চট্রগ্রামের পার্কি বিচ। আনোয়ারা থানায় এই বিচের অবস্থান। মাত্র ৫/৬ বছর হয় মানুষ এই বিচে যাতায়াত শুরু করেছে। বিচ তো প্রাকৃতিক; আগে থেকেই এখানে ছিল। দুর্গম যাতায়াতের কারনে এখানে এলাকার মানুষ ছাড়া কেউ আসত না।
চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে আনুমানিক ২৫ কিলো পথ। কক্সবাজার যাওয়ার পথে কাফকো বা আনোয়ারা কানেকটিং রোডে যেতে হয়। কর্ণফুলী সার কারখানার দক্ষিনে ইউরিয়া সার কারখানা তার কিছু পরেই পার্কি বিচ। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আছে - একটু ঝক্কি পোহাতে হয়। নিজস্ব পরিবহন বা সিএনজি স্কুটার বা পরিবার নিয়ে গেলে ভাড়া করা মাইক্রোতে ভ্রমনটা আরামদায়ক হয়।
কক্সবাজারের মত ক্রেজ না থাকলেও সাগরের যে বিশালতা থাকার কথা তার কমতি নেই। অন্তত পতেঙ্গা বিচ থেকে অনেক বড়। পতেঙ্গার বিচে তো বালির আধিক্য অনেক কমে গেছে। সে তুলানায় পার্কি বিচটা হিউজ!
কেউ ঠাট্রা করে বলে চট্টগ্রাম এসে যদি কোন কারনে কক্সবাজার না যেতে পার তো পার্কি বিচে এসে ছবি তুলে এটাকেই কক্সবাজার বলে চালিয়ে দিতে পারবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগুলো একটার সাথে আরেকটার তুলনা করি না। প্রকৃতির সৌন্দর্যগুলো প্রত্যেকটাই একেকটা আরেকটার চেয়ে আলাদা।
ছোট বাচ্চারা এই বিচে খুব মজা পায়। অনেক সময় কক্সবাজারের বড় বড় ঢেউয়ের কারনে বাচ্চারা সাগরে নামতে চায় না। পার্কি বিচে সে ভয় নাই; বাচ্চারা খুব এনজয় করে এই বিচ।
আমার মেয়ে তিতীর্ষা আর ভাস্তে রণ তো বলেই ফেলেছে কক্সবাজারের চেয়ে তাদের কাছে পার্কি বিচই ভাল লেগেছে। সাথে সাথে এও জানিয়েছে এখানে হোটেল থাকলে ওরা এখানে থাকত। হ্যাঁ, এখানে হোটেল নাই এটা একটা সমস্যা।
এখানে ঝাউ বন দেখলেও বুঝা যায় যে গাছগুলো অনেক পুরনো। অনেক বড় বড় গাছ। সাগরের পানি ঝাউ বন পর্যন্ত চলে আসে; ফলে ঝাউ গাছের শিকড়ের নিচ থেকে পানিতে বালি সরে আরেক সৌন্দর্যের সৃষ্ঠি করেছে।
পতেঙ্গা পনর নম্বরে যেখানে নেভাল একাডেমীর গেইট শুরু হয়েছে। সেই গেট থেকেও পার্কি বিচের ঝাউ বন দেখা যায়। নিচের এই ছবিতে দুই জাহাজের মাঝ দিয়ে দুরে যে ঝাউ বনটা দেখা যায় ওটাই পার্কি বিচ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



