খবর: প্রবাসী আয়প্রবাহ এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতির জন্য একটা ভাল খবর; যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা পয়েন্টে সামান্য আশংকা প্রকাশ করেছেন। আমি আলোচনায় সেদিকে যাব না। আমি আলোকপাত করতে চাই প্রবাসী এই আয়প্রবাহে সমাজের কোন অংশটার অবদান সবচেয়ে বেশী।
জমি বেচে, ভিটা বেচে, কারো শেষ সম্বল শুন্য করে, মায়ের গয়না বেচে বা মহাজনের কাছে মোটা সুদে ঋন নিয়ে দিনের পর দিন আদম ব্যাপারীর পায়ে তেল মালিস করে সবাইকে কাঁদিয়ে যে মানুষটা বিদেশের মাটিতে পা দিল। সাথে সাথে আরেক দফা পরীক্ষার সামনে তাকে পড়তে হল। দেশে থাকতে যা কথা হয়েছে সব ভুলে গেছে সবাই। দাসপ্রথার এক আধুনিক সংস্করণের সামনে তাকে পড়তে হল। একেক দেশে একেক নিয়ম। কিন্তু অবস্থা কম-বেশী একরকম।
মানবেতর শব্দটা আজ অতি ব্যবহারে এটাকে আমার অনেক সুন্দর মনে হয়। এই সবহারা-অসহায় মানুষগুলো শুধুমাত্র দেশের মা-বাবা-বউ-বাচ্চা দের করুন মুখগুলো কথা মনে করে; পাওনাদের কাছে বন্ধক দেয়া মানুষগুলোর হিংস্র চাহনির কথা স্মরণ করে; সব হারানোর বেদনা মনের মধে চেপে "কুত্তা-বিলাইল" জীবন গ্রহণ করে নেন। এরপর কেউ ঝাড়ুদার, কেউ সুইপার, কেউ ফুল বিক্রেতা, কেউ মেষ পালক, কাকড়ার ময়লা পরিষ্কারক - এরকম পশু-পেশা সাগ্রহে করেন।
থাকার জন্য বেছে নেন সিড়ি ঘরের চিপা বা বেসমেন্টে। এক কক্ষে ৪ থেকে ৮ জন। তাও খোঁজেন ডে-শিফ্ট আর নাইট শিফ্ট। একদল রাতে থাকেন অন্য দল রাতে। কোন কারনে যদি একবার নাইট এর লোক ডে'তে ঘরে চলে আসে তার জায়গা রাস্তা। এরউপর অর্ধেকের বেশীর বৈধ কাগজ পত্র না থাকায় সব সময় পুলিশের দাবড়ানীর ভয়।
ফেরার উপায় নাই। দেনার টাকা ফেরত দিতে হবে। সব হারিয়ে সে আজ অপরাধ না করেও বিদেশে ফেরারী। টাকা পাঠাতে হবে; তবে দেশে পরিবার খেতে পারবে। টাকা পাঠাতে হবে; তবে বোনের বিয়ের ব্যবস্থা হবে। টাকা পাঠাতে হবে; তবে বাবার জমির বন্ধক মুক্ত হবে। টাকা পাঠাতে হবে; তা না হলে বছর খানেক পর মহজন টিনের চাল খুলে নিয়ে যাবে। টাকা পাঠাতে হবে; একমাত্র সম্বল মুদি দোকানটা বেহাত হয়ে যাবে।
আমি কেন যে কেউ এঁদের দুর্দশা যদি লিখতে বসে ভলিউম কে ভলিউম শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সমাধান কি? এই আয় প্রবাহ যারা করছেন তারা যখন কোন সহযোগিতার জন্য আমাদের দুতাবসগুলোতে যান সেই সরকারী বেতনভুক্ত মানুষজন এই উপার্জনকারীদের পাত্তাই দিতে চায় না। স্যার - আব্বা বলেও তাদের মন পাওয়া যায় না। একটাই ধমক আসে অবৈধ ভাবে আসছ এখন নিজেই নিজের ঠেলা সামলাও।
সরকার এবং বাংলাদেশ গভর্নর এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছেই আমার চাওয়া এই হিরোরা যখন কোন সহযোগিতার জন্য দুতাবাসগুলোতে যাবে তখন যে আমাদের দুতাবাসগুলোর টপ টু বটম সব কর্মকর্তার এটা এক এবং একমাত্র ডিউটি থাকে আমাদের এই অর্থ-নায়কদের এন্টারটেইন করা এবং তাদের সকল সমস্যার সমাধানে আত্ননিয়োগ করা।
** অফিসের কাজে ব্যস্ত তা না হলে আরো বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা ছিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

