একজন নেতা দরকার, একজন ভিশনারী নেতা। কোথায় পাই - এটা তো আর কোন কারখানায় উৎপন্ন হয়না! এই নেতা উঠে আসবে এই জনগণ থেকেই। দুধের মান খারাপ হলে মাখনও খারাপ হবে। ভাল মাখন পেতে হলে দুধ ভাল পেতে হবে। পুরো জনগণ হচ্ছে দুধ আর নেতৃত্ব হচ্ছে সেই দুধের মাখন। রাজনৈতিক নেতারা সব খারাপ, ধান্দাবাজ, ধোকাবাজ - এসব বলে আমরা সাধারণ জনগণ হয়ত আত্নতৃপ্তি পেতে পারি কিন্তু দায়িত্ব তো এড়াতে পারি না।রাজনীতিকে শুদ্ধ করতে হবে রাজনীতির মাধ্যমেই।
গত এক পোস্টে রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লিখেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় এই পোস্ট।
একটা রাজনৈতিক দলের নেতা হতে হবে দেশপ্রেমিক, যোগ্য, ভিশনারী এবং পুরো মাত্রায় পেশাদার। দালাল কে না? দালাল কম-বেশী সবাই। উন্নত বিশ্বের দালালি ভিন্ন এগিয়ে যাওয়াও টাফ। কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ন তা হল দর কষাকষি করার মত একটা যোগ্যতা লাগবে। প্রভাবান্বিত করার সেই তাগদ লাগবে। যেই কারনে ডঃ ইউনুস যখন রাজনীতিতে আসতে চেয়েছিলেন আমি কিঞ্চিত আশাবাদী হয়েছিলাম। কে না জানে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের একজন প্রধান পৃষ্ঠপোষক। কিন্তু তিনি হচ্ছেন সেই পরিমান একজন আন্তর্জাতিক ব্যাক্তিত্বের অধিকারী যা দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে দেশের স্বার্থের ব্যাপারে দর কষাকষি করতে পারার ক্ষমতা ছিল।
যাহোক তিনিই যে হতে হবেন এমন কোন কথা নয়; আমি উদাহরণ দিলাম মাত্র। আর নেতা তো আর আসমান থেকে নামবে না। এই জনগণ থেকেই উঠে আসবে জনগণের নেতা। একজন নেতার ভিতর অনেক বৈশিষ্টই থাকতে পারে। তবে যে চারটা গুন পুরোমাত্রায় লাগবে তা হল:
১. দেশপ্রেম: দেশপ্রেম নিয়ে ভলিউপ কে ভলিউম বই লেখা যায়। কিন্তু তাতে দেশপ্রেম আসবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ এই অনুভুতি নিজের ভিতর না আনে যে আমার দেশকে আমাকেই ভালবাসতে হবে। তৃতীয় বিশ্বের কেউ দেশকে ভালবাসতে হলে মালয়শিয়ার মাহাথিরের জীবনী পড়লেই আউটলাইন পেয়ে যাবে। আর বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী যতটুকু পড়েছি তাতেই বুঝা যায় আর যত কিছুই থাকুক দেশপ্রেম নিয়ে বাংলাদেশে তিনিই এখনো টপ রেংকিংএ আছেন। এটা আপনাকে মানতেই হবে চাই আপনি আওয়ামিলীগ করুন আর নাই করুন। আওয়ামিলীগই তার ভাবমুর্তি সবচেয়ে বেশী ক্ষুন্ন করেছে।
২. যোগ্য: নেতাকে নূন্যতম একটা স্বচ্ছ পেশাতে পুরা যোগ্য এবং সফল হিসাবে তার ট্র্যাক রেকর্ড থাকতে হবে। একটা মানুষ নিজ যোগ্যতার বলে নিজ ও তার পরিবারের ভর-পোষণ করতে পারবে না, আর পুরো দেশের মানুষের ভরন-পোষনের দায়িত্ব নিবেন - এটা একটা বাজে ব্যাপার।
৩. ভিশনারী: At times this involves seeing into the future. স্বপ্নদ্রষ্টা যাকে বলে। যিনি ভবিষ্যৎ দখতে পান। Professional Eye বলে একটা কথা আছে। সেই একইভাবে একজন রাজনীতিককে তার দেশ-জনগণ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ দেখতে পারার ক্ষমতা থাকতে হবে। পচন্ড কল্পনা শক্তির অধিকারী হতে হবে একজন রাজনীতিক নেতা কে। সাথে সাথে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার মত Resources [Man power, Money, Materials, Technology] Collection-allocation-deployment যোগাড় করার ক্ষমতা। আর সবার উপরে হচ্ছে Dedication অনেকে বলে একটা পাগলামী; আমি ঠিক পাগলামী বলি না, আমি বলি মন-প্রাণ ঢেলে দেশ ও জনগণের জন্য উজাড় হওয়া কর্তব্য বা দায়িত্ব হিসাবে না ব্রত বা সাধনা হিসাবে নিতে হবে। নেতা তার কথা-কাজ-চিন্তা'তেই তাকে আলাদা করে দিবে তিনি সাধারণ জনগণ থেকে আলাদা।
৪. পেশাদার: নেতাকে হতে হবে ১০০% পেশাদার। দেশ ও জনগণের উন্নয়নই হবে একজন পেশাদার নেতার এক এবং একমাত্র লক্ষ্য-ধ্যান-জ্ঞান। হাজার মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা হচ্ছে, নিজ পরিবার উজাড় হচ্ছে, কারো ব্যক্তি ইমেজ নষ্ট হচ্ছে - এগুলো চিন্তা করা তো দুরের কথা ভ্রুক্ষেপও করা যাবে না। নেতাকে বুঝতে হবে কোন পর্যায়ে আমি কতটা নীতি মানব কতটা ছাড়ব। তাকে বুঝতে হবে কাকে কখন কোলে নিব, আর কখন লাথি দিব, বা কখন আবার তার পায়ে ধরব। AT any cost, the target and work must be within Country and People আর সব গোল্লায় যাক, ভেসে যাক। কে আমারে বিদেশের দালাল বলল, আর কে পা-চাটা বলল সেদিকে খেয়াল দেয়ার মত সময় একজন নেতার নাই।
পরের পোস্টে একটা ভাল সংগঠনের ফরম্যাট দিব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

