনা ..."
আসলে ব্যপারটা কেমন?
@যাযাবর পংক্তিমালা
আপনাকে আমি বকা দিচ্ছি.........
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
ইকারুস :আপনার প্রশ্নের হুবহু উত্তর আমি দিতে পারিনি কারন আমি নিজেই সঠিক উত্তর টা জানি না। তবে সাধারন ভাবে এটুকু বলা যায়, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুরাটাই ক্রয়-বিক্রয় ভিত্তিক। ব্যাংক ক্রেতার কোটেশন / চাহিদা অনুযায়ি ক্রেতার পক্ষে মালামাল / পন্য ক্রয় করে, ক্রেতা একটা নিদিষ্ট সময় পর বা কিস্তিতে উক্ত মালামালের / পন্যের দাম ব্যাংকে শোধ করেন। বিনিময়ে ব্যাংক উক্ত মালামাল / পন্যর ক্রয় মুল্যের উপর নিদিষ্ট হারে মুনাফা নেয়। যার জন্য এখানে লোকশানের কোন অপসনই নেই।
সহজ উদাহরন, ব্যাংক আমার পক্ষ হয়ে বিক্রেতার নিকট থেকে ১০০ টাকার পন্য কিনে আমার কাছেই ১১৫ টাকায় বিক্রয় করল। যার মূল্য আমি নিদিষ্ট সিডিউল অনুসারে পরিশোধ করব।
আদনান™ বলেছেন:
মনে হচ্ছে, ইসলামী ব্যাংক কখনো লস খায় না!! তাহলে তো এদের শেয়ার কিনতে হয়... 
শেয়ার কিভাবে কিনতে হয় জানি না তো

কেউ কি বলবেন প্লিজ...
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
ইকারুস, ব্যাপারটা কেমন প্রশ্নটা আসলেই জাগে
...তবে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে প্রচলিত যা ধারনা 'লাভ হলে সেই লাভের হারে জমা বাড়বে, বা লোকসান হলে লোকসানের হারে জমা কমবে' এটা কতটুকু অথেনটিক সেটা জেনে প্রশ্ন করতে হবে।
আমার মনে হয় এটা বেশ পড়াশোনার দাবী রাখা শাস্ত্র, এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ে কর্পোরেট বিজনেসের দিকনির্দেশনা কেমন হবে সে বিষয়েও জানা দরকার ... এখন তো আর মহাজনী সিস্টেম নাই ... কর্পোরেট সিস্টেমে আপনি একখাতের লস অন্যখাতের লাভ দিয়ে পোষান ... এখন ঘাইটা দেখতে হবে সেটা ইসলামী ব্যাংকিংয়ে জায়েজ কিনা ... যেমন ধরেন আপনার টাকা তারা খাটাইল তেলের বিজনেসে, আমারটা খাটাইল পরিবহনে ... এখন তেলের বিজনেসে অনেক লাভ হইল, পরিবহনে খানিক লস হইল, তখন কি হবে?... সব ব্যালান্স করে আপনি আমি সমান লভ্যাংশ পাব? নাকি, আপনি অনেক লাভ পাবেন, আমি লস পাব? এইখানে ইসলামী ব্যাংকিং কি বলে সেটা পড়াশোনার দাবী রাখে ... এইটাকে আরো বড় পরিসরে দেখা যায় ... বিজনেস গ্রুপ বা কর্পোরেট আকারে দেখলে তাগোর ব্যাংকিং খাত লস খাইলেও অন্যখাতের লাভ বা ক্ষতিপূরণ দিয়া সেটা তারা পোষাইয়া দিবে ... এখন আপনে কি বলবেন? 'তোমাগোর লস হয়না ক্যান?' এটা বলবেন? সেইটাই তো কর্পোরেট বিজনেস পলিসি ... শেয়ারহোল্ডারগো উপরে লস চাপাইয়া ব্যাংকের একাউন্ট হোল্ডারগোরে লাভ দিব ... শেয়ার হোল্ডাররা লস খাইতে মানসিকভাবে রেডী থাকে, সেইটা তারা জানে ... এক্সপ্লয়েট করতেই পারে ... তখন আপনের দেখতে হইব ব্যাংকের ইন্টারনাল ফিনান্সিং
তারপরও কথা আছে ... বিগ কর্পোরেট সিস্টেমে আগামী এক দুই বছরের ক্যাশফ্লো, প্রফিট এইসব সম্পর্কে আগাম ধারনা নেয়া যায় ... সেই অনুযায়ী সেক্টরভেদে, বছরভেদে ক্যাশের ব্যালান্স ঘটাইয়া কোনএক সেক্টরে কোনএক ফিনান্সিয়াল ইয়ারের লস ঠেকানো যায় ... এখানে ইসলামী ব্যাংকিং কি বলে সেইটাও বুঝতে হইব ...
আজকে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং রীতি অনুসরন করে অনেক ব্যাংক ... আপনি কোনটা নিবেন ...যাদের সেবা ভাল ... কাজেই তারা কর্পোরেট পলিসি খাটাবে, সেটাই স্বাভাবিক ... সেটাই ব্যবসা
টিপিকালি, 'লস হইলে জমা কমব, তো কমে না ক্যান' এই ধারনাটা প্রাইমারী লেভেলের
অজানা অচেনা বলেছেন:
টিং টং, আমি কি এ সিরিয়াস আলোচনায় একটু আসতে পারি?ওয়েল, ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে আমার এবার একটা কোর্স আছে, তাই একটু মন্তব্য করার সাহস করছি।
ঝড়ো হাওয়ার মন্তব্যে অনেক কিছুই চলে এসেছে, তাই আমি সহমত পোষণ করছি।
আর কিছু বিষয় যোগ করতে চাই-
১। ইসলামী ব্যাংকে ক্লাইন্টের সাথে রিলেশন টা পার্টনারের মত। যেহেতু সম্পর্কটার ভিত্তি হচ্ছে PLS - "profit loss sharing"।
২। যে প্রশ্নটা প্রায় দেখা যায়, তা হচ্ছে, তাহলে ওরা শুধু লাভ দেয়, ক্ষতি হলেও দেয় না কেন?-
ওদের অনেক বেশী প্রজেক্টের মধ্যে লস হচ্ছে এমন প্রজেক্ট যেমন আছে, লাভ হচ্ছে এমন প্রজেক্ট ও আছে। নেট এফেক্ট টা প্রফিট হচ্ছে বলেই প্রফিট টা যোগ হচ্ছে।
৩। আর মুনাফা আর সুদের মধ্যে বড় এবং প্রধান পার্থক্য হচ্ছে, মুনাফা সুদের মত কোন নির্দিষ্ট রেটে দেয়া হয় না।
আরো তথ্যের জন্য Islamic Economics Research Bureau থেকে বের হওয়া A Text Book on Islamic Banking বইটা পড়ুন।
প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ইসলামী ব্যাংক কিভাবে ইসলামিক ব্যাংকিং করছে, বাংলাদেশে, যেখানে বাংলাদেশের ব্যাংকের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে।
এ ব্যপারে একটা তথ্য জানিয়ে রাখি, বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু নিয়মের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক এবং কনভেনশন্যাল ব্যাংকের জন্য ভিন্নতা আছে- যেমন, statutory liquidity reserve।
আর তাছাড়া ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ড দেশের বিখ্যাত সব আলেমদের দ্বারা পরিচালিত। উনাদের কারো সাথে সরাসরি দেখা/যোগাযোগ করলে আরো ভালভাবে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন।
তবে উত্তর পাওয়ার মত মানসিকতা না থাকলে...।
@আদনান, ঠিক বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার আসলেই লাভজনক। শেয়ার কিনার জন্য আপনাকে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেন্জ কমিশনে গিয়ে একটা বি ও একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর কি করবেন ওখানে গেলেই জানতে পারবেন।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
অজানা অচেনা, একটা প্রশ্ন ... ইসলামী ব্যাংক কি লোন দেয়ার সময় জামানত নেয়?না নিলে তারা কিসের বেসিসে লোন দেয় ... নিশ্চয়ই গ্রামীনের মতো উদার না
ইকারুস বলেছেন:
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন :"এখানে লোকশানের কোন অপসনই নেই"
কথা টি নতুন ঠেকল। যাই হোক , আমি বাংলাদেশের জন্যই শুধু জানতে চাইছিনা। এমন টা তো আসলে সবসময় সম্ভব না, যে কখনোই নোকশান হবেনা।
ধন্যবাদ
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
জ্বিনের বাদশা :আমি যত দুর জানি, ইসলামী ব্যাংক 'লোন' দেয় না 'বিনিয়োগ করে।
অবশ্যই 'জামানত' নেয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক পুরা শিল্প প্রতিষ্ঠানটাই রেজিস্ট্রাড মর্টগেজ করে নেয়।
[দুঃখিত দেরী হয়ে গেল]
ইকারুস বলেছেন:
ঝড়ো হাওয়া,আপনাকে ধন্যবাদ
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
ধন্যবাদ, ঝড়ো হাওয়া। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও তাহলে জামানত নেয় বলে ধরে নিচ্ছি।ইকারুস, এখনকার কর্পোরেট সিস্টেমে এটা বলা যায় যে,
গ্রুপের ব্যাংকিং খাতেও লাভ দেয়া যাচ্ছেনা, সেরকম লোকশান হইলে পুরা গ্রুপেরই দেউলিয়া বা নিলামে ওঠার সম্ভাবনা থাকে ... কাজেই স্থাবর সম্পত্তি অথবা শেয়ার বেচে দিয়ে একাউন্ট হোল্ডারদের লস থেকে বাঁচানোর মত অবস্থাটা অন্তত থাকে ...
এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ে গ্রুপের অন্যখাতের লাভ ব্যাংকিং খাতে পাস করানো যায় কিনা ...বা পুরা গ্রুপের স্থাবর সম্পত্তি বা শেয়ার বেচে ব্যাংক একাউন্ট হোল্ডারদের প্রিভিলিজ দেয়া যায় কিনা
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
ইকারুস :
ঐ টা আমার নিজস্ব ধারনা, ভুলও হইতে পারে। কিন্তু ১০০ টাকার জিনিস ১১৫ টাকায় বিক্রি করলে তো লাভই হয় ?
যাযাবর পংক্তিমালা বলেছেন:
ইসলামী ব্যাংক আবার কি জিনিস.....ইসলামী ব্যাংককে চলতে হবে ইসলামী শরীয়ত মতে...না হলে তা কোন অবস্হায়ই ইসলামী না.....
শান্ত বলেছেন:
না জেনে কোন বিষয়ে মন্তব্য করা মুর্খদের কাজ। অনেকে লিখেছে না বুঝে না জেনে। ইসলামী ব্যাংকিং এবং ট্রেডিশানেল ব্যাংকিকের মধ্যে অনেক পার্থক্য। আর এখানে প্রফিট লস শেয়ারিং নির্ভর করে কোন মোডে ইনভেস্টমেন্ট নেয়া হয়েছে তার উপর। যদি আপনি মুশারকা মোডে ইনভেস্টমেন্ট নেন, তাহলেই শুধু এখানে লাভ-লস শেয়ারে প্রশ্ন আসবে; বাই মুআজ্জল, বাই মুরাবাহা- এইসব মোড গুলো হলো ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত- তাই এসব ক্ষেত্রে লস শেয়ারিং প্রশ্ন আসেনা। যেমন- আপনি বাজার থেকে ডিম কিনে এনে ভেংগে ফেলে দোকানে গিয়ে যদি আবার ডিম চান, দোকানি আপনাকে পুনরায় ডিম দেবেনা। ব্যাংকের ক্ষেত্রেও পণ্য ক্রেতার হাতে হস্তান্তর করা পর্যন্ত ব্যাংক দায়বদ্ধ। মুশারাকা মুডে ব্যাংক কমই পুঁজি খাটায়, কারণ ভালো সত পার্টনার পাওয়া বর্তমান সময়ে খুব কঠিন। অন্যান্য মুডেও লস হয়না - এরকম নয়। কারণ অনেক সময় ব্যাংক যে দামে পণ্য বিক্রির চুক্তি করে, ইতি মধ্যে বাজারে দাম বেড়ে গেলে, বেশি দাম কেনে চুক্তিকৃত কম মুল্যে পন্য ক্রেতাকে সরবরাহ করতে হয়। বাজারে যেহেতু ব্যাংক জমাকৃত টাকা জনগনের, তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ব্যাংক কতৃপক্ষের নৈতিক কর্তব্য । এজন্য লস কম হয়, মোটের উপর লসের চেয়ে লাভের পরিমান বেশি হওয়ার কারণে বাইরে থেকে মনে হয়, ব্যাংক শুধু লাভই করছে। প্রকৃত ব্যাপার তা নয়। আর আপনাদের এও জানা থাকা উচিত, বাংলাদেশ ব্যাংকে যে জামানত জমা থাকে, ইসলামী ব্যাংক সে টাকা বাবদ কোন সুদ গ্রহন করেনা।বিশদ জানার জন্য পড়ুন- "ইসলামী ব্যাংকিক সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা", লেখক - শামছুজ্ঝোহা।
ইকারুস বলেছেন:
ঝড়ো হাওয়া , খাওয়ামু নে। তয় আপনি কি খাবেন গরিবী খানা?------ যা খান আপনি, 
ঝড়ো হাওয়া , আপনি পোস্ট টোস্ট দেন না কেন এ ক'দিন??
অজানা অচেনা বলেছেন:
@শান্ত, হমম...। আমি আসলে ফাকিঁবাজ স্টুডেন্ট। মোড অফ ইনভেস্টমেন্টে এরকম কি জানি পড়েছিলাম, মনে পড়ছে। রেফরেন্সের জন্য ধন্যবাদ।
ইকারুস বলেছেন:
welcome সন্ধ্যাবাতি।
ফালাক বলেছেন:
প্রবলেমটা ইসলামী ব্যাংক কে নিয়ে, নাকি ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে ? Standard Chartered (sadique), HSBC, Dhaka Bank etc এসব ব্যাংক গুলোরও ইসলামী শাখা রয়েছে ...


















