somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাচীন নিদর্শণ কুমিল্লার শাহ সুজা মসজিদ যার বয়স সাড়ে তিনশত বছর.........

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষা সাহিত্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লা। যুগ যুগ ধরে এ কথা প্রচার হয়ে আসছে। কিন্তু ধর্মীয় দিক দিয়েও যে কুমিল্লা দেশের ইতিহাসে স্খান করে পথিকৃৎ হয়ে আছেন তার একটি প্রমান হলো ৩৫২ বছর ধরে স্বমহিমায় টিকে থাকা একটি মসজিদ।নাম তার শাহ সুজা মসজিদ। এ মসজিদের নামকরণ, প্রতিষ্ঠাতার নাম ও প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও এ মসজিদ যে পাক ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম সে বিষয়ে কারো সন্দেহ নেই| প্রবহমান গোমতী নদীর কোল ঘেষে কুমিল্লা শহরের মোগলটুলীতে এ মসজিদ অবস্খিত। আয়তনের দিক দিয়ে এ মসজিদ খুব বেশী বড় না হলেও এর কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সার্বিক অবয়ব আভিজাত্যের প্রতীক বহন করে| এর বাহ্যিক কারুকাজ প্রমান করে তৎসময়ে এর প্রতিষ্ঠাতাদের স্রষ্টার প্রতি সুবিশাল আনুগত্য এবং রুচির পরিচায়ক।ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক মোগলটুলী শাহ সুজা মসজিদের প্রতিষ্ঠার প্রকৃত সন তারিখ উল্লেখ না থাকলেও বিভিন্ন জনশ্রুতি রয়েছে ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে এ মসজিদ নির্মিত হয়েছে বলে প্রধান ফটকে তা উল্লেখ আছে। শাহ সুজা যখন বাংলার সুবেদার তখন এ মসজিদ নির্মিত হতে পারে। কিন্তু তিনি নিজে এ মসজিদ নির্মাণ করেছেন বলে মনে হয় না। কারণ, শাহ সুজা কোন দিন ত্রিপুরা রাজ্য বিজয়ে এসেছিলেন বলে কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। গোবিন্দ মানিক্যের তথাকথিত বন্ধু শাহ সুজা স্মৃতি রক্ষার্থে এ মসজিদ নিমার্ণ করেছিলেন, এই জনপ্রবাদ ভিত্তিহীন বলে মনে হয়।কারণ, ক্ষুদ্র হলেও একটি স্বাধীন রাজ্যের নৃপতি ছিলেন গোবিন্দ মানিক্য। তিনি বন্ধুর শেষ স্মৃতি চিহ্ন বিক্রি করে তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেবেন, তা আদৌ সম্ভব বলে মনে হয় না। খুব সম্ভব কুমিল্লা শহর অঞ্চলে অবস্খিত মোঘল ঘাঁটির মুসলমান অধিবাসীদের নামাজ পড়ার সুবিধার জন্য তৎকালীন কুমিল্লার মোঘল ফৌজদার এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন এবং সুবেদার শাহ সুজার নামে এটিকে নামাঙ্কিত করেছিলেন।আজ থেকে সাড়ে তিনশ বছর পূর্বে নির্মিত এই মসজিদটি উত্তর দক্ষিণে লম্বা। মসজিদের চার কোনে ৪টি অষ্ট কোনাকার মিনার ছিল।এগুলি মসজিদের ছাদের অনেক উপরে উঠে গেছে। সামনের দেয়ালে ছিল ৩টি দরজা এবং ভেতরে পশ্চিম দেওয়ালে ছিল ৩টি মেহরাব। কেন্দন্সীয় প্রবেশ পথ ও মেহরাব অন্য দুটির চেয়ে অনেক বড়।কেন্দ্রীয় দরজাটির বাইরের দিকে কিছুটা প্রসারিত এবং দুপাশে আছে দুটি সরু গোলাকার মিনার। মসজিদের সম্মুখ ভাগে প্যানেল দ্বারা সুশোভিত ছিল এবং কার্নিশের উপরে ছিল ব্যাটলম্যান্ট, তার ওপরে ছিল একটি গম্বুজ। কেন্দ্রীয় গম্বুজটি পাশের দুটি গম্বুজ থেকে আকারে বড়।

সাম্প্রতিকালে মসজিদের দুই প্রান্তে ২২ ফুট করে দুটি কক্ষ এবং সম্মুখ ভাগে ২৪ ফুট প্রশস্ত একটি বারান্দা নির্মাণ করায় আদি রূপ নষ্ট হয়ে গেছে। সজিদের উত্তর-পূর্ব কোণে একটি সুউচ্চ মিনারও নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের বর্তমানে কোন শিলালিপি নেই। এই মসজিদ সম্বন্ধে কৈলাসচন্দ সিংহ (রাজমালা) ( খেলাসচন্দ্র সিংহ, ৯৩-৯৪ পৃ:) বলেন, মহারাজ গোবিন্দ্র মানিক্য সুজার নিমচা তরবারী বিক্রয় করেছিলেন। গোমতী নদীর তীরে কুমিল্লা নগরীতে সুজা মসজিদ নামক একটি ইষ্টক নির্মিত বৃহৎ মসজিদ অদ্যাপি দৃষ্ট হয়ে থাকে। এই মসজিদ সম্পর্কে দুই প্রকার প্রবাদ শ্রুত হওয়া যায়:
প্রথমত: সুজা ত্রিপুরা জয় করে বিজয় বৃত্তান্ত চিরস্মরণীয় করার জন্য এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, মহারাজ গোবিন্দন্স মানিক্য সুজার নামে চিরস্মরণীয় করার জন্য নিমচা তরবারী ও হিরকাঙ্গুরীয়ের বিনিময়ে বহু অর্থ ব্যয় করে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। দ্বিতীয় প্রবাদ অপেক্ষা প্রথমোক্ত প্রবাদ সত্য বলে ধারণা করা হয়। এই মসজিদের দ্বার দেশে এ কথাও প্রস্তর ফলক সংযুক্ত ছিল। জনৈক প্রাচীন মুসলমানের নিকট এরূপ শ্রুত হয়েছে যে, অর্ধশতাব্দি কিংবা ততোধিক কাল পূর্বে জনৈক ত্রিপুরা রাজ সরকারী দেওয়ান ওয়াক্ফ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য সেই প্রস্তর ফলকটি উঠিয়ে গোমতীর নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন। কুমিল্লার অন্তগর্ত সুজানগর নামক পল্লী সেই মসজিদের ওয়াকফ বলে জানা যায়।
শ্রুত যাই থাকুক না কেন কুমিল্লার গোমতী তীরের শাহ সুজা মসজিদটি পাক ভারত উপ মহাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অপূর্ব নিদের্শণ। মুসলমানদের গরীবের হজ্জের দিন শুক্রবার এই মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য মুসল্লিদের উপচে পড়া ভীড় সব সময়েই লেগে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৫৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×