জ্বালানি বিহীন বিদ্যুৎ - চট্টগ্রামের তরুণের সামনে এখন স্বপ্নের হাতছানি!
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:২৯
কয়েকদিন পরপরই ই-মেইল বার্তা আসছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত বাণিজ্য কোম্পানী ডয়েস, জেনারেল ইলেক্ট্রনিক্স কিংবা বিএমডব্লিউওসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানও অভিনন্দন জানিয়েছে, আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের তরুণের উদ্ভাবিত বিদ্যুৎবিহীন জ্বালানির ব্যাপারে। অনেকের জিজ্ঞাসা, ‘বিস্ময় যুবক গিয়াস উদ্দিন কচির জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের খবর কী?’ এর মধ্যে অতি আগ্রহী কেউ কেউ আবার ফোন করেছেন, কেউবা উদ্ভাবিত প্রযুক্তি শতকোটি টাকায় কিনে নেয়ারও প্রস্তাব দিচ্ছেন। কিন্তু আশার এসব বার্তা নিয়ে কচির জীবনকে জীবন বদলানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তেমনি আশংকাও কম নয়। কারণ পর্যাপ্ত পড়াশোনা না করায় নিজের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ডায়াগ্রাম, প্যাটার্ন কিংবা পাইলট প্রজেক্ট তৈরি করতে পারছেন না তিনি। আবার কৌশল ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সাহায্যও নিতে পারছেন না অন্য বিশেষজ্ঞদের। অথচ জ্বালানি ছাড়াই তার উৎপাদিত বিদ্যুৎ এক কিলোওয়াট থেকে এখন বেড়ে গেছে ১০ কিলোওয়াটে।
গিয়াস উদ্দিন কচির পৃষ্ঠপোষক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ লতিফ বলেন, ‘কচি প্রকৌশল শাখায় শিক্ষিত হলে এতোদিনে শতকোটি টাকার বিদেশী প্রস্তাব গ্রহণ করে দেশ ও জাতিকে গর্বিত করতে পারতাম আমরা। কিন্তু দুর্ভাগ্য স্কুলের গন্ডিও পেরোয়নি সে। তাই বাস্তবে যা সম্ভব হচ্ছে কাগজে-কলমেই তা হয়ে উঠছে দুরূহ।’
ঝিনাইদহের যুবক গিয়াস উদ্দিন কচি পড়াশোনা করেছেন ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত। তারপর স্কুলের পাঠ চুকিয়ে বছর কয়েক পরে বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। বর্তমানে ২ ছেলে-মেয়ের বাবা তিনি। সংসারের চাপে এক সময় আঁকাআঁকির কাজ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তারপর একদিন হঠাৎ করে তা ছেড়ে পাড়ি জমালেন চট্টগ্রামে। দিন বদলের এতোসব ঘটনার মধ্যেও অবশ্য জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। প্রায় ৫ বছরের সাধনায় অবশেষে সফলও হলেন কচি। সাংবাদিক হাসান নাসির ও ব্যবসায়ী এমএ লতিফের পৃষ্ঠপোষকতায় গত ১৯ এপ্রিল নিজের উৎপাদিত ঐ বিদ্যুৎ দিয়ে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সামনে লাইট, ফ্যান এবং ড্রিল মেশিনও চালিয়েছেন তিনি। এ সংবাদ দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই অভিনন্দনের ফুলঝুরিতে ভাসতে থাকেন কচি।
জাতিসংঘ থেকে কচিকে অভিনন্দন জানিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়। মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল উইং ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে তার প্রজেক্টের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমেরিকার বিখ্যাত কোম্পানী জেনারেল ইলেক্ট্রনিক্সও অভিনন্দন জানিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন তার কাছে। আর বিশ্বখ্যাত কোম্পানী ডয়েসের প্রতিনিধি সশরীরে এসে কচির উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রয়োজনে শত কোটি টাকায় কিনে নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে তারা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ডায়াগ্রাম ও প্যাটার্ন তৈরি করতে হবে কচিকেই।
এরপর ডায়াগ্রাম তৈরিতে মনোনিবেশ করেন কচি। গত ৩ মাস নিরলস সাধনা করেও কাগজে-কলমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির প্যাটার্ন দাঁড় করাতে পারেননি তিনি। তবে পাইলট প্রজেক্ট তৈরি করার মতো অবস্থায় পৌঁছানো গেছে বলে দাবি করেছেন কচি। দৈনিক ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘ডায়াগ্রাম তৈরি করতে না পারলেও প্রজেক্ট আকারে পুরো বিষয়টি তুলে ধরার সক্ষমতা অর্জন করেছি। পারিবারিক কিছু ঝামেলার কারণে এতোদিন তা আপনাদের দেখাতে পারিনি। এবারে আশা করছি মাসখানেকের মধ্যে পুরো প্রজেক্টটা দেখাতে পারবো।’ পর্যাপ্ত শিক্ষা না থাকাটা প্রকল্প তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আরেকটু পড়াশোনা থাকলে হয়তো এতোদিনে একটা অবস্থানে পৌঁছে যেতো আমার প্রকল্প। আবার এও মনে হচ্ছে, শিক্ষা না থাকাটাই ভালো হয়েছে। কারণ শিক্ষা থাকলে হয়তো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচলিত সূত্রে ঘুরপাক খেয়ে মাঠেই মারা যেত আমার জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচেষ্টা।’
উল্লেখ্য, কচির প্রযুক্তিতে জ্বালানি হিসাবে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার প্রয়োজন হবে না। প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির পার্থক্য হচ্ছে - প্রচলিত প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারের একদিক দিয়ে প্রবেশ করে শক্তি ক্ষয় করে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু নতুন প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ চক্রাকারে ঘুরে শক্তি উৎপাদন করতে থাকে। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চলে যায় ক্যাবলে। এভাবে মাত্র ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ পুনঃ উৎপাদন করা যায় নতুন প্রযুক্তিতে। গত ১৯ এপ্রিল সরেজমিনে এসে এভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) আবুল কাশেম, আরপিডিবি’র প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) শহীদ উদ্দিন আহমেদ, জিইসি’র ম্যানুফেকচারিং ডিরেক্টর এডিএমএ বাসেত ও বিশ্বখ্যাত কোম্পানী ডয়েসের সার্ভিস ম্যানেজার সৌমেন চক্রবর্তী প্রমুখ।
উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কাগজে-কলমে রূপ দেয়া গেলে সত্যিই এর দাম ছাড়িয়ে যাবে শতকোটি টাকা। ‘পৃথিবীতে সবকিছুই এখন জ্বালানি নির্ভর হয়ে পড়ছে। তাই ক্রমশ নিঃশেষ হচ্ছে গ্যাসসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে শুধু এ জ্বালানিই সংরক্ষণ হবে না, পাল্টে যাবে বিশ্ববাসীর জ্বালানির চিত্র। যেমন তখন জ্বালানিচালিত ইঞ্জিন ছাড়াই তৈরি হবে গাড়ি। কারণ ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশী ক্ষমতা রাখবে বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিন।’ তাই কচির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির দাম শতকোটি টাকা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অনেকে। জানা যায়, ‘পাইলট প্রজেক্ট দাঁড় করাতে পারলে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার আমন্ত্রণ জানানো হবে। ডায়াগ্রাম ও প্যাটার্ন যদি তারা নিজেদের প্রকৌশলী দিয়ে তৈরি করার শর্ত মেনে নেয়, তবে মানব কল্যাণে ব্যয় করতে পারবো জ্বালানি ছাড়া উৎপাদিত এ বিদ্যুৎ।’
Daily Ittefaq: 12.09.2008
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার আর্কর্র্র্াইভ + বিভাগে ।
অন্তীম বলেছেন:
তার ঠিকানা দেন তারে আমি খুজতেছি
নাজিম উদদীন বলেছেন:
বাংলাদেশে এরকম অদ্ভূত খবর প্রায়ই বের হয়। এবারের টা কতটুকু সত্য কে জানে।জ্বালানী ছাড়া বিদ্যুত তৈরি হলে শক্তির নিত্যতা সূত্র ফেল মারবে, সাংবাদিকের এসব জ্ঞান নাই।
ইন্সপেক্টর বলেছেন:
ইত্তেফাক হইল সেই পত্রিকা যেইটা লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমরে মনে করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার। মুতি এই সব সংবাদে।
রাতমজুর বলেছেন:
লিনাক্স আইএসপির লাইন খাইতে চাই।
বোকামাষ্টার বলেছেন:
এই বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন (প্রায় মাস দেড়েক) আগেই দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার আরেক কিশোর সাহিদুর একটি প্রদর্শনী করেছিলো। তার প্রজেক্টে ছিলো ৩০ কিলোওয়াটের জেনারেটর। সে মোট ২২ কিলোওয়াট জেনারেট করে ৩ঘন্টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন সেক্টরের প্রকৌশলী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে চালিয়ে দেখিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার প্রজেক্টটি দেখেছি। চেষ্টা করছি যতোটা সম্ভব প্রমোট করার।
আমাদের দেশের একটি প্রধাণ সমস্যা হলো এধরণের আবিষ্কারক যাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোন ডিগ্রী নেই তাদেরকে আমরা মূল্যায়ণের চেষ্টাও করিনা। বরং যতোটা পারা যায় নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয় সব জায়গা থেকে। (ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা এর মূলে আমাদের পরশ্রীকাতরতার ভূমিকা সবচে বেশি। )। এজন্যই দুঃখ হয় যখন দেখি এমন একটা উদ্ভাবনের পরেও ছেলেটা কেবল জিপিএ কম (৩.৬৬) হবার অপরাধে কোন সরকারী পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে ভর্তি হতে পারেনা নিয়মের দোহাই পেয়ে।
@ অন্তীম , আপনি দেখতে চাইলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমার মেইল : ,
ফটকা বলেছেন:
"এভাবে মাত্র ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ পুনঃ উৎপাদন করা যায় নতুন প্রযুক্তিতে। "বিদ্যূতের চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয়ে যাবে ভাইডি। এরকম গাঁজাখুরী মহাবিষ্কারের আইওয়াশ দিয়ে পাবলিককে ছাগল বানানো বাংলাদেশেই সম্ভব।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
বড়ো বড়ো প্রকৌশলীরা বিষয়টা দেখে বিস্মিত হয়েছেন- এটা আমরা জেনেছি। বিশেষ করে জিইসি’র ম্যানুফেকচারিং ডিরেক্টর এডিএমএ বাসেতের কথা আমি বলবো। উনি হুজুগে মাতার লোক না।ব্যাপারটার শেষ দেখার অপেক্ষায় আছি। ওই লোক সফল হলে খুবই ভালো লাগবে। অযথা নিরুৎসাহমূলক মন্তব্য করার দরকার দেখছি না।
ফটকা বলেছেন:
বাছেতালি কত মার্ছে খোঁজ নেন।"প্রচলিত প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারের একদিক দিয়ে প্রবেশ করে শক্তি ক্ষয় করে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু নতুন প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ চক্রাকারে ঘুরে শক্তি উৎপাদন করতে থাকে।" - বিদ্যুতের বিন্দুমাত্র জ্ঞান আছে এরকম কাউকে দিয়া এই অংশের তর্জমা করান। বাংলাদেশের সাংবাদিকের একটা বড় অংশ সাংঘাতিক।
শয়তান বলেছেন:
আরেকটা অবাক ব্যাপার! এইরকম বিশাল বিশাল আবিষ্কারকরা কেন যেনো চট্রগ্রামেই বেশী দেখা যায় ।
সীমানত ইসলাম বলেছেন:
আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ শক্তি সৃষ্টি করতে পারে না। রুপান্তর সম্ভব, পদার্থ থেকে শক্তি বা শক্তির রূপের। আগে তো শুনতাম ভুয়া নবী রাসুলের আমদানী হয়, এখন দেখি ভুয়া আল্লাহ দেশে আছে। যে বানাইছে সে তো নাহয় মূর্খ মানুষ, না বুঝে বলে ফেলছে। সাত বছর আগেও একবার বিটিভির খবরে এক ভুয়া আল্লাহর বিদ্যুত্ দেখছিলাম। হায় রে বাঙালী, সর্টকার্টে এ+ পেয়ে দেখি এখন সর্টকার্টে বিদ্যুত্ ও বানাছ্ছে।
সীমানত ইসলাম বলেছেন:
ইন্টারনেট ইউজাররাও যে এই কথা বিশ্বাস করতে পারে ভাবিনি। বাংলাদেশে সবাই তো আর ইন্টারনেট ইউজ করে না।
ত্রিভুজ বলেছেন:
এটা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন? পাইলট প্রকল্প কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে?
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
সীমানত ইসলাম বলেছেন: আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ শক্তি সৃষ্টি করতে পারে না। এইখানে একটু ভুল হচ্ছে। আল্লাহ এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ছাড়া আর কেউ শক্তি সৃষ্টি করতে পারে না। হরলিকস কোম্পানির নাম বাদ দেওয়াটা উচিত হবে না।
শয়তান বলেছেন:
ভাই বুঝি না । এত আবিষ্কারক থাকতেও রাত দেরটায় লোডশেডিং এর যন্ত্রনা ভোগ করি কেন
সীমানত ইসলাম বলেছেন:
একটা পজেটিভ মন্তব্য করি। যার যা আছে তাই নিয়ে বিদ্যুত্ সমস্য সমাধানে এগিয়ে আসছেন - এটা আশা ব্যাঞ্জক। জালানি ছাড়া না হোক, সস্তা জালানি দিয়ে হয়তো কেউ কিছু করতে পারবেন।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
ভালো খবর। তবে, আমাদের দেশের সরকার তো কোন হেল্প করেনা। এসব নিয়ে তাহাদের মাথা ঘামানোর টাইম কই?? তারপরও দেখি কি হয়। শুভকামনা রইল।
"জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত বাণিজ্য কোম্পানী ডয়েস, জেনারেল ইলেক্ট্রনিক্স কিংবা বিএমডব্লিউওসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানও অভিনন্দন জানিয়েছে,"
হা হা হা। জাতিসংঘের লোকে বসে বসে ইত্তেফাক পড়ছে (আগের বার এই ব্যাটাই এই দাবি করেছিলো ইত্তেফাকে), আর অভিনন্দন জানাচ্ছে। নির্ঘাত ইমেইল অ্যাড্রেসটা ইয়াহু থেকে , বা কায়সার সাহেবের মতো "লাইভ ডট কম" থেকে।
কান পাতলা প্রবাদটার পাক্কা উদাহরণ এই সাংবাদিক।
অ্যামাটার বলেছেন:
@রাগিব ভাই, ব্যাপারটা আসলে কি, ক্রিয়াকৌশলটা কি একটু ব্যাখ্যা করবেন?যেমন অনেককে দেখেছি, এটাকে পুরা ভাঁওতাবাজি বলে উড়িয়ে দিতে, যেমন আমাদের ফিজিক্স১০৭-এর ফ্যাকাল্টি তো বলব এটা একটা গাঁজাখুরি সংবাদ ছাড়া আর কিছুই না, কেননা তা হলে এন্টি লজিক-কে মেনে নিতে হবে, আবার অনেককে দেখেছি পজিটিভ মন্তব্য করতে, এখানেই তো ফিউশন, শ.আ.ইমন, আরাশি ;অনেককেই আশাবাদি হতে দেখলাম, মাথায় ঢুকছে না, আসলে কোনটা ঠিক!!? পুরা কনফিউজড্!!
এ থিম নিয়ে বুজরুকী অনেক ঐতিহাসিক...নেটে ঢু মেরে দেখতে পারেন
সায়েন্স জোন বলেছেন:
"এভাবে মাত্র ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ পুনঃ উৎপাদন করা যায় নতুন প্রযুক্তিতে। "এইটা আমি আইজ থাইকা ১৪ বছর আগে যখন ৪ বছর এর ছাওয়াছিলাম তখন থাইকায় জানি...............এই প্রযুক্তিটা খুবই সহজ একটা জিনিষ এইটা নিয়া এত মাতামাতি শুধু গাধা আর ছাগুরায় করে
মনুমনু বলেছেন:
"""পর্যাপ্ত শিক্ষা না থাকাটা প্রকল্প তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আরেকটু পড়াশোনা থাকলে হয়তো এতোদিনে একটা অবস্থানে পৌঁছে যেতো আমার প্রকল্প। আবার এও মনে হচ্ছে, শিক্ষা না থাকাটাই ভালো হয়েছে। কারণ শিক্ষা থাকলে হয়তো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচলিত সূত্রে ঘুরপাক খেয়ে মাঠেই মারা যেত আমার জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচেষ্টা।’"""----বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে।
আমি একটা আই,পি এস না কিনে কচি ভাই এর ঐ জিনিষ কিনতে চাই। আমার অর্ডার ১ নম্বরে লিখেন কচি ভাই।
সরপ বলেছেন:
এই আবিস্কার দেশের জন্য গৌরবের দুয়ার খুলে দেবে। কচিকে অভিনন্দন। সরকারের উচিত এখনই এই খাতে বিনিয়োগ করা। দেরি করে ফেললে জাতিসংহ এবং বিদেশি ইহুদি নাসারারা এই টেকনলজি কিনে নেবে।
পারভেজ বলেছেন:
স্বপ্ন দেখতে তো ইচ্ছা করেই। কিন্তু বরাবরই এই সব প্রজেক্ট কোন অদৃশ্য কারণে হাওয়া হয়ে যায় কিছুদিন পরেই।
সীমানত ইসলাম বলেছেন:
শয়তান বলেছেন: আরেকটা অবাক ব্যাপার! এইরকম বিশাল বিশাল আবিষ্কারকরা কেন যেনো চট্রগ্রামেই বেশী দেখা যায় ।
আমিও একবার পারপিচুয়াল মোশন মেশিন দিয়ে জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুত্ কাহিনি শুনেছিলাম, ওটাও চট্রগ্রামের ঘটনা।
হানিফ সংকেতের সেই ডক্তার ও তো চট্রগ্রামেরই ছিল।
রাগিব কি একটু কমেন্ট করবা?
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
আরেক পোস্টেও কমেন্টটা করলাম ... এখানেও প্রাসঙ্গিক দেখে তুলে দিলামএটাকে আসলে ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন সাংবাদিকরা ... এটা মোটেও ম্যাজিক কইছুনা বা জ্বালানী ছাড়া মানে এমন না যে কোন কিছু ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে
এটা হলো আরো বেশী এফিশিয়েন্ট মোটর/জেনারেটর তৈরীর মতো ব্যাপার ... সম্ভবতঃ সরাসরি ইনপুটের বাইরেও এনভায়রনমেন্টে বিরাজিত এনার্জিকে এক্সপ্লয়েট করে ... জেনেরালি, এগুলোকে ম্যাগনেটিক মোটর বলে
কাউন্টার ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ফোর্স বলে একটা জিনিস জেনারেটর ঘোরানোর সময় তৈরী হয় যেটা জেনারেটরের এফিশিয়েন্সি খর্ব করে ... মূলতঃ এই কাউন্টার ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সকে নানাভাবে এক্সপ্লয়েট করেই নানারকম ম্যাগনেটিক মোটরের উদ্ভাবকরা ডিজাইনগুলা করেন
ম্যাগনেটিক মোটরের লাইনে অসংখ্য পেটেন্ট হয়ে গেছে অলরেডী, কচির ডায়াগ্রাম তৈরী হবার পর সেটার পেটেন্ট আগেই হয়ে গেছে কিনা যাচাই করা হবে নিশ্চয়ই --- সেটাও একটা চিন্তার বিষয় হবার কথা কচির জন্য
যদিও এ্যাকাডেমিয়াতে একমাত্র MEG(http://jnaudin.free.fr/meg/meg.htm) ছাড়া আর কিছু এখনও সেভাবে পাত্তা পায়নি ... এই MEG সম্ভবতঃ এখন বানিজ্যিকভাবে ব্যবহারও হচ্ছে ... এর আউটপুট এ্যাপারেন্ট ইনপুটের ৫ গুনেরও বেশী ... উদ্ভাবকের মতে ভ্যাকুয়াম এনার্জি এক্সপ্লয়েট করার ফলে এটা সম্ভব হচ্ছে
কচির জন্য শুভকামনা রইলো যাতে তার ডিজাইনটা আলাদা পেটেন্ট হয় এবং অন্যদের চেয়ে বেশী এফিশিয়েন্ট প্রমাণিত হয় ... তাইলে তার কপাল খুলতেও পারে
মজার মজার আরো থিওরী আছে এই লাইনে ... বলা হয় তেল ব্যবসায়ীদের চাপে ম্যাগনেটিক মোটর লাইনে নাকি গবেষকদের কাজ করতে দেয়া হয়না --- জানিনা কতটা সত্য
সীমানত ইসলাম বলেছেন:
ইনেফিসিয়েনট জেনারেটর বানিয়ে, তার কিসু এনার্জি চুরি করে বাতি জ্বালালেই জ্বালানি বিহীন বিদ্যুত্ হয়না। রাগিবের কথাটাই সত্যি, সরকার সহোযোগিতা করলে অনেক কিছু করতে পরব বলে টাকা বাগানোর ধান্দা আর কি।
গণিত পাগল বলেছেন:
ফিজিক্স যদি পুরোপুরি ভুল না হয় তাহলে শূন্য থেকে এইভাবে শক্তি বানানো সম্ভব না, কারণ, যতটুকু এনার্জি দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে বেশি এনার্জি পাওয়া সম্ভব না।@জ্বিনের বাদশা:
এটা হলো আরো বেশী এফিশিয়েন্ট মোটর/জেনারেটর তৈরীর মতো ব্যাপার ...
তাহলে,এটা জ্বালানী ছাড়া হল কেমন করে? কোন যন্ত্রই তার ইনপুট পুরোটা ব্যবহার করতে পারেনা...তাই বলে, এনার্জি সেভিং বাল্বকে "এনার্জিলেস" বলা যায় কি?
@উদ্ভাবকের মতে ভ্যাকুয়াম এনার্জি এক্সপ্লয়েট করার ফলে এটা সম্ভব হচ্ছে
ভ্যাকুয়াম এনার্জিও কিন্তু ল অব কনজারভেশন মেনে চলে...
ভন্ডুল বলেছেন:
এজন্যই ইত্তেফাক ছুয়েও দেখি না । এক্টা গাজাখুরি পত্রিকা
ঘনাদা বলেছেন:
এইটা হইলো বলদীকরন প্রকল্প ০১. এর পরে তেল ছাড়া চলে এমন গাড়ী বানানো হবে।
টাকা ছাড়া্ বাজার করা, সিড়ি/লিফট বিহীন বাড়ি, তার বিহীন বিদ্যুত সঞ্চালন, খালি মাঠে বীজ/সার/পানি বিহীন কৃষিকাজ, পোনা বিহীন মাছচাষ...
আরো কতো কি!! বাংলাদেশে নোবেল আর অস্কারে ভরে যাবে। সাজিয়ে রাখার জন্য আগেই ঘরে শেলফ তৈরি করে ফেলা যাক।

















