কাল হাশরের মাঠে খোদা তায়ালা সমস্ত সৃষ্ঠিকুলের বিচার করার জন্য তাঁর সর্বোচ্চ শক্তি ও ক্ষমতা প্রদর্শনপূর্বক বিচারের আসনে আসীন হবেন। তাঁর সেই রুদ্ররুপ ও ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ দেখে তাঁর প্রিয় বান্দা নবী-রসুলগণও ভীত-সন্তস্ত্র হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বেন।
তিনি তখন কেবলমাত্র একটা দেশ বা মহাদেশ বা সারা পৃথিবীর একমাত্র ক্ষমতাধর অস্তিত্বে অধিকারী হবেন যে তা নয়; তিনি হবেন সমস্ত গ্রহ-নক্ষত্র-ছায়াপথের একক ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী।
আর তখন স্বয়ং খোদা-তায়ালা সেই হাশরের মাঠে খোদা-তায়ালা পূর্বাপর সকল শক্তিশালী এবং ক্ষমতাধরদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিবেন -
আজ এই বিচার দিনের মালিক কে?
তাঁর সেই চ্যালেঞ্জ এর সামনে এক মর্মস্পর্শী নিস্তব্ধতা বিরাজ করতে থাকবে। সেটা গ্রহণ করা তো অনেক দুরের ব্যাপার - তার বিপরিতে সামান্যতম শব্দও উচ্চারনের শক্তি কারো থাকবে না। তখন তিনিই আবার বলবেন -
আজ এই বিচারদিনের একমাত্র ক্ষমতার অধিকারী আমি'ই।
তো সেই বিচারদিনে মহান রাব্বুল আলামিন মানুষের বিচার দুইটি স্তরে করবেন।
এক. হক্কুল্লাহ্ বা আল্লাহ'র হকের বিচার।
দুই. হক্কুল-ইবাদ বা বান্দার হকের বিচার।
আল্লাহ্'র হক হচ্ছে যাবতীয় সকল কর্ম যা সরাসরি আল্লাহ্'র সাথে বান্দার সম্পর্ক। যেমন - নামাজ, রোজাসহ যাবতীয় ইবাদত। এক্ষেত্রে যদি বান্দার ঈমান বা বিশ্বাস ঠিক থেকে থাকে তো তিনি এইসমস্ত এবাদতে যদি কোন ঘাটতিও দেখা দেয় সেটা ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দিবেন।
কিন্তু সমস্যা হবে বান্দার হকের বিচারের ক্ষেত্রে।
- কেউ কারো অধিকার হরণ করেছে।
- কারো সম্পদ লুন্ঠন করেছে।
- কাউকে নিজ স্বার্থ বা অকারনে হত্যা করেছে।
তখন খোদা-তায়ালা যার যার স্বার্থ নষ্ট হয়েছে বা অধিকার হরণ করা হয়েছে তার কাছ থেকে সংস্লিষ্ঠকে ক্ষমা নেয়ার জন্য আদেশ দিবেন। কোন কারনে যদি সেই ব্যাক্তি ক্ষমা না করেন তো খোদা-তায়ালা খোদ নিজে যিনি সমস্ত ক্ষমতার আধার তিনিও এই অপরধীকে ক্ষমা করবেন না।
অপরাধীকে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তির নিকট হতেই ক্ষমা নিতে হবে।
আমি জানি না -
কোন ক্ষমতাবলে, কোন অহংকারে, কোন শক্তির বিচারে -
আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী বা সরকার
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তির অনুমতি ছাড়া প্রমানিত হত্যাকারীর মৃত্যুদন্ডাদেশ ক্ষমা করে দেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



