somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মাছের আঁশ থেকে মুক্তা
প্রাকৃতিক মুক্তা ও কৃত্রিম মুক্তা :

ঝিনুকের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে মুক্ত জন্মালে তাকে প্রাকৃতিক মুক্তা বলে। আর কৃত্রিমভাবে যে মুক্তা উৎপাদন করা হয় তাকে বলা হয় কৃত্রিম মুক্তা। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মুক্তার মধ্যে কোন তফাৎ নেই।

কৃত্রিম মুক্তা তৈরির নির্যাস :

মাছের আঁশের উপরের ত্বক থেকে বেরোনো উজ্জ্বল নির্যাসকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিম মুক্তা তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে ধরা হয়। এই নির্যাসের দীপ্তিকারক উজ্জ্বলতা মাছের উপরের ত্বকের প্রধান জৈব উপাদন গুয়ানিন (২-এ্যামিনো, ৬ অকিইপউরিন রয়েছে) সমৃদ্ধ। মাছের আঁশের উপরের ত্বকে গুয়ানিন থাকার কারণে এটি কলাজেন এবং ক্যালসিয়াম ফসফেটের বিক্রিয়ার ফলে সাদা রূপালি বর্ণ ধারণ করে। এই দীপ্তিকারক রূপালি উজ্জ্বল নির্যাস সাধারণত সামুদ্রিক হোয়াইটিং, সারডিন, হেরিং, রিবন ফিশ এবং মিঠা পানির কিছু কার্প জাতীয় মাছের আঁশে থাকে। সাধারণত এই উজ্জ্বল নির্যাস সারডিন এবং রিবন মাছে বেশি পাওয়া যায়।

শিল্পপ্রধান দেশে এই নির্যাস মুক্তা তৈরিতে ব্যাপক হারে ব্যবহার হয়ে থাকে। উন্নত পরিশোধন পদ্ধতিতে মাছের আঁশ থেকে নির্যাস বের করার পর এতে একরিলিক রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত করে কৃত্রিম মুক্তা তৈরির জন্য ছোট ছোট গ্লাসের গুটিকার প্রয়োজন হয়। নিুমানের কৃত্রিম মুক্তা প্লাস্টিক গুটিকা দিয়ে তৈরি করা। গুয়ানিন হল চতুষ্কাণ আকৃত্রির প্লেইটলেটস, স্ফটিক সমৃদ্ধ এবং ¯-র থেকে ¯-রে আলো সঞ্চারিত করে উজ্জ্বল কৃত্রিম মুক্তা তৈরি করা হয়। উচ্চমানসম্পন্ন গুয়ানিন তৈরির জন্য নির্যাস স্বচ্ছ পদার্থে ইথাইল এলকোহল প্রয়োগ করা হয়। এরপর পরিশোধিত গুয়ানিনে এসিটোন অথবা এমাইল এসিটেইট, অথবা সেলুলয়েড কিংবা নাইট্রোসেলুলোজ বা এলবুমিনের সাথে মিশ্রণ করে উন্নতমানের কৃত্রিম মুক্তা তৈরি করা হয়। যদিও এলবুমিন জাতীয় প্রোটিন মুক্তার উজ্জ্বলতা তৈরিতে অপরিহার্য তা সত্ত্বেও রাসায়নিক উপাদান মুক্তা তৈরির নির্যাস উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা রাখে। মুক্তা তৈরির প্রধান রাসায়নিক পার্ল নির্যাস গুয়ানিন পানি, এলকোহল, ইথার, ক্লোরোফরম, ইথাইল এসিটেইট, এসিটিক এসিড এবং বেশির ভাগ জৈব এসিডে দ্রবীভূত হয় না। তবে, মিনারেল এসিড এবং এলকালিতেও এটি দ্রবীভূত হয়।

১৬৫৬ সালে ফ্রান্সের জপমালা (ধর্মীয় জপে ব্যবহৃত) প্রস্তুতকারক এক ব্যক্তি ফ্রনকয়েস জাকুইন প্রথমবারের মত মুক্তা তৈরির নির্যাস মাছের আঁশ থেকে উদ্ভাবন করেন। আজ বিশ্বে বিশেষ পরিশোধন পদ্ধতিতে কৃত্রিম মুক্তা উৎপাদিত হচ্ছে। ফ্রান্সে প্রথম আবিষ্কার হয় বলে ফ্রান্সের ভাষায় একে ‘বংবহপব ফ’ড়ৎরবহঃ’ বলা হয়ে থাকে।

পেসিফিক বৃটিশ কলোম্বিয়া হেরিং ফিসারী কর্তৃক আহরিত হেরিং মাছের স্কেইল থেকে মুক্তা উৎপাদনের নির্যাস ব্যাপকভাবে উৎপাদন হয়ে থাকে। ১০০ টন হেরিং মাছের ১ টন স্কেইল হতে এক পাউন্ড মুক্তা তৈরির নির্যাস উৎপন্ন হয়।

নির্যাস সংগ্রহ পদ্ধতি :

সামুদ্রিক রিবন ফিশ কিংবা বেল্ট ফিশের আঁশ ধারলো ছুরি দিয়ে ভালভাবে চেঁচে এই রূপালি উজ্জ্বল নির্যাস সংগ্রহ করতে হয়। এই উজ্জ্বল রূপালি নির্যাস পানিতে বারবার নাড়াচাড়া কিংবা ঝাঁকিয়ে উজ্জ্বল গুয়ানিন স্ফটিক সমৃদ্ধ নির্যাস সংগ্রহ করতে হয়। এরপর তলানীতে পড়ে থাকা গাড় তরল পদার্থে অল্প পরিমাণ এসিটিক এসিড এবং ০.২৫ পেপসিন মিশিয়ে ৪৮ ঘন্টা ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিতে হয়। এতে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আত্মস্থ করে নেয়া হয় এবং নির্যাসে যে আমিষ কলা রয়েছে তা বের হয়ে আসে। এসিডিফিকেশনের জন্য এসিটিক এসিডও ব্যবহৃত হয়। আবার মেটালিক এসিড প্রয়োগ করলে গুয়ানিন আত্মস্থ করে ফেলে। এরপর ডি- প্রোপিনাইজড গুয়ানিন সমৃদ্ধ স্ফটিক পদার্থ বের করা হয় এবং ইথার দ্রবণ কিংবা গগসোলিন দ্রবণে মিশ্রিত করা হয়। পরে গুয়ানিন সমৃদ্ধ ¯ফটিক পদার্থ ভালভাবে জৈব শক্তিসম্পন্ন দ্রাবক ¯-র সৃষ্টি হতে পারে। পানিতে মিশ্রিত ময়লা ও কোন বহিরাগত বস্তু পানির ¯-রের নিচে ভাসতে থাকে। অল্প সংখ্যক চর্বিজাতীয় পদার্থ ইথার ¯-রে অবস্থান নেয়। তখন ইথার ¯-র সতর্কতার সাথে পৃথক করা হয়। গুয়ানিন সমৃদ্ধ স্ফটিক পদার্থ শুষ্ক ইথার দ্বারা সাথে সাথে ২ থেকে ৩ বার ধুতে হয় যাতে চর্বি রেরোতে পারে এবং এর পরবর্তী পর্যায়ে ইথার এবং ইথাইল এসিটেডে সংরক্ষণ করা হয়। রিবন ফিশের দেহের ওজন কমপক্ষে ০.৩% স্কেইল হতে মুক্তার নির্যাস পাওয়া যায়। উৎকৃষ্ট মুক্তার নির্যাস লম্বায় ৩০ মাইক্রোন এবং চওড়ায় ৩ মাইক্রোন ও আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.৬ হয়ে থাকে। ফাঁকা গ্লাসের গুটিকায় মুক্তা নির্যাস যান্ত্রিক পদ্ধতিতে আবদ্ধ করে কৃত্রিম মুক্তা তৈরি করার পর গলিত মোম দ্বারা আবৃত করে রাখা হয় কিন্তু এ ধরনের ফাঁকা গ্লাসের গুটিকা দ্বারা সৃষ্ট মুক্তা সহজেই ভেঙ্গে যেতে পারে। উন্নতমানের মুক্তা তৈরির জন্য অপেল গ্লাস বা এলবাসটার ব্যবহার করা হয়।

রিবন ফিশ ছাড়াও অন্যান্য আঁশযুক্ত রূপালি মাছের আঁশ হতেও মুক্তার নির্যাস প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু হেরিং ও রিবন ফিশের স্কেইল হতে যতটুকু নির্যাস পাওয়া যায় তা অন্যান্য মাছ হতে পাওয়া যায় না। রিবন ফিশ আমাদের বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রচুর পাওয়া যায়। যার কারণে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের কৃত্রিম মুক্তা চাষের উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে।

।। ইত্তেফাক - ২৩.১১.২০০৮ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28872876 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28872876 2008-11-23 02:54:00
আদম পাচার
।। ইত্তেফাক । ০৫.১১.২০০৮ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28864813 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28864813 2008-11-05 02:00:23
জ্বালানি বিহীন বিদ্যুৎ - চট্টগ্রামের তরুণের সামনে এখন স্বপ্নের হাতছানি!
গিয়াস উদ্দিন কচির পৃষ্ঠপোষক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ লতিফ বলেন, ‘কচি প্রকৌশল শাখায় শিক্ষিত হলে এতোদিনে শতকোটি টাকার বিদেশী প্রস্তাব গ্রহণ করে দেশ ও জাতিকে গর্বিত করতে পারতাম আমরা। কিন্তু দুর্ভাগ্য স্কুলের গন্ডিও পেরোয়নি সে। তাই বাস্তবে যা সম্ভব হচ্ছে কাগজে-কলমেই তা হয়ে উঠছে দুরূহ।’

ঝিনাইদহের যুবক গিয়াস উদ্দিন কচি পড়াশোনা করেছেন ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত। তারপর স্কুলের পাঠ চুকিয়ে বছর কয়েক পরে বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। বর্তমানে ২ ছেলে-মেয়ের বাবা তিনি। সংসারের চাপে এক সময় আঁকাআঁকির কাজ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তারপর একদিন হঠাৎ করে তা ছেড়ে পাড়ি জমালেন চট্টগ্রামে। দিন বদলের এতোসব ঘটনার মধ্যেও অবশ্য জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। প্রায় ৫ বছরের সাধনায় অবশেষে সফলও হলেন কচি। সাংবাদিক হাসান নাসির ও ব্যবসায়ী এমএ লতিফের পৃষ্ঠপোষকতায় গত ১৯ এপ্রিল নিজের উৎপাদিত ঐ বিদ্যুৎ দিয়ে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সামনে লাইট, ফ্যান এবং ড্রিল মেশিনও চালিয়েছেন তিনি। এ সংবাদ দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই অভিনন্দনের ফুলঝুরিতে ভাসতে থাকেন কচি।

জাতিসংঘ থেকে কচিকে অভিনন্দন জানিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়। মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল উইং ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে তার প্রজেক্টের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমেরিকার বিখ্যাত কোম্পানী জেনারেল ইলেক্ট্রনিক্সও অভিনন্দন জানিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন তার কাছে। আর বিশ্বখ্যাত কোম্পানী ডয়েসের প্রতিনিধি সশরীরে এসে কচির উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রয়োজনে শত কোটি টাকায় কিনে নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে তারা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ডায়াগ্রাম ও প্যাটার্ন তৈরি করতে হবে কচিকেই।

এরপর ডায়াগ্রাম তৈরিতে মনোনিবেশ করেন কচি। গত ৩ মাস নিরলস সাধনা করেও কাগজে-কলমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির প্যাটার্ন দাঁড় করাতে পারেননি তিনি। তবে পাইলট প্রজেক্ট তৈরি করার মতো অবস্থায় পৌঁছানো গেছে বলে দাবি করেছেন কচি। দৈনিক ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘ডায়াগ্রাম তৈরি করতে না পারলেও প্রজেক্ট আকারে পুরো বিষয়টি তুলে ধরার সক্ষমতা অর্জন করেছি। পারিবারিক কিছু ঝামেলার কারণে এতোদিন তা আপনাদের দেখাতে পারিনি। এবারে আশা করছি মাসখানেকের মধ্যে পুরো প্রজেক্টটা দেখাতে পারবো।’ পর্যাপ্ত শিক্ষা না থাকাটা প্রকল্প তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আরেকটু পড়াশোনা থাকলে হয়তো এতোদিনে একটা অবস্থানে পৌঁছে যেতো আমার প্রকল্প। আবার এও মনে হচ্ছে, শিক্ষা না থাকাটাই ভালো হয়েছে। কারণ শিক্ষা থাকলে হয়তো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচলিত সূত্রে ঘুরপাক খেয়ে মাঠেই মারা যেত আমার জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচেষ্টা।’

উল্লেখ্য, কচির প্রযুক্তিতে জ্বালানি হিসাবে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার প্রয়োজন হবে না। প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির পার্থক্য হচ্ছে - প্রচলিত প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারের একদিক দিয়ে প্রবেশ করে শক্তি ক্ষয় করে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু নতুন প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ চক্রাকারে ঘুরে শক্তি উৎপাদন করতে থাকে। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চলে যায় ক্যাবলে। এভাবে মাত্র ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ পুনঃ উৎপাদন করা যায় নতুন প্রযুক্তিতে। গত ১৯ এপ্রিল সরেজমিনে এসে এভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) আবুল কাশেম, আরপিডিবি’র প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) শহীদ উদ্দিন আহমেদ, জিইসি’র ম্যানুফেকচারিং ডিরেক্টর এডিএমএ বাসেত ও বিশ্বখ্যাত কোম্পানী ডয়েসের সার্ভিস ম্যানেজার সৌমেন চক্রবর্তী প্রমুখ।

উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কাগজে-কলমে রূপ দেয়া গেলে সত্যিই এর দাম ছাড়িয়ে যাবে শতকোটি টাকা। ‘পৃথিবীতে সবকিছুই এখন জ্বালানি নির্ভর হয়ে পড়ছে। তাই ক্রমশ নিঃশেষ হচ্ছে গ্যাসসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে শুধু এ জ্বালানিই সংরক্ষণ হবে না, পাল্টে যাবে বিশ্ববাসীর জ্বালানির চিত্র। যেমন তখন জ্বালানিচালিত ইঞ্জিন ছাড়াই তৈরি হবে গাড়ি। কারণ ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশী ক্ষমতা রাখবে বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিন।’ তাই কচির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির দাম শতকোটি টাকা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অনেকে। জানা যায়, ‘পাইলট প্রজেক্ট দাঁড় করাতে পারলে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার আমন্ত্রণ জানানো হবে। ডায়াগ্রাম ও প্যাটার্ন যদি তারা নিজেদের প্রকৌশলী দিয়ে তৈরি করার শর্ত মেনে নেয়, তবে মানব কল্যাণে ব্যয় করতে পারবো জ্বালানি ছাড়া উৎপাদিত এ বিদ্যুৎ।’

Daily Ittefaq: 12.09.2008 ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28841936 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28841936 2008-09-12 02:29:50
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফ’র গুলিতে দুই বিডিআর সদস্য নিহত
এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিডিআর সদর দফতর। ঘটনার প্রেক্ষিতে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাসুমপুর সীমান্তে ১৬৮/৮ সাব পিলার সংলগ্ন এলাকায়। বৈঠকে বিডিআর-এর পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিডিআর-এর রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ ইকবাল। শুক্রবার দুপুর দুইটা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এ বৈঠক চলে। এদিকে বিডিআর সদর দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনাকে উস্কানিমূলক ও ভারতের আগ্রাসী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবারের এ ঘটনাকে ‘মারাত্মক ঘটনা’ হিসাবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী। ঘটনার পুরো বিবরণ পাওয়ার পর নয়াদিল্লির কাছে প্রতিবাদ জানানো হবে বলে বার্তা সংস্থা বিডিনিউজকে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনার তদন্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দেবে।

বৃহস্পতিবার রাত বারোটায় বিডিআর বাংলাদেশের সীমান্তের দেড় কিলোমিটার ভেতরে পদ্মা নদীতে টহল দেয়ার সময় হঠাৎ করেই ভারতীয় একটি স্পিড বোট এবং একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা দেখতে পায়। ভারতীয় একটি টহল নৌকা ও স্পিড বোট মুর্শিদাবাদ জেলার ১০৮ বিএসএফ নিমতিতা সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে আসছিল। টহল কমান্ডার হাবিলদার হান্নান সরকারের নেতৃত্বে বিডিআর-এর চার সদস্যের দলটি বিএসএফকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চ্যালেঞ্জ করে। নিয়মানুসারে সাড়া না দিয়ে বরং উল্টো বিডিআর-এর ওপর গুলি চালায় বিএসএফ। ফলে সঙ্গে সঙ্গেই হাবিলদার হান্নান সরকার এবং ল্যান্সনায়েক কৃষ্ণপদ দাসের মৃত্যু হয়। জানা যায়, কৃষ্ণপদ মাত্র ১০ দিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিডিআর-এ যোগ দিয়েছিলেন।

বিডিআর-এর টহল সদস্যরা বিএসএফ-এর প্রতি পাল্টা গুলি চালালে তারা ইঞ্জিন চালিত নৌকা ফেলে স্পিড বোট নিয়ে পালিয়ে যায়। ইঞ্জিন চালিত নৌকাসহ নৌকায় অবস্থান করা এক ভারতীয় চোরা চালানকারীকেও আটক করে বিডিআর। এসময় নৌকায় থাকা ভারতীয় জোয়ানদের বেশ কয়েকটি টুপি অন্যান্য কিছু সরঞ্জামও জব্দ করে বিডিআর। এর মধ্যে বিডিআর খবর পায় যে, পাল্টা গুলিতে এক বিএসএফ সদস্য নিহত হয়েছে।

বিডিআর সদর দফতর জানায়, আটক ভারতীয় চোরাচালানকারী স্থানীয় এক গরু ব্যবসায়ী। তার নাম মোঃ আনজাম হোসেন। বর্তমানে তাকে বিডিআর কাস্টডিতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিহত দুই বিডিআর সদস্যের লাশের ময়না তদন্ত শেষ হয়। তার পরই নিহতদের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এর আগে বিডিআর ক্যাম্পে হাবিলদার হান্নান সরকারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হাবিলদার হান্নান সরকারের বাম পাজরে ৩টি এবং ল্যান্স নায়েক কৃষ্ণপদ দাসের বাম পায়ের উরুতে ৫টি গুলিবিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে বিডিআর-এর রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ ইকবালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

বিডিআর সদর দফতরে ব্রিফিং

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বিডিআর-এর ওপর হামলা এবং দু’জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করার ঘটনাকে উস্কানিমূলক বলে বর্ণনা করেছে বিডিআর কর্তৃপক্ষ। তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বিডিআর-এর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনাকে ভারতের আগ্রাসী মনোভাব এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে বিডিআর সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিডিআর-এর পরিচালক (অপারেশন এন্ড ট্রেনিং) কর্নেল আব্দুল হালিম বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে আসার পরেও মোটেই সংযমী ছিল না বিএসএফ। বিডিআর-এর টহল দল আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে বিএসএফকে চ্যালেঞ্জ করলেও তারা নিয়মানুসারে সাড়া না দিয়ে বরং উল্টো বিডিআর-এর ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, বর্ডার গাইড লাইন মেনে সাড়া দিলে কোন অবস্থাতেই এমন ঘটনা ঘটত না।

তিনি বলেন, বিএসএফ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কোন প্রকার উস্কানি ছাড়াই অতর্কিতে ‘বার্স্ট ফায়ার’ করে। এ ঘটনায় বিডিআর-এর রাজশাহী সেক্টর থেকে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এ ঘটনার একদিন আগেই দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে দিল্লীতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, যখনই পার্শ্ববর্তী এই দুটি দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কোন বৈঠক হয় তখনই কেন বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটে? এ প্রশ্নের উত্তরে বিডিআর কর্নেল বলেন, দিল্লীর বৈঠকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার কোন সম্পর্ক আছে কিনা সেটা বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর কোন রকম চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কিনা সেটাও কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল আব্দুল হালিম বলেন, এ ঘটনায় সরকারের কোন পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ কিনা সেটা সরকারই ঠিক করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদী সীমান্তে বিডিআর ও বিএসএফের মধ্যে সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনাকে আমরা খুবই গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছি। আমরা বিএসএফের হাতে বিডিআরের দুজন সদস্যের নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি বিডিআর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিকট তুলে ধরবে। এখন আমরা বিস্তারিত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি।

ভারতীয় হাইকমিশনের বক্তব্য

এদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পদ্মা নদীর ধারে গরু চোরাচালানের খবর পাওয়ার পর নিমতিতা সীমান্ত চৌকি এলাকার বিএসএফ নদী রক্ষীবাহিনী শাখা গরু চোরাচালানীদের ধাওয়া করে। এসময় চোরাচালানকারীরা বিএসএফকে লক্ষ্য করে গুলি করলে বিএসএফও পাল্টা গুলি চালায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একজন বিএসএফ সদস্যের গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার খবর বলা হলেও দুজন বিডিআর সদস্যের নিহত হওয়ার খবর চেপে যাওয়া হয়।

।। ইত্তেফাক ১৯.০৭.২০০৮ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28821912 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28821912 2008-07-19 17:00:50
চরমপন্থি রাজনীতি
চরমপন্থি রাজনীতির ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নকশাল বাড়িতে প্রয়াত কমরেড চারু মজুমদারের নেতৃত্বে ঘটে কৃষক বিদ্রোহ। ওপারে শুরু হয়ে যায় শ্রেণীশত্রু খতমের রাজনীতি। ওই রাজনীতির ঢেউ এপারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও লাগে। উগ্র মাওবাদী রাজনীতির একদল অনুসারী এপারেও জুটে যায়। গঠিত হয় চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল)। তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) একদল তরুণ কর্মী এ চরমপন্থি দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়। তাদের হাতে উঠে মাওসেতুং-এর লাল বই। গোপনে ওপার থেকে নকশালদের পত্রিকা দেশব্রতী এদের হাতে আসতো। ১৯৬৯ সালের দিকে খুলনার ডুমুরিয়া, যশোরের অভয়নগর, বাঘাড়পাড়া, শালিখা ও কালীগঞ্জ থানা এলাকায় গোপন চরমপন্থি সংগঠন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে। এ দলের নেতৃত্বে আসেন অতি বামপন্থি নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন যশোরের কমরেড আব্দুল হক ও হেমন্ত সরকার। পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) শ্রেণীশত্রু খতমে বিশ্বাসী ছিল। ১৯৭০ সালে কালীগঞ্জ থানার চাঁদ আলী চেয়ারম্যানকে প্রথম শ্রেণীশত্রু হিসাবে হত্যা করা হয়। এটিই ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রাজনীতির নামে প্রথম হত্যাকাণ্ড।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি নির্বাচন বয়কটের ডাক দেয়। কিন্তু নির্বাচন প্রতিরোধে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দলটি অস্ত্র সংগ্রহে ব্যাপকভাবে তৎপর হয়ে উঠে। তারা পাকিস্তানী বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সাথে যুগপৎ লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। এ লড়াইয়ে অনেক শীর্ষ ক্যাডার নিহত হয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলটি ব্যাপক শক্তি অর্জন করে এবং তাদের শ্রেণীশত্রু খতম অভিযানে নতুন মাত্রা পায়। সে সময় আওয়ামী লীগ ও যুব লীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী তাদের হাতে নিহত হন। তারা রক্ষী বাহিনীর টার্গেট হয়। চলতে থাকে খুন, পাল্টা খুন। ১৯৭৩ সালে জাসদ গণবাহিনী গঠন করে। মেহেরপুর থেকে শুরু করে চুয়াডাঙ্গা জেলা হয়ে মাগুরা পর্যন্ত তারা তাদের সশস্ত্র তৎপরতার বিস্তৃতি ঘটায়। ফরিদপুর ও রাজবাড়ি এলাকায় গণবাহিনীর শক্ত ভিত্তি ছিল। মাগুরা-ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের উভয়পাশ থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত গণবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর দক্ষিণপাশ থেকে খুলনা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিষ্ট পার্টির। চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ায় পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি দলের নামও পরিবর্তন করেনি। চীন স্বীকৃতিদানের পর দলের নাম বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি রাখা হয়। এক সময় ত্রি-বিশ্ব তত্ত্ব নিয়ে আদর্শগত দ্বন্দ্বে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙ্গে যায়। আব্দুল হকের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি আলবেনীয় প্রেসিডেন্ট ড. আনোয়ার হুজার দলের অনুসারী হয়। এখন আন্তর্জাতিক কোন লাইনে আছে তা স্পষ্ট নয়।

১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকার দখল নিয়ে গণবাহিনী ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। চলতে থাকে খুন, পাল্টা খুন। গণবাহিনী কোণঠাসা হয়ে উত্তরদিকে সরে যায় এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও কুষ্টিয়া এলাকায় আশ্রয় নেয়। বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির আধিপত্য সারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত হয়। এরপর ১৯৮০ সালে সর্বহারা পার্টির এ অঞ্চলে আগমন ঘটে। তারা ভারী অস্ত্রের প্রভাবে দ্রুত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে নেয়। সর্বহারা পার্টি, গণবাহিনী ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে আন্ডারগ্রাউন্ডে ত্রিমুখী লড়াই চলতে থাকে। সকল দলেরই নেতা, ক্যাডার একের পর এক খুন হতে থাকে। একসময় সর্বহারা পার্টি আধিপত্য বিস্তার করে নেয়। অন্য পার্টিগুলো আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যায়। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রতিপক্ষের আক্রমণে এক সময় সর্বহারা পার্টির ক্ষমতা খর্ব হতে থাকে। বাইরে থেকে আসা নেতারা মারা পড়ে। তাদের অস্ত্র স্থানীয় ক্যাডারদের দখলে চলে যায়। সর্বহারা পার্টির অস্তিত্ব প্রায় মুছে যায়। আশির দশকের শেষদিকে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) আবির্ভাব। তারা ভারী অস্ত্র নিয়ে এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলে। নতুন নতুন ক্যাডার দলে ভিড়ে। বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, গণবাহিনী ও সর্বহারাদের হাতে নির্যাতিতরা পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টিতে ঢোকে। শুরু হয়ে যায় ব্যাপক খুনখারাবি।

আশির দশকের শুরুতে চরমপন্থি দলগুলোর মধ্যে নীতি-আদর্শের বালাই থাকে না। রাজনীতি তখন আর অস্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তখন থেকেই অস্ত্রই রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হয়। রাজনীতির নামে শুরু হয়ে যায় চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিগত-সামাজিক শত্রুতার জন্য মানুষ হত্যা। ১৯৯০ সালের পর ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরা জেলাতে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। এরপর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে নিজ দলের ভিতর খুন, পাল্টা খুন চলতে থাকে। কিছুদিনের জন্য দল নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সদ্য নিহত দাদা তপন দলের সামরিক দায়িত্ব হাতে নেয়ার পর আবার শক্তিশালী হয়ে উঠে। ইতিমধ্যে ১৯৯৭ সালে মির ইলিয়াস হোসেন দিলীপের নেতৃত্বে শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন নামে একটি বাম সংগঠন গড়ে তোলা হয়। এ সংগঠনের কেন্দ্রস্থল ছিল ঝিনাইদহ। বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাডাররাই মূলতঃ এ দলে যোগ দেয়। তাদের নিয়ে দলের আন্ডারগ্রাউন্ড উইং গণমুক্তি ফৌজ গঠন করা হয়। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ আমলে চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণ করে। তবে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাঙ্গাচোরা পাইপগান ও শটগানসহ আত্মসমর্পণ করে। ২০০০ সালে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি মির ইলিয়াস হোসেন দিলীপকে তার সহকারীসহ ঝিনাইদহ শহরে হত্যা করে। এরপর গণমুক্তি ফৌজে ভাঙন ধরে। একটি গ্রুপ ফের তাদের পুরনো সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টিতে ফিরে যায়। গণমুক্তি ফৌজ এখনো তৎপর ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায়। ২০০৩ সালের আব্দুর রশিদ মালিতা ওরফে দাদা তপন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বের হয়ে জনযুদ্ধ গঠন করেন। এরপর আন্ডারগাউন্ড রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। জনযুদ্ধ ভয়ঙ্কর সংগঠনে পরিণত হয়। এরা ঘোষণা দিয়ে মানুষ খুন করে। ১৯৮০ সালের পর আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির নেতা-ক্যাডাররা স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত হতে থাকে। এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য তাদের টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করতে থাকে। নির্বাচনের আগে এ সমস্ত পার্টির ক্যাডাররা রাতের আঁধারে অস্ত্র নিয়ে তাদের মনমত প্রার্থীকে ভোট দিতে বলে। তারা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখায়। ফলে অনেক আসনে ভোটাররা পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে গণবাহিনীর সাবেক নেতা গোলাম মোস্তফা ঝিনাইদহ-১ এবং রাজবাড়ি-১ আসনে আব্দুল মতিন নির্বাচিত হন।

।। দৈনিক ইত্তেফাক । ২১.০৬.২০০৮ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28812043 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28812043 2008-06-21 14:59:03
জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সূত্রে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন উদ্ভাবক কচিকে জাতিসংঘের অভিনন্দ
জাতিসংঘ থেকে এ ধরনের মেইল পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ লতিফ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘জাতিসংঘের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও কৌশলগত কারণে আমরা এখন তা জানাতে চাচ্ছি না। তবে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের পাঠানো বার্তার উত্তর দেয়া হয়েছে।’

গ্যাস, ডিজেল ও কয়লা ছাড়া গিয়াস উদ্দিন কচির বিদ্যুৎ উৎপাদনের খবরে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাটারী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রহিম আফরোজ বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাড়া মিলেছে দেশের আরেক নামকরা প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি (জিইসি) থেকেও। নিজ চোখে কচিকে জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দেখে জিইসি বাংলাদেশের পরিচালক (উৎপাদন) প্রকৌশলী এবিএমএ বাসেত বলেন, ‘বিদ্যুতের স্বতঃসিদ্ধ সূত্র মানতে গেলে বলতে হয় এটি অসম্ভব। কিন্তু চোখের সামনে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দেখলাম তা অস্বীকার করি কিভাবে?’ প্রায় অভিন্ন মন্তব্য করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘জ্বালানি ও গ্যাসের অভাবে যখন আমাদের একের পর এক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তখন গিয়াস উদ্দিন কচির এই উদ্ভাবন দিতে পারে আলোর দিশা। তবে এ উদ্ভাবনকে সার্থকভাবে ব্যবহার করতে আরো সতর্ক ও কৌশলী হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঝিনাইদহের যুবক গিয়াস উদ্দিন কচি তার উদ্ভাবিত ১০০০ ওয়াট (এক কিলোওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সর্বোচ্চ ৫০ হতে ৬০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। আর ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে এ খরচ দাঁড়াতে পারে দেড় থেকে দু’লাখ টাকায়। তবে শুরুর দিকে কেবল একবার এমন ব্যয় হলেও পরবর্তীতে আর কোন খরচ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে অনবরত। কারণ, উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ দিয়েই পুনরায় উৎপাদিত হবে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ। প্রচলিত সূত্রানুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে শক্তি নিঃশেষ হলেও কচির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সূত্র হচ্ছে ‘সমন্বিত চক্রাকার পদ্ধতিতে শক্তি কখনোই নিঃশেষ হয় না।’

অষ্টম শ্রেণী পাস করে আর্থিক টানাপোড়েনে পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়া কচি বলেন, ‘১৮ বছরের সাধনার ফসল আমার এই উদ্ভাবন। বিদ্যুতের সূত্র-টুত্র আমি জানি না। শুধু জানি, জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন করার মূল মন্ত্রটি।’ তিনি বলেন, উদ্ভাবনের চেয়ে তার পরের ঝামেলা ম্যানেজ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বকে চমকে দেয়া যুবক কচি প্রযুক্তিকে বশ মানালেও তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠা ‘মোবাইল’ নেই তার হাতে। নেই নিজস্ব কোন মেইলিং এড্রেসও। চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদে ভাড়া করা একটা বাসায় থাকলেও সে কিংবা তার পৃষ্ঠপোষকরা তাও জানাতে চান না। এ ব্যাপারে চেম্বার সহ-সভাপতি এমএ লতিফ বলেন, ‘খবর প্রকাশের দু’দিনের মধ্যে ন্যূনতম অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করেছে আমাদের সাথে। এদের মধ্যে আমেরিকান পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী ওয়াসিলা, ক্যাটার পিলার ও জার্মানীর প্রতিষ্ঠান ডসেসও রয়েছে।’

- ইত্তেফাক ২৩.০৪.২০০৮ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28790343 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28790343 2008-04-23 01:55:32
লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার রেজওয়ানের লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
- ইত্তেফাক ২২.৪.২০০৮ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28790009 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28790009 2008-04-22 01:57:34
ছাত্র রাজনীত_২১.০৪.০৮ -ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ - ইত্তেফাক ২১.০৪.০৮
-রংপুর কারমাইকেল কলেজে শিবির ক্যাডাররা মাইক্রোবাসে চড়ে টহল দিচ্ছে - ইত্তেফাক ২১.০৪.০৮
-বগুড়ার কলেজে শিবির ক্যাডারদের হামলায় তিন শিক্ষার্থী আহত - ইত্তেফাক
-সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল, সমাবেশ - ইত্তেফাক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28789903 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28789903 2008-04-21 21:16:42
আওয়ামী লীগের লিখিত প্রস্তাব
সংলাপে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে আরো অংশ নেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, আতাউর রহমান খান কায়সার, কাজী জাফর উল্লাহ,সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

।। ইত্তেফাক - ২৬.০২.২০০৮ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28774146 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28774146 2008-02-26 04:12:33
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রেজিং করায় হুমকির মুখে সাহেবের আলগা বিডিআর বিওপি
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিএসএফের ছত্রচ্ছায়ায় নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় বিকেল ৪টার দিকে পুনরায় ড্রেজার এনে খোঁড়ার চেষ্টা করলে বিডিআর বাধা দিয়ে সাথে সাথে প্রতিবাদলিপি পাঠায়। শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ১০৫১ আন্তর্জাতিক পিলারের ২৫ নং টি পিলারের পার্শ¦বর্তী ডিগ্রিরচর গ্রামের বিডিআর এবং বিএসএফ’র ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের সাহেবের আলগা বিওপি’র কমান্ডার এবং ভারতের শিশুমারা বিওপি’র কমান্ডার।

প্রায় এক ঘন্টা স্থায়ী বৈঠকে বিএসএফ পক্ষ ড্রেজিং করার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তারা দাবি করেন শিপিং কোম্পানীর লোকজন সার্ভের কাজ করছে। তেলবাহী জাহাজের চলাচল নির্বিঘœ করার জন্য পানির গভীরতা মাপতে এই সার্ভে করা হচ্ছে। এরফলে বৈঠক অমীমাংসিতভাবে শেষ হলেও বিএসএফ ড্রেজিং-এর কাজ করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জামালপুরস্থ ৬ নং রাইফেলস ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর জাহিদ জানান, যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিডিআর সতর্ক রয়েছে।

চর ইটালুকান্দা গ্রামের অধিবাসীরা জানান, বিএসএফ কর্তৃপক্ষ গত ৯ ডিসেম্বর, ১২ ডিসেম্বর এবং ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জলসীমাতেও প্রবেশ করে রাতের অন্ধকারে ড্রেজিং-এর কাজ শুরু করে। ঐ এলাকার কর্তব্যরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার আব্দুল কাদের ড্রেজার মেশিন দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজ্লা মোস্তফা আশাফুদ দৌলা ব্রহ্মপুত্রের প্রশাখাটির বাংলাদেশের প্রবেশমুখে ভারতের কর্তৃপক্ষ কর্র্তৃক ড্রেজিং করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পাউবো-এর প্রতিরক্ষা কাজ ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে।

।। দৈনিক ইত্তেফাক । ৩০.১২.২০০৭ ।। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28755019 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28755019 2007-12-30 05:38:35
anti-Bangladesh propaganda http://www.faithfreedom.org/Gallery/7.htm
http://hinduunity.org
http://www.hrcbm.org
http://www.hrtribune.com
http://www.mayerdak.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28746219 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28746219 2007-11-18 19:38:23
পোশাক শিল্পে অসন্তোষ ছড়াতে দেশী-বিদেশী ইন্ধন
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, শ্রমিক অধিকারের নামে কিছু এনজিও গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত। এর মধ্যে কিছু এনজিও আছে যারা বিদেশী এনজিওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসাবেও কাজ করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেন্টার ফর সলিডারিটি ইউনিয়ন ও ন্যাশনাল গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়ন অন্যতম বলে সূত্রটি জানায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠন আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার এ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশন (এএফএলসিআইও) এসব সংগঠনকে নানাভাবে সহায়তা দিয়ে থাকে।

উক্ত অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের প্রসারে ঈর্ষাকাতর কোনো কোনো দেশ পরিকল্পিত শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির মাধ্যমে সুবিধা নিতে চায়। এসব দেশ বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টায় নিয়োজিত এনজিওগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নানাভাবে ইন্ধন দিয়ে থাকে। তাদের এসব তৎপরতার ফলে বাংলাদেশের ইপিজেডসহ গোটা গার্মেন্ট সেক্টরে মাঝে-মধ্যেই অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রেতারা বাংলাদেশে ওয়ার্ক অর্ডার কমিয়ে পার্শ্ববর্তী অন্য দেশের প্রতি ঝুঁকছে।

সূত্র জানায়, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত পরিমাণের শুল্কছাড় পেয়ে আসছে। জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি) নামের এই সুবিধার ফলে বাংলাদেশের বার্ষিক সাশ্রয়ের পরিমাণ গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এএফএলসিআইও বেশ কিছুকাল যাবৎ বাংলাদেশের এই সুবিধা বাতিলের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের এই তৎপরতার পেছনেও পার্শ্ববর্তী একটি দেশের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। কিছুদিন আগে সংগঠনটি বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের জন্য ইউএসটিআর (ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেডস রিপ্রেজেনটেটিভ) দফতরে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। মূলত তার পর থেকেই বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিক অসন্তোষ দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বিষয়ে আগামী ৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর দফতরে শুনানি রয়েছে। ওই শুনানি সামনে রেখে ইতিমধ্যেই বিজিএমইএ এবং বহুজাতিক কোম্পানী ইয়ংওয়ান করপোরেশনের পক্ষ থেকে পৃথক আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু ওই শুনানিকে সামনে রেখেই সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো এখানে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেবার চেষ্টা করছে।

সূত্র জানায়, জিএসপি সুবিধা বাতিল হলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর নতুন করে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশ বিমুখ হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রায় ৭০০ গার্মেন্টস কারখানা কাজ না পেয়ে বন্ধ হতে বসেছে। ব্যাংকগুলোও এসব কারখানাকে ঋণ দিতে চাইছে না। আর ঋণ না পেলে কারখানাগুলো আসন্ন ঈদ মৌসুমে শ্রমিকদের ঠিকমতো বেতন ও বোনাস দিতে পারবে না। তখন শ্রমিক অসন্তোষ আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজনীতিকরা এই সম্ভাব্য শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারের ভিত নড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে।

।। ইত্তেফাক : ২৪.০৯.২০০৭ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28733190 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28733190 2007-09-24 04:39:46
ঢাকা ভার্সিটির কোটিপতি পিয়ন মোখলেসুর রহমান
।। ইত্তেফাক : ৩১.০৮.২০০৭ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28728646 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28728646 2007-08-31 04:32:13
ছাত্র বিক্ষোভে শাহরিয়ার কবিরের ভূমিকা ছিল - গোপনে ইন্ধন আওয়ামী লীগের
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নিজ দলের যাদের এতোদিন বিশ্বস্ত মনে করতেন তাদের ওপর থেকে তার আস্থা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা শাহরিয়ার কবিরকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বস্ত মনে করছেন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন শাহরিয়ার কবির। তারই অংশ হিসেবে শেখ হাসিনার পক্ষে ভারতের সাহায্য আদায়ের জন্য আগস্টের প্রথম সপ্তাহে শাহরিয়ার কবির ভারত সফরে যান এবং আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে শাহরিয়ার কবির শেখ হাসিনার মুক্তি এবং দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উপর ভারত চাপ সৃষ্টি না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা যায়। জবাবে ভারতীয় মন্ত্রী পরোক্ষভাবে ভারত এ প্রশ্নে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে বলে তাকে আশ্বস্ত করেন। সাথে সাথে পরামর্শ দিয়ে বলেন, এজন্য রাজপথে আন্দোলন বিক্ষোভ সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। এরপরই ২০ আগস্ট থেকে ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পেছনে শাহরিয়ার কবির বিভিন্নভাবে ভূমিকা পালন করেছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শাহরিয়ার কবির আওয়ামী লীগের নেতাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার ওপর বর্তমানে ভারত নাখোশ। এ কারণেই ভারত হাসিনার মুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কোন চেষ্টা করছে না। একমাত্র ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ছাড়া আর কেউ আওয়ামী লীগকে সেভাবে সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। ‘র’ প্রধান অশোক চতুর্বেদী ও বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের উপ-হাইকমিশনার সর্বজিৎ চক্রবর্তী শাহরিয়ার কবিরকে জানান যে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’ আওয়ামী লীগ নেতা জাফরুল্লাহ ও সালমান এফ রহমানের মাধ্যমে হাসিনাকে নির্বাচনী ফান্ডের জন্য মোটা অংকের টাকা দেন। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে যখন আওয়ামী লীগ নিশ্চিত ক্ষমতায় যাচ্ছে-এমনটি মনে করার পরই ‘আইএসআই’ এ টাকা দেয়। ভারতীয় দূতাবাস কর্মকর্তা শাহরিয়ার কবিরকে বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করি না। তিনি ‘আইএসআই’ থেকে ২৫০ কোটি টাকা নিয়েছেন। আমরা তাকে ৩০০ কোটি টাকা দিতে পারি কিন্তু ‘আইএসআই’ যদি তাকে ৩৫০ কোটি টাকা দিতে চায় তাহলে তিনি যে আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না তার নিশ্চয়তা কোথায়।’

সূত্রগুলো বলছে ‘র’ ও ভারত সরকার বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজ্জাক, তোফায়েল, আমু ও সুরঞ্জিতকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তনের লক্ষ্যে পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে আসছে। তারা হাসিনাকে পুরোপুরি সরিয়ে দেয়ার পক্ষে।

গোয়েন্দা তথ্যমতে, শাহরিয়ার কবির বর্তমানে শেখ হাসিনার সাথে রয়েছেন। তার বিশ্বাস হাসিনাকে ছাড়া আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যাবে। সেজন্যই তিনি চতুর্বেদী ও চক্রবর্তীকে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেয়া এবং তাকে মুক্ত করার জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করার অনুরোধ করেন। তবে বর্তমানে একমাত্র প্রণব মুখার্জি ছাড়া আর সকল ভারতীয় নেতা, গোয়েন্দা সংস্থা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব থেকে হাসিনার অপসারণ চায়। কারণ তিনি তাদের আস্থা হারিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে।

শাহরিয়ার কবিরের সাথে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সম্পর্ক বর্তমানে ভালো যাচ্ছে না বলে একটি সূত্রে বলা হচ্ছে। ওই সূত্র মতে, শাহরিয়ার কবিরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিকে ‘র’ ১৯৯৮ সাল থেকে ফান্ড দিয়ে আসছিল যা চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির লাইব্রেরী স্থাপনসহ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন’-এর নামে গৃহীত অন্যান্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘র’ এসব অর্থ দিয়েছে। কিন্তু ‘র’-এর নতুন প্রধান অশোক চতুর্বেদী দায়িত্ব নেয়ার পর সেই ফান্ড দেয়া বন্ধ করে দেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি একটি অতি ক্ষুদ্র ও পকেট সংগঠন। সারাদেশে এই সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোন সমর্থক নেই। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ‘র’ তাদের ফান্ড বন্ধ করে দেয়। শাহরিয়ার কবির এ ব্যাপারে প্রণব মুখার্জির সাথে যোগাযোগ করেন। প্রণব মুখার্জি আগে থেকেই শাহরিয়ার কবিরকে নানাভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তার সাথে যোগাযোগ করেও ‘র’-এর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাতে পারেননি। সর্বশেষ শাহরিয়ার কবির নিজেই আবার কলকাতা হয়ে দিল্লি সফরে যান। তিনি প্রণব মুখার্জির সাথে বৈঠকের পাশাপাশি কয়েকজন বাম নেতার সাথেও সাক্ষাৎ করেন যারা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করার পর বাংলাদেশ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি তার সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে ফান্ড পাওয়ার চেষ্টা করেন।

-

এদিকে ২০ আগস্ট এবং তৎপরবর্তী ছাত্র বিক্ষোভ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শোয়েব আক্তার গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী ড. হাসান মাহমুদ-এর সাথে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ এবং ছাত্রলীগ জগন্নাথ হল শাখার সভাপতি কবি সংকর-এর ২০ আগস্ট দুপুরে মোবাইলে কথোপকথন হয়। এই সময় তিনি বড় ধরনের আন্দোলন ও মিটিং-মিছিল, ভাংচুর করার জন্য বলেন। এছাড়া সরকারের পতন ঘটানোসহ দেশের সব জায়গায় আন্দোলন করার মাধ্যমে জরুরি অবস্থা ভাঙ্গার জন্য বলেন। তাছাড়া ছাত্রলীগ নেতা গোলাম সরোয়ার কবীর ও আওয়ামী লীগের সিনিয়রদের সাথে কথা বলেন। ডাঃ দিপু মনি (মহিলা সম্পাদক আওয়ামী লীগ) সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও নাজমুলের সাথে মোবাইলে কথা বলেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহবান জানান। একই সময় জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, জাসদ ছাত্রলীগের সেক্রেটারী স্বপন এবং জয়েন্ট সেক্রেটারী সাজ্জাদের সাথে টেলিফোনে আলাপ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহবান জানান।

শোয়েব আক্তার জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মিন্টু আকরাম , মিলন, আশরাফ ও নিরব দেশের জরুরি আইন প্রত্যাহার করার দাবিতে শিক্ষকদের সাথে আন্দোলনের ব্যাপারে একাত্মতা ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা টিপু এবং ছাত্রলীগের সেক্রেটারী সাজ্জাদ সাকিবকে ২০ আগস্ট ২০০৭ তারিখে নগদ টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করেন এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে, ৫ জনের এক একটি গ্রুপকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য বলেন। আওয়ামী লীগ নেত্রীর প্রটোকল অফিসার জাহাঙ্গীর আলম ছাত্রলীগ নেতা কবি সংকরের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন ও আন্দোলনের ব্যাপারে সব ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এনামুল হকও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আন্দোলনের ব্যাপারে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে শোয়েব আক্তার জানান, আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আবুল হোসেন টেলিফোনে মিন্টুকে বলেন যে, আন্দোলন করতে হবে, গাড়ি ভাংচুর করতে হবে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। আরো জানা যায় যে, আওয়ামী লীগ নেত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ড. হাসান মাহমুদ ছাত্রলীগ নেতা টিপুর মাধ্যমে টাকা প্রদান করেন।

।। ইত্তেফাক : ৩১.০৮.২০০৭ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28728645 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28728645 2007-08-31 04:17:18
বরিশাল বিএম কলেজে ভাঙচুরে শিবির, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিল! একই সময়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ দুই দলের ২০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপপরিদর্শক সুভাষ বাদী হয়ে সোমবার এ মামলা করেন।
বরিশাল কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানায়, বিএম কলেজের ঘটনায় গত শনিবার থেকে পুলিশ মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ, স্থির চিত্র, এমনকি মোবাইল ক্যামেরায় তোলা ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সুত্র দাবি করে, প্রথম দিনের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রশিবির কর্মীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেননা আগের দিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের চার কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরের দিকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কর্মীসহ কিছু সাধারণ ছাত্র তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তবে দ্বিতীয় দিনের হামলায় ছাত্রশিবির, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কিছু বহিরাগত নেতা-কর্মীও জড়িত ছিলেন। কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের আচরণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং দোষীরা যাতে রেহাই না পান সেভাবেই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন, যুগ্ম সম্পাদক আশাদুল হক বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সরদার আলি হোসেন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব মল্লিক, যুবদলের নেতা নাজমুল হক স্বপন, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ সারোয়ার রোমান, কলেজ ছাত্রলীগের নেতা সাহাবুল ও বিপ্লব, ছাত্রদল নেতা তারেক ও অনিকের নাম উল্লেখ করে ২০ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে প্রথম ছয়জনকে ২৩ আগস্ট রাতে আটক করা হয়। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

।। প্রথম আলো : ২৯.০৮.২০০৭ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28728351 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28728351 2007-08-29 04:09:19
‘সাউথ এশিয়া’ নামে ভারতে নতুন চ্যানেল আত্মপ্রকাশ করছে ।
সূত্র জানায়, মালদ্বীপ ও ভুটানের দু’টি চ্যানেলকে পরিকল্পনায় রাখার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ভারতের তারা নিউজসহ পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও নেপালের অংশগ্রহণকারি চ্যানেলগুলোতে প্রতি রবিবার ভারতীয় সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ত্রিশ মিনিটের একটি অনুষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে সম্প্রচার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরানো একটি চ্যানেল। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের উক্ত চ্যানেলের পক্ষে তাদের সাউথ এশিয়ার অন্যতম উদ্যোক্তা রুমানা হক উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, সাউথ এশিয়া চ্যানেলটির প্রধান কর্ণধার হচ্ছেন কলকাতাস্থ তারা নিউজের রথিকান্ত বসু। তিনি এবং বুদ্ধদেব গুহ ‘র’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বলে অনেকে মনে করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে তারা নিউজ সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে বিকল্প পথ হিসাবে সাউথ এশিয়া টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, পাঁচ দেশের পাঁচ বেসরকারি টিভি চ্যানেলের কর্মকর্তারা কলকাতায় বৈঠক করেছেন। ইতোমধ্যে ত্রিশ মিনিটের সম্প্রচারে যথেষ্ট সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে বলে বৈঠকে মত ব্যক্ত করা হয়।

বলা হয়েছে, প্রথমদিকে চ্যানেলটি ভারসাম্যমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করবে। সাউথ এশিয়া টিভি চ্যানেল দর্শকদের মাঝে আস্থা সৃষ্টির পরই ভারতীয় ভাবাদর্শ ও মতামত প্রচারের জন্য স্বরূপে আবির্ভূত হবে এমন আশংকা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ‘সাউথ এশিয়া মিডিয়া’ নামের একটি গোষ্ঠীর জন্ম হয়। তখন থেকেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি নতুন চ্যানেল তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

।। ইত্তেফাক : ২৯.০৮.২০০৭ ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28728341 http://www.somewhereinblog.net/blog/india/28728341 2007-08-29 01:30:35
সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে জয়নাল হাজারীর ইন্ধন ছিল
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, দিল্লী সফররত লেখক শাহরিয়ার কবির ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর সাথে গোপন বৈঠক করেছেন মধ্য আগস্টে। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে মুক্ত করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা, আওয়ামী লীগে ভাঙ্গন ঠেকানোর ব্যাপারে শাহরিয়ার কবির আলোচনা করেন। প্রণব মুখার্জীর পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলুপ্ত হতে পারে এমন প্রক্রিয়াকে ভারত সমর্থন করবে না। আর ভাঙ্গন ঠেকাতে ইতোমধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শাহরিয়ার কবির ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর কাছে আওয়ামী লীগের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।