আমার প্রিয় পোস্ট

আল্লাহ আমার রব, সেই রবই আমার সব। দমে-দমে তনু-মনে তাঁরই অনুভব।

একেই বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা !! ৩৬ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের নাম উঠেনি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:১২

শেয়ার করুন:                   Facebook

দেশ ও জাতির কাছে তার প্রত্যাশা ছিল-মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এক খাঁচায় বাঘের সঙ্গে অবস্থান করেও বেঁচে যাওয়া পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সফিকুল আলম চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা এখনও পূরণ হয়নি।

পাক সেনাদের নির্যাতনে তিনি এক হাত ও এক পা হারিয়ে ভয়াবহ এক স্মৃতি বুকে নিয়ে বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের গোয়াগ্রাম প্রধান পাড়ায় নিভৃতে জীবনযাপন করছেন।

সফিকুলকে পাক সেনারা বাগের খাঁচায় বন্দি করে অমানসিক নির্যাতন করে।

নির্যাতনের নির্মমতা ও তার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে দৈনিক আমাদের সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। প্রতিবেদন দেখে দেশের সুহৃদয় ব্যক্তিরা তাকে চিকিৎসা জন্য সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ও তার পরিবার সাহায্য নিতে অসম্মতি জানান।

তখন তিনি বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চাই। তার এই ইচ্ছে পূরণে সংশ্লিষ্ট কেউ এগিয়ে আসেননি।

১৯৭১ সালে যুব ও ছাত্রদের সংগঠিত করে তাদের প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। পাক হানাদার বাহিনী যখন দেশের সব অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন সফিকুল ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। সেখান থেকে দেশের অভ্যন্তরে স্বজনদের দেখতে এসে স্বদেশি শত্রুদের হাতে ধরা পড়েন।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হওয়ায় পাক সেনারা তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের বন্দি শিবিরে বাঘের খাঁচায় রেখে নির্যাতন চালায়। কিন্তু অবাক হলেও সত্য, সেই হিংস্র বাঘেরা তাকে স্পর্শ করেনি।

সূত্র : আজকের দৈনিক আমাদের সময়

পুনশ্চ: সংবাদটি পড়ার পর আমার এক মুরুব্বি বললেন,

আচ্ছা বলতো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আগে করা জরুরী না ৩৬ বছরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি না দিয়ে, তাদের পুনর্বাসন না করে যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবমাননা করে চলেছে , মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অশ্রদ্ধা করে চলেছে তাদের বিচার আগে প্রয়োজন?

আমি জবাব দেবার আগেই উনি বললেন; মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবমাননাকারীদের আগে বিচার প্রয়োজন। কারন রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের সময় খুন করেছে, তাদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত।

কিন্তু আমাদের তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের স্বঘোষিত ইজারাদার নেতারা স্বাধীন দেশে বসে সফিকুল আলম চৌধুরীর মতো মুক্তিযোদ্ধাদের ঠান্ডা মাথায় বছরের পর বছর ধরে তিলে তিলে খুন করে চলেছে। এরা আরো জঘন্য খুনী। এদের বিচার আগে হওয়া উচিত।

এরা ডবল অপরাধী। এরা যুদ্ধাপরাধীদের তাদের রাজনীতির স্বার্থে বিচার না করে জাতির সামনে মূলা ঝুলিয়ে রেখেছে, অন্যদিকে সফিকুল আলম চৌধুরীর মতো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের তিলে তিলে খুন করে চলেছে।

উনার মন্তব্য শুনলাম। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?

 

 

  • ১২ টি মন্তব্য
  • ২৪৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:১৫
comment by: ১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীরা দেশ ও জাতির দুশমন। এদের রুখে দাড়ান।
২. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:১৮
comment by: এম.এ.হামিদ বলেছেন: গত ৩৩ বছর রাজাকার তোষনের কারনে মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের যথাযথ সম্মান দেয়া যায়নাই। রাজাকার রা যখন মন্ত্রি হয়, তকন মুক্তিযোদ্ধা দের আর সম্মান হবে কেমনে। রাজাকার দের কবর দিলেই মুক্তিযোদ্ধারা সম্মান পাবে।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২০

লেখক বলেছেন: দেশ স্বাধীন হইছে ৩৩ বছর আগে?

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২১

লেখক বলেছেন: জবাবটা বুজলাম, কিন্তু মাইনাস দিয়ে কি বুঝাইলেন?

৩. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৩১
comment by: নাবিক বলেছেন: ব্লগে যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সারাদিন মাঠ গরম করে রাখেন তারাই দেখি মন্তব্য না কইরা শুধু মাইনাস মাইরা যাইতাছে।

ভাই এ পোস্ট টা প্লাস মাইনাসের জন্য না। আপনার মন্তব্যটা জানান আর আসেন একটা টিম করে সফিকুল আলম চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা যাতে পূরণ হয় সে জন্য গনসচেতনতা গড়ে তুলি। একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছা পূরণের দাবীকে গণ দাবীতে পরিণত করি।
৪. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৫৬
comment by: চেনামুখ বলেছেন: তা ঠিক বলছেন । তবে যে কয়জনার নাম আছে । তারা তো আবার সনদ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিসে দালালি শুরুকরে দিয়েছে। শুনুন মশাই প্রকৃত মুক্তি ,মুক্তি হিসাবের খাতায় নাম লেখানের জন্য যুদ্ধকরেনাই । রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে পার্থক্য আছে । রাজাকারদের গালিদেন অসুবিধানাই । মুক্তিযোদ্ধানিয়ে আলোচানা না করি। তাঁরা জাতির সুসন্তান তাঁরা সম্মান পাবে সবার উপরে।
৫. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৩৫
comment by: পান্জেরী বলেছেন: ১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীরা দেশ ও জাতির দুশমন। এদের রুখে দাড়ান।
৬. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৫৫
comment by: ফজলে এলাহি বলেছেন: "তিনি বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চাই। তার এই ইচ্ছে পূরণে সংশ্লিষ্ট কেউ এগিয়ে আসেননি।"

বাস্তবে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেরই এই দুরবস্থা চলছে। আর পরবর্তীতে গজিয়ে উঠা আগাছাগুলোই সব কৃতিত্ব নিচ্ছে। বলাবাহুল্য এখনো দিনে দিনে গজাচ্ছে।
৭. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:১৮
comment by: আবূসামীহা বলেছেন: ভাল পয়েন্ট এনেছেন। যারা দায়িত্বশীল তারা যথার্থ পদক্ষেপ নিলেই হল।
৮. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:২৯
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন:

তিনি সম্ভবত আওয়ামীলিগে যোগ দিয়ে স্বাধীনতা পরবর্তী লুটপাটে সহায়তা করেননি.. বা ধর্ষনে সেঞ্চুরী করার জন্য কাউকে সোনার ছেলে পদবী দিতে অসম্মত জানিয়েছিলেন.. অথবা ইসলাম নিয়ে হয়তো তার মনে কোন বিদ্বেষপূর্ন ধারনা বা বক্তব্য ছিলো না...

তিনি কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী(!) হবেন বলেন.... ওসমানী ও ভাসানীর মত নেতাদেরই স্বীকৃতি দিতে চায় না আজকের মুক্তিযুদ্ধের চেতানাধারী(!)রা... আর তিনি তো একজন সাধারন মুক্তিযোদ্ধা....
৯. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:৩৮
comment by: সোনার বাংলা বলেছেন:
মুরুব্বির সাথে একমত।

১০. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫৭
comment by: ইছামতীর পাড়ে বলেছেন: মুরুব্বির সাথে একমত।

 

 


নিজেকে জানার জন্য লিখি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৬৪৮০