লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার রেজওয়ানের লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:৫৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

গত ১৪ এপ্রিল সকালে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের হাতে লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার রেজওয়ান হোসেনের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একজন গ্রুপ ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।অভিযোগে জানা যায়, ব্যারিস্টার রেজওয়ান হোসেন তার এক আত্মীয়কে ঘটনার দিন সকালে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে আসেন। এ সময় তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে এমিরেটস-এর চেক ইন কাউন্টার পর্যন্ত গমন করেন এবং দীর্ঘ সময় যাবৎ ঘোরাফেরা করতে থাকেন। এমতাবস্থায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তার সন্দেহ হলে ব্যারিস্টার রেজওয়ান তার উক্ত এলাকায় অবস্থানের পক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনে বা ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হন। তখন তাকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তার কক্ষে নেয়া হয় এবং তাকে তার নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিনি আরো উত্তেজিত হয়ে উচ্চৈস্বরে ইংরেজীতে ভর্ৎসনামূলক ভাষা ব্যবহার করে হুমকি প্রদান করতে থাকেন। উপায়ান্তর না দেখে উক্ত কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা তাকে যৌথ বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করেন। এ পর্যায়ে তাকে যৌথ বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তিনি কোন যুক্তিতর্ক মানতে রাজি না হয়ে তার বিদেশী নাগরিকত্ব এবং পেশার মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বাড়তি সুবিধা লাভ এবং কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তার অভিযোগ খণ্ডনের প্রয়াস চালান এবং পূর্বের ন্যায় অপ্রত্যাশিত আচরণ ও দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। এ পর্যায়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যগণ কর্তৃক ব্যারিস্টার রেজওয়ানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।এক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ উক্ত টাস্কফোর্স সদস্যদেরকে মিলিটারি ল-এর বিধান অনুযায়ী বিমান বাহিনীর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হেফাজতে নিয়েছে। উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার রেজওয়ান কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাহিনী একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং অভিযোগটি যাচাইপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

- ইত্তেফাক ২২.৪.২০০৮

 

প্রকাশ করা হয়েছে: অন্যান্য  বিভাগে ।

 

  • ১৫ টি মন্তব্য
  • ২৫৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪ জনের ভাল লেগেছে, ১০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:০০
comment by: মাইনুল বলেছেন: খুব ভাল উদ্যোগ। একজন বিদেশী নাগরিক কে এইভাবে পিটিয়ে হাত পা ভেংগে দিবে এইটা একটা সভ্য দেশে হতে পারেনা।
২. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:০৫
comment by: মানুষ বলেছেন: ব্যারিস্টার রেজওয়ান কে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি। উনি উধ্বত আচরণ করতে পারেন আমি সেটা মানতে পারছি না। জিয়ায় এর আগেও এভাবে প্রহার করার ঘটনা ঘটেছে এবং একজনের মৃত্যুও হয়েছে সেখানকার নিরাপত্তা কর্মিদের হাতে।

হতে পারে তিনি রেস্ট্রিক্টেড এরিয়াতে ঢুকে পড়েছিলেন কিন্তু সে কারণে শারিরীক ভাবে আঘাত করা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাই।
৩. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:১০
comment by: ভালোবাসি বাংলাদেশ বলেছেন: ফুডাংকি মারতে গিয়ে মাইর খাইছে।এটা ক্লিয়ার হইলো তাইলে।
৪. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:১১
comment by: মাইনুল বলেছেন: আমি ও ব্লগার মানুষের সাথে একমত। বিমানবন্দরে যারা কাজ করে তারা সব দুর্নীতিবাজ। তারা এইগুলি এখন বাচার জন্য বলছে। এছাড়া প্রশ্ন হচ্ছে ওইটা যদি রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া হয়, তাহলে তাকে ঢুকতে দেয়া হল কেন? এইটা তো বিমানবন্দর অথরিটির ই দোষ। আর তিনি একজন ব্রিটিশ। তাকে এভাবে পিটিয়ে হাত পা ভেংগে দিয়ে দেশের ইমেজ নষ্ট করা হয়েছে।
৫. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:১৮
comment by: শিট সুজি বলেছেন: একজন সম্মানিত ব্যক্তির নিজের সম্মান রক্ষার ব্যাপারে অধিকতর সচেতন হওয়া উচিত ।
৬. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:২০
comment by: ভালোবাসি বাংলাদেশ বলেছেন: পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ৭ জনের ভাল লাগেনি
৭. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:৩৩
comment by: সামিয়া বলেছেন: হুম !!!
৮. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৩:৪৩
comment by: রামন বলেছেন: বিমানবন্দরে বেশী ঘুরাঘুরি ভাল না। চোর বদমাইশ ভাইবা পুলিশে পিটাইছে, তার পাসপোর্টে তো লেখা নাই সে ইংল্যান্ডের ভি,আই,পি, ইংরেজী কইলেই সাত খুন মাফ হয় না। তবেএই শিক্ষা ভবিষ্যতে আমরাদের পাথেয় থাকবো।
৯. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৪:৪৯
comment by: ফরিদ বলেছেন: পেরথম কথা হইল, কাউরে মাইরপিট করনের ক্ষমতা আইনগতভাবে কোন অথরিটিরে দেয়া হয় নাই। সে যাই করুক না ক্যানো, ঘাউরামি করলে বিচার হইব, সেইতে লাগলে শাস্তি হইব।
পরের বাত হইল, আমি বা আমার পরিচিত মানুষজন সাধারণত হেডলাইট/লাইমলাইটে আসেনা। তাই হটাত এক দুইজন চিনপরিচিতের নাম পেপারে আসলে একটু ঘুইরা বসি। এই পাবলিকরে আমি বেশ কয়েকবার দেখসি। কুনোবারেই সামনাসমনি দেখায় ঘাড়ত্যাড়া মনে হয়নাই। অফিশিয়াল যা বক্তব্য তাতে অথরিটির জান বাঁচানি বক্তব্য বলেই মনে হচ্ছে।
১০. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৪:৫৩
comment by: এস্কিমো বলেছেন: এছাড়া প্রশ্ন হচ্ছে ওইটা যদি রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া হয়, তাহলে তাকে ঢুকতে দেয়া হল কেন?

- তাইতো। ঢুকতে দেবে আবার পিটাবেও - মামার বাড়ি নাকি?
১১. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৪:৫৪
comment by: আরিফুর রহমান বলেছেন: এখানে কোথাও একটা বিরাট ঘাপলা আছে, রেজোয়ান মিয়া পুরাটা বলতেসে না।
১২. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৭:২১
comment by: রামন বলেছেন: মাইরের উপর কোন ঔষধ এখনও বাজারে আসে নাই।
১৩. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৭:৩১
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: রেজওয়ানকে দোষ দিচ্ছেন কেন আরিফুর। সে মার খেলো , এখন কেন খেল তার কারন হিসেবে আপনি পত্রিকায় যা দেখছেন তা আপনার যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে না, আবার তার জন্য ও রেজওয়ানকেই দোষ দিচ্ছেন। বেচারার প্রতি বেশী অ্ন্যায় হয়ে যাচ্ছে না?
১৪. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৭:৩৩
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: এছাড়া প্রশ্ন হচ্ছে ওইটা যদি রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া হয়, তাহলে তাকে ঢুকতে দেয়া হল কেন?


কিসের এমন রেস্টিকটেড এরিয়া? যেখানে চেকইন করে সেখানটা। এখানে আগে ২শ টাকা টিকেট করে ঢোকা যেত। এখন পাসপোর্ট থাকলেই ঢোকা যায়। আমার ছয়বন্ধু আমার সাথে ঢুকেছে। যদিও এখন ভীর ঠেকাতে ওখানে ঢুকতে দেয়া হয় না। কিন্তু ওখানে ঢুকলেই যে তাকে এমন মারধোর করতে হবে তা কেন?
১৫. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৮:১৭
comment by: মানবী বলেছেন: আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরে অতি সহজে আরেকজনের গায়ে হাত তোলার একটি কুরুচিপূর্ণ চর্চা প্রচলিত।
যা ক্ষেত্র বিশেষে আমরা বেশ সহজ এবং স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেই। যেমন, পাঠশালার শিক্ষক ছাত্র কে বেত মারবেন, ট্রাফিক পুলিশ রিক্সাচালক বা ট্রাক বাসের হেল্পার কে চড় মারবে, কোন দরিদ্র রিক্সাচালক বা হকার (?)শিক্ষিত কাস্টমারের সথে মুখে মুখে কথা বললে মার খাবে এটাই স্বাভাবিক।

হরতাল ভঙ করে পথচললে পথচারী পিকেটারদের হাতে মার খাবে, ঘরের কাজ মনের মতো না করলে গৃহপরিচারিকা গৃহকর্তৃ/কর্তার হাতে মার খাবে... এসব আমরা খুব সহজ ভাবে মেনে নেই। এধরনের নিন্দনীয় একটি বিকৃত চর্চা আরেকজনের জন্য কতোখানি গ্লানিকর ও অপমানজনক তা আমরা কেবল বুঝতে পারি নিজেদের গায়ে আঘাত এলে, অথবা নিজের সম অবস্থানের কেউ আক্রান্ত হলে।

এই অভ্যাসের কারনেই কাউকে হেয় করতে বা অগ্রাহ্য করতে নিজের অবস্থানের গুরুত্ বোঝাতে খুব সহজেই প্রহার/শারিরিক লান্ছনার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সময়ে যার শিকার শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই।



ব্যারিস্টার রেজওয়ানকে শারিরিক ভাবে লান্ছিত করার তীব্র নিন্দা জানাই। এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। সেই সাথে এই কামনা করছি আমাদের জাতিগত চরিত্রের যেন পরিবর্তন ঘটে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের বৈষম্যের কারনে খুব সহজেই অপরের গায়ে হাত তোলার এই ঘৃণ্য অভ্যাসের পরিবর্তন হোক।



 

 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৪০৮১