somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বাংলা সিনেমার পুলিশীয় রম্য

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লৈথুর ঠোঁটটি বড়ই কাঁটা । কাকে কি বলিতে হইবে কোথায় গিয়া পা চাটিতে হইবে কোথায় ভীমরুপে লম্ফঝম্পে অবতীর্ণ হইতে হইবে বুঝিয়া উঠিতে পারে না সে সহজে । তদুপরি মাথাটি তাহার প্রায়ঃশই প্রতারণা করিয়া বসে । এমনিতে ভালো বুদ্ধিমান সমঝদার বাবুটির মত চলিলেও মাস কয়েক পরপর একটি না একটি গোল বাঁধাইয়া লোকের লাথি খাইতে হয় তাহাকে । শেষটায় নামই রটিয়া গেল লৈথুন বলিয়া । তথাপি ঠোঁটকাটা স্বভাবের কারণে শত্রুর পাশাপাশি বন্ধুও দুএকজন যে সে জুটায় নাই তাহা নহে । শত্রুরাতো তাহাকে দুই চোখে দেখিতে পারিতই না বরং বন্ধুরাও তাহার অনেক এলোমেলো কথার অর্থ বুঝিতে পারিত না । পাগল নাম রটিয়া যাওয়ায় সে যাহা খুশি বলিয়া বেড়াইত । শুধু গাঁয়ের সমঝদাররাই বুঝিতেন লৈথু সবসময় পাগলামি করিয়া বেড়ায় না । সে যাহাই হোক কথার কারণে তাহার টুঁটিটি চাপিয়া ধরিতে কেহ কখনো আসে নাই ।

গোল বাধাইল গাঁয়ের চৌধুরিদের কন্যা দুর্গন্ধমেদিনী ।

"ঘোষেদের বাড়ীর বউ-ঝিরা না শহরের মত জামা পরে না গাঁয়ের মত । দুইএর মাঝামাঝি পড়িয়া তাহারা তালগোল পাকাইয়া ফেলিয়াছে ।" গাঁয়ের সুভাষিণী বলিয়া পরিচিত বৃটিশরাজ প্রদত্ত রাজা বাড়ীর বউ অধরা তাহা নিয়া টিটকারি করিতেছিল দেখিয়া লৈথুর মাথা বোধহয় গোলাইয়া গেল । পাক্কা বদমাশটির মত বলিয়া উঠিল, "আপনার এত জ্বলুনি কেন গো দিদি । বাঁদরখোলা লেগে গিয়েছে নাকি আজ ওখানটায় ।" অধরা যারপরনাই অপমানিত বোধ করিলেও লৈথুর মাথা আজ হয়ত ঠিক নাই ভাবিয়া , নিজ চরকায় তেল দাওগে ঠাকুরপো বলিয়া অন্দরে চলিয়া গেলেন ।

চৌধুরিদের কন্যা দুর্গন্ধমেদিনী দীর্ঘকাল শহরে পড়ালেখা করিয়া মাত্র কমাস হৈল গাঁয়ে ফিরিয়া আসিয়াছে । গাঁয়ে আসিয়াই নতুন বধূ হইয়া আসা অধরা বৌদির বড়ই নেওটা হইয়া উঠিল সে কদিনেই । প্রায় সারাদিনই এ বাড়ি আসিয়া বসিয়া থাকে । অধরা বোদির সাথে গল্প করে । আজ সে বাড়ীর ভিতরেই ছিল । অধরা দি তাহাকে ঘরে রাখিয়া পালেদের বাড়ীর ছোট বউএর সাথে কথা বলিতে গেলে লৈথু বদমাশটার ঘটনাটা ঘটে । দুর্গন্ধমেদিনী হয়ত শুনিতে পায়নাই ভাবিয়া অধরা তাহাকে কিছু বলিতে চাইল না । কিন্তু গোঁ ধরিয়া সে ঠিকই বলাইয়া ছাড়িল । কি মনে করিয়া প্রণাম করিয়া বৌদির পায়ের ধূলাটি শিরোধার্য করিয়া কহিল এর প্রতিশোধ লইবই । তুমি দেখে নিও বোদি । আরে পাগলি করিস কি করিস কি বলিয়া হাঁহাঁ করিয়া উঠিলেও দুর্গন্ধমেদিনীকে থামানো গেলো না ।

গাঁয়ে নতুন আসিবার পরে প্রথম প্রথম দুর্গন্ধমেদিনীর কথাকে কেহ তেমন গুরুত্ব দিত না । এ গাঁয়ের লোকগুলোই কেমন যেন এরকম । নতুন কাহারো কথা তা সে যতই ভারী হোক না কেন কানে তুলিতে চায় না । সেবার এক ইঁচড়েপাকা ছোকড়া তাহাকে অপমান করিয়া কথা বলিলে কত দ্বারে দ্বারে ঘুরিয়াছে দুর্গন্ধমেদিনী, কোথাও বিচার পায় নাই । কাঁদিয়া কাটিয়া পর্যন্ত বলিয়াছে । কাহারো ঘুম ভাঙাইতে পারে নাই । তারপর হইতে নিজের কর্মপন্থাটি সংশোধন করিয়া লইয়াছে সে । একটু হাসিটি ঢঙটি রঙটি করিলেতো আর নিজের শরীর খসিয়া পড়িবে না । তাহাতে যদি লোকে তাহার কথায় কান দেয় মন্দ কি । তারপর হইতে গাঁয়ের মাথাওয়ালদের সাথে সে একটু হাসিটি ঢঙটি রঙটি করিয়া কথা বলে । বুঝুক বা না বুঝুক মাথাওয়ালাদের কথা হৈলে তা যা বলেছেন দাদা, এক্কেবারে শতভাগ ঠিক কথা বলিয়া গদগদ ভাব দেখায় । গাঁয়ের মাথাওয়ালারাও শহরে পড়ালেখা করা মেয়ের প্রশংসা , তদুপরি উপরি হিসাবে খন্ডকালীন রঙটি ঢঙটি পাইয়া আকর্ণলম্বিত হাসি সহকারে গর্বিত বোধ করে । এইরুপে একটি ভালো প্রভাব বলয় এরই মধ্যে তৈরী করিয়া লইয়াছে দুর্গন্ধমেদিনী । সেই ইঁচড়েপাকাটিকে পাওয়া যাইলে এখন সে তাহার চৌদ্দপুরুষের খবর করিয়া দিতে পারিত । কিন্তু বদমাইশটাকে পাওয়া যাইবার কোনোই সম্ভাবনা নাই দেখিয়া ধীরে ধীরে তাহার রাগ সব গিয়া পড়িল লৈথু হারামজাদাটার উপর । আজ সেসব তিলে তিলে উসুল করিবার লগ্নটি আসিয়াছে ।

নাওয়া খাওয়া ঘুম ভুলিয়া গাঁয়ের মোড়লের কাছে নালিশের পর নালিশ জানাইতে লাগিল দুর্গন্ধমেদিনী । মোড়ল ব্যাস্ত মানুষ , কাহার বউকে কে কি বলিয়াছে জাতীয় তুচ্ছ ব্যাপারে তিনি জড়াইতে চান না । সুতরাং ব্যাপারটিকে বড় করিতে হইবে বলিয়া ঠিক করিল দুর্গন্ধমেদিনী । সে ও তাহার ঢঙ রঙএর মাথাওয়ালা বন্ধুরা মিলিয়া আলাদা আলাদাভাবে নালিশ লইয়া যাইতে লাগিল মোড়লবাড়ী । তাহাতেও কাজ হয় না । ইংরাজিতে নালিশ পাঠাইল । লৈথুর স্বভাবটাই উচ্ছন্নে যাওয়া বলিয়া বুঝাইতে লাগিল ঘরে ঘরে ঘুরিয়া । বাঈজি বাড়ীতে গিয়া সে বাঈজির সাথে কিসব নোংরা কথা বলিয়া বেড়াইয়াছে তাহার হুবহু বর্ণনাও নিয়া আসিল ঢঙরঙের বন্ধুরা । গাঁয়ের বৌঝিরা দাঁতে-জিভ কাটিল । রাম রাম । একি কলিযুগ আসিল । বাঈজি বাড়ীতে কেহ যে ধর্মালোচনার জন্য যায় না একথাটি কিন্তু কেহ বলিল না ।

সামনাসামনি দরবার না করিলেও মোড়ল ঠিকই বুঝিয়াছিলেন ঘটনা কি । দুর্গন্ধমেদিনী মেয়েটি গাঁয়ের সব মাথাওয়ালাদেরও দলে ভিড়াইয়া ফেলিয়াছে । এখন তাহাদের বিরুপ করিতে গেলে গাঁয়ে মাতব্বরী বজায় রাখাই দায় হইয়া দাঁড়াইবে । আবার সামনাসামনি সালিশ বসাইতে গেলে কাহারো গলা টিপিয়া না ধরার নীতিটি লইয়া লোকের টিটকারির মুখে পড়িতে হইবে । লাঠিয়ালকে ডাকিয়া তাই তিনি যথার্থ নির্দেশটি দিয়া দিলেন । দুর্গন্ধমেদিনী বা কারো সহিত এই নিয়া আলাপে মাতিলেন না ।

পরদিন সকালে দীঘিরপাড়ের বটগাছটায় গামছা দিয়া গলা প্যাঁচানো লৈথুর লাশটি পাওয়া যাইলে, গাঁয়ের লোক আনন্দমিছিল বাহির করিলো । বদমাশটার উপযুক্ত শাস্তি হইয়াছে বলিয়া বৌ-ঝিরা খিড়কির দরজা হৈতে নেত্রী দুর্গন্ধমেদিনীর উদ্দেশ্য হাত নাড়াইলো । আনন্দ মিছিলেই ব্যাটারা যাহারা তাদের সাথে ছিল না তাহাদের উদ্দেশ্য লিঙ্গ এবং শরীরের তাবৎ নোংরা বলিয়া পরিচিত জায়গাগুলার উপমা দিয়া গালাগালি করিলেও গাঁয়ের বৌঝিরা বা দুর্গন্ধমেদিনী তাহা কানে তুলিল না । পুরুষ মানুষ অমন একটু করেই ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৩৫
১৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×