সেই ছোট্ট বেলায় আধো আধো বোলে সবে সবাইকে যখন ডাকতে শুরু করেছিলাম।
খেলার ছলে মা-বাবা সেই তিন বছরের বাচ্চার কাছে জানতে চাইল -
- বল তো, কে তোমায় বেশী আদর করে?
দুজনই খুব হাসি হাসি মুখ করে প্রাণের চেয়ে প্রিয় বাচ্চার নরম তুলতুলে মুখ পানে চেয়ে অপেক্ষা করছিল, কে বিজয়ী হবেন - সেটা শোনার জন্য।
মা-বাবা জানতে ই পারছেন না, তারা নিজেদের অজান্তেই সেই ছোট্ট আদরের সন্তানের মাথায় কত্ত ভারি একটা চাপ দিয়ে দিয়েছেন।
একবার মা'র দিকে তাকাই।
হাগু-হিসিতে একাকার হয়ে চরম বিপদে যখন হাপুস হয়ে এক স্বরে কেঁদে যাচ্ছিলাম - মা'ই তো এসে আমায় উদ্ধার করল।
- তাহলে মা বেশী আদর করে।
কিন্তু জন্মদিনে অত্তগূলো বেলুন তো বাবাই আনল।
- তাহলে বাবা বেশী আদর করে।
আবার গতরাতে যে ভিষন খুদা পেয়ে কান্না জুড়ে দিয়েছিলাম, তখন তো বাবা ঘুমিয়েইছিল; মা'ই তো ওই অত রাতে হরলিকস করে এনে খাওয়াল।
- তাহলে মা বেশী আদর করে।
কিন্তু গতকাল বিকালে ক্যাডবেরীর অত্ত বিরাট কৌটাটা তো বাবাই এনেছিল আর সাথে হ্যালিকপ্টারটা।
- তাহলে বাবা বেশী আদর করে।
এই হ্যালিকপ্টারটা গত সপ্তাহে দোকানে দেখে বা্য়না করাতে, মা বকেছিল।
- তাহলে মা কম আদর করে।
আবার বাবাও তো দাদুকে বিরক্ত করায় বকেছিল।
- তাহলে বাবা কম আদর করে।
তাহলে কে বেশী আদর করে, কে বেশী আদর করে?
কার কথা বলি?
বুঝতেই তো পারছিনা।
কি বিপদ, কার কথা বলি?
তাই কিছু না বলে দু'জনের গালেই দু'টো চুমু খেয়ে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচলাম।
সেই আমার ডিপ্লোম্যাসির পথম পাঠ।
[email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



