
সুপারম্যান, স্পাইডার ম্যান, ক্যাট ওম্যান, আয়রন ম্যান এর পর দুনিয়া কাপাতে যারা চলে এসেছে তারা হলেন "এপ্রন ওমেন"।
প্রতিটা সুপার হিরো, হিরোইনের মতো তাদেরও একটা আলাদা পোশাক আছে। নামেই বুঝতে পারছেন। হ্যা, সেটা এপ্রন।
এখন প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, কেন আমি শুধু হিরোইন দের কথা বলছি? "এপ্রন ম্যান" বা "এপ্রন মেন" দের কি দেখা যায় না?
এপ্রন মানব কিংবা এপ্রন মানবীরা কি জন্মসুত্রেই এই ক্ষমতার অধিকারি?নাকি পরবর্তীতে অর্জন করেছেন?
না, উনারা মায়ের পেট থেকেই এপ্রন নিয়ে বের হন নি। এটা অর্জন করতে হয়েছে।
আমিও কি চাইলেই এপ্রন মানব কিংবা মানবী হতে পারবো?
উত্তরঃ হ্যা, আপনি চাইলে আপনি নিজেও এই সুপার পাওয়ার অর্জন করতে পারেন।
এপ্রন মানব কিংবা এপ্রন মানবী হতে হলে কি করতে হবে?
এপ্রন মানব কিংবা এপ্রন মানবী হওয়ার জন্য আপনাকে মেডিকেল কলেজের ফর্ম কিনতে হবে। সরকারী কিংবা বেসরকারি যেকোনো মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর একাডেমিক কাজ শেষে সারাদিন এপ্রন পরিহিত অবস্থায় যেখানে সেখানে ছুটাছুটি করলেই আপনি এপ্রন সুপার হিরো বা হিরোইন এ পরিনত হবেন।
বিঃদ্রঃ ল্যাব টেকনিশিয়ানদেরও এপ্রন পরিধান করতে হয়।
এপ্রন মানবীদের কোন দিন বা দিনের কোন সময়ে বেশি সাক্ষাত পাওয়া যায়?
যেকোনো দিনেই পাবেন। এমনকি শুক্রবারেও গাউছিয়াতে এপ্রন মানবীদের দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তাছাড়া মেডিকেলে ক্লাস শুরু হবার ৭ দিন আগে একবার আমাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমাদের ব্যাচের একজন মানবী এপ্রন পরে সংবর্ধনায় এসেছিলেন (সেটাও শুক্রবার ছিল)
এপ্রন মানবীদের কাজটা কি?
বহুত কাজ!!!ভাবছেন কি?
১ নম্বর কাজঃ ভাব মারা। তারা মেডিকেলে পড়ে, লোকজনকে বুঝানো লাগবে না?
বিঃদ্রঃ যদিও বছরের ৩৬৩ দিন এই ভাব থাকে, কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারনে ঈদের দিনগুলিতে কোন মানবীকে এপ্রন পড়তে দেখতে পাওয়া যায় নি, বড়ই আশ্চর্য!
২ নম্বর কাজঃ বদ পুলাপান দের শিক্ষাদান।
৩ নম্বর কাজঃ তিন নম্বর কাজটা অনেক কঠিন! অনেক চিপা এর মধ্য থেকেও নিজেদের কাজ হাসিল করে নেওয়া।
কয়দিন আগে বরিশালে গিয়েছিলাম। বরিশালে যাওয়ার কিংবা বরিশাল থেকে ঢাকা আসার দুইটা উপায় আছে। একটা হল, সড়ক পথে অর্থাৎ বাস এর মাধ্যমে। আরেকটা হল নৌ পথে, অর্থাৎ লঞ্চ। আমার লঞ্চ জার্নি ই বেশি ভালো লাগে। তো ছুটি শেষ, বরিশাল থেকে ঢাকা আসবো, এমন অবস্থায় লঞ্চ অফিসে গেলাম একটা সিট বুকিং দেওয়ার জন্য। বুকিং কাউন্টার এ দাঁড়ানো মাত্র কাউন্টার এর লোক আমাকে বলে দিলো যে কোন সিট খালি নাই, যেয়ে রাস্তা মাপেন।
মিষ্টি করে হেসে কাউন্টারে যেয়ে মহা মানবী বললেন-
এক্সকিউজ মি ভাইয়া, আজ আপনাদের কোন লঞ্চটা ঢাকা যাবে?
আসেন আসেন আপা, কয়ডা সিট লাগবে খালি কন।
পরিশিষ্টঃ যেকোনো কিছু ব্যবহার করতে হলে আগে সেই জিনিসটার প্রকৃত গুরুত্ব জানা উচিৎ।এপ্রন ভাব মারা কিংবা স্টাইলের জন্য নয়। এপ্রন ব্যবহারের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল হাসপাতাল কিংবা কর্মক্ষেত্রে জীবাণুমুক্ত ভাবে সেবা প্রদান। পুরা শহরে চক্কর মেরে রাজ্যের ধুলো গায়ে মেখে রোগীর কাছে যাওয়ার মানেটা কি? একই ভাবে হাসপাতালে ব্যবহৃত এপ্রন অনেক ভাবেই রোগীদের শরীরে থাকা বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। সেই জীবাণুগুলিকেও সারা শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার কোন অর্থ নেই। এপ্রন একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট এর আইডেন্টিটি ও বটে, সেই হিসেবে ব্যবহার করলে কিন্তু রাস্তাঘাটে সবার সব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর ও দেওয়াটা বাঞ্ছনীয়। ইদানিং হরহামেশা রাস্তাঘাটে ,শপিং মলে এদের বেশি দেখা যায়, তাই না লিখে পারলাম না। ঘুরতে হলে এপ্রন খুলে ঘুরলেই তো হয়। ভাব না হয় একটু না ই নেওয়া হল, ক্ষতি কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

