আমার প্রিয় পোস্ট

আল্লাহ আমার রব, সেই রবই আমার সব। দমে-দমে তনু-মনে তাঁরই অনুভব।

দেশজুড়ে সংস্কারের হাওয়া ও বাম নেতাদের ধর্মীয় ফাতওয়া

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:৪৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

দেশে আসলেই সংস্কারের হাওয়া লেগেছে।

সংস্কারটা আসলে কোথায় হচ্ছিল এদ্দিন বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল আমার। গতকাল ঢাকার বকশী বাজারে কাদিয়ানীদের ৮৪তম ন্যাশনাল "সালানা জলসা"র দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশনে বাম নেতাদের জমজমাট উপস্থিতি আমার চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সংস্কারটা আসলে কোথায় হচ্ছে। সাবাশ বাম নেতারা সাবাশ।

সংস্কারের ঠেলায় বামপন্থী নাস্তিক নেতারাও দেখি আজকাল ফতোয়াবাজ মোল্লা বনে গেছেন।

কাদিয়ানীদের ঘোষণা অনুযায়ী এটি একটি ধর্মীয় সভা হলেও ঝাঁকে ঝাঁকে বাম নেতারা অতিথি পাখি হিসেবে সেখানে গেলেন।

তারা সেখানে অন্তত: তিনটি ঐতিহাসিক কাজ করেছেন।

১। নিজেরা আজীবনের ধর্ম বিরোধী হয়েও সদলবলে ধর্মীয় অনুস্ঠানে যোগ দিলেন। এর মাধ্যমে ধর্ম বিরোধী সকল নাস্তিকদের নিয়মিত ধর্মীয় অনুস্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য উৎসাহিত করলেন কিনা তা অবশ্য বুঝা গেলনা। জানার চেস্টা করেছিলাম, তাবলীগের ইস্তেমা, বায়তুল মোকাররমের জুমা'র খোতবা, কিংবা খতমে নবুয়তের জলসাও এদের সমানভাবে আকর্ষণ করে কিনা। উত্তর মিলেছে নেগেটিভ। কে যেন একজন হেসে বললেন, এতো অস্থির হচ্ছো কেন, সংস্কারের হাওয়া সবেতো লেগেছে! আমি কিছু বললাম না। চুপ করে শুনলাম।

২। এসব নেতাদেরই দেখতাম সালাত, কুরআন, ইত্যাদি আরবী শব্দের পরিবর্তে নিয়ে প্রতিদিন বাংলা শব্দ ব্যবহার করার জন্য আমাদের নিয়মিত সবক দেন। কাদিয়ানীদের "সালানা জলসা"য় যোগ দিয়ে কিন্তু একটি বারের জন্যও বললেন না নামটা বদলাও। বাংলা বলো, বাংলায় লিখো। সংস্কারের হাওয়া আর কাকে বলে!

৩। যারা বক্তৃতা দিলেন ওখানে, দু'একজন বাদে সবাই রাজনৈতিক নেতা। দু'একজন যাদের বাদের কথা বললাম তারা পেশাজীবি হলেও রাজনৈতিক ময়দানে খুব সক্রিয়। এরা সবাই ধর্মীয় সভায় রাজনীতিকদের, রাজনীতিকদের সভায় ধর্মীয় লোকদের উপস্থিতির বিরোধী। কিন্তু কাল দেখলাম এসব রাজনীতিকরা ধর্মীয় সভায় রীতিমতো ফতওয়া দিয়ে গেলেন।

আসুন এবার তাদের ফাতওয়া গুলো মনযোগ সহকারে পড়ি।

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বললেন,
"সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সবাইকে বিভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।"
এক পর্যায়ে তিনি বললেন,
"যার যার ধর্ম তার তার, রাষ্ট্র সবার। রাষ্ট্র থাকবে রাষ্ট্রের জায়গায়, ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায়।"

রাষ্ট্রকে ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে বললেন। আবার বললেন রাষ্ট্রের জায়গায় রাষ্ট্র ,ধর্মের জায়গায় ধর্ম। বুঝা গেলনা রাষ্ট্র যদি ধর্ম নিয়ে চিন্তা নাই করে তাহলে ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণে রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে কিভাবে? সংস্কারের ঠেলায় স্ববিরোধি প্রলাপ!

আরো একটি স্ববিরোধিতার নমুনা দেখুন,
"ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। অথচ একশ্রেণীর মানুষ এই ধর্মকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে ধর্মকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। আমি এমন একটি ধর্ম পালন করছি যার শুরু থেকেই রক্তপাত ছিল। ইসলামের ইতিহাসের পাতা উল্টালেই তা দেখা যাবে। " মাইনুদ্দিন খান বাদল

শুনে ভালোই লাগলো যে মাইনুদ্দিন খান বাদল ইসলাম ধর্ম পালন করেন! ইসলামের ইতিহাসের শুরু থেকেই রক্তপাত ছিল এটা জেনেও উনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ইসলাম শান্তির ধর্ম। একশ্রেণীর মানুষ যে ইসলাম ধর্মকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এটাও স্বীকার করলেন। অন্তত: এ জাতীয় লোকদের নেতাদের নাম জানালে আরো খুশি হতাম। মাইনুদ্দিন খান বাদল একজন আত্মস্বীকৃত নাস্তিক, জানতে খুব ইচ্ছে করে, নাস্তিকতার চর্চা করেও ইসলাম পালন করা যায় কেমনে? উনি ইসলাম ধর্মকে সঠিকভাবে ব্যবহার করেন? নাকি মানুষের মধ্যে কেবল বিভ্রান্তিই ছড়ান?

"আহমদিয়াদের প্রতি সংহতি জানানো কর্তব্য মনে করেছি। প্রত্যেকটা মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার আছে। প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্মের স্বাধীনতা থাকা উচিত। আমাদের সংবিধানও এ অধিকার দিয়েছে। তবে তা মানা হয় না।" মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

নাষ্তিক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তাহলে ধর্মের অস্তিত্ব, মানুষের জীবনে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা এবং মানুষের ধর্ম পালনের অধিকারকে স্বীকার করেন। সাথে সাথে আমার ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকা উচিত বলেও বিশ্বাস করেন। এরপর আপনার নাস্তিকতার প্রয়োজনীয়তা থাকে কোথায়?

"আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ স্বাধীন হয়েছিল।" সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর

ধন্যবাদ মনসুর সাহেব "স্বাধীনতা যুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল" আপনার নেতারা এ কথা স্বীকার না করলেও আপনি স্বীকার করে সৎ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন।

এবার কালকের সভায় যেসব মাওলানা (?) ওয়ায়েজ ছিলেন তাদের কয়েকজনের নাম জানা যাক।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মোবাশ্বের আহমদ কাহলুন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের নির্বাহী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহমদ মনসুর, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক পারভিন হাসান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শওকত আরা হোসেন, বিডিএস’র নির্বাহী পরিচালক শরিফ এ বাকী, কারিতাস বাংলাদেশের সিস্টার রোজলিন কস্তা ও ফাদার টিম, বিচারপতি কে এম সোবহানের পুত্র কাজী রেহান সোবহান ও আদনান সোবহান প্রমুখ।

 

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ২৭৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:১৯
comment by: আবূসামীহা বলেছেন: সুবহানাল্লাহ্‌! সংস্কারের সুবাতাস নাস্তিকদের মাঝেও!
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৪৮

লেখক বলেছেন: হুম, নাস্তিকগুলো সব মাওলানা হইয়া যাইতাছে দেহি।

২. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:০৭
comment by: ষড়যন্ত্রকারীদের জম বলেছেন: তত্ববধায়কদের কল্যাণে।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৫৫

লেখক বলেছেন: তত্বাধায়ক সরকারতো বিটিভিতে ইসলাম অনুস্ঠান বন্ধ করাইছে। ফুটবলে কালেমা লেখার পরেও কিছু করতাছেনা।
তাবলীগের ইস্তেমায় লোক পাঠানোর আড়ালে নিকট অতীতে ইসরাইল বাংলাদেশে নাশকতার জন্য সন্ত্রাসীদের পাঠিয়েছিল এ ইতিহাস জানার পরেও ইসরাইলের লোকদের এবার তাবলীগের ইস্তেমায় আসার স্পেশাল ব্যবস্থা করেছে।
ইসরাইলী লবির দেবপ্রিয়কে নিয়োগ দিয়েছে জাতিসংঘে।
সুতরাং এদের সংস্কারের ঠেলায় বাম নেতাদের হুজুর হওয়ার পেছনে কোন ইসরাইলী নাশকতা লুকিয়ে আছে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করুন।

৩. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:১৯
comment by: ইছামতীর পাড়ে বলেছেন: আল্লাহ তাদের সুমতি দান করুন!
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৫০

লেখক বলেছেন: আমীন।

৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:২৬
comment by: মাহমুদ মামূন বলেছেন: "নিজেরা আজীবনের ধর্ম বিরোধী হয়েও সদলবলে ধর্মীয় অনুস্ঠানে যোগ দিলেন।"

এই লেখা দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চাইলেন? বামরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে। তাদের অধিকাংশ নাস্তিক বটে তবে কিয়দংশ ধর্মভীরুও বটে। যাইহোক, নাস্তিকতা মানে ধর্ম বিরোধীতা নয়। ব্যক্তিগতভাবে বামরা নাস্তিক হলেও অন্যের ধর্মীয় আচার পালনে তাদের মাথা ব্যথা নাই। আর ধর্মে বিশ্বাস না থাকলে যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবেনা আপনার এই তত্ত্বের সাথে আমি একমত নই।

মনে রাখবেন ধর্ম শুধুমাত্র একটা বিশ্বাসের ব্যাপার। কারো ব্যক্তিগত বিশ্বাসে কারোই হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪০

লেখক বলেছেন: ভালো কথা। লেখাটি আবার পড়ুন। একজন বলেছেন "আমি এমন একটি ধর্ম পালন করছি"। কি বুঝালেন উনি? উনি নাস্তিক না আস্তিক?

ধর্মে বিশ্বাস না থাকলে যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে মানলাম, তাহলে শুধু কাদিয়ানীদের অনুষ্ঠানে কেন? বায়তুল মোকাররমের জুমা'র খোতবা, কিংবা খতমে নবুয়তের জলসায় যেতে আপত্তি কোথায়? সেখানেতো উনাদের দেখা যায়না।

বামরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে?
তাদের অধিকাংশ নাস্তিক বটে তবে কিয়দংশ ধর্মভীরুও বটে?
এসব থিওরি পান কই?

কার্লমার্কস, মাওসেতুং আবার পইড়া নেন।

৫. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:১৭
comment by: বাকী বিল্লাহ বলেছেন: সংস্কারের ঠেলায় বাম নেতারা আহমদিয়াদের মজলিসে যোগ দিয়েছেন, এটা একেবারেই ফালতু কথা কারণ গত বেশ কয়েক বছর ধরেই তারা আহমদিয়াদের পাশে দাড়িয়েছেন। বিশেষ করে যখন তাদের ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নেমে এসেছে। পৃথবীর সবজায়গার বামপন্থীরাই এটা করেন। যেখানে মুসলমানরা সংখ্যালঘু এবং তারা অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মান্ধদের কোপানলে পড়েন সেখানেও সবার আগে বামপন্থীরাই তাদের পাশে দাড়ায়। ভারতে বিজেপি বা শিবসেনার সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের নেতৃত্বেই প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। তাই বলে তারা কি মোল্লা হয়ে গেছেন।

অবশ্যই রাস্ট্র সব ধর্মের অধিকার সংরক্ষন করবে। একটি বিশেষ ধর্মের পক্ষপাতিত্ব করে সব ধর্মকে সমান চোখে দেখা সম্ভব? বাংলাদেশে জামাত সরকার এবং ভারতে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা পেলে এখানে ইসলামের এবং ওখানে হিন্দুত্বের পৃষ্ঠপোষকতা হবে কিন্তু তাতে প্রকারান্তরে হিন্দু্ ও মুসলমান সবার ধর্মই আক্রান্ত হবে এবং দুদেশেই ধর্মীয় হানাহানি বৃদ্ধি পাবে? তাতে ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ লাভবান হলেও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান হারাবে স্বাধীন ধর্মচর্চার অধিকার।

একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্রই পারে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০২

লেখক বলেছেন: ওরা শুধু কাদিয়ানীদের সভায় যায়। কাদিয়ানীরা মুসলমান না। যে বিশ্বাস ধারণ করলে কাউকে মুসলমান বলা হ্য়, ওরা তার বিপরীত বিশ্বাস ধারণ করে। আলেমরা দাবী করেছেন, ওদের বিশ্বাস অনুযায়ী ওদের স্বীকৃতি দেয়া হোক। ওদের অধিকার দেয়া হোক। কিন্তু মুসলমান নাম নিয়ে কাদিয়ানী বিশ্বাস প্রচার থেকে ওদের বিরত করা হোক। এটা স্পস্ট প্রতারণা। এ প্রতারণা বন্ধ করা হোক। বামেরা ওখানে যায় কাদিয়ানীরা মুসলিম এ ফাতওয়া দিতে। আমার ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করতে নয়।

তাসলিমা, দাউদ হায়দার, সালমান রুশদীরা যখন ইসলামকে গালি দেয়, ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালায়, ওরা এবং কাদিয়ানীরা যখন আমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয় তখন এসব বামেরা কি এর বিরূদ্ধে টু শব্দটি করে? আর এরাই করবে আমার ধর্মের অধিকার সংরক্ষন !

"ভারতে বিজেপি বা শিবসেনার সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের নেতৃত্বেই প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।"

ভাবতে খুশী লাগে যে আহা আপনার কথাটি যদি সত্য হত। দুয়েকটা উদাহরণ দেবেন কি? গুজরাটের গনহত্যার পর বামপন্থীদের প্রতিরোধটা জানি কেমন ছিল? তাসলিমাকে ইসলামের বিরুদ্ধে লিখার জন্য প্রশ্রয় দেয় কারা?

"একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্রই পারে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে।"

ভাল কথা, ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্রই ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করবে।

দেখি ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা কি বলে?

Wordnet.princeton.edu/perl/webwn এ লেখা হয়েছে
"A doctrine that rejects religion and religious considerations"

http://en.wikipedia.org/wiki/Secularism এ লিখা হয়েছে
"It is an ideology that holds that religion has no place in public life."

প্রশ্ন হলো, যে মতবাদটা ধর্ম ও ধর্মীয় আচার কে অস্বীকার করে, যে মতবাদ মানেই হলো পাবলিক লাইফে ধর্ম পালনে অস্বীকৃতি সে মতবাদের লোকদের দ্বারা চালিত রাস্ট্র ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করবে?


৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:২৯
comment by: বাকী বিল্লাহ বলেছেন: আপনি কিভাবে জানলেন যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ধর্মের অস্তিত্ব, ধর্ম পালনের অধিকার অস্বীকার করেন। মোটেও তা তিনি করেন না। এ বক্তব্য ভয়ংকর তথ্য বিকৃতি। আপনার সাথে তার পার্থক্য এই যে, আপনি শুধু আপনার ধর্ম পালনের অধিকার চান আর তিনি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের সমানভাবে ধর্ম পালনের অধিকার সংরক্ষন করতে চান। আপনি হানাহানি ছড়িয়ে ভারতে বিজেপিকে হিন্দু রাস্ট্র বা ইজরাইলকে ইহুদী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধতা দেন তিনি সেটি দেন না।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৩

লেখক বলেছেন: "আপনি হানাহানি ছড়িয়ে ভারতে বিজেপিকে হিন্দু রাস্ট্র বা ইজরাইলকে ইহুদী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধতা দেন"

আমি হানাহানি ছড়িয়ে ভারতে বিজেপিকে হিন্দু রাস্ট্র বা ইজরাইলকে ইহুদী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধতা দেই এ আজব তথ্য কই পাইলেন?

আমি কিভাবে জানলাম যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ধর্মের অস্তিত্ব, ধর্ম পালনের অধিকার অস্বীকার করেন? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য আন্দোলন করেন না, আন্দোলন করেন কম্যুনিজম প্রতিস্ঠার জন্য। কম্যুনিজম কি ধর্মকে স্বীকার করে?

Communism is opposed to all religious expression.

V. I. Lenin, the celebrated prophet of Communism, said, "Religion is the opium of the people." Ibid., page 157

যে তিনটি মূল বিষয়ের উপর কম্যুনিজম প্রতিষ্ঠিত তার প্রথমটি হলো আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার।

"In pointing out the goals of Communism, we may do this by referring to three of its basic laws. In denying individual worth and human rights, moral values and responsibility, dialectic materialism affirms that --

1. There is no God. And therefore every moral and virtue that originates with God is denied.

2. Man is a materialistic machine. Man is thought of as the total product of evolution, and who may be improved by animal husbandry.

3. Economic determinism dictates all that is accepted as being right."

Click This Link

এর পরেও বলবেন মুজাহিদ সেলিম আমার ধর্ম পালনের অধিকার স্বীকার করেন?

৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১২
comment by: ইছামতীর পাড়ে বলেছেন: বিতর্কটা বেশ উপভোগ করছিলাম । নাবিকের কোটেশনগুলো চমৎকার!
৮. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:০১
comment by: পান্জেরী বলেছেন: ধন্যবাদ।

 

 


নিজেকে জানার জন্য লিখি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৬৪৬৯