যারা ইসলামকে ভালোবেসে লিখেন তাদের সবসময় মনে রাখা দরকার, রাসূল (স) কে আল্লাহ জগতের সকলের জন্য রহমত করে পাঠিয়েছেন। আপনার আমার লেখার মাঝে সে দরদটা থাকা চাই। রাসূল (স) যে সকলের জন্য রহমত তার প্রকাশ থাকা চাই।
যে কোন পোস্ট দেয়ার আগে, যে কোন কমেন্ট করার আগে, যে কোন কাজ করার আগে মু'মিনের তিনটি বিষয় মনে রাখা দরকার।
১। নিয়তের বিশুদ্ধতা:
একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য লেখাটি লিখছি কিনা? আমি কি রাগ প্রকাশের জন্য লিখছি, অন্যকে হেয় করার জন্য লিখছি? নিজের ইগো থেকে লিখছি? বেশি হিট কিংবা বেশি প্লাসের জন্য লিখছি? আমার আপনার লেখা, পোস্ট, কমেন্ট, প্রতিটি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য হতেই হবে। নিয়তে গলদ হলে মু'মিনের কোন কাজই ভাল হয়না। তাই নিয়তটাকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে সম্পৃক্ত করুন।
২। সঠিক সময়ে সঠিক পন্থায় কাজটি করা:
মু'মিন দ্বিতীয় যে ব্যাপারটি নিশ্চিত করবে তা হলো ভালো নিয়তে ভালো কাজই করবে। ভালো নিয়তে খারাপ কাজ করবেনা। গালি দেবেনা। খারাপ শব্দ ব্যবহার করবে না। সময় বুঝে কাজ করবে। সঠিক কাজ করবে। সঠিক ভাবে করবে। ভালোর জন্য খারাপ পন্থা অবলম্বন করবেনা। ভালো দিয়ে মন্দের জবাব দেবে। মন্দের জবাব মন্দভাবে দেবে না। গালির জবাবে ফুল দেবে। ফুল দিতে না পারলে অন্তত গালির জবাবে গালি দেবে না। উত্তম ভাষায় গালির বিরোধিতা করবে। এ কাজ খুব সহজ নয়। এর জন্য চাই কঠিন ধৈর্য্য আর আল্লাহর সাহায্য।
৩। কাজের ফলাফল চিন্তা করে কাজ করবে:
অনেক সময়ে নিয়ত ও কাজ দুটোই ভালো হওয়ার পরও প্রয়োগ পদ্ধতি কিংবা অসময়ে বা অপাত্রে কাজটি সম্পন্ন হলে কাঙ্খিত ফলের বদলে উল্টো রেজাল্টও হতে পারে। হুদাইবিয়ার সন্ধির কথাই ভাবুন, ওমরা করা ছিল সওয়াবের কাজ, রাসুল (স) এর নিয়তও ছিল বিশুদ্ধ। কিন্ত তিনি সে বছর ওমরা করলেন না। সে বছর ওমরা করতে জেদ ধরলে কি কি ফলাফল হতে পারতো সবগুলো বিবেচনা করেই তিনি সে বছর ওমরা করলেন না। পরের ঘটনা সবার জানা।
আসুন যে কোন পোস্টের আগে এ তিনটি কথা ভাবি।
নিয়তকে বিশুদ্ধ করি। ভালো লিখা লিখি। ফলাফল চিন্তা করে লিখি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


