somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুরের পাখি (গল্প)

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাকে সে

আমাদের বারান্দায় একটা ভাঙা আয়না আছে । ছোটভাইয়া একদিন রাগ করে শোকেসের আয়না ভেঙে ফেলার পর, ফেলে না দিয়ে কি কারণে যেন ঐটা বারান্দায় ফুলের টবগুলার পাশে রেখে দেয়া হয় । কদিন আগে ঘটলো এক অদ্ভুত ঘটনা । দুইটা চড়ুই পাখি দেখলাম একদিন সকালে এসে বসলো আয়নাটার সামনে । বসার পর থেকে আর ঐ দুইটা ঐখান থেকে নড়েনা । কেউ গেলে উড়ে গিয়ে গ্রিলের উপরে বসে । তারপর আবার ফুড়ুৎ করে এসে আয়নার সামনে বসে থাকে । টানা তিনদিন ওরা এভাবে ছিলো । খাবার দিয়েছিলাম । সেইদিকে তেমন মনোযোগ নাই । এখন ওরা আমাদের বারান্দায় বাসা বানিয়েছে । পাখি দুইটা মনে হয় তোমার মত নিজের প্রেমে পড়ে গেছে ।

তাকে আমি

তুমুল বৃষ্টিতে রিকশায় কৈরা নারায়ণগন্জ গেলাম যে ঐদিনের কথা খেয়াল আছে ? ঐযে, কয়েকঘন্টার জন্য রিকশা ঠিক করলাম । এমনিতেই মেঘলা দিন আছিলো । নারায়ণগন্জ রোড ধৈরা কিছুদূর যাওনের পরই শুরু হৈল মারাত্নক বৃষ্টি । আমারতো শীত সহ্যই হৈতো না । হুড নামাইয়া দিয়াও কোন লাভ হয়না দেইখা শেষে হুড উঠাইয়াই দিলাম । শিরশির কৈরা কাঁপতেছিলাম আমি । বেচারা রিকশাঅলার জন্যও খারাপ লাগতাছিলো । বৃষ্টি শেষে আসার পথে ফতুল্লাতে রিকশার চেন গেলো ছিড়্যা । ঐখানেরই একটা গ্যারেজে ঠিক করতে নিয়া গেলে কৈলো নতুন চেন লাগবো । পরে তোমার আর আমার দুইজনের পকেট , ব্যাগ হাতড়াইয়া যা টাকা আছিলো সব দিয়া খালি দশ টাকা নিয়া বাসে চৈড়া ফিরবো বৈলা ঠিক করলাম দুইজনে । বাসে উঠলেই তোমার মাথা ঘুরাইতো তারপরও রাজি হৈলা । এতগুলা মাইনষের মধ্যে পুরাটা পথ আমার কান্ধে মাথা দিয়া বেহুশের মত ঘুমাইলা । পাশের সিটের এক পুলার লগে আমার দুস্তালিও হৈয়া গেলো । গুলিস্তানে তার দোকানে যাওনের দাওয়াত কবুল করলেও , যাওয়া হৈলো না আর কখনো ।

দুইদিন ধৈরা এইখানে টিপটিপ ফাউল বৃষ্টি পড়তাছে । কালকে ক্লাস শেষে বৃষ্টির মধ্যেই ভিজতে ভিজতে স্টেশনের পথে হাঁটতেছিলাম । কিছুক্ষণ পরে একটা বার্মিজ মেয়ে একটা ছাতা আগাইয়া দিলো । ইংরেজি বুঝে না । আমি জাপানিজ বুঝি না । জিগাইতে চাইছিলাম ছাতা থাকলে ভিজতে ভিজতে হাঁটতেছিলো কেন । বুঝছে কি বুঝে নাই বুঝলাম না । তবে মনে হৈল ওরও তোমার মত বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে । তখন হঠাৎ সেই নারায়ণগন্জ ট্যুরের কথা মনে হৈলো ।

নিজের উপর একটু তৃপ্তি থাকতে হয় । নাইলে বড় পৃথিবীতে বাঁইচা থাকা যায় না । এইটারে আত্নপ্রেম বলার কোন কারণ নাই ।

আমাকে সে

স্মৃতির রোমন্থনে ভালো লাগে যখন সামনে আলো থাকে ততক্ষণ । আলো নিভে যাওয়ার পর স্মৃতি সেটা যত সুখেরই হোক কেবল দুঃখ খুঁড়ে তোলার মত । আনন্দ হবার বদলে আরো হাহাকার করে উঠে মন । তুমি একদিন বলেছিলে যে বৃদ্ধ বয়সে জাবর কাটার জন্য স্মৃতি জমা করে যাওয়াই মূলত্ জীবন উপভোগ করে যাওয়া । কিন্তু অল্প যেকদিন তুমি দয়া করে আমাকে কিছু ভালো সময় দিয়ছো তার মধ্যে খুঁজে খুঁজে অনেক ভালো মূহুর্ত পেলেও, সামনে অন্ধকারের কালিতে সেগুলো কাঁদায় আরো বেশি । এ কমাসের বিচ্ছেদে যত তোমার কথা মনে পড়ছে , এটা চিরবিচ্ছেদ না হলে হয়তো এই মনেপড়াগুলোকে অত নির্মম মনে হতো না । প্রথম তোমার চলে যাবার খবর শোনার পর নিজেকে বোঝাতাম তোমার বিতৃষ্ণা কাটানোর জন্য এটা যদি ভালো হয় তবে তাই হোক । কিন্তু এখন মনে হয় আসলে নিজে থেকে তোমাকে বাঁধা দিই নাই এইটা কেবলি স্বান্তনা । আসলে সেই পরিমাণ অধিকার বল, গ্রহনযোগ্যতা বলো আমি অর্জন করতে পারি নাই । প্রাণপনে কেবল চেষ্টা করে গেছি তোমার বিন্দুমাত্র অস্বস্তি হয় এমন কোন দাবী যেন তোমার কাছে না করি ।

মারাত্নক গরমেও বারান্দার যে কোনটা থেকে দাঁড়ালে , রাস্তা দিয়ে চলে যাবার সময় তোমাকে দেখা যেত সেই কোনায় আমি দাঁড়াই না ।

তাকে আমি

বিচ্ছেদের যন্ত্রণাগুলা সব সমানই হবার কথা । আমাদের অতি উচ্চাভিলাসী আশাগুলাই যন্ত্রণার মধ্যে আপেক্ষিক গুরুত্ব যোগ করে । কাঠফাটা রইদে হাঁটার মধ্যে এমন কোন চার্ম নাই । তাও আজকাল আমার সেইটার বিচ্ছেদে খারাপ লাগার কারণ বোধহয় কেবল হেঁটেই জীবন পার করে দেয়া যাইবো, এমন একটা রোমান্টিক ধারণা একটা বয়সে মনের মধ্যে আছিলো বৈলাই । শীত চৈলা আসছে এইখানে । গুমোট আবহাওয়া সপ্তার পর সপ্তা । রইদ যাও উঠে , দশদিনে একবার একঘন্টার জন্য ।

তোমার জন্য খারাপ লাগার জায়গা এখনো তৈরী হয় নাই । হয়তো প্রথম থাইকাই জানতাম এইটা চিরদিনের কোন প্ল্যান না । আমার ভিতরের শূণ্যতার গহ্বর আমি নিজেই আগলাইয়া রাখতাম । ঐখানে কাউরে ঢুকতে দেইনাই নিজের ইচ্ছাতেই । তোমার অযোগ্যতার জন্য না ।

আমাকে সে

খুব ছোটকালে একবার । আমি তখন সেভেনে পড়ি সম্ভবত । বড় আপার এক দেবর আমাকে বলেছিলো, ভালোবাসি । আমি তেমন গুরুত্ব দিয়া কখনো ভাবি নাই । আরেকটু বড় হওয়ার পরে ওনার ইশারাইঙিত বোঝা শুরু করলে ধীরে ধীরে ভালো লাগাও শুরু হয় । নিজের অনেকটা অজান্তেই অপেক্ষাও করতে থাকি দেখার দিনের জন্য । ওনার আসার সময়ের জন্য । কিন্তু কিছু বলার আগেই একদিন তিনি আমাকে ভালো করে বুঝিয়ে বলেন আসলে সেইসব ছোটকালের ছেলেমি চিন্তা । স্থায়ী কিছু না । আমিও বুঝ মেনে চলে আসি । সেইবার একরাত মাত্র খুব কেঁদেছিলাম । কয়েক মাসের মাথায় উনি যখন খুব সুন্দরী একটা মেয়েক বিয়ে করলেন তখন মনে হয়েছিলো আসলে আমার নিজের অযোগ্যতার জন্যই তিনি সরে গেছেন । যদিও তোমার অতিসামান্য মনভালোর দিনের একটাতে তুমি বুঝিয়েছিলে যোগ্যতার শরীরভিত্তিক ধারণাগুলো মূলত আমাদের সমাজের আদিম বর্বরতার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতগুলোর মধ্যে একটা । তবু নিজেকে সেই বুঝ আমি সবসময় দিতে পারিনা ।

সেই ঘটনা অনেক আগের । তোমার সাথে দেখা হওয়ারও কয়েক বছর আগের । তারপর প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এইভাবে নিজের ভিতরে হলেও কখনো কারো প্রতি দুর্বল হবো না । তুমি এমনিতেও কোন সপ্রভ, চটপটে ছেলে ছিলে না । প্রথম দেখায়তো নয়ই এমনকি কয়েক দেখাতেও নাম মনে না থাকার মত । তারপরও কিভাবে কিভাবে দেবে গেলাম সেটা ভেবে এখন একটু উদ্ভট লাগে । আর নিজের উপর বিতৃষ্ণা জাগে, কেন একই ভুল আবার করলাম । কেন উপর দিকে তাকিয়ে হাঁটতে গেলাম ।

তাকে আমি

দেশে থাকতে দেশের উপর বিরক্তি ছিলো । এখন অনেকদূরে বসে সেইসব বিরক্তিগুলারেই ফিরত পাইতে মন চাইতাছে । কি ফাউল যন্ত্রণায় পড়া গেলো বলতো দেখি । তোমার উপরে অন্যায় নিয়া অপরাধবোধ ছিলো । সেইটা কখনো আরেকটু গভীর পর্যন্ত খোঁচাবে ভাবতে পারি নাই । বাইরে থেকে দেখা সমাজ, দেশ আর ভিতর থেকে দেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য । শেষ পর্যন্ত মনে হৈতাছে , মানুষ আসলে নিজের গুরুত্বের জায়গা খুঁইজা না পাইলে বাঁচতে পারেনা । মানুষের কাছে আসতে হয় আবার হয়ত সেই কারণেই ।

শারীরিক যোগ্যতার বর্বরতা নিয়া আমার ধারণা এখনো আগের মতই আছে ।

আমাকে সে

বড় ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গেলো সাদামাটাভাবে । ভাবী গ্রামের মেয়ে । বেশ ছটফটে স্বভাবের । আমার খুব ভালো লেগেছে । নিজে বোকার মত সারাক্ষণ চুপচাপ থাকলেও ছটফটে মানুষ আমার ভালোই লাগে । গ্রামে গিয়ে ছিলাম কয়েকদিন । এত চমৎকার চাঁদ উঠে এইখানে বলে বোঝাতে পারবো না । গভীর রাতে বেশ কয়েকদিন বেরিয়েছি হাঁটতে । এত সুন্দরেও কেবলি মন খারাপ হয়ে যায় । ভাবী বেশ খোঁচাখুঁচি করেছিলো কয়েকদিন । কি হয়েছে বলে । কিছু বলি নাই ।

ঢাকায় আসার পর বড় ভাইয়ার তিনচারজন বন্ধুসহ চাইনিজ খেতে গিয়েছিলাম । বিয়েতে তাড়াহুড়ার জন্য যাদের দাওয়াত দেয়া সম্ভব হয় নাই তাদের নিয়ে । ছোটকাল থেকে হিন্দি সিনেমা দেখে আমি যে গেছি সেটাতো তুমি প্রায়ই বলতে । সিনেমার নায়ক-নায়িকার মত তোমার সাথে চাইনিজে যাওয়ার শখ ছিলো । সাহস করি নাই কখনো তোমাকে বলার । আরতো কোনদিন সম্ভবও না । ভয় পেয়ো না । তোমাকে কোনরকম চাওয়ার চাপে ফেলার কোন ইচ্ছা আমার নাই । শুধু খারাপ লাগে এই কথাটাই বল্লাম ।

তাকে আমি

আচোদা কথা চোদাইয়ো না ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:১৬
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×