হোন্ডা চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৭
বাংলামোটর এলাকা দিয়ে ফুটপাত ধরে আসছিলাম।হঠাৎ একটা চিৎকারের শব্দ।তাকিয়ে দেখি একজন বৃদ্ধ পড়ে আছে উপুড় হয়ে।পাশেই দাঁড়িয়ে আছে একটি হোন্ডা।হোন্ডায় বসে আছে চালক।বুঝলাম ঘটনা যা ঘটানোর হোন্ডাই ঘটিয়েছে।ততক্ষণে শ খানেক মানুষ জমে গেছে ঘটনাস্থলে।পুলিশও এসে গেছে তিনজন।উপস্থিত সবার দাবী-হোন্ডাওয়ালাকে ধরে থানায় নিয়ে যেতে হবে।যতক্ষণ বৃদ্ধকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া না হবে,ততক্ষণ ছাড়া যাবে না।পুলিশের মধ্যে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না।শুধু তাই নয়,মিনিট ত্রিশেক পর দেখা গেল হোন্ডাওয়ালা দিব্যি চলে যাচ্ছে ভোঁ ভোঁ আওয়াজ করে।সবাই তখন প্রশ্ন বোধক দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল পুলিশের দিকে।পুলিশ ব্যাপারটা বুঝতে পেরে যা বলল তার অর্থ হলো উনি বিশাল এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।উনাকে কিছু বললে অথবা কোন শাস্তি দিলে তাদের চাকরী থাকবে না।এটা তো একটা ঘটনা।ঢাকা শহরে এমন ডজন ডজন ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।হোন্ডাওয়ালারা ভুলেই হয়তো গেছেন ফুটপাত ব্যবহার করার অধিকার কেবল তাদেরই যারা পায়ে হাঁটেন।জ্যাম বেড়ে যাওয়ায় এখন হোন্ডাওয়ালারা রাস্তায় থাকতেই চাচ্ছেন না।তারা হুড়মুড় করে উঠে আসেন ফুটপাতে।ফলে নিশ্চিন্তে হাঁটার কোন উপায় থাকে না পথচারীদের।অথচ এই পথে তাদের ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলারও অধিকার রয়েছে।আর তারা এখন এমন তটস্থ থাকেন যে,মনে হয় এই রাস্তা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে পারলে বাঁচেন।সাধারণ পথচারীদের অনেকেই জানেন না ফুটপাতে হোন্ডা চালানো যে কত বড় অপরাধ।যারা জানেন তারাও প্রতিবাদ করার সাহস পান না।কারণ হোন্ডা চালকরা প্রায় সবাই বড় মাপের কিছু একটা ।হয়তো দেখা যাবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।নয়তো অমুক কর্মকর্তার ভাই ভাতিজা।যাদেরকে পুলিশরাও ভয় পায়।কিন্তু এভাবে আর কত দিন।সাধারণ মানুষের ক্ষমতা নেই রাস্তায় দামী গাড়ি হাঁকানোর,ক্ষমতা নেই হোন্ডা কেনার।তাদের সম্বল একজোড়া পা।এই পা জোড়া রাখার জন্যে কি তারা একটু জায়গা পাবে না?মাননীয় হোন্ডাচালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-আপনারা দয়া করে ভালো হয়ে যান।কারণ আপনারা খুব ভালো করেই জানেন জায়গাটা আপনাদের নয়।তাহলে কেন যাবেন ওখানে হোন্ডা চালাতে?আপনারা উল্টাপাল্টা হোন্ডা চালিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চান।কেন,অন্যদের কি বাড়ি ঘর নেই?তাদের কি স্বজন পরিজন নেই?পুটপাত ধরে পথ চলার অধিকার যাদের একচ্ছত্র তাদেরকে বলছি-আপনারা প্রতিবাদ করুন।প্রতিবাদ করলে তারা এই অন্যায় করার সাহস পাবে না।প্রথমবারের প্রতিবাদে কাজ না হোক,দ্বিতীয় বার তৃতীয়বার চতুর্থবারের প্রতিবাদে নিশ্চয়ই কাজ হবে।মনে রাখবেন-অন্যায় করা আর অন্যায় সহ্য করা সমান অপরাধ।
না বলা কথা বলেছেন:
হোন্ডাটা এই সব স্টুপিডদের ওপর দিয়েই চালানোর খায়েশ আছে তবে সাধ্য নেই।লেখক বলেছেন: ও তাহলে আপনার হোন্ডা আছে।দারুণ নিউজ তো!!!
ইরফান রিজভী বলেছেন:
"honda" brand chilo bike tar?:S
লেখক বলেছেন: জ্বি?
সায়েম মুন বলেছেন:
sudhu honda walara keno? tabot motor cycle (haler bike) walara!
লেখক বলেছেন: কিন্তু কী করবো ভাই,আমরা তো অসহায়।
এদের কয়েক জনের উপযুক্ত শাস্তি হলেই কেউ আর এই কাজ করতে সাহস পাবে না।
লেখক বলেছেন: শাস্তি দেওয়ার মত আমাদের কি এত ক্ষমতা আছে,বলুন।
মামদোভুত বলেছেন:
ঐটা হোন্ডা কোম্পানিরই মোটরবাইক আসিল না অইন্য কোম্পানির?
লেখক বলেছেন: ভাই,আপনের প্রশ্ন বুঝিতে অক্ষম হইলাম?
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
এলিফ্যান্ট রোডে এমন এক উজবুক কে দেখেছিলাম জ্যাম ঠেলে এগোনর জন্য মোটর বাইক নিয়ে ফুটপাথে উঠে পড়েছে এবং চালাচ্ছে। ফুট পাথ কি বাইক চালানোর জায়গা? বলতেই গলা উচিয়ে বলল, হ্যা এটা বাইক চালানো জায়গা। কী বলবেন এদের?
লেখক বলেছেন: ঠিকই বলেছেন ভাই।
দূরের মানুষ বলেছেন:
: এটা আমার বাইক Click This Link
ফুটপাতের উপর দিয়ে চালানো লাগেনা। কারন আমি যেখানে থাকি সেখানে কোন জ্যাম, ঝ্যাম, জেলি কিছুই নাই।
লেখক বলেছেন: ভাই,হেবভি একটা দৃশ্য দেখাইলেন।ধন্যবাদ।
মামুনুর রহমান খাঁন বলেছেন:
একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটপাথ দিয়ে (এফ রহমান হলের উল্টা দিক দিয়ে) নিলক্ষেতের দিকে আসছিলাম। রাস্তা জ্যাম ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে হর্ন শুনতে পেলাম। আমি জায়গা ছাড়লামনা। আবার হর্ন বাজল। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি এক পুলিশ অফিসার। রাগে দাঁত কিড়মিড় করছিল আমার।এবার তাহলে ভেবে দেখুন যেদেশে আইনের লোক আইন ভাঙ্গে সেদেশে সাধারন জনগন কার কাছে বিচার চাইবে?
লেখক বলেছেন: আসলেই আফসোস।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
বাইকটা কি হোন্ডা ব্র্যান্ডের ছিলো?
লেখক বলেছেন: আসলে হাসান ভাই হয়েছে কী,আমি সব বাইককেই হোন্ডা বলতাম।
দূরের মানুষ বলেছেন:
লেখক বলেছেন: আগের বারই ক্লিক করেছিলাম। আরে পরের কোমেন্টা ভুলকরে গেছ। কেটে দিন। আসলে ছবিটা এখানেই দেখার চেষ্টা করছিলাম। পারলাম না।
লেখক বলেছেন: ব্যাপার না।
হাসান শরিফ বলেছেন:
আপনার লেখার সঙ্গে একমত। আমার নিজের একটি মোটরসাইকেল আছে। চেষ্টা করি ফুটপাতে না উঠতে। কিন্তু বিশ্বাস করেন,চোকুরি বাঁচাতে এবং মাঝে মাঝে এতো জরুরি কাজ থাকে এবং তখন এতো যানজট যে ফুটপাতে না উঠলেই নয়। আমার হর্ণ দিয়ে লোকজনকে ফুটপাত থেকে সরাতে খারাপ লাগে। তাই চেষ্টা করি ধীরে ধীরে রাস্তা পার হতে। অযাচিতভাবে ফুটপাতে উঠার জন্য তাই ক্ষমা চাই। কিন্তু ভাই ফুটপাতে এক মিনিট রাস্তার আধাঘন্টার যানজট কমিয়ে দেয়। মূল সমস্যা আসলে রাস্তায়। এক জায়গায় নিয়ম মানা হয় না বলেই সব জায়গায় নিয়ম ভাঙ্গা হয়। রাস্তায় যদি যানজট না লাগতো, কাউকে ফুটপাত ধরতে হতো না। আসুন আমরা যানজটমুক্ত একটি ঢাকার জন্য দোয়া করি।
লেখক বলেছেন: জ্বি,আসুন দোয়া করি।
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন:
এই জিনিসটা যে কি পরিমাণ খারাপ লাগে বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু বলে তো কোনও লাভ নেই, শুনবে না কেউ।
লেখক বলেছেন: তবুও বলতে হবে ব্রাদার।
লেখক বলেছেন: কতা সইত্য।
মামুনুর রহমান খাঁন বলেছেন:
হাসান শরিফ বলেছেন: আসুন আমরা যানজটমুক্ত একটি ঢাকার জন্য দোয়া করি।ভাই দোয়া অনেক করা হয়েছে, দোয়ায় কাজ হবে না। এবার সত্যিকারের কাজ দেখতে চাই, তবে তা অবশ্যই ঘড়ির কাটা নিয়ে ফাজলামো ধরনের কিছু না।
লেখক বলেছেন: ঠিক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ছবির জন্য।
কনক মোমেন বলেছেন:
ঢাকা তে মটরসাইকেল চালকেরা ট্রাফিক আইনের পরোয়া করেনা, আবার ব্যবহারেও বিগ শট্। রিক্সাওয়ালারা অন্যয় করলে মাইর খায়, কিন্ত ওনারা অহরহ অন্যয়ও করে আবার কিছু বল্লে উল্টা ফাফর নেয়। মাইর এর উপর ঔষধ নাই..................
লেখক বলেছেন: কিন্তু এই অষুধ দেওয়ার ডাক্তার কই।




















