চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বুধবার ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় বহিরাগত ছাত্ররা জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় নগরীর দুটি কলেজ থেকেও বিপুলসংখ্যক ছাত্র ওই ভাঙচুরে অংশ নেয়। এ দুটি কলেজ ছাত্রশিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওই দিনের ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছেন।
ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন, বাণিজ্য অনুষদ ভবন, আইটি ভবন ও চাকসু ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষুਵ যুবকেরা চাকসু ভবনের আসবাবপত্রও গুঁড়িয়ে দেয়। অথচ এই ভবন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জায়গা। ছাত্ররা এভাবে নিজেদের সম্পদ ধ্বংস করবে, তা অনেকেই বিশ্বাস করছেন না।
র্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আনিছুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের দৃশ্য আমি নিজে দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। বাইরের কলেজের ছাত্ররা এ তান্ডবে জড়িত। নগরীর চট্টগ্রাম কলেজ ও মুহসীন কলেজের ছাত্ররা এ ভাঙচুরে অংশ নেয় বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।’
একাধিক শিক্ষকও বাইরের ছাত্রদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা মনে করেন, চট্টগ্রাম ও মুহসীন কলেজের ছাত্রদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। শিক্ষকেরা বলেন, কেন বহিরাগত ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর করেছে, তার রহস্য বের করতে হবে। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম ও মুহসীন কলেজ ছাত্রশিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
একাধিক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুহুর্তের মধ্যে হাজার হাজার যুবকের উপস্থিতি দেখে তাঁরা বিস্নিত হন। শাটল ট্রেনে চড়ে বেশির ভাগ যুবক ক্যাম্পাসে পৌঁছে। তারা ট্রেন থেকে নেমে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে ছুড়তে মূল ক্যাম্পাসে যায়। এরপর যুবকেরা চারটি ভবনে ভাঙচুর করে। ভাঙচুরে অংশ নেওয়া অধিকাংশ যুবক অচেনা।
প্রক্টর অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মসুচিতে এত যুবক অংশ নিতে কখনো আমি দেখিনি। মুহুর্তের মধ্যে কোত্থেকে এরা ক্যাম্পাসে এল, তা আসলে বিস্নয়ের ব্যাপার।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ঘটনার জের ধরে বুধবার ছাত্ররা বিক্ষোভ করেছে। অথচ বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের সময় প্রশাসনের সঙ্গে চার দফা দাবি নিয়ে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল যুবকেরা। ওই চার দফার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত ছাত্রদের ব্যাপারে কোনো বক্তব্য ছিল না। তাই ওই দিনের কর্মসুচি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা শুক্রবার রাতের মধ্যে কটেজ ছেড়ে বাসাবাড়িতে চলে গেছে। আগের দিন বুধবার আবাসিক হল ছেড়ে তারা ক্যাম্পাস ও আশপাশের ২২টি কটেজে উঠেছিল।
শিক্ষকদের গা ঢাকা: ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের আটকের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভয়ে অনেক শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেকে চট্টগ্রাম ছেড়ে আত্মীয়ের বাসায় চলে গেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যৈষ্ঠ একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আতঙ্কে আমাদের দিন কাটছে। ছাত্রদের ভাঙচুরের ঘটনায় কখন ফেঁসে যাই−এই চিন্তায় অস্থির আছি। তাই চট্টগ্রামকে এখন আর নিরাপদ মনে করছি না।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আটকের ব্যাপারে তাঁদের কাছে কোনো নির্দেশ আসেনি।’
।। প্রথম আলো : ২৬.০৮.২০০৭ ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

