প্রতিটি প্রাণীর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ চলা পথে জীবনকে পরিচালিত করার জন্য প্রয়োজন হয় শারীরিক অত্যাবশ্যকীয় কিছু দাবি। এগুলোর যোগান সঠিক সময়ে পরিমানমত না হলে ঘটে বিপত্তি; কখনো সখনো প্রাণীর প্রাণ ধারনই হয়ে উঠে কঠিন। অন্যান্য প্রাণীর শারীরিক দাবিগুলোর সাথে মানুষের জন্য যোগ হয় কিছু মানবিক দাবিরও। এই মানবিক দাবির জন্যই মানুষের শারীরিক দাবি পুরনের প্রকৃতির ভিতর ভিন্নতা আসে, আসে সভ্যের পরিচয়। আমি মানুষের এই শারীরিক দাবিগুলো নিয়েই আজ আলোচনা করব।
সভ্য ও অসভ্য যাই হোক দাবিগুলোর স্বাভাবিক যোগানের স্রোতকে করতে হবে সহজ ও সাবলীল। যৌক্তিকও। সমাজ ভদ্রতার দোহাই দিয়ে যদি এই স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রন করতে চায় তো সেটাকে ঢাকার জন্য দরকার হয় ভদ্রতার আরো মুখোশ।
একটা শিশুর জন্মের পাঁচ মাস অবধি দরকার হয় শুধুমাত্র তার মায়ের দুধ। তারপর আড়াই-তিন বছর পর্যন্ত দরকার হয় নরম খাবার। এরপর ক্রমান্বয়ে শারীরিক দাবিগুলোর প্রকৃতি পরিবর্তন হয় এবং সেঅনুযায়িই যোগানেরও পরিবর্তন হতে থাকে। পরিবার, সমাজ, দেশ সবারই যার যার স্থান অনুয়ায়ী দায়িত্ব নির্ধারিত থাকে এই মানব-জীবনের দাবিগুলোর উপাদান সরবরাহের।
একটা শিশু, কৈশর পেরিয়ে যখন বয়ঃসন্ধি অতিক্রম করে তখন তার শারীরিক দাবিগুলোতে একটা নতুন মাত্রা যোগ হয় - যৌনদাবি। যৌনদাবিই শুধু না, যে কোন দাবিই যখন স্বাভাবিকভাবে পুরন না হয় তখনই দেখা দেয় বিভিন্ন মাত্রায় অসংগতি এবং বিশৃংখলা। অগ্রজ, পরিবার, সমাজ এবং দেশ সকলের উপরই দায়িত্ব বর্তায় যে তার আওতাধিন মানুষটার যৌক্তিক ও প্রাকৃতিক দাবিগুলো পুরণের স্বাভাবিকতাকে সহজ ও সাবলীল করে দেয়া।
একটা ছেলে বা মেয়ের স্বাভাবিক সব চাহিদাই যতদিন পর্যন্ত সে কর্মক্ষম না হয় ততদিন পর্যন্তই পরিবার মেটায়। যৌন চাহিতার ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠে সে কর্মক্ষম হয়েছে কি না। কেন? আমার সন্তান যতক্ষণ পর্যন্ত কর্মক্ষম হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তার পোষাক-খাদ্য-বাসস্থান-লেখাপড়া-চিকিৎসা-বিনোদন সবকিছুর দায়িত্ব নিতে পারতেছি; কেবল কনডমের খরচটার জন্য তাকে চাকরি পাওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হবে???!!! একটি ছেলে ও মেয়ে যখন তারা তাদের যৌনচাহিদা বৈধভাবে মেটানোর জন্য বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই তাদের সামনে হিমালয়-সম যে প্রশ্নটা চলে আসে তা হল, বিয়ে করব খরচ চালাবে কে? খরচটা কি - সেটাই আমি বুঝলাম না। যৌনচাহিদা মেটানোর সামাজিক বৈধতা হচ্ছে বিয়ে। এটাকে কেন আমরা সহজ, স্বাভাবিক করিনা? অহেতুক কিছু খরচের বেড়াজালে ব্যাপারটাকে কঠিন করে ফেলেছি। আমরা তো পারি ছেলে ও মেয়ে যতদিন কর্মক্ষম না হচ্ছে ততদিন তাদের সব চাহিদার যোগান দিতে। আর পরিবার পরিকল্পনার জ্ঞান তো আমরা স্কুলের পাঠ্যবইতে ৬ষ্ঠ শ্রেণী [বয়ঃসন্ধি] থেকেই বাধ্যতা মূলক করে দিতে পারি যা যৌক্তিকও।
আমাদের এই মুর্খতার জন্য জন্ম দিয়েছে যত অনাচার আর বিয়ে বহির্ভুত যৌনাচারের।
** এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা পরে রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



