somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলুপুড়া পুস্ট (ফ্রম অ্যা মেইল শোভিনিস্ট)

২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ : চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে (হুমায়ুন আজাদ)

কম্বোডিয়ায় পলপটের গণহত্যা যুগের শেষের দিকে হাজার হাজার খেমররুজ নেতা কর্মীরাও খুন হয় এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের হাতে । পরবর্তী যুগের বিশ্লেষণে পাওয়া যায় তাদের কমান্ডিং লাইনে অবিশ্বাস মতানৈক্য এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, কেউ কাউকে আর বিশ্বাস করতে পারে না । প্রতিটা নেতা পাতিনেতা তাদের নিজেদেরকে আল্টিমেট বিপ্লবী এবং তাদের চেয়ে সামান্য ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতিবিপ্লবী বা দূষণকারী আখ্যা দিতে থাকে । ফল যা হবার তাই হয়, দে ফাকড ইচ আদার আপ ।

নারীবাদের আদি জননী মেরি ওলস্টোনক্র্যাফট স্বয়ং শতাব্দী জুইড়া দার্শনিক পাত্তা পান নাই, তার বিতর্কিত (তখনকার মানদন্ডে) ব্যক্তিগত জীবন এবং নৈরাজ্যবাদীদের সাথে খাতিরের কারণে । দুই শতাব্দি ঘুইরা আমাদের হালের তসলিমাও অনেকের কাছে চুতরা পাতার বেশি কিছু না একই কারণে । যদিও অনেকের কাছে এইটা পুরুষতান্ত্রিকতার চাপানো ইভালুয়েশনের বেশী কিছু না, তাও আমার মনে হয় এই পয়েন্টে একটা মৌলিক সমস্যা আছে নারীবাদীদের নিজেদের ভিতর ।

মেল শোভিনিস্ট পিগ বৈলা গালি খাওনের আগেই কিলিয়ার কৈরা রাখি, সমস্যাটা আমি তাদের জীবনাচরনের ঔচিত্য অনৌচিত্য নিয়া দেখি না । সমস্যাটা একটা টেকসই দর্শণের ধারা তৈরীতে তেনাদের ব্যর্থতা নিয়া । তারা নিজেরাই কনফিউজড, নারীবাদী জীবন বা সমান জীবন বলতে তারা কি বুঝেন এইটা নিয়া । ফলস্বরুপ ডেনোমিনেশনের মাশাল্লাহ অভাব নাই, ক্রিস্টিয়ানিটি ইছলামের মত, নারীবাদেও । এবং সময় সুযোগমত একদল আরেকদলের বোরকা স্কার্ফ বিকিনির ফাঁক দিয়া স্পর্শকাতর জায়গাগুলাতে চুলকাইতে থাকেন অনবরত । আর আমার মত মেল শোভিনিস্টরা ফাঁকে ফোকরে আলু ঢুকাইয়া দেয় পুড়াইয়া খাওনের লাইগা । মাঝে মইধ্যে কেবল মেলা দেইখা বিমলানন্দলাভ ।

২ : উই ডোন্ট ড্রেস আওয়ার উইম্যান, দে ড্রেস দেমসেল্ভস । (রিচার্ড ডকিন্স)

রিচার্ড ডকিন্স একবার তার স্বদেশী এক মুল্লার সাথে কথা কৈতে গেছিলেন তাদের ধর্মচিন্তা নিয়া । তো সেই মুল্লা কেন সে পাশ্চাত্য সমাজরে ঘৃণা করে সেইটা বলতে গিয়া কয়, আপনেরা আপনাদের নারীদের দেহপসারিনীর মত পোশাক পরান , এইটা খুবই জঘণ্য । ডকিন্স হেরে যতই বুঝায়, তারা নিজেরা পোশাক পরে, আমরা তাগোরে পরাই না, মুল্লা ঘুইরা ফিরা আবার একই কথা কয় ।

ইথোলজিস্ট (প্রাণীর আচরণবিদ্যা) ডকিন্স সমাজ ও মানুষের আচরণ সংক্রান্ত যেকোন কিছুর ব্যাখ্যায় বিবর্তন টাইনা আনেন প্রতিনিয়ত । এবং মোটামুটি অনেক ক্ষেত্রেই সেইটা লজিকালও । যেমন ক্ষুধার সময় খাবারের গন্ধ ভালো লাগার কারণ হৈলো সেইটা তখন সারভাইভাল সিগন্যাল দেয় । আবার পিপাসার সময় পানিরে অনেক টেস্টি মনে হওয়া একই কারণে । অর্থাৎ খাবারের স্বাদের জন্য খাবার জিনিসটার নিজের এমন কোন আহামরি বৈশিষ্ট্য দায়ী না, বরং আমাদের সেন্সরি রিসেপ্টরগুলা ঐভাবে গইড়া উঠছে, আমাদের শরীরের জন্য যেইসব জিনিস প্রয়োজন ঐগুলা দেখলেই কাতুকুতু দেয় । যদি শরীরের জন্য গোবরের খুব প্রয়োজন হৈত, তাইলে গোবর দেখলেই জিহ্বায় লুল আসতো । শত শত টিভি প্রোগ্রাম হৈতো গোবর রান্নার টিপস বিষয়ক ।

এইটারেই দুই লাইন সামনে নিয়া পোশাকের সৌন্দর্য্য বিষয়ক বিদ্যার কাজে লাগানি যায় । নারীর পোশাকের সোন্দর্য্য অসৌন্দর্য্যের মূলেও একইভাবে মানুষের যৌনাকাঙ্খা , বিবর্তনের ভাষায় প্রজননের ইচ্ছা-অনিচ্ছা জড়িত । যেই পোশাকে সুড়সুড়ি বেশি লাগে সেইটা সুন্দর যেইটাতে সুড়সুড়ি কম লাগে সেইটা কম সুন্দর । ভালো খাবারের কনসেপ্টে যদি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান (গ্লুকোজ দরকার দেইখা মিষ্টি ভালু লাগে) গুলা থাকা না থাকাটা ফ্যাক্টর হয়, তাইলে সুন্দর পোশাকেও একই লজিক না খাটার কোন কারণ নাই । সুড়সুড়ি বেশি দেওনেই যদি পোশাকের সৌন্দর্য্য হয়, তাইলে একই বায়োলজিকাল সিগন্যাল মাইনা, লোকে লুল ফালায় , তাতে দোষটা কোথায় ।

তবে সমাজের দায়িত্ব, সবার নিরাপত্তা দেয়া, এইটা কোনমতেই এড়ানির চান্স নাই । কিন্তু লুল ফালানির বিরুদ্ধে কথা বলাতে একটা ইনহেরেন্ট হিপোক্র্যাসি থাইকাই যায় ।

৩ : তসলিমা গুলিস্তানে মুততে চাওয়াতে তার ফাঁসী চাওয়ার মত কিছু হয় নাই, তারে মুততে দিলেই হয় (মাওলানা দুরের পাখি)

সভ্যতার শুরু থাইকাই জৈবিক প্রয়োজন মিটানোর মূহুর্তগুলারে এক্সট্রিমলি প্রাইভেট বৈলা বিবেচনা করা হৈয়া আসতাছে । হয়ত ভালোর জন্যই, হয়তো না । সবাই মিল্যা খাইতে বসলে যেমন বাইরের লোকজন দেখলে অস্বস্তি লাগে, তেমনি হাগা মুতার সময় আশেপাশের লোকজন দেখলে অস্বস্তি লাগে । একই কথা প্রযোজ্য যৌনাচরণের জন্যও । যৌনতার অনুভুতিগুলা প্রকাশ্যে প্রদর্শণ কৈরা পাব্লিক চিয়ারকে লিড করার সময় সেই প্রাইভেসিবোধ কৈ যায় ? আশি বছরের বুড়ী যদি বিকিনি পইরাও চিয়ারলিডিং করে, সেইখানে গুটিকয়েক ফ্রিক ছাড়া আর বাকি সবারই বমিবোধ হওয়ার কথা । তাইলেতো সেই মূল কারণের জায়গায় রইলো যৌন সুড়সুড়িই । তো, বিশ বছরের ছুড়ি চিয়ারলিডিং এর নামে শরীর ছুড়াছুড়ি করলে কেউ যদি সুড়সুড়িতাড়িত হয় তাইলে এত দোষের কি ।

আধুনিকতার একটা বিশাল অনুষঙ্গ হৈল, ব্যক্তির মতামত এবং বোধের স্বকীয়তার স্বীকৃতি । সমাজ রাষ্ট্র এবং সার্বজনীন প্রতিষ্ঠাগুলা অবশ্যই ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভালোলাগার চাইতে সার্বজনীন মতৈক্যকেই প্রাধান্য দিবে এবং সেই অনুসারে আইন প্রণয়নও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, সেইটা অতি অবশ্যই ঠিকাছে । এর সাথেই আবার সম্পর্কিত হৈলো, ব্যক্তির পছন্দের নিশ্চয়তা । ইনডিভিজ্যুয়াল কোন পেশা পছন্দ করবে, কোনটাকে ঘৃণা করবে (কিন্তু এই ঘৃণার প্রকাশ কোনভাবেই ঐ পেশাজীবির উপর বৈষম্যের মাধ্যমে হতে পারবে না, এজ লং এজ সেইটা আইনত বৈধ), কোনটায় যাইতে চাইবে কোনটায় যাইতে চাইবে না সেইটা ঠিক করার এবং প্রকাশ করার অধিকার তার আছে ।

এইখানে অবশ্য একটা বিশ্রী প্যারাডক্স জাঁইকা বসে । চিয়ারলিডার মেয়ে বা মডেল ছেলে বিয়ে করতে কেউ না চাইতেই পারে । মেয়েপক্ষের যদি খাটো ছেলে অপছন্দ হয়, ছেলেপক্ষের তাইলে কালো মেয়ে অপছন্দ হৈতেই পারে । এইখানে মননের বিশ্রী বৈষম্যবোধ জড়িত হৈলেও আইনগত ও যুক্তিগত দিক থাইকা কারোরই কিছু বলার অধিকার নাই ।

ইনডিভিয্যুয়াল পছন্দের দোহাই অপরপক্ষও যে দিতে পারে, সেইটা বুইঝাই নিজের পছন্দের সাফাই গাওয়া ভালো ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৪৮
৩০টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×