হিজরী সন আমাদের কাছে ইসলামের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ত্যাগ এর ঐতিহাসিক স্মারক।
হিজরী সন আমাদের মনে করিয়ে দেয় কিভাবে মক্কার মুশরিকরা পৃথিবীর সেরা মানুষটিকে খুন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে হেফাযত করেছেন।
" মনে রেখো, আল্লাহ্ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন| তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ্ আমাদের সাথে আছেন| অত:পর আল্লাহ্ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি| বস্তুত: আল্লাহ্ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়| (৯ : ৪০)
তাঁকে হত্যা করার মাধ্যমে যারা ইসলামকে মিটিয়ে দিতে চেয়েছিল তার হারিয়ে গেছে কবে, ইসলাম আজো তার আলোয় আলোকিত করছে আমাদের।
"তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়| কিন্তু আল্লাহ্ অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন-যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে|" (৯ : ৩২)
হিজরী নববর্ষ আমাদেরকে ইসলামের সেই শাশ্বত আলোর দিকেই আহবান করছে।
আসুন ইসলামের আলোয় আলোকিত হই। নিজেকে রাঙাই আল্লাহর রঙে।
ও হ্যাঁ, মুহাররম চারটি পবিত্র মাসের অন্যতম। এ মাসে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেস্টা করা জরুরী।
"নিশ্চয় আল্লাহ্র বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে| তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত| এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না|" (৯ : ৩৬)
এ মাসের ৯, ১০ ও ১১ তারিখে রোযা রাখা ভাল।
এ মাসের ১০ তারিখ কেয়ামত হবে এ বিশ্বাস সঠিক নয়। কেয়ামত কবে হবে তা কেবল আল্লাহই জানেন।
মনে রাখা জরুরী যে, মুহাররম কারবালা বা বিষাদ সিন্ধুর মাস নয়, মর্সিয়ার মাস নয়,
মুহাররম গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাস, ত্যাগের মাস, ভালো কাজ করার মাস, খারাপ কাজ হতে বেঁচে থাকার মাস।
সবশেষে কবিকণ্ঠে বলি,
"ফিরে এলো ঐ মুহাররম মাহিনা,
ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা।"
কাজী নজরুল ইসলাম
সবাইকে হিজরী নববর্ষের শুভেচ্ছা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

